প্রণয়ের সুর ২ পর্ব-০৭

0
1129

#প্রণয়ের_সুর২
#পর্ব৭
#মহুয়া_আমরিন_বিন্দু
হামিদা বেগম ধ’প করে নেহার বেডের এক পাশে বসে পড়লো।তার নির্বাক চোখ শুধু ফুলের মতো বাচ্চাটার দিকে।
আনমনেই একবার আওড়ালো–,,আমার নাতনি!

তাহমিদা বেগম কিছু বলতে পারলেন না,কিই বা বলবেন তিনি।তার মেয়েই জানাতে চায় নি তার সন্তানের কথা সেখানে তিনি আর কি করতে পারতেন!

নেহার জ্ঞান ফিরে আসলো, মেয়েটা মলিন মুখে চমৎকার হাসলো নামিরাকে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরে ধীর কন্ঠে বললো–,,মাম্মা ঠিক আছে তো সোনা কান্না করছো কেনো?নামিরা তো মাম্মার সাহসী বাচ্চা এইটুকুতে কাঁদলে হয় নাকি?মাম্মা কখনো তার নামিরা কে ছেড়ে যাবে না।

হামিদা বেগম কেঁদে ফেললেন এবার নেহা এবার সেদিকে তাকালো,তবে সে অবাক হলো না।রাহার সাহায্য উঠে বসলো বালিশে হেলান দিয়ে নামিরা কে কোলে চাপিয়ে জড়িয়ে রাখলো বেশ কিছুক্ষণ।

হামিদা বেগম কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে তখনই নেহা বলে উঠলো–,,নামিরা দেখো কে এসেছে দিদি ভাই!

নামিরা হামিদা বেগমের দিক তাকিয়ে ফিক করে হেসে বললো–,, তুমি পাপার মাম্মা?মাম্মা তোমা’ল গ’প্প বলেছে আমাকে!

হামিদা বেগম নেহার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে বললো–,, কেনো এতো বড় শাস্তি দিলি আমাকে মা?আর আমার ছেলেটা যত বড় ভুলই করুক সে তো বাবা তাকে কেনো একবার জানালি না?

নেহা চুপ করে রইলো মলিন হাসলো শুধু।রাহা গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো–,,তোমার ছেলে নিজের সুখ নিজের হাতে নষ্ট করেছে বড় মা।এখন তোমার মনে হতে পারে ছোট মানুষ হয়েও আমি বড় বড় কথা বলছি,বেয়া’দবি করছি যদি তেমন কিছু মনে হয় তো আমাকে মাফ করো,তার পরও আজ বলতে হবেই, আপু তো ভাইয়া কে জানাতেই চেয়েছিলো,কিন্তু যেদিন জানানোর সময় হয়েছিলো সেদিনই তোমার ছেলে আমার বোন কে অবিশ্বাস করেছিলো,সেদিনই বাড়ি থেকে চলে যেতে ও বলেছিলো।তোমার কি মনে হয় যে ব্যক্তি আমার বোনকে কথায় কথায় সন্দেহ করতো,সে যে আমার বোনের বাচ্চার বাবা কে এটা নিয়ে সন্দেহ করতো না তার কি নিশ্চয়তা আছে!একটা মেয়ের কাছে এর থেকে বড় কষ্টের আর কিছুই হতো না।নিখিল ভাইয়ের কোনো দরকার নেই নামিরা কে বড় করার জন্য আমরাই যথেষ্ট! যে বাবা নিজের বাচ্চাকে মেনে নিবে কিনা সন্দেহ তাকে না জানানোই উচিত তার আদো কোনো সন্তান আছে!
রাহা কথা গুলো বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।নেহা নিশ্চুপ হয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে।হামিদা বেগম কি বলবেন বুঝতে পারছেন না,নেহা কোথাও না কোথাও একটা জায়গায় ঠিক,তার পরও তিনি এটা মানতে পারছেন না নিখিল নিজের বাচ্চা কে অস্বীকার করবে।এতোটা খারা’প তো তার সন্তান নয়!এমন ছেলে তো তিনি পেটে ধরেননি।

নামিরার দিক হাত পেতে দিয়ে বললো –,,দিদি ভাইয়ের কাছে আসবে না বোন?

নামিরা হেসে ছুটে আসলো কোলে।হামিদা বেগমের গাল ছুঁয়ে দিয়ে বললো–,,মাম্মা বলেছে নামিরা কি’উত।কিন্তু তুমি তো অনেক বে’তি কিউ’ত!

হামিদা বেগম হেসে উঠলো নামিরা হেসে বললো–,,তুমিও সুন্দর আমিও সুন্দর।মাম্মা ও সুন্দর কিন্তু পাপা?

তাহমিদা বেগম বললো–,,পাপা তো নামিরা বুড়ির মতোই সুন্দর!

নামিরা এবার নেহার দিকে তাকিয়ে বললো–,,মাম্মা!পাপা কবে আতবে?পাপার কাছে যাবো!

নেহা চমৎকার হাসলো,হামিদা বেগম কিছুটা বিব্রত হলো, নেহা কি বলবে এখন?তার ছেলে আসবে না কোনো দিন?এই ফুলকে আল্লাহর দেওয়া এতো সুন্দর নেয়ামত কে আমার ছেলে দেখতে আসবে না?এটাও কি আদো সম্ভব!

নেহা হেসে বললো–,,পাপা আসবে তো মাম্মা।পাপা নামিরা কে দেখতে অবশ্যই আসবে,পাপা নামিরা কে ভীষণ ভালোবাসে!

নামিরা ঠোঁট উল্টে গাল ফুলিয়ে বিছানা থেকে নেমে গেলো ছুটে যেতে যেতে বললো–,,পাপা নামিরা কে ভালোবাতে না একটুও না, একবারও আ’তেনি।নামিরা পাপার সাথে কথা বলবে না, পঁচা পাপা নামিরা হেই’ট পাপা!

নেহা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।তার মেয়ের মনে বাবাকে নিয়ে অভিমান জমে গেছে?কি করে কা’টাবে এটা কি করে বলবে নিখিল কে তার একটা মেয়ে আছে।নিখিল কি মেনে নিবে?নেহা ভাবতে পারলো না আর।আত্নসম্মান ভুলে কতো বার বলতে চেয়েছিলো তবুও পারেনি কেনো এতো বাঁধা তাদের মাঝে,কেনো কেনো পারছে না নেহা।ভেতরের চাপা কষ্টে চিৎকার করে কাঁদতে মন চাইলো কান্নারা ও গলায় আঁট’কে থাকলো।
নেহা জোরে ডেকে উঠলো–,,মা!আমি কি করবো বলতে পারো?এতো কিছু সহ্য করার ক্ষ’মতা যে আমার নেই।আমার মুক্তি চাই সব কিছু থেকে, শান্তি চাই আমার একটু শান্তি এনে দিতে পারো না কেনো?আমার মেয়েটা কে বাবা এনে দিবো কি করে বলতে পারো?আমি তো পারছি না তার বাবাকে জানাতে!আমি এক ব্যর্থ মা ব্যর্থ স্ত্রী ব্যর্থ সন্তান!আমি কিছু পারিনি সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছি আমি।আমার সব কিছুতে কমতি ছিলো আমার ভালোবাসায় কম পড়েছিলো, আমি বুঝতে পারিনি, সব দোষ আমার,আমি আমার মেয়েকে ভালোবাসা দিতে পারিনি কিচ্ছু দিতে পারিনি।আমার মতো মানুষ কেনো বেঁচে আছে বলতে পারো?তার থেকে বরং ভালো আমি চলে যাই নামিরা কে তার পাপা এনে দাও সে ভালো থাকুক!নামিরা কে কি করে বলবো আমি নামিরার বাবা তার মা থাকলে আসবে না নামিরা বাবা মাকে কখনো একসাথে পাবে না।
নেহা কাঁদছে পাগ’লের মতো করছে মেয়েটা।তাহমিদা বেগম জড়িয়ে ধরলো তাকে।মেয়েটা কখনো কি নিজেকে গুছাতে পারবে,তখনও পারেনি আজও পারছে না,নিখিল কেনো তার মেয়ের জীবন গুছিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বার বার এলোমেলো করে দেয়।
ডাক্তার এসে ঘুমের ইনজে’কশন দেওয়ার পরই নেহা শান্ত হয়েছে।তাহমিদা বেগম তপ্ত শ্বাস ছাড়লো।

–,,আপা বলতে পারো কি করে আমরা নিজেদের সন্তানদের সুখ আবার ফিরিয়ে দিতে পারবো?বড্ড ক্লান্ত আমি।একা কতো সামলাবো আর আমিও মানুষ আর যে পারছি না!

হামিদা বেগম তাহমিদা বেগমের হাতের উপর হাত রাখলো –,,দেখ সেজো,আমি বা তুই কেউই পারবো না তবে নামিরা পারবে।

–,,চার বছরের বাচ্চা মেয়ে আপা কি করে পারবে!

–,,অনেক সময় বড়রা যা পারে না ছোটরাই তা করে দেখায়।আমাদের কাজ হলো শুধু নামিরার কথা নিখিল কে জানানো।দেখবি পরে সব ঠিক হয়ে যাবে,আমাদের সাজানো গুছানো পরিবার কে আমাদেরই আবার ঠিক করতে হবে। এতো ভাবিস না সব ঠিক হয়ে যাবে!

———–
সাহিলের সাথে দাড়িয়ে কথা বলছে রৌফ।
রৌফ থমথমে কন্ঠে বললো–,,একটা মেয়ের জন্য রাত বিরাতে তুমি হসপিটালে পড়ে আছো?মা জানতে পারলে না তোমার সাথে আমার দুজনেরই পিঠের ছা’ল তুলবে! ওফ মেয়ে মানুষ সত্যি একটা প্যা’রা।

সাহিল বিরক্ত হয়ে বললো–,,চুপ থাকতে পারিস না ভাই।মেয়েটা কাজ করে আমার হয়ে।

–,,নার্সের কি অভাব পড়েছে?তোমার কেনো থাকতে হবে শুনি!প্রেমে টেমে পড়োনি তো আবার এই মেয়ের।

–,,মাঝ রাতে কি সব আজে’বাজে বকছিস!সর তো সামনে থেকে,মাকে কে গিয়ে বলবি ইমা’র্জেন্সি ছিলো।

–,,মিথ্যা বলতে পারবো না আমি।নিজের টা নিজে সামলাও আর তোমার দিওয়ানা মেহেরিন তো তোমার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আমাকে ম্যাসেজও করেছিলো।
ওমা গো কি পিরিতি লিখেছে রৌফ ভাইয়া সাহিল ভাইয়া কখন আসবে তুমি কিছু জানো!

সাহিল এবার রাগলো ফুফাতো বোন কে কিনা কি সব বানিয়ে দিলো এই পোলা!–,,তুই কি আজে’বাজে বকা বন্ধ করবি?তেলাপোকা মি’ক্স শরবত খেয়ে এসেছিস নাকি!

সাহিল বলতে দেরি রৌফ ওয়াক ওয়াক করতে দেরি করলো না।সাহিল সাথে সাথে আবার বললো–,,কয়মাস চলছে ভাই!

রৌফ তেড়ে এসে বললো–,,তোমাদের মতো ডাক্তারদের এই এক সমস্যা কেমনে যে পাশ করো বুঝি না, ভুলবা’ল ঔষধ দেও আর রোগী মা’রো, নারী নেই পুরুষ নেই সবাইকে গর্ভ’বতী বানিয়ে ছাড়ো যত্তসব!গেলাম আমি।

রৌফ যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই সেখানে আসে ইরফান। রিসিপশনে গিয়া জানার চেষ্টা করলো সোহানা নামে কেউ এখানে আছে কিনা!
রিসিপশনের ছেলেটা প্রথমে ইনফরমেশন দিতে চাইলো না।বেশ কিছুক্ষণ জোড়াজুড়ি করেও কিছু উপায় করতে পারলো না ইরফান।এর মধ্যে সাহিল সেখানে আসলো রিসিপশনের ছেলেটা তাকে ডেকে বললো–,,ডক্টর দেখুন না এই লোকটা কখন থেকে সোহানা নামক মেয়েটার ইনফরমেশন নিতে চাচ্ছে না করছি শুনছেই না!

সাহিল সোহানার নাম শুনেই ইরফান কে ডাকলো–,,কি সমস্যা বলুন তো মিস্টার!

ইরফান হেসে হাত বাড়িয়ে বললো–,,এসপি ইরফান!

সাহিল চিনে ফেলার মতো করে বললো–,,সাহিল নিখিলের বন্ধু! নিখিল কে চিনেন নিশ্চয়ই।

ইরফান স্বভাব সুলভ হাসলো আবার।সাহিল জিজ্ঞেস করলো–,,সোহানার ব্যাপারে কি জানতে চান বলুন!মেয়েটা আমার সহকারী।

–,,আসলে, সোহানা নামক মেয়েটার উপর কিছু একটার এক্স’পেরিমেন্ট চলছিলো যতদূর জানতে পারলাম আমি!

সাহিল অবাক হয়ে বললো–,,কি রকম?মেয়েটা তো অসুস্থ এখন হঠাৎ কি হলো বুঝতেই পারছি না জ্ঞান ও ফিরেনি এখনো!

ইরফান কিছু ভেবে বললো–,,আরুর কথা কি তাহলে ঠিক!

সাহিল বললো–,,কে আরু?

পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো–,,আমি আরু,আই মিন আরুশি চাংকু ডিটেকটিভ!

সাহিল হো হো করে হেসে উঠলো।ইরফান বিরক্তি নিয়ে তাকালো,এ মেয়ে নিজেকে ডিটেকটিভ বলছে মানুষ দেখলো পা’গল বলবে,চুলগুলো আজও এলোমেলো, গলায় স্কার্ফ ঝুলানো হাঁটু সমান গোল ফর্ক আর জিন্স পড়নে, সবচেয়ে মজার বিষয় মেয়েটা বাচ্চাদের মতো জুস খাচ্ছে!কপাল চাপড়াতে মন চাইলো ইরফানের কি অদ্ভুত চি’রিয়া!

ইরফান বলে উঠলো–,,এই কার্টুন!এতো রাতে এখানে কি?ওইদিন তো ভেগেছিলে আজ এখানে কি করে আসলে!

আরুশি হেসে বললো–,,আপনার পিছু পিছু এসেছি পুলিশ আংকেল!

সাহিল হেসে বললো–,, আংকেল!
আরুশি মাথা চুলকে বললো–,, না না ভাইয়া!

আরুশি হাতের ফাইল টা সাহিলের দিক এগিয়ে দিয়ে বললো–,,ডক্টর ভাইয়া আপনি দেখুন তো আপুটা কে কি কি ঔষধ দিয়েছে ওই ডাক্তার পাগ”লনী!

ইরফান বিরক্ত হয়ে বললো–,,নিজে একটা পাগল’নী মানুষ কে আবার বলে!

আরুশি আঙুল উঁচিয়ে বললো–,,দেখুন দেখুন পাগ’ল বলেন আর যাই বলেন মানুষের মতো খারা’প কাজ তো করি না আমি!

–,,মেয়ে হয়ে ডিটেক”টিভগীরি করো কোনদিক দিয়ে মহান কাজ!

–,,অন্য কাজ পাইনি তাই এটা করছি,আপনি ভাই চুপ থাকুন তো!

সাহিল গম্ভীর কন্ঠে বললো–,,দুজনই চুপ থাকুন তো।আচ্ছা আরুশি বলো তো কোথায় পেয়েছো এটা?

–,, আপনাদের পাশের হসপিটালটা।আপুটা ওখানে ডাক্তার দেখাতো শুধু আপু নয় আরো অনেককে এসব ঔষধ দিয়েছে!

সাহিল বেশ চিন্তিত হলো–,,এরকম একটা প্রাণ'”ঘাতী ড্রা’গ কি করে একজন ডক্টর দিতে পারে!না জানি সোহানা কতোদিন ধরে এটা খাচ্ছে!

আরুশি ইরফানের দিক তাকিয়ে মুখ ভেংচি কা’টলো, হেঁটে দূরে গিয়ে বসে পড়লো!

ইরফান সাহিলের সাথে এটা নিয়ে কিছু কথা বললো।ইরফান সব বের করার চেষ্টা করবে বললো,সাহিলও হেল্প করবে জানিয়েছে।আপাতত সাহিলকে অন্যান্য ডক্টরদের সাথে পরামর্শ করতে হবে তাই সে বিদায় নিলো।

ইরফান আরুশি কে দেখলো ওয়েটিং রুমে বসে আছে।

ভাবলো ডাকবে না যা মাথা খারা’প মেয়ে!তার পরও বললো–,,এই মেয়ে এখানে বসে আছো কেনো বাড়ি যাবে না?

আরুশি তাকালো একবার –,,আমাদের মতো মানুষের জন্য যেখানে রাত সেখানই কাত!

ইরফান জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো–,,মানে?

–,,মানে বাড়ি ঘর ছাড়া মানুষ তো তাই বললাম।আসলে বাসায় এখন যেতে পারবো না রাত হয়েছে অনেক,তাই এখানে বসে থাকবো পরে সকালে বাসায় চলে যাবো!

–,,বাড়ির মানুষ
বলতে গিয়ে থেমে গেলো ইরফান,মেয়েটার কথা বিশ্বাস না হলেও আজ হচ্ছে,পরিবার নেই বলেই কি মেয়েটা এতোটা ছন্নছাড়া!

ইরফান গম্ভীর কন্ঠে বললো–,, চলো বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি!

–,,মানুষের সাহায্য চাই না আমি।বিশেষ করে ছেলেদের যারা সাহায্য করার পরিবর্তে মেয়েদের দে”হ খোঁজে!

ইরফান রেগে গেলো মেয়েটা তাকে এরকম ভাবে!কি আশ্চর্য কবে এরকম কিছু বলেছে বা ইঙ্গি”ত করেছে ও।

ইরফান রেগে বললো–,,তুমি একটা অস”ভ্য মেয়ে!সাহায্য করতে চাওয়াটাই ভুল!

আরুশি এক পল চেয়ে অন্য দিক ফিরে গান গাইতে শুরু করলো–,,
হাসতে দেখো
গাইতে দেখো
অনেক কথায় মুখোর আমায় দেখো,
দেখোনা তো হাসির শেষে নিরবতা!

ইরফানের ফোন বেজে উঠলো সে আরুশি বন্ধ চোখের দিক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হসপিটাল ছাড়লো!পুলিশদের পিছুটান রাখতে নেই মায়া বাড়াতে নেই!
মায়া বড় কঠিন জিনিস এটাতে আটকাতে নেই,ভালোবাসা থেকে সরে আসা সহজ কিন্তু মায়া?অনিশ্চিত জীবনে কারো মায়ায় যে পড়তে বারণ!

ওইযে বলে না–,,আঙুলে আঙুল রাখলেও হাতে ধরা বারণ!প্রেমে পড়া বারণ!কারনে অকারন!

ইরফান হেসে উঠলো–,,দ্বিতীয় বার ও কি ভালোবাসা যায়?নাকি পুরুষ মানুষের অনুভূতি প্রকাশ করতে নেই প্রথম ভালোবাসা থেকে গেলো তার আড়ালে দ্বিতীয় বার জীবনে বসন্ত না আসাই ভালো!এইতো চলছে জীবন বেশ!
——-
রাহা নামিরা কে কোলো নিয়ে হাঁটছে আর বলছে–,,এতো পাপা পাপা করিস কেন রে বুড়ি?

–,,তু’প থাকো তুমি পঁচা মিম্মি!

–,,মায়ের ভালোবাসা দিয়ে হয় না তোর?বাপের টা ও লাগবে নাকি!

রৌফ তখনো যায়নি হসপিটাল ছেড়ে,বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছিলো তার, কথা বলতে বেশ কিছুক্ষণ। রাহাকে কথা বলতে দেখেই থামলো।

না চাইতে ও সে বলে উঠলো–,, সন্তানের জন্য বাবা ও মা দুজনের ভালোবাসাই সমান গুরুত্বপূর্ণ! কেউ কারো অভাব পূরণ করতে পারে না মিস রাহা।

রাহা কিছু বললো না অযথা এর সাথে লেগে লাভ নেই।

হসপিটালে তখনই আসলো শহিদুল চৌধুরী।নামিরা কোল থেকেই তাকে দেখলো।রাহার কোল থেকে নামার জন্য মোচড়ামুচড়ি শুরু করলো।রাহা একবার বললো-,,কি করছিস নামিরা পড়ে যাবি তো মা!

নামিরা নেমেই থামলো আর দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো শহিদুল চৌধুরী কে হেসে বললো–,,নানা ভাই!

শহিদুল চৌধুরী অবাক হয়ে রাহার দিকে তাকালো, নিজের দিক তাকিয়ে তিনি বাক হারা নিচে বসে পড়লো বাচ্চাটার মুখোমুখি বললো–,,কে তুমি?

নামিরা কোমরে দু হাত গুঁজে বললো–,,তুমি আমাতে চিনো না?আমি নামিরা,নানু ভাই তোমার কথা বলেছে তোমার সাথে নানুর চ’বি ছিলো তো আমি দেকে’ছি!

শহিদুল চৌধুরী একবার রাহার দিক তাকালো রাহা উপায়ন্তর না পেয়ে কথা বললো অবশেষে –,,আপনার নাতনি নেহা আপুর মেয়ে!

বলেই সেখান থেকে চলে গেলো।রৌফ কিছু একটা ভেবে হাসলো–,,তার মানে এটা রাহার মেয়ে না আর সে কিনা ভাবছিলো!

রৌফ শহিদুল চৌধুরী কে আর কিছু বললো না নাতনির সাথে কথা বলুক তাকে এখন বাড়ি যেতে হবে!
———
সাব্বিরদের বাসার ছাদে সব কটাতে আড্ডা জমিয়েছে।মফিজুর চৌধুরী মিলি বেগমও আছেন সেখানে, বয়স তেমন না তারাও বন্ধুর মতোই মিশে সবার সাথে।

কান্ড বাঁধিয়েছে শিশির।বেচারা এখানে এসেও ছেঁকা খাওয়া গান শুনছে।সাব্বির বিরক্ত হয়ে ফোঁস ফোঁস করছে বার বার!

মিহির তো ফোনে নিখিল কে ঝাড়ছে–,, শালা এতো ভাব কই পাস?বউ বউ করে কান’তো এখন যখন বউ হসপিটালে পড়ে আছে সে গিয়া পার্টি অফিসে মশা মার’ছে!

নিখিল গম্ভীর কন্ঠে বললো–,,আর কিছু না বললে ফোন রাখ তো!

মিলি বেগম জেরিন কে খোঁচা মে’রে বললো–,,কিরে তোরা তো বললি নেহা নিখিলের কাহিনি শোনাবি, রাত জেগে এখানে আসলাম।

সাব্বির বললো–,,তুমি না চাচি লাগো এসব বাচ্চাদের প্রেম কাহিনি শোনবা?

মিলি বেগম বললো–,,চুপ থাক ছোক’ড়া বেশি কথা বলবি তো আমার মাইয়া তোর ধারে বিয়া দিমু না!

সাব্বির বলে উঠলো–,,তওবা তওবা মাইয়ার অকাল পড়ছে দেশে!

মিলি বেগম রেগে বললো–,,মফিজ মিয়া তুমি কি কিছু কইবা?

মিহির বললো–,,কি শুনতে চাচ্ছেন আপনি?

বৃষ্টি বললো–,,কিভাবে লা’শের কি’মা বানাতে হয়!

নিশাত আর তোহা বললো–,,আরে রাত বিরাতে লা’শের কথা বলো কেন ভাই? আমার কিন্তু ভয় লাগে ভুত শুনলে আবার চলে আসবে!

রোহান নাক ছিটকে বললো–,,দুইটা ভীতু গিয়ে ঘুমা যা তো!

জেরিন চেঁচিয়ে বললো–,,এই চুপ চুপ সবাই চুপ!শুধু নেহা নিখিলের কাহিনি কেনো?আরো এক জোড়ার কাহিনিও বলবো আজকে!

মিলি বেগম বললো–,,আমি বেশি আগ্রহী বলে ফেল!

মফিজুর চৌধুরী বললো–,,এসব কষ্টের কাহিনি আর বলিস না আমার এক বালতি সমান কান্না আসবে আবার!

শিশির বলে উঠলো–,,আমারও ভাই আমারও!

নিঝুম এতোক্ষণ চুপ ছিলো এবার বলে উঠলো–,,কি জা”মানা আসলো বাপেরে কয় ভাই!

সবাই হো হা করে হেসে উঠলো।সাব্বির বলে উঠলো –,, এমনে বেট”কাইছ না তো সবাই মা শুনতে পাইলে ঝাড়ু নিয়া আসবো।

রোহান বললো–,,চুপ চুপ গল্পে ফোকাস করো!

মিলি বেগম বললো–,,হ্যাঁ হ্যাঁ এই না হলে আমার পোলা।

রোহান ভাব নিয়ে বললো–,,হুম ছোটো মা তোমার ভদ্রপোলা!

তোহা মিন মিন করে বললো–,, শা’লা তেইল্লা”চোরা!

রোহান চোখ পাকিয়ে তাকালো। তোহা এদিক ওদিক তাকালো।
জেরিন বললো–,,কখন থেকে শুরু করবো?

বৃষ্টি বললো–,,শুরু থেকে শুরু করো!

চলবে?