পাষাণী তুই পর্ব-০৮

0
1

#পাষাণী_তুই
#পর্ব_৮
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

দুর থেকে একজোড়া চোখ ইনায়া কে দেখছে কিন্তু ইনায়া কিছু টের পাচ্ছে না। মেয়ে কে নিয়ে একটা হাওয়াইমিঠায় ওয়ালা মামার কাছে যায়। আর তখনই………. কোথা থেকে একজন লোক এসে ইনায়া কে ধাক্কা দিয়ে চলে যেতে নেয়। ইনায়া পড়ে যাওয়ার আগেই নিজেকে সামলে নেয়। রেগে গিয়ে চিল্লিয়ে বলল,

“- হাউ ডেয়ার ইউ? আপনার সাহস কি করে হয় আমাকে ধাক্কা দেওয়ার?

লোকটা ঘুরে না দেখেই বলল,

“- সরি! সরি! আমি আসলে…তাড়ায়.. ছি. বাকিটুকু আর বলতে পারল না। মুখ অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়। ইনায়ার ও সেম অবস্থা। একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে ইনায়া বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকে না। অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ইনায়ার সামনে দাঁড়ানো মানুষ টা যে আর কেউ নয়। ইনায়ার প্রাক্তন স্বামী ইমরান। এত বছর পর ইনায়া কে দেখে থমকে গেছে ইমরান। এখনো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ইনায়ার পাশ থেকে মর্ম বলল,

“- এই যে পঁচা আঙ্কেল। আপনি আমার মাম্মামের দিকে তাকিয়ে আছেন কেন?

ইনায়া মর্মের দিকে তাকায়। অজানা ভয় এসে বুকের ভিতর চমকে ওঠে। ইনায়া কিছু না বলে মর্মের হাত ধরে সেই দোকানের দিকে আগায়। পিছন থেকে ইমরান অস্পষ্ট স্বরে ডেকে ওঠে,

“- ইনায়া…..

ইনায়ার পা দুটো থেমে যায়। অতীত তাকে আবার ও তাড়া করছে। যে অতীত ইনায়া মনে করতে চাই না। সেটাই কেন তাকে পিছু ছাড়ে না।৷ ইমরান এবার ইনায়ার পিছনে চলে আসে। ইনায়া নিরব কন্ঠ বলে,আপনি এখানে দাড়ান। আগাবেন না। আমি আসছি। ইমরান আর আগায় না। সেখানেই দাঁড়িয়ে যায়।

ইনায়া মর্ম কে নিয়ে বেঞ্চে বসায়। তারপর বলে,

“- মা তুমি এখানে বসে মিষ্টি খাও। আমি একটু উনার সাথে কথা বলে আসছি। দোকানদার মর্ম কে হাওয়াই মিঠাই সহ আরো কিছু চিপস দেয়৷ মর্ম ভদ্র মেয়ের বসে বসে খাচ্ছে।

°°°°°°
ইনায়া ইমরানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ইমরান ইনায়ার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কতক্ষণ ই বা মাথা নিচু করে থাকবে। তাকে তো মাথা তুলে দাড়াতে হবে। ইমরান মাথা তুলে ইনায়ার দিকে তাকায়। ইনায়ার ঠোঁটের কোণে হাসি। ইমরান ইতস্তত বোধ করে বলে,

“- কেমন আছো?

ইনায়া হাসল। হেঁসে বলল,

“- আলহামদুলিল্লাহ! খুব ভালো আছি।

“- আমাকে জিজ্ঞেস করবে না কেমন আছি?

ইনায়া এবার খানিকটা শব্দ করে হেঁসে বলল,

“- আপনি নিশ্চয় খুব ভালো আছেন। ভালো থাকারই তো কথা। খারাপ থাকার কথা নয়তো? তাই না।

ইমরান হাসল। তবে সেই হাসি তে নেই কোনো সুখের আচ। তবুও মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,

“- ঠিক ধরেছো, আমি খুব ভালো আছি। খারাপ থকার প্রশ্নই আসে না।

“- গুড। কি মনে করে পিছু ডাকলেন?

“- তোমার বাবু টা দেখতে মাশাল্লাহ তোমার মতো সুন্দর হয়েছে।

“- জ্বি।

“- ওর বাবা কোথায়? সে আসেনি নাকি তোমরা মা মেয়ে দু’জন এসেছো?

ইমরানের কথায় ঘাবড়ে যায় ইনায়া। এবার সে কি বলবে? কিছু তো মাথায়ও আসছে না। ইনায়া মর্মের দিকে তাকায়। মর্ম চিপস খাচ্ছে আপন মনে। ইমরান ফের বলল,

“- কি হলো ইনায়া। কিছু বলছো না যে? তোমার হ্যাসবেন্ড কোথায়?

ইনায়া ফট করে বলে ফেলে,

“- ও তো এসেছে। একটু সামনে গেছে চলে আসবে।

“- ওহ আচ্ছা। ভালো। তোমার মেয়ের নাম কি রেখেছো?

“- মর্ম..
“- সুন্দর নাম।

“- ধন্যবাদ।।

মেঘ অনেক্ক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইনায়া আর ইমরানের আলাপ দেখছে। ইনায়ার হেঁসে হেঁসে কথা বলা টা সহ্য হয় না মেঘের। রেগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে এবার ইনায়ার দিকে ছুটে আসে।

ইমরান ইনায়া কে বলছে,

“- তোমার হ্যাসবেন্ডের সাথে দেখা হলে ভালো লাগতো। সে খুব লাকি পার্সন তোমার মতো একজন স্ত্রী পেয়েছে।

ইনায়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই মেঘ এসে ইমরানের কলার ধরে বলে,

“- এই তোর সাহস তো কম না তুই আবার ওর সামনে এসেছিস। ওর সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলছিস।।আবার ওর হ্যাসবেন্ড কে দেখতে চাইছিস।

আচমকা এমন হওয়ায় চমকে ওঠে ইমরান সহ ইনায়া৷ ইমরান শান্ত হয়ে বলল,

“- কলার ছাড়ো রাজ। এটা পাবলিক প্লেস। এখানে কোনো সিনক্রিয়েট করো না।

মেঘ রেগে চিল্লিয়ে বলল,

“- এই তুই ওর সামনে এসেছিস কেন? ওর জীবন নষ্ট করে শান্তি হয়নি। আবার এসেছিস। ওকে সুখে দেখতে কষ্ট লাগে তোর। ও এখন খুব সুখে আছে। স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে দিন পার করছে। ফারদার ওর সামনে আসবি না। বলে ইমরানের কলার ছেড়ে দেয়। ইমরান ছিটকে দুরে গিয়ে দাঁড়ায়। ইমরান স্বাভাবিক ভাবে বলল,

“- আমি কোনো খারাপ উদ্দেশ্য আসি নাই রাজ। জাস্ট রাস্তায় দেখা হয়ে গিছিল তাই আরকি..?

“- দেখা হয়েছে বেশ। কথা বলতে আসলি কেন?

“- তুমি ভুল বুঝছো রাজ। এইটুকু কথা কি আমরা বলতে পারি না।

মেঘের রুক্ষ জবাব,

“- না পারো না।

“- তাই। আমি তো বেশি কিছু শুনিও নি। শুধু বলেছি তোমার হ্যাসবেন্ডের সাথে দেখা হলে ভালো লাগতো।

“- ওহ তুই ওর হ্যাসবেন্ডের সাথে দেখা করতে চাস। আচ্ছা করে নে। দ্যাখ তোর সামনে দাড়িয়ে আছে।

ইমরান অবাক হয়ে বলল,

“- মানে…

“- মানে খুব সোজা। ডক্টর মেঘরাজ চৌধুরীর ওয়াইফ মিসেস ইনায়া চৌধুরী। আর তাদের মেয়ে মর্ম চৌধুরী। আর কিছু দেখার বা বলার আছে তোর?

ইমরান মাথা নেড়ে না বলল। তারপর চুপচাপ সেই জায়গা থেকে প্রস্থান করল।

ইনায়ার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব। মেঘ এসব কি বলছে। সবটা কি ভেবে বলছে নাকি সবটাই নিজের অজান্তে। মেঘ রেগে নিজের চুল খামচে ধরে ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে। মর্ম এখনো আগের জায়গায় বসে আছে। মিঠাই ওয়ালা মামার সাথে গল্প করছে। এদিকে তার খেয়াল নেই।

ইনায়া মেঘের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। মেঘ চোখ বন্ধ করে ছিল। সবে মাত্র চোখ মেলে সামনে তাকাতেই ইনায়া কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। ইনায়া বলল,

“- তুমি এখানে কেন? কিভাবে জানলে আমরা এখানে আছি।

মেঘ থতমত খেয়ে যায়। তারপর বলল,

“- এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম তুই এখানে। আর তোর সাথে ইমরান কে দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গিছিল।

“- তুমি ইমরান কে আমার স্বামী বললে কেন মেঘ ভাইয়া? আর আমার মেয়ে কে নিজের মেয়ে বলল কেন?

মেঘ চুপসে যায়। ইনায়া তার অ্যান্সার শোনার জন্য মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে। মেঘ কি বলবে ভাবছে। এই মুহূর্তে তেমন কিছু মাথায় আসছে না দেখে ফট করে বলল,

“- আসলে তুই যখন বললি তোর বর সামনে কোথাও গেছে। তোর বর কে দেখতে পারলে ওর ভালো লাগতো। আর তুই ও একের পর একটা বানিয়ে বানিয়ে বলছিল। তাই তোকে এসবের থেকে বাঁচানোর জন্য বললাম।

“- কিন্তু তুমিও তো সেই মিথ্যের আশ্রয় নিলে।

“- আসলে..

“- শোনো মেঘ ভাইয়া। আজ যা বলছো বলছো আর কোনো দিন বলো না। ও আমার মেয়ে আর কারোর না। ওর আমি ছাড়া কেউ নেই। ওর বাবা মা সব আমি। আমি একাই ওকে মানুষ করব। এভাবে এইসব কথা বলে নিজেকে বিপদে ফেলো না। পরে কিন্তু তুমি নিজেই খুব বড়ো বিপদে পরবে। আমি চাই না আমার জন্য তোমার কোনো প্রবলেম হোক। তাই বলছি আজে বাজে কথা বলো না।

“- সরি ইনায়া। আমি এসব বলতে চাইনি কিন্তু কেমনে যে মুখ ফুটে বের হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। তুই যদি না চাস আর কখনো বলব না।

“- আমি চাইবো কেন? অবাক হয়ে বলল ইনায়া

মেঘ কথা ঘুরানোর জন্য বলল,

“- বলছি আর কখনো বলব না।

“- ঠিক আছে। আমি বাসায় যাবো……

চলবে ~

রিচেক দেওয়া হয়নি। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।