#প্রতিশোধের_অঙ্গীকার
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_দ্বিতীয়
[পর্ব একটু রোমান্টিক। যাদের ভালো লাগে না তারা প্লিজ স্কিপ করুন]
এক বদ্ধ রুমে এলোমেলো হয়ে শুয়ে আছে এক রমনী। চুলগুলো অগোছালো,, মুখটায় বেশ কিছু দাগ। যে কেউ একবার দেখলেই বলবে,,পরিপূর্ণ যত্নের অভাবে ফুলের মতো শুঁকিয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে রমনীটি। কিন্তু কেন এতো অযত্ন? রমনীটি একটা ছবি বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বিরবির করে কি যেন বলছে। অচেতন প্রায় রমনীটির ধারে-কাছে আসার সাহস কেউ পাচ্ছে মা আপাতত।
দূর থেকে তাকে উপর লক্ষ্য রাখা লোকটির ফোনে একটা কল আসে। লোকটি ফোন বের করে নাম্বারটি দেখে ভয়ে কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলে। তারপর কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা রিসিভ করলে অপর পাশ থেকে সাথে সাথেই জোরালো এক ধমক ভেসে আসে।
–এতক্ষণ লাগে ফোনটা রিসিভ করতে?
–সরি স্যার। একটু ওয়াশরুম ছিলাম তাই রিসিভ করতে পারি নি।
অপর পাশের লোকটার রাগ কমলো কি?বুঝতে পারলো না। ফোনের ওপাশের অজ্ঞাত ব্যক্তিটি জিজ্ঞেস করে–
–তার অবস্থা কেমন?
অজ্ঞাত লোকটির কথা শুনে লোকটি ভয় পেয়ে যায়। এখন যদি শুনে এই পা//গল রমনীটি আজ আবার তাদের নাকানিচুবানি খাইয়েছে আর এর জন্য তারা একে ইলেকট্রনিক শক দিয়েছে তাহলে তাদের ধড়ে আর মাথা থাকা লাগবে না। অজ্ঞাত লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলে লোকটি নিজেকে বাঁচাতে জবাব দেয়–
–তেমন কোন ঝামেলা করে নি। শুধু ছবিটা জড়িয়ে ধরে বিরবির করছে।
–সত্যি তো? আমি যদি এতে কোন মিথ্যে খুঁজে পাই তাহলে ওইদিন ক্ষণই হবে আপনার শেষ সময়।
অজ্ঞাত লোকটির গম্ভীর গলায় এহেন কথা শুনে লোকটির প্যান্ট ভিজে যাওয়াটা মতো অবস্থা হয়েছে। সে বাম হাত দিয়ে কপালের বিন্দু বিন্দু ঘামগুলো মুছে বলে–
–না না স্যার। মিথ্যা বলবো কেন। সব ঠিক আছে এখানে।
–আচ্ছা। তার ভালোভাবে খেয়াল রাখবেন। আমি সামনের সপ্তাহে কিছু ডাক্তারদের নিয়ে আসবো তার মেন্টাল হেল্থ পরিক্ষা করার জন্য।
–আচ্ছা স্যার।
অজ্ঞাত লোকটি আর কথা না বাড়িয়ে খট করে ফোনটা কেটে দেয়।
______________________
জাভিয়ান বেলকনি থেকে রুমে এসে দেখে হানিয়া এখনো বের হয়নি। তার মেজাজ একটু খারাপই হয় বটে। সে ওয়াশরুমের দরজায় ধুমধাম আওয়াজ করতে থাকে। আর বলতে থাকে–
–বাহ! প্রথম একটা কথা বললাম তাও অমান্য করলে। আমার হাতের ভালোবাসাগুলো বুঝি একটু বেশিই ভালো লাগে??
হানিয়া ওয়াশরুমের ভেতরে তার এমন কথা শুনে ভয়ে কাঁপছে। শাওয়ার তো অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে কিন্তু পরার জন্য কিছুই নেই। এখন সে তো আর টাওয়াল পরে বের হতে পারে না। হানিয়াও একটু জোরে বলে–
–বের হবো কীভাবে? এনে তো ধপ করে ফেলে দিয়ে চলে গেলেন। কাপড়চোপড় তো কিছুই আনি নি।
মুহূর্তেই জাভিয়ানের মাথায় বিষয়টা ধরে ফেলে।আসলেই তো,,সে তো কোন কাপড়চোপড় দেয় নি আর না হানিয়া নিজে নিয়েছে। কিন্তু সে তার ভুল স্বীকার করতে নারাজ। সে হানিয়াকে বলে–
–তো কি হয়েছে কাপড় নাও নি। এমনেই এসে পরো। আমার লেট হচ্ছে।
জাভিয়ানের কথা শুনে হানিয়ার আত্মা উড়ে যাওয়ার যোগাড়।যতই স্বামী হোক না কেন,,তার সাথে হানিয়া এতোটাও ফ্রি হয়নি যার জেরে সে তার সামনে শুধু মাত্র একটা টাওয়াল পরেই বের হয়ে যাবে। সে হুড়মুড়িয়ে বলে–
–কি বলছেন আপনি?? কাপর বিহীন আসবো? মাথা খারাপ হয়ে গেছে আপনার?
–মাথা খারাপ হওয়ার কি আছে এখানে। আমি তোমার হাসবেন্ড,, তাই আজ হোক আর কাল তোমার সবকিছু তো আমিই দেখবো। তাই এতো ন্যাকামি না করে হয় তুমি বাহিরে আসো,,নাহলে আমাকে ভেতরে যেতে দাও।
জাভিয়ানের কথা শুনে হানিয়া কেঁদে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। সে একটু অনুনয় করে জাভিয়ান কে বলে–
–একটা অনুরোধ রাখেন না প্লিজ।
–কিচ্ছু করতে পারবো না আমি তোমার জন্য। তুমি কি এখন বের হবে নাকি আমি দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকবো??
তার কথা শুনে হানিয়া আঁতকে উঠে। সে আবার বলে–
— অ্যাঁই,,না না। প্লিজ এমন করবেন না। শুনুন না এই অনুরোধটা। তার বদলে আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো।
হানিয়ার এই কথায় যেনো কাজে দিলো। জাভিয়ান কয়েক মিনিটের জন্য হানিয়ার কথাটা ভাবে,,তারপর সে বলে–
–আচ্ছা আমি রাজি। পরে কিন্তু তুমি পল্টি খেতে পারবে না।
হানিয়া এই বিপদ থেকে বাঁচতে কোন কিছু না ভেবেই সম্মতি দিয়ে বলে–
–আচ্ছা আচ্ছা খাবো না পল্টি। এখন আমার কথাটা রাখুন।
–বলো কি করতে হবে?
–কাবার্ডের পাশে দেখেন একটা ব্রাউন কালারের লাগেজ আছে। ওটায় আমার জামাকাপড় আছে। ওখান থেকে একসেট সালওয়ার সুট দেন না প্লিজ।
–আচ্ছা দিচ্ছি।
কথাটা বলে জাভিয়ান হানিয়ার ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী কাজটা করে। লাগেজ খুলে বেশ কয়েকটা শাড়ি দেখতে পেলেও হানিয়ার কথা মতো সালওয়ার সুটই বের করে জাভিয়ান। সালওয়ার সুটটা পরে হানিয়া তাড়াতাড়ি করে বের হয়ে আসে। জাভিয়ান তার জামাকাপড় দিয়ে বেডে বসেই ফোন টিপছিলো,, ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজ শুনে সে ফোন চালাতে চালাতেই সেদিকে তাকিয়ে আবার ফোনের দিকে তাকাতে নেয়,,কিন্তু হায়! এ কাকে দেখছে সে?
জাভিয়ান হানিয়াকে একটা ডিপ রেড কালারের সালওয়ার সুট দিয়েছিলো। ড্রেসটা এতো সুন্দর মানিয়েছে হানিয়াকে। পিঠের মাঝ বরাবর চুলগুলো টাওয়াল দিয়ে প্যাচানো,,ওরনাটা গলায় ঝুলানো। মুখে বিন্দু বিন্দু পানি। তার এমন রূপে যেনো জাভিয়ান এক ঘোরে চলে গেছে। হানিয়া ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে চলে গিয়েছে। জাভিয়ান ঘোরের মধ্যে হেঁটে হেঁটে হানিয়ার পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। হানিয়া চুল মুছতে মুছতে আয়নায় তাকালে তার আত্মা ধক করে উঠে। আসলে সে গতকালকের পর থেকে জাভিয়ানকে ভীষণ ভয় পায়। কখন আবার কোন ভুলের জন্য তাকে মা-রতে শুরু করে।
হানিয়া চুল মোছা থামিয়ে আয়নার মধ্য দিয়েই জাভিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে,, জাভিয়ানও তাই। মিনিট দুয়েক পর জাভিয়ান হাত বাড়িয়ে হানিয়াকে নিজের দিকে ঘোরায়। হানিয়া ভয়ে নিচে দিকে তাকিয়ে কাঁপছে। তার এই মুহূর্তে ভীষণ ভয় লাগছে জাভিয়ানকে। জাভিয়ান হানিয়ার থুতনিতে হাত রেখে তার মুখটা উপরে তুলে। নিজের থুতনিতে জাভিয়ানের ছোয়া পেতেই হানিয়া চোখজোড়া খিচে বন্ধ করে নেয়। জাভিয়ান হানিয়ার মুখে পূর্ণ দৃষ্টি রাখলে দেখতে পায় তার বধূয়া তাকে ভয় পেয়ে কাঁপছে। বিষয়টা ভীষণ ভালো লাগে। তার চেয়েও বেশি ভালো লাগে হানিয়ার কাঁপতে থাকা ঠোঁট জোড়া। শাওয়ারের সময় লিপস্টিক উঠানোর কারণে হানিয়ার ঠোঁট জোড়া এখনও কিছুটা লালচে হয়ে আছে যা জাভিয়ানকে ভীষণ আকৃষ্ট করছে। সে তার এক হাত হানিয়ার কোমড়ে রেখে হানিয়াকে টেনে নিজের বুকে নিয়ে আসে। হানিয়া তার এই কাজে ভীষণ অবাক হয়ে চোখ খুলে তাকায়।
হানিয়া চোখ খুলে তার দিকে দৃষ্টি দিতেই দু’জনের চোখে চোখ পরে যায়। জাভিয়ানের চোখে হানিয়ার জন্য ঘোর থাকলেও হানিয়ার চোখে ছিল জাভিয়ানের জন্য ভয়। সে জাভিয়ানকে এতোটাই ভয় পাচ্ছে যে ভয়ের কারণে তার চোখে অশ্রু এসে জমা হয়েছে। তার মনে হচ্ছে শাওয়ার নিয়ে বের হতে দেরি হওয়ায় জাভিয়ান হয়তো তাকে আবার মা-রবে। সে কাঁপতে কাঁপতে বলে–
–এ..বারের মতো মা..ফ করে দিন। আর ক..খনো আপ..নার কথার অ..মান্য করবো না।
তার কথায় কি ছিলো জাভিয়ান জানে না। সে হুট করে হানিয়াকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে চুমু দিতে শুরু করে। হানিয়া হতভম্ব হয়ে যায় জাভিয়ানের কাজে। কিসের মধ্যে কি? সে চাইলো মাফ আর জাভিয়ান তাকে দিচ্ছে চুমু। জাভিয়ান তাকে এতো শক্ত করে ধরেছে যে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার জোগাড়। সে জাভিয়ানকে ঠেলে সরাতে গেলে জাভিয়ান তার হাতজোড় নিজের এক হাতের মধ্যে নিয়ে তা উচু করে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে। আরেক হাত দিয়ে ঘাড়ের পেছনের চুলগুলো খামচে ধরে চুমু দিতে থাকে। হানিয়া শ্বাস নেওয়ার জন্য হাসফাস করলে জাভিয়ান নিজের বাঁধন গুলো হালকা করে। এবার অনেক সফ্টলি চুমু দিতে তাকে হানিয়াকে। বেশ কিছুক্ষণ হয়ে যায় জাভিয়ান তাও হানিয়াকে ছাড়ে না। একসময় না পারতে হানিয়াও তার সাথে রেসপন্স করতে থাকে।
দুজনে যখন ভালোবাসার এক অন্য দুনিয়ায় বিচরণ করছে তখনও জাভিয়ানের বন্ধ চোখের পাতায় ভেসে উঠে এমন কিছু দৃশ্য যা জাভিয়ানের ভেতরকার পশুকে আবার জাগিয়ে তুলে। সে ঝট হানিয়াকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দেয়। এত সুন্দর একটি মুহূর্তে এমন কিছু কেউই আশা করে না,,হানিয়াও তাই। সে জাভিয়ানের হুট করে ধাক্কার তাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে গিয়ে পরে। জাভিয়ান এতো টুকুতেই শান্ত হয় না। সে তার হিংস্র রূপ নিয়ে হানিয়ার কাছে এসে তার চুল চেপে ধরে বলে–
–একদম আমায় ভালোবাসতে আসবি না। তোর আর আমার কোনদিন ভালোবাসার সম্পর্ক হবে না। হতে পারে না আর যদিও কোনদিন হওয়ার সম্ভাবনা হয় আমি তা হতে দিবো না। তুই সারাজীবন আমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ছটফট করবি। যেমনটা করেছিলো…….
জাভিয়ান তার পুরো কথা শেষ করে না। হানিয়ার চুল ছেড়ে দিয়ে চলে যায় ওয়াশরুমে। দরজাটা ঠাশ করে লাগিয়ে নিজের ক্রোধের মাত্রা বুঝায়। ঘরের মেঝেতে রেখে যায়,,ভগ্নহৃদয়ের এক রমনীকে। যে আপাতত তার অসমাপ্ত কথা গুলোর সমীকরণ মিলাতে ব্যস্ত।
~~চলবে?