পাষাণী তুই পর্ব-১৯

0
1

#পাষাণী_তুই
#পর্ব_১৯ ( বিয়ে স্পেশাল )
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

ড্রয়িংরুমে একজন বয়স্ক লোক বসে আছেন। তার সাথে কথা বলছেন রাশেদ চৌধুরী আর রফিক চৌধুরী।। মেঘ ইনায়া কে নিয়ে নিচে নেমে আসে। তাদের পিছন পিছন সানায়া আসছে। কাজী সাহেব অপেক্ষা করছেন বিয়ে পড়ানোর জন্য। মর্ম মেঘের কোলে। দু’জন কে দেখে সকলে মুচকি হাসেন। মেঘ সোফায় বসল। ইনায়া দাঁড়িয়ে ছিল। সানায়া ইনায়া কে সোফায় বসিয়ে দেয়।।

রাত নয়টা র বেশি বাজে। কাজী সাহেব তাড়া দিচ্ছেন।। রাশেদ চৌধুরী কাজী সাহেব কে বিয়ে পড়াতে বলেন৷। ইনায়া র বুক ধক করে ওঠে। ইনায়ার হাত পা কাঁপছে। মনের মধ্যে কেমন অজানা ভয় কাজ করছে। তার জীবনে কম কিছু তো আর হয়নি। অনেক কিছু ফেইস করতে হয়েছে। এরকম একটা দিনে মনের মধ্যে ভয় কাজ করবেই। একবার যদি মনের মধ্যে কোনো ভয় ঢুকে যায় তাহলে সেটা সরানো খুব একটা সহজ নয়।

ইনায়া র ভাবনার মাঝেই মেঘ তার হাত শক্ত করে চেপে ধরে। ইনায়া মেঘের দিকে তাকালো। মেঘ ইশারায় আস্থা রাখতে বলে। ইনায়া মৃদু হাসে।।মর্ম’র দিকে তাকিয়ে দেখে মেঘের কোলে ঘাপটি মেরে বসে বসে হাসছে। মেয়ের মুখের হাসি দেখে ইনায়া র ভালো লাগে। তার এই ছোট্ট জীবনে তার মেয়ে টুকুই তো আছে।

কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করেন। প্রথমে মেঘের বিয়ে পড়ান তারপর ইনায়ার। মেঘ ফটাফট কবুল বলে দেয়। এতটাই দ্রুত বলে ফেলছে যে বয়োজ্যেষ্ঠ রা হেঁসে ফেলেন। কাজী সাহেব ইনায়া কে কবুল বলতে বলেন। ইনায়া চুপ করে আছে। চোখের কার্নিশে জল জমে গেছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগে ঠিক এখানেই তার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। বাবার কথায় ইনায়া তার দিকে তাকান।রফিক চৌধুরী বলেন,

“- মা রে কবুল বল। সবাই অপেক্ষা করছে তো। তুই নিশ্চয় আগের কথা ভাবছিস। ওগুলো সব মাথা থেকে ঝেড়ে ফ্যাল৷ নতুন করে স্বপ্ন দ্যাখ মা। এবার সব ভালো হবে। আর কিচ্ছু খারাপ হবে না।

বারা’র কথায় চোখ বন্ধ করে নেয় ইনায়া। চোখের কার্নিশ বেয়ে জল গড়িয়ে পরে। ইনায়া চোখ খুলে একে একে সকলের মুখের দিকে তাকায়। সবাই তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সর্বশেষ ইনায়া মেঘের দিকে তাকালো। মেঘ তার দিকে ই তাকিয়ে আছে। মেঘের দৃষ্টি শান্ত। প্রেয়সীকে নিজের করে পাওয়ার এক আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে বিয়িতে বসেছে। মেঘ আজ কিছু বলবে না। শুধু দেখবে। এতো বছর একটু একটু করে একতরফা ভালোবেসে এসেছে। এত দুর যখন এসেছে তখন নিশ্চয়ই তাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।।

তাসলিমা চৌধুরী ইনায়ার হাত ধরে বলেন,

“- মা রে আর দেড়ি করিস না। এবার কবুল বলে দে।।

ইনায়া চোখ বন্ধ করে তিনবার কবুল বলে দেয়। সবাই একসাথে আলহামদুলিল্লাহ বলেন। মেঘের ঠোঁটের কোণে হাসি। তার এতদিনের ভালোবাসা বৃথা যায়নি। তার ভালোবাসা আজ পূর্ণতা পেলো। মেঘের মন জুড়ে প্রশান্তি ছেয়ে যায়।

অতঃপর রাতের ডিনার শেষ করে সবাই। কাজী সাহেব রাতের খাবার খেয়ে চৌধুরী বাড়ি থেকে বের হন।

★★★

দেখতে দেখতে রাত গভীর হয়। মর্ম অনেক আগে ঘুমিয়ে গেছে। বাড়ির সকলে শুয়ে পরেছে। ইনায়া নিজের রুমেই ছিল। এখন সে মেঘের রুমে এসেছে। মেঘের রুমে পা বাড়ায়। ইনায়ার শরীর কেঁপে ওঠে। এতদিন যাকে ভাইয়া বলে এসেছে আজ থেকে সে তার স্বামী। মেঘ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ইনায়া র জন্য অপেক্ষা করছে। মর্ম তার রুমেই ঘুমিয়েছে। ইনায়া বিছানায় গিয়ে মর্ম কে জড়িয়ে ধরে অসংখ্য চুমু খায়। চোখ বন্ধ করে মেয়ের মুখের সাথে মুখ লাগিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর বিছানা থেকে উঠে বেলকনিতে যায়।

মেঘ বেলকনির রেলিং ধরে বাইরে তাকিয়ে আছে। ইনায়া ধীর পায়ে মেঘের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। নিজের পাশে কারোর অস্তিত্ব বুঝতে পেরে ঘুরে তাকায় মেঘ। মেঘের মতো ইনায়া ও রেলিং ধরে দাঁড়ায়।।

দু’জনেই চুপ। ইনায়ার অস্বস্তি হচ্ছে। হওয়ারই কথা। স্বাভাবিক হতে একটু সময় তো লাগবেই। মেঘ একটু গলা ঝেড়ে বলল,

“- ইনায়া!

ইনায়া ঘাড় বাকিয়ে তাকাল। মেঘ ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ইনায়া আবার সামনে তাকিয়ে বলল,

“- বলো।

মেঘ কিছুটা ইতস্তত বোধ করে বলল,

“- আমি জানি তোর মানিয়ে নিতে সময় লাগবে। যত সময় লাগবে নে। আমার কোনো প্রবলেম নেই। আমার শুধু একটাই চাওয়া। কোনো আমার হাত ছাড়িস না। যদি ছাড়িস তাহলে আমি মরে যাবো।

মেঘের কথা’য় চমকে ওঠে ইনায়া। মেঘ আবার বলল,

” বিয়ে শুধু দুটি হৃদয়ের মিল নয়, এটা দুই আত্মার পবিত্র বন্ধন- আল্লাহর নামে স্থাপিত।

ইনায়া মৃদু হাসে। মেঘ ফের বলল,

“- কিছু বলছিস না যে।

“- আসলে মেঘ ভাইয়া আমি কি বলব বুঝতে পারছি না। আমার কেমন একটা লাগছে।

মেঘ মেকি রাগ দেখিয়ে বলল,

“- শোন, আজ থেকে ভাইয়া বলে ডাকবি না। তোর এই ভাইয়া ডাক শুনলে আমার খুব রাগ হয়।

ইনায়া হেসে বলে,

“- তুমি তো আমার ভাইয়া ই হও।

“- দ্যাখ রাগাস না। তুই ভুলে যাস না। আজ থেকে আমি তোর স্বামী।

ইনায়া শীতল চাহুনি তে মেঘের দিকে তাকায়। সহসা মেঘ বলল,

“- তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরবো?

ইনায়া চমকালো। কিছু বললো না। মেঘ ইনায়া কে জড়িয়ে ধরে। ইনায়া কেঁপে ওঠে। মেঘ ইনায়া কে অনেক্ক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখে। এতটাই শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে যেন ছেড়ে দিলেই পালিয়ে যাবে।

কতক্ষণ হলো জানে না তারা। ইনায়া ও কিছু বলেনি। মেঘ ইনায়া কে ছেড়ে দুরে সরে দাঁড়ায়। তারপর বলল,

“- অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়।

ইনায়া সুধালো,

“- তুমি ঘুমাবে না।

“- একটুপর। তুই গিয়ে শুয়ে পর।

“- আমিও থাকি। আমার ঘুম আসছে না।

“- আচ্ছা থাক।

দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। এভাবে অনেক্ক্ষণ কেটে যায়। তারপর দু’জনে ঘুমানোর জন্য বেলকনি থেকে রুমে আসে। মর্ম কে মাঝে দিয়ে দু’জন দু পাশে শুয়ে পরে।

চলবে~