#প্রণয়_সমাচার
#নুজহাত_আদিবা
পর্ব ২৫
অপলা হতবাকের মতো তাকিয়ে রইলো। সাইডে রোদ্দুরের মা আর বাবাকে দেখে অপলার আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না। অপলা নিজেকে আড়াল করে ফেললো। সে চায় না এসবের মাঝে আর ধরা দিতে। তাঁকে হঠাৎ বাইরে বের হতে দেখে পিছু পিছু উসামাও চলে এলো। অপলা নিজে থেকে উসামাকে বললো,
” কমলার বিয়েটা কী আসলেও হয়ে গেছে? ”
উসামা বেশ বিরক্ত হয়ে বললো,
” বিয়ে খেতে এসে বিয়ে হয়ে গেছে কিনা জিজ্ঞেস করছো? বিয়ে তো অনেকক্ষন আগেই হয়ে গেছে। আমাদের-ই পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে গেছে।”
অপলা বড় করে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। উসামা এই দীর্ঘশ্বাসের মানে বুঝলো না। ফ্যালফ্যাল করে অপলার দিকে তাকিয়ে রইলো শুধু। অপলা বেশ চিন্তায় পড়ে গেল। তাঁর মানে রোদ্দুর ছেলেটার সঙ্গে তাঁর যখন বিয়ে ঠিক হয়েছিল; রোদ্দুর তখন কমলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু, রোদ্দুর তো তাঁকে একবারের জন্যও এই কথা বলেনি৷ উল্টো বিয়ের পর হানিমুনে কোথায় যাবে এসব নিয়ে গভীর ভাবনায় মগ্ন ছিল। রোদ্দুর ছেলেটা যে আদতে একজন খারাপ চরিত্রের মানুষ;অপলা তা টের পেল। সে কমলাকে এক প্রকার ধোঁকা দিয়েছে। উসামা যদি ওই বিয়েটা সেই মুহূর্তে না ভাঙতো তবে রোদ্দুরের সঙ্গে অপলার বিয়েরা হয়েই যেতো। তৃতীয় ব্যাক্তি হিসেবে কষ্ট পেতো শুধু কমলা। কমলা আসলেই একজন উদার প্রকৃতির মানুষ। এতকিছুর পরেও সে রোদ্দুরকে বেছে নিয়েছে। কমলার ভালোবাসা রোদ্দুর আসলেই ডিজার্ভ করে না। অপলার খুব ইচ্ছে হলো সবাইকে সবটা চিৎকার করে বলতে। বিশেষ করে কমলাকে। তবে, অপলা সেটা পারলো না। বিয়েটা হয়ে গেছে যেহেতু এখন আর এসব বলে কোনো লাভ নাই। আর কমলা যেহেতু রোদ্দুরকে একটা সুযোগ দিয়েছেই তবে অপলার আর কী বলার থাকতে পারে? আচ্ছা, কমলা কী জানে রোদ্দুরের সঙ্গে যাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছে সেটা অপলাই ছিল? রোদ্দুর যে তাঁকে আংটি পরিয়ে ছিল। বিয়ের পরবর্তী জীবনের অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছিল? হয়তো জানে আবার হয়তো জানে না। অপলার কাছে এর কোনো উত্তর নেই।
বাড়ি ফেরার সময় পুরো রাস্তা কেমন অপলা কেমন নির্জীব হয়ে রইলো। বারবার শুধু রোদ্দুরের বিষয়টা মাথায় ঘুরছে। বাড়ি ফিরতেই উসামা অতি আফসোসের স্বরে বলতে লাগলো,
” আমার জীবনের সব আশা ভরসা শেষ। ভেবেছিলাম কমলাকে দ্বিতীয় বউ করে ঘরে তুলবো। তুমি হাত পা টিপে দেবে। আর কমলা আমার মাথা টিপে দেবে। আহা! কী শান্তির জীবন। কিন্তু, তা আর হলো কোথায়? আজ কমলাও পরের ঘরে চলে গেল। একি সর্বনাশ হলো আমার!”
অপলা গম্ভীর কণ্ঠে উসামাকে বললো,
” রোদ্দুরের আগের বিয়েটা কীভাবে ভেঙেছিলেন?”
উসামা এক গাল হেসে বললো,
” উফ! এই কথা আর বলো না। আমার জীবনের একটা স্মরণীয় স্মৃতি এটা। একদিন ছুটির দিন সকালে সেই একটা কড়া ঘুম দিয়েছি। পরপর কয়েকবার ফোনের আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙলো। ফোন তুলতেই দেখি কমলা কাঁদছে। কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গেছে। জিজ্ঞেস করায় ও বললো রোদ্দুরের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আমার ওর কান্না দেখে এত মায়া লেগেছিল কী আর বলবো! পরে মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি ঘুরপাক খেলো। কমলার কাছ থেকে রোদ্দুরের মায়ের নাম্বারটা আদায় করলাম। সেই নাম্বারে কল দিয়ে অতি সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললাম যে;রোদ্দুরের সঙ্গে যে-ই মেয়েটার বিয়ে ঠিক হয়েছে সেই মেয়েটা পাগল। টানা দুই বছর পাবনায় ছিল। তবুও পাগলামি কাটেনি। বছরে ছয় মাস ভালো থাকে তো ছয় মাস পাগল থাকে। যাকে তাঁকে কামড়ে দেয়। চুল এলোমেলো করে বসে থাকে। তিন চার মাস পরপর গোসল করে। তাও ধরে বেঁধে গোসল করাতে হয়। রাতে হুটহাট দরজা খুলে বাইরে চলে যায়। গেস ওয়াট কী হয়েছে! আমার একটিং এতটাই টপ নচ ছিল যে রোদ্দুরের মা পরদিনই ওই বিয়েটা ভেঙে দিয়েছেন। হাহা!”
অপলার মাথা রাগে ভোঁ ভোঁ করে উঠলো। মনে হলো সর্বাঙ্গে কে যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিছানার কিনারা থেকে নারকেলের শলার ঝাড়ুটা নিয়ে ক্ষ্যাপা; মহিষের মতো ছুটে গেল উসামা কাছে। ঝাড়ুটা উসামার সামনে তুলে ধরে বললো,
” এই কী বললি? এই ভন্ডর বাচ্চার ভন্ড! আবার বল কী বললি আমার নামে? আমি পাগল? আমি ছয় মাস ভালো থাকি তো ছয় মাস পাগল থাকি? আর কী কী বললি যেন? আমি পাবনায় ছিলাম? চুল এলেমেলো করে বসে থাকি? তিন চার মাস পরপর তুই নিজে এসে আমাকে গোসল করিয়ে দিয়ে যাস বুঝি? একটা লম্প’ট, মর্কট তুই! ”
উসামা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইলো শুধু। তাঁর মাথায় কিছু ঢুকছে না। হলোটা কী হঠাৎ? টসটসে আপেল বউ এত রেগে গেল কেন? অপলা রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বললো,
” আমার জীবনটা তামা তামা হয়ে গেছে পুরো! সব গন্ডগোলের মূল হোতা তুই উসামা! জীবনে শান্তির গুষ্টির তুষ্টি করে দিয়েছিস পুরো। আমিই বা কেমন গাধার গাধা! যে আমার বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। আমি নাচতে নাচতে তাঁকেই বিয়ে করলাম? মনটা চাচ্ছে ইদুঁরের বি’ষ খেয়ে মরে যেতে।”
উসামার আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না। পানির মতো পরিস্কার হয়ে গেল সবকিছু। নিজের কর্মকান্ডের কথা ভেবে উসামা নিজেই চমকে গেল। মাথায় হাত দিয়ে বিছানায় বসে পড়লো। কী হলো এটা তাঁর সঙ্গে? সে না জেনে না বুঝে যাঁর বিয়ে ভেঙেছিল সেটা প্রকৃতপক্ষে ছিল তাঁর নিজেরই বউ? এত বড় কো-ইন্সিডেন্স ঘটে গেল তাঁর সঙ্গে? উসামা নিজেও বিশ্বাস করতে পারছে না। বারবার অপলাকে ঘুরে ঘুরে বড় চোখে দেখছে। বিয়ে ভাঙার পর অপলাকে সে টিপ্পনী কেটেছিল। সেই কথা ভাবতেই উসামা লজ্জা পেল। সে নিজেই তো বিয়েটা নিজ হাতে ভেঙেছিল!
অপলা কয়েকবার বড় বড় করে নিঃশ্বাস নিলো। মাথাটা আগের চেয়ে বেশ ঠান্ডা হয়ে গেছে তাঁর। উসামার দিকে তাকিয়ে ক্ষীপ্ত স্বরে বললো,
” বিয়ে ভাঙার পর আমাকে সেই খোঁচা দিয়েছিলেন। বিয়েটা ভেঙেছিলেন আপনি নিজে। নিজের বউয়ের সম্পর্কে এসব বলতে একবারও বিবেকে বাঁধলো না। কী করে ওসব কথা আপনি বললেন?”
উসামা উঠে বসে অপলার সন্নিকটে এলো। অপলার গাল ছুঁয়ে বললো,
” আমি কী করে জানবো যে এটাই আমার বউ? আমি যদি এসব জানতাম। আরো কিছু বিষয় এড করে আরো বাড়িয়ে বলতাম।”
অপলা মৃদু ভাবে উসামার বুকে ধাক্কা দিলো। উসামা ফের বললো,
” আর পাবনার দারোয়ানদের ও বলিহারি! কোনো আক্কেল জ্ঞান নেই! এভাবে রাতে কেউ দরজা খুলে রাখে? ওদের অনিয়মের কারণেই তোমার মতো বদ্ধ উন্মাদ মেয়েগুলো পাবনা থেকে পালিয়ে আসে। আমি তো একারণেই ভাবি তোমার মতো পাগল মেয়ে এই স্বাভাবিক লোকালয়ে কী করছে! দেখেই বোঝা যাচ্ছে পাবনার বাসিন্দা তুমি। তা অপলা? কীভাবে পাবনা থেকে পালালে গো? দেয়াল টপকে ছিলে বুঝি? নাকি ছাঁদ থেকে লাফ দিয়েছিলে? না মানে পাগলদের দ্বারা তো সবই সম্ভব। ”
অপলা রাগে কিড়মিড় করতে করতে বললো,
” একদম আজেবাজে কথা বলবেন না। আমি মোটেও পাগল নই। সবচেয়ে বড় কথা এক পাগল কোনোদিনই আরেক পাগলের সঙ্গে থাকতে পারে না। আমি শিওর আপনি ছোটবেলায় বিছানা থেকে পরে-টরে গিয়েছিলেন। সেকারণেই আপনার আজ এই অবস্থা! মাথার স্ক্রু ঢিলা; আবার কয়েকটা তারও ছেঁড়া! যতসব তার কাঁটা, তার ছেঁড়া আমার কপালেই এসে জুটেছে। একেই বলে কপাল!”
উসামা কেমন এলোমেলো দৃষ্টিতে অপলার দিকে তাকালো। এই মেয়েটা নাকি তাঁর বউ! স্বামীকে এতটুকু পরিমাণ সম্মান করে না! আবার অন্য মেয়ের কথা স্বামীর মুখে শুনলে পাগল হয়ে যায়। দস্যি মেয়ে! উসামা শান্ত গলায় বললো,
” তা এই তার ছেঁড়া, তার কাঁটা ছেলেটা যখন আরেকটা মেয়ের সঙ্গে প্রেমে মজে ছিল। তখন এত তালবাহানা করেছিলে কেন? পরকীয়ার বাহানা দিয়ে ছেড়ে চলে গেলেই তো পারতে। তোমার কাছে তো উপযুক্ত প্রমাণও ছিল। কেঁদে কেটে বুক ভাসালে কেন?”
অপলা আমতাআমতা করে বললো,
” আমি মোটেও কেঁদে বুক ভাসাইনি। এসব আজগুবি কথা কোথায় পান আপনি?”
উসামা মুচকি হেসে বললো,
” ওমা তাই? আমাকে যে কথায় কথায় ভন্ড বলো। সবচেয়ে বড় ভন্ড কে জানো? তুমি! বরকে ভালোবাসো মিস করো কিন্তু মুখে বলো না। আবার বরের মুখে অন্য মেয়ের কথা শুনে তোমার শরীর জ্বলে যায়। কেঁদে কেটে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলো। ভন্ড মেয়ে!”
অপলা উসামার দিকে আড়চোখে তাকালো। প্রসঙ্গ এড়াতে বললো,
” আমার ঘাট হয়েছে আপনাকে বিয়ে করা। আগে জানলে রোদ্দুরের পায়ে ধরে বসে থাকতাম। জোর করে ধরে বেঁধে বিয়ে করতাম।”
উসামা অপলার কানের সামনে এসে ফিসফিস করে বললো,
” তাই নাকি? তা খুব মনে পড়ছে বুঝি তোমার না হওয়া বর রোদ্দুরকে?”
অপলা উসামার চোখের দিকে তাকালো। প্রতিত্তরে বললো,
” মনে পড়ছে কিংবা মিস করছি কিনা তা জানি না। তবে রোদ্দুরকে বিয়ে করলে ভালোই হতো। অন্তত আপনার মতো আধ-পাগল কপালে এসে জুটতো না।”
উসামা অপলার কথা শুনে অট্টহাসি হাসলো। অপলার দিকে জ্বলজ্বলে দৃষ্টিতে তাকালো। অতঃপর শান্ত স্বরে গাইলো মান্না দে এর সেই বিখ্যাত গান।
” যখন কেউ আমাকে পাগল বলে
তার প্রতিবাদ করি আমি
যখন তুমি আমায় পাগল বলো
তুমি আমায় পাগল বলো
ধন্য যে হয় সে পাগলামি
ধন্য আমি ধন্য হে
পাগল তোমার জন্য হে”
অপলা অপাঙ্গ দৃষ্টিতে উসামার দিকে তাকালো। এই ছেলেটার মাথা আসলেই গেছে। কীসব অদ্ভুত কার্যকলাপ যে করে বসে আজকাল!
কলিংবেলের আওয়াজ পেতেই উসামা গেটটা খুলে দিলো। অপলাও ড্রয়িংরুম থেকে উঁকি দিলো। একটা মেয়েকে ট্রে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অপলা তাঁর দিকে এগিয়ে গেল। অপলা তাঁকে চেনে না। মেয়েটা উসামার হাতে ট্রে-টা এগিয়ে দিয়ে বললো,
” ভাইয়া আমি রান্না করেছি খিচুড়ি আর মাংস ভুনা। আজ প্রথমবার রান্না করেছি। খেয়ে বলবেন কেমন হয়েছে। ”
উসামা ট্রে হাতে নিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললো,
” জি অবশ্যই; ধন্যবাদ আপনাকে।”
মেয়েটা কেমন লাজুক লাজুক ভঙ্গিতে উসামার দিকে তাকালো। অপলা সবটা লক্ষ্য করলো। মেয়েটাকে তাঁর কাছে মোটেও সুবিধাজনক বলে মনে হচ্ছে না। মেয়েটা চলে যেতেই উসামা দরজা বন্ধ করে খাবারের ট্রে-টা টেবিলের ওপরে রাখলো। অপলা কোমরে আঁচল গুঁজে উসামাকে বললো,
” কে ছিল ওটা?”
উসামা কাষ্ঠহাসি হেসে বললো,
” আমাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকে। নতুন উঠেছে লক্ষ্য করোনি তুমি?”
অপলা বাঁকা দৃষ্টিতে উসামার দিকে তাকালো। পুনরায় বললো,
” তা প্রতিবেশীদের খবর ভালোই রাখেন দেখছি। দরজা খুলে হেসে হেসে কথা বলেন। আপনার জন্য প্রতিবেশী বাড়ি এসে খাবার দিয়ে যায়। বাহ! কী সৌভাগ্য আপনার! আজ তো বাড়িতে এসে খাবার দিয়ে গেল। কাল হয়তো আপনাকে বাড়িতেই ডেকে নেবে। আপনি যা হ্যাংলা নাচতে নাচতে হয়তো চলেও যেতে পারেন।”
উসামা মৃদু হেসে বললো,
” সেটা তো অবশ্যই। প্রতিবেশী ডাকলে তো যেতে হবেই। আর প্রতিবেশী যদি সুন্দরী হয় তাহলে তো কথাই নেই।”
অপলা কঠোর দৃষ্টিতে উসামার দিকে তাকালো। কড়া গলায় বললো,
” বেশি ড্যাং ড্যাং করার দুঃসাহস করবেন না। মে’রে ঠ্যাং হাতে ধরিয়ে দেবো। প্রতিবেশীর বাড়ি যাওয়ার জন্য আর পা খুঁজে পাবেন না। ল্যাং’ড়া হয়ে বিছানায় পড়ে থাকবেন।”
উসামা অপলাকে রাগানোর জন্য এক চামচ খিচুড়ি মুখে পুরে বললো,
” উফ কী স্বাদ! এত মজার খাবার আমি কতদিন পরে খেলাম। বাড়িতে এক পেত্নীর হাতের আজগুবি সব খাবার দাবার খেয়ে মুখটা পুরো মিইয়ে গেছে। ছিহ! ওসব মানুষ খায়? দায়ে পড়ে এখন কতকিছুই না খেতে হচ্ছে! ”
অপলা কেমন হিংসাত্মক দৃষ্টিতে খাবারের ট্রে-টাকে দেখলো। তাঁর ইচ্ছে হলো খাবারসহ ট্রে-টাকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে। কিন্তু, খাদ্য অপচয় মহা অপরাধ ভেবে সে থেমে গেল। ঘরে গিয়ে বিছানায় ঠেস দিয়ে শুয়ে পরলো। এই মর্কটটাকে কাল শায়েস্তা করবে সে।
উসামার আজ অফ ডে। বেশ দেরি করে ঘুম থেকে উঠলো সে। দুপুর বেলা গোসল শেষে বেশ ফুরফুরে ভঙ্গিতে খাবারের টেবিলে এসে বসলো। বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে অপলাকে বললো,
” কী রান্না করেছো আজকে?”
অপলা হাসিমুখে উত্তর দিলো,
” আপনার পছন্দের খাবার। দাঁড়ান বেড়ে দিচ্ছি আপনাকে।”
উসামা নিজের প্লেটটা অপলার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
” ওয়াও! টসটসে আপেল তুমি একটা ভালো মেয়ে। কী রান্না করেছো? বিরিয়ানি? ”
অপলা উসামার পাতে খাবার তুলে দিয়ে বললো,
” নাহ! আপনাকে বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়ানোর জন্য আপনার সুন্দরী প্রতিবেশী আছে। আমি কী তাঁর মতো এত ভালো রাঁধতে পারি বলুন। আপনি আজ আপনার জন্য স্পেশাল ভাবে মূলার তরকারি রেঁধেছি।”
উসামা মূলার তরকারির কথা শুনেই নাক সিটকাতে শুরু করলো। অতি বিব্রত স্বরে বললো,
” আর কিছু নেই? আমি মূলা একদমই পছন্দ করি না। আমার কেমন যেন গা গুলিয়ে আসে।”
অপলা প্রত্যুত্তরে বললো,
” হ্যাঁ আছে তো। আপনার আরেকটা পছন্দের খাবার; করল্লা ভাজি। আয়েশ করে খান রাতে নাহয় প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে বিরিয়ানি খাবেন।”
উসামা মুখ গোমড়া করে বসে রইলো। এ কেমন নারী? স্বামীর প্রতি কোনো দয়া মায়া নেই। প্রতিবেশীর দেওয়া খাবার খেয়েছিল বলে উসামা আফতাব চৌধুরীর সঙ্গে ইহা কীরূপ আচরণ?
চলবে…
#প্রণয়_সমাচার
#নুজহাত_আদিবা
পর্ব ২৬
জানালা দিয়ে এক চিলতে রোদের আলো ঘরে এসে পড়েছে। অপলা এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করে নিচ্ছে। উসামা শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বললো,
” এত রেডি হয়ে কোথায় যাচ্ছো টসটসে আপেল?আজকে ক্লাস আছে বুঝি?”
অপলা ব্যস্ততার ভঙ্গিতে বললো,
” হ্যাঁ, বিয়ের হয়েছে বলে পড়াশোনা ছেড়ে দেবো না আমি। তাছাড়া সবাই তো আর আপনার মতো অকর্মা নয়। সারাদিন প্যাঁক প্যাঁক করে শুধু আমার পেছনে লেগে বেড়ান।”
উসামা কোনো জবাব দিলো না। অপলার সামনে গিয়ে নিজের ভেজা চুলগুলোকে এক ঝাপ্টা দিলো। বিন্দু বিন্দু পানির ফোঁটা অপলার চোখেমুখে এসে লাগলো। অপলা ছুটে গিয়ে উসামার শার্টের বুকের অংশটায় মুখ মুছলো। উসামা অপলকভাবে তাকিয়ে রইলো। অপলার হাত দুটো ধরে নিজের দিকে টেনে আনলো। অপলার কোমড় চেপে ধরলো। ঠোঁটের ভাজে ডুব দিতে যেতেই অপলা সরে গেল। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বললো,
” দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার।”
অপলা ব্যাগ নিয়ে বের হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তেই উসামা বললো,
” ম্যাডাম, আপনি কী আজ একা-ই যাবেন?”
অপলা মাথা নেড়ে বললো,
” হ্যাঁ, আগে যেভাবে যেতাম সেভাবেই যাবো।”
উসামা বাইকের চাবি হাতের আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে বললো,
” সেটা হচ্ছে না ম্যাডাম। আমি গিয়ে দিয়ে আসবো আপনাকে। এমনিতেই মাথার ঠিক নেই তোমার। কখন কী পাগলামি করে বসো কে জানে! পরে পাবনার লেকেরা এসে আবার ধরে-টরে নিয়ে গেলে আমি কী নিয়ে বাঁচবো?”
অপলা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বললো,
” জি না। আমি আপনার সঙ্গে যাবো না। আপনার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। নিজে তো চিকন আলী। বাইকসহ কোথায় উড়ে যান তাঁর ঠিক নেই! এত বড় রিক্স আমি নিতে পারবো না। আমার জীবনের মায়া আছে। ম’রে গেলে দুদিন যেতে না যেতেই বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে রং তামাশা করবেন। সো, আমি আমার মতো যাবো। আপনি নিজের বাইক নিয়ে কেটে পরুন।”
অপলা আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করলো না। উসামার কথা না শুনেই বেরিয়ে গেল। নিজে যেতেই পেছন থেকে উসামা এসে তাঁর হাত চেপে ধরলো। ইশারা দিয়ে বাইকে ওঠার ইঙ্গিত দিলো। অপলা এমন ভান করলো যেন সে কিছুই শোনেনি। উসামা অপলার হাত টেনে ধরে বাইকের কাছে নিয়ে গেল। বাইকে স্টার্ট দিতে দিতে বললো,
” জলদি ওঠো নাহলে আবারও কাঁদা ছুঁড়ে মারবো। ক্লাসে যাওয়া আজ ছুটে যাবে।”
অপলা উসামার দিকে ক্ষুদ্ধ চাহনিতে তাকালো। প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বাইকে উঠে বসলো। এই ছেলেকে দিয়ে কোনো ভরসা নেই। একবার বাইকে ওঠেনি বলে কাঁদা দিয়ে পুরো জামা লেপ্টে দিয়েছিল। অপলা বাইকে উঠে বসলে উসামা তাঁর দিকে হেলমেট এগিয়ে দিয়ে বললো,
” করোনা মহামারী এখনও চলছে নাকি?”
অপলা হেলমেট পড়তে পড়তে উত্তর দিলো,
” না তো। কেন কিছু হয়েছে? ”
উসামা ঘাড় কাঁত করে উত্তর দিলো,
” না, তুমি এত বেশি ডিস্টেন্স মেইনটেইন করছো। আমি ভাবলাম করোনা আবার ব্যাক করেছে কিনা।আমি বাইক স্টার্ট দিলেই নিচে গিয়ে পরবে। তখন যেন আবার আমার দোষ দিও না।”
অপলা কিছুটা সামনে এগিয়ে এসে বসলো। সোজা ভাষায় কী কথা বলতে পারে না এই লোকটা? সব কথায় পিন মা’রতেই হবে? উসামা পেছন থেকে অপলার হাত দুটো টেনে এনে নিজের বুকের কিছুটা নিচে রেখে বললো,
” বাইকে বসলে হাসবেন্ডকে এভাবে জড়িয়ে ধরতে হয়। পরে উড়ে গিয়ে গর্তে পড়লে দোষ তো আমারই হবে। নিজের দোষ তুমি যেন চোখেই দেখো না।”
অপলা রাগে ফুঁসতে লাগলো। অপলা একবার হাত সরিয়ে নিতেও চাইলো। কিন্তু, উসামা বাইক স্টার্ট দিলে অপলা আর হাত সরালো না।
অপলা ক্লাসে গিয়ে বসলো। উসামা তাঁকে নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে গেছে। বাইক থেকে নামার সময় সবাই অপলাকে কেমন আড়চোখে দেখছিল। ভাবতেই অপলার কেমন যেন অনুভূতি হলো। ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যাতীত অপলার বিয়ের বিষয়ে এখনও কেউ তেমন জানে না। অপলারও আগ বাড়িয়ে বিয়ের ব্যাপারে কাউকে বলতে খুব লজ্জা লজ্জা বোধ হয়।
বিয়ের পর থেকে অপলার অনেক ক্লাস কামাই গেছে। অপলা তাঁর ক্লাসমেট জয়ার কাছ থেকে নোটস কালেক্ট করলো। জয়া মেয়েটা খুব ভালো। অপলাকে বেশ হেল্প করে। বিয়েটা ওভাবে এত তাড়াহুড়ায় না হলে জয়াকে দাওয়াত করতো অপলা। অপলা নোটসগুলোতে ভালো ভাবে চোখ বুলিয়ে নিলো। একটা অধ্যায় বুঝতে পারলো না। জয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,
” এই অধ্যায়টা আমি পারি না। আমাকে একটু বুঝিয়ে দিবি?”
জয়া নিরাশ হয়ে বললো,
” এটা আমিও সেভাবে পারি না। আকাশ ভাইয়াকে সেদিন বলেছিলাম এই অধ্যায়টা বুঝিয়ে দিতে। ভাইয়া আজ ক্লাসের ব্রেকে তিনতলায় যেতে বলেছে।”
অপলা কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
” আকাশ ভাইয়া কে?”
জয়া প্রতিত্তরে বললো,
” আরে চিনিস না? আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র। ভাইয়া জুনিয়রদের সাথে এত ফ্রেন্ডলি বলার বাইরে। সেদিন একবার বলাতেই ভাইয়া রাজি হয়ে গিয়েছে। ভাইয়ার কাজ ছিল তাই আজ বুঝিয়ে দেবে বলেছে।”
অপলাও সায় দিলো। পড়াশোনায় বিশাল একটা গ্যাপ পড়েছে। এটাকে তাড়াতাড়ি শুধরে নিতে হবে। ক্লাসের ব্রেকে জয়া আর অপলা তিনতলায় গেল। শেষের ক্লাসটা একেবারে ফাঁকা। জয়া আকাশকে ডেকে নিয়ে আসতেই আকাশ অপলাকে দেখে হাসি দিলো। অপলা তাঁকে সালাম দিলো। আকাশ বেশি কথা বাড়ালো না। বেশ ভালো করেই জয়া আর অপলাকে চ্যাপ্টারটা বুঝিয়ে দিলো। অপলার খাতায় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখে দিলো। শেষে বললো,
” এই চ্যাপ্টারটা আসলেই একটু কঠিন। আশাকরি বুঝতে পেরেছো। এই চ্যাপ্টারের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোটস আছে আমার কাছে। আমি বাড়ি গিয়ে দিয়ে দেবো। ”
অপলার খাতার নিচে নিজের নাম্বার লিখে দিয়ে ফের বললো,
” এটা আমার নাম্বার। কোনো প্রবলেম থাকলে বলো সলভ করে দেবো।”
অপলা আর জয়া সালাম দিয়ে চলে এলো। আসলেই বেশ ভালো বোঝায় ভাইয়া। কিন্তু, অপলার কাছে একটা জিনিস খুব অদ্ভুত লেগেছে। পড়া বোঝানোর সময় আকাশ একটু পরপর কেমন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিল। অপলার এতে খুব অস্বস্তি বোধ হয়েছে।
অপলা ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে খেয়েদেয়ে লম্বা একটা ঘুম দিলো।
উসামা অফিস থেকে ফিরে অপলাকে বেঘোরে পড়ে পড়ে ঘুমোতে দেখে অপলাকে আঁটসাঁট করে জড়িয়ে ধরলো। অপলার পিঠের মাঝে মুখ ডুবিয়ে নিজেও একটা ঘুম দিলো।
বেশ কিছুক্ষন পর দমবন্ধ অনুভূতি হওয়ায় অপলা চোখ মেলে তাকালো। পেছন ফিরে উসামাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পেল। কপালে তাঁর লেগে আছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। কোঁকড়ানো চুলগুলো মেঘের মতো গুচ্ছ গুচ্ছ হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। অপলা নিজের আঁচল দিয়ে উসামার কপালে ঘাম বিন্দু মুছে দিলো। অপলাকে বিস্মিত করে দিয়ে চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায়ই উসামা নিদ নিদ কন্ঠে বললো,
” আহারে কী ভালোবাসা! বর ঘুমিয়ে থাকলে তাঁর কপালের ঘামেরও পরোয়া করো। জেগে থাকলে শুধু দূর দূর করো। পঁচা মেয়ে অপলা! ঘুমের মাঝে কাছে এসে চুমু খেতে পারো না? ”
অপলা শরীর ঝাড়া দিয়ে উঠে বসলো। যতসব আজেবাজে কথা। ঘুমের মাঝেও কী উনি এসব নিয়েই ভাবেন? অপলা ফোন অন করতেই দেখলো অপরিচিত নাম্বার থেকে অনেকগুলো কল এসেছিল। ফোন সাইলেন্ট থাকায় সে টের পায়নি। অপলা ভাবলো একবার কল ব্যাক করে দেখবে। পরমুহূর্তেই ভাবলো যাঁর প্রয়োজন সে নাহয় আবার কল দেবে। খামোখা এত কষ্ট করে লাভ কী?
উসামা ড্রয়িংরুমে টিভি দেখছে। জেসমিন আজ রাতের রান্না করবে। অপলা বিছানায় বই খাতা খুলে পড়তে বসলো। ঘন্টাখানেক পড়ার পর পিঠে কেমন সুরসুরি অনুভব করলো। কৌতূহল নিয়ে পেছন ফিরতেই উসামাকে দেখতে পেল। উসামা ভ্রু কুঁচকে তাঁর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। অপলা পুনরায় পড়ার দিকে মনোযোগ দিলো। উসামা অপলার এত পড়ুয়া ভাবসাব মেনে নিতে পারলো না। অপলার পিঠে টুপ করে চুমু খেয়ে; অপলার ঘাড়ের মাঝে নাক ঘষতে লাগলো। অপলা নিজের ঘাড়ে কেমন খোঁচা অনুভব করলো। উসামার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো,
” একদম ডিস্টার্ব করবেন না। বই দিয়ে বাড়ি দিয়ে মাথা ফা’টিয়ে দেবো। নিজের তো কাজ নেই। এখন আমাকেও পড়তে দিচ্ছে না।”
উসামা অপলাকে ভেংচি কাটলো। উপুড় হয়ে অপলার বই খাতা গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগলো। অপলা তখন গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। সকালের নোটস লিখা খাতাটা খোলা অবস্থায় উসানার সামনে পরে রয়েছে। উসামা নোটসের নিচে কারো নাম্বার লিখা দেখে অপলাকে প্রশ্ন করলো,
” এটা কার নাম্বার?”
অপলা একবার তাকিয়ে খাতাটা দেখলো। তারপর জবাব দিলো,
” আমাদের সিনিয়র আকাশ ভাইয়ার। ভাইয়া আজকে একটা চ্যাপ্টার বুঝিয়ে দিয়েছেন। নাম্বার লিখে দিয়ে বলেছেন কোনো প্রবলেম হলে কল দিতে।”
উসামা সবকিছু শুনে কলম দিয়ে নাম্বারটা কেটে দিয়ে বললো,
” এসব সিনিয়র ভাইয়া- ফাইয়াকে কল দিতে হবে না। কিছু না বুঝলে আমি বুঝিয়ে দেবো।”
অপলার বেশ হাসি পেলো। পেট চেপে হাসতে হাসতে সে বললো,
” বুটেক্সের টেইলর এখন বিবিএ এর স্টুডেন্টকে পড়াবে? ”
উসামা বোকা বনে গেল। বাঁকা দৃষ্টিতে অপলার দিকে তাকিয়ে রইলো। হঠাৎ অপলার ফোন বেজে উঠলো। অপলা ফোন রিসিভ করে স্পিকারে দিয়ে বইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
” হ্যালো কে?”
ওপাশ থেকে উত্তর এলো,
” আমি আকাশ বলছিলাম। আজ তোমাকে পড়া বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। তোমার নাম্বারটা জয়ার কাছ থেকে পেয়েছি। পড়া ঠিকঠাক বুঝেছো তো?”
অপলা উসামার সামনে একটু অস্বস্তি বোধ করলো। উসামা কেমন বড় বড় চোখ করে তাঁকে দেখছে। অপলা আকাশকে জবাব দিলো,
” জি ভাইয়া। পড়া তো বুঝেছি; আপনি হঠাৎ কল দিলেন কোনো সমস্যা হয়েছে কী?”
আকাশ কতক্ষন নিরব থাকলো। তারপর বললো,
” আসলে তোমাকে দেখার পর থেকে মনটা যেন কেমন অস্থির লাগছে। বারবার ইচ্ছে হচ্ছিল তোমার সঙ্গে কথা বলার। অনেকবার কলও দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি ধরোনি। মনের অস্থিরতা কাটাতে আমিই আবার কল দিলাম…
উসামা কটমট করতে করতে অপলার দিকে তাকালো। অপলা আমতাআমতা করতে লাগলো। উসামা তৎক্ষনাৎ অপলার হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আকাশকে উদ্দেশ্য করে বললো,
” হ্যালো!”
অপলার কন্ঠের পরিবর্তে হঠাৎ এক পুরুষালি কন্ঠ শুনতে পেয়ে আকাশ বললো,
” হ্যালো! আপনি কে? আমি তো অপলাকে কল করেছিলাম। অপলা কোথায়?”
উসামা রুদ্ধ কন্ঠে বললো,
” অপলা চান্দে গেছে চু কিতকিত খেলতে।”
আকাশ দ্রুত গলায় বললো,
” তাহলে আপনি কে? অপলাই তো শুরুতে কল ধরেছিল।”
উসামা রাগান্বিত গলায় বললো,
” বললাম তো তোর অপলা ম’রেছে। আর আমি অপলার ভাতা’র বলছি।
অপলা উসামার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো। আকাশ হতবাক হয়ে বললো,
” অপলা ম্যারিড? দেখুন আপনি মিথ্যা বলছেন না তো?”
উসামা চিৎকার করে বললো,
” হ্যাঁ, আনম্যারিড মেয়ের কখনো ভা-তা-র থাকে? অজা’তের ঘরের কু’জাত! অন্যের ঘরের বউকে না দেখলে তোর অস্থির লাগে? তোর অস্থিরতা একেবারে ঘুচিয়ে দেবো। শা’লা কুকুরের বংশধর! জিন্দেগীতে এই নাম্বারে আর কখনো কল করলে তোর ঠ্যাং কে’টে ল্যাংড়া বানিয়ে ফেলে রাখবো। অপলার দিকে কখনো চোখ তুলে তাকালেও তোর চোখ তু’লে মার্বেল খেলবো।”
আকাশ ভয় পেয়ে কল কেটে দিলো। উসামা রাগে ফোনটা মেঝেতে ছুঁড়ে মারলো। মাথাটা গরম হয়ে গেছে তাঁর। শা’লার ঘরের শা’লার কত বড় সাহস! তাঁর বউকে লাইন মারে? আবার বলে কিনা কথা না বলতে পেরে অস্থির লাগছে। শা’লা ইডিয়েট!
অপলা মেঝে থেকে ফোনটা উঠিয়ে নিলো। উসামা রাগে বিছানার এক কোনে বসে দাঁত কিড়মিড় করছে। অপলা কিছু বলার পূর্বেই উসামা বললো,
” দেখো অপলা, এখন তোমার আকাশ ভাইয়ের হয়ে মোটেও সাফাই গাইতে এসো না। সেরকম চিন্তা ভাবনা থাকলে আমার সঙ্গে কথা বলতে এসো না। শুধু শুধু অপমানিত হবে।”
উসামার কড়া গলায় বলা কথাগুলো অপলাকে বেশ আঘাত দিলো। সে কিছু না বলে ফোনটা বিছানার ওপরে ফেলে রেখে চলে গেল। আকাশ ছেলেটাকে সে চেনে না ঠিকমতো। আজই পরিচয় কে-ইবা জানতো সে এমন কিছু করে বসবে? আর জয়ার কোনো কান্ড জ্ঞান নেই? একটা ম্যারিড মেয়ের নাম্বার জেনে-বুঝে কেউ একটা অপরিচিত ছেলেকে দেয়?
চলবে….