#প্রণয়ের_সুর২
#পর্ব৪
#মহুয়া_আমরিন_বিন্দু
বসার ঘরে উপস্থিত হয়েছে সবাই,মূলত নিখিলই তাদের ডেকেছে।
বাড়ির সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে, রাতের মধ্যেই নিখিলের নানা বাড়ি থেকে চলে এসেছে সবাই।নিখিলই চায় নি ও বাড়িতে কিছু একটা হোক নিখিলের নানা বাড়ি বেশি দূরে না হওয়ায় সমস্যা হয়নি বিয়েতে কাল দুপুরে আবার সবাই যাবে।
নিখিল গম্ভীর হয়ে সোফায় বসে আছে।নিখিল হঠাৎ ডেকে উঠলো–,,শিলা!
শিলা এ পাশে দাড়িয়ে থেকেই জবাব দিলো–,,হ্যাঁ!
নিখিল এখনো নতমস্তকে বসে,তার ঝাঁঝালো কণ্ঠস্বর–,,যা যা প্রশ্ন করবো তার সত্যি সত্যি উত্তর দিবি!
শিলা মাথা নাড়লো, নেহা পর্যবেক্ষন করছে সব কিছু, এটা আবার কোন নাটক কে জানে এদের।
নেহা হাঁটা দিলো সেখান থেকে চলে যেতে,নিখিল নিচের দিক তাকিয়ে থেকেই বলে উঠলো–,,নেহা এক পাও যদি আর সামনে বাড়িয়েছিস তো ভালো হবে না।সব সময় না বুঝে চলে যাওয়াটা তোর স্বভাব হয়ে দাড়িয়েছে!আগেও বেশি বুঝতি এখনো তাই আছিস তুই।
নেহা পেছন ফিরে তাকালো না আর না নিষে”ধাজ্ঞা মানলো সে নিজের মতো দোতলার সিঁড়ি বেয়ে চলে গেলো।নিখিল সে দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ!
শাহআলম চৌধুরী বিরক্তি নিয়ে বললো–,,ওর থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করবে না তুমি নিখিল,ভুলে যেও না তুমি এই বাচ্চা মেয়েটার সাথে সাথে কি কি করেছো!
নিখিল নিজের বাবার দিক তাকালো,মনে মনেই বললো–,,নেহা তুই যা করেছিস সব কিছু মেনে নিলেও তোর কারনে সবার সাথে যে দূরত্ব আমার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য তোকে আমি ছেড়ে দিবো না।এর শা’স্তি তো তোকে পেতেই হবে!
নিখিল গম্ভীর কন্ঠে বললো–,,সবার কথা শুনবো আমি।তার আগে আমার কথাটা শেষ হোক,শুনতে ইচ্ছে না হলেও শুনতে হবে, তোমাদের এই ভুল ধারনার গুলোর জন্য চরিত্র”হীনের তকমা নিয়ে সারাজীবন কাটাতে পারবো না আমি!
–,,তা শিলা বল তোকে কবে বলেছি তোকে আমি পছন্দ করি?কবে বলেছি তোকে বিয়ে করতে চাই?যার সূত্র ধরে তুই আজ এতো বড় কাজ টা করার সাহস পেয়েছিস!
শিলা চু’রি করে ধরা পড়ার মতো এদিক ওদিক তাকালো।
নিখিল ধমকে উঠে বললো–,,তোর সাহস দেখে অবাক হচ্ছি আমি,তুই কি মনে করিস নিজেকে?বন্ধু ছিলাম আমরা সে দিক দিয়ে তোকে যতটুকু সম্মান দিতাম তাও হারিয়েছিস আজকে।যদি মেয়ে না হতি তোর জি”হ্বা টেনে ছিঁ”ড়তেও দু বার ভাবতাম না আমি!
শিলা আমতা আমতা করে বললো–,,আমি আসলে!
–,,চুপ!তোর মা যেদিন বিয়ের কথা বলতে এসেছিলো সেদিন আমি কি হ্যাঁ বলেছিলাম একবারও?
–,,না!
–, তাহলে আমারই মামার বাড়িতে আমার অজান্তে এনগেজমেন্টের আয়োজন করিস কি করে তোরা মা মেয়ে?
মুনিরা বেগম কিছু বলতে যাবে তার আগেই মিলি বেগম বললো–,,আপা তোমরা দুজন আমাকে এভাবে ঠকা”তে পারলে,মিথ্যা বলে বিয়ে দিতে চাইলে নিজের মেয়েকে!
নিখিল সোফা ছেড়ে উঠে যেতে যেতে বললো–,,তুই এই মুহুর্তে এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবি। এখন মানে এখনই,বিশ্বাস ভঙ্গকা”রীদের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই আমার,আজ থেকে তোকে আমি চিনি না।আমার বাড়ি আমার পরিবারের মানুষের আশেপাশে ও যাতে তোকে না দেখি!
শিলা এসে বললো–,,ভুল হয়ে গেছে নিখিল।আর কখনো বিয়ের নাম নিবো না।আমরা তো বন্ধু বল!
নিখিল দূরে সরে গিয়ে বললো–,,দূরত্ব বজায় রাখবি বেয়া’দব!তোর ভাগ্য ভালো তোকে এখনো কিছু করিনি,তোর সাহস কি করে হয় আমার ওয়াইফ কে নিয়ে আজে”বাজে কথা বলার!আর ছোট মা আপনি এ পরিবারের মানুষ আশা করবো পরের বার অন্যের কথায় কান দিয়ে নিজের ঘরে অশান্তি করবেন না!
মিলি বেগম মাথা নিচু করে ফেললো।নিখিল হনহনিয়ে বাহিরে চলে গেলো।
সেতারা বেগম বিচলিত হয়ে বললো–,,দাদু ভাই এতো রাতে কোথায় যাচ্ছিস!
নিখিল উত্তর করলো না।
শিলা হামিদা বেগমের কাছর গিয়ে বললো–,,আন্টি আপনি ওকে বুঝান না মানুষ মাত্রই তো ভুল করে!
হামিদা বেগম মুখ ফিরিয়ে বললো–,,সাহারা ওদের বলে দে যাতে চলে যায়।ড্রাইবার কে বলে দিস পৌঁছে দিবে।আমার ছেলে মেয়ের মাঝখানে যে আসবে তাকে এক ফোঁটাও বর’দাস্ত করবো না আমার ঘরে আমি!
মুনিরা বেগম শিলার হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো–,,নেহা এখানে কি করে আসলো শিলা!সব প্ল্যান নষ্ট হয়ে গেলো,এবার কি হবে?
নেহা পেছন থেকে দ্বিগুণ ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো–,,সোহেল রানার বোন আর মায়ের এতো কিসের ভয়!
নেহার কথায় চমকে উঠলো দুজন।নেহা ও বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে।
পেছনে শিলা গিয়ে নেহার হাত চেপে ধরে বললো–,,তুই কেনো এসেছিস এখানে?
নেহার ভাবলেশহীন জবাব–,,আমার বাপের বাড়ি তাই এসেছি।কিন্তু তুই কেনো এসেছিস?আবারও কাবাবে হাড্ডি হতে?তবে জেনে রাখ তোর কথা বিশ্বাস করে কেঁদে কে’টে পালিয়ে যাওয়া নেহা কিন্তু হারিয়ে গেছে।
নেহা কথাটা বলেই হো হো করে হেসে উঠলো।
শিলা রেগে বললো–,,তোকে ভালোবাসে না নিখিল!
–,,তাই!তাতে আমার কিছু যায় আসে না শিলা ডার্লিং!
শিলা রাগলো এ মেয়েটার এতো পরিবর্তন হলো কি করে?
নেহা নিজের হাতটা ঝাঁপটা মে’রে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো–,,আমাকে না চেনার অভিনয় টা ভালো ছিলো মিস শিলা।তোর ভাইয়ের আসল পরিচয় নিখিল কে বলে দিবো নাকি?
শিলা হকচকিয়ে বললো–,,কে সোহেল রানা?আমার কোনো ভাই টাই নেই!
নেহা হাসলো–,,ওপস!নিখিলের ফ্রেন্ড ওরফে প্রেমিকা ছিলে না তুমি?এতো মাখো মাখো প্রেম ছিলো তোমাদের, তা শিলা তোমার সে প্রেমিক তোমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলো কেনো?শুনো একটা সস্তা টিপস দিয়ে দেই তোমাকে।নিজের ভাইয়ের টাকায় খাও দাও ঘুমাও বুইড়া একটা ব্যাটা দেখে বিয়েও করে ফেলো হুদাই নিখিলের পেছনে পড়ে থেকে টাইম ওয়েস্ট করাটা বোকামি!
শিলা আঙুল উঁচিয়ে কিছু বলতে যাবে নেহা তার হাত মুচড়ে ধরে বললো–,,আগে অনেক শুনেছি, এবার শোনানোর পালা,আগে হারানোর অনেক কিছু ছিলো এখন কিছু নেই,কিচ্ছু নেই বুঝলে!আর যারা নিঃস্ব তাদের কে কেউ হারাতে পারে না এক মাত্র সৃষ্টি কর্তা ছাড়া!
ভালো চাইলে ফটাফট কে’টে পড়ো।
শিলা বেরিয়ে গেলো চেঁচিয়ে বলে গেলো –,,তোর সুখ আমি কে’ড়ে নিবো নেহা।আগেও নিয়েছি এবারও নিবো,নিখিল যে কোনো মূল্যে আমার হবে!
নেহা চুপচাপ দাড়িয়ে দেখলো শুধু মনে মনে বললো–,,আমার থেকে যা যা কেঁড়ে নিয়েছিস তুই, আমাকে যতটা কাঁদিয়েছিস তার থেকেও হাজার গুন বেশি কাঁদাবো আমি তোকে!
নেহা গাড়িতে গিয়ে বসলো তাকে যে এখন যেতে হবে,তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ টা যে তার অপেক্ষায়!যার জন্য সে ভ’গ্ন হৃদয়ের অধিকারী হয়েও বাঁচতে চেয়েছে,যার আবেশিত মুগ্ধতায় ঘেরা হাসি নেহাকে রোজ রোজ শক্তি জোগায়।যার জন্য এতো এতো বিষন্নতায় ও নেহা হাসে।যাকে ঘিরে নেহার পুরো পৃথিবী!
নেহা কে এতো রাতে বেরিয়ে যেতে দেখে নিলো সাব্বির।সে ছাদেই দাড়িয়ে ছিলো,নেহা এতো রাতে একা একা কোথায় যাচ্ছে!মনের ভেতর কেমন খচখচ করে উঠলো সাব্বিরের।একবার ভাবলো জেরিন কে মেসেজ দিবে,কিন্তু না এ মেয়ে একটা যা তা বাড়ি শুদ্ধ মাথায় তুলে ফেলবে এখন!
সাব্বির মিহির কে কল দিলো।রাত এখন একটা,মিহির ফোন রিসিভ করে বললো–,,কিরে তুই এখন?
–,,নিখিল ভাই কোথায়?
–,,পার্টি অফিসে বসে আছে শা’লা,আমি ল্যাব থেকে ফিরেছি কিছুক্ষণ হলো তাই আর যাই নি।সাহিলেরও আজ হসপিটালে নাইট ডিউটি পড়েছে আসতে পারবে বলে মনে হয় না।তুই বরং রাহাত কে ফোন কর।
সাব্বির ফোন করলো রাহাত কে,নিখিল কারো সাথে কথা বলতে চায় না।সাব্বির রাহাত কে বললো–,,ভাইয়া গিয়ে বলো ভাবির কথা বলবো!
রাহাত গেলো তবে ভয়ে ভয়ে নিখিল রেগে আছে অনেক।
রাহাত ইনিয়েবিনিয়ে বললো–,,নিখিল শুননা ভাই!
নিখিল চোখ পাকিয়ে তাকালো, রাহাত দাঁত কেলিয়ে বললো–,,সাব্বির তোকে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে ভাবি সম্পর্কে!
নিখিল ফোনটা হাতে নিলো,সাব্বির বিরক্তি নিয়ে বললো–,,তোমরা পারোও বাপু জামাই বউ মিলে সবাইকে মে’রে পরে শান্তি হবে তোমাদের।
নিখিল বিরক্ত হয়ে বললো–,,আসল কথাটা বল।
–,,নেহা এতো রাতের বেলা গাড়ি নিয়ে কই গেছে জানো তুমি!
নিখিল বসা থেকে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো–,,কিহ্!নেহা রাতে বাড়ির বাহিরে গেছে মানে?
–,,এ প্রশ্ন আমাকে কেনো করছো ভাই, আমি কি তোমার বাড়িতে থাকি নাকি?যাও নিজের বউ সামলাও গিয়ে!
শিশির এসে সাব্বির কে বললো–,,প্রেম করছিস রাত জেগে?
সাব্বির মুখ বাকিয়ে বললো–,,তোমার প্রেম করাতে কম পড়েছিলো নাকি ভাই।আমার প্রেম করার ইচ্ছে যা ছিলো তা কবেই ইহকাল ত্যাগ করছে!
শিশির কোমড়ে হাত গুঁজে দাড়িয়ে বললো–,,জেরিনের সাথে যে সারাদিন চিপকে থাকিস ওটা তাহলে কি?
সাব্বির চেঁচিয়ে বললো–,,তওবা তওবা!জেরিন আর আমি এসব ভাবলে কি করে?ও আমার চিরশত্রু এর সাথে কোনো দিনই যাবে না আমার!
শিশির গম্ভীর হয়ে বললো–,,তোদের ক্লাসের ইফতির সাথে জেরিন কে ঘুরতে যেতে দেখলাম।ওরা প্রেম করছে নাকি?
সাব্বির চোখ ছোট ছোট করে বললো–,,ওই গা””ঞ্জা খোরটার সাথে জেরিনের বাচ্চা কি করছিলো,আজই ওর ক্লাস নিচ্ছি আমি!
শিশির ভ্রু নাচিয়ে বললো–,ওর যা খুশি করবে তাতে তোর কি।তোর তো জেরিন শত্রু!
সাব্বির হনহনিয়ে চলে গেলো যেতে যেতে ফোন করলো জেরিনের নাম্বারে।এ মেয়ের প্রেম করার সখ যদি ঘুচিয়ে না দিয়েছে তো তখন নিজের নাম কাট’বে!
————-
রাত তিনটের কা’টা ছুঁই ছুঁই এখনো হসপিটালে বসে আছে
ইরফান।মেয়েটার জ্ঞান ফিরার নাম নেই যেনো।
ইরফান ফোন বের করে কল করলো কাউকে,বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পর রিসিভ করলো অপর ব্যক্তি।
ইরফান বলে উঠলো–,,এমপি সাহেব!
নিখিল বললো–,,অফিসার এতো রাতে কি খবর?
ইরফান সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললো–,,খবর তেমন ভালো নয়।অপ’রাধী এখনো হাতের নাগালের বাইরে। শহরে অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে কিন্তু কোনো কিছুই করে উঠতে পারছি না আমরা।
–,,আমিও চেষ্টা করছি,আশা করি খুব শিগ্রই ধরা পড়বে।অপরাধী যত চালাকই হোক কোনো না কোনো ভুল তো নিশ্চয়ই করবে।
ইরফান কথার বলার মাঝেই খেয়াল করলো কেউ একজন তার শার্ট আঁকড়ে ধরেছে,ইরফান সেদিকে লক্ষ্য করেই ফোন রাখলো।
ইরফান বেডের দিক তাকিয়ে থেকে বলে উঠলো–,,এই মেয়ে শুনছো?এই যে শুনতে পাচ্ছে তুমি!
আরুশি লাফ দিয়ে উঠে বসলো,দু হাতে মাথা চেপে ধরে রেখে বললো–,,ছোট্টু মিয়া!
ইরফান বলে উঠলো–,,ঠিক আছো তুমি?কে ছোট্টু মিয়া!
আরুশি এদিক ওদিক তাকালো ইরফানের দিক তাকিয়ে থেকে হঠাৎ করে দৌড় দিলো ইরফান শক্ত করে চেপে ধরে ফেললো তাকে।ধাক্কা মে’রে বেডের উপর ফেলে দিয়ে কিছুটা ধম’ক দিয়েই বললো–,,সারা রাত ধরে তোমার সামনে বসে আছি, আর তুমি কিনা আমাকে দেখে পালাচ্ছো?এই মেয়ে কি সমস্যা তোমার!
আরুশি ভীতু প্রকৃতির তবুও সাহস জুগিয়ে বললো–,,আপনি যদি ভেবে থাকেন সব প্রমান আপনাকে দিয়ে দিবো তবে ভুল ভাবছেন যত যাই হোক আপনার বস কে বলে দিবেন আরুশি কাউকে ভয় পায় না!
ইরফান চোখ ছোট ছোট করে তাকালো–,,কিসের প্রমান?
আরুশি মিন মিন করে বললো–,,আপনি ওই ডাক্তারের পাঠানো গু’ন্ডা না?
ইরফান অদৃশ্য কপাল চাপড়ালো পুলিশ কে সোজা ক্রিমি”ন্যাল বানিয়ে দিলো এ মেয়ে!
ইরফান বলে উঠলো–,,কোন ডাক্তার!
আর কিছু বলতে পারলো না ইরফান,আরুশি হুট করে এসে ইরফানের বুকের সাথে মিশে মুখ লুকালো।ইরফান কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেলো যেনো,মেয়েটা করছে টা কি! ইরফানের নজরে তখন গেলো কেবিনের দরজায়, কেউ একজন এসে দাড়িয়েছে।
ইরফান ডেকে বললো–,,কে আপনি?
মাক্স পরিহিতি মহিলাটি বলে উঠলো–,,ডক্টর।পেসেন্ট দেখতে এসেছি!
আরুশি মিহি সুরে বললো–,,না করুন প্লিজ এ ডক্টর আমাকে মার’তে এসেছে!
ইরফান অবাক হয়, তবুও মেয়েটার পুরো কথা আগে তাকে জানতে হবে শুনতে হবে।
ইরফান বললো–,,এখন থাক ডক্টর সকালে চেকআপ করিয়ে নিবো!
ডাক্তার যেতে চাইলো না,ইরফানের সন্দেহ হলো কিছুটা সে ডক্টরের উদ্দেশ্য বললো–,,ডক্টর আমি একজন পুলিশ অফিসার আর এ মেয়েটি একটা চোর,তার উপর মাথায় সমস্যা আছে বাধ্য হয়ে ভর্তি করিয়েছি এখানে, আপনাকে কাম’ড়ে দিতে পারে দয়া করে পরে আসুন!
ডাক্তার টি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে চলে গেলো।ইরফান বললো–,,চলে গেছে এবার সরুন আমার উপর থেকে।
আরুশি সরে গেলো,তার এলোমেলো কোঁকড়া চুল গুলো যেনো আরো ফুলে ফেঁপে উঠেছে,সেগুলোকে কোনো রকম পেঁচিয়ে নিয়ে বললো–,,থ্যাংস পুলিশ আংকেল!
ইরফান হতবাক হয়ে বলে উঠলো–,,আমাকে তোমার আংকেল মনে হয়!
আরুশি দাঁত দিয়ে জি:ব কে’টে বললো–,,সব সময় আংকেল পুলিশ দেখেছি মানে বয়স্ক,আপনার বয়স কতো?
ইরফান ধমক দিয়ে বললো–,,চুপ!বেশি কথা বলে তুমি!
আগে বলো পালাচ্ছিলে কেনো?আর রাতে ওইখানেই বা কি করছিলে!
আরুশি আমতা আমতা করে বললো–,,এ হসপিটালে থাকাটা নিরাপদ নয়,আমরা কি এখন যেতে পারি!
ইরফান বিরক্তি নিয়ে বললো–,,আমরা মানে?তুমি একা যাবে আর আমিও যে যার রাস্তায়।
আরুশি বলে উঠলো–,,রাস্তা চিনি না তো আমি!
ইরফানের বিরক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছালো মেয়েটা ইয়ার্কি পেয়েছে নাকি!
ধমক দিয়ে বললো–,,একা রাতের বেলা বেরিয়ে পড়েছো কেনো ইডি”য়েট!বাবা মা কিছু বলে না নাকি?বাড়ির মানুষ কে চিন্তায় ফেলে নাচানাচি করে বেড়াও!পড়ে কিছু হলেই পুলিশদের হয়রা’নি।
আরুশি চুপসে গেলো,ইরফান ফের বললো–,,বাসা কোথায়?
–,,নেই!
ইরফান রেগে বললো–,,লাগাবো এক চ’ড় বয়স কতো তোমার?বাসা থেকে পালিয়ে এসেছো নাকি মেয়ে!
আরুশি উঠে দাড়িয়ে বললো–,,পালানোর জন্য হলেও একটা থাকার জায়গার প্রয়োজন হয় মিস্টার!যাই হোক আপনি আমাকে বাঁচিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ।এবার আমি আসি।
ইরফান বললো–,,কার কাছ থেকে বাঁচতে পালাচ্ছিলে তুমি?কিসের প্রমানের কথাই বা বলছিলে?
–,,পুলিশদের বিশ্বাস করি না আমি।সব গুলোতে মিলে ঘু’ষ খায়!
ইরফান আরুশির হাত চেপে ধরে বললো–,,মুখটা একটু বেশিই চলে মনে হয়।যা বলছি তার উত্তর দেও না হয় একদম এখানেই শু”ট করে দিবো।
আরুশি ব”ন্ধুক দেখেই ভরকে গেলো এ লোক কথায় কথায় পি”স্তল বের করে কেনো?
ইরফান পি”স্তল তাক করেই বললো–,,বলো বাড়ি কোথায়?
–,,সত্যি জানি না পুলিশ আংকেল স্যরি স্যরি পুলিশ ভাইয়া!
–,,বাবা মায়ের নাম্বার দাও!
–,,আমার বাবা মা নেই!
–,,এ মেয়ে ঠিক করে বলো তো কি চাইছো টা কি?
আরুশি এবার কেঁদে ফেললো–,,দেখুন এভাবে ধম”ক দিবেন না।কেউ এরকম করে আমাকে কখনো ধম’ক দেয়নি।আর কি কখন থেকে বাবা মা বাড়ি নিয়ে জিজ্ঞেস করছেন?আমি তো এসব কোনো দিন দেখিই নি আমি বড় হয়েছি একটা অনাথ আশ্রমে।বাড়ি ঘর বাবা মা কিচ্ছু নেই আমার!
ইরফান বন্ধু’ক নামিয়ে নিলো।বললো–,,ওকে বুঝলাম!এখন বলো কিসের প্রমান?
তখনই বাহিরে বিকট শব্দ হলো নার্সরা ছুটোছুটি করছে আর বলছে ওই কেবিনটায় আগু’ন লেগে গেছে!
ধোঁয়া দেখে আঁতকে উঠলো আরুশি।সে ইরফান কে বললো, আপনি এখান থেকে চলে যান প্লিজ ওরা না হয় আমার সাথে সাথে আপনাকে ও মে’রে ফেলবে!আমি ম’রে গেলে কারো কোনো কিছু হবে না।আপনি তো পুলিশ আশা করি আপনি আমার হয়ে ওই গু’ন্ডাদের ধরে ফেলতে পারবেন। আরুশি দ্রুত কোটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা কাগজ বের করতে চাইলো!
তখনই নিজেকে শূন্য আবিষ্কার করলো।ইরফান আরুশিকে কাঁধে তুলে কেবিন থেকে বেরিয়ে পড়লো ধোঁয়ার মাঝখানে।
বাহিরে বের হতেই ইরফান পুলিশ স্টেশনে ফোন করলো নিজেদের আড়াল করলো একটা গাছের পেছনে!
———-
পরের দিন একটা সুন্দর সকালকে স্বাক্ষী করে রাহা বেরিয়েছে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে আজ তার প্রথম দিন।যদিও ক্লাস শুরু হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগে।
রাহা ভার্সিটি প্রবেশ করতেই কিছু সিনিয়র এর পাল্লায় পড়লো।
রাহাকে নানান কথা বলতে থাকলো তারা।না পেরে রাহা রাগের মাথায় এক সিনিয়র কে চ’ড় বসিয়ে দিয়েছে!
রৌফ তখনই আসছিলো মাঠের মধ্যে দিয়ে,রাহা কে দেখে চিনতে ভুল হলো না, মেয়েটা ভার্সিটি না এসেই মারা’মারি জুড়ে দিয়েছে!চ’ড় মা’রাটা যেনো মেয়েটার স্বভাব হয়ে দাড়িয়েছে।
রৌফ ধম’ক দিয়ে জিজ্ঞেস করলো –,,কি হচ্ছে এখানে?
আর এই তোমরা কোন ইয়ার?
ছেলে মেয়ে গুলো বলে উঠলো–,,স্যার সেকেন্ড ইয়ার!
আর এই মেয়ে তুমি?
–,, ফাস্ট ইয়ার।
–,,বড়দের সাথে বেয়াদ’বি?স্যরি বলো এখনি!
রাহা রেগে বললো–,,দো’ষ না করেও স্যরি আমি বলি না।ওনারা দোষ করেছে ওনাদের স্যরি বলতে বলুন!
ছেলে মেয়ে গুলো চোখ ছোট করে চাইলো,রৌফ যথেষ্ট রাগী শিক্ষক। ফাস্ট ইয়ারে ওদের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিলো আর এ মেয়ে কিনা তার সাথে এরকম ভাবে কথা বলছে!
রৌফ রেগে বললো–,,এখনই চলো ডিপার্টমেন্ট হ্যা”ডের রুমে।
রাহা আগে আগে গেলো, দোষ করেনি এতো ভয় পাওয়ার কি আছে!
রুমে দাড়িয়ে সবাই।ছেলে মেয়ে গুলো ভালো মানুষের মতো বলে উঠলো–,,রাহা তাদের মধ্যে একজন কে চ’ড় মেরে’ছে!
রাহা বলে উঠলো–,,স্যার!ওই ভাইয়া কে না আমি চিনি না তার সাথে আমার কোনো শত্রু”তা আছে।আর ভার্সিটিতে আমার আজই প্রথম দিন, তারা ডাকায় যাই আমি।পরে অনেক আজে”বাজে মন্তব্য করেছে আমাকে,তাই চ’ড় দিয়েছি আমি!
রৌফ বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বললো–,,তোমার কাছে তো মনে হয় সবাই তোমাকেই পায় শুধু আজে”বাজে কিছু বলার জন্য! দুনিয়ায় মেয়ের অভাব পড়েছে!
রাহা সামনে বসে থাকা বয়স্ক ব্যক্তিটা কে এতোক্ষণে খেয়াল করলো,তার বাবা!
রাহা কিছু মুহূর্ত চুপ করে রইলো পরক্ষণেই বলে উঠলো–,,স্যার আমরা ভার্সিটিতে আছি আপনার ব্যক্তিগত আ”ক্রোশ এখানে দেখাবেন না!
বয়স্ক ব্যক্তি বলে উঠলো–,,রৌফ মেয়েটি তোমার পরিচিত নাকি?
রৌফ বলে উঠলো–,,না!
ডিপার্টমেন্টের প্রধান জিজ্ঞেস করলেন –,,তোমার নাম?
–,,,রাহিয়া নূর রাহা!
শহিদুল চৌধুরী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো বাবার নাম?
রাহা কিছু মুহূর্ত চুপ করে বললো–,,শহিদুল চৌধুরী!
রৌফ ফা’টা চোখে তাকালো রাহার দিকে!একবার তাকালো সামনে বসে থাকা শহিদুল চৌধুরীর দিকে।
শহিদুল চৌধুরী সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্টদের দিকে তাকিয়ে বললো–,,রাহাকে স্যরি বলো। পরের বার যদি এরকম করেছো তো তোমাদের বাবা মা কে বলতে বাধ্য হবো আমি!
ওরা স্যরি বলে বিদায় নিলো।রাহা ও বেরোতে নিলো শহিদুল চৌধুরী পিছু ডেকে বললো–,,নূর!
রাহার পা না চাইতেও থেমে গেলো,নিজেকে যথেষ্ট শক্ত করে সামনে ফিরে বললো–,,স্যার আমাকে বলছেন?
শহিদুল চৌধুরী করুন কন্ঠে বললো–,,বাবার প্রতি এতো অভিমান মা!চিনেও একবার বাবা বলে ডাকলে না!
রাহা কিছু বলতে পারলো না দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো সে।রৌফ শুধু দুজন কে দেখে গেলো এতোক্ষণ!
নেহা এসেছিলো রাহার সাথে দেখা করতে।ভার্সিটির বাহিরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে, ক্লাসে থাকবে ভেবে ফোন করছে না।সাথে অবশ্য তাহমিদা বেগমও ছিলেন তিনি সামনে দোকানটায় গিয়েছে!
নেহা গেইটের পাশে দাড়িয়ে, হঠাৎ কোথা থেকে নিখিল এসে নেহা কে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে চাপা রাগী কন্ঠে বললো–,, রাতে কোথায় গিয়েছিলি বল?বাসায় ও যাসনি!
নেহা মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললো–,,সব কৈফিয়ত আপনাকে দিতে বাধ্য নই আমি!
–,,নেহা রাগাবি না আমায়!
–,,রাস্তা ঘাটে একটা মেয়ের সাথে এভাবে জোরজব”রদস্তি
করছেন এমপি সাহেব?আজ আপনার মান সম্মান কমে যাবে না বুঝি!
–,,না যাবে না।আগে বল এতো রাতে ঘর থেকে কোন সাহসে বেরিয়েছিস আর কোথায় গিয়েছিস!
–,,বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে!
নিখিল রেগে নেহার গাল চেপে ধরে বললো–,,অনেক বার বেড়েছিস নেহা,কিচ্ছু বলি না তার মানে এ না কিছু বলবো না।আমি ব্যতিত অন্য পুরুষের নাম মুখেও নিলে জানে মে’রে দিবো তোকে!
চলবে?