#প্রণয়ের_সুর২
#পর্ব২
#মহুয়া_আমরিন_বিন্দু
রৌফ নামক ব্যক্তির গালে সজোরে এক চ”ড় বসিয়ে দিলো রাহা।রাগে কাঁপছে রীতিমতো মেয়েটা কতো বড় বেয়া’দব হলে এরকম কুৎ’সিত একটা মন্তব্য করতে পারে ছেলেটা?
রাহা জোর গলায় বলে উঠলো–,, অস’ভ্য লোক!
–,,রৌফ বরাবরই অসভ্য মিস!চ”ড়ের বদলে চ”ড় নয় এমন কিছু দিবো যা সারাজীবনের জন্য তোমার জীবনে আঁধার ডেকে আনবে!
–,,এরকম স’স্তা ধম”কি অন্য কোথাও গিয়ে দেন ফাল’তু লোক কোথাকার,দিনটাই খারা”প!
রাহা গটগট পায়ে গেইট থেকে বেরিয়ে গেলো।রৌফ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পকেট থেকে মোবাইল বের করলো ডায়াল করলো সাহিলের নম্বরে।দু বার বাজার পর ফোনটা রিসিভ করলো সাহিল।
রৌফ রাগ মিশ্রিত কন্ঠে বললো–,,এতো সময় লাগে একটা ফোন কল রিসিভ করতে?
–,,তুই তো এমন সময় ফোন করিস না,ক্লাসে থাকিস তাহলে?
–,,একটা মেয়ের ডিটেইল’স চাই আমার!
সাহিল কেঁশে উঠলো, বললো–,,তোর বড় ভাই এখনো অবিবাহিত রৌফ তুই কি করে বিয়ের কথা বলছিস?
–,,কে বললো তোমাকে বিয়ে করবো,মেয়েটা বড্ড জে’দি আর এক রো’খা এর তে’জ একটু কমাতে চাই এইটুকুই!
–,,মানুষ কে এসব বলার আগে নিজের দিকে তাকা, তুই কি হ্যাঁ!
–,,ভাইয়া সাহায্য করার হলে করো,না হয় ওই মেয়ের হয়ে উকালতি করবে না।পুঁচকে একটা বাচ্চা মেয়ে আমার গা’লে চ”ড় মে’রেছে কতো বড় সাহস!
সাহিল চেঁচিয়ে উঠে বললো–,,কিহ্!তোকে চ’ড় মে’রেছে এই অসাধ্য কে সাধন করলো, কে সে সাহসী কন্যা!
সাব্বির সাহিলের পেছন থেকে এসে বললো–,,কি হয়েছে সাহিল ভাই কে কাকে মার’লো?
সাহিল খুশি হয়ে বললো–,,কে মেরে’ছে তা বড় কথা না কাকে মে’রেছে সেটা দেখার বিষয়। বাবা মা আমি যা করতে পারিনি ওই মেয়েটা তা পেরেছে, রৌফ তুই মেয়েটার একটা ছবি দে আমি সব তথ্য বের করছি!
রৌফ বিরক্তি নিয়ে বললো–,,দরকার নেই!
ফোন টা কে’টে দিতেও সময় নিলো না,নিজের ভাই কিনা অন্য মেয়ের পক্ষ নিচ্ছে!
———–
শিলা এগিয়ে আসলো এক পাশে,নেহা সেখানেই দাড়িয়ে শিলার মূল উদ্দেশ্য মেয়েটার সম্পর্কে জানা। আগে তো কখনো দেখেনি কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসলো!
শিলা নেহার কাঁধে হাত রাখতেই নেহা চমকে পিছনে তাকায়।শিলা বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো–,,বেশ চেনা চেনা লাগছে তোমাকে!
নেহা চমৎকার হেসে বললো–,,চেনা চেনা লাগে তবুও অচেনা!
শিলা জিজ্ঞেস করলো–,, তোমার নাম?
নেহা চুপ মে’রে গেলো কিছুটা,নেহা নামে পরিচিত হবে কি?নিখিল নিশ্চয়ই নেহার কথা এই মেয়েটিকে বলেছে,নেহাকে প্রাক্তন স্ত্রী বলে পরিচয় করিয়েছে হয়তো!
প্রাক্তন কথাটা ভেবেই নেহার বুক চি’রে বেরিয়ে আসলো একটা দীর্ঘ শ্বাস।চাপা কষ্ট টা বেরিয়ে আসতে চাইলো পুরো দমে তবুও নিজেকে স্বাভাবিক করে উত্তর দিলো–,,ইরফা!আইরিন আপুর পরিচিত।
শিলা হালকা হেসে বললো–,,ইরফা!কোথায় যেনো দেখেছি আমি তোমাকে।হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে ইতালির রোম শহরে একটা শপিং মলে,ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করতে!
নেহা কিছুটা অবাক হয় তার পর ও শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়!
–,,তোমাকে কিন্তু আমি ফলো করি, তোমার কাজ গুলো অসাধারণ, চলো তোমাকে আমার হবু শ্বশুর বাড়ির সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই!
নেহা মনে মনে হাসলো,মেয়েটা কি বোকা?নিজের হবু স্বামীর পূর্বের স্ত্রী কে এখনো দেখেনি!এটা কি করে সম্ভব নাকি অভিনয় করছে মেয়েটা।
নেহা চুপ রইলো শিলা নেহার হাত টেনে সামনে এগিয়ে গেলো।একসাথে কি যেনো ফুসুরফাসুর করছে সব কাজিনরা।সাব্বির,জেরিন,নিশাত,রোহান,শৈলি,শুভ,বৃষ্টি,টয়া।আইরিন অন্য পাশে বিরক্তি নিয়ে স্টেজে বসে আছে।
নিখিল, মিহির আর তার বন্ধুরা ঘরে ভিতর নিশ্চয়ই এখন মহিলা সমিতির সব লোক তাদের কে জামাই আপ্যায়ান করছে।
নেহা নিজের হাতের দিক তাকিয়ে বিরবির করলো,এই মেয়েটার প্রতি অনেক বেশি রাগ নেহার, নেহার মনে হয় মেয়েটা শুধুই গুটি খেলোয়াড় অন্য কেউ,কিন্তু কে সে যার এতো বড় শত্রু”তা চৌধুরী পরিবারের সাথে!
নেহার এবার হাসি পেলো,শিলা সবার সামনে গিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে বলা শুরু করলো।ইরফা!
ইরফা নাম শুনে চোখ ছোট ছোট করে তাকায় সবাই নিশাত তো বলেই বসে কে ইরফা?নেহা চোখের ইশারায় তাকে থামতে বলে, জেরিন বুঝতে পেরে নিশাতের পিঠে ছোট্ট করে চিমটি কে’টে মিন মিন করে বলে–,,চুপ থাক।
শিলা বলে উঠলো–,,কে আবার এই তো ইরফা আমার সাথে দাড়িয়ে!
সাব্বির উপর নিচ মাথা নেড়ে বুঝালো তারা বুঝেছে।
শিলা বলতে শুরু করলো।জেরিন আর বৃষ্টি নিখিলের ছোট বোন দুজন।নিশাত,রোহান,আর নিঝুম নিখিলের মেজো চাচ্চু সন্তান।আর সাব্বির হচ্ছে নিখিলদের প্রতিবেশি।
সাব্বির আশেপাশে তাকিয়ে বলে উঠলো–,,নদীকে চেনাচ্ছে সমুদ্র কোথায়!
জেরিন সাথে সাথে সাব্বির কে একটা গুঁতো মা”রলো।
শিলা বলে উঠলো–,, নদী সমুদ্র মানে?
টয়া বলে উঠলো–,,আরে ওসব কিছু না শিলা তুমি যাও না বাকিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দাও,আর হ্যাঁ শুধু নিখিলের সাথে পরিচয় করাতে যেও না!
শিলা কিছু বলতে যাবে তার আগেই নেহা বলে উঠলো–,,আপনি কিছু মনে করবেন না নিখিল ভাইয়া আমাকে তেমন পছন্দ করে না তো তাই আর কি!
শিলা অন্য দিক তাকিয়ে বললো–,,ওই যে ওখানে দাঁড়িয়ে মিলি আন্টি ওটা হচ্ছে নিখিলের ছোট চাচী তার পাশে মফিজুর চৌধুরী তার ছোট চাচা।
মিহির,আইরিন নিখিলের বড় মামার ছেলে মেয়ে।শুভ,শৈলি মেজো মামার। টয়া নিখিলের খালাতো বোন!
সাহিল,রাহাত নিখিলের ফ্রেন্ড।
নেহা চুপচাপ সব শৃুনছে তা দেখে সাব্বির,জেরিন বেশ চিন্তিত এই মেয়েটার এতো ধৈর্য কোথা থেকে আসলো?এতোক্ষণে তো শিলা কে লাগিয়ে দিতো এক চ’ড়।বৃষ্টি জেরিনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো–,,নেহা এখন আর আগের মতো কথা বলে না আপু।তার চঞ্চলতা হারিয়ে গেছে নিরবতার ভীড়ে!
জেরিন, সাব্বির দুজনেই চুপসে গেলো।তাদের ভিতরের চাপা কষ্ট টাও যেনো আজ নাড়া দিয়ে উঠলো।তারা কি করে ভুলবে সে দিন গুলোর কথা যখন তাদের পরিবারের সবাই ছিলো এক সাথে,তাদের পরিবারের সর্বত্রে ছড়িয়ে ছিলো সুখের ছোঁয়া।নেহা একজন মাত্র মানুষ অন্য সবার কাছে হয়তো তা খুব সাধারণ শুনাবে তবে তার পরিবারের কাছে?পুরো পরিবারের প্রাণ ছিলো এই মেয়েটা যাকে কিনা তার ভাই মূল্য দিতে পারেনি! হারিয়ে ফেলেছে এই মেয়েটাকে, যাকে ঘিরে ছিলো সব শান্তি, মেয়েটা হারিয়ে গেলো সাথে নিয়ে গেলো তাদের পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষের মুখের হাসি।একটা বাবার আদরের কন্যা নিজের বাবাকে ঘৃ”ণা করে সে বাবা টা কি করে ভালো থাকে?তারা প্রত্যেকে দেখেছে একজন স্বামী তার স্ত্রীর বিরহে কতোটা পুড়ে’ছে, একজন বাবা মেয়ের থেকে দূরে গিয়ে ভালো থাকার অভিনয় করে আসছে প্রতিটা দিন!
নিজের ভাইয়ের প্রতি অগাধ অভিমান জমেছে জেরিনের,সে চায় তার ভাইয়ের মতো এমন করে কেউ ভালো না বাসুক যে ভালোবাসাতে বিশ্বাস নেই!
———
মিহির বৃষ্টির হাত চেপে ধরে দাড়িয়ে আছে,বৃষ্টি মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে।
মিহিরের গম্ভীর কন্ঠস্বর–,,আমার দিকে তাকাও বৃষ্টি!কিছু কথা বলার আছে আমার।
–,,আপনার কথা শোনার কোনো ইচ্ছেই নেই আমার মিহির!
–,,কেনো? কি অপরা’ধ আমার?তোমাকে ভালোবেসেছি শুধু এটুকুই?
–,,আপনি ভালোবাসা বুঝেন?কিভাবে ভালোবাসতে হয় জানেন?আপনিও ঠিক আপনার বন্ধুর মতো, আমি নেহা নই মিহির যাকে সহজ সরল পেয়ে ঠকিয়েছে আপনার বন্ধু!
–,,নিখিল কে ভালো করে এখনো বুঝতেই পারোনি তুমি।ওর মতো করে ভালোবাসতে হয়তো আমিও জানি না!তোমরা যে যাই বলো আমি জানি ঠিক কতোটা ভালোবাসে নিখিল নেহাকে।
বৃষ্টি নিজের হাতে ছাড়িয়ে নিতে নিতে বললো–,,ভালোবাসা কোনো সুপার শপে পাওয়া চিপসের প্যাকেট না মিহির।ভালোবাসলে সম্মান দিতে জানতে হয়, আগলে রাখতে হয়, বিশ্বাস করতে হয়!
–,,নিজের ভাইয়ের ভুলের শাস্তি আমাকে কেনো দিচ্ছো তুমি?সবাই এক রকম হয় না বিশ্বাস করো,আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি।
–,,আমি বাসি না,ভালোবাসা থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে আমার, রাস্তা থেকে সরো মামাতো ভাই হও ভাইয়ের মতো থাকো না হয় আমি ও তোমাকে সম্মান দিতে ভুলে যাবো!
বৃষ্টি চলে যেতো উদ্যোগ নিলো পেছন থেকে মিহির বলে উঠলো–,,যদি আবার তোমার মনে কখনো বসন্ত আসে,কখনো যদি ভালোবাসার প্রতি বিন্দু মাত্র বিশ্বাস জন্মায়,যদি মনে হয় কাউকে ভালোবাসতে পারবে,তবে আমার নামটি আগে নিও প্রিয়!তুমি জানোতো?তুমিহীনা আমার প্রতিটিদিন শীতের তীব্রতম রু”ক্ষতার মতো, গ্রীষ্মের দাবা”নলের মতো।
একটি অনুরোধ যদি ফিরো তবে এক চিলতে বসন্ত হয়ে ফিরো এই রঙ বিহীন জীবনে।ভালোবাসার রঙে রাঙিয়ে দিয়ো আমাকে।
বৃষ্টি পেছনে ফিরে তাকালো না,চোখ ভিজে এসেছে মেয়েটার,কি করবে সে?মিহিরের গভীর প্রেম, পদ্মের মতো বিছিয়ে রাখা ভালোবাসা কুড়িয়ে নিতে যে বৃষ্টির ভীষণ রকম ভয় করে।হারি’য়ে ফেলার যন্ত্র”ণা যে সে সইতে পারবে না!
দৌড়ে প্রস্থান করলো বৃষ্টি, মিহির এখনো তার পানে তাকিয়ে, এতোটা নি”ষ্ঠুর কেনো হয় বার বার মেয়েটা,একটাবার কি বিশ্বাস করা যায় না?হাতে হাত রেখে বলা যায় না মিহির বৃষ্টি শুধু তোমার শুধুই তোমার!
——-
রোহান ভাইয়া সাব্বির ভাইয়াকে দেখেছো?
রোহান বিরক্তি নিয়ে তাকায় তোহার দিকে।রাগী কন্ঠে বলে উঠে–,,আমাকেই কি শুধু চোখে পড়ে?পুরো বিয়ে বাড়িটায় কি আর কাউকে খুঁজে পেলি না জ্বা’লানোর মতো!
তোহা মিন মিন করে বললো–,,তেমন কাউকে তো চিনি না ভাইয়া।সবাই তো তোমাদের আত্মীয়।
–,,না চিনলে এসেছিস কেনো?তোকে কে বলেছে আসতে, তোর বাবা না প্রতিদিন বলে আমরা নাকি ভালো না, এখন নিজের মেয়ে আমাদের বাড়ির মানুষের সাথে কেনো পাঠিয়েছে? নির্ল”জ্জের মতো কেনো ঘুরিস আমার আশেপাশে, বুঝতে পারিস না তোকে আমার এক ফোঁটা ও পছন্দ না!
তোহার চোখ থেকে পানি চলে আসলো,রোহান ভাইয়া সব সময় তাকে শুধু অপমানই করে বাকি সবার সাথে তো কতো মিষ্টি করে কথা বলে শুধু তাকেই দেখতে পারে না,এতো কিসের রাগ তোহার উপর রোহানের?আর কখনো সামনে আসবে না এই ছেলের তোহা।
চোখে মুছে এক প্রকার দৌড়ে সেখান থেকে চলে গেলো মেয়েটা।রোহান দেখেও দেখলো না যেনো।
তোহা গিয়ে পড়লো বৃষ্টির সামনে,তোহাকে কাঁদতে দেখে বৃষ্টি বিচলিত কন্ঠে বললো–,,কি হয়েছে তোহা?কাঁদছিস কেনো?
তোহা ঠোঁট উল্টে বললো–,,রোহান ভাইয়া,,,!
–,,কি করেছে আবার শয়’তানটা?
–,,আমি কি খুব খারা’প বলোতো আপু?উনি সব সময় শুধু আমাকে ব’কা দেয়ে অপমান করে কথা বলে, আন্টি জোর করেছিলো বলেই তো আমি এসেছি তোমার বোনের বিয়েতে,আর কখনো যাবো না তোমাদের বাড়িতে, তোমার ভাইয়ের সামনেও না!
বৃষ্টি তোহার মাথায় হাত রেখে বললো–,,বোন আমার এমন করে না পাখি,রোহান কে ব’কে দিবো আমি আর কান্না করিস না প্লিজ!
তোহাকে নিশাতের কাছে রেখে বৃষ্টি গেলো রোহান কে খুঁজতে, আজ দিবে কয়েকটা ধরে সব সময় শুধু মেয়েটাকে বিরক্ত করা।
তোহার কান্না দেখার সময় কি নিশাতের হবে সে তো বান্ধবী কে বলতে ব্যস্ত জানিস কি হয়েছে?পাত্র পক্ষের একটা ছেলেকে অনেক ভালো লেগেছে।ছেলেটা কি কিউট।
তোহা সাথে সাথে বলে উঠলো–,,ছি!ছি! কি সব বলছিস?তুই কি ভালো হবি না?ভাইয়া বলেছে এখন পড়াশোনা করার বয়স মাত্ররো ক্লাস টেনে পড়ি আমরা!
নিশাত বিরক্তি নিয়ে বললো–,,ধুর!শিশির ভাইয়াটা ছে’কা খাওয়ার পর একেবারে পানসে হয়ে গেছে,সাব্বির ভাইয়ার থেকে কিছু শিখলেও পারিস নাকি?চল তো ওদিকে গিয়ে দেখি আর কাউকে ভালো লাগে কিনা!
তোহা না করলো কিন্তু নিশাত তো নিশাতই মেয়েটাকে টেনে টুনে সাথে ধরে নিয়ে গেলো!
গায়ের হলুদের অনুষ্ঠান প্রায় শেষের পথে রাত নয়টা বাজছে ঘড়িতে।বসার ঘরে নিকটবর্তী আত্নীয়ের ভীড়।নিখিল কখন থেকে সোফায় বসে আছে তবে তার দৃষ্টি আবদ্ধ উপরের ঘরটায়।ওর কেনো যেনো মনে হচ্ছে ওখানে নেহা আছে,কিছুতেই আজ নিজেকে মানাতে পারছে না।নেহা নেই কোথাও নেই কথাটা ভাবতে পারে না নিখিল বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যাথাটা কেমন বেড়ে যায় মুহুর্তে!এতো এতো মানুষের প্রিয় আজ নিখিল শুধু প্রিয় মানুষটার কাছে অপ্রিয়!
মিলি বেগম দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছেন,শিলার কথা গুলো বিশ্বাস হচ্ছে না তার,নেহা মেয়েটা মোটেও খারা’প হতে পারে না,সে যদি সব সত্যি টা জানতে পারতো?কিন্তু কে বলবে তাকে সব কিছু?কার কাছ থেকে জানতে পারবে সে অতীত!মিলি বেগম চান না কোনো মতেই নিখিলের সাথে শিলার বিয়ে হোক,কেউ তার ভালোবাসার মানুষের থেকে আলাদা হয়ে যাক,যদি সত্যি নিখিল নেহা একে অপর কে ভালোবাসে তবে তিনি কিছুতেই ওদের মাঝে অন্য কাউকে আনবে না,এতো বড় অন্যায়টা তিনি করতে পারবে না!
শিলার মা এগিয়ে আসলো মিলির কাছে,এসেই বললো–,,মিলি নিখিল কে নিয়ে আয় যা ওদের বিয়ের কথাটা আজই সবাই কে বলে দেই,যেহেতু ছেলে মেয়ে দুজন দুজন কে পছন্দ করে তো দেরি কিসের!
মিলি বেগম হতাশ চোখে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললো–,,আপা অন্য দিন হলে হয় না!
শিলা এগিয়ে এসে বললো–,,আন্টি অন্য দিন কেনো হবে? তুমি জানো আমি খুব করে চাই নিখিল আমার হোক!
মিলি বেগম এবার বেশ কঠোর কন্ঠে বললো–,,নিখিল বিবাহিত শিলা!যতদিন না আগের স্ত্রী অনুমতি দিচ্ছে বা তাদের ডিভোর্স হচ্ছে ততদিন তুমি চাইলেই তো আর বিয়ে টা হয়ে যাবে না।
শিলা রাগী চোখে তাকালো উচ্চ কন্ঠে বললো–,,বিয়ে তো আমি করবোই যেভাবেই হোক!ওই নেহার থেকে কিভাবে ডিভোর্স নেওয়াতে হয় ভালো করেই জানা আছে আমার।
মিলি বেগম চলে গেলেন সেখান থেকে সাব্বির পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলো পেছন থেকে বলে উঠলো–,,বেশ রহস্য করছেন দেখছি শিলা আপা।নেহাকে সত্যি চেনেন না নাকি?না চেনার ভান ধরছেন?একটা কথা কিন্তু সত্যি নিখিল যদি জানে তার নেহাকে নিয়ে আপনি এমন কথা বলেছেন?ভাবতে পারছেন আপনার কি হবে?
শিলার মা এগিয়ে এসে দাঁড়ালো মাঝে হাতে তার কিছু একটা আছে।হামিদা বেগম বিরক্ত হলেন, এরকম একটা দাম’ড়া ছেলে তার এতো কিছু জেনে ও চুপ থাকছে কি করে?এতো গুলো মানুষের সামনে অযথাই একটা কাহিনি হবে এখন,যদি ছেলেটা কিছু বলতো তাহলে মেয়েটা আর মেয়েটার মা এসব করার কোনো সাহসই পেতো না।
মনিরা বেগমের ডাকে নিখিল সেখানে গেলো।নিখিল সেখানে যেতেই মনিরা বেগম বললো–,, আপনারা সবাই এখানে আছেন আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বরতে চাচ্ছি, আমার মেয়ে শিলা আর নিখিল একে অপরের ভালো বন্ধু তারা তাদের বন্ধুত্বটা কে একটা নতুন নাম দিতে চাচ্ছে খুব শিগ্রই তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে।আজ তাই আংটি পড়িয়ে রাখতে চাই।
হামিদা বেগম শাহআলম চৌধুরীর দিক তাকালো রাগী চোখে।শাহআলম চৌধুরী অসহায় ভাবে তারই দিকে তাকিয়ে, সেতারা বেগম এসে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মিহির পেছন থেকে বলে উঠলো–,,নেহা!
নিখিলের হাত তখনই ছুটে গেলো মনিরা বেগমের হাত থেকে নিখিল পেছনে তাকিয়ে দেখলো মিহির তাকিয়ে আছে দোতলার দিকে।
নিখিলের হৃৎস্পন্দন দ্রুত হলো।বুকের বা পাশে হাত রেখে জোরে নিঃশ্বাস নিলো, এটা কি সত্যি হবে?নাকি মেয়েটা আবারও আসবে কল্পনা হয়ে হারিয়ে যাবে ধোঁয়াসায়!
নেহার নাম শুনে মনিরা বেগম ও পিছু ঘুরলো শিলার হাতে বা’রি খেয়ে তার হাত থেকে আংটি দুটি ছিটকে পড়ে গেলো দূরে!
শিলা মনে মনে বলে উঠলো–,,তুমি এসে মোটেও ঠিক করোনি নেহা!তুমি জানো না আমার জিনিস আমি ঠিক হাসিল করে নিবো!
নিখিল তাকালো সেদিকে তার চোখ থমকে গেলো নেহার পড়নে সাদা শাড়ি চুল গুলো এলোমেলো খোঁপা করা, সাদা শাড়ির প্রতিটা খাঁজে নানান রঙের ছোঁয়া। নিখিলের পা চলতে চাইলো না তবুও সে ছুটলো হয়তো কয়েকটা মুহুর্ত বা কিছু সেকেন্ডের ব্যবধানে দৌড়ে গিয়ে দাড়ালো নেহার সামনে।এক ফোঁটা সময় ও ব্যয় না করে ঝাপটে জড়িয়ে ধরলো মেয়েটাকে।
নেহা কেঁপে উঠলো,নিখিলের শক্ত বাঁধনে কতোটা সময় পর আবদ্ধ হচ্ছে সে।তবুও মেয়েটা ঠায় দাড়িয়ে রইলো কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া করলো না!
নিখিল চোখ বন্ধ করতেই তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো এক ফোঁটা জল।নেহা হেসে উঠলো ফিসফিস করে বলে উঠলো–,,নতুন জীবনের শুরু করতে যাচ্ছিলেন বুঝি?চিন্তা করবেন না বাঁধা হতে আসিনি,মুক্ত করতে এসেছি আপনাকে!
চলবে?