দুখীফুল পর্ব-০৭

0
589

#দুখীফুল
#আফসানা_মিমি
#পর্ব_৭

দরজার নব শক্তভাবে আটকে নিল ফুল। তার অবচেতন মন আজ দুরুদুরু কাঁপছে। হাত, পা কেমন অবশ হয়ে আসছে। গলা শুঁকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। আচমকা নিজেকে হালকা মনে হচ্ছে। নীল দিগন্তের এপাড় ঐপাড় উড়ে বেড়াতে ইচ্ছে করছে। পড়ার টেবিলের উপর দুইটি কাগজ পাশাপাশি রাখল ফুল। একটা আজকের চিঠি, অপরটা বিয়ের রাতে। আজকের চিঠির দিকে তাকিয়ে যতটুকু আনন্দ হচ্ছে বিয়ের রাতের চিঠি দেখে ততটাই কষ্ট। কিন্তু বিয়ের রাতের চিঠি পড়ে যেই ধারণা জন্মেছিল আজকের চিঠি পড়ে সব ধারণাই মুছে গেল। ফুল বিয়ের রাতের চিঠি পুরায় পড়ল। তাতে দুই লাইনের বাক্য লেখা ছিল, “আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনাকে আমার সাথে নিতে পারলাম না।”

ফুল কাগজটার উপর হাত বুলায়। একাকী বিড়বিড় করে,” তোমাকে অল্প অল্প ক্ষমা করে দিলাম, পুরোটা না।”

চিঠি দুটো সযত্নে রেখে বই খালা উলটা পালটা করছিল ফুল। তখনই দরজায় কড়াঘাত হল। ফুল জানে, তার সৎমা দরজা ধাক্কাচ্ছে। সারাদিনের হিসাব নিকাশ করতে। ফুল দরজা খুলল না। কিছুক্ষণ পর, মনে পড়লো। লিপি বাড়ি নেই। দরজায় আরো জোরে কড়াঘাত হতে লাগল। পরিধানের শাড়ি ঠিক করে ফুল দরজা খুলে দিল।

শুভ ফুলকে দেখে অবাক হয়ে বলল,” বাহ, শাড়ি পরেছো? শাড়িতে তোমাকে দারুণ লাগছে।”

ভরসন্ধ্যায় শুভকে দেখে যতোটা না চমকাল তারচেয়ে বেশি লজ্জা পেল শুভর মুখ নিঃসৃত প্রশংসা শুনে। ফুলকে নুইয়ে যেতে দেখে শুভ বলল,” লজ্জা পেয়েছো? অবশ্য লজ্জা পেলেও তোমাকে দারুণ লাগে।”

ফুলের মনে হল, শুভর সোজাসাপটা কোনো রোগ আছে। ইনিয়েবিনিয়ে কথা বলতে পারে না। অথচ প্রথম দুইদিন বাবু কীভাবে বাবু হয়েছিল। ফুল বলল,” এই সময়ে আসলে যে?”

” বলছি বলছি, তার আগে দরজাটা আটকে দাও তো!”

দুরুদুরু কাঁপছে ফুলের অন্তর। দরজা আটকাতে বলছে কেনো? ফুলের তখন নজর গেল শুভর হাতের ব্যাগের দিকে। তখন মনে প্রশ্ন জাগল, শুভ কী এখানেই থেকে যাবে? ফুল দরজা আটকাতে গেলে শুভ বলল,” শোনো, একটু জোরে শব্দ করে আটকাবে, বুঝছো?”

ফুল শুভর কথা শুনল না। আস্তেই দরজা আটকাল। শুভ হাতের ব্যাগ বিছানায় রেখে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে বলল,” এখনই স্বামীর কথা অমান্য করছো? বাকী জীবন তো পড়েই আছে।”

ফুল মিনমিন সুরে উত্তর দিল, ” বাইরে বাবা আছে, কী যে করবে। তাই!”

” বাইরে তো ভাইয়া আছে। আঙ্কেলকে তো দেখলাম না। তাছাড়া ভাইয়াকে দেখানোর জন্যই তো শব্দ করে আটকাতে বললাম।”

ফুলের চোখজোড়া বড়ো হয়ে এলো। স্যারও এসেছেন? কী ভাববেন। আগে বললে কী হতো? ফুল গলার স্বর উচু করে বলল,” কাজটা করা ঠিক হবে?”

শুভ ব্যাগের চেইন খুলতে খুলতে বলল,” আরে রাখো তোমার ঠিক, ভুল। ভাবী যখন আমাদের বাড়ি প্রথম এসেছিল ভাইয়া একই কাজ করেছিল। আমার মনে হয়েছিল, আমাকে দেখিয়ে কাজটা করেছে। তাই আমিও একই কাজ করলাম, শোধবোধ।”

ফুল হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারছে না। এই যে বাবু সত্যি সত্যিই বাবু কথা ও ব্যবহারে বুঝা যাচ্ছে। ফুল ভাবল, দরজা খুলে দেই। বড়োরা কী ভাববে?
” আমি দরজা খুলে দেই।”

কথাটা বলে ফুল দরজা খুলতে যাবে অমনিই শুভ ফুলের হাত চেপে ধরল। ধরার সাথে সাথে আবার ছেড়েও দিল। ফুলকে বাঁধা দিয়ে বলল,” যেয়ো না। ভাইয়া কিছু মনে করবে না। বসো তোমাকে কিছু দেখাই।”

ফুল লজ্জা পেল। শুভর কথামতো পাশে বসল। শুভ ব্যাগ থেকে একটা একটা করে থ্রি পিস ফুলের সামনে রেখে বলতে শুরু করল,” বুঝলে! মা আমাকে পাগল করে ফেলবে। পড়তে বসেও শান্তি দিল না। বলল, আমার বউমার জিনিসপত্র আজই দিয়ে আসতে হবে। এতো পাগল হলে চলবে? বলো! আমরাও তো আছি, আমাদের জন্য একটু চিন্তা করতে পারে না? তুমি জানো! আমার এখন তোমার উপর হিংসা হচ্ছে। মায়ের আদরে ভাগ বসানোর জন্য হিংসা।”

পাগলদের প্রলেপনে হয়তো থামাথামির কোনো অপশন নাই। শুভ তো কথা শুরু করলে পাগলদের মতোই বলতে থাকে। ফুল হি হি করে হাসতে শুরু করল। কিছু সময়ের জন্য তার মধ্যে চঞ্চলতা চলো আসলো যেনো। শুভ ফুলের হাসির দিকে তাকিয়ে বলল,” তোমাকে হাসলে খুব সুন্দর লাগে।”

হাসির পরিবর্তে লাজ ভর করল সর্বাঙ্গে। ফুল বলল,” স্যার কি করছে, দেখে আসি। ”

শুভ বলল,” দরকার নেই। তুমি আমার পাশে বসো। দেখি সন্ধ্যা থেকে কি কি পড়েছো?”

কাপড় একপাশে রেখে ফুলের বইখাতার সাঙ্গে গল্প জুড়লো। ফুল নিষ্পলক চেয়ে শুভকে দেখতে লাগল। ফুল মনে মনে বলতে কাগল, কে বলবে তুমি স্বামী? আমার তো মনে হয়, তুমি মস্তো বড়ো আসামী।

ফুলকে নিয়ে শুভ পাক্কা এক ঘণ্টা পর বের হলো। আদিল তখন মুঠোফোন নাড়াচাড়ায় ব্যস্ত ছিল। লিপি বাড়ি নেই। ফুলের শাশুড়ি চলে যাওয়ার পর পরই চলে গেছে। দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের মেয়ে হয়েছে। আজ রাতে ফিরবে না।

ঘর থেকে বের হয়েই শুভ, আদিলকে ভাইয়া বলে ডাকল। শুভকে আদিল অভিনন্দন জানালো কিন্তু নিজের স্টাইলে। শুভর দিকে কটমট চোখে তাকালো। ফুল মুখে সালাম জানিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আদিল ফুলের উদ্দেশে বলল,” কেমন আছো, ফুল?”
ফুল নিচু সুরে উত্তর দিল, ” ভাল আছি, স্যার।”
” আমাকে স্যার ডাকতে হবে না। ভাইয়া ডাকবে।

আকিল শুভকে উদ্দেশ্য করে বলল,” ফ্যান কী নিজের সাথে নিয়ে যাবি বলে এনেছিস?”

শুভ জিহ্বা কাটল। আদিলের উদ্দেশে বলল,” দেখলে, বউয়ের সাথে গল্প করতে করতে সব ভুলে যাই।”

” হ্যাঁ, পৃথিবীতে আপনিই একমাত্র ছোট বাবু। যাকে বাবু বসয়ে বিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন গল্প তো একটু আকটু করবেনই।”

ফুল মিনমিন সুরে জানাল,” এতক্ষণ আমাকে আইসিটি পড়াইছে।”

আদিল হু হা করে হাসতে লাগল। তার ছোট ভাইয়ের দৌড় এতটুকুই। আদিলকে দেখানোর জন্যই এত নাটক সাজানো। আদিল শুভর হাতে ফ্যান দিয়ে একাকী ঘরে পাঠিয়ে দিল। শুভ যাওয়ার সময় ফুলকে নিজের সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু আদিলই দিল না। তার সামনে চেয়ারে বসিয়ে জানাল, সে ফুলের সাথে কথা বলবে।

শুভ বেজার সুরে বিড়বিড় করল, ” আজ ছোট বলে বড়ো ভাইয়ের উপর কথা বলতে পারিনা।”

ফুল মনে মনে হাসল, কিছু বলল না।

শুভ চলে যেতেই আদিল ফুলকে যে প্রশ্নটি করল সেটা হল,” তুমি কি এই বিয়েতে খুশি ফুল?”

ফুল মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। আদিল পুনরায় বলল,” আমি খোঁজ নিয়েছি তোমার বাবা নেশা করে আর তোমার মা আসল মা না। এর থেকে ধারণা করা যায়, তুমি তাদের কাছে সুখী না। এমনকি তোমার বাবা বিয়ের কথা বলায় এক পায়ে রাজি হয়ে গেল। শুভর বয়স কেমন, কি করে এই সম্পর্কে কোনো খোঁজ নিল না। তোমার কাছে আমার একটি প্রশ্ন, তুমি কি এখানেই থাকতে চাও নাকি আমাদের সাথে থাকতে চাও। অবশ্য মা বলেছে তোমাকে আর সাগরিকাকে একসাথে ঘরে তুলবে। সাগরিকাকে চিনেছো? আমার স্ত্রী। ওর বিষয় আলাদা। তাকে দশ বছর পরও বাড়িতে উঠালে কিছুই হবে না কিন্তু আমার চিন্তা হচ্ছে তোমার জন্য। সত্যি বলোতো! এখানে ঠিক আছো?”

ফুল কিছু বলল না। কি বলবে সামনে বসে মানুষটি একদিকে তার শিক্ষক অপরদিকে ভাসুর। ভাসুরের সামনে এত কথা বলা যায়!
আদিল ফুলকে ভালোভাবে লক্ষ্য করল। মোয়েটা দ্বিধায় আছে। চোখ মুখে ভয় বিরাজ করছে। আদিল আবারও বলতে শুরু করল,” মায়ের কাছ থেকে শুনলাম তোমাকে নাকি বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তোমার মা বাবা না করে দিল। তাদের বক্তব্য তোমাকে আরো কিছুদিন তাদের কাছে রেখে দিবে। আমার মনে প্রশ্ন হল, তারা নিশ্চয় তোমার ভালো চায় না তুমি চলে গেলেই হয়তো বাঁচে। কিন্তু তারা তোমাকে আমাদের সাথে কেনো পাঠাচ্ছে না?”

আদিলের প্রশ্নের উত্তর ফুল দিতে পারল না তার আগেই ফিরোজ মিয়া বাড়ি চলে আসে, একদম মাতাল অবস্থায়। আদিলকে দেখামাত্র হাত কপালে তুলে সালাম জানায়। বাবার কাজে ফুল ভীষণ লজ্জা পেল। অতিথিদের সামনে ফুলের নয় ফুলের বরের সম্মান ডুবে গেল। আদিল এক পলক লোকটার দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ফুলের উদ্দেশ্যে বলল, “চলো শুভ কি করছে দেখে আসি।”

ফুল জানে আদিল কেনো চলে যেতে চাচ্ছে।

ফুলের ঘর কিছু সময়ের মধ্যে একদম পরিবর্তন হয়ে গেছে। টেবিলের জায়গায় টেবিল নেই, বিছানার জায়গায় বিছানা নেই আর নেই খাটের জায়গায় খাট। সবকিছু একসাথে করে শুভ ফ্যান লাগাচ্ছে। ফুলদের ফিরে আসতে দেখে বলল,” দেখো ফুল তোমার বর একাই একশো।”

আদিলের ভ্রু যুগল কুঁচকে এলো। এই ছেলেটার বুদ্ধি সুদ্ধি কবে হবে কে জানে? বড়ো ভাইয়ের সামনে তো অন্ততপক্ষে লাগাম নিয়ন্ত্রণে রাখবে!

কাজ শেষ হতেই শুভ বলল,” এবার আমাদের চলে যেতে হবে। আমার পড়া শেখা হয়নি। তোমারও হয়নি। সব গোছগাছ করে পড়তে বসো হ্যাঁ!”

আদিল ফিক করে হেসে ফেলল। শুভ কবে বড়ে হবে তাও ভাবতে লাগল। ফুলদের বিয়ের পর এই প্রথম আদিল বাসায় এসেছে। খালি মুখে যেতে দেওয়া যাওয়া যায় না। শুভও এই পর্যন্ত কিছু খায়নি। ফুল ইতস্ততবোধ করে বলল, ” আপনাদের কিছু দেওয়া হয়নি। আপনারা বসুন, আমি কিছু নাস্তা নিয়ে আসি।

আদিল নাকচ করলো হাতের বন্ধনীতে তাকিয়ে বলল, “খাওয়া-দাওয়া সেটা পরে অনেক করা যাবে। শুনলে না! তোমার বরের পড়া শেষ হয়নি। তাছাড়া আমারও কিছু কাজ আছে।”

আর জোড়াজুড়ি করল না। আদিল বিদায় নিয়ে আগেই ঘর ছাড়ল। শুভ পিছনে ছিল। ঘর থেকে বের হয়েও ঝড়ের গতিতে ফিরে এলো। ফুলের হাতে একটি কাগজের টুকরো দিয়ে বলল, ” এটা রাখো। আর কাল আমার জন্য দুইটা চিঠি লেখে নিয়ে আসবে। আমরা যতদিন বড়ো হচ্ছি না ততদিন এই চিঠির আদান প্রদান হবে।”

ফুলের কাছে মনে হল, শুভ মন ভাল করার ঔষধ। শুভর সাথে কথা বললে মনেই হয়না তারা কয়েকদিন আগেও অপরিচিত ছিল। ফুল কাগজখানা হাতের মুঠোয় নিয়ে বাহিরে বের হয়ে আসলো। দুয়ার পর্যন্ত এগিয়ে এসে ভাসুর এবং বরকে বিদায় দিয়ে ঘরে চলে গেল।

——————–

দুখী ফুলের হিংসুটে বর বলছি,

আজকে তোমার কাছে আসার কোনো ইচ্ছেই ছিল না। কিন্তু যখন চলেই এসেছি যেতে ইচ্ছে করছে না। তুমি একটা কথা জানো, ফুল? আমি না, বিগত চব্বিশ ঘণ্টা ধরে বাচাল হয়ে গেছি। এতো কথা আমি জীবনেও বলিনি। তোমার সামনে আসলেই পেটের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠে। কথাগুলো আপনাআপনি দলা পাকিয়ে চলে আসে। হয়তো তুমি কম কথা বলো তাই!

আজ বিকালে ভাবছিলাম, তোমার ঘুমাতে কতোই না কষ্ট হয়। বকশি কাকাকে দিয়ে তাই বাজার থেকে পাখা কিনে আনালাম। বকশি কাকাই আসতো কিন্তু আমার চোখজোড়া তোমাকে দেখতে চেয়েছিল।

শুনো ফুল, আজ তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। চেহারায় আলাদা উজ্জ্বলতা চলে এসেছে। তোমার এই উজ্জ্বল মুখপর হাসি আমি পছন্দ করেছি। আমি চাই, তুমি নিজেকে সুখে রাখো। আমরা দূরে আছি বলে কষ্টে বুক ভাসাবো এই কথা দিব না। আমার কথা বুঝেছো তো!

আজও তোমার টেবিলে বসে লেখছি। তবে আজ একটু রেগে আছি। ভাইয়া তো ভাবির সাথে কথা বললে, আমাকে আশেপাশেই যেতে দেয় না। অথচ তোমার সাথে কী সুন্দর কথা বলেই যাচ্ছে। ছোট বলে আড় পেতে শুনছি না। তুমি জানো তো, আমার হিংসা হচ্ছে। ইচ্ছে করছে, তোমার ঘরের সব এলোমেলো করে ফেলি। আমি করব, তোমার শাস্তি হবে সব গুছিয়ে নিবে।

আচ্ছা, পড়াশোনা শেষ করে তুমি যখন বড়ো হয়ে যাবে তখন কী আমার থেকেও লম্বা হয়ে যাবে? আমাদের ছোটবেলার বিয়ে তো! কতো আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে। তুমি চিন্তা করো না, আমি আর হরলিক্স খাব না। এইটুকু লম্বাই থাকবো। যেনো মাথা তুলে আমাকে দেখতে পারো। অবশ্য তুমি তো আমাকে দেখোই না। তুমি কী বলতে পারবে? আমার কোন গালে তিল আছে?

তোমাকে বলেছিলাম, অন্য নামে ডাকব। কিন্তু আজও মনে হল, সময় হয়নি। এমন কিছু করতে পারো না! যেনো সময়টা তাড়াতাড়ি চলে আসে?
ইতি
একাকী কাজ করা শ্রমিক

ফুল চিঠি পড়ে লেখতে বসল।

বাবু বর,
আমার নাম দেয়ার পূর্বেই আমি তোমার একটা নাম দিয়েছি। বাবুবর।
ইতি
ফুল

আরেকটা কাগজে লেখল,

বাবু বর,
তুমি অনেক লম্বা হও। একদম জিরাফের গলার মতো তোমার গলা হোক। ফুলকে দেখতে নিচু হয়ে থাকবে। ফুল তো সময় নিয়ে ফুটে। আমার চিন্তা করার জন্য ধন্যবাদ। তবে পাখাটা দরকার ছিল না। এতজীবনে যা সহ্য করে এসেছি তারমধ্যে এটা কিছুই না।
তোমার বাম গালের কানের কাছটায় কালো তিল আছে। ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখা যায়।
আমার কথা সব তোমার হোক। কারণ, আমি শুনতে ভালোবাসি।
ইতি
ফুল

দুটো কাগজ লেখে ফুলের আফসোস হতে লাগল, কোনো সে শুভর মতো লেখতে পারে না। সে বইয়ের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারও পড়াশোনা করতে হবে। কাগজগুলো ভাজ করে বইয়ের ভাঁজে রাখল। এই চিঠি সে শুভকে দিবে না। কখনোই না।

চলবে………….