পাপমোচন পর্ব-০৭

0
78

#পাপমোচন (৭ম পর্ব)

-রাগে পুরো শরীর কাঁপছে আমার। শেষমেশ কি-না ওসি সাহেবও টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেলো! বাবা ঠিকি বলতেন, ‘টাকা দেখলে মাটির পুতুলও হা করে’।

বাড়ি এসে ধড়াম করে দরজা বন্ধ করে গিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ঘরে ঢুকলাম। তারপর সোফার উপর ধপ করে বসে পড়লাম নিজের মাথার চুল খামচে ধরে।
ওসি সাহেব কি বলছিলো,ফাইয়াজ হুসাইনের সাথে টাকা নিয়ে আমার ভবিষ্যত গড়ে দিবে! যার কারণে আমি আমার গোটা পরিবারটাকে হারালাম,তার মত নরকের কিটের হাতে আমার ভবিষ্যৎ গড়বে! লাগবে না ওসি’র সাহায্য।

আপুর খোলা চিঠিটা নিয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন ডাকবো। তারপর সবার মুখোশ খুলবো এক এক করে।

নিজের মনে কথাগুলো আওড়িয়ে প্যান্টের পকেটে রাখা চিঠিটা হাতে নিলাম। তারপর চোখের সামনে খুলতেই মনের ভিতরের সুপ্ত আগ্নেয়গিরিটা দপ করে জ্বলে উঠলো আবার।
শেষমেশ ওসি সাহেবও আমার সাথে জোচ্চুরি করলো!
আপুর চিঠির পরিবর্তে একটা অন্য কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে আমাকে!

ভিতরের দগদগে ক্ষতটায় এবার যেন মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দিলো কেউ। রাগে-ক্ষোভে আবার রওনা দিলাম থানার উদ্দ্যেশ্যে। রাত তখন আনুমানিক দশটার কাছাকাছি।
থানায় যেতে যেতে আরও আধঘন্টার মত লাগলো। হন্তদন্ত হয়ে থানার ভিতরে ঢুকতেই একজন কনস্টেবল পথ আগলে দাঁড়ালো।
বললাম,’ ওসি সাহেবের সাথে দেখা করবো।’

‘স্যার ভিতরে নেই।’

‘কোথায় গিয়েছে?’

‘অনেক্ষণ আগেই বের হয়ে গিয়েছে। কোথায় গিয়েছে জানিনা।’

কনস্টেবলের থেকে ঠিকানা নিয়ে জানতে পারলাম,সে পুলিশ কোয়ার্টারে না থেকে কোয়ার্টার থেকে খানিকটা দূরে একটা বাড়ি ভাড়া করে সেখানেই একা একা থাকে। রাগে গজগজ করতে করতে থানা থেকে বেরিয়ে ওসি’র বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে যখন পৌঁছালাম দেখলাম বাড়ির গেইটে তালা ঝুলছে।

তাহলে কি লোকটা ফাইয়াজ হুসাইনের বাসায় গিয়েছে? কথাটা মনে হতেই রাগে ক্ষোভে রক্ত গরম হয়ে উঠলো আমার। ওসি’র বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে রাস্তার পাশে গা ঢাকা দিয়ে চুপচাপ বসে থেকে অপেক্ষা করতে লাগলাম ওসি’র ফিরে আসার জন্য।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর এঁকেবেকে যাওয়া অ্যানাকোন্ডার মত কালো রাস্তাটার বুকে ওসি’র গাড়িটাকে দেখতে পেলাম। গাড়িটা কাছাকাছি আসতেই রাস্তার মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালাম এবার।
আকস্মিক আমাকে রাস্তায় এভাবে দেখে ওসি তাড়াহুড়ো করে তার গাড়িটা রাস্তার একপাশে সাইড কাটিয়ে থামানোর পর গ্লাস নামিয়ে মুখ বার করে বললেন,’ আরে আরে এতরাতে এখানে কি করছো? আর এভাবে হঠাৎ গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় কেউ? একটুর জন্য তো গেছিলে।’

আমি শান্ত দৃষ্টিতে ওসির দিকে তাকালাম একবার। তারপর ধির পায়ে এগিয়ে গিয়ে বললাম,’ স্যার আপুর চিঠিটা কোথায়?’

ওসির মুখে কুটিল হাসি ফুটে উঠলো। একগাল হেসে বললো,’ তোমার আপুর চিঠি তো তুমি নিজেই সন্ধ্যার সময় থানায় এসে নিয়ে গেলে।’

‘স্যার আপুর চিঠিটা কোথায়?’

‘চিঠি কোথায় চিঠি কোথায়? ময়না পাখির মত একই কথা। বলি
শুধু একটা চিঠি দিয়ে ফাইয়াজ সাহেবের কোনকিছুই করতে পারবে না তুমি। কেন খামখা জল ঘোলা করছো? মিটিয়ে ফেলো না সবকিছু। তুমি বরং আমার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাও। আমি ফাইয়াজ সাহেবকে তোমার কথা বলেছি। সে কথা দিয়েছে তার কোম্পানিতে ভালো একটা পোস্টে কাজ দিবে তোমাকে। কি দরকার ওসব নিয়ে পড়ে থেকে নিজের সুন্দর জীবনটাকে এভাবে নষ্ট করার। যারা গিয়েছে তারা তো ফিরে আসবে না তাই না?’

‘চিঠিটা কোথায় স্যার?’

ওসি এবার চোখ রাঙিয়ে জবাব দিলো,’ ওয়েট ওয়েট তুমি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছো!’

‘চিঠিটা দিয়ে দিন স্যার?’

ওসি এবার গাড়ি থেকে নেমে বাজখাঁই কণ্ঠে বলতে লাগলো,’ তুমি ভুলে যেওনা তুমি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছো। আমি একজন ওসি। তোমার সাহস হয় কীভাবে একজন ওসি’র সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে চোখ রাঙিয়ে কথা বলবার? তোমার কোনো ধারনাও নেই আমি কি করতে পারি তোমার। এমন কেস ঠুকে দিবো না আজীবন জেলে পঁচে মরবে তখন। কোনদিন সূর্যের আলো চোখে দেখার সৌভাগ্য হবেনা?’

‘স্যার কেন খামখা ঝামেলা বাড়াচ্ছেন। চিঠিটা দিয়ে দিন না। আপনার সাথে তো আমার কোনো শত্রুতা নেই,কেন এমনটা করছেন তাহলে?’

‘তোমার সাথে অনেক ভালো ব্যবহার করেছি। আমার খারাপ ব্যবহার দেখতে না চাইলে নেক্সট টাইম আমার সামনে এই চিঠির জন্য আর খবরদার আসবেনা। আসলে কিন্তু আমার চাইতে খারাপ আর কেউ হবেনা। ওসব চিঠি ফিঠির চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। আরেকবার চিঠির কথা বললে সোজা ভরে দিবো।’

কথাটা বলে ওসি আবার তার গাড়িতে গিয়ে বসলো। তারপর ডান হাতের একটা আঙুল নাড়িয়ে বললো,’ কথাটা মনে থাকে যেন।’

তারপর গাড়িটা টান দিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেলো।

———
ঘুমের ভিতরে পাতিল পড়ার ঝনঝন শব্দে রুদ্র সেনের নিদ্রা ছুটে গেলো। একরাশ বিরক্ত নিয়ে টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে আধশোয়া হয়ে একবার দরজার দিকে তাকালেন। তারপর আবার পাশ ফিরে শুতেই কানে পুনরায় ঝনঝন শব্দটা ভেসে এলো।

বিরক্তে মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এলো,’ হতভাগা বিড়ালটা কয়েকদিন পর পর রাতের অন্ধকারে এসে তান্ডব করা,আজকে তোকে আর ছাড়বো না। ধরে এমন উত্তম মধ্যম দিবো জীবনেও আর এইদিকে ফিরে চাইবি না।’

কথাগুলো বলতে বলতে বিছানা ছেড়ে উঠে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে ড্রইংরুমের আলো না জ্বালিয়ে অন্ধকারে পা টিপে টিপে শক্ত হাতে কাঠের লাঠিটা ধরে এগিয়ে গেলো কিচেনের দিকে।

অন্ধকার কিচেন থেকে তখনো একটু পর পর পাতিলের ঝনঝন আওয়াজ কানে ভেসে আসছে।
রুদ্র সেন পা টিপে টিপে সন্তর্পণে কিচেনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দোরগোড়ায় দাঁড়াতেই এক লাফে পিছিয়ে গেলো কয়েক পা। তারপর বুকে ফু দিয়ে তড়িঘড়ি করে কিচেনের আলো জ্বালতেই দেখলো কালো মিশমিশে একটা বিড়াল তীক্ষ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে আর একটু পর পর ম্যাঁও ম্যাঁও করে ডাকছে।

রুদ্র সাহেব এবার রেগেমেগে হাতের লাঠিটা দিয়ে এগিয়ে গিয়ে সজোরে আঘাত করতে গেলো বিড়ালটার মাথা বরাবর। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট, একটুর জন্য বিড়ালটা পাশ কাটিয়ে এক লাফে খোলা জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে আরও একবার তার দিকে ঘুরে তাকালো। তারপর ঘড়ঘড়ে স্বরে আবারও ডেকে উঠলো, ম্যাঁও ম্যাঁও করে। তারপর জানালা দিয়ে এক লাফে বেরিয়ে গেলো ঘরের বাইরে।

রুদ্র সেন ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে এগিয়ে গিয়ে কিচেনের জানালার বাইরে তাকালো একবার। তারপর বিড়বিড় করে বিড়ালটাকে উদ্দেশ্য করে কিছু একটা বলে জানালার পাল্লাগুলো বন্ধ করে দিয়ে আবার বেরিয়ে গেলো কিচেন থেকে।

রুমে এসে টেবিল ল্যাম্পটা নিভিয়ে দিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই আবার কানে ভেসে এলো পাতিল পড়ার সেই তীব্র আওয়াজটা।
রুদ্র সেন এবার তিক্তস্বরে বিড়ালটাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে অন্ধকারেই কাঠের লাঠিটা হাতে নিয়ে রুম থেকে ছুটে বেরিয়ে গেলো কিচেনের দিকে।

কিন্তু যখন কিচেনে এসে পৌঁছালো তখন খানিকটা থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে গেলো সে। কিচেনের জানালা বন্ধ,পাতিলগুলোও সব স্বাভাবিক। কিন্তু কিচেনে পানির ট্যাপ টা চালু করা! ট্যাপ থেকে অনবরত পানি পড়ছে! কিন্তু সে তো এর আগে যখন এসেছিলো তখন ট্যাপ চালু করেনি। তাহলে ট্যাপটা চালু হলো কীভাবে? বিড়াল নিশ্চয় ট্যাপ চালু করতে পারবেনা। আর পাতিল পড়ার ঝনঝন আওয়াজটায় বা কোত্থেকে আসছিলো তাহলে?’

রুদ্র সেনের ভূত প্রেতে বিশ্বাস নেই। তাহলে কি বাড়িতে কোনো চোর ঢুকেছে! পুলিশ সত্তা জেগে উঠলো তার ভিতরে। কাঠের লাঠিটা শক্ত হাতে চেপে ধরে এক এক করে সবগুলো ঘর চেক করে দেখলো। কিন্তু কোথাও কেউ নেই।
ভাবলো হয়তো তার উপস্থিতি টের পেয়ে চোর ভেগেছে।
নিজেকে সাহস দিতে নিজের মনেই বলে উঠলো,’ পুলিশের ঘরে চোর ঢোকা কি এতই সহজ। সোজা ইনকাউন্টার করে দিতাম ধরতে পারলে।’

তারপর স্বস্থির হাসি হাসতে হাসতে লাঠিটা রেখে সোফাতে গিয়ে বসলো রুদ্র সাহেব। আর সোফাতে বসার কিছুক্ষণ পরই তার কোলের উপরে একটু আগে দেখা সেই কালো বিড়ালটা ভয়ংকর গর্জনের সাথে ম্যাঁও ম্যাঁও করে ডেকে উঠে ঝাপিয়ে পড়লো আবার। রুদ্র সাহেব চমকে গিয়ে বিড়ালটাকে কোল থেকে ছিটকে ফেলে দিলো খানিকটা দূরে। বিড়ালটা নিজেকে সামলে নিয়ে তার দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে গা ঝাড়া দেওয়ার সাথে সাথে অনবরত ম্যাঁও ম্যাঁও করে ডাকতে লাগলো আবার।

এবার রুদ্র সেনের একটু একটু ভয় হতে লাগলো। বিড়ালটা তো একটু আগে কিচেনের জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেলো। তাহলে এর ভিতরেই আবার ঢুকলো কোথা দিয়ে?
চওড়া কপালের মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠলো তাঁর। কিন্তু এতদিনের পুলিশি অভিজ্ঞতার কাছে সেই ভয়টা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। রুদ্র সাহেব তার পাশে রাখা কাঠের লাঠিটা নিয়ে গর্জে উঠে তেড়ে গেলো বিড়াল টাকে ধরার জন্য। কিন্তু একি,বিড়াল টা যেন তার থেকেও কয়েক ধাপ এগিয়ে। একটা অবলা জানোয়ারের বুদ্ধির কাছে রুদ্র সেনের মত একজন খুরোধার পুলিশ অফিসার ধরাশায়ী হয়ে যাচ্ছে। যেখানে ত্যাঁদড় ত্যাঁদড় আসামীদেরকে দৌড়ানি দিয়ে নাকানিচুবানি খাইয়েছে সেখানে সামান্য একটা বিড়ালের হাতে নাস্তানাবুদ! মানে লাগলো এবার।
সে প্রবল গর্জন করে হাতের কাছে থাকা ফুলদানিটা ছুড়ে মারলো বিড়ালটাকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু এবারও লক্ষভ্রষ্ট। বিড়ালটা যেন তার সাথে চোর পুলিশ খেলার মনস্থির করেই এই বাড়িতে ঢুকেছে।

কিন্তু রুদ্র সেনও কম কিসে,বিড়ালটার শেষ দেখে তবেই খ্যান্ত হবে সে। দ্রুত বেগে শোবার রুমে থাকা রিভলবারটা নিতে যাওয়ার জন্য সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পা বাড়াতেই তার কানে গম্ভীর পুরুষালী একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো- ‘স্যার চিঠিটা কোথায়। ‘

রুদ্র সেন থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো এবার। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে ভেসে আসা কণ্ঠস্বরটাকে লক্ষ্য করে তাকাতেই দেখলো অন্ধকারের মাঝে একটা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। ছায়ামূর্তিটার দিকে তাকিয়ে কটমট করে বলে উঠলো,’ তুমি! বাড়ির ভিতরে ঢুকলে কীভাবে তুমি? তারমানে এতক্ষণ ধরে তুমিই এসব করছিলে?’

অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে বললাম,’ স্যার কেন মিছামিছি ঝামেলা বাড়াচ্ছেন? আপনার সাথে তো আমার কোনো শত্রুতা নেই। তাহলে কেন আমার চিঠিটা ওভাবে আটকে রেখেছেন? দিয়ে দিন না।’

রুদ্র সাহেব এবার দাত কটমট করে বাজখাঁই গলায় বলে উঠলেন,’চিঠি! এই একটা বালের চিঠির জন্য এতরাতে আমার ঘরে পর্যন্ত ঢুকে পড়েছিস তুই!
আর ইউ ম্যাড? দারোয়ানটা কোথায়? এই দারোয়ান।’

‘স্যার সে ঘুমাচ্ছে। তাকে কেন ডেকে বিরক্ত করতে যাচ্ছেন। আমার চিঠিটা দিয়ে দিলেই তো আমি চলে যাই।’

ক্ষুব্ধ স্বরে চেচিয়ে উঠলো রুদ্র সেন,’চিঠি লাগবে তোর? দাঁড়া চিঠি দিচ্ছি তোকে।’

কথাগুলো বলে হাতের শক্ত লাঠিটা নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসতেই গলার কাছে টান লেগে মাঝপথে সিটকে পড়ে গেলেন তিনি। আর পড়ে গিয়ে গলা চেপে ধরে ব্যাথায় ককিয়ে উঠলেন তারপর।

রুদ্র সাহেবকে মেঝেতে পড়ে যেতে দেখে এবার ধির পায়ে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে আড়াআড়িভাবে টান করে রাখা অ্যালুমিনিয়াম তারটাতে হাত রেখে দাড়ালাম আমি। তারের উপর লেগে থাকা রক্তের বিন্দু হাতের আঙুলে নিয়ে হাঁটু মুড়ে বসলাম রুদ্র সেনের মাথার কাছে। তারপর মৃদু হেসে বললাম,’ স্যার আপনার না সবকিছুতেই তাড়াহুড়ো। দেখলেন তো তাড়াহুড়োর ফল কি হয়?’

রুদ্র সেন গলা চেপে ধরে কাতর স্বরে বললেন,’ কি ছিলো ওখানে? আমার গলায় এমন যন্ত্রণা হচ্ছে কেন?’

ওসি’র কথাগুলো শুনে ফ্যাচফ্যাচ করে হেসে খানিকটা ঝুঁকে পড়ে মুখের কাছে মুখটা নিয়ে বললাম,’ তেমন কিছু না। সামান্য একটা তার বেঁধে রেখেছিলাম।’

‘তার! আমার গলায় অনেক যন্ত্রনা হচ্ছে,আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো। আমি কথা দিচ্ছি আমি তোমার আপুর খুনিদের সবাইকে শাস্তি দিবো।’

‘বুঝতে যে অনেক দেরি করে ফেলেছেন স্যার। এখন আর কোনভাবেই সম্ভব নয়। স্যার গলায় চাপ লেগে কেমন বোধ হচ্ছে এখন? খুব যন্ত্রনা তাই না? আমার আপু আর বাবা-মা এর থেকেও বেশি যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে এই দুনিয়া ছেড়েছে। এতটুকু তো শাস্তি তো আপনার প্রাপ্য ছিলোই। সমস্যা নাই আপনার মৃত্যুর পর আপনার সব টাকা পয়সা আমি আপনার স্ত্রী-সন্তানকে দিয়ে দিবো। পাপ কাজ করে টাকা তো কম কামাই করেন নি। বাকি জীবনটা তাদের অনায়াসেই কেটে যাবে। এখন বলেন তো চিঠিটা কোথায়?’

যন্ত্রনায় এবার কেঁদে ফেললেন তিনি। তারপর কান্না মেশানো কণ্ঠে আকুতি ভরে বলে উঠলেন,’চিঠি আমার কাছে নেই। শ্রাবণ আমাকে বাঁচাও প্লীজ। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

‘কষ্ট দেওয়ার জন্যই তো এমনটা করেছি। বলেছিলাম না,পাপিদের পাপমোচন এবার নিজের হাতে করবো। চিঠি তো আপনি এমনিতেও আমাকে আর দিতে পারবেন না। আপনি ঘুমান স্যার,আপনার এখন বিশ্রামের প্রয়োজন। আমি কি আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবো? ওয়েট।’

কথাগুলো বলার পর তারটা খুলে নিয়ে আবার ওসি’র গলায় পেচিয়ে ধরলাম। তারপর শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে টান দিতেই তারটা আড়াআড়ি ভাবে কণ্ঠনালি ভেদ করে ভিতরে ঢুকে গেলো ‘খচ’ করে একটা শব্দ করে। ব্যস,সব শেষ। তারপর অসহনীয় মরণ যন্ত্রনায় গলা কাটা মুরগির মত ছটফট করতে করতে রুদ্র সেনের শরীরটা একটা সময় শান্ত হয়ে গেলো।

রুদ্র সেনের গলার কাছ থেকে রক্তের ফোয়ারা বের হয়ে এসে আমার পায়ের কাছে জমতে শুরু করেছে। তাজা গরম রক্ত! আমি পরম তৃপ্তিতে সেই বহমান রক্তের ধারার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। জমতে থাকা সেই তাজা গরম রক্তে হাত ছুঁইয়ে দিতেই চোখজোড়া পরম সুখের আবেশে বন্ধ হয়ে এলো আমার।
চলবে…

#আশিক_মাহমুদ