পাষাণী তুই পর্ব-১৭

0
1

#পাষাণী_তুই
#পর্ব_১৭ ( ধামাকা)
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

“- বাবা আমি ইনায়া কে বিয়ে করবো? তোমরা বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থা করো?

খাবার টেবিলে খাওয়ায় মগ্ন সবাই। তখনই কথাটা বলে মেঘ। মেঘের কথা’য় সবাই বিষম খাওয়া মতো মেঘের দিকে তাকায়। মেঘ খাবার প্লেটের দিকে তাকিয়ে খাচ্ছে।। উপস্থিত সকলেই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে।। মেঘের কথা’য় সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছে ইনায়া। ইনায়া অবাক হয়ে মেঘের দিকে তাকায়। মেঘের কোনো হেলদোল নেই। রাশেদ চৌধুরী অবাক হয়ে বললেন,

“- কি বলছো রাজ?

মেঘ এবার মুখ তুলে তাকালো।।একে একে সবার দিকে তাকালো। সবার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে। সবাই খুব অবাক হয়েছে। অবাক হওয়ার ই কথা। যেখানে ইনায়া নিজেই রাজি নয় সেখানে বিয়ে করার বিষয় টা তো অন্য রকম।। মেঘ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

“- যা বলেছি ঠিক বলেছি। ইনায়া বিয়ে তে রাজি। তোমরা বিয়ের ব্যবস্থা করো।

ইনায়া বারবার চমকে উঠছে মেঘের কথা শুনে। মুখে যে খাবার দিছিলো সেগুলো কোনো রকমে গিলে খেলো। উপস্থিত সবাই এবার ইনায়া র দিকে তাকিয়ে আছে। ইনায়া পানির গ্লাস হাতে নিয়ে পানি খেলো। তারপর সবার দিকে তাকিয়ে কোঠর কন্ঠে বলল,

“- মেঘ ভাইয়া যা বলছে সব মিথ্যা। আমি এ বিয়ে করতে চাই না।

ইনায়ার কথা’য় মেঘ বলল,

“- তুই এখন এ কথা বলছিস কেন? একটু আগেই না বললি তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস?

“- হোয়াট…? আমি কখন বললাম? তুমি নিশ্চয়ই জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছো?

মেঘ মনে মনে বাকা হেসে বলল, তোকে আজ রাজি করিয়েই উঠব! তার আগে নয় ডিয়ার প্রেয়সী!

মেঘ সিরিয়াস হয়ে বলল,

“- দ্যাখ ইনায়া, বাসার সবাই রাজি তাহলে তোর রাজি হতে সমস্যা কোথায়?

ইনায়া অবাক হয়ে বলল,

“- বাসার সবাই রাজি মানে….? তোমাদের সবার মাথা খারাপ হয়ে গেছে?

ইনায়া রাগে ফুলছে! কেন তার কথা টা কেউ বুঝতে চাইছে না! কেন তার কথা র কোনো দাম নেই! ফিরোজা চৌধুরী টেবিল ছেড়ে উঠে আসেন। ইনায়ার পাশে দাঁড়িয়ে। ইনায়ার কাঁধে হাত রেখে বলল,

“- আমার ছেলে কে বিয়ে করে নে ইনায়া মা?

ইনায়া আশ্চর্য হয়ে গেছে ফিরোজা চৌধুরীর কথা’য়। ইনায়া অবাক হয়ে বলল,

“- বড়ো মা তুমিও বলছো? তোমার তো রাজি হওয়ার কথা নয়। তাহলে তুমি এই কথা বলছো কেন?

ফিরোজা চৌধুরী কিছুক্ষণ চুপ করেন। রাশেদ চৌধুরীর দিকে তাকান। তিনি সহধর্মিণীর দিকে তাকিয়ে আছেন। শুধু তিনি নন সবাই অবাক হয়েছে। ফিরোজা চৌধুরী হালকা হেঁসে বললেন,

“-শোন মা! আমি জানি তুই খুব অবাক হচ্ছিস! তুই হয়তো এটা ভাবছিস আমি কেন তোকে রাজের বউ হিসেবে মেনে নিচ্ছি। তাহলে শোন, আমিও প্রথম সেদিন রাজের মুখে তোর কথা শুনলাম। রাজ তোকে ভালোবাসে। তখন খুব অবাক হয়েছিলাম।সাথে প্রচন্ড রাগ হয়েছিল! তখন থেকে আজ দুইটা দিন আমি অনেক ভেবেছি। কখনো মনে হয়েছে এটা কখনোই সম্ভব নয়! আবার কখনো মনে হয়েছে কেন সম্ভব নয়? শেষ মেষ অনেক ভেবেই আমি একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। রাজ যেহেতু তোকে ভালোবাসে। তাহলে আর না করে কি করবো? বরং মেনে নিলেই সব সমস্যা সলভ হবে। অবশ্য আমি কাউকে আমার সিদ্ধান্তের কথা বলিনি। এমনকি তোর বড়ো আব্বু কেউ না। আমার বিশ্বাস চৌধুরী পরিবারের কারোর অসম্মতি থাকতে পারে না। বাড়ির মেয়ে বাড়িতেই থাকবে। তোর অন্ধকার জীবন শেষ হয়ে একটা সুন্দর আলোকিত জীবন হবে। মর্ম একটা বাবা পাবে। এটাই তো অনেক। তুই কি সত্যি রাজ কে বিয়ে করতে চাস না ইনায়া।

ইনায়া স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাসলিমা চৌধুরী বড়ো জা’য়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি কখনোই ভাবেন নি তিনি এত সহজেই সবটা মেনে নেবেন।

রফিক চৌধুরী বড়ো ভাই কে জিজ্ঞেস করেন,

“- ভাইজান, ভাবি এসব কি বলছে?

তিনি একটা নিশ্বাস নিয়ে বললেন,

“- আমাকে এ ব্যাপারে সে কিছু বলেনি। আর রাজ যদি ইনায়া কে বিয়ে করে সুখে থাকে। তাহলে আমার কোনো দ্বিমত নেই রফিক। আর তোদের ডিসিশন টাও জানি য়ে দে তাহলে সবার জন্য ভালো হবে।

“- ভাইজান আমার এতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু?

“- কিন্তু কি?

“- ইনায়া তো রাজি হতে চাই না। তাহলে….

“- ওটা তুই রাজের উপর ছেড়ে দে। ও নিজেই রাজি করিয়ে ফেলবে।

“- জ্বি।

মেঘ খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। কাউকে কিছু না বলে সোজা ইনায়ার হাত ধরে হাঁটা ধরে। সহসা এমন হওয়ায় ইনায়া হা হয়ে যায়। তার সাথে এগুলো হচ্ছে টা কি? ইনায়া চেচিয়ে বলল,

“- কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? ছাড়ো আমাকে?

মেঘ কিছু না বলে ছাদে নিয়ে আসে ইনায়া কে?
ইনায়া বলল,

“- তোমার মধ্যে লজ্জা বলতে কিছু নেই? ওভাবে বড়ো দের সামনে থেকে টেনে আনলে কেন?

“- আমি যদি মুখ ফসকে সবার সামনে বেফাঁস কথা বলে ফেলি তখন এর থেকেও বেশি লজ্জা পাইতি তুই। এজন্যই তো সবার সামনে থেকে সুন্দর করে টেনে আনলাম।

“- তুমি কিন্তু লিমিট ক্রস করে ফেলছো? নিজের সিমার মধ্যে থাকো। এভাবে হুটহাট আমাকে টাচ করবে না।

“- আচ্ছা! আমি কি করেছি শুনি? এখনো পর্যন্ত তো কিছু ই করিনি। শোন এত কথা বলার সময় নেই আমার। যার জন্য তোকে এখানে এনেছি। সেটাই বলি।

ইনায়া রুক্ষ কন্ঠে বলল,

“- তোমার এত এত ড্রামা আমার জাস্ট অসহ্য লাগছে মেঘ ভাইয়া। প্লিজ বন্ধ করো এসব। আমি আর নিতে পারছি না।

“- আমি তোকে ভালোবাসি ইনায়া!

ইনায়া মুখে হাত দিয়ে বলল,

“- আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিবে?

“- বল।

“- তুমি আমাকে ভালোবাসো কেন?

মেঘ ইনায়ার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বলল,

“- কেন বাসি সেটা জানি না। যবে থেকে বুঝতে শিখেছি ভালোবাসার মানে কি? তবে থেকেই তোকে ভালোবাসি ইনায়া। নিজের থেকেও বেশি। তোকে ভালোবাসতে কোনো কারণ লাগে না আমার। নিজের অজান্তেই হয়ে যায়। আমি ভেবেছিলাম বিদেশ থেকে এসে তোকে জানি দেবো। আর বাসার সবাইকে। তারপর দু’জন বিয়ে করে সুখে শান্তিতে সংসার করব। কিন্তু হুট করে তুই বিয়ে করে ফেললি আর আমি নিজের মনের কথা টাও বলতে পারলাম না। ওই সময় বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারি নি। কোথা গিয়ে যেন একটা বাঁধা আসছিল। তোকে অনেক বার মানা করা সত্ত্বেও তুই বিয়ে করে নিলি। তারপর আমি পুরো দিশেহারা হয়ে পরি। তোকে ছাড়া থাকতে হবে ভেবেই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসত। কোনো দিন ভাবিনি তোকে পাওয়ার চান্স পাবো। যখন শুনলাম ইমরান তোকে ঠকিয়েছে। তখন খুব খুশি হয়েছিলাম। এই ভেবে যে এবার অন্তত তোকে পাবো। বিশ্বাস কর আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলা। যে ক্যরিয়ারের জন্য বিদেশ গিয়েছিলাম সেটাই মন দিতে পারতাম না। সবসময় তোর মুখ ভেসে উঠতো। তারপর মা যখন জানালো তোদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। তখন আবার নিজের ক্যারিয়ারে ফোকাস করলাম। নিজেকে পারফেক্টলি তৈরি করে দেশে পাড়ি জমালাম।

মেঘ একটু দম নিয়ে বলল,

তারপর ছোটো আব্বুর পিছনে লাগলাম। তোকে নানা ভাবে ব্ল্যাকমেইল করে দেশে আনলাম। কিন্তু তুই তো ইনায়া একবার জেদ ধরে বসে আছিস। কোনো মতে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিস না। কিন্তু কেন ইনায়া? আমাকে কি একটু ভালোবাসা যায় না? একটু ভালোবাসলে কি খুব অপরাধ হয়ে যাবে?

ইনায়া মনোযোগ দিয়ে শুনল মেঘের কথা। ইনায়া নিজেই দ্বিধায় আছে। কি সিদ্ধান্ত নেবে বুঝতে পারছে না। মেঘের আকুতি ভরা কন্ঠ, মেঘের চোখে নিজের জন্য যে ভালোবাসা। সেটা ইনায়া কারোর চোখে দেখেনি কিন্তু। ওই যে কিন্তু টা থেকেই যাচ্ছে। যার জন্য এতকিছু হচ্ছে। ইনায়ার ভাবনার মাঝেই মেঘ বলল,

“- কি রে তোর উত্তর তুই পাসনি। তাহলে এবার আমার উত্তর দে। বিয়ে করবি আমায়। যদি না করিস তাহলে আজকের পর কখনো তোর সামনে আসবো না। আর যদি…

ইনায়া অনেক ভেবে চিন্তে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়।

চলবে~