পাতা বাহার পর্ব-১০

0
464

#পাতা_বাহার
#বেলা_শেখ
#পর্ব- ১০ (বর্ধিতাংশ)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

মেঘলা দিন। আকাশে কালো সাদা মেঘের ঘনঘটা। মনে হচ্ছে বৃষ্টি নামলো বলে। কিন্তু নামছে না। মাঝে মাঝে হালকা ঝিরিঝিরি ফোঁটা পড়ছে কিন্তু খুব সাময়িক সময়ের জন্য। আবার যেমন তেমনই। এমন দিনে সাধারণত স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম থাকে। আজও খুব একটা উপস্থিতি নেই। ভোর আজ চুপচাপ ক্লাস করেছে। তার বন্ধু রোহান আসেনি কিনা!! ভোরের আজ দিনটাই বাজে কেটেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবাকে পায় নি। স্কুল ড্রেসের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। স্কুলে এসে বন্ধু রোহানকেও পায় নি। আর পাতা মিসের মায়ের প্রসঙ্গে কথা বলা। যতই বলুক তার মন খারাপ হয় না! আদোতে তার মন খারাপের থেকেও বেশী কিছু হয়, কান্না পায়! কিন্তু কাঁদতে পারে না‌। আর এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক! যে কান্না পায় অথচ কান্না না করতে পারাটা অনেক ব্যাথা দেয়! ভোরের ক্ষেত্রেও তেমনি‌। মাকে তারও মনে পড়ে‌। যখন কোনো বাচ্চাকে মায়ের সাথে দেখে! মায়ের বাচ্চাকে আদর, শাসন, আবদার পূরণ ইত্যাদি দেখলেই মন বিষণ্নতায় ছেয়ে যায়। ইশ তার মাও যদি এভাবে বকতো! আদর করতো! আবার বাবা যখন তাকে অনেক অনেক আদর করে ভালোবাসে! আব্বু কলিজা বলে ডাকে সব বিষন্নতা দূর হয়ে যায় নিমিষেই!!

স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। ভোর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে সাথে আভারি ও ড্রাইভার ‌। তারা ভোরকে গাড়িতে উঠতে বলছে। ভোর শুনছে না। বুকে দু হাত বেঁধে বড়দের মতো করে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একটু পরেই পাতা আসে স্কুটি নিয়ে। ভোরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্কুলটি থামায় । ভোরের মুখে মিষ্টি হাসির রেখা ফুটে ওঠে। পাতা তার গাল টিপে জলদি উঠতে বলে। ভোর বিনা বাক্যব্যয়ে উঠে পড়ে। স্কুল ব্যাগ আভারির কাছে! ভোর আভারি ও ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলে,

-” আমি মিসের সাথে যাবো। তোমরা এসো। আর শোন? আব্বুর কানে গেলে তোমাদের সাথে আড়ি!”

বলে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানায়। আভারি আর ড্রাইভার একে অপরের দিকে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফালায়। তার গাড়িতে ধীর গতিতে উঠে স্কুটির পিছু পিছু আসতে। থাকে।

-” মন খারাপ ভোর সরকার?”

-” হুম!”

-” কেন?”

-” আজ রোহান আসে নি! পুরো ক্লাস বোরিং লেগেছে! আবার ক্ষিধেও লেগেছে জোরে!”

পাতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। ওহ এই কারণে মন খারাপ! মায়ের কথা ভেবে নয়!

-” বৃষ্টি বৃষ্টি পরিবেশ তো! তাই আসে নি বোধহয়! আর ক্ষিধে পেয়েছে? কি খাবে বলো? কোনো রেস্টুরেন্টে যাবে?”

-” না মিস! ওসব খেতে ইচ্ছে করছে না!”

-” দাড়াও কেক কিনি ! খেয়ে পানি খাবে!”

-” না মিস। কেক খাবো না! আমার ভাতের ক্ষুধা লেগেছে! বাড়ি গিয়েই খাবো! বাইরের খাবার খেলে আমার সমস্যা হয়!”

পাতা হাসে খানিকটা। বড়লোক বাবার আদরের ঘরের দুলাল! অথচ তারা তো বাইরের হাবিজাবি কতকিছু খায় সমস্যার স ও হয় না। তবে মাঝে মাঝে ফুচকা বেশি গিললে লুস মোশন হয়!

-” সকালে কি খেয়েছিলে?”

ভোর মনে করে কি খেয়েছিলো! দাদি দুটো অমলেট আর পরোটা দিয়েছিল। সে শুধু অমলেট খেয়েছে। পরোটা খেতে মন চাইছিল না!

-” দুটো অমলেট খেয়েছি! আপনি?”

-” তিনটে পরোটা! আমের আচার দিয়ে!”

ভোরের চোখ গোল গোল হয়ে যায়!”

-” তিনটা?আপনি তিনটা শেষ করতে পারেন?আমার আব্বু তো দুটোর বেশি খেতেই পারে না!”

পাতা হা হয়ে যায়! ওত বড় ষাঁড় দুটোর বেশি খেতে পারে না! দেখে তো মনে হয় পুরো আটার বস্তা গিলে নিবে ঢেকুর পর্যন্ত তুলবে না! পাতা হেসে বলে,

-” তোমার আব্বু বুড়ো মানুষ তো! নড়বড়ে দাঁত! চিবোতে পারে না হয়তো!”

ভোরের কপাল কুঞ্চিত হয়।

-” আমার আব্বু বুড়ো না! ইয়াং! আপনার থেকে ছোটই হবে। বেশি বেশি হরলিক্স খেয়েছিল তাই লম্বা হয়ে গেছে!”

পাতা ফিক করে হেসে দেয়! তার থেকে ছোট! কচি খোকাটা! হরলিক্স খেয়ে খেয়ে ওমন ষাঁড় হয়ে গেছে! সে হেসেই বলে,

-” ঠিক বলেছো! একটা ফিটার কিনে দিব নি তোমার আব্বুকে!”

পাতার হাসি থামে না। ভোর মুখ ফুলিয়ে রাখে। তার বাবাকে নিয়ে মজা করলে তার ভালো লাগে না! খুনসুটির মাঝেই তারা থেমে যায় একটা মোরের কাছে। এখানে থেকেই ভোরকে স্কুটিতে তুলেছিল সকালে। থেমে ঘার ঘুরিয়ে পিছনে চায়! ভোরদের গাড়ির খোঁজে। কিন্তু নজরে আসে না। ভোর বলে,

-” মিস আমাদের বাড়ি চলুন! বেশি দূরে নয় এই সামনেই!”

পাতা মুচকি হেসে ভোরের চুল এলোমেলো করে বলে,

-” আজ না অন্যদিন। তোমার গাড়ি আসছে না কেন?”

ভোর কাঁধ উঁচিয়ে বোঝায় কি জানি! একটু পরে বলে,

-” মিস আপনাদের বাড়িতে আমাকে যেতে বললেন না?”

পাতা পিট পিট করে চায়! বলা উচিত ছিলো কি? ছিলোই তো! বাচ্চাটাও তো বললো তাদের বাড়িতে যেতে ‌ সেক্ষেত্রে ভদ্রতার খাতিরে!!পাতা হে হে করে হেসে বলে,

-” যাবে আমাদের বাড়িতে? চলো? এখান থেকে ভালোই দূরে কিন্তু?”

ভোর বত্রিশ পাটি দেখিয়ে চট করে জবাব দেয় যেন প্রশ্নের আশায় ছিল।

-” যাবো মিস! চলুন?”

পাতার চোয়াল ঝুলে যায়! এর তো দেখছি কোনো না নেই! বললাম আর যাবো!

-” যাবে? আচ্ছা! কিন্তু তোমার আব্বু বকবে অনেক সাথে আমাকেও! ভালো হবে বাড়ি যাও! অন্যদিন নিয়ে যাবো আমাদের বাড়িতে?”

-” আব্বু বকবে না! আমি আজই যেতে চাই! এখন আপনি যখন নিয়ে যেতে চাইছেন না? তাহলে!!”

পাতা বোকা হাসে। এই ছেলে তো যাবেই! এ কার‌ পাল্লায় পড়লো সে! ধ্যাত! মা আপু কি ভাববে? আর মি. অরুণ সরকার জানতে পারলে তাকে কাঁচা গিলে নেবে!!

-” চলো? নিয়ে যাই!”

ভোর খুশি হয়ে বলে,

-” আপনি এতো ভালো কেন মিস?”

‘ হয়েছে বাপ তেল কম মার’। জোর করে কাঁধে চড়ে সান্ত্বনা গীত গাওয়া হচ্ছে!! মনে মনে আওড়িয়ে পাতা স্কুটি স্টার্ট দেয় নাখোশ মনে। ও বাড়িতে নিজেই এক আগাছার মতো! এখন আগাছার গেস্ট হিসেবে যাচ্ছে ভোর!

পাতাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভোর খুব এক্সাইটেড! পাতা মিসের বাড়ি কেমন কে কে আছে? সব প্রশ্নের জবাব নেয় পাতার থেকে। পাতাও খুশি মনে জবাব দেয়। বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তরের মাঝেই তারা পৌঁছে যায়। পাতা স্কুটি সিঁড়ির কাছে রেখে ভোরের এক হাত ধরে কলিং বাজায়। একটু পরেই দরজা খুলে দিলো লুবমান। পাতাকে দেখে একগাল হেসে বলে,

-” এই পাতু? তুই? আমি ভেবেছি অন্য কেউ? হঠাৎ বেল বাজালি? সবসময় তো দরজা ধাক্কা দিস?”

পাতা লুবমানের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চায়! লুবমানের চুলে ঝুটি করা!

-” ভাই তুই লুবমান থেকে লুবাইয়া হয়ে গেলি নাকি?”

লুবমান পাতার মাথায় চাটি মেরে বলে,

-” বড় ভাই তোর! সাবধানে কথা বলবি! চুল গুলো বড় হয়েছে! কাটার সময়ই পাচ্ছি না। গরমের হাত থেকে বাঁচতে এ অবস্থা! আরে এই হাফ টিকিট টা কে? এই কিডন্যাপ টিডন্যাপ করে আনিস নি তো?”

ভোর লুবমানের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে সালাম দেয়,

-” আসসালামুয়ালাইকুম আঙ্কেল!”

লুবমানের চোখ কপালে! তাকে আঙ্কেল আঙ্কেল লাগছে কি! হায় আল্লাহ!

-” এই হাফ টিকিট? আঙ্কেল বলছিস কাকে? আমাকে কি বুড়োর মতো লাগে নাকি!”

পাতা ভাইকে পাশ কাটিয়ে ভোরকে নিয়ে ভেতরে ঢোকে! ভোর পিছনে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে,

-” না তো! আন্টি আন্টি লাগছে!!”

লুবমানের চোয়াল ঝুলে যায়! পাতা ফিক করে হেসে ওঠে! ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছে লতা ,লাবিব, লাবনী আক্তার বসে টিভির সামনে! টিভিতে কার্টুন চলছে! পাতার সাথে এক বাচ্চাকে দেখে সবাই প্রশ্নাত্মক চাহনিতে পাতার দিকে চায়। লাবিব উঠে এসে পাতার হাত ধরে বলে,

-” খালামুনি ও কে?”

পাতা ভোরের মাথায় হাত রেখে বলে,

-” এটা ভোর সরকার! আমার স্টুডেন্ট! আবদার করলো মিসের বাড়ি যাবো! তাই নিয়ে এলাম! ভোর আমার আম্মু! আপু ! আর আপুর কোলের পিচ্চিটা আমার আরেকটা আম্মু! আপুর মেয়ে। আর এই বাচ্চাটা আপুর ছেলে!”

ভোর মুচকি হেসে সালাম দেয়। লতা মেয়েকে কোলে নিয়েই এগিয়ে এসে ভোরের গাল টিপে বলে,

-” কি সুন্দর কিউট ছেলে! সালামও দিলো! আর আমারটা এক নাম্বারের শয়তান!”

লাবিব মুখ ভেঙায়!

-” মা যেমন ছেলেও তেমনই হবে তাই না!”

মনে মনেই বলে লাবিব‌। জোরে বলবে ,তার ঘারে কয়টা মাথা! ভোর মিটমিট করে হাসে লাবিবের দিকে তাকিয়ে। লাবিব চোখ ছোট ছোট করে চায় তার দিকে! লাবনী আক্তার এসে ভোরকে দেখে বলে,

-” ছোট্ট কুটুম্ব এসেছে! তা তোমার বাবার নাম কি? কি করেন তিনি?”

ভোর লাবনী আক্তারকে ভালোভাবে দেখে নেয়। পাতা মিসের মতোই দেখতে খানিকটা!

-” অরুণ সরকার! কাজ করে অফিসে!”

-” আর তোমার মায়ের নাম? ”

ভোরের হাসি খুশি মুখ মলিন হয়ে যায়। ঘার ফিরিয়ে পাতার দিকে চায়! পাতা মাকে বলে,

-” মা! এসব আলোচনা পড়ে হবে। তোমার কুটুমের ক্ষিধে পেয়েছে অনেক! কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করো! আর লাবিব যাও তো ভোরকে আমার রুমে নিয়ে যাও! আমি আসছি!”

লাবিব ভোরের দিকে চেয়ে ‘ আসো’ বলে পাতার রুমের দিকে হাঁটা দেয়‌। ভোর পাতার দিকে তাকালো! পাতা ইশারায় যেতে বললে লাবিবের পিছু পিছু যায়!
ভোর চলে গেলে লতা মেয়েকে লুবমানের কোলে দিয়ে পাতাকে বলে,

-” মায়ের কথা শুনে ফিউস উড়ে গেল কেন? ব্যাপারটা কি?”

পাতা শান্ত চোখে বোনের দিকে চেয়ে বলে,

-” ওর বাবা মার ডিভোর্স হয়ে গেছে।ও ছোট থাকতে! বাবার কাছেই থাকে! ছেলেটা অনেক আদুরে! এতো মিষ্টি মিষ্টি কথা জানে! একবার আলাপ করলেই বুঝতে পারবে!”

লাবনী আক্তারের মায়া হয় বেশ!

-” ওর বাবা বিয়ে করে নি আর?”

পাতা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,

-” না!”

-” বউটাকে এখনো ভালোবাসে হয়তো!”

পাতা ভাবে খানিকটা! তাই কি? লোকটা বউকে এতো ভালোবাসতো! এখনো বাসে?

-” আম্মু? ওসব বাদ দাও তো! ছেলেটার ক্ষিদে পেয়েছে বললো! কি আছে ঘরে?”

লতার কথায় পাতার টনক নড়ে। মায়ের দিকে চায়। লাবনী বলেন,

-“কাঁঠাল রেধেছি ডাল দিয়ে! চিংড়ি মাছ পেঁয়াজ কুচি দিয়ে রেধেছি। সকালের আলু ভাজি আছে!!”

পাতা খানিকটা চিন্তায় পড়ে যায়।

-” বেশ বড় ওরা! বাপ বড় বিজনেসম্যান তাও আবার স্বর্ণের! এসব খাবে তো!”

লতা তার পিঠে চাপড় মেরে বলে,

-” খাবে না কেন? এগুলো কি ভালো খাবার না? বড় লোকরা তো সবসময় মাছ মাংস বড় লোকি খাবারই খায়! এসব বাঙালি খাবার পেলে চেটে পুটে খাবে! আম্মু তুমি একটা ডিম পোস করে দাও হয়ে যাবে!”

লাবনী রান্না ঘরে যায়। লতা সোফায় বসে পড়ল। পাতা নিজের রুমে ঢুকে। ভোর চুপচাপ বিছানায় বসে পুরো রুমে চোখ বুলায়। লাবিব টেবিলের চেয়ারের সাথে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে। ভাব এমন যেন‌ বাড়ির মুরুব্বি । পাতা এসে ভোরের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

-” এখানে বসো! আমি চেঞ্জ করে এসে তোমাকে ফ্রেশ করিয়ে দিবো!”

ভোর মাথা নাড়ল। তার ভালো লাগছে এখানে এসে। ছোট বাড়ি আর কত মানুষ! এরমধ্যে লতা আর লুবমান ভিতরে আসে। লতা লাবিবের পাশে বসে বলে,

-” গরম লাগছে?”

ভোর হাসে। ফ্যান চলছে তবুও তার বেশ গরম লাগছে। ঘেমেও গেছে খানিকটা!
লুবমান বিছানায় উঠে জানালাটা খুলে দেয়। ভোর ঘার উঁচিয়ে সেথায় তাকায়। সবুজ ধান ক্ষেতের সারি।

-” ওয়াও কি সুন্দর! বাইরে ধান ক্ষেত?”

লুবমান চোখ ছোট ছোট করে ভোরের দিকে তাকিয়ে বলে,

-” তুই ধান ক্ষেত ও চিনিস? বাহ হাফ টিকিট!”

-” চিনব না কেন? এটা কে না চেনে আঙ্কেল?”

-” আবার আঙ্কেল ডাকছিস? ভাইয়া বল!”

লতা হেসে বলে,

-” আঙ্কেলই ঠিক আছে। ঠিক সময় বিয়ে করালে তোরও এমন একটা বাচ্চা থাকতো!”

ভোর খিলখিলিয়ে হেসে দেয়। লতা, লুবমান তাকিয়ে দেখে কি মিষ্টি হাসির ফোয়ারা!! বাচ্চাটা দেখতেও মাশাআল্লাহ!!

-” এই লুব একটু বড় হলেই এই ছেলের পিছনে মেয়েদের লাইন লেগে যাবে। হাসিতেই সব ফিদা হয়ে যাবে!”

ভোর একটু লজ্জা পায়! চোখ পিটপিট করে! লুবমান তার গাল টেনে বলে,

-” ওলে লে বাবুটা লজ্জা পেয়েছে!!”

লতা তাকে সরিয়ে ভোরকে কোলে তুলে নিয়ে কয়েকটা চুমু দিলো।

-” ইশ আমার ছেলেটা যদি এমন মিষ্টি হতো!”

লাবিব সেটা শুনে ধুপধাপ পা ফেলে চলে যেতে নিলে লুবমান আটকায়!

-” এই মামু কই যাস! আপা দেখ তোর ছেলের হিংসে হচ্ছে!”

লাবিব ছুটে যেতে চায়। পারে না। লুবমান টাইট করে জড়িয়ে ধরে। ভোর লতা সেদিকে তাকিয়ে! লাবিব চিল্লাচিল্লি করতে থাকে ,

-” মামু ছাড়ো তো! ভালো লাগে না! আমি তো শয়তান! ওই ভালো ছেলেকেই নিয়ে থাকো তোমরা! আমি আব্বুর কাছে চলে যাবো এখুনি।”

লতা হাসে ভোরকে নামিয়ে দিয়ে ছেলেকে কোলে তোলে। লাবিব ছোটাছুটি করে। লতা তাকে নামিয়ে দিলো তবে ছাড়লো না। নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে। লাবিবের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। লতা হেসে ছেলের গালে মুখে বেশ কয়েকটা চুমু খায়‌।

-” আব্বাজান! মজা করছিতো! আমার ছেলে যেমন তেমনি আমার প্রিয়! মা তোমাকে অনেক ভালোবাসে! বকি বেশি ঠিকাছে! ভালোও বেশিই বাসি।ওটা তো এমনি বলেছি! তুই আমার লক্ষী সোনা ছেলে!”

লাবিব হেসে দেয়। লতা ছেলের হাসিমাখা গালে চুমু এঁকে দিতে ভুলে না। লুবমান লাবিবের চুল এলোমেলো করে বলে,

-” মেয়েদের মতো হিংসুটে হলি কবে থেকে?”

লতা চোখ গরম করে চায়। লাবিব লুবমান হাই ফাইভ দিয়ে হেসে ওঠে। ভোর চুপটি করে তাদের কর্মকাণ্ড দেখছিল। তন্মধ্যে ‌পাতা বেরিয়ে আসে। ভোরকে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে,

-” কি হয়েছে?”

ভোর মিষ্টি হেসে মাথা নাড়ে! কিছু না! লতা লুবমান লাবিব তাদের দিকে চায়! পাতা ভোরকে বলে,

-” চল হাত মুখ ধুয়ে নাও!”

বলে বেরিয়ে যেতে নিলে লতা বলে,

-” ছেলেটা ঘেমে একাকার! শার্ট ঘামে ভিজে ! এতো ঘামছে কেন?”

পাতা ভোরের দিকে তাকিয়ে দেখে সত্যিই তাই!

-” সবসময় এসিতে থাকার অভ্যাস হয়তোবা!”

লতা লাবিব ,ভোরকে একবার দেখে বলে,

-” ওর শার্ট খুলে দে! লাবিবের একটা টি শার্ট পড়িয়ে দে! পড়বে না ভোর?”

ভোর লাবিবের দিকে তাকালো। তারপর পাতার দিকে তাকিয়ে বলে,

-” তার দরকার নেই মিস! আমি পড়বো না! এটাই ঠিক আছে!”

-” ভোর একদম নতুন টি শার্ট দেব! লাবিব পড়েই নি এমন!”

ভোর পাতার দিকে চায়।

-” তাহলে ঠিকাছে!”

পাতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এ যে অরুণ সরকারেরই ছেলে! লতা লাবিবকে নিয়ে চলে যায়! লুবমান ভোরের মাথায় টোকা দিয়ে চলে গেলো।ভোর মাথা ডলে,

-” মিস আপনার ভাই বদলে গেল কিভাবে?”

পাতার ভ্রু কুঁচকে যায়!

-” মানে?”

-” ওই দিন শপিং মলে তো এই আঙ্কেল ছিল না!”

পাতা হেসে বলে,

-” ওটা আমার আরেকটা ভাই! বুঝলে?”

ভোর মাথা নাড়ে। তখনই পাতার ফোন বেজে ওঠে। পাতা স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে আননোন নাম্বার তবে বুঝতে পারে কে হতে পারে। কল রিসিভ করে কণ্ঠস্বর শুনে ভোরের কানে দেয়,

-” তোমার আব্বু!”

ভোর ঢোক গিলে!

-” হ্যালো আব্বু? আমি ভোর!”

ভোরের কণ্ঠ শুনে অরুণের প্রাণ যেন ফিরে পায়! উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে,

-” আব্বু কোথায় তুমি? মিস পাতাবাহারের সাথে?”

-” হুম! ওনার বাড়িতে। প্লিজ আব্বু বকবে না!”

অরুণ গাড়ির সিটে গা এলিয়ে দেয়।

-” বকবো না? তুমি দিন দিন উচ্ছন্নে যাচ্ছো ভোর! আমার একটা কথাও শোনো না! তোমাকে পড়ে দেখছি! তোমার মিসকে দাও?”

ভোর কাঁচুমাচু করে পাতার দিকে চায়।

-” আব্বু মিসের কোনো দোষ নেই! তুমি আমাকেই বকো! মিসকে না!”

-” দিতে বলেছি!”

ভোর ফোন পাতার দিকে বাড়িয়ে দেয়! পাতার চোখ বড় বড় হয়ে যায়! আল্লাহ পাগলা ষাঁড় ক্ষেপে আছে! তার ধমকেই না পটল তুলে নেয় পাতা!

-” হ্যালো?”

-” আপনার কি কোনো কমনসেন্স নেই? ভোর ছোট বাচ্চা আপনি তো নন! বিনা ইনফর্মে ওকে নিয়ে বাড়িতে যান কিভাবে আপনি?”

পাতা অপমান বোধ করে।

-” আমার কথাটা শুনেন?”

অরুণ গম্ভীর কণ্ঠে ধমকে বলে,

-” যাস্ট শাট আপ! ভোরকে নিয়ে গেছেন ঠিক আছে! ওর গার্ডিয়ানকে জানাবেন না? আপনি জানেন আভারি ভাই সহ ড্রাইভার ভোরকে কখন থেকে খুঁজে চলেছে?কতটা পেরেশানিতে আছে!! ওদের কাছে আপনার নাম্বারও নেই যে কল করবে!”

পাতা বুঝতে পারে ভুল তাঁর আছে। লোক গুলো ভোরকে খুঁজে না পেয়ে অনেক ভয়ে ছিল নিশ্চয়!

-” আই এম এক্সট্রেমলি স্যরি! আমি ভোরকে দিয়ে আসবো! আপনারা চিন্তা করবেন না।”

অরুণ শক্ত চোয়ালে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,

-” ওত উপকার করতে হবে না! আপনার ঠিকানা দিন আমি আসছি ছেলেকে নিতে!”

পাতা ভোরের দিকে চায়। ছেলেটার হাস্যোজ্জ্বল মুখটা মলিন হয়ে আছে। ছেলেটার কপালে আজ অনেক বকা নাচছে! পাতা ঠিকানা দিয়ে বলে,

-” সবটা আমার ভুল! ভোরকে কিছু বলবেন না যেন?”

-” ছেলে আমার! ভালো মন্দ দেখতে হবেও আমাকেই!”

বলেই কল‌ কেটে দেয়। পাতা কান থেকে ফোন নামিয়ে ভোরের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। ভোর কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে,

-” স্যরি মিস আমার জন্য আপনাকে বকা শুনতে হলো!”
পাতা হেসে বলে,

-” বকে নি আমাকে! আর না তোমাকে বকবে! যদি বকে বাবাকে জড়িয়ে টপাটপ গালে চুমু খাবে ব্যস! এখন চলো জলদি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও!”

পাতা ভোরকে ফ্রেশ করতে সাহায্য করে। তারপর লাবিবের একটা নতুন টি শার্ট ভোরকে পরিয়ে ড্রয়িংরুমেই সোফার পিছনে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে দেয়। লাবিব, লুবমান আগে থেকেই বসে! লুবমানের কোলে রুম্পা! লতা ছেলেকে খাইয়ে দিচ্ছে যত্ন করে। ভোর সেদিকে তাকিয়ে থাকে অপলক! লাবনী আক্তার একটা প্লেটে অল্প ভাত দিয়ে ভোরের সামনে দিল। পাতাকে বলে ,
-” কুটুমকে বেড়ে খাওয়ানোর দায়িত্ব তোর!”
পাতা হেসে কাঁঠালের তরকারি ভোরের পাতে দিতে নিলে ভোর মানা করে,

-” মাংস খাব না। এলার্জি আছে!!”

লুবমান হেসে বলে,

-” ওই আদরের ঘরের দুলাল? এটা গরিবের মাংস! এতে এলার্জির ছিটেফোঁটাও নাই।”

ভোর অবুঝের মতো তাকায় লুবমানের দিকে। লতা হেসে ছেলের মুখে লোকমা পুরে বলে,

-” ভোর এটা মাংস না। কাঁঠালের তরকারি! খেয়ে দেখো বেশ মজা!”

-” আচ্ছা দিন!”

পাতা অল্প দেয়‌। চিংড়ি, ডিম, ভাজি ও দেয় পাতের কোনায়! ভোর অদক্ষ হাতে মাখিয়ে মুখে তুলে!
-” দাও আমি খাইয়ে দিচ্ছি!”

পাতার কথায় ভোর মিষ্টি হেসে হাত ধুয়ে নেয়। পাতা নিজেও হাত ধুয়ে ভাত মাখিয়ে ভোরের মুখে দেয়। ভোর হাসিখুশি মুখে পুরে খেতে থাকে। নাহ খাবারটা মজার! তখনই ফোনটা পুনরায় বেজে ওঠে পাতার! সবাই তার দিকে তাকিয়ে! পাতা বাম হাতে রিসিভ করে কানে ধরে। হ্যালো বলার সুযোগই পায় না!

চলবে…..

#পাতা_বাহার
#বেলা_শেখ
#পর্ব- ১০ (বর্ধিতাংশ)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

মেঘলা দিন। আকাশে কালো সাদা মেঘের ঘনঘটা। মনে হচ্ছে বৃষ্টি নামলো বলে। কিন্তু নামছে না। মাঝে মাঝে হালকা ঝিরিঝিরি ফোঁটা পড়ছে কিন্তু খুব সাময়িক সময়ের জন্য। আবার যেমন তেমনই। এমন দিনে সাধারণত স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম থাকে। আজও খুব একটা উপস্থিতি নেই। ভোর আজ চুপচাপ ক্লাস করেছে। তার বন্ধু রোহান আসেনি কিনা!! ভোরের আজ দিনটাই বাজে কেটেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবাকে পায় নি। স্কুল ড্রেসের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। স্কুলে এসে বন্ধু রোহানকেও পায় নি। আর পাতা মিসের মায়ের প্রসঙ্গে কথা বলা। যতই বলুক তার মন খারাপ হয় না! আদোতে তার মন খারাপের থেকেও বেশী কিছু হয়, কান্না পায়! কিন্তু কাঁদতে পারে না‌। আর এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক! যে কান্না পায় অথচ কান্না না করতে পারাটা অনেক ব্যাথা দেয়! ভোরের ক্ষেত্রেও তেমনি‌। মাকে তারও মনে পড়ে‌। যখন কোনো বাচ্চাকে মায়ের সাথে দেখে! মায়ের বাচ্চাকে আদর, শাসন, আবদার পূরণ ইত্যাদি দেখলেই মন বিষণ্নতায় ছেয়ে যায়। ইশ তার মাও যদি এভাবে বকতো! আদর করতো! আবার বাবা যখন তাকে অনেক অনেক আদর করে ভালোবাসে! আব্বু কলিজা বলে ডাকে সব বিষন্নতা দূর হয়ে যায় নিমিষেই!!

স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। ভোর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে সাথে আভারি ও ড্রাইভার ‌। তারা ভোরকে গাড়িতে উঠতে বলছে। ভোর শুনছে না। বুকে দু হাত বেঁধে বড়দের মতো করে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একটু পরেই পাতা আসে স্কুটি নিয়ে। ভোরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্কুলটি থামায় । ভোরের মুখে মিষ্টি হাসির রেখা ফুটে ওঠে। পাতা তার গাল টিপে জলদি উঠতে বলে। ভোর বিনা বাক্যব্যয়ে উঠে পড়ে। স্কুল ব্যাগ আভারির কাছে! ভোর আভারি ও ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলে,

-” আমি মিসের সাথে যাবো। তোমরা এসো। আর শোন? আব্বুর কানে গেলে তোমাদের সাথে আড়ি!”

বলে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানায়। আভারি আর ড্রাইভার একে অপরের দিকে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফালায়। তার গাড়িতে ধীর গতিতে উঠে স্কুটির পিছু পিছু আসতে। থাকে।

-” মন খারাপ ভোর সরকার?”

-” হুম!”

-” কেন?”

-” আজ রোহান আসে নি! পুরো ক্লাস বোরিং লেগেছে! আবার ক্ষিধেও লেগেছে জোরে!”

পাতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। ওহ এই কারণে মন খারাপ! মায়ের কথা ভেবে নয়!

-” বৃষ্টি বৃষ্টি পরিবেশ তো! তাই আসে নি বোধহয়! আর ক্ষিধে পেয়েছে? কি খাবে বলো? কোনো রেস্টুরেন্টে যাবে?”

-” না মিস! ওসব খেতে ইচ্ছে করছে না!”

-” দাড়াও কেক কিনি ! খেয়ে পানি খাবে!”

-” না মিস। কেক খাবো না! আমার ভাতের ক্ষুধা লেগেছে! বাড়ি গিয়েই খাবো! বাইরের খাবার খেলে আমার সমস্যা হয়!”

পাতা হাসে খানিকটা। বড়লোক বাবার আদরের ঘরের দুলাল! অথচ তারা তো বাইরের হাবিজাবি কতকিছু খায় সমস্যার স ও হয় না। তবে মাঝে মাঝে ফুচকা বেশি গিললে লুস মোশন হয়!

-” সকালে কি খেয়েছিলে?”

ভোর মনে করে কি খেয়েছিলো! দাদি দুটো অমলেট আর পরোটা দিয়েছিল। সে শুধু অমলেট খেয়েছে। পরোটা খেতে মন চাইছিল না!

-” দুটো অমলেট খেয়েছি! আপনি?”

-” তিনটে পরোটা! আমের আচার দিয়ে!”

ভোরের চোখ গোল গোল হয়ে যায়!”

-” তিনটা?আপনি তিনটা শেষ করতে পারেন?আমার আব্বু তো দুটোর বেশি খেতেই পারে না!”

পাতা হা হয়ে যায়! ওত বড় ষাঁড় দুটোর বেশি খেতে পারে না! দেখে তো মনে হয় পুরো আটার বস্তা গিলে নিবে ঢেকুর পর্যন্ত তুলবে না! পাতা হেসে বলে,

-” তোমার আব্বু বুড়ো মানুষ তো! নড়বড়ে দাঁত! চিবোতে পারে না হয়তো!”

ভোরের কপাল কুঞ্চিত হয়।

-” আমার আব্বু বুড়ো না! ইয়াং! আপনার থেকে ছোটই হবে। বেশি বেশি হরলিক্স খেয়েছিল তাই লম্বা হয়ে গেছে!”

পাতা ফিক করে হেসে দেয়! তার থেকে ছোট! কচি খোকাটা! হরলিক্স খেয়ে খেয়ে ওমন ষাঁড় হয়ে গেছে! সে হেসেই বলে,

-” ঠিক বলেছো! একটা ফিটার কিনে দিব নি তোমার আব্বুকে!”

পাতার হাসি থামে না। ভোর মুখ ফুলিয়ে রাখে। তার বাবাকে নিয়ে মজা করলে তার ভালো লাগে না! খুনসুটির মাঝেই তারা থেমে যায় একটা মোরের কাছে। এখানে থেকেই ভোরকে স্কুটিতে তুলেছিল সকালে। থেমে ঘার ঘুরিয়ে পিছনে চায়! ভোরদের গাড়ির খোঁজে। কিন্তু নজরে আসে না। ভোর বলে,

-” মিস আমাদের বাড়ি চলুন! বেশি দূরে নয় এই সামনেই!”

পাতা মুচকি হেসে ভোরের চুল এলোমেলো করে বলে,

-” আজ না অন্যদিন। তোমার গাড়ি আসছে না কেন?”

ভোর কাঁধ উঁচিয়ে বোঝায় কি জানি! একটু পরে বলে,

-” মিস আপনাদের বাড়িতে আমাকে যেতে বললেন না?”

পাতা পিট পিট করে চায়! বলা উচিত ছিলো কি? ছিলোই তো! বাচ্চাটাও তো বললো তাদের বাড়িতে যেতে ‌ সেক্ষেত্রে ভদ্রতার খাতিরে!!পাতা হে হে করে হেসে বলে,

-” যাবে আমাদের বাড়িতে? চলো? এখান থেকে ভালোই দূরে কিন্তু?”

ভোর বত্রিশ পাটি দেখিয়ে চট করে জবাব দেয় যেন প্রশ্নের আশায় ছিল।

-” যাবো মিস! চলুন?”

পাতার চোয়াল ঝুলে যায়! এর তো দেখছি কোনো না নেই! বললাম আর যাবো!

-” যাবে? আচ্ছা! কিন্তু তোমার আব্বু বকবে অনেক সাথে আমাকেও! ভালো হবে বাড়ি যাও! অন্যদিন নিয়ে যাবো আমাদের বাড়িতে?”

-” আব্বু বকবে না! আমি আজই যেতে চাই! এখন আপনি যখন নিয়ে যেতে চাইছেন না? তাহলে!!”

পাতা বোকা হাসে। এই ছেলে তো যাবেই! এ কার‌ পাল্লায় পড়লো সে! ধ্যাত! মা আপু কি ভাববে? আর মি. অরুণ সরকার জানতে পারলে তাকে কাঁচা গিলে নেবে!!

-” চলো? নিয়ে যাই!”

ভোর খুশি হয়ে বলে,

-” আপনি এতো ভালো কেন মিস?”

‘ হয়েছে বাপ তেল কম মার’। জোর করে কাঁধে চড়ে সান্ত্বনা গীত গাওয়া হচ্ছে!! মনে মনে আওড়িয়ে পাতা স্কুটি স্টার্ট দেয় নাখোশ মনে। ও বাড়িতে নিজেই এক আগাছার মতো! এখন আগাছার গেস্ট হিসেবে যাচ্ছে ভোর!

পাতাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভোর খুব এক্সাইটেড! পাতা মিসের বাড়ি কেমন কে কে আছে? সব প্রশ্নের জবাব নেয় পাতার থেকে। পাতাও খুশি মনে জবাব দেয়। বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তরের মাঝেই তারা পৌঁছে যায়। পাতা স্কুটি সিঁড়ির কাছে রেখে ভোরের এক হাত ধরে কলিং বাজায়। একটু পরেই দরজা খুলে দিলো লুবমান। পাতাকে দেখে একগাল হেসে বলে,

-” এই পাতু? তুই? আমি ভেবেছি অন্য কেউ? হঠাৎ বেল বাজালি? সবসময় তো দরজা ধাক্কা দিস?”

পাতা লুবমানের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চায়! লুবমানের চুলে ঝুটি করা!

-” ভাই তুই লুবমান থেকে লুবাইয়া হয়ে গেলি নাকি?”

লুবমান পাতার মাথায় চাটি মেরে বলে,

-” বড় ভাই তোর! সাবধানে কথা বলবি! চুল গুলো বড় হয়েছে! কাটার সময়ই পাচ্ছি না। গরমের হাত থেকে বাঁচতে এ অবস্থা! আরে এই হাফ টিকিট টা কে? এই কিডন্যাপ টিডন্যাপ করে আনিস নি তো?”

ভোর লুবমানের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে সালাম দেয়,

-” আসসালামুয়ালাইকুম আঙ্কেল!”

লুবমানের চোখ কপালে! তাকে আঙ্কেল আঙ্কেল লাগছে কি! হায় আল্লাহ!

-” এই হাফ টিকিট? আঙ্কেল বলছিস কাকে? আমাকে কি বুড়োর মতো লাগে নাকি!”

পাতা ভাইকে পাশ কাটিয়ে ভোরকে নিয়ে ভেতরে ঢোকে! ভোর পিছনে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে,

-” না তো! আন্টি আন্টি লাগছে!!”

লুবমানের চোয়াল ঝুলে যায়! পাতা ফিক করে হেসে ওঠে! ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছে লতা ,লাবিব, লাবনী আক্তার বসে টিভির সামনে! টিভিতে কার্টুন চলছে! পাতার সাথে এক বাচ্চাকে দেখে সবাই প্রশ্নাত্মক চাহনিতে পাতার দিকে চায়। লাবিব উঠে এসে পাতার হাত ধরে বলে,

-” খালামুনি ও কে?”

পাতা ভোরের মাথায় হাত রেখে বলে,

-” এটা ভোর সরকার! আমার স্টুডেন্ট! আবদার করলো মিসের বাড়ি যাবো! তাই নিয়ে এলাম! ভোর আমার আম্মু! আপু ! আর আপুর কোলের পিচ্চিটা আমার আরেকটা আম্মু! আপুর মেয়ে। আর এই বাচ্চাটা আপুর ছেলে!”

ভোর মুচকি হেসে সালাম দেয়। লতা মেয়েকে কোলে নিয়েই এগিয়ে এসে ভোরের গাল টিপে বলে,

-” কি সুন্দর কিউট ছেলে! সালামও দিলো! আর আমারটা এক নাম্বারের শয়তান!”

লাবিব মুখ ভেঙায়!

-” মা যেমন ছেলেও তেমনই হবে তাই না!”

মনে মনেই বলে লাবিব‌। জোরে বলবে ,তার ঘারে কয়টা মাথা! ভোর মিটমিট করে হাসে লাবিবের দিকে তাকিয়ে। লাবিব চোখ ছোট ছোট করে চায় তার দিকে! লাবনী আক্তার এসে ভোরকে দেখে বলে,

-” ছোট্ট কুটুম্ব এসেছে! তা তোমার বাবার নাম কি? কি করেন তিনি?”

ভোর লাবনী আক্তারকে ভালোভাবে দেখে নেয়। পাতা মিসের মতোই দেখতে খানিকটা!

-” অরুণ সরকার! কাজ করে অফিসে!”

-” আর তোমার মায়ের নাম? ”

ভোরের হাসি খুশি মুখ মলিন হয়ে যায়। ঘার ফিরিয়ে পাতার দিকে চায়! পাতা মাকে বলে,

-” মা! এসব আলোচনা পড়ে হবে। তোমার কুটুমের ক্ষিধে পেয়েছে অনেক! কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করো! আর লাবিব যাও তো ভোরকে আমার রুমে নিয়ে যাও! আমি আসছি!”

লাবিব ভোরের দিকে চেয়ে ‘ আসো’ বলে পাতার রুমের দিকে হাঁটা দেয়‌। ভোর পাতার দিকে তাকালো! পাতা ইশারায় যেতে বললে লাবিবের পিছু পিছু যায়!
ভোর চলে গেলে লতা মেয়েকে লুবমানের কোলে দিয়ে পাতাকে বলে,

-” মায়ের কথা শুনে ফিউস উড়ে গেল কেন? ব্যাপারটা কি?”

পাতা শান্ত চোখে বোনের দিকে চেয়ে বলে,

-” ওর বাবা মার ডিভোর্স হয়ে গেছে।ও ছোট থাকতে! বাবার কাছেই থাকে! ছেলেটা অনেক আদুরে! এতো মিষ্টি মিষ্টি কথা জানে! একবার আলাপ করলেই বুঝতে পারবে!”

লাবনী আক্তারের মায়া হয় বেশ!

-” ওর বাবা বিয়ে করে নি আর?”

পাতা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,

-” না!”

-” বউটাকে এখনো ভালোবাসে হয়তো!”

পাতা ভাবে খানিকটা! তাই কি? লোকটা বউকে এতো ভালোবাসতো! এখনো বাসে?

-” আম্মু? ওসব বাদ দাও তো! ছেলেটার ক্ষিদে পেয়েছে বললো! কি আছে ঘরে?”

লতার কথায় পাতার টনক নড়ে। মায়ের দিকে চায়। লাবনী বলেন,

-“কাঁঠাল রেধেছি ডাল দিয়ে! চিংড়ি মাছ পেঁয়াজ কুচি দিয়ে রেধেছি। সকালের আলু ভাজি আছে!!”

পাতা খানিকটা চিন্তায় পড়ে যায়।

-” বেশ বড় ওরা! বাপ বড় বিজনেসম্যান তাও আবার স্বর্ণের! এসব খাবে তো!”

লতা তার পিঠে চাপড় মেরে বলে,

-” খাবে না কেন? এগুলো কি ভালো খাবার না? বড় লোকরা তো সবসময় মাছ মাংস বড় লোকি খাবারই খায়! এসব বাঙালি খাবার পেলে চেটে পুটে খাবে! আম্মু তুমি একটা ডিম পোস করে দাও হয়ে যাবে!”

লাবনী রান্না ঘরে যায়। লতা সোফায় বসে পড়ল। পাতা নিজের রুমে ঢুকে। ভোর চুপচাপ বিছানায় বসে পুরো রুমে চোখ বুলায়। লাবিব টেবিলের চেয়ারের সাথে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে। ভাব এমন যেন‌ বাড়ির মুরুব্বি । পাতা এসে ভোরের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

-” এখানে বসো! আমি চেঞ্জ করে এসে তোমাকে ফ্রেশ করিয়ে দিবো!”

ভোর মাথা নাড়ল। তার ভালো লাগছে এখানে এসে। ছোট বাড়ি আর কত মানুষ! এরমধ্যে লতা আর লুবমান ভিতরে আসে। লতা লাবিবের পাশে বসে বলে,

-” গরম লাগছে?”

ভোর হাসে। ফ্যান চলছে তবুও তার বেশ গরম লাগছে। ঘেমেও গেছে খানিকটা!
লুবমান বিছানায় উঠে জানালাটা খুলে দেয়। ভোর ঘার উঁচিয়ে সেথায় তাকায়। সবুজ ধান ক্ষেতের সারি।

-” ওয়াও কি সুন্দর! বাইরে ধান ক্ষেত?”

লুবমান চোখ ছোট ছোট করে ভোরের দিকে তাকিয়ে বলে,

-” তুই ধান ক্ষেত ও চিনিস? বাহ হাফ টিকিট!”

-” চিনব না কেন? এটা কে না চেনে আঙ্কেল?”

-” আবার আঙ্কেল ডাকছিস? ভাইয়া বল!”

লতা হেসে বলে,

-” আঙ্কেলই ঠিক আছে। ঠিক সময় বিয়ে করালে তোরও এমন একটা বাচ্চা থাকতো!”

ভোর খিলখিলিয়ে হেসে দেয়। লতা, লুবমান তাকিয়ে দেখে কি মিষ্টি হাসির ফোয়ারা!! বাচ্চাটা দেখতেও মাশাআল্লাহ!!

-” এই লুব একটু বড় হলেই এই ছেলের পিছনে মেয়েদের লাইন লেগে যাবে। হাসিতেই সব ফিদা হয়ে যাবে!”

ভোর একটু লজ্জা পায়! চোখ পিটপিট করে! লুবমান তার গাল টেনে বলে,

-” ওলে লে বাবুটা লজ্জা পেয়েছে!!”

লতা তাকে সরিয়ে ভোরকে কোলে তুলে নিয়ে কয়েকটা চুমু দিলো।

-” ইশ আমার ছেলেটা যদি এমন মিষ্টি হতো!”

লাবিব সেটা শুনে ধুপধাপ পা ফেলে চলে যেতে নিলে লুবমান আটকায়!

-” এই মামু কই যাস! আপা দেখ তোর ছেলের হিংসে হচ্ছে!”

লাবিব ছুটে যেতে চায়। পারে না। লুবমান টাইট করে জড়িয়ে ধরে। ভোর লতা সেদিকে তাকিয়ে! লাবিব চিল্লাচিল্লি করতে থাকে ,

-” মামু ছাড়ো তো! ভালো লাগে না! আমি তো শয়তান! ওই ভালো ছেলেকেই নিয়ে থাকো তোমরা! আমি আব্বুর কাছে চলে যাবো এখুনি।”

লতা হাসে ভোরকে নামিয়ে দিয়ে ছেলেকে কোলে তোলে। লাবিব ছোটাছুটি করে। লতা তাকে নামিয়ে দিলো তবে ছাড়লো না। নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে। লাবিবের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। লতা হেসে ছেলের গালে মুখে বেশ কয়েকটা চুমু খায়‌।

-” আব্বাজান! মজা করছিতো! আমার ছেলে যেমন তেমনি আমার প্রিয়! মা তোমাকে অনেক ভালোবাসে! বকি বেশি ঠিকাছে! ভালোও বেশিই বাসি।ওটা তো এমনি বলেছি! তুই আমার লক্ষী সোনা ছেলে!”

লাবিব হেসে দেয়। লতা ছেলের হাসিমাখা গালে চুমু এঁকে দিতে ভুলে না। লুবমান লাবিবের চুল এলোমেলো করে বলে,

-” মেয়েদের মতো হিংসুটে হলি কবে থেকে?”

লতা চোখ গরম করে চায়। লাবিব লুবমান হাই ফাইভ দিয়ে হেসে ওঠে। ভোর চুপটি করে তাদের কর্মকাণ্ড দেখছিল। তন্মধ্যে ‌পাতা বেরিয়ে আসে। ভোরকে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে,

-” কি হয়েছে?”

ভোর মিষ্টি হেসে মাথা নাড়ে! কিছু না! লতা লুবমান লাবিব তাদের দিকে চায়! পাতা ভোরকে বলে,

-” চল হাত মুখ ধুয়ে নাও!”

বলে বেরিয়ে যেতে নিলে লতা বলে,

-” ছেলেটা ঘেমে একাকার! শার্ট ঘামে ভিজে ! এতো ঘামছে কেন?”

পাতা ভোরের দিকে তাকিয়ে দেখে সত্যিই তাই!

-” সবসময় এসিতে থাকার অভ্যাস হয়তোবা!”

লতা লাবিব ,ভোরকে একবার দেখে বলে,

-” ওর শার্ট খুলে দে! লাবিবের একটা টি শার্ট পড়িয়ে দে! পড়বে না ভোর?”

ভোর লাবিবের দিকে তাকালো। তারপর পাতার দিকে তাকিয়ে বলে,

-” তার দরকার নেই মিস! আমি পড়বো না! এটাই ঠিক আছে!”

-” ভোর একদম নতুন টি শার্ট দেব! লাবিব পড়েই নি এমন!”

ভোর পাতার দিকে চায়।

-” তাহলে ঠিকাছে!”

পাতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এ যে অরুণ সরকারেরই ছেলে! লতা লাবিবকে নিয়ে চলে যায়! লুবমান ভোরের মাথায় টোকা দিয়ে চলে গেলো।ভোর মাথা ডলে,

-” মিস আপনার ভাই বদলে গেল কিভাবে?”

পাতার ভ্রু কুঁচকে যায়!

-” মানে?”

-” ওই দিন শপিং মলে তো এই আঙ্কেল ছিল না!”

পাতা হেসে বলে,

-” ওটা আমার আরেকটা ভাই! বুঝলে?”

ভোর মাথা নাড়ে। তখনই পাতার ফোন বেজে ওঠে। পাতা স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে আননোন নাম্বার তবে বুঝতে পারে কে হতে পারে। কল রিসিভ করে কণ্ঠস্বর শুনে ভোরের কানে দেয়,

-” তোমার আব্বু!”

ভোর ঢোক গিলে!

-” হ্যালো আব্বু? আমি ভোর!”

ভোরের কণ্ঠ শুনে অরুণের প্রাণ যেন ফিরে পায়! উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে,

-” আব্বু কোথায় তুমি? মিস পাতাবাহারের সাথে?”

-” হুম! ওনার বাড়িতে। প্লিজ আব্বু বকবে না!”

অরুণ গাড়ির সিটে গা এলিয়ে দেয়।

-” বকবো না? তুমি দিন দিন উচ্ছন্নে যাচ্ছো ভোর! আমার একটা কথাও শোনো না! তোমাকে পড়ে দেখছি! তোমার মিসকে দাও?”

ভোর কাঁচুমাচু করে পাতার দিকে চায়।

-” আব্বু মিসের কোনো দোষ নেই! তুমি আমাকেই বকো! মিসকে না!”

-” দিতে বলেছি!”

ভোর ফোন পাতার দিকে বাড়িয়ে দেয়! পাতার চোখ বড় বড় হয়ে যায়! আল্লাহ পাগলা ষাঁড় ক্ষেপে আছে! তার ধমকেই না পটল তুলে নেয় পাতা!

-” হ্যালো?”

-” আপনার কি কোনো কমনসেন্স নেই? ভোর ছোট বাচ্চা আপনি তো নন! বিনা ইনফর্মে ওকে নিয়ে বাড়িতে যান কিভাবে আপনি?”

পাতা অপমান বোধ করে।

-” আমার কথাটা শুনেন?”

অরুণ গম্ভীর কণ্ঠে ধমকে বলে,

-” যাস্ট শাট আপ! ভোরকে নিয়ে গেছেন ঠিক আছে! ওর গার্ডিয়ানকে জানাবেন না? আপনি জানেন আভারি ভাই সহ ড্রাইভার ভোরকে কখন থেকে খুঁজে চলেছে?কতটা পেরেশানিতে আছে!! ওদের কাছে আপনার নাম্বারও নেই যে কল করবে!”

পাতা বুঝতে পারে ভুল তাঁর আছে। লোক গুলো ভোরকে খুঁজে না পেয়ে অনেক ভয়ে ছিল নিশ্চয়!

-” আই এম এক্সট্রেমলি স্যরি! আমি ভোরকে দিয়ে আসবো! আপনারা চিন্তা করবেন না।”

অরুণ শক্ত চোয়ালে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,

-” ওত উপকার করতে হবে না! আপনার ঠিকানা দিন আমি আসছি ছেলেকে নিতে!”

পাতা ভোরের দিকে চায়। ছেলেটার হাস্যোজ্জ্বল মুখটা মলিন হয়ে আছে। ছেলেটার কপালে আজ অনেক বকা নাচছে! পাতা ঠিকানা দিয়ে বলে,

-” সবটা আমার ভুল! ভোরকে কিছু বলবেন না যেন?”

-” ছেলে আমার! ভালো মন্দ দেখতে হবেও আমাকেই!”

বলেই কল‌ কেটে দেয়। পাতা কান থেকে ফোন নামিয়ে ভোরের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। ভোর কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে,

-” স্যরি মিস আমার জন্য আপনাকে বকা শুনতে হলো!”
পাতা হেসে বলে,

-” বকে নি আমাকে! আর না তোমাকে বকবে! যদি বকে বাবাকে জড়িয়ে টপাটপ গালে চুমু খাবে ব্যস! এখন চলো জলদি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও!”

পাতা ভোরকে ফ্রেশ করতে সাহায্য করে। তারপর লাবিবের একটা নতুন টি শার্ট ভোরকে পরিয়ে ড্রয়িংরুমেই সোফার পিছনে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে দেয়। লাবিব, লুবমান আগে থেকেই বসে! লুবমানের কোলে রুম্পা! লতা ছেলেকে খাইয়ে দিচ্ছে যত্ন করে। ভোর সেদিকে তাকিয়ে থাকে অপলক! লাবনী আক্তার একটা প্লেটে অল্প ভাত দিয়ে ভোরের সামনে দিল। পাতাকে বলে ,
-” কুটুমকে বেড়ে খাওয়ানোর দায়িত্ব তোর!”
পাতা হেসে কাঁঠালের তরকারি ভোরের পাতে দিতে নিলে ভোর মানা করে,

-” মাংস খাব না। এলার্জি আছে!!”

লুবমান হেসে বলে,

-” ওই আদরের ঘরের দুলাল? এটা গরিবের মাংস! এতে এলার্জির ছিটেফোঁটাও নাই।”

ভোর অবুঝের মতো তাকায় লুবমানের দিকে। লতা হেসে ছেলের মুখে লোকমা পুরে বলে,

-” ভোর এটা মাংস না। কাঁঠালের তরকারি! খেয়ে দেখো বেশ মজা!”

-” আচ্ছা দিন!”

পাতা অল্প দেয়‌। চিংড়ি, ডিম, ভাজি ও দেয় পাতের কোনায়! ভোর অদক্ষ হাতে মাখিয়ে মুখে তুলে!
-” দাও আমি খাইয়ে দিচ্ছি!”

পাতার কথায় ভোর মিষ্টি হেসে হাত ধুয়ে নেয়। পাতা নিজেও হাত ধুয়ে ভাত মাখিয়ে ভোরের মুখে দেয়। ভোর হাসিখুশি মুখে পুরে খেতে থাকে। নাহ খাবারটা মজার! তখনই ফোনটা পুনরায় বেজে ওঠে পাতার! সবাই তার দিকে তাকিয়ে! পাতা বাম হাতে রিসিভ করে কানে ধরে। হ্যালো বলার সুযোগই পায় না!

চলবে…..