#প্রণয়ী
লেখনীতেঃ #ঈশিতা_ইশা
|০৮.|
(লেখা কপি করা নিষেধ)
…………
‘এইগুলা কি?’
‘এইগুলো বাদাম।’
‘সেটা তো আমিও জানি। আমি আপনার করা এইসবের কথা বলছি।’
‘আমি আবার কি করলাম? আমি তো বাদাম খাচ্ছি। তুমি খাবা? হাত পাতো খোসা ছাড়িয়ে দেই।’
‘আশ্চর্য আপনি কি মশকরা করছেন?’
‘দুপুরবেলা এই চান্দিফাটা রোদে মশকরা কেনো করবো? আজকে কি গরম দেখছো? চল্লিশ ডিগ্রির কম হবে না।’
‘ভালোয় ভালোয় বলছি এসব বন্ধ করুন।’
‘ওমা এখন বাদামও খেতে পারবো না? আচ্ছা রাগ করছো কেনো নাও তোমাকেও দিচ্ছি খাও।’
এই সময় প্রিয়তার মেজাজ চরম খারাপ হয়। কটমট চোখে জাইনের দিকে তাকায়। তার চাহনি বলে দিচ্ছে ভীষণ রেগে গেছে সে।
‘তোমার চাহনি বলছে তুমি আমাকে এই মূহুর্তে আস্তা গিলে খেতে চাচ্ছো।’
প্রিয়তা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,’ফাইজলামি করেন?’
‘উঁহু, ফাইজলামি তো শালিকার সাথে করে মানুষ। তুমি কি আমার শালিকা?’
প্রিয়তা আঙুল উঁচিয়ে বলে,’দেখুন এবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হচ্ছে।’
‘আজকে তাপমাত্রা কত ডিগ্রি জানো? তাপমাত্রা যা ই হোক মনে হচ্ছে গরমটা আমার উপর বেশি পড়েছে।’
‘আশরাফ ভাইকে ছাড়তে বলুন। আপনাদের এইসব কাজের জন্য আমার সমস্যা হবে।’
‘ঐ চান্দি ছিলা তোমার ভাই হয়? কেমন ভাই?’
‘সে আমার যা ই লাগুক আপনাকে এতো কৈফিয়ত কেন দিবো? ওনাকে ছাড়ুন আর ফারদার এসব করবেন না।’
জাইন হতাশ গলায় বলে,’মেয়ে মানুষকে আমি বুঝে উঠতে পারি না। তোমার চোখে মুখে বিরক্তি দেখা যায় চান্দি ছিলাকে দেখলে অথচ তুমি এসেছো তার হয়ে সুপারিশ করতে।’
‘এতো বুঝতে হবে না দয়া করে ছাড়ুন।’
‘আমি তোমায় ধরে রেখেছি?’
প্রিয়তার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। জাইন মোটেও রাগছে না। একজন দাউদাউ করে জ্ব লতে থাকা আ গু ন তো অপরজন শীতল জল। প্রকৃতি জেনো জেনে বুঝে এদের দেখা করিয়েছে। এতক্ষণ বাইকে বসে থাকলেও এবার বাইক থেকে নেমে হাত ঝাড়তে শুরু করে জাইন। এই গরমের মধ্যে ও পাঞ্জাবী আর কটি পরে আছে সে। লোকটার কি গরম লাগে না? নাকি সে গরমের থেকেও ফ্যাশনকে বেশি প্রাধান্য দেয়?
‘তুমি গতকালকে কথা দিয়েছিলে ছাদে আসবে অথচ আসনি। কথা দিয়ে কথা না রাখাকে কি বলে জানো?’
প্রশ্নটা করে প্রিয়তার চোখের দিকে তাকায় জাইন। কালো চোখের মনি জোড়া রোদ্দুরে জ্বলজ্বল করছে। জাইনের ইচ্ছে করে ঐ চোখ জোড়ার গভীরে ডুবে যেতে। কিন্তু প্রিয়তার চাহনি বলে দিচ্ছে সে কতটা বিরক্ত। অবশ্য বিরক্ত হলেও জাইন সেগুলো গায়ে মাখে না। প্রেমিক হতে হয় শান্ত সমুদ্রের মতো যে প্রেমিকার সকল ঝড় ঝাপটা এক হাতে সামলে নিতে পারবে। অবশ্য সে এখনো এক তরফা প্রেমিক তবুও প্রেমিক তো!
‘আপনি এসব কেনো করছেন? পছন্দ করেন?’
প্রিয়তার মুখে হুট করে এমন প্রশ্ন শুনে জাইন ঘাবড়ায় তবে বুঝতে দেয় না। মাথা চুলকে মৃদু হাসে। তার দৃষ্টি সরে যায় প্রিয়তার থেকে। ঘাড়বে গেলে সে এলোমেলো হয়ে যায়। সেই সাথে ঠিকমতো কথাও বলতে পারে না। তার কি উত্তর দেওয়া উচিত? হ্যা নাকি না?
বিরক্ত হয়ে প্রিয়তা আবারো শুধায়,’কি হলো উত্তর দিচ্ছেন না কেনো?’
‘প্রশ্ন তো দু’টো করেছো কোনটার উত্তর দিবো?’
‘যেটা ইচ্ছা।’
‘উহু।’
‘উহু মানে?’
‘উত্তর দিলাম তোমার প্রশ্নের।’
প্রিয়তার মন চায় জাইনের পাঞ্জাবীর কলার ধরে তাকে বুড়িগঙ্গায় নিয়ে চুবাতে। সে রেগে যাচ্ছে দেখেও অথচ জাইন উল্টাপাল্টা উত্তর দিয়ে তার রাগ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রিয়তা আর সেখানে দাঁড়ায় না। আর এখানে দাঁড়ানোর কোনো মানে হয় না। যত থাকবে তত কথা প্যাঁচাবে লোকটা। সোজা ভাষায় উত্তর দিতে তার কি সমস্যা? প্রিয়তাকে কেনো সে রাগায়? নিশ্চয়ই সে মজা পায়।
প্রিয়তার যাওয়ার পানে চেয়ে থাকে জাইন।
‘প্রিয় তুমি যদি জানতে তোমার ঐ রাগ মিশ্রিত মুখটা আমার কত পছন্দ তাহলে আমার সামনে কখনোই রাগ করতে না। তোমায় রাগিয়ে আমি একটু একটু করে তোমার দিকে এগুচ্ছি। একটু একটু করে চলতে চলতে তোমার মনে জায়গা করে নিবো।’
প্রিয়তা কোনো দিকে না তাকিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। আশরাফ কয়েকবার প্রিয়তার নাম ধরে ডেকেছে কিন্তু সে তার দিকে তাকায়নি পর্যন্ত।
‘কিরে লাইলী চ্যাতলো ক্যান?’
শাকিলের কথা শুনে মারুফ কুন্ডলী পাকিয়ে তাকায়।
‘নিশ্চয়ই শালা আবার গন্ডগোলা পাকাইছে। এই শালা চায়টা কি?’
আশরাফ ফট করে বলে,’মুক্তি চাই ভাই।’
মারুফ ধমকে বলে,’আপনার সমস্যা কি? দেখেন না এখানে জটিল সমস্যার আলোচনা চলতেছে মাঝখানে বাম হাত ঢুকান ক্যা?’
আশরাফ বলে,’আমি আর খেতে পারবো না। আমাকে ছেড়ে দেন।’
রফিক বলে,’মাত্র তো দুই প্লেট ফুচকা খাইছেন আরো সাত প্লেট ফুচকা বাকি। সবটা না খাইলে আপনাকে যাইতে দেওয়া হবে না।’
আশরাফ অসহায় ভঙ্গিমায় তাকায়। মনে মনে তিরস্কার করে নিজেকে আজকে এখানে আসাতে। তাকে ঝাল ঝাল ফুচকা খেতে দেওয়া হয়েছে। অনেক কষ্টে এতক্ষণে দুই প্লেট খেয়েছে এখন আর পারছে না। পেটের মধ্যে ইতিমধ্যে গুড়গুড় শব্দ শুরু হয়ে গেছে।
‘এদিক ওদিক তাকাইয়া লাভ নাই। দেশ প্লেট ফুচকা খাওয়া শ্যাষ কইরা তারপর যাবেন। না হলে আজকেও বাথরুমে আপনার তল্লাশি হবে।’
মারুফের কথা শুনে আশরাফ আবারো খেতে শুরু করে। ফুচকা খেতে খেতে বেচারার নাকের পানি চোখের পানি এক হয়ে গেছে। ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি অবস্থা। আজকে বাসায় গেলে তার পেটের হালুয়া টাইট হবে সে নিশ্চিত। হতে পারে সারারাত বাথরুমেই কাটাতে হবে।
মারুফ গেয়ে ওঠে,
‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে।’
…….
সন্ধ্যা বেলা প্রিয়তা ছাদে এসে অপেক্ষা করছে কিন্তু আজ আর জাইনের দেখা নেই। চিন্তা করেছিলো জাইনকে এক গাদা কথা শোনাবে। সেভাবে প্রস্তুতি ও নিয়ে এসেছিলো। দুপুরবেলা রাস্তায় সেভাবে কথার জবাব দিতে পারেনি। ভেবেছিলো এখন দিবে কিন্তু জাইন লাপাত্তা। অনেকক্ষণ ছাদে অপেক্ষা করার পরও জাইনের দেখা মেলে না। এতে প্রিয়তার মেজাজ আরো খারাপ হয়।
রাতের বেলায় আজ একটু জলদি বাসায় ফেরে জাইন। বাসায় ফিরে দেখে এলাহি কান্ড। টেবিলে রান্নাবান্না করে অনেক খাবার-দাবার রাখা হয়েছে। সে বুঝতে পারে তার বড় ভাই আজকে আসবে কিংবা ইতিমধ্যে এসে গেছে। তার ভাই যখনই খুলনা থেকে ফেরে তখনই এতো আয়োজন করা হয়।
‘তুই আজকে জলদি ফিরেছিস! যাক ভালোই হলো। জলদি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয় তোর ভাই চলে এসেছে।’
মিসেস পারুলের কথার জবাব না দিয়ে জাইন নিজের কক্ষের দিকে যায়।
রমিজউদ্দিন তার বড় ছেলে জারিফকে নিয়ে খাবারের টেবিলে বসেছেন। নিহারিকা আর নুহাশও বসেছে তবে দুইজন টেবিলের দুই মাথায় বসেছে। এরা দু’জন জমজ হলেও একে অপরকে দু চোখে দেখতে পারে না। দু’জন দু’জনের বিরাট শত্রু।মিসেস পারুল দুটোকে বিচ্ছু ছানা বলে ডাকে। সারাদিন একে অপরের পিছনে এরা লেগে থাকে। দু’জনই সব মাত্র ক্লাস এইটে পড়ে তবে ভিন্ন স্কুলে। পুরে বাড়ি এরা দু’জন মাতিয়ে রাখে। মিসেস পারুল সকলকে ভাত বেড়ে দিচ্ছিলেন।
‘বুঝলা জারিফ বিয়ে একটা লস প্রজেক্ট তাই তোমার কাছে আমার অনুরোধ বিয়ে করলে দেরিতে করবা।’
রমিজউদ্দিনের কথা শুনে মিসেস পারুল সরু চোখে তার দিকে তাকায়।
রমিজউদ্দিন সেদিকে না তাকিয়ে বলে,’যে পুরুষ বিয়ে করে তার হায়াত একাংশ কমে যায়। মহিলা মানুষের প্যারা দুনিয়ার বড় প্যারা। স্বজ্ঞানে কেউ প্যারা নিজের ঘাড়ে নেয় না।’
নুহাশ বলে ওঠে,’তাহলে বাবা তুমি কেনো বিয়ে করছিলা?’
‘যখন আমি বিয়ে করেছি আমার আবেগ কাজ করছে বিবেক কাজ করে নায়। টাল মাতাল হয়ে কবুল বলেছিলাম। আমি আজও নিজের বিয়ের ভিডিও দেখে বলি “কবুল বলিস না ভাই তোর হাতে পায়ে ধরি”।’
রমিজউদ্দিনের কথা শুনে এই পর্যায়ে মিসেস পারুল তার প্লেটে ভাত না দিয়েই ভাতের বাটি সরিয়ে ফেলে।
জারিফ হাসতে হাসতে বলে,’আপনাকে দেখলেই বুঝা যায় দাদা জোর জবরদস্তি করে বিয়ে দিয়েছে।’
রমিজউদ্দিন বলে,’এই তো বাপ তুমি বুঝলা। টাইমমেশিন থাকলে আমি গিয়ে আমাকে মানে আমি যখন কচি ছিলাম বিয়ের জন্য লাফাচ্ছিলাম সেই আমিকে কষিয়ে দুইটা চ ড় দিতাম তাহলে এই বিয়ের ভুত লুঙ্গি তুলে পালাতো।’
নুহাশ বলে,’আর আমি গিয়ে দেখে আসতাম জয়া আহাসানের বয়স কত। ওনাকে জন্মের পর থেকেই দেখতেছি বিশ বছরের যুবতী।’
নুহাশের কথা শুনে সকলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে দেয়।
রমিজউদ্দিন বলে,’জয়া আমার ক্রাশ। তোর মা এসে আমার ঘাড় না মটকালে জয়াকেই বিয়ে করতাম।’
মিসেস পারুল এবার শব্দ করে তরকারির বাটি টেবিলে রাখে।
নীহারিকা জিজ্ঞেস করে,’মা কি হয়েছে?’
এবার মিসেস পারুল বিস্ফোরিত হয়।
‘কি আর হবে? এই সংসারে খেটে খেটে বুড়ি হয়ে গেলাম না কেউ সম্মান করে না কেউ খবর নেয়। তোরা সব গুলা নে°ম°ক°হা°রা°মে°র গুষ্টি।’
‘খবরদার পারুল আমার গুষ্টি নিয়ে কিছু বলবা না। আমরা খানদানী বংশ।’
‘খানদানী না ছাই। আমি জমিদারের নাতনী ছিলাম। আপনার বাবা আমার বাবার হাতে পায়ে ধরে আপনার মতো লাফাঙ্গার সাথে আমার বিয়ে দিছে। নইলে আমি জীবনেও আপনার মতো লাফাঙ্গাকে বিয়ে করতাম না।’
‘কোন আমলের জমিদার ছিলো এখন এসবের চিহ্ন আছে নাকি? নদীর পানিতে চর ভেঙে জমিদারি নাই হয়ে গেছে।’
এ পর্যায়ে মিসেস পারুল কান্না শুরু করে,’আব্বা আপনি দেখে যান কার সাথে বিয়ে দিছেন। এ দেখি পুরাই বে°ঈ°মান।’
‘কান্না থামাও না হলে প্রয়াত শ্বশুড় আব্বা সত্যি সত্যি তোমার কান্না শুনে উপর থেকে নেমে এসে আমার খবরদারি করবেন।’
‘বাবা যদি জানতো এমন জামাই আমার কপালে জুটবে তাহলে সরকারি চাকুরীজীবি, ডাক্তার, কবিরাজের মতো সমন্ধ ফিরিয়ে এমন ফক্কিনি ঘরে দিতেন না।’
‘ঠিক আছে পাত্র পেলে এখন যেতে পারো আমার সমস্যা নাই পোলাপানেরও সমস্যা নাই। কিরে তোদের সমস্যা আছে?’
রমিজউদ্দিনের প্রশ্ন শুনে নুহাশ মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়।
মিসেস পারুল মুখে আঁচল চেপে ন্যাকা কান্না শুরু করে।
‘আম্মা কান্দে কেন?’
জাইনের প্রশ্ন শুনে মিসেস পারুল এগিয়ে গিয়ে তার গায়ের সাথে হেলান দিয়ে ছোট বাচ্চার মতো মুখ চেপে কাঁদতে থাকে।
জাইন বুঝতে পারে না এখানে ঘটেছে কি। সবেই সে গোসল সেরে খেতে এসেছে। নিহারিকার দিকে তাকাতেই সে রমিজউদ্দিনের দিকে ইশারা করে। জাইন বুঝতে পারে তার বাবা আবারো তার মা’কে ক্ষেপিয়েছে।
জাইন বলে,’খেতে দাও আম্মা খিদে পেয়েছে। খাওয়া শেষে আমরা বিচার বসাবনি।’
জারিফ ও সায় দিয়ে বলে,’হ্যা মা আমিও জাইনের সাথে একমত।’
রমিজউদ্দিন গম্ভীর গলায় বলেন,’কিরে দু’জনই এখন মায়ের দলে চলে গেলি? বাপে এতো কষ্ট করে তোদের দুনিয়াতে আনলাম তার কোনো দাম নেই?’
জারিফ বলে,’আমরা ভোট হলেও মা মার্কায় সিল দিবে।’
নুহাশও সহমত পোষণ করে।
‘হ ভাই ঠিক।’
নিহারিকা ভেংচি দিয়ে বলে,’তুই হলি পল্টিবাজ।এই মাত্র বাবার পক্ষে কথা বলছিলি এখনই দল পাল্টে ফেললি?’
নুহাশ বুক ফুলিয়ে বলে,’যত যা-ই হোক আমি মনে প্রাণে একমাত্র ব্রাজিল সাপোর্টার।’
কথাটা বলে সে তার মুখে হাত দেয়। মাঝে মাঝে এক জায়গায় কথা সে আরেক জায়গায় বলে ফেলে। এসব অদ্ভুত কথার জন্য তার ক্লাসমেটরা তাকে পচায়। কিন্তু সে কি করবে? ইচ্ছে করে তো বলে না মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
জারিফ বলে,’কিরে সেভেনাপ খাবি?’
জারিফের কথা শুনে নুহাশ এমন ভান করে যেনো শুনতেই পায়নি। শুনলেই বিপদ তাকে বড় ভাই ক্ষেপানো শুরু করবে।
রমিজউদ্দিন পেটে হাত দিয়ে বলে,’আজ কি খেতে দিবে নাকি উপোস থাকবো? দুপুরেও খাইনি।’
এতক্ষণে মিসেস পারুল একটু ঠান্ডা হয়। টেবিলের পরিবেশ এবং কথার টপিকই বদলে গেলো। সে সকলকে খেতে দেয়।
রমিজউদ্দিন বিরবির করে বলে,’ছিচ কান্দুনি মহিলা।’
মিসেস পারুল বলে,’বেয়াদব বুড়া।’
সকলে শুনতে পেলেও চুপ করে থাকে। এখন কিছু বললে আরেক দফায় দু’জনের মধ্যে লেগে যাবে। জাইন মাঝে মাঝে বুঝে উঠতে পারেনা তার বাবা-মা একে অপরকে সব সময় খোঁচা দিয়ে কথা বলে অথচ তাদের সংসার একদিন দুই দিনের না। আজকাল পান থেকে চুন খসলেই মানুষ নিজের সঙ্গীকে দোষ দিয়ে তা লা ক দেয়। তা বাবা- মা যেভাবে বাজা বাজি করে তাতে তাদের তো বিয়ের রাতেই তকে অপরকে ছাড়ার কথা। তবে জাইন এটাও খেয়াল করেছে তার মা অসুস্থ হলে তার বাবা অস্থির হয়ে যায় সে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত। সে সুস্থ হলে তখন আবার ঝগড়া করে। আসলে দু’জনের মধ্যে ভালোবাসা হওয়ার চেয়ে ধরে রাখা বেশি কঠিন। ভালোবাসায় ঝগড়া, মান-অভিমান,দুষ্টুমি সব কিছুই থাকবে। তা দুই পক্ষকে সেটা মানিয়েই চলতে হবে।
জাইন চিন্তা করে সে তো অকারণে রাগে না অথচ প্রিয়তার নাকের ডগায় রাগ জমে থাকে সবসময়। আচ্ছা প্রিয়তা রাগ করলে তাকে এতো সুন্দর লাগে কেনো? জাইনের তো তখন অদ্ভুত ইচ্ছে জাগে। প্রিয়তার সেই রাগে লাল হয়ে যাওয়া নাকটা টেনে কামড় বসাতে ইচ্ছে করে। কি অদ্ভুত ইচ্ছে! প্রিয়তা তার এমন অদ্ভুত ইচ্ছে শুনলে নিশ্চয়ই চোখ জোড়া ছোট ছোট করে তাকাবে? মনে মনে সেই দৃশ্য কল্পনা করে নেয় সে।
……….
(চলবে..)