#পাষাণী_তুই
#পর্ব_৬
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
নতুন এক ভোরের সূচনা হয়। অন্ধকার সরে আলোর দেখা মিলল। সূর্য মামা তার কিরণ দিয়ে চারদিকে আলোকিত করে দিচ্ছে। বেলকনির চেয়ারে ঘুমোচ্ছে ইনায়া। চোখে সূর্যের আলো পড়তেই চোখ মুখ কুচকে যায়। মুখে হাত দিয়ে ঘুরতে গেলেই পড়ে যেতে নেয়। সহসা শক্ত করে চেয়ার চেপে ধরে। চোখ মেলে তাকায়। ঘুমের রেশ কাটতে মিনিট দুয়েক লাগে। তারপর চোখ মেলে তাকায়। চারপাশ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়ে আছে। ইনায়া সোজা হয়ে বসে। কাল রাতের কথা মাথায় আসতেই মনে পরে যায়। কালকর ঘটনা। ইনায়ার চোখ মুখ শক্ত হয়ে যায়। মনে মনে তীব্র রাগ পোষণ করে।
বেলকনি থেকে রুমে আসে। মেয়েটা তার এখনো ঘুমোচ্ছে। এখনই হয়তো উঠে পরবে। ইনায়া দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সাতটা বাজে। বেশ অনেক টা সকাল হয়ে গেছে। ইনায়া দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে আসে। এসে দেখে তার মেয়ে টা বিছানায় মুখে হাত দিয়ে বসে আছে। ইনায়া আসলে তার দিকে একাধারে তাকিয়ে আছে। ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
“- মামণি, এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?
মর্ম আদোও আদোও কন্ঠে বলল,
“- মাম্মাম তোমার চোখ গুলো ফোলা কেন?
মেয়ের কথা’য় চমকে ওঠে ইনায়া। নিজেকে স্বাভাবিক করে হালকা হেঁসে বলল,
“- কই মা। আমার চোখ তো ঠিকই আছে।। তুমি ঘুম থেকে উঠছো তাই এমন মনে হচ্ছে তোমার।
মর্ম ঠোঁট উল্টে বলে,
“- মাম্মাম আমাকে ফ্রেশ করিয়ে দাও।
ইনায়া হাফ ছেড়ে বাঁচল। তার মেয়ে টা যে পাকা পাকা কথা বলে। সব দিকে খেয়াল রাখে। এখন এটা তার মন থেকে সরাতে হবে। ইনায়া মর্ম কে কোলে তুলে ওয়াশরুমে আসে। মর্ম কে ব্রাশ করিয়ে হাত মুখ দিয়ে ফ্রেশ করে দেয়। তারপর রুমে এসে চুল গুলো ভালো করে বেঁধে দেয়।
অতঃপর মা মেয়ে রুম থেকে বের হয়। কিছু দুর আসার পরই সানায়া দৌড়ে এসে মর্ম কে কোলে তুলে বলে,
“- আমার প্রিন্সেসের অবশেষে ঘুম ভাঙল। আমি সেই কখন থেকে তার জন্য অপেক্ষা করছি।
মর্ম খিলখিল করে হেঁসে দেয়। সানায়া ইনায়া কে বলল,
“- আপাই আমি ওকে নিয়ে রুমে যাচ্ছি। তুমি নিচে যাও।
ইনায়া মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। ইনায়া ধীর পায়ে সামনে আগাচ্ছে। কিছুপথ যাওয়ার পরই তার হাতে টান পরে। ইনায়া ভয়ে কেঁপে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে কেউ টেনে ধরে একটা রুমে নিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে দেয় । ইনায়া অবাক হয়ে দেখছে মেঘ কি করছে। কারণ মেঘের রুমের সামনে দিয়ে ই নিচে যাওয়ার সিঁড়ি। ইনায়া যখন দেখল মেঘ তাকে রুমে এনে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে তখন খুব রাগ হয়। ইনায়া রেগে বলল,
“- হোয়াট দ্য হেল ইউ? এসব কি হচ্ছে?
মেঘ দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে। হঠাৎ করে দেখলে যে কেউ ই ভয় পাবে। মেঘ এক পা দু পা করে ইনায়ার দিকে এগিয়ে আসছে৷ ইনায়া স্ট্রং হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ ভাবছিল ইনায়া পিছিয়ে যাবে কিন্তু না। ইনায়া শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ ইনায়ার থেকে কয়েক ইঞ্চি দুরে এসে দাঁড়ায়। ইনায়ার চাহুনি রুক্ষ। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেঘের দিকে। মেঘ করুন চোখে তাকিয়ে বলল,
“- অ্যই এম সরি ইনায়া! আমার ভুল হয়ে গেছে প্লিজ মাফ করে দে!
ইনায়া এখনো মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে নিশ্চুপ হয়ে । কিছু বলছে না। মেঘ আবার বলল,
“- প্লিজ মাফ করে দে। জীবনে আর কোনো দিন এমন ভুল করব না। কখনো করব না অ্যই প্রমিজ! এটাই প্রথম আর এটাই লাস্ট।
ইনায়া জোরে হেঁসে ওঠে। হঠাৎ করে হাসায় মেঘ অবাক চোখে তাকায় ইনায়া র দিকে। ইনায়া হাসছে। তাচ্ছিল্যের হাসি৷ মেঘ ইনায়ার হাসির দিকে এখনো তাকিয়ে আছে। ইনায়া তাচ্ছিল্যের হেঁসে বলল,
“- আপনি কি করেছেন ডক্টর মেঘরাজ চৌধুরী? যার জন্য আমার কাছে এভাবে ক্ষমা চাচ্ছেন?
মেঘ চকিত দৃষ্টিতে তাকায়। এক রাতের ব্যবধানে ইনায়া এতটা পাল্টে গেছে। তুই থেকে ডিরেক্ট আপনিতে। মেঘ কিছু বলছে না দেখে ইনায়া আবার বলল,
“- কি হলো চুপ করে আছেন কেন ডক্টর মেঘরাজ চৌধুরী? কিছু তো বলেন?
“- ইনায়া তুই এ কেমন করে কথা বলছিস।
“- হোয়াট..? আমার ইচ্ছা আমি কিভাবে কথা বলব। আপনি বলার কে মিস্টার ?
মেঘ অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে আছে। ইনায়া মেঘ কে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে গেলে শক্ত করে চেপে ধরে ইনায়ার হাত। ইনায়া ব্যথায় আহ্ করে ওঠে। মেঘ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“- খুব ইগো দেখাচ্ছিস তাই না। এই মেঘরাজ চৌধুরী কে ইগো দেখাচ্ছিস? তুমি থেকে আপনিতে চলে গিছিস। এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।
ইনায়া হাসল। তারপর বলল,
“- খারাপ কি করবেন? সবটা খারাপ তো হয়েই গেছে। হাতটা ছাড়ুন।
মেঘ ইনায়া কে টান দিয়ে সামনে এনে দাঁড় করায়। ইনায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“- দ্যাখ কালকের বিষয়টার জন্য আমি দুঃখিত! হঠাৎ করে ওই কথা বলায় মাথায় রাগ চেপে ধরছিল। রাগ কন্ট্রোল করতে পারি নি। তাই বলে ফেলছি। তার জন্য তো ক্ষমাও চাইছি। তাহলে এত ইগনোর করছিস কেন?
ইনায়া চেচিয়ে বলে ওঠে,
“- বিয়ে করতে কিসের এত প্রবলেম তোমার? বাসার সবাই চাই তুমি বিয়ে করো? সবার ইচ্ছা কিন্তু তুমি রাজি হচ্ছো না। বাট হোয়াই? কালকে চাচ্চু আমাকে বলল, ইনায়া মা মেঘ কে একটু বুঝিয়ে বল। ও যেন রাজি হয়ে যায়। আমি প্রথমে রাজি হয়নি কিন্তু চাচ্চু বারবার বলছিল যার জন্য আর না করতে পারিনি। চাচ্চুর কথায় রাজি হয়ে গেছি। তোমাকে বলার জন্য ছাদে গেলাম আর তুমি? থেমে যায় ইনায়া। গলা ধরে আসছে। তবুও বলল, তুমি কি করলে? আমাকে ইচ্ছে মতো কথা শুনালে? কিন্তু কেন মেঘ ভাইয়া? আমি কি করেছি? সামান্য কথা বলায় এত বাজে ব্যবহার করলে কেন?
ইনায়ার চোখ ছলছল করছে। যেকোনো সময় অশ্রু গড়িয়ে পরবে। মেঘ করুন কন্ঠে বলল,
“- বিশ্বাস কর, আমি এমনটা করতে চাইনি। হুট করে হয়ে গেছে।
“- তুমি আমাকে একটা কথা বলো তো?
“- কি।
“- তুমি বিয়ে করতে চাও না কোন?
মেঘ নিশ্চুপ! মুখে নেমে আসে না পাওয়ার বেদনা! তবুও হেঁসে বলল,
“- যদি মনের মতো কাউকে না পাই তাহলে কিভাবে বিয়ে করব বল?
ইনায়া অবাক হয়ে বলল,
“- মনের মতো খুঁজে নাও। প্রবলেম কোথায়?
মেঘ হেঁসে উঠল। মেঘের হাসি দেখে ইনায়া বলল,
“- হাসছো কেন?
“- মনের দুঃখে হাসছি রে।
“- মানে…
মেঘ ইনায়ার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“- ভালোবাসার মানুষ যখন বোঝে না। তখন কেমন লাগে বল? সে যদি বুঝতো তাহলে তাকে কবেই বিয়ে করে আপন করে নিতাম। কিন্তু আমার পোড়া কপাল। সে বুঝল না। সত্যি সে বোঝে না, নাকি বুঝেও না বুঝার অভিনয় করে।
ইনায়া মনোযোগ দিয়ে মেঘের কথা শুনে বলল,
“- তাকে কখনো বলেছো?
মেঘ হেঁসে বলল,
“- বলার আগে সে অন্য কারোর হয়ে গিছিল। কিন্তু সে চাইলে এখনো আমরা এক হতে পারি।
“- কে সে?
“- সিক্রেট! বলা যাবে না।
“- ওহ। ছোট্ট জবাব ইনায়ার। ইনায়া চুপচাপ দরজার দিকে পা বাড়ায়। একটুখানি যেতেই মেঘের কথায় থেমে যায়।
“- আমাকে ক্ষমা করেছিস তো?
ইনায়া পিছু ফিরে বলে,
“- প্রথম বার সেজন্য করলাম। দ্বিতীয় বার যদি অন্যের রাগ আমায় দেখাতে আসছো তাহলে তোমার খবর করে দেব কিন্তু। বলে ইনায়া দরজা খুলে চলে যায়। ইনায়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে কষ্টের হাসি হাসল মেঘ। তারপর বলল,
“- তোর রাগ তোকেই দেখিয়েছি রে। তবুও তুই বুঝলি না। এটা আমার ব্যর্থতা!
চলবে~
রিচেক দেওয়া হয়নি। ভুক ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।