#পাষাণী_তুই
#পর্ব_১৬
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
পিছন থেকে ইনায়ার কাঁধে হাত পড়তে চমকে ওঠে ইনায়া । ভয়ার্ত চেহারায় পিছনে ফিরে তাকায়। পিছনে তাকিয়ে দেখে তাসলিমা চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছে। ইনায়া ফের সামনে তাকায়। তাসলিমা চৌধুরী কাতর গলায় বললেন,
“- আমার উপর তোর খুব রাগ তাই রে? আমার জন্য আজ তোর জীবন টা এলোমেলো হয়ে গেলো? সবটা আমার দোষ?
ইনায়া সামনে তাকিয়ে বলল,
“- কেন নিজেকে দোষারোপ করছো মা। সবটা আমার ভাগ্যের দোষ। ভাগ্যের দোষে আমার সাথে এমন হয়েছে!
“- আমি জানি সবটা আমার জন্যই হয়েছে।
“- কেন এসেছো বলো?
তাসলিমা চৌধুরী মেয়ের মুখের দিকে তাকান। মেয়ের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে খুব অভিমান হয়েছে সবার উপর। তাসলিমা চৌধুরী ইনায়া কে ঘুরিয়ে নিজের দিকে ফেরান। ইনায়া মায়ের দিকে তাকায়। তাসলিমা চৌধুরী বলেন,
“- আমার সাথে একটু ঠিক করে কোথাও বলিস না! আমি জানি আমি খুব অপরাধ করে ফেলেছি। তাই বলে কি আমার সাথে কথা বলবি না।
ইনায়া হালকা হেঁসে বলল,
“- মা তুমি ভুল ভাবছো। আমি আগের মতো কথা বলা পছন্দ করি না। চুপচাপ থাকতে ভালো লাগে। সেজন্য চুপ করে থাকি। তাই বলে এই না আমি তোমার সাথে রাগ করে কথা বলি।
তাসলিমা চৌধুরী ডুকরে কেঁদে ওঠেন। মায়ের কান্না দেখে বিচলিত হয়ে পরে ইনায়া। মা কে জড়িয়ে নেয় বুকের সাথে। ইনায়ার চোখে পানি নেয়। কাদতে কাদতে শুকিয়ে গেছে। আর কত কাঁদবে! মা কে সান্ত্বনা দেয়। সব ঠিক হয়ে যাবে বলে।
মেয়ের সাথে কিছু সময় থেকে ছাদ থেকে নেমে যান।
‘
‘
‘
‘
”
‘
‘
‘
‘
‘
চারপাশে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। ধরণীর বুকে অন্ধকার নেমে এসেছে। নিজের রুমের বেলকনিতে বসে মেয়ে কে ঘুম পারাচ্ছে। মর্ম মায়ের কোলে গুটিশুটি হয়ে ঘুমাচ্ছে! ইনায়া মেয়ের দিকে অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। তার মেয়ে টাই যে তার একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন। ইনায়া মর্ম কে বিছানায় শুইয়ে দেয়। তারপর বেলকনিতে চলে আসে। একটু পর মেঘ আসে ইনায়ার রুমে। মেঘ উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে মর্ম বিছানায় ঘুমাচ্ছে। তাহলে ইনায়া নিশ্চয় বেলকনিতে আছে। মেঘ বাঁকা হেসে বেলকনিতে পা বাড়ায়।
ইনায়া মনোযোগ দিয়ে ফোন দেখছে। মেঘ ধীর পায়ে এগিয়ে আসে। পিছনে থেকে এসে ইনায়ার ফোন ছো মেরে নিয়ে নেয়। আচমকা এমন হওয়ায় চমকে ওঠে ইনায়া। অবাক হয়ে পিছনে ঘুরে মেঘ দেখে থেমে যায়। থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে থাকে। ইনায়া কিছু বলছে না দেখে মেঘ নিজেই বলল,
“- কথা বলবি না আমার সাথে?
“-……. নিশ্চুপ ইনায়া!
মেঘ আবার বলল,
“- কি রে কিছু বলছি তো?
ইনায়া মেঘের চোখের দিকে তাকায়। মেঘ ইনায়ার চোখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকায়। ইনায়া চোখ সরিয়ে নেয়। মেঘ তখনো তাকিয়ে আছে। তারপর বলল,
“- বিয়ে করবি না আমায়? দ্যাখ তুই যতই না না করিস না কেন তোকে আমি বিয়ে করবই?
“- আমার মনের বিরুদ্ধে গিয়ে তুমি আমাকে বিয়ে করবে মেঘ ভাইয়া,?
সহসা ইনায়ার কথায় চুপ করে যায় মেঘ। তারপর ভাবুক হয়ে বলল,
“- মোটেও না। আমি তোর মনের ইচ্ছা তেই তোকে বিয়ে করবো?
“- কিভাবে? আমি তো রাজি না। অবাক হয়ে বলল ইনায়া।
ইনায়ার কথায় বাঁকা হেসে বলল,
“- ভালোবাসা দিয়ে!
“- হোয়াটটট…?
শোনো মেঘ ভাইয়া আমি তোমাকে ভালোবাসি না। তাহলে কেন এমন করছো? আমি খু ভালো আছি আমাকে ভালো থাকতে দাও না প্লিজ। কেন আমার লাইফে ঢুকে আমার জীবন টা এলোমেলো করতে চাইছো?
“- তুই কেন বুঝতে চাইছিস না ইনায়া। তোকে আমার প্রয়োজন! তোকে আমি ভালোবাসি! তুই আমাকে বিয়ে করলে মর্ম একটা বাবা পাবে?
“- আমিই মর্মর বাবা মা সব। তুমি এর এসো না প্লিজ। আমাদের যে সম্পর্ক টা আছে সেটা অন্তত নষ্ট করো না। আমি আর কোনো সম্পর্ক হারাতে চাই না।
মেঘ অবাক হয়ে বলল,
“- মানে? সম্পর্ক নষ্ট হবে কেন?
“- তুমি অবুঝ নও মেঘ ভাইয়া। আমি যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি। না বোঝার কিছু নেই?
“- সত্যি আমি বুঝতে পারছি না। একটু ক্লিয়ার করে বল না প্লিজ।
ইনায়া করুন কন্ঠে বলল,
“- কয়েক বছর আগে আমি মা কে বলেছিলাম। মা আমাকে তোমরা ইমরান ভাইয়ার সাথে বিয়ে দিও। অন্য কারোর সাথে দাও। আত্মীয় তার মধ্যে আর কোনো সম্পর্ক বাড়িও না। এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়। কিন্তু আমার মা তো মা’ই আমার কথা শুনল না। সে বিয়ে দেবে মানেই দেবে।।মা’র ধারণা কোনো সম্পর্ক নষ্ট হয় না। এতে করে নাকি সম্পর্ক আরো গভীর হবে। কিন্তু দ্যাখো,সেই সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেলো। এখন আর তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। কেন নেই? বিয়ে নামক শব্দ টা র জন্য। কেন বিয়ে দেবে আর কেনই বা সম্পর্ক নষ্ট হবে তুমি ই বলো?
মেঘ চুপ করে ইনায়ার কথা গুলো শোনে। ইনায়া ভুল কিছু বলেনি আবার পুরো টা সঠিক ও বলেনি। কারণ সবাই তো আর এক হয় না। কিন্তু তাই বলে সে ইনায়া কে বিয়ে করবে না। এটা তো হবে না। মেঘ মুখে হাত দিয়ে বলে,
“- তোর সব কথায় মানলাম। কিন্তু আমাকে বিয়ে করলে কোনো সম্পর্ক নষ্ট হবে না। আমি তোকে বলছি।
ইনায়া তাচ্ছিল্যের হেঁসে বলল,
“- তুমি এতটা শিওর হচ্ছো কেমনে?
“- আমার বিশ্বাস বাসার সবাই সবটা মেনে নেবে।
“- তোমার বিশ্বাস তোমার পকেটে ভরে রাখো। সেরকম কিছু ই হবে না। আর না আমি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি হবো?
মেঘ এবার রেগে যায়। অনেক্ক্ষণ ধরে ইনায়ার বকর বকর শুনছে। আর পারছে না। ভালোবাসে বলে চুপ করে সব শুনছে তা না হলে মেঘরাজ চৌধুরী এক কথা দুবার বলা পছন্দ করে না। মেঘ রেগে ইনায়ার হাত চেপে ধরে বলল,
“- শোন আমি এত অজুহাত শুনতে আসি নাই। তোকে বিয়ে করব মানে বিয়ে করবই। দিস ইজ মাই ডিসিশন। এখন তুই কি করবি আর না করবি আই ডোন্ট কেয়ার। বুঝেছিস না বুঝলে তোর এই মোটা মাথায় ভালো করে ঢুকিয়ে নে।
ইনায়া অবাক চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে। ইনায়া র মনে একটা কথায় আসছে। তুমি কেন আগে বললে না মেঘ ভাইয়া। তাহলে আমার জীবন টা অন্য রকম হতো। মনের কথা মনেই রেখে দিল ইনায়া। সেটা আর মুখে আনল না। মেঘ ইনায়ার হাত ছেড়ে দুরে সরে দাঁড়াল। ইনায়া স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ ঘনঘন নিশ্বাস নেয়। খুব রাগ হচ্ছে, ইনায়ার উপর না। নিজের উপর। সময় থাকতে বলে দিলে তাকে আজ এই দিন দেখতে হতো না।।
কিছুক্ষণের জন্য দুজনেই চুপ! ইনায়া মেঘ কে দেখছে। সে কোনো বাচ্চা মেয়ে নয় যে মেঘের ভালোবাসা বুঝবে না। সে সবটায় বোঝে। কিন্তু বুঝেও অবুঝের মতো থাকতে হয়।
★★★
রাতে খাবার টেবিলে সবাই খেতে বসেছে। সবাই চুপচাপ খাচ্ছে। যেন একটু আগে কোনো ঝড় বয়ে গেছে কিন্তু সেরকম কিছু না। কিন্তু মেঘ খেতে খেতে যা বলল তা শুনে খাবার টেবিলের সবাই মেঘের দিকে তাকায়।
চলবে ~