#প্রণয়ের_সুর২
#পর্ব৩
#মহুয়া_আমরিন_বিন্দু
ধরনীর আকাশে এখন সন্ধ্যা নেমেছে,হসপিটালের ওয়েটিং রুমে বসে আছে সোহানা কয়েক দিন যাবৎ অসুস্থ মেয়েটা,পড়াশোনার খরচ চালাতে বিকাল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত একটা হসপিটালে একজন ডাক্তারের রোগীর সিরিয়াল নেওয়ার কাজ করে থাকে, অনেক কষ্টে কাজটা জুগিয়েছে।না জানি এ অসুস্থতার চক্ক’রে চাকরিটা হারাতে হয়।সোহানা বুঝতে পারছে না এতো বড় ডক্টর দেখিয়েও কোনো কাজ কেনো হচ্ছে না!ঔষধ গুলো খাওয়ার পর ও কেমন যেনো পরিবর্তন হচ্ছে শরীরে তাই আজ বলতে এসেছিলো।
কিছুসময় পর সব রোগীদের উদ্দেশ্যে একজন এসে বললো–,,ডক্টর আজ ব্যস্ত রোগী দেখতে পারবে না।
ভীষণ রকম রাগ লাগলো সোহানার,বড় লোকদের বড়লোকী কারবার কেনো ভাই রোগী দেখতে পারবে না আগে বলতে পারোনি?বসিয়েছে রাখলো একবার দেখেই পনেরোশো টাকা বুঝে নিলো আবার তো পরের দিন আসলেই আবার টাকা দিতে হবে, সবার তো আর টাকার পাহাড় নেই।
বিরক্তি নিয়ে বের হলো হসপিটাল থেকে সিঁড়িতে ধাক্কা লাগলো একটা অদ্ভুত মেয়ের সাথে কেমন যেনো তার পোশাকআশাক মেয়েটা যেনো ভীষণ তাড়ায় আছে।একটা সামান্য স্যরি পর্যন্ত বললো না।
সোহানা নেমে গেলো সেখান থেকে।
হসপিটালের চতুর্থ ফ্লোরে ডক্টরের রুম।আজ অন্য রুম গুলোতেও ডক্টর নেই পেসেন্ট ও তেমন নেই।
রুমের ভিতর ঢুকলো দুজন মানুষ কিছু একটা খুঁজতে ব্যস্ত তারা।কারো পায়ের শব্দে দুজনই লুকিয়ে পড়লো।
তারা শুনতে পেলো কারো কন্ঠস্বর–,,ম্যাম, ফাইলটা খুঁজে পাচ্ছি না!
ওপাশের কথা শুনতে পেলো না দুজন তবে বুঝতে পারলো আগত ব্যক্তি রুমটা তন্ন তন্ন করে কিছু একটা খুঁজছে, দীর্ঘ আধঘন্টা পর লোকটা রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
লোকটা বেরিয়ে যেতেই অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া রুমটা থেকে একটা মেয়ে কন্ঠ বলে উঠলো–,,ছোট্টু মিয়া!
পর পরই একজন বেঁটে দেখতে লোক বেরিয়ে আসলো পর্দার আঁড়াল থেকে।মেয়েটার পড়নে আলখাল্লার মতো লম্বা জ্যাকেট,মাথায় থাকা কোঁকড়া চুল গুলোতে এলোমেলো ভাবে বসে আছে একটা ছাই রঙা টুপি।স্টে”চারের উপর থেকে সন্তর্পনে মেয়েটা নেমে আসলো হাতে তার একটা ফাইল।
ছোট্টু মিয়া বলে উঠলো–,,চল আরু তাড়াতাড়ি পালাতে হবে!
আরুশি এলোমেলো পায়ে নামতে গিয়ে পায়ে লেগে কিছু একটা ধপ করে পড়ে যায়,তখনই বাহির থেকে কারো আসার শব্দ পায় দুজন দৌড়ে বেরিয়ে যায়।পেছন থেকে কোনো একটা মেয়ে কন্ঠ বলে উঠে–,,কে?কে তোমরা!দাঁড়াও বলছি কোন উদ্দেশ্যে এসেছিলে আমার কেবিনে।
আরুশি পিছু ফিরলো মহিলার মুখটা দেখার জন্য কিন্তু তা সম্ভব হলো না মেয়েটার মুখ মাক্সে আবৃত তবে মনে হলো চোখ দুটি খুব চেনা তার।আরুশি দৌড়াতে থাকলো তার পেছনে সে ডক্টর!
আরুশি মনে মনে বললো–,,তবে কি সে সত্যি প্রমান টা পেয়েছে অবশেষে?এই সেই ডক্টর! না জানি কতো মানুষ কে নিজের অপ”কর্মের স্বীকার বানিয়েছে!
করিডরে দৌড়াতে গিয়ে হাতে আঁচড় লাগলো প্রতি ফ্লোরে ফ্লোরে মানুষের সাথে ধাক্কা খেতে খেতে গেলো নিচে।
বাহিরে এসেই দিক বেদিক তাকালো আরুশি,সাথে তার রনি।আরুশি বলে উঠলো–,,ছোট্টু মিয়া কোথায় লুকাবো বলো, ডাক্তারনি তো পিছনে পড়ে গেছে।আমি কিন্তু রাস্তাঘাট তেমন চিনি না তার উপর রাত হয়ে এসেছে।
ছোট্টু মিয়া আস্বস্ত করলো আরুশি কে।দুজন ছুটলো সামনের দিকে।
সাদা এপ্রোন পরিহিত মহিলা ডক্টর রাগে ফে’টে পড়লো যেনো হসপিটালের বাহিরে দাড়িয়েই ফোন করলো কাউকে, কিছুক্ষণের মধ্যেই কালো রঙের দুটি গাড়ি এসে থামলো তার সামনে,গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলো কালো রঙে আবৃত বিশ পঁচিশ জনের মতো লোক।সবাই ছুটলো ভাগ হয়ে রাস্তার চারপাশে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই একটা মেয়েকে খুঁজে বের করা!
আরুশি বেশি দূর আগাতে পারলো না তার পূর্বেই তাকে দেখে ফেললো দুজন লোক মেয়েটার কলি’জা কেঁপে উঠলো যেনো, কি ভয়া”নক বিশাল আকৃতির লোক গুলো।আরুশি যেনো তাদের কাছে চুনোপুঁটি, মনে মনে বলে উঠলো আল্লাহ এবারের মতো বাঁচিয়ে দেও আর জীবনেও এসব গোয়েন্দা গিরি করতে যাবো না।
পুলিশের গাড়ির শব্দ টা যেনো আজ শরীরের প্রতিটি লোমকূপ কাঁপিয়ে তুললো,আরুশি প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে আশেপাশে তাকালো কোথাও নেই রনি,ভাইয়ের মতো এই মানুষটার সাথে হয়তো আর তার কখনো দেখা হবে না।এই লোক গুলো তাকে একবার ধরতে পারলে কি করবে আর ভাবতে পারলো না আরুশি।
একটা খোলা মাঠ তার চারদিকে দেয়াল করা,আশেপাশে ঝোপের ভিরে নতুন করে ড্রেন করা হচ্ছে হয়তো।
সুযোগ বুঝে ঝোপের ভিতর ঘাসের আড়ালে শুয়ে পড়লো আরুশি শ্বাস আঁটকে বসে রইলো কিছুক্ষণ। যাতে নিশ্বাসের শব্দ ও কেউ শুনতে না পারে।
নিঃশ্বাস ভারী হলো আরুশির,এই বুঝি কেউ তাকে ধরে ফেলে।পায়ের শব্দ যখন কমলো তখনই ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো আরুশি,যেনো জানে জান এসেছে এখন।
কিন্তু সে তো রাস্তা চিনে না কি করে ফিরবে এখন?এই রাতে ঢাকা শহরের মতো রাস্তায় কি করে থাকবে ও,চারপাশে কেমন নিস্তব্ধতা, গাঁ ছমছমে এ পরিবেশে আরো একটু ভয় পাওয়াতে যেনো পুলিশের গাড়ি আর এম্বুলেন্সের হ”র্নের শব্দটাই যথেষ্ট, আরুশির মনে হলো আজকেই হয়তো তার শেষ দিন।
কিছু সময় এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো তখনই কেউ ঘাড়ে হাত রাখলো অন্ত”রাত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠলো আরুশির!সে মানুষটার মুখ না দেখেই দৌড় লাগালো সামনের দিকে।
বেশিদূর আগানো হলো না একটা শক্ত পোক্ত হাত চেপে ধরলো ওকে, কপালে বন্ধুক ঠেকিয়ে বলে উঠলো–,,তোমার মতো একটা পুঁচকে আমাকে এতো দৌড় করালে?কি করে সম্ভব একটা মেয়ে মানুষ খু’ন খারা’পি করে বেড়ায় রাতের অন্ধকারে!
আরুশি আর নিতে পারলো না,ব্রেন এতো কিছু সহ্য করতে পারলো না আর।সে জোরে জোরে দুদিকে মাথা নাড়লো
বির বির করে বলে উঠলো–,,আমি খু’নি নই! আমি খু”নি নই।আমাকে বাঁচান প্লিজ!
কথাটা বলেই চে”তনা হারালো মেয়েটা।মেয়েটাকে না চাইতেই নিজের বক্ষে আগলে নিলো ইরফান।এসেছিলো অপ”রাধী ধরতে এসে কোন মেয়েলি চক্করে পড়ে গেলো।বিরক্তিতে চ মূলক শব্দ করে উঠলো।বর্তমানে তার পড়নে সিভিল ড্রেস,পুলিশের গাড়িতে আছে সহকর্মীরা সে এসেছে ছদ্মবেশে, মেয়েটা কোন ঝামে”লায় ফেলবে কে জানে?দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে মেয়েটি কে ফেলে যেতেও পারছে না।
ইরফান মনোযোগ দিলো মেয়েটির দিকে,কেমন বাচ্চাদের মতো চেহারা,বেশ অগোছালো অপরিষ্কার একটা বস্তু মনে হলো ইরফানের কাছে মেয়েটাকে।এতোটা অগোছালো একটা মেয়ে!আর পোশাক গুলো কেমন চুলগুলোর দিক তাকিয়ে চোখ দুটো না চাইতেই আটকে গেলো,কোঁকড়ানো চুলও বুঝি এতো সুন্দর হয়!
ইরফান চোখ নামিয়ে ফেললো, পকেটে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো তার, এক হাতে মেয়েটাকে চেপে ধরে অন্য হাতে ফোন কানে ধরলো।
অপর পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলো–,,ইমতিয়াজ ইরফান বলছেন?
–,,হুম বলছি।আপনি,,,
–,,এসপি সাহেব আমার রাস্তায় আসবেন না,নিজের মতো থাকুন সব কিছুতে এতো মাথা ঘামানো কারোর জন্যই উচিত না। জানেন তো ব্রেনে বেশি প্রে”শার দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি”কর! আপনিও ভালো থাকুন আমাকে ও ভালো থাকতে দিন!
ইরফান গম্ভীর কন্ঠে বললো–,,এসআর!
অন্য পাশ থেকে অট্টহাসির শব্দ ভেসে আসলো।ইরফানও মুচকি হাসলো স্বাভাবিক ভাবেই বলে উঠলো–,,খুব তাড়া দেখছি আপনার আমার সাথে দেখা করার!
অপর পাশের ব্যক্তি ক্ষু”ব্ধ কন্ঠে বললো–,,প্রজাপতির পাখা গজে মরি’বার তরে!
ইরফান শব্দ করে হেসে বললো–,,এ কথাটা তোমাকে তোফা হিসেবে দিলাম। সামনাসামনি কথা না বলে মজা নেই বুঝলে, এখন আমার মুড নেই তোমার সাথে কথা বলার পরে সময় করে ফোন দিবো কেমন!
ইরফান ফোনটা কে’টে দিলো মেয়েটাকে কাঁধে তুলে নিলো।কি করবে ভেবে পেলো না, একে তো ডিআইজি স্যারের প্যারা তার উপর ওই ক্রি”মিনাল এখন জুটেছে এই মেয়ে!
তার মা তো এক কাঠি উপরে বাড়িতে ও তো নেওয়া যাবে না আপাতত সামনের হসপিটালটায় নেওয়া যায়!
————
নিখিল নেহাকে ছেড়ে দিলো সাথে সাথে,মেয়েটার কতো বড় সাহস?সে তাকে ছাড়তে এসেছে।
নিখিল রাগী কন্ঠে বললো–,,আমার জীবনে তুই নিজ ইচ্ছেতে এসেছিলি নেহা!জোর করিনি তোকে, এখন চাইলেই তুই এতো সহজে মুক্তি পেয়ে যাবি না!
শিলা এসে বললো–,,নিখিল!তুই এই মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরলি কেনো?কে নেহা কোথায় নেহা?
নিখিল গম্ভীর হলো অনেক নেহার দিক চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে বললো–,,তোর সামনেই তো দাড়িয়ে আছে দেখতে পাচ্ছিস না, ও ই তো নেহা।আমার একমাত্র ওয়াইফ!
সাব্বির সবে পানিটা মুখে নিচ্ছিলো নিখিলের মুখে ওয়াইফ কথাটা শুনেই কেশে উঠলো,সব পানি গিয়ে পড়লো জেরিনের উপর।জেরিন সাথে সাথে ছি!ছি! করে উঠলো।
শিলা ওদিকে মনোযোগ দিলো না সে নেহার দিক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলে উঠলো–,,ও তো বলেছিলো ওর নাম ইরফা!
বৃষ্টি এগিয়ে এসে হেসে বললো–,,ঠিকই তো বলেছে ওর পুরো নাম তো নেহা নূর ইরফা!
নেহা মুচকি হেসে বললো–,,আপনাদের বিরক্ত করলাম বুঝি এমন দিনে এসে?
নিখিল নেহার হাত চেপে ধরে টানতে টানতে বললো–,,চল আমার সাথে!
শিলা বলে উঠলো–,,তোর সাথে ও কোথায় যাবে?
নিখিল বিরক্ত হলো প্রচুর, মেয়েটা কে ভেবেছিলো আজকেই ভালো মতো বলে দিবে তাই চুপ ছিলো,কতো বার না করলো সে বিবাহিত সে শুধু তার নেহাকেই ভালোবাসে কিন্তু মেয়েটা সেই ভার্সিটি লাইফ থেকেই গায়ে পড়া কথা মানতেই চাইলো না।মা টাও হয়েছে মেয়েটার মতো পুরো নির্লজ্জ!
নিখিল দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো–,,আমার বউ তাকে নিয়ে যাচ্ছি রোমান্স করবো বলে।তুই কি দেখতে চাস? চাইলে আয়!
শিলার মুখটা চুপসে গেলো,মিহির,সাহিল ঠোঁট চেপে হেসে উঠলো।
সেতারা বেগম এসে সোফায় বসে বললো–,,এ না হলে আমার দাদু ভাই।
হামিদা বেগম বললো–,,আম্মা আপনার নাতির একটা বিচার করা দরকার,যদি এতোই ভালোবাসা নেহার প্রতি তো শিলাকে বিয়ে করতে কেনো গিয়েছিলো? কি রকম ছেলে পেটে ধরেছিলাম আমি!
সাহারা বেগম এসে বললো–,,ভাবি কিন্তু ঠিকই বলেছে আম্মা,বিবাহিত হওয়ার পরও অন্য একটা মেয়েকে জীবনে জায়গা দেওয়া কোনো উত্তম চরিত্রের পুরুষের কাজ নয়,নিখিলের এই কাজের জন্য আমি ও তাকে ভালো চোখে দেখছি না!
সেতারা বেগম বললো–,,নেহা যাওয়ার পর থেকে যে তোমরা কেউই ওকে ভালো চোখে দেখো না তা আমি জানি।আমার নাতি নিজেকে প্রমান করে দিবে সে সত্যি নেহার যোগ্য, যদি আমার কথা সত্যি না হয় তো আমি নাকে খ’ত দিবো বলে রাখলাম!
নিশাত কপাল চাপড়ে বললো–,,এরা আবার লেগেছে।এই তোহা চল তো ভাইয়ার রুমটায় গিয়ে উঁকি মে’রে দেখি কি করছে!
তোহা নিশাতের পিঠে একটা মে’রে বললো–,,নির্লজ্জ মেয়ে,এসব বা’জে কথা বললে তোর সাথে আর কথা নাই আমার।
রোহান সেখানে এসে বললো–,,দুই পে”ত্নী কি ফুসুরফাসুর করিস সারা দিন।
রোহান কে দেখেই তোহা অন্য দিক মুখ ঘুরিয়ে নিলো এমন ভাব করলো আশেপাশে কেউ নেই।রোহান গভীর ভাবে দেখলো পরে চোখ ছোট ছোট করে পর্যবেক্ষন করে ভাবলো–,,এটার আবার কি হলো?সারাদিন তো আঠার মতো লেগে থাকতো পিছে,এখন এমন ভাব করছে চিনছেই না।সে ও দেখবে কতো দিন পারে ঢং এর নকশা!
নিশাত দুজনের দিক তাকিয়ে মিট মিটিয়ে হেসে উঠলো। তা দেখে রোহান নিশাতের মাথায় একটা মে’রে বললো–,,কি হয়েছে?এভাবে ছা’গলের মতো হাসছিস কেনো?
নিশাত হেসে বললো–,,সামথিং সামথিং!
রোহান মাথা মোটা বলে সেখান থেকে চলে গেলো।
সাব্বির, জেরিনের কাঁধে হাত রেখে আয়েসি ভঙ্গিতে দাড়িয়ে বলে উঠলো–,,আজ একটা বউ নেই বলে রোমান্স করা হচ্ছে না!
বৃষ্টি পাশ থেকে বলে উঠলো–,,একটা বিয়ে করলেও তো পারো ভাইয়া!
সাব্বির দুঃখ প্রকাশ করে বললো–,,বড় একটা ভাই মাথার উপর ঝুলছে।শা”লা সেই যে ছেঁকা খেয়ে বেকা হলো সোজা হওয়ার নামই নিচ্ছে না!বড় ভাই রেখে আমি কি করে বিয়ে করি বলতো, যা একটা বাপ জুটেছে কপালে জীবনটাকে তেজপাতার পাউডার বানিয়ে ছাড়ছে শা’লা দাদার পোলা।
মিহির এসে বললো–,,তোর কপালে বউ নাই শালা!
জেরিন বলে উঠলো–,, তুমি কোন হিসাবে ওরে শালা বলছো মিহির ভাই!
মিহির গুন গুন করতে করতে গান গেয়ে উঠলো –,,হিসাব তো মিলে না রে বন্ধু। আমার প্রেয়সির মনের দুয়ারে যে তালা!
সাব্বির মিহিরের দিক টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বললো–,,শিশির ব্রো এর সাথে মিটিং টা জলদি সারো, ভাবে বুঝা যাচ্ছে তোমরা একই পথের যাত্রী!
মিহির দৌড় লাগালো সাব্বির কে।এদিকে ওদের কান্ড দেখে হাসছে সবাই।
শিলা আর তার মা এসবে রাগে ফুঁসছে, কারো পৌষ মাস তো কারো সর্ব”নাশ!
——–
নিখিল নেহাকে বিছানায় ধাক্কা মে’রে ফেলে দিলো। দরজাটা শব্দ করে বন্ধ করে এগিয়ে আসলো, নেহা ততক্ষণে উঠে বসে গেছে, নিখিল এগিয়ে এসে আচমকা নেহাকে টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।
করুন কন্ঠে বলে উঠলো–,,কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে তুমি জান!
নেহা এমন কন্ঠস্বরে কেঁপে উঠলো, নিজেকে সামলাতে পারছে না সে,কি করে পারবে?কি করে সম্ভব! ভালোবাসার মানুষের কাছে যে সব মানুষ পরাজিত, তাকে যে হার মানতেই হয়!নেহা ফুপিয়ে উঠলো তবুও নিখিল কে জড়িয়ে ধরলো না।
নিখিল আকুল কন্ঠে বললো–,,একটা বার জড়িয়ে ধরবি নেহা।তোর ছোঁয়া পেতে আমি আজ ভীষণ মরি’য়া।জানিস তুই? তুইহীনা আমি প্রতিটা মুহুর্ত ধুঁকে ধুঁকে মরে’ছি!মনে হচ্ছিলো তোকে না দেখতে পেলে এই বুঝি আমার প্রাণ পাখি উড়ে যাবে!অপেক্ষা করেছি প্রতিটা দিন প্রতিটা ঘন্টা,প্রতিটা মিনিট প্রতিটা সেকেন্ড! এই বুঝি আমার নেহা এসে বললো–,,নিখিল ভাই এই দেখুন এইতো আমি এখানে!আপনার নেহা আপনার সাথে লুকোচুরি করছিলো!
নিখিল নেহার মুখ দুহাতের আজলে নিলো কপালে গভীর চুমু এঁকে দিয়ে বললো–,,এতো অভিমান এই অপদার্থের উপর যার জন্য এতো দূরে চলে গেলি।যেখানে যাওয়ার একটা পথও খোলা রেখে গেলি না!
নেহা নিশ্চুপ নিজেকে অনুভূতি শূন্য মনে হচ্ছে নিখিলের কথা গুলো আজ তার হৃদয় ছুঁতে পারছে না।
নিখিল নেহার গালে আলতো করে চুমু খেলো নেহা তখনই ছিটকে সরে পড়লো।
কন্ঠে কাঠিন্যতা বজায় রেখে তে”জী কন্ঠে বললো–,,আপনার ছোঁয়ায় আবেশিত হতো যে নেহা সে নেহা আজ মৃ”ত নিখিল মেহমেত চৌধুরী! আমাকে আপনি ছুঁয়ে দিবেন না, আপনার ছোঁয়া কে আমি ঘৃ”ণা করি!
নিখিল দু কদম পিছিয়ে গেলো।কষ্টে বুকটা চিন চিন করে উঠলো,এতো বি”ষাক্ত না হলেও পারতো তাদের অতীত!আরো একটু সুন্দর কেনো হলো না তাদের মুহুর্ত গুলো।
———
হসপিটালে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেলো সোহানার।এসেই কর্কস কন্ঠের একটা ধম’ক খেলো মেয়েটা।কেবিনের দরজা ভে”দ করার আগেই কেউ একজন বলে উঠলো–,,যদি এতো ঘুরারই সখ থাকে তাহলে চাকরি নিয়েছিলেন কেনো মিস?কোনো অনিয়ম আমার পছন্দ না এটাই লাস্ট ওয়া”র্নিং!
চলবে?