পাষাণী তুই পর্ব-০৩

0
1

#পাষাণী_তুই
#পর্ব_৩
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

সকালের নাশতা করে রুমে আসে ইনায়া। মর্ম নিচে সবার কাছে। ইনায়া দরজা বন্ধ করে বিছানায় বসে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে কয়েক বছর আগের কথা।

ইনায়া তখন সদ্য ভার্সিটির স্টুডেন্ট। একদিন ক্লাস শেষ করে বাসায় আসে। সানায়া তখন ক্লাস এইটের স্টুডেন্ট। সবে বাসায় এসে ড্রয়িংরুমে বসেছে। ইনায়ার মা তাসলিমা চৌধুরী এসে বলেন,

“- ইনায়া মা তোকে একটা কথা বলার ছিল?

ইনায়া স্বাভাবিক ভাবে জবাব দেয়,

“- কি কথা মা বলো।

তাসলিমা চৌধুরী একটু সংকোচ বোধ করেন। ইনায়া সেটা দেখে বলে, মা কি বলবে বলো না? এমন সংকোচ বোধ করছো কেন?

তাসলিমা চৌধুরী হালকা হেঁসে বললেন,

“- আসলে…

“- বলো তো মা।

“- আমরা ঠিক করেছি তোর সাথে ইমরানের বিয়ে দেবো।

“- হোয়াট কি বলছো মা?

তাসলিমা চৌধুরী বলেন,

“- হ্যাঁ রে মা। তোর খালামণি তোকে নিজের ছেলের বউ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সারাক্ষণ শুধু কল দিয়েই যাচ্ছে। তোর বাবা কে বলছে।

ইনায়া গম্ভীর মুখে বলল,

“- বাবা কি বলেছে?

“- তোর বাবার কোনো অমত নেই। ছেলে যেহেতু আমাদের চেনা। নিজেদের মধ্যে। তোকে অচেনা কোনো ছেলের সাথে বিয়ে না দিয়ে নিজেদের মধ্যে দিলে নিশ্চিতে থাকতে পারব। তোকে সমসময় দেখতে পারব। মায়ের কথা শুনে নিশ্চুপ ইনায়া। কিছু না বলে নিজের রুমে চলে আসে।।

রুমে এসে অনেক্ক্ষণ ধরে ভাবল। মন সায় দিচ্ছে না তার। নিজেদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তা করা ইনায়ার পছন্দ না। ইনায়া মনে করে এতে আত্মীয়তার ঘুন ধরে। সম্পর্ক নষ্ট হয়। ইনায়া মেঘের কাছে কল দেয়। মেঘ তখন লন্ডনে। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত । ইনায়া দু বার কল দেওয়ার পর রিসিভ করে মেঘ। মেঘ কল রিসিভ করে বলে,

“- ইনায়া বল।

“- মেঘ ভাইয়া তুমি কি ব্যস্ত?

“- হ্যাঁ, তবে বেশি না কি হয়েছে বল?

“- তোমাকে একটা কথা বলার জন্য ফোন দিয়েছি।

“- আচ্ছা। বাসায় কি কিছু হয়েছে নাকি।

“- ভাইয়া মা আমার বিয়ে ঠিক করেছে।

মেঘ কয়েক মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। পরক্ষণে বলে,

“- তুই মজা করছিস ইনায়া।

“- না ভাইয়া। আমি মজা করছি না। মা সত্যি সত্যি আমার বিয়ে ঠিক করেছে।

“- ছেলে কে?

“- ইমরান ভাইয়া!

ইমরান শুনে থমকে গেল মেঘ। মেঘ বলল,

“- তুই ইমরান কে বিয়ে করতে চাস ইনায়া।

“- আমার করা আর না করায় কিচ্ছু যায় আসে না মেঘ ভাইয়া।

মেঘ একটু ভেবে বলল,

“- তুই এই বিয়ে টা করিস না। আমি ছোটো মা’র সাথে কথা বলছি।

“- মা কথা দিয়ে ফেলছে ভাইয়া। এখন কথার খেলাপ করা ঠিক হবে না।

“- তাহলে তুই বিয়েতে রাজি আছিস?

“- হ্যাঁ।

মেঘ অনেক বার বারণ করে কিন্তু ইনায়া শোনে না। মায়ের কথা মতো ইমরান কে বিয়ে করে।
তারপর……….

সানায়া অনেক্ক্ষণ ধরে ডাকছে ইনায়া কে তবুও ইনায়ার কোনো সারা পাচ্ছে না। সানায়ার এবার টেনশন হয়। সেজন্য রুমে চলে আসে। তারপর ডাক দেয় কিন্তু ইনায়া ভাবনায় এতটাই বিভোর যে সানায়া কোনো কথা তার কান অব্দি পৌঁছায় না। সানায়া ইনায়া কে ধাক্কা দিয়ে বলে,

“- এই আপাই!
ইনায়া চমকে ওঠে বলল,

“- হ্যাঁ বল।

“- তুই এত কি ভাবছিস? তোকে সেই নিচে থেকে ডাকতে ডাকতে উপরে চলে আসলাম তবুও তুই কোনো সাড়া দিচ্ছিস না। কি ভাবছিস আপাই! তোর কি কিছু হয়েছে? আমাকে বলতে পারিস!

ইনায়া মৃদু হেসে বলল,

“- তেমন কিছু না বনু। তুই কি জন্য ডাকছিলি তাই বল।

সানায়া ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

“- আমার থেকে লুকাচ্ছিস আপাই! আমি কিন্তু সেই আগের ছোটো সানায়া নেই! এখন সব কিছু বুঝি! তখন আমি ছোটো ছিলাম। তোর কষ্টের সময় সঙ্গ দিতে পারিনি। তোর খুব কষ্ট হয় তাই না আপাই!

ইনায়া সানায়া’র দিকে তাকিয়ে আছে। সত্যি ই তার বোনটা অনেক বড়ো হয়ে গেছে। সবকিছু বুঝতে শিখেছে। ইনায়া নিরব চাহুনি তে জবাব দেয়।

“- আমি জানি আমার বোনটা অনেক বড়ো হয়ে গেছে। সাথে খুব বুদ্ধিমতি! এখন আসল কথা বল তো কিসের জন্য ডাকছিলি?

সানায়া আর কথা বাড়ায় না। তার আপাই এখন কিছু বলতে চাইছে না। তাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে। থাক না কিছু কথা অজানা। সব কথা কি আর শুনতে হয়। সানায়া হালকা হেঁসে বলল,

“- আসলে আপাই! আমার সাথে তোর একটু হসপিটালে যেতে হবে।

ইনায়া চমকে উঠে বলে,

“- কারোর কিছু হয়েছে নাকি বনু?

ইনায়ারা রিয়াকশন দেখে হেঁসে দেয় সানায়া। সানায়া’র হাসি দেখে ইনায়া চোখ ছোটো ছোটো করে তাকায়। তারপর বলল,

“- তুই হাসছিস কেন?

সানায়া হাসি থামিয়ে বলে,

“- আপাই কারোর কিছু হয়নি। আমি যাব ডক্টরের কাছে।

ইনায়া অবাক হয়ে বলল,

“- তোর কি হয়েছে?

“- আর বলিস না আপাই। মাইগ্রেনের ব্যথায় জীবন টা পুরা তেজপাতা হয়ে গেলো আমার। আর ভাল্লাগে না। বাঁচতে মন চাই না।

“- টেনশন করিস না। ওষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে। আচ্ছা তাহলে রেডি হয়ে নে আমি তোর সাথে যাচ্ছি!

সানায়া আচ্ছা বলে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।। ইনায়া রেডি হয়ে নিচে নামে। মর্ম নাকি তার নানুর কাছে থাকবে। তার সাথে গল্প করবে। ইনায়া আর জোর করে না। মা’য়ের কাছে রেখে সানায়া কে নিয়ে বের চৌধুরী বাড়ি থেকে।

★★★

সানায়া গাড়ি নিতে চেয়েছিল কিন্তু ইনায়া না করেছে। আজ তারা রিকশা নিয়ে যাবে। রিকশা তে ঘুরবে। কত দিন হলো একটু মন খুলে ঘোরে না। মন খুলে হাসে না। কিন্তু আর কত? এবার সে নিজের মতো করে হাসবে। নিজের ইচ্ছা কে প্রধান্য দেবে।

একটা রিকশা ডেকে তাতে উঠে বসে দু বোনে। সারা পথ দুবোনে কতশত গল্প করে। সানায়া তার জীবনের কিছু কথা বলে যা শুনে ইনায়া হাসতে হাসতে শেষ। রিকশা ওয়ালা মামা রিকশা থামিয়ে দেয়। ইনায়া হাসি থামিয়ে রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দেয়।

তারপর দু’জনে হসপিটালের ভিতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। অনেক বড় হসপিটাল। চারদিকে মানুষ আর মানুষ। সানায়া বলছে,

“- আপাই ডক্টর মানেই ডাকাত!
সানায়া’র কথা শুনে হেসে দেয় ইনায়া। তারপর বলে,

“- হঠাৎ এ কথা বলছিস কেন তুই?

“- ওই যে সামনে ওতগুলা মানুষ দেখছো না। ইনারা সবাই ডক্টরের কাছে এসেছে। এটা যেহেতু বেস্ট একটা হসপিটাল। সেজন্য সবাই এখানেই আসবে। আর ডক্টর রোগীর সব কথা শুনে হাজার টা রিপোর্ট করতে দেবে। মানে রিপোর্ট যা টাকা নেবে। এককথায় বলা যায় ডক্টর মানেই ডাকাত। ডাক্তারের অপর নাম ডাকাত! সুন্দর না আপাই।

সানায়া’র কথায় মুচকি হাসে ইনায়া। তারপর বলল,

“- তুই কি যুক্তিবিদ্যা সাবজেক্ট নিয়ে পড়িস। তোর যুক্তির কিন্তু তারিফ করতে হয়। এত যুক্তি কেমনে দিতে পারিস বোন।

সানায়া ভাব নিয়ে বলল,

“- পারি পারি। আমি সব পারি। ইন্টারে বান্ধবীদের কথা শুনে যুক্তিবিদ্যা নিছিলাম। তবে এমন যুক্তি কিন্তু বইতে নেই। এটা আমার তৈরি যুক্তি! তুমি আরেকটা যুক্তি শুনবে আপাই?

“- না থাক। বাসায় গিয়ে শুনবো। এখন ডক্টরের চেম্বারে চল।

“- আচ্ছা চলো।

দু’জনে ডক্টরের চেম্বারে যায়। ডক্টর সানায়া কিছু মেডিসিন লিখে দেয়। আর অনেক কথা বলে। দু’জনে ডক্টরের সব কথা চুপ হয়ে শোনে। তারপর ডক্টরের চেম্বার থেকে বের হয়।

দু’জনে গল্প করতে করতে হাঁটছে। হঠাৎ করে তাদের সামনে মেঘ চলে আসে। মেঘ এই হসপিটালেই বসে। মেঘরাজ একজন হার্ট সার্জন। মেঘ কে দেখে সানায়া বলল,

“- ভাইয়া।

মেঘ প্রথমে খেয়াল করিনি। সানায়া যখন ডাক দেয় তখন সামনে তাকায়। মেঘের পাশে আরেকজন ডক্টর। মেঘের পাশের ডক্টর বলল…

চলবে~

রিচেক দেওয়া হয়নি। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।