#পাষাণী_তুই
#পর্ব_২৪
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
চৌধুরী বাড়িতে উৎসব মুখর পরিবেশ। সকাল থেকে পুরো দমে কাজ করে যাচ্ছে বাড়ির মহিলা সদস্য গুলো। এখন দুপুর বারো টা বাজে। মেঘ হসপিটাল থেকে বাসায় এসেছে একটু আগে। রুমে এসে ইনায়া কে ডাক দেয়।
“- পাষাণী কই তুই। এদিকে আয় জলদি।
ইনায়া সানায়া রাফি রিসা’র সাথে গল্প করছিলো। মেঘের ডাক শুনে ওদের দিকে তাকায়। তিনজনে ওর দিকে চোখ বড় বড় তাকিয়ে আছে। ইনায়া ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“- কি রে এমন তাকায় আছোস ক্যা?
রাফি একটু টেনে বলল,
“- আপুওও ব্রোও তোমাকে পাষাণী বলে ডাকছে কোন?
ইনায়া অবুঝ হয়ে বলল,
“- আমি কি জানি।
সানায়া হেসে বলল,
“- আমি জানি।
“- কি জানো আমাকে একটু বলো সানা আপু। ইনায়া সানায়া’র দিকে চোখ গরম করে তাকালো। সানায়া হা হা হা করে হেসে বলল,
“- মেঘ ভাইয়ার পাষাণী সে! ভাইয়ার ভালোবাসা না বুঝে এত দিন যে ঢং ডা করল আপাই। সেজন্য ভাইয়া ভালোবেসে তার নাম দিছে পাষাণী! বুঝছোস মনু।
রিসা হাতে তালি দিয়ে বলল,
“- বাহ্! খুব ইন্টারেস্টিং নাম তো! আমার তো খুব পছন্দ হয়েছে। তোমার কেমন লেগেছে আপাই!
ইনায়া চোখ রাঙিয়ে তাকায় রিসার দিকে। রিসা ভয়ে আর কিছু বলল না। ইনায়া রুম থেকে বের হবে এমন সময় সানায়া’র কথায় থেমে যায়।
“- আপাই বাসায় আজ কারা আসছে?
ইনায়া পিছনে ফিরে বলল,
“- নতুন মেহমান আসবে।
“- তাহলে এখানে আমার কাজ কি? খামাকা আমি কেন ভার্সিটি কামাই করলাম। ধুর ভাল্লাগে না।
ইনায়া মুচকি হেঁসে বলল,
“- নতুন মেহমান আসবে। বাসার সবাই যদি না থাকে তাহলে বিষয় টা কেমন দৃষ্টি কটূ লাগবে না। সেজন্য তোকে ভার্সিটি যেতে দেয়নি।
ইনায়ার কথার মাঝে ই মেঘ আবার ডেকে ওঠে,
“-#পাষাণী_তুই কই! ডাকছি কথা কানে যাচ্ছে না। দ্রুত রুমে আয়।। মেঘের ডাক শুনে ইনায়ার লজ্জা লাগে। লাগবে নাই বা কেন? এখানে তার ভাই বোন গুলো এটা নিয়ে মজা করছে। ইনায়া হনহন পায়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।।ইনায়া যেতেই উচ্চ স্বরে হেসে ওঠে তিন ভাই বোনে।
***
ইনায়া রুমে এসে মেঘের সামনে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রাগি কন্ঠে বলল,
“- তুমি এত লজ্জাহীন হয়েছে কেন বলবে?
ইনায়ার কথায় অবাক হয়ে তাকাল মেঘ। তারপর বলল,
“- আমি লজ্জাহীনের কি কাজ করলাম।
“- পাষাণী বলে চিল্লাচ্ছো কেন? আর আমাকেই বা পাষাণী বলে ডাকো কেন বলবা?
মেঘ ইনায়ার কোমড় ধরে এক টানে নিজের কাছে টেনে নেয়।।ইনায়া কেঁপে উঠল! মেঘ ইনায়ার কপালে পড়ে থাকা কিছু চুল কানের পিছনে গুঁজে দেয়। ইনায়া আবার ও কেঁপে উঠল! মেঘ ইনায়ার ঘাড়ের মুখ গুঁজে দেয়। তারপর ফিসফিস করে বলে,
“- ভালোবাসার মানুষ যখন ভালোবাসা বুঝতে চাই না। বুঝেও না বুঝার অভিনয় করে। তখন তো তাকে পাষাণী’ই বলতে হয় তাই না। তুমি তো আমার ভালোবাসার মানুষ। আমি তোমার পাষাণী হৃদয় থেকে এক টুকরো ভালোবাসা পাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছি! দেবে কি এক টুকরো ভালোবাসা!
মেঘের কথা গুলো বুকে গিয়ে বিঁধে ইনায়ার! ইনায়া একটু একটু করে মেঘ কে ভালোবাসার চেষ্টা করছে। আর এই চেষ্টায় একদিন তার সফল হবে। মেঘের মতো করে ভালোবাসতে পারবে কি না ইনায়া জানে না। তবে নিজের মতো করে তো ভালোবাসতে পারবে। ইনায়া সহসা একটা কাজ করে ফেলল। মেঘের ঠোঁটের নিজের ঠোঁট লাগিয়ে দিলো। আচমকা এমন হওয়ায় চমকে গেল মেঘ। তবে মনের মধ্যে তার ভালো লাগা কাজ করে। ইনায়া র সাড়া পেয়ে নিজেও ইনায়ার ঠোঁট জোড়া দখল করে নেয়।
ইনায়ার হুশ হতে ছিটকে দুরে সরে দাঁড়ায়। দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। ইনায়া র দৌড়ে চলে যাওয়া দেখে মাথা চুলকে ঠোঁটে হাত দিয়ে হেসে ওঠে মেঘ।
‘
‘
‘
‘
‘
‘
‘
‘
‘
চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িংরুমে কয়েকজন অচেনা মানুষের মুখ। নতুন মেহমান। তাদের সাথে বসে গল্প করছেন বাসার পুরুষেরা। ফিরোজা চৌধুরী আর তাসলিমা চৌধুরী ট্রে তে করে নাস্তা নিয়ে এসে টেবিলের উপর রাখেন।
সোফার এক কোনায় চুপটি করে বসে আছে ইফাদ। একেবারে ভদ্র ছেলে। তাকে দেখলে কেউ বলবে না এই ছেলের মাথায় ঠিক কতটা দুষ্টু বুদ্ধি। ইফাদের পাশে বসে আছে তার ছোট ভাই রিশাদ। রিশাদ ভাই কে বারং বার খোঁচা দিয়ে যাচ্ছে। আর ইফাদ চোখ রাঙিয়ে গরম দিচ্ছে। কিন্তু তাতে তার কিচ্ছু যায় আসে না।
নাস্তা খেতে খেতে ইফাদের বাবা শরিফ আহমেদ বললেন,
“- তাহলে ভাইসাব সানায়া মামণি কে নিয়ে আসেন।দেখি আমার ছেলের পছন্দ কেমন!
বাবার কথায় লজ্জা পেল ইফাদ। মেঘ ইফাদের পাশে গিয়ে বসল। হেঁসে আস্তে করে বলল,
“- কি ভাই লজ্জা পাচ্ছো নাকি?
ইফাদ যেন এবার আরো বেশি লজ্জা পেলো। লজ্জায় আস্তে করে বলে,
“- কি যে বলেন না ভাইয়া। আমি কেন লজ্জা পাবো।
“- জানি তো…..
সানায়া কে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয় ইনায়া। সানায়া এতক্ষণে বুঝতে না পারলেও এখন পারছে। কালকে ইফাদের বলা কথা তার কানে বাজছে। রুপবতী কালকে তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে! সানায়া মুচকি মুচকি হাসে৷ সানায়া’র হাসি দেখে ইনায়া বলল,
“- আমার বোন টা মুচকি মুচকি হাসছে। তার মানে সে ফাইসা গেছে!
“- উহু আপাই চুপ করবে তুমি! সেই সকাল থেকে তোমরা আমাকে মিথ্যা কথা বলেছো। আমি যতবার শুনেছি ততবারই ঘুরে ফিরে অন্য কথা বলেছো।
“- সারপ্রাইজ বনু।
“- এমন সারপ্রাইজ আমার লাগবে না।
ইনায়ার ছোটো আম্মু এসে বললেন,
“- কি রে তোদের হলো সানায়া কে নিচে নিয়ে যেতে বলছে।
ইনায়া বলল,
“- হ্যাঁ ছোট আম্মু আমাদের হয়ে গেছে। তুমি ওকে নিচে নিয়ে যাও।
অতঃপর সানায়া কে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। সানায়া’র দুপাশে দুজন। ডানপাশে ইনায়া বা পাশে তার ছোটো আম্মু। ইফাদ তার রুপবতী র দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে। সানায়া কে সোফায় বসানো হয়। সানায়া সবাই কে সালাম দেয়। সবাই সালামের জবাব নেয়।
মেঘরাজ ইফাদ কে খোঁচা দিয়ে বলল,
“- ছোটো ভাই মুখ টা বন্ধ করো। আমার শা*লি প্লাস ছোটো বোন কে আড নজর দিও না। বেচারী এমনিতেই লজ্জায় কাত হয়ে আছে। তারপর ও যদি তুমি এভাবে তাকিয়ে থাকো ও কিন্তু বেশি লজ্জা পাবে।
ইফাদ মুচকি হেঁসে মাথা নিচু করে বলল,
“- ভাই আপনার বোন কিন্তু আমার বউ হতে চলেছে।তাই হবু বউ হিসেবে এতটুকু দেখার অধিকার তো আমার আছে। কি বলেন?
“- ভুল কিছু বলোনি।
ইফাদের বাবা মা সানায়া কে দেখে মাশাল্লাহ বলেন। শরিফ আহমেদ বললেন,
“- মাশাল্লাহ! মাশাল্লাহ! আমার ছেলের পছন্দ আছে বলতে হবে।
বাবা-র কথা শুনে রিশাদ বলল,
“- দেখতে হবে না ভাই টা কার।
রিশাদের কথা শুনে মাথায় গাট্টি মারে ইফাদ। চুপচাপ ভদ্র হয়ে বসে থাকতে বলে।
রাশেদ চৌধুরী বললেন,
“- আপনাদের মেয়ে যেহেতু পছন্দ তাহলে আর দেড়ি করে লাভ কি বেয়াই সাব। আগামী শুক্রবারে শুভ কাজটা সেরে ফেলা যাক। যদি আপনাদের কোনো সমস্যা না থাকে।
শরিফ সাহেব হেসে বললেন,
“- আমাদের অমত নেই। সানায়া মামনি কে আমরা দ্রুত বাসায় নিয়ে যেতে চাই।
তাহলে আমরা বিয়ের আয়োজন শুরু করে দেই। মেয়ের বিয়ে বলে কথা।
চলবে~