প্রতিশোধের অঙ্গীকার পর্ব-৪৩

0
202

#প্রতিশোধের_অঙ্গীকার
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_তেতাল্লিশ

জাভিয়ানকে হসপিটালে রাখা হয় ১৫ দিনের মতো। তার স্বাস্থ্যের একটু উন্নতি হতেই মি.তালুকদার আর রোজি বেগম তাঁকে বাসায় নিয়ে আসতে চান। জাভিয়ানেরও হসপিটালে থাকতে ভালো লাগছিলো না,, আর তাই সেও দ্বিমত করে না বাবা ফুফুর কথার। তাই ডাক্তার আজ তাকে ছুটি দিয়ে দিয়েছে। হানিয়া তার সব জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়েছে। তার শ্বশুর আসলেই তারা বাসার জন্য রওনা হবে।

হসপিটালে এই কয়েকদিন হানিয়াই জাভিয়ানের সাথে ছিলো। তার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিলো না থাকার কিন্তু না থাকলে সকলেই সন্দেহ করবে। সে চায় না সব সত্যি জানার আগেই বাসার সবাই তাদের সম্পর্কের অবনতির কথা জানতে পাক। জাভিয়ান খাটে আধশোয়া হয়ে হানিয়াকে দেখছে। তার মাথায় শুধু হানিয়ার ওইদিনের কথা ঘুরে। সত্যিই কি তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যাবে?

সকাল ১১টার দিকে মি.তালুকদার তাদের নিতে আসেন। মিসেস তালুকদার আসে নি। সে চেয়েছিলো জাভিয়ান আরো কিছুদিন থাকুক হসপিটালে কিন্তু তার সেই কথা কেউ শুনে নি,,তাই সে সবার উপর রাগ করে তার খালাত বোন মানে সোহাদের বাসায় চলে গেছে। তারা যখন আসবে তখন ডাক্তার মি.তালুকদারকে বলে–

— জাভিয়ানের জন্য একজন নার্স নিয়ে গেলে ভালো হয়। সে জাভিয়ানকে নিয়ম করে সব করাতে পারবে। তার পায়ের এক্সারসাইজটাও কিভাবে করতে হবে সে তা জানে।

হানিয়া গাছাড়া ভাব নিয়ে বলে–

–আমার হাসবেন্ডের জন্য আমিই যথেষ্ট ডা. আঙ্কেল। আর উনার জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট রাখা হয়েছে। সে উনাকে বাসায় এসে নিয়মিত এক্সারসাইজ করিয়ে দিয়ে যাবে। আর অবসর সময়ে আমি তো থাকবোই।

মি.তালুকদার হামিয়ার কথা শুনে প্রসন্ন হয়। ডা. আঙ্কেল হানিয়ার কথার বিরোধিতা করতে চাইলে মি.তালুকদার তাঁকে চোখের ইশারায় মানা করে দেয়। জাভিয়ান চুপচাপ হানিয়ার কথা শুনছে। সেও ভীষণ খুশি হয়েছে কিন্তু তা প্রকাশ করে না।

একজন নার্স জাভিয়ানের জন্য হুইল চেয়ার নিয়ে এসে তাকে বসাতে চাইলে হানিয়া তাকে সরিয়ে নিজের জাভিয়ানকে দু’হাত দিয়ে আগলে নিয়ে বেড থেকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে দেয়। হানিয়া যখন জাভিয়ানকে চেয়ারে বসাচ্ছিলো তখন হানিয়া জাভিয়ানের কানে কানে বলে–

–লোক দেখানো দায়িত্বকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করবেন না কিন্তু।

হানিয়ার এই একটা কথায় যেন জাভিয়ানের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। কি বললো হানিয়া? লোক দেখানো দায়িত্ব? আগে তো কতবার সেবাশুশ্রূষা করেছে কিন্তু কখনো তো “দায়িত্ব” শব্দটা তাদের মাঝে আসে নি। তাহলে কি সত্যিই হানিয়ার ভালোবাসা শেষ হয়ে গেছে?

______________________

বাসায় আসার পর জাভিয়ান হানিয়ার মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখতে পায়। হানিয়া তার সকল কাজ খুবই সুন্দর ভাবেই করে দেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে তার রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত প্রতিটি কাজ নিজ দায়িত্বে করে। কিন্তু কোন ভালোবাসা পায় না কাজগুলোতে। দায়সারাভাবে করে কাজগুলো। মনে হয় হানিয়া তার বিনা বেতনের নার্স। আবার কয়েকটা অবাক করা কাজও করে। সেটা হলো,, মাঝে মধ্যেই হানিয়ার ফোনে কেউ একজন কল করে। তখন হানিয়া ফোনটা নিয়ে হয় ঘরের বাহিরে চলে যায় নাহলে বেলকনির একদম শেষ কর্নারে গিয়ে কথা বলে। আধাঘন্টা বা আরো বেশি সময় নিয়ে কথা বলে। কার সাথে এতো কথা বলে কথাটা জিজ্ঞেস করলে হানিয়া এর কোন সঠিক জবাব দেয় নি কোনবারই। জাভিয়ানের ভয় হচ্ছে। ভীষণ ভয়। কিসের ভয় সে বুঝতে পারছে না।

সময় এখন মাগরিবের ওয়াক্ত। হানিয়া নামাজ পড়ার জন্য অজু করতে গিয়েছে। এমন সময় তার ফোনটা বেজে উঠে। জাভিয়ান বেডে শোয়া ছিলো আর ফোনটা বেডের পাশের টেবিলে রাখা। জাভিয়ান হাত বাড়িয়ে ফোনটা হাতে নেয়। দেখে “জানু” নামের কেউ একজন ফোন করেছে। নামটা দেখে জাভিয়ানের বুকটা ধুক করে উঠে। তাদের সম্পর্কে কি তৃতীয় ব্যক্তির আগমন ঘটে গিয়েছে তাহলে? হানিয়া কি আসলেই তার আর নেই? হানিয়ার মনমাঝারে আরেকজনের আগমন ঘটে গেছে? হানিয়া কি এই “জানু’র” সাথেই তাহলে ওমন ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে?

জাভিয়ান এসব ভাবনার মাঝেই কলটা কেটে যায়। হানিয়াও ততক্ষণে অজু করে বের হয়ে এসেছে। মুখ মুছতে মুছতে সে জাভিয়ানকে জিজ্ঞেস করে–

–আমার ফোন এসেছিলো?

জাভিয়ান থমথমে মুখে বলে–

–হুম।

হানিয়া হিজাব পরতে পরতে বলে–

–ওহ্হ। কারো পারমিশন ছাড়া তার পারসোনাল জিনিস ধরা ব্যাড ম্যানারস। আশা করি কথাটা মনে রাখবেন।

জাভিয়ান দাত কিড়মিড়িয়ে বলে–

–তুমি অন্য কেউ নও। আমার স্ত্রী তুমি।

হানিয়া একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দেয়। তারপর আর কোন কথা না বলে জাভিয়ানের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে সেটায় “ডু নট ডিস্টার্ব” অন করে নামাজে দাড়িয়ে যায়। জাভিয়ান হানিয়ার এমন কাজে ভীষণ কষ্ট পায় সেই সাথে অপমানিতও হয়। সে মনে মনে ভাবে–

–আজ হাঁটতে চলতে পারছি না তাই এমন করছে। কথায় আছে না “হাতি যখন কাদায় পরে,, চামচিকেতেও তখন লাথি মারে” আমার হয়েছে এখন সেই অবস্থা।

জাভিয়ান নিজের মনে মনেই বিড়বিড়াতে থাকে।

______________________

কেটে যায় আরো ৩০টা দিন। ডাক্তারের দেওয়া ঔষধ,, হানিয়ার অক্লান্ত পরিশ্রম আর সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর অশেষ রহমতে জাভিয়ান এখন প্রায়ই সুস্থ। ডাক্তারের ঔষধ যেমন নিয়ম করে খেতে হয়েছে জাভিয়ানকে তেমনি হানিয়াও গাধারখাটুনি খেটেছে জাভিয়ানকে সুস্থ করে তুলতে। জাভিয়ানের হাতের প্লাস্টার খোলা হয়েছে দিন তিনকে আগে। হাঁটাচলাও করতে পারে,,কিন্তু স্ক্যার্চ নিয়ে করতে হয়। জাভিয়ান অফিসে যেতে চাইলে মি. তালুকদার তাঁকে আরো কিছুদিন রেস্ট করতে বলে। জাভিয়ান বাবার কথার উপর কোন কথা বলার সাহস পায় না আর।

ইদানীং জাভিয়ান প্রচন্ড আত্মগ্লানিতে ভুগছে। অসুস্থ থাকার কারণে তাঁকে দিনের বেশিরভাগ সময় শুয়ে বসেই কাটাতে হতো,,তখন সে না চাইতেও হানিয়ার কথা ভাবত। হানিয়ার কথা ভাবতে তার ভালো লাগে। সেই ভাবনা থেকেই আস্তে আস্তে সে তার পূর্বের কর্মগুলোর কথাও স্মরণে এসে পরতো। বিয়ের শুরু থেকে তার এক্সিডেন্টের আগ পর্যন্ত সে হানিয়াকে ঠিক কতটা নির্মমভাবে অত্যাচার,,কষ্ট দিয়েছে সেটা সে বুঝতে করতে পেরেছে। সেই বুঝ থেকেই আজকাল সে হানিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারে না।

______________________

হানিয়া সকলকে সকালের ব্রেকফাস্ট করিয়ে কুলসুম আর রান্নার আন্টিকে বুঝিয়ে দেয় কি কি রান্না করতে হবে তাদের,,তারপর চলে যায় নিজের রুমে। জাভিয়ান অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও সে নিয়মিত কলেজে গিয়েছে। বেশি না চার বা সাড়ে চার ঘন্টার জন্য সে জাভিয়ানের দায়িত্ব কুলসুম আর রোজি বেগমের উপর দিয়ে সে কলেজ করেছে। হানিয়ার দুটো ক্লাস হয়,,কোনদিন তিনটা হয়। এতে তার তিন কি সাড়ে তিন ঘন্টা লাগে। কিন্তু এক্সট্রা এক ঘন্টা কোথায় বা কিসের জন্য ব্যয় করে তা জাভিয়ান জানে না। কয়েকবার জিজ্ঞেস করেও কোন সদ্ব্যউত্তর পায়নি।

আজ তার একটা এক্সাম আছে। নয়টায় এক্সাম শুরু হবে কিন্তু তার ঘরেই বেজে গেছে আটটা চল্লিশ। যেতে যেতে হয়ত এক্সাম শুরুও হয়ে যাবে। হানিয়া তাই না খেয়েই রেডি হয়ে নিচ্ছে। জাভিয়ান সোফায় বসে আঁড়চোখে সবটাই প্রত্যক্ষ করছে। হানিয়াকে তাড়াহুড়ো করে উপরে যেতে সে বুঝে যায় হানিয়া আজ ব্রেকফাস্ট করা হবে না। তাই জাভিয়ান নিজেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে একটা প্লেটে অল্প করে খাবার নেয় তারপর সেটা নিয়ে চলে যায় নিজেদের রুমে। রুমে এসে দেখে হানিয়া রেডি হয়ে গেছে। এখনই বের হবে। জাভিয়ান খাবারের প্লেটটা সেন্টার টেবিলে রেখে হানিয়ার কাছে গিয়ে তার হাত টেনে ধরে। তারপর তাকে টেনে সেন্টার টেবিলের কাছে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসিয়ে দিয়ে প্লেট থেকে একটু খাবার হানিয়ার মুখের সামনে ধরে। মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলে–

–সকলকে খাওয়ালে কিন্তু নিজে তো খেলে না। এমন করলে অসুস্থ হয়ে পরবে,,তখন আমাদের খেয়াল কে রাখবে? একটু খেয়ে তারপর যাও। ফিরতেও তো লেট হবে মনে হয়।

হানিয়া ভ্রু কুঁচকে জাভিয়ানের দিকে তাকায় তারপর তার হাত সরিয়ে দিয়ে বসা থেকে উঠে পরে। নিজের ব্যাগটা নিয়ে রুম থেকে বের হওয়ার আগে বলে–

–আমি অসুস্থ হলে ফেলে আসবেন বাপের বাড়ি। আপনাদের কোন ঠেকা নেই আমার সেবাশুশ্রূষা করার। তাদেরও কোন ঠেকা নেই আমার সেবা করার।কিন্তু ওই একটা জায়গা ছাড়া তো আমার মাথা গোঁজার কোন জায়গা নেই। থাকলে আপনাদের সকলকে কষ্ট দিতাম না। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য আমি নিজেই যথেষ্ট। আপনি নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন। আল্লাহ হাফেজ।

কথাটা বলে হানিয়া এক সেকেন্ডও দেরি করে না। বের হয়ে আসে রুম থেকে। জাভিয়ান শূন্য দৃষ্টিতে তার যাওয়া দেখে। হানিয়ার কথাগুলো তার ভীষণ লেগেছে।কোথায়? একদম বুকে। হানিয়াকে সে ভেবেছিলো শান্ত সৃষ্ট,, লক্ষি একটা মেয়ে। তার ভাবনা অবশ্য ভুল না। কিন্তু তার কথাগুলো ওজন অনেক বেশি। একদম বুকের এইপাশ দিয়ে ঢুকে ওপাশ দিয়ে বের হয়ে যায়।

_______________________

দীর্ঘ চার ঘন্টার এক্সাম শেষে হানিয়া-ইনায়া বের হয়ে আসে। এক্সাম মোটামুটি ভালোই হয়েছে। কথা বলতে বলতে তারা কলেজ থেকে বের হচ্ছিল তখনই হানিয়া মাথা ঘুরিয়ে পরে যায়। আদিয়াতও তখন কলেজ থেকে বাসায় ফেরার জন্য বের হচ্ছিল। তার দৃষ্টিতে বিষয়টা ধরা পরে। সে চঞ্চল পায়ে তাদের কাছে এগিয়ে যায়। তারপর হানিয়ার পাশে বসা ইনায়াকে অস্থির কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে–

–কি হয়েছে উনার? অজ্ঞান হয়ে পরলো কেন?

ইনায়া হানিয়ার গালে আলতো চাপড় মারতে মারতে বলে–

–জানি না ভাইয়া। ওকে এমনিতেই দুর্বল লাগছিলো। হাত-পা’ও একদম ঠান্ডা হয়ে এসেছে,,মনে হয় প্রেসার ফল করেছে। (হানিয়াকে ডাকতে ডাকতে বলে) হানিয়া! এই হানিয়া! উঠ।

হানিয়ার এমন অবস্থা দেখে ইনায়া -আদিয়াত দুজনই ভীষণ ঘাবড়ে যায়। তাই তো ইনায়া আশেপাশের মানুষের কথা না ভেবেই আদিয়াতকে স্যার না ডেকে ভাইয়া ডেকে ফেলেছে। অবশ্য আদিয়াত আর ইনায়া ভাই-বোনই হয়। বিষয়টা কলেজের প্রফেসররা জানলেও স্টুডেন্টরা কেউই জানে না।আদিয়াত ইনায়ার কথা শুনে দ্রুত এক বোতল পানি এনে সেটা ইনায়াকে দিয়ে বলে হানিয়ার মুখে ছিটাতে। ইনায়া তাই করে,,কিন্তু কোন কাজ হয় না। তখন আদিয়াত নিজের অস্থিরতাকে না সামতালে পেরে হানিয়াকে কোলে তুলে নেয়,,আর ইনায়াকে বলে তার সাথে যেতে,,উদ্দেশ্য হসপিটাল।

আদিয়াত তাঁকে নিকটস্থ একটা হসপিটালে নিয়ে আসে। গাড়ি থেকে বের হয়ে আবারও হানিয়াকে কোলে তুলে নেয়,,এবার অচেতন হানিয়ার মাথাটা গিয়ে পরে আদিয়াতের বুকের উপর। আদিয়াত কিছু সময়ের জন্য থমকে যায়। ইনায়া ভাইকে থেমে যেতে দেখে ডাক দেয়। আদিয়াত তার ডাকে নিজের ধ্যানে ফিরে। তারপর আবার পা চালিয়ে হসপিটালের ভেতরে ঢুকে পরে।

ডাক্তার হানিয়াকে দেখে তাদের জানায় হানিয়ার শরীর অনেক দুর্বল। এবং সে নিয়মিত খাওয়া,,ঘুম কিছুই করে না। তাঁকে কয়েকটা ঔষধ আর কিছু পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ছাড়ার আগে একটা স্যালাইন সেখানে বসেই দিয়ে তারপর আসতে হয় তাঁকে। মাঝপথে ইনায়ার একটা কাজ পরায় ইনায়া নেমে পরে। আদিয়াত নিজের গাড়িতে করে হানিয়াকে বাসায় ছেড়ে আসে।

অন্যদিনের তুলনায় আজ অনেক বেশি দেরি হওয়ায় জাভিয়ান বেলকনিতে দাঁড়িয়ে বাড়ির মেইন গেটের দিকে তাকিয়ে ছিলো। তার বেলকনি থেকে বাসায় ঢোকার মেইন গেইম একদম স্পষ্ট দেখা যায়।তখন তার নজরে পরে আদিয়াতের গাড়ি থেকে নামা হানিয়ার দিকে। আদিয়াত নিজে আগে গাড়ি থেকে নেমে তারপর হানিয়ার পাশের দরজা খুলে দেয় তাকে বের হওয়ার জন্য। তারপর ঔষধের প্যাকেটটা হানিয়াকে দেয়। হানিয়া তাঁকে ঔষধ ও যাবতীয় খরচের জন্য টাকা দিতে চাইলে আদিয়াত তাঁকে হালকা বকা দেয়। পরবর্তীতে নিজেই আবার একটা হাসির কথা বলে হানিয়াকে হাসিয়ে দেয়। পুরো ঘটনা জাভিয়ান বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। বুকের বাম পাশের যন্ত্রটায় ভীষণ ব্যথা হচ্ছে। তার বউয়ের মুখে অন্য একজনের জন্য হাসি ফুটেছে সে কিছুতেই মানতে পারছে না।

হানিয়া আদিয়াতকে বিদায় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। ড্রয়িংরুমে বসে থাকা রোজি বেগম সকালে না খেয়ে যাওয়া এবং এতো দেরি করে ফেরায় বকাঝকা করে। বেশি একটা বকাঝকা করতে পারে না হানিয়ার অসুস্থ মুখশ্রী দেখে। হানিয়াকে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলে তাড়াতাড়ি করে। হানিয়া রুমে এসে জাভিয়ানকে পায় না। বাসার জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢোকার আগে বেলকনিতে একবার উঁকি মারে। সেখানে জাভিয়ানকে বসে থাকতে দেখে কিন্তু কিছুই বলে না বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে না। চুপচাপ ফ্রেশ হয়ে এসে নিচে নেমে আসে। রোজি বেগম তাঁকে নিজের হাতে খাইয়ে দেয়,,তারপর সে উপরে এসে ডাক্তারের দেওয়া ঔষধগুলো খেয়ে শুয়ে পরে সোফায়। জাভিয়ানের এক্সিডেন্টের পর থেকে তাদের বিছানার দুরুত্ব বেড়েছে। হানিয়া জাভিয়ানের সাথে সবটা সময় থাকলেও বিছানায় তার পাশে শোয় না। জাভিয়ান এর জন্য কয়েক বার জোড়াজুড়ি করলেও হানিয়া এবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল।

___________________________

জাভিয়ান আজ অনেকদিন পর স্পর্শের সাথে দেখা করতে এসেছে। অনেকক্ষণ বোনের সাথে কথা বললো। খুবই ভালো লেগেছে তার। জাভিয়ান স্পর্শের সুস্থতা দেখে খুবই খুশি। সে মিসেস জুলিয়াকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে স্পর্শর হেল্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে মিসেস জুলিয়া জানায় স্পর্শ সুস্থ হচ্ছে। কথা শেষ করে সে যখন চলে আসবে তখন মিসেস জুলিয়া তার পেছন ডেকে বলে–

–মি.চৌধুরী কবে আসবে স্যার?

–কথা হয়নি এতোদিন। তিন মাস তো প্রায় শেষের পথে,,হয়ত তাড়াতাড়িই আসবে। আজকে দেখি কথা বলবো।

–ওহ্হ।

শব্দসংখ্যা~১৭৫২

~~চলবে?