পাপমোচন পর্ব-১০

0
82

#পাপমোচন (১০ পর্ব)

-নারী-পুরুষের সম্বলিত কথার শব্দে চেতনা ফিরলো আমার। চোখ মেলতে গিয়ে মাথায় অসহ্য যন্ত্রনায় চোখের পাতাগুলো আবার বুজে ফেললাম। তারপর ধিরে ধিরে জোর করে তাকাতেই আবছা দৃষ্টিতে চোখের সামনে দুটো ছায়ামূর্তিকে দেখতে পেলাম। আমার থেকে কয়েক হাত দূরত্বে দুজন ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলাবলি করছে।

দুজনের বলে চলা চাপা অথচ অস্ফুটস্বরে কথাগুলো ভাসা ভাসা হয়ে কানে এসে আঘাত করছে আমার। মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে সেই সাথে অসহ্য ব্যাথায় মস্তিষ্কটা ফেটে যেতে চাইছে।

জ্ঞান শূন্য হয়ে কতক্ষণ পড়ে ছিলাম জানা নেই। অসহনীয় মাথা ব্যাথা নিয়ে চোখ জোড়া জোর করে খোলার চেষ্টা করে
ধিরে ধিরে উঠে বসতে গিয়ে মনে হলো আমার হাত দুটো পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা হয়েছে। কপালের কাছটাতে খানিকটা কেটে গিয়েছে। কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া জমাটা বাঁধা রক্ত চোখের পাতা আর গালের একপাশ দিয়ে নেমে শক্ত হয়ে গিয়ে চামড়ায় টান ধরেছে।

ছায়ামূর্তি দুটো তখনো একে অপরের সাথে কথা বলাবলি নিয়ে ব্যস্ত। অনেক কষ্টেসৃষ্টে উঠে বসলাম আমি। তারপর উঠে বসার পর একবার চারপাশটাতে চোখ বুলিয়ে নিলাম। আবছা হয়ে আসা দৃষ্টিতে দেখলাম আশাপাশে কোথাও জব্বারকে দেখা যাচ্ছেনা, এমনকি আশপাশটাও কেমন অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। তাহলে কি ওরা জব্বারের মৃত শরীরটাকে রেখে আমাকে জ্ঞানশূন্য অবস্থায় অন্য কোথাও নিয়ে এসেছে!

আমাকে উঠে বসতে দেখে দুজনের ভিতর থেকে পুরুষ কণ্ঠস্বরটা বলে উঠলো,’ আরে আরে নায়কের জ্ঞান ফিরেছে দেখছি।’

কথাগুলো বলে পুরুষ মূর্তিটা এগিয়ে এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। তারপর খানিকটা ঝুঁকে পড়ে বললো,’কি হে ছোকরা,ছায়াছবির নায়ক হওয়ার খুব সখ তাই না? নায়ক হয়ে বোনের উপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিশোধ নিবি তুই?’

কথাগুলো বলে হো হো করে হেসে উঠলো ঝুঁকে থাকা পুরুষ মূর্তিটা। কপাল বেয়ে নেমে আসা রক্তে চোখের পাতা লেগে গিয়েছে৷ অনেক কষ্টে চোখের পাতা খুলে লোকটাকে একপলক দেখার চেষ্টা করলাম কিন্তু। কিন্তু চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা আর ধোয়াসার মত লাগছে। দেখতে পাচ্ছি কেউ একজন সামনে দাঁড়িয়ে আছে,তবে মুখটা ঠিকঠাকমতো আন্দাজ করে উঠতে পারছিনা।

কয়েকমূহুর্ত এভাবে কাটার পর চোখের দৃষ্টি খানিকটা সইয়ে আসলে লোকটাকে চিনতে পারলাম। লোকটা আর কেউ নয় স্বয়ং ফাইয়াজ হুসাইনের ড্রাইভার ‘রুহুল’ নিজেই!
কিন্তু এই লোকটা আমাদের ঠিকানা পেলে কীভাবে? আর ওর সাথে থাকা নারীমূর্তিটাই বা কে?

আমি খানিকটা নড়েচড়ে বসতেই রুহুল আমার কোমর বরাবর সজোরে পর পর দুটো লাথি মেরে বললো,’ আমাকে মারবি তুই? তোর এত বড় সাহস! তোর মত ছোকরা নাকি আমাকে মারবে! তোর কলিজ্বা ছিড়ে কুত্তাকে দিয়ে যদি না খাওয়াইছি তাহলে আমার নাম রুহুল আমিন নয়।’

লাথির আঘাতে ছিটকে গিয়ে দেওয়ালের গায়ে পড়লাম আমি। ব্যাথায় অস্ফুট স্বরে একটা গোঙানি বেরিয়ে এলো মুখ থেকে। আঘাত পেয়ে ককিয়ে উঠে মুখ তুলে রুহুলের দিকে আবার চাইলাম।

রুহুল হো হো করে অট্টহাসি হেসে উঠলো। তারপর হাসতে হাসতে নারীমূর্তি টাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,’ ওইটুকুনি একটা পিচ্চি ছোকড়া সে নাকি গতকাল রাতে জব্বারকে ভুজুংভাজুং বুঝিয়ে তারপর খাবারে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে দিয়ে একটা পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখেছিলো জানো! তারপর জব্বারকে টর্চার করে করে ওর বোনের সাথে কে কি করেছিলাম সবটা নাকি বার করতে চেয়েছিলো। ভাবা যায়!
মালটা কত্ত বড় ডেঞ্জারাস ভাবো একবার। দেখে তো লাগে একদম ভেজা বিল্লি,কিন্তু ভিতরে সিংহ পুষে রেখেছে!’

নারী মূর্তিটা এবার মুখ খুললো। গম্ভীর অথচ চতুরতা মিশ্রিত কণ্ঠে বললো,’ তো ওটাকে এইখানে নিয়ে এসেছো কেন? যেখানকার আপদ সেখানেই তো কাজ সেরে রেখে আসতে পারতে।’

রুহুল তাচ্ছিল্যের স্বরে বললো,’ ধুরু। কি যে বলো তুমি। এইডারে ওইখানে রেখে আসলে কি আর স্যারের চোখে আমি বীর সাজতে পারতাম? তুমি দেখি কিছুই বুঝো না। মালডারে এখন ইচ্ছামত বানাবো,তারপর স্যারের হাতে তুলে দিবো। স্যারের সাথে লাগার মজাটা তখন হাড়ে হাড়ে টের পাবে।’

আমি জড়ানো স্বরে জানতে চেয়ে বলে উঠলাম,’ জব্বারকে কে মেরেছে?’

রুহুল আমার কথা শুনে আবার ফিক করে হেসে ফেললো। তারপর এগিয়ে এসে বললো,’ কে আবার মারবে, আমিই মেরেছি। ওর মত নির্বোধ মানুষ বেঁচে থাকার চাইতে মরে যাওয়াটা ঢের ভালো। বেঁচে থাকতে খালি ডরে ডরে থাকতো। পুরুষ মানুষের ভিতরে এত ভয় থাকলে হয় না-কি। এই-যে আমাকেই দ্যাখ না, আমি কত বুদ্ধি করে তোদের ঠিকানাটা বার করে ওই জনমানবহীন পরিত্যক্ত বাড়িটাতে গিয়ে পৌঁছালাম। আরে ধুর ধুর,জীবনে একটু চতুর না হলে চলে নাকি। ওর মত নির্বোধ কিভাবে বুঝবে তা।
গতকাল মাঝরাতে জব্বারের নাম্বার থেকে আমার মোবাইলে একটা কল ফরোয়ার্ডিং মেসেজ আসার পর আমি যখন কল ব্যাক করেছিলাম,তখন তোদের অসাবধানতার জন্য রিসিভ হয়ে গিয়ে তোদের সব কথায় শুনে নিয়েছিলাম আমি। তারপর রাতেই লাস্ট লোকেশন দেখে নিয়ে সেখানে পৌঁছে দেখি গাধাটা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটা চেয়ারে বসে বসে ঝিমুচ্ছে। আমি গিয়ে জব্বারকে ডাক দিতেই সে আকুতি মিনতি করে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য কত কিছু বললো।
পরে জব্বারের মুখে সবটা শোনার পর মনে হলো ওর আর বেঁচে থেকে কোনো কাজ নেই। কারণ ও বেঁচে থাকলেই তুই সকালে ওরে নিয়ে পুলিশের কাছে যাবি। আর তারপর পুলিশের কাছে সবটা খুলে বললেই স্যার তো যাবেই সাথে আমিও। তাই ভাবলাম ওরে আর বাঁচিয়ে রেখে কোনো লাভ নেই।
পরে পায়ের কাছে পড়ে থাকা ছুরিটা দিয়ে আসতে করে গলার কাছে একটা টান দিতেই বেচারা ছটফট করতে করতে পরপারে চলে গেলো। আহ্ বেচারা। কেন কেন তোর বুঝি মায়া লাগছে জব্বারের জন্য? সমস্যা নাই স্যার আসার পর তোকেও জব্বারের কাছ পাঠিয়ে দিবো। কি বলিস?….

একনাগাড়ে কথাগুলো বলার পর আবার হো হো শব্দ করে হেসে উঠলো। তারপর হাসি থামিয়ে বললো,’ জব্বার বলছিলো তোর নাকি আমার কাছে অনেক কিছু জানার আছে। তা বল কি কি জানতে চাস? হায়হাপিত্যেশ নিয়ে মরে যাবি ব্যাপারটা মোটেও ভালো লাগবেনা আমার কাছে। বল কি কি জানতে চাস?’

নিজের ভিতরে দগদগিয়ে ওঠা দাবানালটাকে চেপে রেখে বললাম,’ তোর কাছে আর কোনকিছু জানার নেই। আমি আমার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গিয়েছি।’

‘ওহ তাই নাকি। তো কি কি উত্তর জানতে পারলি বল তো একটু শুনি। আচ্ছা যেই প্রশ্নের উত্তরটা এখনো পাস নি সেটাই শোন তাহলে,তোর বোনের মৃত্যুর পর লাগেজে যেই মৃত্য বাচ্চাটিকে তোরা পেয়েছিলি ওই বাচ্চাটিকে আমিই রেখেছিলাম। আসলে বাচ্চাটাকে মারতে চাইনি বুঝলি তো। নিজের মেয়েকে কেউ ইচ্ছা করে মারতে পারে বল?
কিন্তু আমার একটু অসাবধানতার জন্য মেয়েটা মরে যাওয়ার পর খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম। পরে যখন রেশমির মুখে শুনলাম স্যার নাকি খুশি হয়ে তোর বোনকে অনেকগুলো টাকা দিচ্ছে। তখন আর লোভ সামলাতে পারলাম না। বেঁচে থাকতে তো বাপ হিসাবে কম করিনি, মেয়েটারও তো একটা দায়িত্ব আছে। এখন মরার পর মেয়েটা যদি বাবা-মায়ের জন্য এতটুকু উপকার করে যেতে পারে তাহলে ক্ষতি কি বল?
রেশমিকে বলে ব্যাগ থেকে টাকাগুলো সরিয়ে নিয়ে তারপর বাচ্চাটাকে পলিথিনে মুড়িয়ে রেখে দিলাম ব্যাগে।
ব্যাস,সাপও মরলো লাঠিও ভাঙলো না।
ভেবেছিলাম লাগেজ খুলে তোর বোন যখন টাকার বদলে আমার মৃত মেয়েটাকে দেখবে তখন মেয়েটার লাশ ধামাচাপা দেওয়ার চিন্তায় তার উপরে হওয়া অত্যাচারের কথা মাথা থেকে বেরিয়ে যাবে। কিন্তু তোর বোন তো সতীসাবিত্রী। আমাদের একটু স্পর্শ সে সহ্য করতে পারলো না, বাড়ি গিয়েই গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়লো। একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। ওসব আপদ বেঁচে থাকলে একদিন না একদিন কাল হয়ে দাঁড়াতো। স্যারকে কত করে বলেছিলাম, মেয়েটাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু না,মেয়েটা যাতে মুখ না খুলে স্যার নাকি সে-ই বন্দবস্তও করে রেখেছে। অগত্যা আর কি করার,ছেড়ে আসলাম যেখানকার মাল সেখানে….

কথার মাঝে এবার রুহুলের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো। কথা থামিয়ে রুহুল প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইলটা বার আমাদের সবাইকে মুখে হাত দিয়ে চুপ থাকতে বলো কলটা রিসিভ করলো। ওর কথার ভঙ্গিমায় ফোনের ওপাশে থাকা লোকটা যে কে তা আর বুঝতে বাকি রইলো না। কিছুক্ষণ কথা বলার পর কলটা লাইন চ্যুত হয়ে যেতেই রুহুলের চোখেমুখে একধরনের বৈদ্যুতিক ঝলকানি খেলে গেলো!

রেশমি নামের মেয়েটা এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলে রুহুল মাতালের ভঙ্গিমায় আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো,’ স্যার কল করেছিলো। বললো, ওর ধড় থেকে মাথাটা কেটে নিয়ে তারপর সেই মাথাটা রেখে দিতে। ইশ বহুত দিন পর জল্লাদেন সখটাও বোধহয় এবার পূর্ণ হয়ে যাবে।’

কথাগুলো বলে ফোঁস করে একটা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে আবার বললো,’ কি আর করার, ভেবেছিলাম আরও কিছুক্ষণ গল্পগুজব করবো তোর সাথে। কিন্তু আজরাইলও হয়তো চাইছে না সেটা। থাকগে,বেচারা আজরাইল কত বিজি থাকে,তাকে আর খামখা অপেক্ষা করিয়ে লাভ কি বল? পাঠিয়ে দিই তার কাছে। কি বলিস?’

বলা শেষে হিসহিসিয়ে শয়তানী একটা হাসি হেসে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো রুহুল।

আমি পিছমোড়া হয়ে দেওয়ালে হেলান দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছি হাতের বাঁধনটা খুলে ফেলার জন্য। খুলতে না পারলে হয়তো আর কয়েকমূহুর্ত। তারপর সব শেষ। আমার পরিবারের সাথে হওয়া অন্যায়গুলো হয়তো অমীমাংসিতই থেকে যাবে।

কথাগুলো মনে হতেই ভিতরটা দুমড়েমুচড়ে যেতে লাগলো আমার। মরিয়া হয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলাম হাতের বাঁধন মুক্ত করার জন্য। কিন্তু হায়,উপরওয়ালা। সে-ও মনে হয় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আমার থেকে।

কিছুক্ষণ পর রুহুল ধূর্ততার হাসি মুখে ঘরে ঢুকলো আবার।
তার একহাতে ধারালো একটা রামদা! বিদ্যুতের আলোয় ফলাগুলো চকচক করছে! মুখে শয়তানি হাসি নিয়ে ধীরপায়ে এগিয়ে আসছে আমার দিকে এক পা এক পা করে। একবারে কাছে,সন্নিকটে। আর কয়েকমূহুর্ত, তারপর সব শেষ।
আমি শত চেষ্টা করেও নিজেকে বাঁধনমুক্ত করতে না পেরে শেষমেশ হাল ছেড়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে শেষ মূহুর্তের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম এবার।

হৃৎপিণ্ডটা অসম্ভবরকমের ওঠানামা করছে। নিঃশ্বাস আটকে আসছে। রুহুল নিঃশব্দে পা ফেলে এগিয়ে আসতে আসতে একবারে আমার সম্মুখে এসে দাঁড়িয়েছে এখন।
মনে মনে সেকেন্ড গুনতে লাগলাম।
এক.. দুই.. তিন.. চার..পাঁচ বলার আগেই রুহুলের চাপা আর্তনাদ ভেসে এলো কানে। সেই সাথে ভারি কিছু একটা ছিটকে যাওয়ার শব্দ কানে আসতেই চোখের পাতাগুলো বন্ধ অবস্থায় আরও শক্ত করে ধরলাম।
এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো এই বুঝি সব অপেক্ষার অবসান ঘটে গেলো এবার।

কিন্তু না। সবকিছু কেমন থমথমে মেরে গেলো কয়েক মূহুর্তের জন্য। চোখ বন্ধ রেখেই নিজের অস্তিত্ব অনুভব করার চেষ্টা করলাম। শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে আমার। বুকের বামপাশে থাকা হৃৎপিণ্ডটা হাপরের মত ওঠানামা করছে।
তাহলে কি আমি বেঁচে আছি! কিন্তু একটু আগে ভেসে আসা রুহুলের আর্তচিৎকারের শব্দটা?

কাঁপা কাঁপা চোখে দৃষ্টি মেলে তাকালাম। ঠিক আমার থেকে একহাত দূরত্বে একটা কাটা মাথা পড়ে আছে। মুখটা চিনতে খুব একটা কষ্ট হলো না আমার। কিন্তু….

মৃত্যু ভয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া মনের মাঝে উঁকি দেওয়া প্রশ্নের উত্তরটা একটু পরই পেয়ে গেলাম আমি। রুহুলের মাথা বিহীন শরীরটা নিঃশব্দে মেঝের উপর লুটিয়ে পড়তেই দেখলাম রুহুলের ঠিক পিছনে অগ্নী মানবীর রূপে একটু আগে রুহুলের সাথে হেসে হেসে কথা বলা সেই নারীসুলভ মেয়েটি এখন ধারালো রামদা হাতে দাঁড়িয়ে রাগে গজগজ করছে।
চলবে…

#আশিক_মাহমুদ