#নেশাক্ত_ভালোবাসা
#লেখিকাঃ Tamanna Islam
#পর্বঃ ১০
আব্রাহাম তো সব কিছু ভাংচুর করে দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে রেখেছে। আব্রাহামের দাদি বেশ বুঝে যে কিছু তো একটা গোন্ডগোল আছেই। তিনি খুব সাবধানে রুমের ভেতরে চলে যান। গিয়েই আব্রাহামের পাশে বসে পরে। আব্রাহামের মাথায় হাত রাখলে আব্রাহাম বুঝে যে এটা তার দাদির স্পর্শ। এই একটা মানুষ যার ওপর আব্রাহাম কখনোই রাগ করে থাকতে পারে না। আব্রাহাম মাথা নিচু করে তার দাদি দিকে ঘুড়ে বসে।
ইলা;; কি হয়েছে?
আব্রাহাম;; কেউ কখনো আমার দিকে চোখ তুলেও তাকানোর সাহস পেতো না আর আজ কিনা…!
ইলা;; কি হয়েছে বলবি তো?
আব্রাহাম;; কিছু না দাদি। ভালো লাগছে না আমার।
তখনই আব্রাহামের দাদি খেয়াল করে যে আব্রাহামের হাতের খানিক অংশ কেটে গিয়েছে হয়তো কাচ দিয়েই। ইলা দ্রুত আব্রাহামের হাত টা চেপে ধরে।
ইলা;; হে আল্লাহ হাত তো কেটে গিয়েছে তোর আর রক্ত পড়ছে। আচ্ছা আয় দেখি ক্ষত স্থান টুকু বেধে দেই।
আব্রাহাম;; ইট'”স্ নট এ বিগ ডিল দাদি। ঠিক হয়ে যাবে।
ইলা;; চুপ কর তো।
ইলা জোর করেই আব্রাহামের হাতের কাটা স্থান টুকুতে মলম লাগিয়ে দেয়। আব্রাহাম আজ সারাদিন রুম থেকেই বের হয় নি। খায়ও নি ঠিক ঠাক ভাবে। খাবার যেন তার গলা দিয়ে নামছেই না। আইরাতের থাপ্পর দেবার কথা টাই বার বার মন – মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। আব্রাহামের কথা হচ্ছে যে আমরা সবসময় যা নিজের চোখে দেখি তা সবসময় সঠিক হয় না। আইরাত শুধু দেখলো আর এসেই ঠাস। একটা বার এক্সপ্লেইন করার সুযোগ তো দিতো। কিন্তু না আইরাত তা করে নি। আব্রাহামের হাতে এখন একটা গরম কফির মগ। করিডরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা গুলো ভাবছে আর গরম কফির মগে চুমুক দিচ্ছে। আইরাত কে সে কি যে করবে জানে না। মাথা প্রচন্ড রকমের খারাপ হয়ে রয়েছে। সেখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আব্রাহাম এসে পরে।
আব্রাহাম;; আমি বিনা কারণে কিছু করি না। তবে একবার যদি আমার মেজাজ খারাপ হয়েছে তো আমি কাউকে ছাড়িও দেয় না। ভুল তো তুমি করেছো। তা বুঝেই হোক বা না বুঝে। ভুলের মাশুল দিতেই হবে আইরাত জান।
আব্রাহাম এখন দাঁড়িয়ে আছে ঠিক ১১ তালা ছাদের এক কিণারে। একধ্যানে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে আর এই কথা গুলো মনে মনে আওড়াচ্ছে। আব্রাহামের এটা পুরানা স্বভাব যখন রাগ উঠে আর তা কমানোর কোন উপায় পায় না তখন এই যে সুট করা, অযথা চাকু নিয়ে বসে থাকা, বা অনেক উচ্চতা থেকে নিচে তাকিয়ে থাকা। এগুলো করে যেন সে এক আলাদা শান্তি পায়। হ্যাঁ শুনতে অনেক অদ্ভুত কিন্তু এগুলোই সে করে থাকে। আব্রাহাম দাঁড়িয়ে ছিলো তখনই রাশেদ আব্রাহামের কাছে ফোন দেয় অর্থাৎ যে আব্রাহামের সাথে কাজ করে।
আব্রাহাম;; হ্যালো।
রাশেদ;; স্যার সাগরের লাশ টা পুলিশরা খুঁজে পেয়েছে।
আব্রাহাম;; কোথায় ফেলেছিলে ওইটাকে?
রাশেদ;; স্যার ব্রিজের ওপর থেকে ফেলে দিয়েছিলাম।
আব্রাহাম;; আহা, পুড়িয়ে দিলে বেশি ভালো হতো। এতে লাঠিও ভাঙতো না আর সাপও মরতো।
রাশেদ;; সরি স্যার ভুল করে ফেলেছি।
আব্রাহাম;; সিনিয়র ইন্সপেক্টর কে আমার সাথে কাল রাতের দিকে দেখা করতে বলো।
রাশেদ;; জ্বি স্যার।
আব্রাহাম;; আর হ্যাঁ মেক সিওর দ্যাট এই কেস নিয়ে যেন আর বেশি বারাবারি না হয়।
রাশেদ;; জ্বি স্যার। বেশি একটা প্রব্লেম এমনিতেও হবে না। আর আপনি যদি কাল অফিসারের সাথে দেখা করেন তাহলে তো আরো হবে না।
আব্রাহাম;; সামলাও সব, রাখি।
আব্রাহাম এই বলেই ফোন রেখে দেয়। ফোন টা একটা ছোট টেবিলের ওপর রেখে পেছন ঘুড়ে তাকায়। পেছন ঘুড়ে তাকাতেই ছাদের সব লাইট অফ হয়ে যায়। শুধু দুইটা লাইট জ্বলে ওঠে একটা আব্রাহামের ওপর আরেকটা আব্রাহামের থেকে বেশ কিছু দূরে। আব্রাহামের সামনে আসলে একটা গোল চেপ্টা বুলেট সুটার প্যালেট আছে। আব্রাহামের হাতে রয়েছে একটা গান। রিভলবার টা ওপরে তুলে রাগের চোটে ধাই ধাই করে সব গুলো গুলিই সুট করে দেয়। রাতের নিস্তব্ধ আঁধারে যেন গুলির আওয়াজ গুলো স্পষ্ট শোনা গেলো। সব গুলো গুলি সুট করে দেওয়ার সাথে সাথেই সেই বুলেট সুটার প্যালেট টা ঠাস করে নিচে পরে যায়। আব্রাহাম সিটি বাজাতে বাজতে নিজের রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। এখন শুধু কাল সকাল হবার পালা।
।
।
আইরাতের মেজাজ খুব খারাপ কাল কের ঘটনা টা নিয়ে। মানে আব্রাহামের হাতে ওই মেয়েটার ওরনা দেখে। আইরাত ভাবতেও পারে নি যে আব্রাহাম এতো নিচে নেমে যবে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে আছে কোন মতেই ভালো হচ্ছে না। আজ আইরাতের ভার্সিটি নেই তাই সে ভেবেছে সকালের নাস্তা করে হোটেলে চলে যাবে সোজা। এখন আইনার সামনে ফ্রেশ হয়ে রেডি হচ্ছে আইরাত। তার চাচি চাচা সবায় হয়তো নিচে বসে ব্রেকফাস্ট করছে এখন। নিজের চুলগুলো আচড়াচ্ছিলো আইরাত কিন্তু তখনই নিচে হলরুম থেকে কিছু একটা চিল্লাচিল্লির আওয়াজ আইরাতের কানে আসে। আইরাত কপাল কুচকে নিচে চলে যায়। তবে নিচে যেতেই আইরাত অবাক, হা হয়ে গেছে সে। এই সাজ সকালে যে এমন কিছু হবে ভাবে নি। আইরাত সিড়ি বেয়ে আস্তে করে নিচে নেমে আসে। দেখে যে আব্রাহাম ডাইনিং টেবিলে এক পায়ের ওপর আরেক পা তুলে বসে বসে আপেল চিবুচ্ছে। আইরাত রাগ আর বিরক্তি নিয়ে আব্রাহামের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু আব্রাহামের এমন অদ্ভুত আচরণ তো ইকবাল সাহেব কোন ক্রমেই মেনে নিতে পারছেন না। তাই তিনি চিল্লিয়ে বলে ওঠেন….
ইকবাল;; এই বেয়াদপ ছেলে। কে তুমি হ্যাঁ। আর এটা কি ধরণের অসভ্যতা। চেনা নেই জানা নেই একজনেই বাড়ির সোজা ভেতরে এসে এমন করে বসে আছো কে তুমি?
আব্রাহাম;; ওকে জিজ্ঞেস করুন কে আমি। সুন্দর করে বুঝিয়ে দিবে। (আইরাতের দিকে ইশারা করে)
ইকবাল সাহেব রাগ নিয়েই একবার আইরাতের দিকে তাকায় কিন্তু আবার আব্রাহাম কে বলে ওঠে..৷
ইকবাল;; আইরাত কে জিজ্ঞেস করবো মানে কি। ও কি করে তোমাকে চিনবে। এই উঠো, উঠো বলছি আর যাও এখান থেকে। এটা একটা ভদ্র পরিবার।
আব্রাহাম;; আহা, আস্তে চাচাজান আস্তে। বয়স্ক মানুষ আপনি চিল্লাপাল্লা কম করবেন বুঝলেন। নয়তো কে জানে কখন টপকে পরেন আবার।
এবার যেন আইরাত আর চুপ করে থাকতে পারলো না।
আইরাত;; এই আপনার সমস্যা কি হ্যাঁ। এখানে কেন এসেছেন। আর এগুলো কি করছেন?
আব্রাহাম;; আমি তোমার কোন কথা শুনতে চাইছি না আপাদত। তোমার হিসাব নিকাশ পরে করবো।
আইরাত, ইকবাল সাহেব, আর আব্রাহাম কথা কাটাকাটি করছে কিন্তু সবার মাঝেই আইরাতের চাচি কলি যেন মূর্তির ন্যায় বসে আছে চোখ পাকিয়ে দিয়ে। কেননা তিনি আব্রাহামের পরনে জেকেটের পাশে একটা গান দেখেছে৷ আর সেটা দেখেই আইরাতের চাচি ভয়ে জমে গেছেন, গলা দিয়ে কোন কিছু বের হচ্ছে না।
ইকবাল;; এই ছেলে বের হও এখান থেকে। নয়তো আমি বাধ্য হবো পুলিশ ডাকতে। আর আইরাত, তুমি আইরাত কে কীভাবে চেনো। কি হচ্ছে এগুলো?
আব্রাহাম;; আমরা দুইজন দুইজন কে কীভাবে চিনি জানি তা আপনার জানার দরকার নেই। এনিওয়েস, আমি এখানে আপনার সাথে নয় বরং আমার আইরাত জানের সাথে কথা বলতে এসেছি।
আইরাত;; মানে কি এইসবের। আমি আপনার সাথে কোন কথাই বলতে চাই না। কাল থেকে মেজাজ গরম হয়ে আছে। আমি দেখতেই চাই না আপনাকে।
ইকবাল সাহেবের কথায় তো আব্রাহামের মাথা গরম হয়েই ছিলো তবুও নিজেকে যথাসম্ভব ঠিক রেখেছিলো কিন্তু আইরাতের কথায় যেন এবার রাগের বাধ ভেঙে গেলো তার। আব্রাহাম তাকিয়ে দেখে ডাইনিং টেবিলের ঠিক মাঝখানে একটা ফলের ঝুড়ি রয়েছে। আর ফলগুলোর মাঝেই রয়েছে একটা ধারালো চাকু। আব্রাহাম রক্তচক্ষু নিয়ে দ্রুত উঠে ফলের ঝুড়ি থেকে চাকু টা হাতে নিয়ে নেয়। আর এক ঝটকায় আইরাতের বাহু ধরে নিজের কাছে আনে। হাত একদম চেপে ধরে তার। আইরাতের বাম হাত টা নিজের হাতের ভাজে নিয়ে রাগে লাল হয়ে বলে ওঠে…
আব্রাহাম;; এই হাত তাই না ঠিক এই বাম হাত টা দিয়েই কাল আমায় গালে থাপ্পর মেরেছিলে তাই না। খুব তেজ তোমার। কিছু না বুঝেই, না শুনেই রাগ ঝাড়ো। কিন্তু আসলে কি জানো আমার সামনে তুমি ঠুনকো কিছুই না। তোমার এই সাদা ধবধবে হাত খানা আর আমার ভালো লাগছে না। (আইরাতের হাত চেপে ধরে)
আইরাত কপাল কুচকে তাকিয়ে আছে। তখনই ইকবাল সাহেব এগিয়ে গিয়ে কিছু বলতে যাবেন। আব্রাহাম তখন কিছু না বলেই জেকেটের সাইডে থাকা গান টা তুলে টেবিলের ওপর রেখে দেয়। গান নিজের সামনে দেখেই আইরাতের চাচি কিছুটা চিল্লিয়ে দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে আর ইকবাল সাহেব থেমে পরে।
আব্রাহাম;; যেই হাত টা আমায় আঘাত করেছে সেই হাত টাই আমি আর রাখবো না।
আব্রাহামের কথা না বুঝতে পেরে আইরাত কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই আব্রাহাম সেই ধারালো চাকু টা দিয়ে আইরাতের হাতে বসিয়ে দেয় এক ঘা। আইরাত অনেক জোরে চিল্লিয়ে ওঠে। হাতের তালুর মাঝ বরাবর কেটেছে একদম। গড়িয়ে রক্ত ঝড়ছে। তবে আব্রাহাম এক দৃষ্টিতে আইরাতের দিকে তাকিয়ে আছে। আর আইরাত ব্যাথায় কুকড়ে উঠছে।
আব্রাহাম;; ব্যাথা হচ্ছে তাই না জান, খুব খারাপ লাগছে। এই সেম খারাপ টা কাল আমারও লেগেছিলো।
ইকবাল সাহেব তেড়ে তাদের কাছে যাবে তার আগেই আব্রাহাম আইরাতের বাহু অনেক শক্ত করে ধরে সিড়ি বেয়ে সোজা ওপরে আইরাতের রুমে যাওয়া শুরু করে। আইরাত যেতে না চাইলে আব্রাহাম জোরে করেই তাকে টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আব্রাহাম আইরাতকে রুমে জোর করে নিয়ে গিয়েই বিছানাতে বসিয়ে দেয়। আর ঠাস করে রুমের দরজা টা লাগিয়ে দেয়। আর এদিকে ইকবাল সাহেবও দ্রুত সিড়ি বেয়ে ওপরে আইরাতের দরজার কাছে চলে যায়। এদিকে আইরাত ঘাবড়ে যায়। তার হাত দিয়ে এখনো তার অনেক রক্ত ঝড়ছে। তবে আব্রাহাম এক ঘোর লাগা নয়নে আইরাতের দিকে তাকিয়ে আছে। আব্রাহাম ধীর ধীর পায়ে আইরাতের দিকে এগোতে লাগে। আর আইরাত আব্রাহামের এমন ধীর পায়ে তার দিকে এগোতে দেখে আত্না শুকিয়ে যায়। আইরাত আস্তে আস্তে করে পেছাতে লাগে। আইরাত একবার পেছালে আব্রাহাম তার দিকে আরো কয়েকবার আগায়। এক সময় আব্রাহাম আইরাতের দুইপাশে হাত রেখে তাকে আটকিয়ে দেয়। আর আইরাতের দিকে অনেক ঝুকে পরে৷ আইরাত ভয়ে চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে নেয়। আইরাত ভেবেছিলো হয়তো আব্রাহাম এখন উল্টা পালটা কিছু একটা করবে কিন্তু আইরাতের ভাবনা কে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে আব্রাহাম আইরাতের পেছনে থাকা ফাস্ট এইড বক্স টা হাতে নিয়ে আবার উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। আইরাতের রুমে সবসময় এটা থাকেই। আর আব্রাহাম যখন আইরাতকে টেনে টেনে রুমে আনছিলো তখনই আব্রাহাম তা লক্ষ্য করেছে। আব্রাহাম কিছু করছে না দেখে আইরাত পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। সামনে তাকিয়ে দেখে যে আব্রাহামের হাতে ফাস্ট এইড বক্স রয়েছে। আইরাত তাকিয়ে থাকে। আব্রাহাম বক্স থেকে ব্যান্ডেজ আর সেভলন টা বের করে আইরাতের বাম হাতে দেয় এক টান। এতে আইরাত আরো বেশ ব্যাথা পায়। আব্রাহাম আলতো আলতো হাতে আইরাতের হাত টা ব্যান্ডেজ করে দিতে থাকে। প্রচুর জ্বালাপোড়া করছে হাতে, আইরাত চুপিসারে কান্না করেই যাচ্ছে। রাগের চোটে নিজের হাত টা আব্রাহামের হাতের ভাজ থেকে সরিয়ে আনতে চাইলে আব্রাহাম তা যেন আরো জোরে আকড়ে ধরে। আর এদিকে ইকবাল সাহেব আইরাতের রুমের দরজাতে এসে ইচ্ছে মতো ধাক্কাচ্ছেন কিন্তু খোলার নাম নেই। আইরাত বারবার রুমের দরজার দিকে আর আব্রাহামের দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু আব্রাহাম যেন অন্য কোন দিকে তোয়াক্কা না করে আইরাতের হাত ব্যান্ডেজ করতে খুবই ব্যাস্ত।
ইকবাল;; এই বেয়াদপ ছেলে। কি করছো তুমি ভেতরে৷ যদি কিছু উলটা পাল্টা কাজ করেছো আইরাতের সাথে তো একদম জান নিয়ে নেবো। ছেড়ে দাও বলছি আইরাতকে। কোন অসভ্যতা করবে না।
আইরাত দরজার দিকে তাকিয়ে আছে৷ আর এদিকে ইকবাল সাহেবের কথায় আব্রাহাম ফিক করে হেসে দেয়।
আব্রাহাম;; আমি এখানে তোমার হাতের ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছি আর ওদিকে তোমার চাচ্চু আমাকে তোমার রেপ করার পারমিশন দিচ্ছে। লাইক সিরিয়াসলি..!
আব্রাহামের এমন কথায় আইরাত মাথা নিচু করে ফেলে। আর তখনই আইরাতের হাতের ব্যান্ডেজ করা শেষ হয়। আব্রাহাম এবার এক হাটু ভাজ করে আইরাতের সামনে বসে পরে।
আব্রাহাম;; ওই মেয়েটা তোমাদের কলেজের জুনিয়র ছিলো। কিছু বখাটে ছেলে ওকে জ্বালাচ্ছিলো। এক সময় গায়ের ওপর থেকে ওরনা টাও নিয়ে নেয়। চিল্লাচ্ছিলো আর আমি বাচিয়েছি। ওরনা টা তুলে ওকেই দিতাম কিন্তু তখন তুমি এসে পরলে আর ভুল বুঝলে আমায়। এতো টাই ভুল যে থাপ্পরও মেরেছো। যার পরিণাম সরুপ আজ তোমার এই হাত কাটা। নয়তো কাটতো না। তোমাকে আমি আঘাত করবো আর সেই আঘাতে মলম টাও আমিই লাগাবো। ঠিক যেমন টা করলাম এখন। বুঝলে। এবার থেকে, এরপর থেকে যাই করো না কেন একটু বুঝে শুনে করো নয়তো পরেরবার কি করবো নিজেও জানি না। তবে যাই করি না কেন তার ফল অতিমাত্রায় খারাপ হবে বুঝলে আইরাত বেইবি।
আব্রাহামের কথায় আইরাত শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলো। অবশেষে আব্রাহাম দরজা খুলে। আইরাতের হাতটা নিজের এক হাত দিয়ে এখনো ধরেই রেখেছে। দরজা খুলেই দেখে ইকবাল সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন।
আব্রাহাম;; এই যে চাচাজান সাইড প্লিজ।
ইকবাল সাহেবের পাশ কাটিয়ে আব্রাহাম আইরাতের হাত ধরে নিয়ে এসে পরে। কারো সাথে কোন কথা না বলে সোজা আইরাতের হাত ধরে বাইরে নিয়ে এসে পরে। বাইরে আসার সময় ডাইনিং টেবিলের ওপর থাকা গান টা ছু মেরে এনে পরে। তারপর কাউকে কিছু না বলেই আইরাতকে বাইরে নিয়ে এসে পরে। গাড়িতে বসিয়ে দেয়। এর মধ্যে আইরাত একটা কথাও বলছে না। মূলত সে ভয় পেয়ে আছে। আব্রাহাম এসে গাড়িতে আইরাতের পাশ দিয়ে বসে পরে। আব্রাহাম তাকে এখন কোথায় যে নিয়ে যাচ্ছে তা সে জানে না।
।
।
।
।
চলবে~
#নেশাক্ত_ভালোবাসা
#লেখিকাঃ Tamanna Islam
#পর্বঃ ১১
আব্রাহাম আইরাতকে গাড়িতে উঠিয়ে এক প্রকার জোর করেই নিয়ে যাচ্ছে। আব্রাহাম এক মনে ড্রাইভ করে যাচ্ছে। আইরাত একবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকাচ্ছে তো আরেকবার আব্রাহামের দিকে। কিন্তু আব্রাহাম সে একদম তার মতোই করে যাচ্ছে। আইরাত তার কাটা হাত টার দিকে তাকিয়ে আছে। আব্রাহাম যে এতো টা পাশান ভাবে আইরাতের হাত টা আজ কেটে দিবে তা সে ভাবেও নি। এখনো অনেক ব্যাথা করছে। আইরাত এভাবে আর বসে থাকতে না পেরে আব্রাহাম কে বেশ কয়েক বার জিজ্ঞেস করে যে আমরা কোথায় যাচ্ছি। কিন্তু আব্রাহাম একদম চুপ। দেখতে দেখতে আব্রাহাম গাড়ি থামায় একদম জন-মানব শূন্য একটা জায়গায়। রাস্তা টা হাইওয়ে রোডের মতো। তবে এই সময়ে তেমন একটা গাড়ি ঘোড়াও নেই আর মানুষ, তো নেই বললেই চলে। রাস্তা গুলো কিছুটা আঁকাবাকা। আব্রাহাম গাড়ি থামায়। আইরাত এই জায়গা টা একদম চিনে না। জানালা দিলে কিছুটা উঁকি দিয়ে বাইরে দেখে তখনই আব্রাহাম বলে ওঠে…..
আব্রাহাম;; নামো।
আইরাত;; এটা আমরা কোথায় আসলাম?
আব্রাহাম;; নামতে বলেছি নামো।
আইরাত বুঝলো যে আব্রাহাম কিছুটা হলেও রেগে আছে তাই এখন বারতি প্যাচাল পারলে হয়তো এই সাইকো তাকে গাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলেই দিবে। এই ভেবেই আইরাত দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পরে। আব্রাহাম গাড়ি টা একটা সাইড করে সেও নেমে পরে। ওপরের জেকেট টা খুলে গাড়িতেই রেখে আসে।
আইরাত;; এই জায়গা টা অনেক অদ্ভুত, আমি চিনি না। আর এখানে কেন আসলাম?
আব্রাহাম;; আসো।
আব্রাহাম আইরাতের হাত ধরে নিয়ে রোডের সাইডে গিয়ে দাড়ালো। রাস্তার সাইডে কিছু র্যালিং-এর মতো রয়েছে। আব্রাহাম আইরাতের হাত ধরে নিয়ে সেখানে দাড় করিয়ে দেয়।
আইরাত;; আমরা রাস্তার এতো কিণারে দাঁড়িয়ে আছি কেন?
আব্রাহাম;; নিচের দিকে তাকাও।
আইরাত;; মানে কি?
আব্রাহাম;; নিচে তাকাও।
আইরাত আব্রাহামের কথায় রাস্তার ওপর থেকে নিচে তাকায়। নিচে তাকিয়েই আইরাতের আত্মা শুকিয়ে যায়৷
আইরাত;; আম্মুউউউউউউউউউউ।
আসলে তারা অনেক উঁচু একটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এখান থেকে নিচে তাকালে শুধু খাদ আর খাদ দেখা যায়। এই খাদে যদি কেউ একবার পরেছে তো তার আর রেহায় নেই। ইন ফ্যাক্ট খুজেই পাওয়া যাবে না। আর উচ্চতা দেখে আইরাতের ছোটবেলার সমস্যা আছে, অনেক ভয় পায়। আব্রাহাম তা হয়তো জানতো তাই তাকে এখানে আনা। তবে আইরাত ভয় পেয়ে চিল্লিয়ে ওঠে। রাস্তার সাইড থেকে আইরাত সরে আসতে চাইলে আব্রাহাম তার হাত চেপে ধরে ভাবলেশহীন ভাবে দাঁড়িয়েই থাকে।
আইরাত;; দেখুন প্লিজ, প্লিজ আমার হাত টা ছাড়ুন। আমি একটু পিছিয়ে দাড়াই। আমার খুব ভয় লাগে। আব্রাহাম প্লিজ হাত টা ছাড়ুন।
আব্রাহাম;; ভয় কে জয় করতে শেখো।
আইরাত;; আরে ধুরু রাখেন আপনার জয়। জীবন একটাই। মরলে শেষ সব। আপনি আমার হাত ছাড়ুন।
আব্রাহাম;; বড্ড বেশি চিল্লাও তুমি।
আইরাত;; আমি তো….
আব্রাহাম;; এই চুপ। নয়তো এখান থেকেই একদম নিচে ফেলে দেবো।
আইরাত এবার পারছে না কেদে দেয়। চোখ গুলো লাল হয়ে গেছে। আইরাতের হাইট থেকে ফোবিয়া আছে।
আব্রাহাম;; বসো।
আইরাত;; কোথায় বসবো? এখানে ময়লা।
আব্রাহাম;; শুনো এতো বেছে শুনে চললে কিছুই হয় না। ছোট বেলা কতো এমন ধুলাতে বসেছি। ঝেড়ে নিও পরে বসো এখন।
আব্রাহাম আরো একটু এগিয়ে গিয়ে হাইওয়ে-এর ওপর থেকে নিচে পা ঝুলিয়ে বসে পরে। আর আইরাতের হাত ধরে টেনে তাকেও বসিয়ে দেয়। আইরাত ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গেছে। বারবার ঢোক গিলছে আর আব্রাহামের দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু আব্রাহাম তো আব্রাহাম ই। এখন আব্রাহাম আর আইরাত পা ঝুলিয়ে হাইওয়ে রোডের ওপর বসে আছে। আব্রাহাম তো সেই উপভোগ করছে তবে আইরাতের অবস্থা কাহিল।
আব্রাহাম;; আইরু।
আইরাত;; ইট”স্ আইরাত নট আইরু।
আব্রাহাম;; পেত্নী।
আইরাত;; কি?
আব্রাহাম;; আমাকে আর রাগিয়ে দিও না। কারণ আমি আমার রাগ আগে থেকেই কোন্ট্রল করতে পারি না আর রাগের মাথায় কি করে বসি তার খেয়াল থাকে না। তোমাকে হার্ট করি এন্ড দ্যান পরে নিজেই আরো হাজার গুণে বেশি হার্ট হই। সো প্লিজ।
আইরাত;; রাগ মানুষকে ধ্বংস করে দেয় জানেন তো। সর্বনাশ হয়ে যায়।
আব্রাহাম;; “” প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেইদিন চৈত্রমাস,, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমি আমার সর্বনাশ 🖤🥀””
আইরাত;; সর্বনাশা জিনিস থেকে সবসময় দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।
আব্রাহাম;; এমন সর্বনাশা জিনিস থেকে যদি আমার সর্বনাশ-ই হয়। তাহলে আমি রাজি।
আইরাত নিজের সামনে তাকিয়ে তাকিয়ে কথা গুলো বলছিলো। কিন্তু আব্রাহাম, তার স্থীর চোখ গুলো আইরাতের দিকে রেখেই কথা গুলো বলছিলো। আব্রাহামের এমন বেখেয়ালি কথায় আইরাত কপাল কুচকে তার দিকে তাকায়। আব্রাহামের এমন চাহনি তাকে বরাবরই অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। আইরাত কিছুটা গলা খাকাড়ি দিয়ে বলে ওঠে………
আইরাত;; আব.. আসলে, আসলে আমার কাজ আছে। ভার্সিটি নেই তাই হোটেলে যেতে হবে।
আব্রাহাম;; এই হাত নিয়ে তুমি হোটেলে যাবে..!
আইরাত;; উপায় নেই যেতেই হবে। আর সবটাই আপনার দোষ। আপনি আমার হাত কেটেছেন।
আব্রাহাম;; কাটতাম না যদি তুমি আমায় বাধ্য না করতে তো।
আইরাত;; হয়েছে আমি এখন উঠবো। এই উঁচু জায়গায় বেশি না আর মাত্র কয়েক মিনিট বসে থাকলে আমি এখানেই অজ্ঞান। আমি চলে যাব।
আব্রাহাম;; এই হাইওয়ে তে মাত্র আসলে। তাই এতো ভয় আর এতোক্ষণ যে আমার সাথে ছিলে ভয় লাগে না?
আইরাত;; কেন আপনি বাঘ না ভাল্লুক?
আব্রাহাম;; মানুষ।
আইরাত;; গুণধর মানুষ মশাই আমি কি আমার কাজে যেতে পারি এবার।
আব্রাহাম;; না।
আইরাত;; মানে কি। আমি কাজে যাবো না। আপনি হাত ছাড়ুন আমার। বাসায় যা কান্ড করে এসেছেন না আপনি এখন বাড়িতে গেলে আমার কি হাল হবে তাই ভেবে পাচ্ছি না। আমার চাচি আমায় আস্তো গিলে ফেলবে। আর চাচা যখন জিজ্ঞেস করবে যে আপনাকে আমি কীভাবে চিনি তখন কি জবাব দিবো আমি। শুনুন আপনি যে এত্তো ইজি ভাবে লাইফ লিড করেন তেমন ইজি সবার লাইফ না। সবকিছু এভাবে হাওয়ায় উড়িয়ে দিলে হয় না।
আব্রাহাম;; আমাকে সিরিয়াস হওয়া শেখাচ্ছো তুমি।
আইরাত;; না তা নয় শুধু বলছি একটু বুঝে শুনে কাজ করুন। আর এখন আমাকে যেতে দিন।
এই কথা বলেই চলে কিছুক্ষণ পিনপতন নীরবতা। তারই মাঝে হুট করেই আব্রাহাম বলে ওঠে….
আব্রাহাম;; আচ্ছা এখন যদি আমি তোমাকে এই উঁচু হাইওয়ে থেকে নিচে ধাক্কা মেরে ফেলেই দিই তো..!
আব্রাহামের এমন কথায় আইরাত চোখ বড়ো বড়ো করে তার দিকে তাকায়। আইরাতের এখন মন চাইছে যে আব্রাহাম কেই এখন পেছন দিক দিয়ে দেক এক ধাক্কা।
আইরাত;; কি বললেন আপনি?
আব্রাহাম;; বললাম জায়গা টা অনেক সুন্দর। তোমাকে নিয়ে প্রায়ই আসতে হবে এখানে।
আইরাত;; হ্যাঁ যেন হার্ট এ্যাটার্কে আমার অকাল মৃত্যু হয়।
আব্রাহাম আইরাতের এই বকবকানি আর শুনতে না পেরে এক সময় উঠেই গেলো। আইরাত উঠে এক হাত দিয়ে তার জামা ঝেড়ে নিলো। তারপর দুইজনেই উঠে সোজা গাড়িতে বসে পরে। আইরাত মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। আব্রাহাম তাকে বাকা চোখে দেখে। আইরাতের এই রাগি চেহারা টা অনেক প্রিয় তার।
আব্রাহাম;; কোথায় যাবে? বাসায় না বাড়িতে?
আইরাত;; বাসায় গেলে কপালে শনি আছে তো এখন বাড়ি আর না হোটেলে নিয়ে যান।
আব্রাহাম;; ওকে।
আব্রাহাম গাড়ি ঘুড়িয়ে সোজা হোটেলের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে গেতেই আইরাত নেমে পরে। আব্রাহাম তার চোখে থাকা গ্লাস টা খুলে আইরাতের দিকে তাকায়। কিন্তু আইরাত একবারের জন্যও আব্রাহামের দিকে তাকায় না সোজা এসে পরে। আর কি আব্রাহামও চলে যায় সেখান থেকে।
আইরাতের গেতেই অবনি তার কাছে যায়। আইরাত তেড়ে আসছে যেন এদিকেই।
অবনি;; কিরে এভাবে ষাড়ের মতো তেড়ে আসছিস কেন?
অবনির কথা শুনে আইরাত অবনির চুল টেনে ধরে।
আইরাত;; তুই ষাড় তোর জামাই ষাড় তোর শশুড়-শাশুরি, আন্ডাবাচ্চা সব ষাড় হারামি।
অবনি;; আরে হয়েছে কি এভাবে ক্ষেপে আছিস কেন?
আইরাত;; কিছু না।
এই বলেই আইরাত অবনির কাছ থেকে কিচেন এপ্রোন টা নিয়ে ভেতরে চলে যায়। এতোক্ষণে অবনি আইরাতের হাতের দিকে খেয়াল করে। হাত টা তার কাটা। আইরাত তো কিচেনে চলে গেছে পরে অবনিও দ্রুত তার পেছন পেছন যায়। গিয়েই আইরাতের হাত ধরে ফেলে।
অবনি;; কিরে তোর হাত, হাত এত্তো কি করে কাটলো? আর এভাবে কাজ করবি কীভাবে?
আইরাত;; আরে করে নিবো আর এটা আসলে পরে গিয়েছিলাম তো হাত কেতে গেছে তখন।
অবনি;; এটা পরে গিয়ে হাত কাটার মতো না। উলটো বুঝ দিস না আমায়। এই সত্যি বলতো তো তোর চাচি কি কিছু করেছে? (রেগে)
আইরাত;; আরে না রে, চাচি নিজেই ভয়ে শুকিয়ে গেছে।
অবনি;; মানে?
আইরাত;; না না কিছু না, আরে কাজ আছে। কাজে লেগে পর তো।
আইরাত ব্যাপার টা এড়িয়ে গিয়ে কাজে মনোযোগ দেয়। আস্তে আস্তে কাজ করছে হাতে অনেক ব্যাথা নিয়েই। শরীরও ভালো লাগছে না। হাত প্রচন্ড ব্যাথা করছে।
আইরাত গিয়ে একটা লোকের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে আসে। আবার ভেতরের দিকে যেতেই হঠাৎ আইরাতের মাথা টা চক্কর দিয়ে উঠে। আইরাত একটা কিছু ধরে কোন রকমে নিজেকে সামলে নেয়। আবার পরে যেতে ধরলে অবনি এসে দ্রুত আইরাতকে ধরে।
অবনি;; আইরু, হয়েছে কি? শরীর খারাপ লাগছে?
আইরাত;; হাত অনেক ব্যাথা করছে রে। হাত টা নড়াচড়াও করতে পারছি না।
অবনি;; এই তোর তো জ্বর এসে পরেছে ব্যাথায়।
আইরাত;; হুম।
অবনি;; শোন তুই বাড়ি যা। আমি আর সবাই আছি সামলে নিবো। তুই বাড়ি যা, আশরাফ চাচ্চু আউট অফ সিটি গিয়েছেন। হয়তো কিছুদিন পর আসবে কিন্তু আমি কথা বলে নিবো। তুই বাড়ি যা তো।
আইরাত;; তুই সিওর?
অবনি;; হান্ড্রেট পারসেন্ট। তুই যা।
আইরাত;; হুম।
আইরাত অর্ডারের সব কিছু অবনি কে বুঝিয়ে দিয়ে এসে পরে। সোজা বাড়ি চলে যায়। আইরাত বাড়ি গেলে কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। তবুও বাড়ি যায়। বাড়ি গিয়েই দেখে তার চাচা ইকবাল দাঁড়িয়ে আছে পেছনে দুই হাত ভাজ করে।
আইরাত;; চাচ্চু।
ইকবাল;; হাত বেশি কেটেছে?
আইরাত;; না ঠিক আছি।
ইকবাল;; আব্রাহাম আহমেদ চৌধুরী ছিলো সে তাই না..!
আইরাত;; তুমি চেনো?
ইকবাল;; না, তবে এখন জানতে পেরেছি। পুলিশে কেস করতে গিয়েছিলান তবে গিয়ে দেখি পুলিশরাই আব্রাহাম চৌধুরীর কেনা গোলাম। ফিরে আসি বাসায়।
আইরাত;; চাচ্চু ছাড়ো তো, আমার ভালো লাগছে না রুমে গেলাম।
ইকবাল;; শোন তোর চাচি যদি কিছু বলে এড়িয়ে যা। আমি জানি তোর দোষ নেই। যা রুমে যা।
আইরাত;; আচ্ছা।
আইরাত সোজা নিজের ঘরে যায়। ওয়াসরুমে গিয়ে ইচ্ছে মতো পানির ছিটে দেয় চোখে মুখে। এক হাত দিয়ে কাজ করা যে কি পরিমান টাফ তা এখন আইরাত হারে হারে বুঝতে পারছে। রুমে এসেই গা এলিয়ে দেয়। মাথা ভার ভার লাগছে৷ এইটুকু সময়ে হাতের এত্তো ব্যাথা যে ব্যাথায় জ্বর অব্দি এসে গেছে। আইরাত শুয়ে পরে।
আব্রাহাম বিকেলের দিকে হোটেলে যায় কিন্তু সেখানে গিয়ে আইরাত কে পায় না। অবনির কাছ থেকে জানতে পারে আইরাতের শরীর ভালো ছিলো না তাই বাড়ি চলে যায়। আব্রাহাম ব্যাপার টা বুঝতে পেরে চলে যায়। আর অন্যদিকে আইরাতের জ্বর থামার নাম নেই। সেই যে এসে রুমে গিয়ে শুয়েছিলো আর নিচেও নামে নি। বেলা এগারো-বারো টার দিকে আব্রাহাম আইরাতকে হোটেলে ড্রপ করেছিলো আর দেখা হয় নি। আইরাতকে দেখতে না পেরে তো আব্রাহামের অবস্থা নাজেহাল এবার আব্রাহামের নিজের ওপরই রাগ লাগছে। আব্রাহাম আর থাকতে না পেরে বাইক নিয়ে আইরাতের বাড়ির সামনে চলে যায়। আব্রাহাম তাকিয়ে দেখে বেশ বড়োসড়ো গেট টা। এখন তাকে এই বাড়ির ভেতরে যেতে হলে এই বড়ো গেট আর তারপর আইরাতের রুমের করিডর ডিঙিয়ে তারপর রুমে যেতে হবে।
আব্রাহাম;; আর কি কি যে করতে হবে এই মেয়ের পাল্লায় পরে৷
আর কি যেই ভাবনা সেই কাজ। আব্রাহাম দেওয়াল টপকিয়ে ভেতরে চলে যায়। খুব কষ্টে করিডরের এক এক জায়গায় হাত দিয়ে উঠে পরে। দরজা তো খোলা যাবে না কারণ তা ভেতর দিয়ে লাগানো তাহলে ভেতরে যাবে কীভাবে। ভাবতে ভাবতেই আব্রাহাম তাকিয়ে দেখে রুমের জানালা খোলা। আর কি হয়েই গেলো। জানাকার পর্দা সরিয়ে রুমের ভেতরে চলে গেলো। গিয়েই দেখে রুমে কেউ নেই। তবে ভেতরে ওয়াসরুম থেকে পানির আওয়াজ আসছে। আব্রাহাম বুঝলো যে আইরাত ওয়াসরুমে। আব্রাহাম বাকা হেসে পুরো রুম টা ঘুড়ে ঘুড়ে দেখতে লাগলো। কারণ যখন আইরাতের হাত কেটেছিলো তখন ভালো ভাবে রুমটা দেখতে পারে নি। এবার দেখছে। আব্রাহাম ঘুড়তে ঘুড়তেই দেখে যে আইরাতের একটা ছবি টেবিলের ওপর ফ্রেমে রয়েছে। আব্রাহাম তা হাতে তুলে নিয়ে দেখতে থাকে। আর তখনই আইরাত ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে বাইরে আসে। সামনে তাকাতেই দেখে আব্রাহাম। আইরাত জোরকা ঝটকা খায়। হাত দিয়ে দুই চোখ ভালোভাবে কচলিয়ে আবার সামনে তাকায় কিন্তু এবার দেখে যে সেখানে আব্রাহাম নেই। তাহলে কি ভুল দেখলো আইরাত……!!
।
।
।
।
চলবে~