#প্রতিশোধের_অঙ্গীকার
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_নবম
সকালে উঠে হানিয়া তার যাবতীয় সব কাজ শেষ করে ফেলে। সকলকে নাস্তা করিয়ে নিজেও করে ঘরে এসে পরে। তারপর তার ও জাভিয়ানের কাপড়চোপড় প্যাক করে নেয়। বেলা এগারোটার দিকে বের হয়ে বলে জাভিয়ান জানিয়েছে।হানিয়া ফোন করে নিজের বাসায় জানিয়ে দেয় আজ তারা ওবাড়িতে যাবে।
জাভিয়ান একটা কাজে বাহিরে গিয়েছিলো,, সাড়ে দশটার দিকে ফিরে আসে। এসেই হানিয়াকে তাড়া দেয় রেডি হয়ে নেওয়ার জন্য। সে হানিয়াকে জোরে ডাকতে ডাকতে বলে–
–হানি,,এই হানি! কই তুমি? রেডি হয়েছ? সময় মতো রেডি না হলে কিন্তু যাওয়া ক্যান্সেল।
জাভিয়ানের এমন কথা শুনে হানিয়া রোজি বেগমের থেকে বিদায় নিয়ে হুড়মুড়িয়ে রুমে আসে। সে প্রায়ই দৌড়ে আসছিলো বলে ঘরে ঢোকার সময় দরজার সাথে ঠাশ করে কোলাকুলি হয়ে যায় তার। আওয়াজটা বেশ জোরে হওয়ায় জাভিয়ানও চমকে যায়। সে দরজার কাছে এগিয়ে এসে দেখে হানিয়া কপালে হাত দিয়ে থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে। জাভিয়ান হতভম্ব হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে–
–কীসের আওয়াজ হলো?
–দরজার সাথে কোলাকুলি করেছি তার আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন।
জাভিয়ান কতক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে। এত বড় এমনে ঠুশঠাশ করে ব্যথা পায়। হুট করতে জাভিয়ান হাহা করে হেঁসে দেয়। হানিয়ার এমনিতেই কান্না কান্না পাচ্ছিল জাভিয়ানের এমন ব্যঙ্গমূলক হাসি শুনে সেও ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দেয় দরজায় দাড়িয়েই। একদিকে জাভিয়ান হাসছে তো অন্যদিকে হানিয়া কাঁদছে।
তাদের এমন হাসি কাঁদার আওয়াজ শুনে রোজি বেগম দৌড়ে আসে। হানিয়ার কান্না শুনে ভেবেছে জাভিয়ান হয়তো তাকে আবার মেরেছে। সে এসে হানিয়াকে দরজার সামনে কপালে হাত দিয়ে কাঁদতে দেখে অবাক হয়ে যায়। সে এগিয়ে এসে হানিয়াকে ধরে ঘরে নিয়ে যায়। জাভিয়ান তখনও পেটে হাত চেপে হাসছে। রোজি বেগম প্রায় দু’বছর পর জাভিয়ানকে এভাবে হাসতে দেখল। সে ভীষণ খুশি হয় কিন্তু তার চেয়েও বেশি অবাক হয়। সে অবাক হয়েই জাভিয়ানকে জিজ্ঞেস করে–
–তুই এমন পাগলের মতো হাসছিস কেন? আর হানিয়াই বা এমন করে কাদছে কেন? তুই কি ওকে আবার মেরেছিস?
জাভিয়ান বহু কষ্টে নিজের হাসি থামায়।তাও হাসির দমক এখনও রয়েই গেছে। সে রোজি বেগমকে বলে–
–ওকে মা//রা লাগে?মাম্মাম। নিজেই যেভাবে উল্লুকের মতো চলাফেরা করে,, নিজেকে ব্যথা দেওয়ার জন্য ও নিজেই যথেষ্ট।
কথাটা বলে আবার হেসে দেয়। রোজি বেগম তার কথার আগামাথা কিছু না বুঝতে পেরে হানিয়াকে জিজ্ঞেস করে এবার-
–কি হয়েছে মা? আমাকে বল! মাথায় ব্যথা পেলি কীভাবে?
হানিয়া একটু শান্ত হয়ে বলে–
–তোমার ঘরে থাকা অবস্থায় শুনলে না কেমন থ্রেট দিলো তাই আমি তাড়াতাড়ি করে ঘরে ঢুকছিলাম তখন দরজার সাথে বারি খেয়েছি।
কথাটা বলে আবার কাঁদতে থাকে। জাভিয়ান তার কান্নায় আবার হেসে দেয়। হানিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলে–
–দেখেছ কেমন নিষ্ঠুর তোমার ছেলে,,আমি তার জন্য ব্যথা পেলাম আর সে আমার কষ্টে হাসছে। আমি আজ যাই ও-বাড়ি আর আসবো না এ-বাড়ি।
হানিয়ার কথা শুনে জাভিয়ান তার হাসি থামিয়ে দেয়। আসলেই তো,,তার ওমন কথায় ভয় পেয়েই তো হানিয়া ব্যথা পেলো। সে একটু তাকে শান্তনা দিবে কি উল্টো তার কষ্টে হাসছে সে। জাভিয়ানের এবার নিজের প্রতিই রাগ লাগলো। রোজি বেগম ততক্ষণে কিচেনে ছুটেছেন হানিয়ার ব্যথা জায়গায় বরফ লাগানো প্রয়োজন এই ভেবে। জাভিয়ান তার হাসি থামিয়ে হানিয়ার কাছে এসে দাঁড়ায়। মেয়েটা তখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। সে জিভ দিয়ে নিজের ঠোঁট ভিজায়। তারপর উসখুস করতে করতে হানিয়ার পাশে বসে। হানিয়া ব্যথা জায়গার দিকে লক্ষ্য করলে দেখে জায়গাটা ভালোই ফুলে গেছে।
রোজি বেগম একটা বাটিতে কয়েক টুকরো বরফ আর একটা পাতলা কাপড় নিয়ে আসেন। হানিয়ার পাশে বসে তাকে বরফ ডলতে শুরু করে সে। জাভিয়ান তার হাত থেকে বরফওয়ালা কাপড়টা নিজের হাতে নিয়ে বলে–
–আমি লাগিয়ে দিচ্ছি তুমি রুমে গিয়ে রেস্ট নাও।
রোজি বেগম প্রথমে মানতে না চাইলেও কি মনে করে জাভিয়ানের কথা মেনে নেয়। সে চলে যায় নিজের রুমে। হানিয়া এখনো কপাল ধরে বসে আছে,,মাথাটা তার কেমন ঘুরছে। বেদ্দপ জামাই টার জন্য আজ এমন একটা ব্যথা পেলো। কথাই বলবে না সে আর এমন জামাইয়ের সাথে। জাভিয়ান আরেকটু এগিয়ে এসে তার কপালে কাপড়টা ধরতে গেলে হানিয়া তার হাত সরিয়ে দেয়। জাভিয়ান নিজের এক হাত দিয়ে হানিয়ার দু’টো হাত চেপে ধরে অন্যহাত দিয়ে বরফ ডলতে থাকে। হানিয়া জাভিয়ানের থেকে নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করে কিন্তু জাভিয়ানের মতো একটা খবিশ মার্কা সান্ডাপান্ডার সাথে কি আর হানিয়া পারে? একদমই না। নিজেকে জাভিয়ানের থেকে মুক্ত করতে না পেরে রেগে যায় হানিয়া। সে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলে–
–ছাড়ুন আমাকে। প্রথমে নিজে ব্যথা দিয়ে তারপর হাসলেন এখন আবার আসছেন আলগা দরদ দেখাতে। লাগবে না আপনার এই দরদ।ছাড়ুন আমাকে।
জাভিয়ান তার কথা আর কাজে রেগে যায়। দেয় হানিয়াকে এক রাম ধমক।
–চুপপপপপ।
হানিয়া তার ধমক শুনে চমকে যায়। জাভিয়ান তাকে বলে–
–আর একটা কথা বলবে অথবা আরেকবার মুভ করবে সত্যি সত্যি যাওয়া ক্যান্সেল করে দিবো।
হানিয়া তার কথা শুনে ভয় পেয়ে যায়। তাই বেশি মুখ না চালিয়ে চুপ করে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকে। জাভিয়ান তার মতো কাজ করে উঠে যায়। হানিয়াও বসা থেকে উঠতে গেলে জাভিয়ান পুনরায় তাকে ধমকে বসায়। তারপর পা চালিয়ে ফার্স্টএড বক্স থেকে একটা ব্যথার বাম নিয়ে এসে হানিয়ার কপালে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে দিতে থাকে। হানিয়াকে নিয়ে জাভিয়ানের এতোটা কেয়ার দেখে হানিয়া তো গলে যায়। খুশি খুশি মুখ করে জাভিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। জাভিয়ান তার তাকানো দেখে একটু অস্বস্তিতে পরে যায়। সে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে–
–এতো গলে যাওয়ার দরকার নেই,,আমার জন্য ব্যথা পেয়েছ তাই এটুকু করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করেছি। এখন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও। আর হ্যাঁ,,তাড়াতাড়ি বলেছি বলে তখনকার মতো তাড়াহুড়ো করো না,,তাহলে এখন সত্যি সত্যি যাওয়া ক্যান্সেল করে দিবো।
কথাটা বলে জাভিয়ান নিজের ফোনটা বেডের উপর থেকে নিয়ে নিচে চলে যায়। হানিয়া তাকে মুখ ভেঙচি দিয়ে বলো–
–এহহ,,আমার মন গলবে না উড়বে তুই বলার কে বেদ্দপ জামাই। নেহাত বয়সে বড় নাহলে এক চটকনা দিয়ে আমার প্রেমে পরতে বাধ্য করতাম। এটা যখন পারবো না তাহলে অন্য উপায় ট্রাই করবো। ভালো নাকি বাসবে না,,শখ কত! একবার প্রেমে পর আমার তারপর তোরে যদি চরকির মতো না ঘুরিয়েছি তাহলে আমার নাম হানিয়া মির্জা থুরি হানিয়া তালুকদার না।
হানিয়া এমনি উল্টাপাল্টা কথা বলতে বলতে রেডি হয়ে নেয়। রেডি আর কি হবে,,বাসায় পরা ড্রেসটা চেঞ্জ করে হালকা কাজ করা একটা সালওয়ার সুট পরেছে তারউপর দিয়ে আবার বোরকা পরবে। বোরকা-হিজাব পরে মুখে মাস্ক লাগিয়ে নিচে নেমে আসে। জাভিয়ান তার লাগেজ আগেই গাড়িতে তুলে রেখে দিয়েছে।
জাভিয়ান ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে চিল্লিয়ে হানিয়ার নাম ধরে ডাকে।
–হানিইইইইইই। আর কতক্ষণ?
হানিয়া সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলে–
–এসে পরেছি। চলেন।
হানিয়ার গলার আওয়াজ পেয়ে জাভিয়ান তার দিকে তাকায়। আর তাকিয়েই যেনো নিজের একটা ক্ষতি করে ফেলে। ছোটবেলা থেকে অশ্লীলতায় ডুবে থাকা হাইক্লাস ফ্যামিলির জাভিয়ানের কাছে হানিয়াকে এখন সবচেয়ে সুন্দর,, পবিত্র লাগছে। সব হাইক্লাস বা আপার-মিডেলক্লাস ফ্যামিলি যে অশ্লীলতা হয়ে থাকে এমনটা কিন্তু নয়। কিন্তু এই ক্যাটাগরিতে বিলংগ করা ৬০% মানুষ নিজেদেরকে ফ্যাশেন সচেতন মনে করে। আর তাদের ফ্যাশন কেমন হয় আশা করি আমরা সবাই জানি। কিন্তু বাকি ৪০% মানুষ কিন্তু প্রকৃত অর্থেই ফ্যাশন জিনিসটাকে মেইনটেইন করে থাকে। তারা তথাকথিত ফ্যাশন ট্রেন্ডিংয়ে নিজেদের ভাসিয়ে দেয় না।
তাছাড়া জাভিয়ানের জীবনের একটা বড় সময় দেশের বাহিরে কেটেছে। সেখানের মানুষজনের ড্রেসআপ যে কেমন তাও আমরা জানি। তাই হানিয়ার এই সিম্পল ড্রেসআপও তার কাছে ভীষণ লেগে যায়। হানিয়া নিজের ব্যাগ চেক করতে করতে জাভিয়ানের সামনে এসে দাড়ায়।তারপর তাকে উদ্দেশ্য করে বলে–
–চলুন এখন। আসলে বাবা-মা আর মনির সাথে আরেকবার দেখা করে আসলাম। তাই একটু লেট হয়েছে। চলুন এখন।
কথাটা বলে হানিয়া নিজেই আগে আগে হাটা শুরু করে। জাভিয়ান তখনও তার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে তার এক প্রকার ঘোর লেগে আছে। কীসের ঘোর? ভালোলাগার। হয়তো বা প্রেমেরও।
হানিয়া কয়েক কদম হেটে গিয়ে বুঝতে পারে জাভিয়ান এখনো আসে নি তার সাথে তাই সে পেছন ফিরে তাকে ডাক দেয়।
–অ্যাই,,আসছেন না কেন? এখন আর লেট হচ্ছে না?
হানিয়ার ডাকে জাভিয়ানের ধ্যান ফিরে। সে নিজের এমন কাজে নিজেই অবাক হয়ে যায়। বেশি কিছু না ভেবে তারা রওনা হয় মির্জা বাড়ির উদ্দেশ্য।
___________________
রাস্তায় ভীষণ জ্যাম থাকার কারণে তাদের আসতে আসতে দুপুর একটা বেজে যায়। মির্জা পরিবারের সকলে তাদের জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছিলো। অবশেষে তারা এসে পৌঁছায়। সকলে তাদের সাদরে গ্রহণ করে। হানিয়া এসেই তার মা-বোনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। বাবার প্রতি তার ভীষণ অভিমান থাকায় তার সাথে টুকটাক কথা বলে এড়িয়ে যায়। ভাইকেও জড়িয়ে ধরে কাঁদে কিছুক্ষণ।ভাবীর সাথে তাদের দু’বোনের কেম যেনো তেমন গভীর সম্পর্ক হয়ে উঠে নি। হয়তো দূরে থাকার কারণে।
হানিয়ার মা তাদের দু’জনকে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলে। তারা দু’জন হানিয়ার রুমে চলে আসে ফ্রেশ হওয়ার জন্য। হানিয়ার রুমে ঢুকে জাভিয়ান রুমটায় ঘুরে ফিরে দেখতে থাকে। রুমটা বেশি বড়ও না আবার তেমন ছোটও না। মানানসই বলা চলে আরকি। একটা পড়ার টেবিল,, মাঝারি সাইজের একটা ওয়ারড্রপ একটা মাঝারি সাইজের খাট আর টুকটাক জিনিস দিয়ে ঘরটা সাজানো। হানিয়ার রুমে বেলকনি না থাকলেও এক বিশাল বড় জানালা আছে। একদম ফ্লোর থেকে শুরু করে সিলিং অব্দি। এই জানালা দিয়েই সূর্যের আলো এসে ঘরটাকে আরো সুন্দর করে তুলছে।
জাভিয়ান হেটে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবতে থাকে। তার ভাবনা চিন্তার মাঝেই হানিয়া ফ্রেশ হয়ে বের হয়। জাভিয়ানকে ফ্রেশ হয়ে তাড়া দেয়।
–অ্যাই,,তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসুন। ক্ষুধা পেয়েছে ভীষণ।
জাভিয়ান তার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকায়। মেয়েটা নাস্তা তাদের পর করেছে,, আবার বন্ধের দিন বাসায় থাকতে দেখেছে হানিয়া এতো তাড়াতাড়ি দুপুরের খাবার খায় না আজ এই বাড়িতে এসে এত তাড়া ক্ষুধা পেয়ে গেলো।
–তা আজ এতো তাড়াতাড়ি ক্ষুধা পেয়ে গেলো যে। বাসায় থাকতে তো দেখতাম চারটা বেজে যায় খাও না। বিকেলের নাস্তা আর দুপুরের খাবার একসাথেই সারতে।
হানিয়া মলিন হেসে বলে–
–দেখতেন বুঝি? কই কোনদিন তো জিজ্ঞেস করেন নি এতো বেলা হয়ে যাওয়ার পরও কেন খাচ্ছি না?
হানিয়ার প্রশ্নের কোন জবাব জাভিয়ানের কাছে নেই। জাভিয়ানকে চুপ থাকতে দেখে হানিয়া নিজেই বলে–
–ও বাড়িতে আপনার জন্যই আলাদা তিনটা আইটেম করা লাগে লাঞ্চে। বাবা-মায়ের জন্য তেল-ঝাল কম করে দুটো আইটেম মাস্ট। মনি আর আমি আপনাদের জন্য করা আইটেম দিয়েই চালিয়ে দেই। কিন্তু আমার লেট করে খাওয়ার কারণ এটাগুলো নয়। কি কারণ জানেন?
জাভিয়ান মুখে কিছু বলে না কিন্তু সে যে এর কারণ জানতে চায় তা তার চোখমুখই বলে দিচ্ছে। হানিয়া নিজেই বলে–
–রান্নাবান্নায় আমি এতো পটু না। একহাতে ধোয়া-মোছা,, কাটাকাটি করতে হিমশিম খেয়ে যাই।সব কাজ শেষ করে আপনাদের খাইয়ে একটু বসলে বা শুয়ে পরলে মন চায় না আর উঠি। ক্লান্ত থাকায় কখনও কখনও বা ঘুমিয়েও পরি,, তাই লেট হয়ে যায়। এই কথাগুলো শুনে ভেবেন না আমি নালিশ করছি,, আমি জাস্ট আপনার প্রশ্নটার উত্তর দিলাম। আর আরেকটা কথা,, আমি এই ক্লান্ত হওয়া টাকে ভালোবাসি। নিজের সংসারের জন্য কিছু করাটা যে একজন বিবাহিত নারীকে কতটা স্বস্তি দেয় তা হয়ত আপনি বুঝবেন না। এখন তাড়াতাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন জনাব,,সবাই আমাদের জন্য ওয়েট করছে।
কথাটা বলে হানিয়া জাভিয়ানের সামনে থেকে সরে লাগেজের কাছে যায়।তারপর জাভিয়ানের কাপড়গুলো বের করে তার হাতে দেয় যেগুলো জাভিয়ান ফ্রেশ হয়ে পরবে ওগুলো। কাপড় দিয়ে নিজেই চলে যায় রুমের বাহিরে,,মাকে হেল্প করতে।
শব্দসংখ্যা-১৬৪০
~চলবে?