প্রতিশোধের অঙ্গীকার পর্ব-৫৫

0
129

#প্রতিশোধের_অঙ্গীকার
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_পঞ্চান্ন

মায়ের চিৎকারের আওয়াজ শুনে সোনিয়া তড়িঘড়ি করে নিজের রুম থেকে বের হয়ে আসে। সোফায় উল্টাপাল্টা ভাবে বাবাকে শুয়ে থাকতে দেখে সোনিয়া ঘাবড়ে যায়। তাড়াতাড়ি মায়ের কাছে এসে মেঝেতে বসে বাবাকে ডাকতে থাকে। কিন্তু নাহ,,মি.মির্জা চোখ খুলেন না। সোনিয়া তার নাকের কাছে হাত নিয়ে দেখে অনেকটা আস্তে শ্বাস ফেলছে। পালস চেক করলেও বুঝতে পারো অনেক আস্তে চলছে। মি.মির্জার হার্টের অবস্থা ভালো ছিলো না আগের থেকেই,, সেই অসুস্থতাকে পুঁজি করেই তো দুই সন্তানের জীবনটা নষ্ট করলেন। আজ সেই অসুস্থতাই তাঁকে মরণ যন্ত্রণা দিচ্ছে।

সোনিয়া বাবার অবস্থা দেখে অনেকটা ঘাবড়ে যায়। নিজের ঘরে গিয়ে ফোন নিয়ে ভাইকে ফোন লাগায়। আবরারের রিংটোনের আওয়াজ তার রুম থেকেই পায়। তার মানে আবরার ফোন সাথে করে নিয়ে যায় নি। এখন কি করবে সে? কাকে ফোন দিবে? কার কাছে সাহায্য পাবে? কথারা ভাবতে ভাবতে হুট করে ইনায়ার কথা মনে পরে। হানিয়ার সুইসাইড কেসের সময় ডা. এহসানের কারণেই হানিয়া বেস্ট ট্রিটমেন্ট পেয়েছিলো। ইনায়ার নাম্বার সোনিয়ার কাছে থাকায় সে তৎক্ষনাৎ তাকে ফোন লাগায়।

হানিয়া আর ইনায়া তখন মাত্রই বাসায় ফিরেছিলো।ইনায়া শাওয়ার নিতে গেছে আর হানিয়া বসে রেস্ট নিচ্ছিলো। ইনায়ার ফোনটা বেজে উঠায় সে ফোনটা হাতে নেয়। সোনিয়ার নাম্বার দেখে কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই ফোনটা রিসিভ করে হাসি মুখেই জিজ্ঞেস
করে —

–কি ব্যাপার ম্যাম,, আপনার খবর কি?

বোনের কণ্ঠ চিনতে পেরে সোনিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলে—

–হানিয়া তুই ডা.এহসানকে নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে পারবি প্লিজ?? বাবা না কেমন জানি করছ। অজ্ঞান হয়ে গেছে বাবা।

বাবা-মা যতই খারাপ হোক বা খারাপ কিছু করুক না কেন কোন সন্তান তাদের অসুস্থতা সহ্য করতে পারে? আমার তো মনে হয় পারে না। হানিয়াও তেমনই তার বাবার অসুস্থতার কথা মেনে নিতে পারে না। মি.মির্জা তাঁকে না ভালোবাসলে কি হবে সে তো মি.মির্জা অনেক ভালোবাসে। হানিয়া সোনিয়াকে শান্ত করে বলে—

–তুই চিন্তা করিস না। আমি এখনি আসছি। আর ডা.এহসান তো এখন শহরে নেই বোন। তুই এক কাজ কর এম্বুল্যান্সে কল কর,,আমি ততক্ষণে এসে পরছি।

সোনিয়া কলটা কেটে হানিয়ার কথা মতো কাজ করে। এম্বুল্যান্সে কল লাগায়। অন্যদিকে হানিয়া ওড়নাটা কোন মতো পেঁচিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে আসে।নিচে ইনায়ার আম্মু তাকে এতো অস্থির হয়ে দৌড়ে বাসা থেকে বের হতে দেখে অনেক অবাক হয়ে যায়। কয়েকবার পেছনও ডাকে,,কিন্তু হানিয়ার তখন হুশ নেই। হানিয়া বাসা থেকে বের হয়ে ঘাড় ঘুড়িয়ে এদিক সেদিক রিকশা বা সিএনজি খুঁজতে থাকে। বিকেল টাইম তাই তেমন একটা যানবাহনও নেই।

সে যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি না পেয়ে দৌড়াতে থাকে। আদিয়াত কলেজ থেকে তখনই ফিরছিলো। হানিয়াকে এমন উদ্ভ্রান্তের ন্যায় দৌড়াতে দেখে সে তার গাড়ি থামায় হানিয়ার সামনে। হানিয়া দৌঁড়ানোর কারনে অনেকটা হাঁপিয়ে উঠছে তাই একটু শ্বাস নিচ্ছিলো,,নিজের সামনে একটা গাড়ি থামতে দেখে সে কয়েক কদম পিছিয়ে যায়। আদিয়াত গাড়ি থেকে নেমে হানিয়ার সামনে এসে জিজ্ঞেস করে–

–হানিয়া কি হয়েছে আপনার? এমন উদ্ভ্রান্তের মতো দৌড়াচ্ছিলেন কেন?

হানিয়া কান্না গুলো সব দলা পাকিয়ে গলার কাছে এসে জমেছে। মুখ খুলে সে কথা বলার জন্য কিন্তু কান্নার কারণে কিছু বলতে পারছে না। আদিয়াত হানিয়াকে কাঁদতে দেখে আরো অবাক হয়ে যায়। সে একের পর এক প্রশ্ন করতেই থাকে হানিয়াকে। হানিয়া অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে আদিয়াতকে বলে—

–স্যার,,আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পরেছে। আমায় এখনি বাসায় যেতে হবে। আমাকে একটু লিফট দিবেন প্লিজ?

হানিয়ার বাবা অসুস্থ শুনে আদিয়াতও একটু চিন্তায় পরে যায়। সে আর সময় নষ্ট না করে গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে চলে হানিয়ার বাসার উদ্দেশ্য।

হানিয়ারা পৌঁছে দেখে এম্বুল্যান্সও এসে পরেছে। হানিয়া গাড়ি থেকে নেমে দৌড়া লিফটে উঠে পরে আদিয়াতকে রেখেই। বাসায় এসে দেখে তার মা-বোন কাঁদছে। হানিয়া দৌড়ে বাবার কাছে এসে তার পাশে বসে ডাকতে থাকে। কিন্তু মি.মির্জা যে জ্ঞান হারিয়েছেন সেটা এখনো ফিরে নি। আদিয়াত আর এম্বুলেন্সে আসা দু’জন লোক মি.মির্জাকে স্ট্রেচারে উঠিয়ে নিচে নিয়ে আসে। মি.মির্জার সাথে সোনিয়া আর মিসেস মির্জা যায় আর হানিয়া আদিয়াতের গাড়িতে করে হসপিটালে যায়।

_________________________

আবরার বাসা থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে বেশ অনেকটা দূরে এসে পরে। একটা পার্কের মতো জায়গাটা, বিকেলে বাচ্চা-বয়স্করা এখানে আসে নিজেদের অবসর সময় কাটাতে। আবরারে ক্লান্ত লাগায় সে একটা বেঞ্চে বসে পরে। এসে একটু রেস্টও নিতে পারেনি সে। বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর দূরের মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ পেলে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে মনের প্রশান্তির জন্য কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করে। তারপর আবারও সেই পার্কটায় এসে বসে থাকে। বাসায় যেতেই মন চাচ্ছে না তার। ভীষণ দম বন্ধকর একটা জায়গা লাগে তার কাছে বাসা টাকে।

চোখ বন্ধ করে শরীরটা পেছনের দিকে এলিয়ে দিয়ে বসেছিলো আবরার তখনই একটা মেয়েলি কণ্ঠের ডাক তার কানে এসে লাগে। চোখ খুলে মেয়েটির দিকে তাকালে দেখতে পায় এ যে তার মায়াবিনী। মন খারাপের মাঝেই হুট করে এই নারীর আগমনে মনটা ভালো হয় যায়। নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে একটু হাসির ফুটিয়ে তোলে সে। স্পর্শ এগিয়ে এসে আবরারকে জিজ্ঞেস করে–

–আপনি এখানে কি করছেন আবরার?

আবরার একটু সরে বসে স্পর্শকে বসার জায়গা করে দিয়ে বলে—

–এমনি বসে ছিলাম।

স্পর্শ আবরারের মুখ দেখে বুঝে যায় তার মন খারাপ। স্পর্শ মন চাইলো তার প্রিয় পরুষ টির মন ভালো করতে। স্পর্শ খেয়াল করেছে আবরার তার বসার জন্য জায়গা দিয়েছে,,সেও সুযোগের সৎ ব্যবহার করে সেখানে বসে পরে। প্রিয় পরুষটির মন ভালো করার মিশনে নেমে পরে সে। আবরার এখনো স্পর্শকে ভালোবাসে সেটা স্পর্শ জানে। স্পর্শও যে আবরারকে ভালোবাসে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঝের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিলো যার জন্য সে আবরারকে ১০% দোষ দিবে আর বাকি ৯০% আরমানকে। সে যদি আবরারের বাবাকে তার সম্পর্কে খারাপ কথা না বলতো এতদিনে হয়ত তাদের বিয়েও হয়ে যেতো।

স্পর্শ সেসব ভুলে গিয়েছে,,সে আবরারকে চায় নিজের জীবনে যেমনটা চেয়েছিলো প্রেমে পরার পর,,সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগে। সেদিন হানিয়াকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে এসব কথাই বলেছে স্পর্শ। হানিয়াও বলেছে তার আর জাভিয়ানের ব্যাপারটা মিটমাট হয়ে যাওয়ার পর তাদের দু’জনের বিয়ের ব্যবস্থা সে নিজের উদ্যোগ করবে। ততদিন যাতে স্পর্শ আবরারের কাছাকাছি থাকে এবং আবরারের মনে তার জন্য ফিকে পরে যাওয়া ভালোবাসাটাকে পুনরায় সজীব করে তুলে। স্পর্শও হানিয়ার কথামতো সেই কাজটাই করছে। প্রতিদিন না হোক একদিন অন্তর অন্তর সে আবরারের সাথে ফোনে কথা বলে,,আবরারও সময় বের করে মাঝে মধ্যে ফোন দেয়। এতেই তে বুঝা যায় সেও স্পর্শর সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক।

স্পর্শ আর আবরারের কথা বলতে বলতে মাগরিবের সময় হয়ে যায়। আবরার বলে—

–আমাদের এখন উঠা উচিত। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে,,তোমার বাসায় হয়ত চিন্তা করবে।

স্পর্শ আশেপাশে তাকিয়ে দেখে হ্যাঁ অনেকটা সময় কাটিয়ে ফেলেছে সে। তারা দু’জন বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। আবরার পার্ক থেকে বের হয়ে একটা রিকশা ডেকে তাতে স্পর্শকে উঠিয়ে দেয়। রিকশা চলতে শুরু করার আগে সে স্পর্শকে বলে—

–বাসায় পৌঁছে আমায় ফোন দিয়ে জানাবে। মনে থাকবে?

স্পর্শ একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে—

–আচ্ছা। আল্লাহ হাফেজ।

–আল্লাহ হাফেজ।

রিকশা চলতে শুরু করে। স্পর্শের রিকশা চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত আবরার দাঁড়িয়ে থাকে। রিকশাটা চোখের আড়ালে চলে গেলে আবরার চলে যায় মসজিদে। মাগরিবের নামাজ পড়ে হাটা দেয় বাসার উদ্দেশ্য। মেজাজ আর মন দু’টোই অনেকটা ভালো হয়েছে। আবরার সিদ্ধান্ত নেয় বাসায় যেয়ে তার করা ব্যবহারের জন্য বাবার কাছে ক্ষমা চাইবে।

বাসায় এসে দেখে বাসায় কেউ নেই,,লক করা। আবরার বুঝে উঠতে পারে না এই ভরসন্ধ্যায় তারা তিনজন কই গেলো? এখন কিভাবে বাসায় ঢুকবে কথাটা ভাবতে ভাবতেই তাদের এক প্রতিবেশী আন্টি জানায় তার বাবার অসুস্থতার কথা। আবরার কথাটা শুনে অনেক চিন্তায় পরে যায়। তাদের সিকিউরিটি গার্ডের কাছে তাদের বিল্ডিংয়ের সব ফ্ল্যাটের একটা এক্সট্রা চাবি থাকে। আবরার সিকিউরিটি গার্ডের কাছ থেকে তাদের ফ্ল্যাটের চাবিটা এনে দরজা খুলে বাসায় প্রবেশ করে।

নিজের রুমে গিয়ে ফোনটা হাতে নিলে দেখতে পায় হানিয়া-সোনিয়া আরো কয়েকজনের নাম্বার থেকে আসা বেশ কয়েকটা মিসকল। আবরার ফোন আর ওয়ালেটটা নিয়ে পুনরায় বাসা লক করে বের হয়ে আসে বাসা থেকে। রিকশায় বসে হানিয়াকে ফোন করে হসপিটালের নামটা জেনে নেয়।

___________________

আবরার হসপিটালে এসে জানতে পারে মি.মির্জা মেজর হার্ট অ্যাটাক করেছে। অবস্থা খুবই ক্রিটিকাল। হার্টের অপারেশন করা লাগবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। কথা টা শুনে মিসেস মির্জা আর সোনিয়া কান্নায় ভেঙে পরে। হানিয়াও কাঁদছে বাবার জন্য কিন্তু তাদের মতো ভেঙে পরেনি। আবরার নিজেকে দোষী করেছে বাবার এমন অবস্থার জন্য।

ইনায়া শাওয়ার থেকে বের হয়ে হানিয়াকে না দেখতে পেয়ে নিচে এসে তার মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করলে,, তা মা হানিয়ার দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা জানায়। ইনায়া পরবর্তীতে হানিয়াকে ফোন করে না পেলে নিজের ভাইকে এ সম্পর্কে জানালে আদিয়াত তাঁকে বিষয়টা খুলে বলে। ইনায়া তৎক্ষনাৎ হসপিটালে এসে পরে। সে এখন ব্যস্ত মিসেস মির্জা আর সোনিয়াকে শান্ত করতে।

স্পর্শ বাসায় এসে পরেছে কথাটা জানানোর জন্য আবরারকে ফোন দেয়। আবরার নাম্বার না দেখেই রিসিভ করে কানে ধরে। ভাঙা ভাঙা গলায় সালাম দেয় অপর পাশের ব্যক্তিটিকে। স্পর্শ আবরারের ভাঙা গলার স্বর শুনে বিচলিত হয়ে পরে। সে সালামের জবাব দিয়ো বলে—

–কি হয়েছে আপনার? কাঁদছেন কেনো?

স্পর্শের গলার আওয়াজ শুনে আবরার ফোনটা কান থেকে সরিয়ে নাম্বারটা একবার দেখে। স্পর্শের নাম্বার দেখে একটা গলা খাঁকারি দিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বলে—

–কিছু হয়নি। পৌঁছে গিয়েছো বাসায়?

–হুম। কিন্তু আপনার কি হয়েছে? আপনি কোথায় এখন? এতো চিল্লাচিল্লি আর কান্নাকাটির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে কেন?

মি.মির্জাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। আর আইসিইউ ওয়ার্ডের বাহিরে একজন পেশেন্টের বাড়ির লোক কাঁদছিলো,,স্পর্শ তাঁদের কান্নার আওয়াজ শুনেই প্রশ্নটা করে। আবরার স্পর্শকে তাদের বাসার ঝামেলার কথা জানাতে চায় নি,,কিন্তু স্পর্শ অনেক জোর করার পর আবরার না পারতে মি.মির্জার অসুস্থতার কথায় জানায়। স্পর্শ আর কোন কথা না শুনে শুধু এইটুকু বলে—

–আমি আসছি।

আবরার তাকে আসার জন্য নিষেধ করতে চায় কিন্তু তার আগেই সে ফোনটা কেটে দেয়। পরাপর আরো কয়েকবার ফোন দেয় কিন্তু স্পর্শ ধরে না। এর মধ্যে ডাক্তার তাঁকে ডাক দিলে সে স্পর্শর কথা ভুলে ডাক্তারের কাছে চলে যায়।

_________________________

জাভিয়ান আইসিইউর সামনে এসে হানিয়ার পাশে আদিয়াতকে বসা থাকতে দেখে ভয়াবহ রকমের রেগে যায়। স্পর্শ আর মি. তালুকদারকে পেছনেই রেখে হনহনিয়ে তাদের সামনে গিয়ে হুট করে হানিয়ার ডান হাতটা টেনে ধরে বসা থেকে দাড় করায়। বিষয়টা এত জলদি হয়ে যায় যে হানিয়া বা আদিয়াতের বোধগম্য হয় না। কয়েক সেকেন্ড পর হানিয়া বিষয়টা বুঝতে পারে তখন তার মাথাও গরম হয়ে যায়। এমন ঝট করে দাড় করানোর কি মানে? কে-ই বা করলো? ব্যক্তিটাকে দেখার জন্য তার দিকে তাকালে জাভিয়ানকে দেখতে পায়। তাকে দেখে তো হানিয়ার পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়। ঝটকা দিয়ে তার হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। রাগে হিসহিসিয়ে বলে—

–অধিকার হারানোর পর তা প্রয়োগ করতে চাওয়া বোকাদের কাজ। আশা করি আপনি নিজেকে আরো একবার বোকা প্রমাণ করবেন না।

অধিকার হারিয়েছে মানে? কেমনে হারালো? রাগ করেছে ভালো কথা তাই বলে অধিকার হরণ করা হবে,, এ আবার কেমন কথা? বিয়ে করা বউয়ের উপর নাকি জাভিয়ানের অধিকার নেই। এ-ও জাভিয়ান মানবে? কথাগুলো আমার না দ্যা গ্রেট জাভিয়ান তালুকদারের। মনের কথাগুলো মুখে বলবে তখনই তার কথায় বাম হাত দেয় তারই বাবা। মি. তালুকদার জাভিয়ানকে চাপা স্বরে ধমক দিয়ে বলে–

–এই জন্যই তোমাকে আমি আনতে চাই নি। প্লিজ ওদের দুঃসময়ে আর ঝামেলা বাড়িয়ো না। আমি অনুরোধ করছি তোমার কাছে।

জাভিয়ান বাবার কথার উপর আর কোন কথা বলতে পারে না। কিন্তু হানিয়ার পাশ থেকে সরেও না। হানিয়া তাকে সরতে না দেখে নিজেই সরে গিয়ে স্পর্শর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। আদিয়াত এতক্ষন চুপচাপ দাড়িয়ে জাভিয়ান কর্মকান্ড গুলো দেখছিল। হানিয়া সরে গেলে জাভিয়ান নিজেই আদিয়াতের কাছে আসে। চোখমুখ শক্ত করে তাঁকে বলে—

–আমার বউয়ের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকবেন
মি. মাহবুব। আজ প্রথমবার দেখে ছেড়ে দিলাম। নেক্সট টাইম ছাড় নাও পেতে পারেন।

সামান্য একটু পাশে বসায় জাভিয়ান আদিয়াতকে মারার হুমকি দিচ্ছে। হায়রে বোকা পুরুষ!! এতোই যখন ভালোবাসিস তাহলে ধরে রাখতে পারলি না কেন নিজের ভালোবাসাকে? প্রশ্নটা করার জন্য আদিয়াতের মনটা ভীষণ আকুপাকু করে।কিন্তু এটা সঠিক সময় বা জায়গা না বিষয়টা মাথায় আসতেই সব আকুপাকু থেমে যায়। আদিয়াত জাভিয়ানকে উদ্দেশ্য করে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে নিজেও সেখান থেকে সরে যায়।

ডাক্তাররা মি.মির্জার অপারেশন আজ রাতের মধ্যেই করতে চাচ্ছেন,, এর জন্য যাবতীয় সব ফর্মালিটি পূরণ শেষ। শুধু টাকা জমা দেওয়া বাকি। কিন্তু রাত বাজে এখন দু’টো। এত রাতে তিন লক্ষ টাকা আবরার কই পাবে? বাসায় কি কেউ এতোগুলো টাকা রাখে? বিষয়টা ভাবতে ভাবতে যখন আবরারের মাথা ব্যথা হওয়ার উপক্রম তখনই মি.তালুকদার আবরারকে প্রস্তাব দেয়–

–আমি টাকাটা পে করে দিচ্ছি তুমি না হয় পরে দিয়ে দিও টাকাটা আমায়।

আবরার তাকে সাফসাফ মানা করে দেয়। যে বাড়ি থেকে তার বোনকে চরিত্রহীন অপবাদ নিয়ে সংসার ত্যাগ করতে হয় সেই বাড়ির সাহায্য বুঝি আবরার নেবে? মরে গেলেও না। জাভিয়ান কিছু বলতে চাইলে আবরারের শক্ত চোখমুখ দেখে কিছু বলতে পারে না। স্পর্শও এই বিষয়ে বুঝায় আবরারকে কিন্তু তার না মানে না। স্পর্শ হানিয়া কেও বলে এই বিষয়ে বুঝাতে কিন্তু হানিয়াও ভাইয়ের কথার উপর কিছু বলতে পারে না।

টাকা নিবে না তাহলে অপারেশনও তো শুরু হবে না। বিষয়টা আদিয়াত আবরারকে বুঝালে সে বুঝে কিন্তু এতে করে তার মনে হচ্ছে তাঁকে সেই তালুকদারদের সামনে মাথা নিচু করতে হচ্ছে। হুট করে হানিয়া বলে উঠে —

— ইনায়া আমাদের এক ক্লাসফ্রেন্ড ছিলো না স্বর্ণালী। ওর বাবার তো গোল্ডের দোকান আছে না?।

ইনায়া বলে—

–হ্যাঁ। তো কি হয়েছে? আর এইসময় ওর কথাই বা উঠছে কেনো?

–ওর বাবার কাছে আমার আর মায়ের গহনা গুলো বন্ধক রেখেও তো আমরা টাকা পেতে পারি। এসব জুয়েলার্সেদের কাছে তো সবসময়ই নগদ কিছু টাকা থাকে। কাল সকালে না হয় ভাইয়া ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে আমাদের গহনা গুলো ছাড়িয়ে আনলো।

–হ্যাঁ তাও করা যায়।

আবরার যেনো একটা আশার আলো খুঁজে পায়। তালুকদার বাড়ির লোকেরা বেশ আহত হয় তাদের কথা শুনে। মেয়ে-বউয়ের গহনা বন্ধক রেখে তারা টাকার জোগাড় করবে কিন্তু তাও তাদের থেকে সাহায্য নিবে না। তাদেরকে এতটা পর ভাবে মির্জারা।

ইনায়া তার ফোন ঘেঁটে স্বর্ণালীর নাম্বার বের করে হানিয়াকে দেয়। হানিয়া স্বর্ণালীকে সবটা খুলে বললে সে বলে সে টাকাটা দিতে পারবে। হানিয়া আর আবরার মিসেস মির্জার কাছ থেকে আলমারির চাবি নিয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা করে। আদিয়াতও তাদের সাথে যায়। এতো রাতে এতগুলো টাকার ব্যাপার তাই সে বলে তার গাড়ি দিয়ে যাতায়াতটা করতে। আবরার মেনে যায়। তারা তিনজন চলে গেলে জাভিয়ান আহত দৃষ্টি নিয়ে তাদের পথের দিকে তাকিয়ে থাকে।

শব্দসংখ্যা~২০৮৪
~চলবে?

#প্রতিশোধের_অঙ্গীকার
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_পঞ্চান্ন(বর্ধিতাংশ)

সেদিন রাত সাড়ে তিনটায় মি.মির্জার অপারেশন শুরু হয়। দীর্ঘ তিন ঘন্টা পর তার অপারেশন সাকসেসফুলি শেষ হয়। হার্টে রিং পড়ানো হয়েছে। ডাক্তার বলেছে তার জ্ঞান ফেরার পর তার ইমপ্রুভমেন্টের সম্পর্কে বলা যাবে। পুরো ২৪ ঘন্টার পর তার জ্ঞান ফিরে।

মি.মির্জা কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছে। একপাশ কিছুটা প্যারালাইসের মতো হয়ে গিয়েছে,,মুখের বাম পাশ টাও কিছুটা বেঁকে গেছে। ডাক্তার বলেছে প্রোপার কেয়ার আর মেডিসিন নিলে সে আগের মতো সুস্থ হলেও হতে পারে।

ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে করিডরে রাখা ওয়েটিং সিটগুলোতে ধপ করে বসে পরে হানিয়া। প্রায় তিনটা দিন ধরে দৌড়াদৌড়ি উপর আছে সে আর আবরার। সোনিয়া তার মা’কে সামলাতে ব্যস্ত ছিলো। স্বামীর চিন্তায় ভদ্রমহিলা নিজেও অসুস্থ হয়ে শয্যা গ্রহণ করেছেন। একটা নরমাল কেবিন নিয়ে তাকে স্যালাইন দিতে হচ্ছে আজ দু’দিন। হসপিটালে আপাতত সে একা। সোনিয়ার ভার্সিটি থেকে একটা জরুরি কল আসায় তাঁকে এসবের মাঝেও ভার্সিটি যেতে হয়েছে। আবরার অফিসে গিয়েছে কয়েকদিনের ছুটির কথা জানাতে। যদিও সে নিজেই ম্যানেজার অফিসের কিন্তু ছুটির জন্য বসের থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। আবরার আসলে সে বাসায় যাবে। হানিয়া মাথাটা পেছনের ওয়ালের সাথে লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে। ভীষণ ক্লান্তি তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে।

হানিয়া যখন চোখ বন্ধ করে বসেছিলো তখনই কেউ তার ঘাড়ে হাত রাখে। হানিয়া চমকে গিয়ে চোখ খুলে ব্যক্তিটির দিকে তাকায়। অনেকটা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পরেছিলো। হানিয়া দেখতে পায় রোজি বেগম,,স্পর্শ আর জাভিয়ান এসেছে। হানিয়ার ঘাড়ে হাত রাখা ব্যক্তিটি রোজি বেগম। তাঁকে দেখে হানিয়ার ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটে ওঠে। হানিয়া খুশি মুখে “মনি মা” বলে জড়িয়ে ধরে। আগে “মনি” বললেও আজ হুট করে ” মনি মা” বলে হানিয়া। রোজি বেগম নিজেও পরম মমতায় তাকে নিজের বুকের সাথে আগলে নেয়।

হানিয়া রোজি বেগমের বুকে পরম শান্তিতে মাথা রেখে শুয়ে থাকে। সে কস্মিনকালেও অস্বীকার করতে পারবে না যে,, ঐ বাড়িতে যে তিনটা ব্যক্তিটির জন্য সে সাতটা মাস টিকে থাকতে পেরেছিলো রোজি বেগম তাদের মধ্যে একজন। তালুকদার বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার পর মি. তালুকদারের সাথে দুই একবার দেখা হলেও রোজি বেগম আর কুলসুমের সাথে দেখা বা কথা হয়নি তার আর। আজ এতদিন পরে এই প্রিয় ব্যক্তিটিকে আবারও পেয়ে হানিয়া যে ভীষণ খুশি হয়েছে তা তার চকচক করা চোখমুখ দেখেই আন্দাজ করা যাচ্ছে।

হানিয়া রোজি বেগমের বুক থেকে মাথা তুলে ঠোঁট কিছুটা উল্টে বলে—

–ভাতিজাকে ছেড়ে এসেছি বলে তুমিও মুখ ফিরিয়ে রাখছো? এতদিন পরে বুঝি আমার কথা মনে পরলো?

রোজি বেগমের চোখ কিছুটা অশ্রুসিক্ত। সে ঠোঁটে কিছুটা হাসি ফুটিয়ে বলে—

–আমি না হয় ভুলে গিয়েছি, তুই যদি আমায় আপন মনে করতি তাহলে এতদিন আমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারতি? আমার ভাতিজার সাথে সাথে যে আমাদেরকেও ত্যাগ করে এসেছি এটা কিন্তু প্রমাণ হয়ে গেলো।

হানিয়া রোজি বেগমকে পুনরায় জড়িয়ে ধরে বলে—

— তোমাদের ত্যাগ করলে এমনে জড়িয়ে ধরে বসে থাকতাম বুঝি। যাকে ত্যাগ করি তার দিকে ফিরেও তাকাই না আমি হানিয়া। তুমি যে আমার কতটা আপন বুঝো নাই এখনো তুমি।

জাভিয়ান আর স্পর্শ দাড়িয়ে দাড়িয়ে তাদের দু’জনের কথপকথন শুনছিলো। হানিয়া ত্যাগ করার কথাটা জাভিয়ানের বুকে ঝড় তুলে দেয়। কথায় কথায় মনে করানোর কি আছে যে সে জাভিয়ানকে ত্যাগ করেছে? জাভিয়ান মানে সে ভুল করেছে,,এর জন্য সব শাস্তি মাথা পেতে নিবে বা নিচ্ছে কিন্তু বিনিময়ে সে হানিয়াকে চায়। তার জন্য যদি হানিয়া তাকে যা করতে বলবে সে তাই করতে প্রস্তত।

রোজি বেগম হানিয়ার গালে-কপালে আদর দিয়ে বলে—

–কেমন আছিস মা? এই মা’কে তো ভুলেই গেছিস। জানিস কুলসুম রোজ তোর কথা মনে করে মন খারাপ করে।

হানিয়া একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে—

–আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি মনি। তুমি কেমন আছো? আর কুলসুমকে নিয়ে আসলে না কেন? কতদিন ওকে দেখি না।

–আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। হসপিটালে এত মানুষ নিয়ে আসা ঠিক না। কুলসুমকে নিয়ে একদিন তোর বাড়ি যাবো।

হানিয়া নিজের হাসি রেখেই বলে—

— আমার তো কোন বাড়ি নেই মনি। একটা বাবার বাড়ি আরেকটা শ্বশুর বাড়ি। দু’টো বাড়ির একটা বাড়িও আমার না। একটাকে আমি ত্যাগ করেছি আরেকটা থেকেই বিতাড়িত। যেদিন নিজের যোগ্যতায় বাড়ি করতে পারবো সেদিন বলবে আমার বাড়ি।

হানিয়ার কথাটা শুনে উপস্থিত তিনজনের মুখটা মলিন হয়ে যায়। মেয়েটা কারো কাছে একটু ভালোবাসা পেলো না। একটু ভালোবাসা কি সে ডিজার্ভ করে না? স্পর্শ কথা কাটাতে বলে—

–হানিয়া আমায় তো ভুলেই গেছিস মাম্মামকে পেয়ে।

হানিয়া মুখ ভেঙচি দিয়ে বলে—

–আমায় বুঝি তুমি মনে রাখো? মুখ খুলবো? তাহলে কিন্তু তোমারই লস।

স্পর্শ বুঝতে পারে হানিয়া কীসের ইঙ্গিত করছে। সে চোখ গরম করে হানিয়াকে বলে—

–কানে টেনে লাল করে দিবো। ভয় দেখাচ্ছিস আমায়?

–তুমি ভয় পাওয়ার মতো কাজ না করলেই তো হলো,, তাই না মনি?

কথাটা বলে একটা দুষ্টুমি হাসি দেয়। স্পর্শ মিছেমিছি হানিয়াকে মারতে আসলে হানিয়া রোজি বেগমকে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মুখ লুকায়। রোজি বেগম,, স্পর্শ আর জাভিয়ান তার এমন কাজে হেঁসে দেয়। জাভিয়ান আজ প্রথম মনে হয় হানিয়াকে এমন দুষ্টুমি করতে দেখলো। হানিয়াও যে এমন এক চঞ্চল সত্তা বহন করে সেটা সে ভাবতেও পারে নি।

তাদের কথাবার্তার মাঝেই আবরার এসে পরে। সে তাদের এখানে দেখে মনে মনে একটু বিরক্ত হলেও মুখে কিছু বলে না। রোজি বেগমের সাথে কুশল বিনিময় করে। রোজি বেগম মি. মির্জার সাথে দেখা করতে চাইলে আবরার তাদের কেবিনে নিয়ে যায়। আবরার,, স্পর্শ আর রোজি বেগম কেবিনের ভেতরে গেলেও বাহিরে থেকে যায় হানিয়া আর জাভিয়ান। হানিয়া এই তিনটে দিন হসপিটালে থাকলেও মি. এন্ড মিসেস মির্জার সাথে কোন কথা বলেনি। মি.মির্জার জ্ঞান ফেরার পরও কেবিনের বাহিরের ছোট্ট লুকিংগ্লাস দিয়ে তাকে দেখেছে কিন্তু ভেতরে যায় নি। মিসেস মির্জাও তেমন কোন কথা বলে নি কারোর সাথেই। আর জাভিয়ান মূলত হানিয়ার সাথে আলাদা কথা বলার জন্যই থেকে গেছে। সে কৌশল অবলম্বন করে ফোনে কথা বলার বাহানায় দূরে চলে গিয়েছিলো,,তারা তিনজন ভেতরে প্রবেশ করতেই সে তাড়াতাড়ি করে হানিয়ার কাছে আসে।

তারা তিনজন ভেতরে চলে যাওয়ার পর হানিয়া পুনরায় সিটে বসে থাকে। জাভিয়ান সুযোগের সদ্ব্যবহার করে টুপ করে তার পাশে বসে পরে। হানিয়া তাকে নিজের পাশে বসতে দেখে বসা থেকে উঠে যেতে চাইলে জাভিয়ান হানিয়ার হাত ধরে আঁটকে দেয়। টান মেরে পুনরায় বসিয়ে দিয়ে হানিয়ার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ভীষণ কাতর কণ্ঠে বলে—

–পাঁচটা মিনিট বসো বধূয়া। প্লিজ পাঁচ মিনিট একটু কথা বলবো।

হানিয়া নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে শক্ত গলায় বলে—

–আমি এমন কেউ নই যে,, তার সাথে কথা বলার জন্য আপনার এমন আকুতি মিনতি করা লাগবে। হাত ছাড়ুন মি. তালুকদার,, এসব কোন ধরণে ব্যবহার?

–কে বললো তুমি এমন কেউ নও। তুমি তো আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। আর হাত আমি আজ ছাড়বো না মিসেস তালুকদার,, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি শান্ত হয়ে আমার কথা শুনছেন।

হানিয়া বুঝতে পারে আজ সে সহজে ছাড় পাবে না। সে সিদ্ধান্ত নেয় শুনবে জাভিয়ানের কথা। দেখা যাক কি এমন বলবে জাভিয়ান তাকে যার জন্য এতো আকুতি মিনতি। হানিয়া শান্ত হয়ে বসে,,শান্ত গলায় বলে—

–আচ্ছা শুনবো আমি আপনার কথা। কিন্তু হাতটা ছাড়ুন।

জাভিয়ান কাতর দৃষ্টি নিয়ে বলে—

–প্লিজ হাতটা ধরে রাখি?

হানিয়া তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে—

–ধরে রাখার ফিদরাত আপনার নেই। আছে শুধু প্রতিশোধ নেওয়ার। এবং সেটা আপনি খুব ভালো ভাবেই পূরণ করেছেন। ভালোয় ভালোয় হাতটা ছাড়ুন নাহলে ভাইকে ডাকতে বাধ্য হবো। তখন কিন্তু কথা বলার সুযোগটাও হারাবেন।

জাভিয়ান ভীষণ কষ্ট পায় হানিয়ার কথা শুনে। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে হানিয়া ভুল কিছু বলেনি। সে খুবই নির্মমভাবে প্রতিশোধ নিয়েছে,,সেই হিসেবে হানিয়ার এমন রিয়েক্ট করা অযৌক্তিক কিছু নয়। জাভিয়ান হানিয়ার হাতটা ছেড়ে দিয়ে হানিয়া সামনে মেঝেতে হাটু গেড়ে বসে পরে। তারপর বলে—

— এতো কঠোর কেমনে হচ্ছো বউ? একটু দয়া মায়া কি হয় না আমার প্রতি?

–এই প্রশ্নটা যদি আপনাকেই করা হয়? একটুও কি দয়া-মায়া হতো না আমার উপর যখন আমায় কুকুরের মতো মারতেন? আমার দোষটা কোথায় ছিলো একটু বলতে পারবেন? আবরার মির্জার বোন আমি,, এটাই আমার দোষ ছিলো তাই তো?

–আমায় যেটা বুঝানো হয়েছিলো আমি সেটাই করেছিলাম এবং এটাই আমার জীবনের সব চাইতে বড় ভুল। আমার উচিত ছিলো আরো যাচাই-বাছাই করে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু সাফাত আমার মাথা এমন ভাবে ওয়াশ করে দিয়েছিলো যে আমি নিজের বিবেকবুদ্ধি সব বিসর্জন দিয়ে ঐ জঘন্য প্রতিশোধের নেশায় মেতেছিলাম। নিজের হাতে নিজের কলিজাকে ক্ষতবিক্ষত করেছি। তার জন্য যা শাস্তি দিবে আমি মাথা পেতো নিবো। কিন্তু বিচ্ছেদ? এটা করো না জান। তোমার জীবনের প্রথম পুরুষ যেমন আমি,, আমার জীবনের প্রথম নারীও কিন্তু তুমিই। প্রতিশোধের বিষয়টা কয়েক সেকেন্ডের জন্য সাইডে রেখে,, আমার বিষয়টা একটু ভেবে দেখো। তোমায় ছাড়া আমি ভালো নেই হানি। আজ একটা মাস তোমার সাথে কথা বলার জন্য আমি ছটফট করছি পানি ছাড়া মাছের মতো। আমার নাওয়াখাওয়া ঘুম সব মনে হচ্ছে তুমি তোমার সাথে করে নিয়ে গেছো। আমার ঘরটা তোমার শূন্যতায় হাহাকার করছে। তালুকদার বাড়ির প্রতিটা কোনা তোমার জন্য কাঁদে। ঐ বাড়ি মনে হচ্ছে কোন এক মৃতবাড়ির রূপ ধারণ করেছে।

কথাগুলো বলতে বলতে জাভিয়ানের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে। তার দুই এক ফোটা অশ্রু হানিয়ার পায়ে গিয়ে পরছে। জাভিয়ানের অশ্রুশিক্ত চোখ,,কাতর কণ্ঠ,, সীমাহীন আকুতি যেন হানিয়ার মনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারে না। সে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বসে আছে। আশেপাশের দু’জন নার্স বা অন্যান্য রোগীদের আত্মীয়স্বজনরা সেখান দিয়ে যাওয়ার জাভিয়ানের দিকে বিষ্ময়কর দৃষ্টি নিয়ে তাকাচ্ছে। পুরুষ মানুষের কান্না,, এ যে দিনের বেলায় চাঁদ দেখার মতো বিষ্ময়কর ব্যাপার আমাদের সমাজে।

নিরবতা ভেঙে হানিয়া বলে—

–আপনার পাঁচ মিনিট শেষ মি. তালুকদার। এখন কি আমি উঠতে পারি? নাকি আরো কিছু বলবেন? বলতে চাইলে বলতে পারেন। কারণ এটাই আপনার কথা বলার শেষ সুযোগ। এরপর যা কথা হবে তা হবে কোর্টে,, জজসাহেবের সামনে।

–হানিয়া…. প্লিজ….

ভীষণ কাতর গলায় ডেকে উঠে জাভিয়ান। হানিয়া জাভিয়ানের ডাক উপেক্ষা করে সেখান থেকে উঠে দাঁড়ায়। যার থেকে একবার মন উঠে যায় তার প্রতি আর কোন টানই অনুভব হয় না। হানিয়া সেখান থেকে নিজের মায়ের কেবিনে এসে সাইড ব্যাগটা নিয়ে হসপিটাল থেকে বের হয়ে আসে। ভাইকে ফোনে মেসেজ করে তা চলে যাওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে। ভালাে লাগে না তার ঐ ব্যক্তিটির সামনে। এখনো নিজেদের কথাটাই ভাবছে। একবারও হানিয়ার কথাটা ভাবতে চায় না তারা কেউ। হানিয়ার যে তাদের সাথে আর থাকতে চায় না। নিজের জন্য বাঁচতে চায়,,নিজের মতো করে বাঁচতে চায়। আজ এতো আকুতিমিনতি করে নিয়ে যাবে,,দু’দিন পর যে আবারও আগের মতো করবে না তার কি গ্যারান্টি আছে। তখন তো হানিয়া চাইলেও সেই বাড়ি থেকে আর বের হয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে না।

____________

বাবার অসুস্থতা মাথা নিয়েই হানিয়া তার পরীক্ষা গুলো শেষ করে। মি.মির্জাকে পনেরো দিন হসপিটালে রাখা হয়,,তারপর তাঁকে বাসায় শিফট করা হয়। এর মধ্যে মিসেস মির্জা মেয়েকে বাসায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন,,কিন্তু পারেন নি। হানিয়া যেন একটু বেশিই কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হয়ে গেছে।

ইনায়াদের বাসায় থেকেই হানিয়া নিজ উদ্যোগেই একটা গার্লস হোস্টেল খুঁজে সেখানে শিফট করে। তিনটে টিউশনি নিয়েছে,,প্রায় সাত হাজারের মতো টাকা পাবে সেগুলোর থেকে। কলেজ শেষ করে সেগুলো করতে যায়,,এতে তার নিজের উপর ও পড়ালেখার উপর একটু চাপ পরলেও কিছু করার নেই। ভাইয়ের কাছ থেকেও অতিরিক্ত সাহায্য নিতে নারাজ সে। সে একজন শিক্ষিত মেয়ে হয়ে যদি ভাইয়ের উপরেই ভরসা করে থাকতে হয় তাহলে তার এই পড়াশোনার মূল্য রইলো কোথায়।

আবরার তার টিউশনির কথা এখানো জানে না। জানলে যে ভীষণ রেগে যাবে এটা হানিয়া ভালো করেই জানে কিন্তু সে ম্যানেজ করতে জানে তার ভাইকে। লাস্ট টিউশনিটা শেষ করে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হানিয়া ভাবতে থাকে —

— যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের ডিভোর্সের বিষয়টা শেষ করতে হবে। তার পরেই স্পর্শ আপু আর ভাইয়ের বিয়ের কথা তুলতে হবে। আজই ভাইয়ের সাথে এই বিষয়ে কথা বলবো।

আনমনে রাস্তা দিয়ে হাঁট ছিলো তখনই তার নজর যায় রাস্তার অপর পাশে একজন মেয়ের উপর। মেয়েটি একটা ছেলেকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে বাইকে বসে আছে। পাবলিক প্লেসে এমন জড়িয়ে ধরে বসাটা কেমন দৃষ্টিকটু দেখাচ্ছে তা আশাকরি বলা লাগবে না। মেয়েটার গালের এক সাইড দেখতে কিছুটা সোহার মতোই লাগে হানিয়ার কাছে। হানিয়ার যেহেতু রাস্তা পার হবে তাই সে ওদের সামনে দিয়েই হেঁটে যায়। হ্যাঁ,,যা ভেবেছিলো তাই। মিসেস তালুকদারের আদরের ভাগ্নিই এটা।

সোহা ছেলেটির সাথে কথা বলতে বলতে সামনে তাকালে হানিয়াকে দেখে ভয়ে তার আত্মা উড়ে যাওয়ার জোগাড়। হানিয়া তার এমনভাবে চিপকে বসে থাকার কথা যদি জানিয়ে দেয়? হানিয়া তাকে উদ্দেশ্য করে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে হেঁটে রাস্তা পার করে চলে যায় সেখান থেকে। হুট করে সোহাকে চুপ করে বসে থাকতে দেখে তার বিএফ মানে বাইকের ছেলেটা বলে—

–বেইব কি হলো? চুপ করে গেলে কেনো?

সোহা ভয়ার্থ কণ্ঠে বলে—

–হানিয়া আমাদের দেখে ফেলেছে জয়।

ছেলেটির নাম জয়। জয় বলে—

–হানিয়া কে? ওয়েট ওয়েট তোমার খালাতো ভাই জাভিয়ানের বউয়ের নাম না হানিয়া?

–হুম।

–কিন্তু ও আমাদের দেখলো কিভাবে?

–মাত্রই রাস্তা পার করার সময় আমাদের সামনে দিয়েই যাচ্ছিলো,,তখন দেখে ফেলেছে।

–তো? দেখেছে তো দেখেছে।

সোহা জয়ের কথায় রেগে গিয়ে বলে—

–আরে গাধা ও যদি এখন আমার খালামনিকে গিয়ে বলে দেয় আমার আর তোর কথা। তাহলে আমার আর তালুকদার বাড়ির বউ হওয়া লাগবে না। আর সম্পত্তি তো দূরের কথা।

সোহার কথা শুনে জয় একটু চিন্তায় পরে যায়। জয় একজন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়ার আশায় সে সোহার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। উঠতি বয়সী সোহাও সহজেই জয়ের ইমোশনাল কথায় পা দিয়ে তার প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকে। জয় যখন জানতে পারে বিশিষ্ট শিল্পপতি আরসাল তালুকদার সম্পর্কে সোহার আঙ্কেল হয় তখন সেই সোহার মাথায় আস্তে আস্তে এই সম্পত্তির ভুতটা ঢুকায়। সে শুরুতে সোহাকে বলে–

–আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের সাথে তোমার বাবা কখনোই সম্পর্ক রাখতে চাইবেন না। আমার কোন মামা-চাচাও নেই যাদের সাহায্যে আমি একটা ভালো চাকরি পাবো। আর আমার চাকরি করার ইচ্ছেও তেমন একটা নেই। আমার ইচ্ছে আমি বড় একটা বিজনেসম্যান হবো। সমাজের সবাই আমায় এক নামে চিনবে। কিন্তু বিজনেস শুরুর জন্যও যে মূলধনটা প্রয়োজন সেটাও আমার কাছে নেই। তুমি কি আমায় কোনভাবে সাহায্য করতে পারবে সোহা?

অবুঝ সোহা না বুঝেই বলে—

–আমি কিভাবে?

–তুমি যদি আমায় কয়েক লক্ষ টাকা দাও তাহলে ওটা দিয়ে আমি আমার বিজনেস শুরু করতে পারতাম।বিশ্বাস করো আমি তোমায় সুদে আসলে সব ফিরিয়ে দিবো।

কিশোরী সোহা জয়কে ভালোবেসে বিশ্বাস করে বাবা-মার কাছ থেকে অনেক কষ্টে পাঁচ লক্ষ টাকা এনে দেয়। কিন্তু জয় সেটা ফুর্তি করে শেষ করে দেয়। পুনরায় টাকা চাইলে সোহা দিতে অসস্মতি জানায়। তখন জয় তাঁকে ইনিয়েবিনিয়ে তার মাথায় এই ধারণা প্রবেশ করায় যে,,সোহা যদি কোনভাবে জাভিয়ানের বউ হয়ে সেই বাড়িতে পার্মানেন্টলি প্রবেশ করতে পারে তাহলে তারা ছলেবলে কৌশলে তালুকদার ইন্ডাস্ট্রি নিজেদের নামে করে নিতে পারলেই কেল্লাফতে। সোহা শুরুতে মানতে না চাইলেও পরবর্তীতে মেনে যায়। এছাড়া সোহার মা’ও অনেক আগে থেকেই বোনের বড়লোক শ্বশুর বাড়ি দেখে হাহুতাশ করত যেটা দেখেই সোহা বড় হয়েছে৷ মা আর ভালোবাসার মানুষটির প্ররোচনায় সোহা এই জঘন্য পথে পা বাড়িয়েছে। দেখা যাক, ভাগ্য তাঁদের সহায় হন নাকি হানিয়া-জাভিয়ানের।

জ্যাম ছেড়ে যাওয়ায় জয় বাইক চালিয়ে একটা আবাসিক হোটেলের সামনে এসে থামে। প্রায়ই আসা হয় তাদের এখানে। হোটেলটা তার এক বন্ধুর। একহাত দিয়ে সোহাকে ধরে অন্যহাতে চাবির রিং ঘোরাতে ঘোরাতে জয় তাদের বুক করা রুমে এসে পরে। দীর্ঘক্ষণ নিষিদ্ধ ভালোবাসায় ডুবে থাকার পর একে অপরের থেকে মুক্ত হয় তারা। সোহা ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলে জয় ইন্টারকমের সাহায্য খাবার অর্ডার করে।

১৫ মিনিট পর তাদের অর্ডারকৃত খাবার এসে পরলে জয় দরজা খুলে ওয়েটারকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়। তখনি সোহা ওয়াশরুম থেকে চুল মুছতে মুছতে বের হয়। ওয়েটারটা একজন মেয়ে। সে খাবারের ট্রলি থেকে খাবার এক-এক করে সেন্টার টেবিলে সাজিয়ে রাখতে থাকে। সোহা ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে চুল মুছতে মুছতে বলে—

— ভাবছি খালামনিকে প্রেশার দিবো আমার আর জাভিয়ানের বিয়েটা তাড়াতাড়ি করানো। বুড়িটা কেমন জানি ঝিমিয়ে পরেছে এই বিষয়ে।

জয় ফোন টিপতে টিপতে বলে—

–হুম করতে পারো। আমি শুনেছি তালুকদাররা আবার ভীষণ শেয়ানা। বিজনেসের জগতে তাদের এমনে এমনেই তো আর এতো নামডাক হয়নি।

ওয়েটার মেয়েটি প্রথমে জাভিয়ান নামটা শুনে না চমকালেও “তালুকদার” নামটা তাকে ভালোই চমকিয়েছে। সে যেটা ভাবছি যদি তাই হয় তাহলে তাঁকে এখনি কিছু একটা করতে হবে। কিন্তু তার আগে তাকে সিউর হতে হবে সোহাদের বলা জাভিয়ান কি তার পরিচিত জাভিয়ানই নাকি অন্য জাভিয়ান। কীভাবে করবে কীভাবে করবে ভাবতে ভাবতেই হুট করে তার মাথায় একটা আইডিয়া আসে। সে একটা চামচ ইচ্ছে করে হাত থেকে ফেলে দেয়। তারপর জয়দের অগোচরে পা দিয়ে লাথি মেরে চামচটা সোফার নিচে পাঠিয়ে দেয়।

চামচ পরার আওয়াজে জয় মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে–

–কোন সমস্যা হয়েছে? কিছু পরলো মনে হলো।

মেয়েটি বিনিয়ের সাথে বলে—

–দুঃখিত স্যার এবং ম্যাম। আমার অসাবধানতা বসত একটা চামচ পরে গিয়ে সোফার নিচে চলে গিয়েছে। আমি এখনি সেটা বের করে দিচ্ছি।

সোহা আর জয় বিষয়টা সাধারণ ভাবেই নেয়। মেয়েটি ঝুঁকে সোফার নিচ থেকে চামচ বের করার বাহানায় নিজের পরিহিত এপ্রোনের পকেট থেকে তার ফোনটা বের করে রেকর্ডিং চালু করে ফোনটা সাইলেন্ট করে সোফার নিচে মাঝ বরাবর রেখে দেয়। তারপর স্বাভাবিক ভাবে চামচটা তুলে নিজের সাথে করে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে আসে।

মেয়েটার নাম অবন্তী। সে এই মাসেই পার্টটাইম জব নিয়েছে এই হোটেলে। অবন্তী খাবার নিয়ে জয়দের রুমে আসার সময় তার এক কলিগ জানিয়েছে এই রুমে যারা উঠে মানে জয় আর সোহা,,তারা বড়লোক বাবার বখে যাওয়া সন্তান। কয়েকদিন পরপর এখানে আসে কয়েক ঘন্টার জন্য। ফুর্তি করা শেষ হলে আবার চলে যায়। অর্ডারটা অবন্তীর ঐ কলিগেরই নিয়ে আসার কথা ছিলো কিন্তু অবন্তীর কলিগ সোহা-জয়কে দেখতে পারে না তাই আজ অবন্তীকে দিয়ে জয়দের অর্ডার পাঠিয়েছে। অবন্তী এসে যে এমন একটা চমক দেখতে পাবে ভাবতেও পারে নি। এখন দেখা যাক,,রেকর্ডিংয়ে কি কি রেকর্ড হয়।

শব্দসংখ্যা~২৫৮২
~চলবে?