#প্রণয়ের_সুর২
#পর্ব৬
#মহুয়া_আমরিন_বিন্দু
সাব্বির জেরিনের দিক ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে,জেরিন বিরক্ত হয়ে বললো–,,কি ভাই এভাবে কি দেখছিস?রূপ বেড়েছে নাকি আমার!
সাব্বির কাঁদো কাঁদো ফেইস বানিয়ে বললো–,,তোর আর রূপ ওই তো সব সময় পে’ত্নীর মতোই থাকবে যতই আটা ময়দা ঘষা”মাজা করিস না কেনো!
জেরিন রেগে তাকালো।সাব্বির বলে উঠলো–,,আচ্ছা স্যরি স্যরি।এখন বল তুই কি করে জানলি?যে কথা নিখিল ভাই ও জানে না।
–,,সকালে হঠাৎ রাস্তায় সেজো মা কে দেখেছি,সাথে রাহা ছিলো আর একটা বাচ্চা।বাচ্চাটা দেখতে অনেকটাই নেহার মতো,আমি যদিও লুকিয়ে দেখেছি কিন্তু বাচ্চাটা সেজো মা কে নানু ভাই ডাকছিলো,ধর অন্য কারোর বাচ্চা যদি হতো তাহলে এতো ভালো ব’ন্ডিং কি করে হবে।তাই আমার মনে হচ্ছে এটা নিখিল ভাইয়ার মেয়ে!
সাব্বির জেরিনের মাথায় একটা ঠে’লা মার’লো বলে উঠলো–,,আগে সিউর হ, কোনো কিছু নিশ্চিত না হয়েই কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে।আগে খোঁজ নিতে হবে।
–,,ওদের ঠিকানা কোথায় পাবো?
–,,মাথা মোটা কয়েকদিন একটু নজর রাখলেই তো হয়ে যাবে।তুই চিন্তা করিস না আমি দেখছি বিষয় টা।
–,,দেখ ভাইয়া কে কিন্তু কিছু বলবি না।এমনিতেই অনেক সমস্যা চলছে পরিবারে, এসব শোনার পর তো ভাইয়া আরো রেগে যাবে।
সাব্বির জেরিন কে নানান কথা বলছে আরো,এর মধ্যে ওদেরই জুনিয়র একটা মেয়ে এসে দাঁড়ালো সাব্বিরের সামনে।
সাব্বির খেয়াল করেও করলো না যেনো।জেরিন ও তেমন পাত্তা দিলো না সে তো জানে মেয়েটা সাব্বির কে পছন্দ করে, জেরিন তো কয়েকবার সাব্বির কে খোঁচা মে’রে বলেছে–,,যা সুন্দর আছে প্রেম টা এবার করেই ফেল।
কিন্তু সাব্বির?ছেলেটা নিজের ভাইয়ের ছেকা খাওয়ার স্টরি শুনিয়ে শুনিয়ে কান পঁ’চিয়ে ফেললো একবারে!
নিশি বলে উঠলো –,,সাব্বির ভাইয়া,আমার না আপনাকে অনেক বেশি পছন্দ! পছন্দ না আসলে আমি আপনাকে ভালোবাসি।
সাব্বির এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো–,,আর কিছু বলবে?
নিশির মুখটা বেলুনের মতো চুপসে গেলো।মুখ কালো করেই বললো–,,কেনো? আমাকে ভালোবাসা যায় না!
সাব্বির গম্ভীর হলো অনেকটা –,,শোনো নিশি,তোমাকে হয়তো ভালোবাসা যায়!তবে সেটা অন্য কারো ক্ষেত্রে সম্ভব হবে, জানো তো এক মনে এক জনের বেশি মানুষ কে জায়গা দেওয়া যায় না।আমি একজন কে ভালোবাসি, আর বাকি জীবন যত দিন বাঁচবো শুধু তাকেই ভালোবাসবো।তাই দুঃখীত তোমার ভালোবাসা গ্রহণ করার মতো সাধ্য আমার নেই!
সাব্বির কে এতো সিরিয়াস হতে দেখে জেরিন কিছুটা চিন্তিত হলো, এই ছেলেও প্রেম টেম করে কই তাকে তো বললো না আর না এমন কিছু চোখে পড়েছে কখনো।ভালো করে চেপে ধরতে হবে বজ্জা’ত টাকে।
নিশি জেরিনের দিক তাকিয়ে বললো–,,জেরিন কে ভালোবাসেন আপনি?
জেরিন চমকে উঠলো যেনো, বলে কি এই মেয়ে!জেরিন কে চোখ বড় বড় করে তাকাতে দেখে সাব্বির মুচকি হেসে বললো–,,না!
জেরিন জোরে বলে উঠলো–,,আল্লাহ বাঁচাইছে!
সাব্বির উঠে চলে গেলো জেরিন পিছু নিয়ে বললো–,,আরে ভাই দাঁড়া তো,কোন রমনীর সহিত তোমার এতো গভীর প্রণয় আমাকেও তো বলে যা!
বেশ কিছু সময় জেরিন সাব্বির কে জিজ্ঞেস করলো নানান প্রশ্ন করলো কিন্তু ছেলেটা যেনো মুখে তালা দিয়ে রেখেছে।
জেরিন সাব্বির বাড়ির কাছে চলে এসেছে প্রায়।ঠিক তখনই নিরবতা ভেঙ্গে সাব্বির বল উঠলো–,,আচ্ছা জেরিন সত্যি কি তুই বেঁচে যাবি আমি তোকে ভালো না বাসলে!
জেরিন প্রশ্ন টা বুঝতে পারলো না প্রথমে,চোখ ছোট ছোট করে রেখে বললো–,,কিরে কি হলো টা কি তোর?শিশির ভাইয়ার ভু’ত চাপলো নাকি মাথায়?
সাব্বির বললো–,,যা তো বাড়ি যা।
সাব্বিরের চলে যাওয়ার দিক কিছু পল তাকিয়ে রইলো জেরিন।কি হলো হঠাৎ ছেলেটার!কি সব ভালোবাসার কথা বলে গেলো?
————-
নেহা!
নেহা অন্যমনস্ক হয়ে বসে ছিলো,কখন থেকে যে নিখিল তার দিক তাকিয়ে সেদিকে খেয়ালই নেই মেয়েটার!
নিখিল স্পষ্ট দেখেছে,নেহা মোবাইলে কিছু একটা দেখেছে তার পর থেকেই গম্ভীর হয়ে বসে আছে।
–,,কি এমন লুকাচ্ছিস বল তো!
নেহা হঠাৎই যেনো বিষম খেলো আমতা আমতা করে বললো–,,কই কিছু না তো!
নিখিল নেহার এক হাত টেনে নিজের খুব কাছে নিয়ে আসে।চোখে চোখ রেখে বললো-,,তোর থেকেও বেশি চিনি আমি তোকে!
নেহা হেসে ফেললো তাচ্ছিল্য করে বললো–,,সত্যি আপনি আমাকে আমার থেকে বেশি চিনেন?যদি সত্যি চিনতেন তাহলে আজ আমাদের মধ্যে এতো দূরত্ব থাকতো না।আমাদের বিচ্ছেদ হতো না নিখিল!
নিখিল তাকিয়ে আছে এখনো।নেহা দূরে সরে দাঁড়ালো!
–,,বল কি করলে তোকে আবার ফিরে পাবো?কি করলে তোর মনে হবে আমি তোকে শুধু তোকেই ভালোবাসি!
–,,ভালোবাসা কখনো বলে কয়ে হয় না।এটা উপলব্ধি করতে হয়,মানুষ যখন কাউকে ভালোবাসে তখন অপর ব্যক্তি সেটা উপলব্ধি করতে পারে!
জানেন তো আমার প্রায় মনে হতো আমার ভালোবাসায় এতো কিসের কমতি ছিলো?যা আপনার মন ছুঁতে পারেনি! আমি কি আপনাকে কম ভালোবেসেছি?নাকি আমি কখনো ভালোবাসতেই পারিনি যার জন্য আপনার এতটুকু বিশ্বাসও আমি অর্জন করতে পারিনি!
জানেন নিখিল আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে কোন বিষয় টা?আপনাকে আমি এতো করে চাইলাম, এতো এতো বেশিই চাইলাম যার জন্য সৃষ্টিকর্তা আপনাকেই আমাকে দিলেন না।আপনি আমাকে আমার মতো করে এক ফোঁটা ও ভালোবাসলেন না।আমি হারিয়ে গেলাম তাও আপনি আমাকে একটু মনেও করলেন না।জানতে ও চাইলেন না আমি বেঁচে আছি নাকি ম’রে গেছি।আপনি আজও অন্য কারো সেদিনও অন্য কারো ছিলেন!
আসলে দোষটা আমারই, আমি আপনাকে চেয়েছি নিজেকে হারিয়ে, আপনাকে চাইতে চাইতে নিজেকে এতোটা নিচে নামিয়েছি আর উপরে উঠতেই পারলাম না,তার আগেই ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিলেন আপনি আমাকে,বুঝিয়ে দিলেন সবাই সব কিছুর যোগ্য হয় না!আপনার মতো যোগ্য ব্যক্তির সাথে নেহার মতো অযোগ্য কাউকে মানায় না।
আত্নসম্মান বিসর্জন দিয়ে আপনাকে চাইলাম।
নিজের সবটুকু দিয়ে শুধু আপনাকেই চেয়েছিলাম।
কিন্তু আফসোস আপনি আমার হলেন না!
আপনি আমাকে একবারের জন্য ও চাইলেন না!
আপনি সেদিন আমাকে হারিয়েছেন যেদিন অন্যের কথা বিশ্বাস করেছিলেন।আমার বিশ্বাস সেদিন হারিয়েছেন যেদিন আপনি অন্য কারো জন্য আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।হয়তো আমি ভুল,আমি আপনাকে বুঝতে পারিনি আপনার মতো করে আপনাকে চাইতে পারিনি,আপনাকে ভালোবাসতে পারিনি।ভুল করলে মাশুল দিতে হয়!তাই এখন সে ভুলের মাশুল দিতে এসেছি।আপনি চিন্তা করবেন না নিখিল আমি ফিরে এসেছি তার মানে এই নয় আপনার জীবনে আবার অধিকার ফলাতে এসেছি।আপনি এখন আমি থাকায় শিলা কে রি”জেক্ট করছেন!তার দরকার নেই চাইলে বিয়ে করতে পারেন,আপনার বিয়েতে আমার কোনো আপত্তি নেই,আপনি যেদিন খুশি বিয়ে করতে পারবেন।ডিভোর্স পেপার তৈরি হয়ে গেছে,খুব তাড়াতাড়ি আমরা সব সময়ের জন্য আলাদা হয়ে যাবো,এতোদিন তো তাও একটু আধটু জোড়াতালি দেওয়া সম্পর্ক ছিলো সেটাও আর থাকবে না!
নিখিল গম্ভীর কন্ঠে বললো–,,এক পক্ষ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া কি উচিত নেহা?
–,,কেনো এ কথা বলছেন?
–,,আমার দিক টা চিন্তা করেছিস কখনো?কখনো কি বলেছি বলতো একবারের জন্য ও কি আমার মুখ দিয়ে বের হয়েছে?নেহা চলে যা আমার জীবন থেকে তোকে আমি ভালোবাসি না!
–,,সব কথা মুখে বলতে হয় না,কিছু কথা মানুষের আচরণে বুঝা যায়!
যাই হোক কথা না বাড়ানোই উচিত।বাড়ি যেতে হবে আমাকে!
নিখিল নেহার দু হাত মুঠোয় নিলো –,,তাকা আমার দিকে!
নেহা তাকালো না শুধু বললো–,,আমার দেরি হচ্ছে যেতে হবে আমায়!
–,,কেনো পালাতে চাস বার বার?
নেহা তাকালো এবার,চোখ দুটি কেমন ঘোলাটে তার কন্ঠ কাঁপছে রীতিমতো। জি’ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো–,,কারন আমি আরেকবার আপনার কথা জা’লে ফাঁ”সতে চাই না।আমি আরো একবার ঠক’তে চাই না।আমি আরো একবার ভালোবাসার মতো ভুল করতে চাই না নিখিল!
আমি আপনার মতো নই,নিজেকে সামলাতে পারি না
আপনার মতে –,,নেহা বোকা,সহজসরল, হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলানোর মতো মেয়ে,দুটো চকলেট দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার মতো মেয়ে,ঘুরেফিরে লাফাতে থাকা মেয়ে।বাচ্চাদের মতো অবুঝ নেহা।
আমি আরো একবার সে রকম হতে চাই না।যে নেহাকে দেখে আপনি ভুলেই গিয়েছিলেন এতো কিছুর ভিড়েও ওই মেয়েটার ও একটা মন আছে।ওই মেয়েটার সব কিছু শুধু
মজার ছলে করা বোকামি নয়।
ভালোবাসা কখনো বোকামি হতে পারেই না।তবে একটা রিকুয়েষ্ট নিখিল যদি কখনো কাউকে ভালোবাসতে না পারেন তো সরাসরি বলে দিবেন।কারো ফিলিংস নিয়ে এতো বা’জে ভাবে খেলবেন না।নেহা বোকা ছিলো সয়ে নিয়েছে। অন্য কেউ হয়তো নিবে না!বোকারা বার বার একই বোকামি করবে ভেবে থাকলে ভুল করছেন আপনি!
যে বোকা সহজ সরল নেহা আপনাকে ভালোবাসতো,আপনার ভালোবাসা পেতে সারাদিন পাগ’লামি করতো, সে নেহা পাঁচ বছর আগেই ম’রে গেছে!ম’রে গেছে আপনার নেহা ম’রে গেছে!নিখিল মেহমেত চৌধুরী আপনি নিজ হাতে খু’ন করেছেন তাকে।
নেহা কথা গুলো বলে হাঁপিয়ে উঠলো যেনো।শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে মেয়েটার।নিখিল নেহার গালে হাত রাখলো অধৈর্য হয়ে বললো–,,কি হয়েছে জান।কেনো এমন করছিস?আমি জানি আমি ভুল করেছি,যা শা’স্তি দিবি মাথা পেতে নিবো,তাও দ্বিতীয় বার ছেড়ে যাওয়ার কথা বলিস না প্লিজ!
নেহা চোখ বন্ধ করতে করতে কাঁপা কন্ঠে বলে উঠলো–,,না..মি..রা!
নেহা নিখিলের কোলে ঢলে পড়লো।নিখিলের পাগ’ল প্রায় অবস্থা। নেহা কে কোলে তুলে নিলো গাড়িতে উঠালো, হসপিটাল যেতে হবে তাকে।হিতাহিত জ্ঞা’ন ভুলে বসেছে যেনো।
হসপিটালে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগলো নিখিলের, নেহার মাথা কোলে রেখেই ড্রাইভ করেছে এতোক্ষণ। মেয়েটার কিছু হলে কিছুতেই বাঁচবে না নিখিল।মেয়েটা কি ভাবে কি নিজেকে?সে শুধু একাই ভালো বাসতে জানে?নিখিল ওকে খুঁজেনি!পুরো দেশে খুঁজেছে কোথাও পায়নি মেয়েটাকে, কোন দেশে গিয়েছে সেটাও জানতে পারেনি,রোজ রোজ নেহার মামাকে রিকুয়েষ্ট করেছে বলার জন্য নেহা কোথায় শুধু যাতে একবার তাকে বলে। মেয়েটা ভুল বুঝে কিছু না জানিয়ে চলে গেলো?নিখিল কি করে বেঁচে আছে একবারও জানতে চেয়েছে বুঝতে চেয়েছে? পারে শুধু কোনো না কোনো একটা কাহিনি করতে, নেহা কি জানে না তাকে এমন অবস্থায় দেখলে নিখিলের ক’লিজা ফে’টে যায়,তার পরও মেয়েটা সব সময় তাকে কষ্ট দিবে তার বেলায়?ভুল বুঝাবুঝি থাকবে তাই বলে ছেড়ে চলে যাবে!নিখিল স্বীকার করে তার ই ভুল সে দো’ষী একটাবার সুযোগ তো দিবে নিজেকে সুধরে নেবার?না সবাই তো তাকেই আ’সামি বানিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে তো রেখেছেই নামানোর নাম নেই!
———
হসপিটালে নেহা বাড়ির সবাই এসে পড়েছে প্রায়।আইরিনের বিয়ে মেয়েটাকে বিদায় দিতে না দিতেই নিখিলের ফোন।শহিদুল চৌধুরী এসেছে সবার আগে,কতোদিন পর মেয়েকে দেখবেন তিনি,মনটা কেমন বিষন্নতায় ছেয়ে গেলো তার।
শাহআলম চৌধুরী বেশ চ’টেছেন নিখিলের উপর। ওর জন্যই মেয়েটা অসুস্থ হয়েছে।
নিখিল রেগে বেরিয়ে গেলো।বাড়ি শুদ্ধ মানুষ তার বিপক্ষে সবাই আদরের মেয়ের পক্ষে! নিজের বাড়ির লোক ভি’লেন বানিয়ে দিলো এভাবে!
তাহমিদা বেগম কে কেউ খবর দিতে পারলো না সহজে,কি করে দিবে ফোন নম্বর বা ঠিকানা কিছুই নাই তাদের কাছে।রাহার কলেজে দেওয়া ইনফরমেশন থেকে নাম্বার নিয়ে তাতেই ফোন দিয়েছে শেষ মেশ।
বেশ কিছুক্ষণ পরই হসপিটালে আসলো রাহা।শহিদুল চৌধুরী অধির অপেক্ষায় ছিলেন কখন তাহমিদা বেগম আসবেন।মানুষ টার সাথে এতো দিনের পথ চলা তার তবুও কতোদিন হলো সামান্য চোখের দেখাটাও দিলো না।এতো অভিমানী তার অর্ধাঙ্গিনী!
রাহা ছু্টে গেলো কেবিনের বাহিরে।ডাক্তার কথা বলতে ডেকেছে যে কোনো একজন যেতে পারবে যে নেহা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে।
রাহা এগিয়ে গিয়ে বললো–,, আমাকে বলুন,আমি জানি আপু আগে কতোটা অসুস্থ ছিলো তার কি কি সমস্যা আছে!
ডাক্তার প্রথমে একবার বললো–,,বড়রা কেউ!
রাহা কিছুটা বিরক্ত হয়েই বললো–,,দেখুন উনারা কেউ আমার আপুকে চিনে না।বলতে ও পারবে না তার সম্পর্কে কিছু, বলার হলে আমাকে বলুন!
শাহআলম চৌধুরী ডাক্তার কে বুঝিয়ে বললেন রাহা কেই বলতে।রাহা হসপিটালে আসার পর কারো দিকে একবারের জন্য ও তাকায়নি।সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে রোহান,তারা কতো ভালো বন্ধু ছিলো,আর রাহা কতো চিকন হয়ে গেছে আগের তুলনায়,মেয়েটা পুরোপুরি বদলে গেছে!
ডাক্তার বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর বললো–,,তাহলে রাহা, তোমাদের উচিত হবে পুরনো ডক্টরের পরামর্শ নেওয়া আপাতত আমি মেডি’সিন দিচ্ছি।যেহেতু ব্রেনে চাপ পড়েছে তাই না জেনে বুঝে কিছু করছি না আমি।চিন্তার কিছু নেই বেড রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে!
রাহা কথা গুলো তাহমিদা বেগম কে জানিয়ে দিয়েছে।ডক্টর এটাও বলেছে পেসেন্ট অনেক বার বির বির করে কারো নাম নিয়েছে, তাকে যাতে আনা হয় দ্রুত।
রাত হয়ে এসেছে,সবাই কে এক প্রকার বাধ্য করা হলো বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য হামিদা বেগম থেকে গেলেন সাথে রাহা।
সবাই চলে যেতেই হামিদা বেগম বললো–,,আমাকে ভুলে গেছিস?রাহা মা!
রাহা তাকালো তার দিকে ছোট করে বললো–,,না!তোমাকে কি করে ভুলে যাবো বড় মা!
–,,এখনো রাগ করে থাকবি বড় মায়ের উপর?কথা বলবি না!
রাহা তাকালো মেয়েটার চোখে পানি।এতোটা সময় নিজের কাছের মানুষ গুলোকে পেয়েও নিজেকে কঠিন করে রাখতে রাখতে হাঁপিয়ে উঠেছে সে।আর কতো সময় অনুভূতি চেপে রাখা যায়!
কেঁদে উঠলো রাহা।হসপিটালে সাহিলের সাথে দেখা করতে এসেছিলো রৌফ,হুট করেই বেঞ্চে বসে থাকা রাহার দিক নজর পড়লো তার।এই মেয়েটা কাঁদতে ও পারে!কতো রূপ কতো প্রহেলিকা এই নারীতে।
রাহা জড়িয়ে ধরলো হামিদা বেগম কে। এর মধ্যেই তাহমিদা বেগম আসলেন।হামিদা বেগম তাকে দেখেই ছুটে গেলেন জড়িয়ে ধরে বললো–,,কেমন আছিস সেজো!
এতো রাগ বোন টাকেও একবার বলে যাওয়া গেলো না।
তাহমিদা হামিদা বেগম কে জড়িয়ে ধরলো বললো–,,আপা কি করে ভালো থাকি বলো,আমার মেয়েটা!আমার মেয়েটা আমার কলি’জাটা যে ভালো নেই আপা,দেখো না মা’কে কষ্ট দিতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লো।মেয়েটা কবে আবার হাসবে কবে ভালো থাকবে পুরোপুরি, আমি মা হয়ে যে এসব আর সইতে পারছি না!
তাহমিদা বেগমের পেছন থেকে একটা বাচ্চার কন্ঠস্বর শোনা গেলো–,,মাম্মা!মাম্মা কো’তায়।
রাহা হাতের ইশারা করতে দেরি দৌড় দিতে দেরি হলো না মেয়েটার।হামিদা বেগম হতবাক হয়ে চেয়ে রইলেন কতক্ষণ।
নামিরা ছোট্ট ছোট্ট হাতে কেবিনের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়লো।হামিদা বেগমের অবাকের রেশ কাটলো না এখনো তবুও পিছু গেলো সাথে তাহমিদা বেগম আর রাহা।
বেডের কাছে গিয়েই নামিরা কেঁদে উঠলো। গোলাপি ঠোঁট জোড়া উল্টে মাম্মা বলে ডেকে উঠলো।
নেহার একটা হাত দু হাতে জড়িয়ে ধরলো মাথাটা বুকে এলিয়ে দিয়ে বললো–,,মাম্মা মাম্মা উ’তো দে’কো নামিরা এসেছে!
চলবে?