#প্রতিশোধের_অঙ্গীকার
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#Season_2
#পর্ব_০৭
বারান্দার একপাশে পাশাপাশি বসে আছে দু’টি হৃদয়, গভীর চন্দ্রালোকিত রজনীর সাক্ষী হয়ে। বাতাসে মিশে থাকা রাতজাগা ফুলের সুগন্ধ আর দূর কোথাও গুনগুন করা জোনাকি পোকার মৃদু সঙ্গীত যেন তাদের একান্ত মুহূর্তের নীরব সঙ্গী। দু’জনেই নীরব, অথচ ভাষাহীন সেই নীরবতা তাদের হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতির ভাষায় কথা বলে।
পুরুষটি কখনো কখনো নিছক হাস্যরস মেশানো কিছু কথা বলে, আর তাতেই নারীর মুখে ফোটে মুক্তোর মতো হাসি। নিস্তব্ধ রাতের বুকে সেই হাসি যেন এক অনাবিল সুর, যে সুর শুনে চাঁদও হয়তো মুগ্ধতার আবেশে ঢেকে দেয় তার লজ্জা। সময় যেন এখানে থমকে গেছে, শুধু দু’টি অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে একে অপরের উষ্ণতায়।
হঠাৎ, কথা বলার ফাঁকে পুরুষটি তার কোমল, উষ্ণ ঠোঁট নারীর ললাটে ছুঁইয়ে দেয়। অপ্রস্তুত রমণী লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেয়, কিন্তু বুকের গভীরে অনুভব করে এক স্নিগ্ধ প্রশান্তি—যেন শত রাত জেগে অপেক্ষার পর আজ স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। এই ক্ষুদ্র স্পর্শের জন্য, এই গভীর মুহূর্তের জন্য কত রাত যে তারা অপেক্ষায় কাটিয়েছে, তার হিসেব শুধু তাদের দু’জনেরই জানা।
চাঁদের আলোয় আবছা হয়ে থাকা বারান্দার সেই কোণে, ভালোবাসা যেন নতুন করে ধরা দিয়েছে। হয়তো ভালো থাকতে এর চেয়ে বেশি কিছু কখনোই প্রয়োজন ছিল না।
রাত তার শেষ প্রহরের দিকে এগোচ্ছে, অথচ তাদের আলাপের সুরে এখনো ক্লান্তি আসেনি। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু দু’জন মানুষের উপস্থিতি যেন বারান্দার বাতাসেও এক মোহনীয় সুর এনে দিয়েছে। চাঁদের আলো পড়ছে রমণীর ঘন কেশের ওপর, ছড়িয়ে দিচ্ছে এক স্বর্গীয় আভা।
পুরুষটি খানিকক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে তার রমণীর মুখে—অবাক বিস্ময়ে, ভালোবাসার এক অতল অনুভূতিতে। তারপর গভীর, মোলায়েম কণ্ঠে বলে ওঠে—
—“তাহলে কি আজ নিদ্রাহীন রাতের আকাশকেই আপন করে নিতে চান, জনাবা? নয়নযুগলে কি একটিবারের জন্যও ক্লান্তির ছোঁয়া আনেনি? নাকি তারাও আমার মতোই আজ জেগে থাকতে চায়—শুধু আপনাকে দেখার জন্য?”
পুরুষটির কণ্ঠে যেন এক অলিখিত আহ্বান, এক মৃদু দুষ্টুমি, অথচ স্পর্শযোগ্য স্নেহ।
রমণী কিছুক্ষণ নীরব রয়। তার চোখের কোণে এক অদ্ভুত দীপ্তি, যেন রাতের সমস্ত সৌন্দর্য সেই নয়নযুগলে এসে জমেছে। তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি এনে, চাঁদের দিকে চেয়ে মৃদু স্বরে বলল—
—“নিদ্রা তো এসেছিল, কিন্তু আপনি যখন আপনার কথার জাদুতে আমায় আচ্ছন্ন করে রাখলেন, তখন সে একে একে দরজায় কড়া নাড়ে, অপেক্ষা করে… তারপর অভিমানে ফিরে যায়। এখন বলুন, তাকে ফিরিয়ে আনার সাধ্য কি আপনার আছে?”
তার কণ্ঠে অভিমানের মেঘলা ছায়া, অথচ চোখের গহীনে যেন এক অন্যরকম উজ্জ্বলতা। সে জানে, এই রাতের আলো, এই নীরবতার ভাষা, এই অন্তহীন কথোপকথন—সবকিছুর মাঝেই রয়েছে এক গভীর মায়া, যা সে কখনোই ভাঙতে চাইবে না।
পুরুষটি টের পেয়ে যায় তার রমণী যে তাকে উৎপীড়ন করতে চাইছে তার আভাস। সে নিশ্চুপ অথচ চোখের কোনে হেরে যাওয়ার প্রমাণ স্বরূপ ক্ষীণ হাসি ফুটিয়ে সেই উৎপীড়ন মাথা মাথা পেতে নেয়। আরো গভীরভাবে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয় রমণী টিকে। যেন নিজের অস্তিত্বের মাঝে মিশিয়ে নেওয়া এ এক ক্ষুদ্র প্রয়াস।
হুট করেই কংক্রিটের শক্ত মেঝেতে নারী অবয়ব টিকে নিজের বুকের উপর নিয়ে শুইয়ে পরে পুরুষটি। ঠান্ডা মেঝেতে অল্পবিস্তর শীতলতা তার কায়া ছুঁয়ে দিলেও সে সেদিকে বেশি একটা নজর দেয় না। কিন্তু পুরুষটির এহেন পাগলামিতে নারীটি হকচকিয়ে যায়। মৃদুস্বরে আর্তনাদ করে বলে উঠে–
—এ কি করছেন? উঠুন মেঝে থেকে। মেঝে যথেষ্ট ঠান্ডা,,আপনার সর্দি হয়ে যাবে।
পুরুষটি তার ব্যক্তিগত নারীর মাথাটা তার একহাত দিয়ে নিজের বক্ষপিঞ্জরায় চেপে ধরে বলে–
—আপনি আছেন কি করতে? আপনার উষ্ণতায় আমায় পুনরায় সুস্থ করে তুলবেন। এখন চুপটি করে এই ভালোবাসাময় স্নিগ্ধ পরিবেশটাকে উপভোগ করুন।
রাত বাড়ার সাথে সাথে পরিবেশ আরো শীতল হতে থাকে। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময় হলেও শীত এখনো কিছুটা রয়ে গেছে পরিবেশে। ভোরের দিকে পাতলা কাঁথা গায়ে না দিলেই নয়। যুবকটি নিজের বুকের উপর জড়িয়ে ধরে রাখা প্রিয় নারীর কাঁপুনি ভাবটা টের পায়। পরিবেশটা তার ভালো লাগলেও তার রমণী যে বড্ড শীতকাতুরে সে সেটা ভালো করেই জানে।
তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় বেলকনিত ছেড়ে রুমে চলে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথমে শোয়া থেকে উঠে বসে,,তারপর নারী কায়া টিকে নিজের কোলে তুলে নিয়ে রুমে এসে বেডে শুইয়ে দেয়। তাকে শুইয়ে দিয়ে আবার চলে যায় বেলকনির দিকে। বেলকনির দরজা লাগিয়ে ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে নারীটির বুকে মুখ গুজে শুয়ে পরে। তার কায়ায় লেপ্টে থাকা টি-শার্টের ভেতর হাত ঢুকিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরে। নারীটিও পরম যত্নে আগলে নেয় প্রিয় পুরুষটিকে। চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করে কিন্তু তখনই চোখের পাতায় ভেসে উঠে আজ সন্ধ্যায় ঘটতে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনাটি।
________________________
সন্ধ্যাবেলা~~
আবরার,, রাশেদ আর হানিয়া রুমে প্রবেশ করে দেখে জাভিয়ান তার লাইসেন্স করা গানে বুলেট লোড করছে। করছে বললে ভুল হবে করা শেষও,,নিজেকে শুট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাভিয়ান গানের নলটা নিজের মাথার পাশে চেপে ধরেছে দেখে হানিয়া আঁতকে চিৎকার করে ডেকে উঠে–
—জাভিয়াননননন….
হানিয়ার গলার স্বর শুনে জাভিয়ান পেছন ঘুরে তাকায়। হানিয়াকে দেখে তার ঠোঁটে একটা বেদনা মিশ্রিত হাসি ফুটে ওঠে। অসহায় হয়ে বলে–
—তোমাকে মুক্তি দিচ্ছি হানিয়া। আজ থেকে তুমি এই জাভিয়ান তালুকদার থেকে মুক্ত।
হানিয়া হতভম্ব হয়ে কথা বলতে ভুলে যায়। কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে। আবরার জাভিয়ানকে বুঝানোর উদ্দেশ্য আগে বাড়লে জাভিয়ান বলে–
—আবরার ভাই সামনে এগোবেন না। আমি শুট করে দিবো নিজেকে।
আবরার আঁতকে উঠে বলে–
—না না এমনটা করো না। আমি আগাবো না। কিন্তু তুমি এটা কি করছো জাভিয়ান। পাগল হয়ে গেলে? নিজেকে মারতে চাইছো?
—নিজেকে মারতে চাইছি না তো। বরং আমার ভালোবাসার মানুষটিকে মুক্তি দিচ্ছি। আমি বেঁচে থাকলে সে কখনোই আমার থেকে মুক্ত হয়ে তার পছন্দের মানুষটির সাথে সুখে সংসার করতে পারবে না। তাই আমি এই কাজটা করছি।
কথাগুলো বলতে বলতে জাভিয়ানের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরে। হানিয়া হতভম্ব হয়ে বলে–
—আর আমার পছন্দের মানুষটি কে?
—সেটা তো তুমি জানো। কিন্তু সেই ভাগ্যবান যে আমি নই এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলছি।
—আপনার ঠিক কোন কারণে মনে হলো আমার পছন্দের মানুষ আছে?
—তখন আবরার ভাই তোমায় যখন প্রশ্ন করলো তোমার জীবনে নতুন কেউ এসেছে কিনা তখন তুমি চুপ ছিলে,,নিরবতা তো সম্মতির লক্ষ্মণ। তোমার জীবনে যে নতুন কেউ এসেছে সেটা তোমার নিরবতাই বলে দিয়েছে। আমি বেঁচে থেকে তোমায় অন্যের সাথে সংসার করতে দেখতে পারবো না। এর চেয়ে ভালো আমার মরে যাওয়া।
জাভিয়ানের এমন কথা শুনে হানিয়ার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সবসময় নিরবতা কি সম্মতির লক্ষ্মণ হয়? অনেক সময় লজ্জায় তো অনেক কিছু বলা যায় না। তখন তার বড় ভাই তাঁকে ভালোবাসার কথা জিজ্ঞেস করায় সে একটু লজ্জা আর অস্বস্তিতে পরে গিয়ে নিরব ছিলো। তার সেই নিরবতাকে উল্টাপাল্টা ভেবে এত বড় কান্ড করতে যাচ্ছে এটি ছাগল লোক?
হানিয়া নাক ফুলিয়ে কর্কশ কণ্ঠে বলে–
—তোর মতো আমারে নির্লজ্জ মনে করস? বড় ভাই জিজ্ঞেস করছে ভালোবাসি নাকি ঢ্যাং ঢ্যাং করে বলমু,, হ আমি আমার প্রিয়তম সোয়ামীকে ভালোবাসি। আরে,, আরেকজন রে ভালোবাসি বলেই তো সত্য না জেনেই তোর সুখের কথা চিন্তা করে,, তোর এতো পাগলামি দেখেও আবার পালানোর কথা ভাবছিলাম। আসলে কি জানস তুই আমার ভালোবাসা ডিজার্ভই করস না। হুদাই তোরে এতদিন ভালোবাসলাম। যা তুই মর,, মরে গিয়ে সোহা পেত্নীর সাথে বটগাছে বসে প্রেম কর। তুই শুট করার পর আমি এই বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় যারে পামু তারেই বিয়ে করমু এই রাতেই।
কথাটা বলে হানিয়া হনহনিয়ে প্রথমে রুম থেকে বের হয় তারপর বাসা থেকে। বের হওয়ার সময় দরজাটা ধাম করে লাগিয়ে নিজের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ভুলে না। জাভিয়ান বেআক্কল হয়ে যায় হানিয়ার কথা শুনে। তাহলে হানিয়া কি তাঁকে এখনো ভালোবাসে? এটাই কি বুঝালো?
আবরার হতাশা মিশ্রিত শ্বাস ফেলে বলে–
—তোমার থেকে এমন কাজের আশা করি নি জাভিয়ান। বিজনেসের ক্ষেত্রে তুমি এক নাম্বার হলেও সংসার,,প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে এখানো বড্ড কাঁচা। একটা ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে নিজেকে শেষ করতে চাইছিলে? হানিয়া যে তোমায় এখনো ভালোবাসে এটা তো কানার মা অন্ধও বলে দিতে পারবে ওর চোখ দেখে। আর তুমি কি না ওকে এতো ভালোবেসেও বুঝতে পারলে না? ধরলাম ও কাউকে ভালোবাসে,, সেটা আগে ওর মুখ থেকে শুনতে তারপর না হয় কোন স্টেপ নেওয়া যেত কিন্তু সুইসাইড? এটা কোন সমাধান না। তোমরা দু’টো বড্ড পাগল আর অধৈর্য। একজন অধৈর্য হয়ে নিজের জীবনের পাঁচটা বছর নষ্ট করলো,,আর তুমি অধৈর্য হয়ে নিজের জীবনই কিনা দিয়ে দিতে যাচ্ছিলে? তোমাদের বুঝানো আমার সাধ্যের বাহিরে চলে গিয়েছে। চলো রাশেদ,,দেখি গিয়ে ঐ পাগল এই ভরসন্ধ্যায় আবার কই গেলো?
কথাটা বলে আবরার আর রাশেদ রুম থেকে বের হয়ে আসতে নেয় তখনই জাভিয়ান হুড়মুড়িয়ে বলে–
—আমি যাচ্ছি ভাই। আমি ওকে নিয়ে আসছি।
কথাটা বলে হাতের গান ফেলে দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে আসে বাসা থেকে। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে ঘাড় ঘুড়িয়ে ডানে বায়ে খুঁজতেই হানিয়ার দেখা পায় ডান পাশের গলির একদম শেষ মাথায়। ফুটপাতের উঁচু জায়গা গুলোতে বসে আছে হাঁটুতে মাথা রেখে। জাভিয়ান দৌড়ে তার কাছে যায়। কাঁপা কাঁপা হাতে হানিয়ার মাথায় হাত রেখে ডেকে উঠে–
—হানি….
হানিয়া যেন রবি সিমের মতো জ্বলে উঠে আপন শক্তিতে। নিজের মাথা থেকে জাভিয়ানের হাত ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলে–
—এখানে কি? মরতে না গিয়েছিলেন? নাকি ভুত হয়ে এসেছেন? (জাভিয়ানের পায়ের দিকে তাকিয়ে বলে) কিন্তু পা তো উল্টো দিকে না। তারমানে মানুষ জাভিয়ান হয়েই এসেছেন। তা আমার কাছে কি?
জাভিয়ান হানিয়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলে–
—তোমার কাছেই তো আমার সব। সব সুখ,,হাসি আনন্দ তোমার কাছে।
—ফাউ প্যাচাল না পেরে সামনে থেকে যান। মাথা গরম আছে আমার। আপনাকে দেখে আরো গরম হচ্ছে,, পরে মাথা ফাটিয়ে দিলে শায়লা তালুকদার তো এসে আমায় ধরবে। আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি লেগে যাবে। যান সামনে থেকে।
হানিয়া রাগে গজগজ করতে করতে কথাগুলো বলে। জাভিয়ানের হাসিই পায় হানিয়া রাগ দেখে। হানিয়ার হাত দু’টো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে–
—শ্বাশুড়ির নাম ধরে ডাকতে হয় না হানি। ইটস ব্যাড ম্যানার্স।
—তোর শ্বাশুড়ির গুষ্টি কিলাই। পিরিতের আলাপ পারতে আসছে। তোরে আমি কালই ডিভোর্স দিমু। তুই…
হানিয়া হিসহিসিয়ে কথাগুলো বলার মাঝেই জাভিয়ান তার দু’গালে হাত রেখে তার ললাটে নিজের ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দেয়। কিসের রাগ কিসের অভিমান নিমিষেই সব শান্ত হয়ে যায় হানিয়ার। জাভিয়ান স্থান,,কাল ভুলে বেশ কিছুক্ষণ হানিয়ার ললাটে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে রাখে। হানিয়া শান্ত হয়ে এসেছে দেখে জাভিয়ান ঝট করে তাঁকে নিজের বুকে পুড়ে নেয়। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হানিয়াকে নিজের সাথে।
সেকেন্ড পেরিয়ে মিনিট হতেই ফুঁপানো আওয়াজ পায় জাভিয়ান। আরো শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরে হানিয়াকে সে। হানিয়া দোনামােনা করতে করতে সেও একসময় জড়িয়ে ধরে জাভিয়ানকে। হালকা শব্দ করে কান্না করতে থাকে সেই অবস্থাতেই। জাভিয়ানের পিঠে কিল থাপ্পড় দিতে দিতে বলে–
—এখন এসে জড়িয়ে ধরেছেন কেন? সোহা পেত্নীর সাথে প্রেম করার শখ মিটে গেছে? যান তার কাছেই যান। আমার কাছে কি? অসভ্য,, বাজে পুরুষ।
বারিধারার মতো আভিজাত্যপূর্ণ ও নিরিবিলি এলাকা হওয়ায় লোক লজ্জার তেমন ভয় নেই। মাঝে মধ্যে দুই একটা গাড়ি শো করে চলে যাচ্ছে নিজেদের গন্তব্যে। এছাড়া জাভিয়ান এমনিতেও কোন কালেই লোকলজ্জার তোয়াক্কা করেনি। সে বেশ আয়েশ করে ধুলোবালি মাখা রাস্তায় আসনপেতে বসার মতো বসে হানিয়াকে নিজের হাঁটুর উপর বসিয়ে জড়িয়ে ধরে। চুপ করে শুনতে থাকে হানিয়ার সব অভিযোগ। সময় দেয় তাকে নিজের সব ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার।
দূর থেকে তাঁদের দু’জনকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় দেখতে পায় আবরার আর রাশেদ। রাশেদ তাঁদের দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে আবরার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে–
—এখন যেয়ো না। ওদের ব্যাপার ওদের মিটিয়ে নিতে দাও। আজ না পারলে আর কোন কালেই পারবে না। চলো আমরা বাসায় চলে যাই।
রাশেদ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। তারপর আবরারের সাথে তার গাড়িতে উঠে পরে। রাশেদ ড্রাইভিংয়ের দায়িত্ব নেয় আর আবরার তারপাশে বসে পরে। গাড়ি চলতে শুরু করে। কি মনে করে আবরার ফোন নিয়ে জাভিয়ানকে কল লাগায়।
হানিয়া নিজের অভিযোগ গুলো করতে করতে হঠাৎই থেমে যায় জাভিয়ানের ফোনের রিংটোনের আওয়াজে। জাভিয়ান বেশ বিরক্ত হয় এমন সময় নিজের ফোন বাজায়। প্যান্টের পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে স্ক্রিনে দিকে তাকালে দেখতে পায় তার একমাত্র শালা ও ভগ্নিপতি আবরার ফোন করেছে। হানিয়াকে একহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে বলে–
—হ্যা বলুন ভাই।
—মিয়া বিবি মাঝ রাস্তায় বসে দুঃখবিলাস না করে বাসায় গিয়ে নিজেদের পারসোনাল রুমে দুঃখবিলাস করো গিয়ে। এতে তোমারই কিন্তু লাভ। সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেও করতে পারো।
আবরার যে কোন সুযোগের কথা বলছে সেটা জাভিয়ান ভালো করেই বুঝতে পারে। আবরারের পাশে বসা রাশেদও হেঁসে দেয় তার কথা শুনে।
জাভিয়ান হালকা লজ্জা পেলেও তা প্রকাশ করে না। সে নির্লিপ্ত গলায় বলে–
—আপনার বোন জামাই হই আমি।
আবরার হাসতে হাসতে বলে–
—এছাড়াও আরেকটা সম্পর্ক আছে আমাদের। শালা হও আমার। সেই হিসেবে সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য কয়েকটা টিপস তো দিতেই পারি, তাই না?
—আপনার টিপস দেওয়া শেষ হলে আমি এখন ফোনটা রাখতে পারি? আমার বউ ডিস্টার্ব হচ্ছে নিজের কাজে ব্যাঘাত হওয়ায়। অভিযোগের পাসরা খুলে বসেছে কিনা ম্যাম।
হানিয়া জাভিয়ানের কথা শুনে তার পেটে জোরেসোরে একটা চিমটি কাটে। জাভিয়ান ব্যথায় “আউচ” করে উঠে। আবরার এবার সিরিয়াস হয়ে বলে–
—দু’জনে আবার লেগে পরো না। শান্ত হয়ে নিজেদের মধ্যকার সব মনমালিন্য মিটিয়ে নাও। মনে রেখো, হয় আজ নয়তো আর কোনদিন না। মেয়েদের বুদ্ধি হাঁটুর নিচে এটা চিরন্তন সত্য। বেশি বুঝে চিল্লানো এদের জন্মগত অভ্যাস। কিন্তু আমাদের শান্ত হয়ে এই পাগলদের হ্যান্ডেল করেই তারপর সংসার করতে হয়।
আবরার তার কথা শেষ করার সাথে সাথেই শুনতে পায় একটা তীক্ষ্ম নারী কন্ঠ। নারীটি হানিয়া। সে ক্ষেপে গিয়ে বলছে–
—আমরা বেশি বুঝি,,আমরা মেয়েরা পাগল না। দাড়াও কালই ভাবীকে গিয়ে বলছি। তোমার বারোটা বাজাতে আসছি আমি কাল বাসায়।
আবরার প্রথমে হানিয়ার কণ্ঠ শুনে হকচকিয়ে গেলেও পরে নিজেকে সামলে বলে–
—ইউ আর অলওয়েস ওয়েলকাম ইন ইউর হোম মাই লিটেল সিস্টার। উই উইল বি এগ্যারলি ওয়েটিং টু ওয়েলকাম ইউ। দ্যায়ার ইজ অ্যা সারপ্রাইজ ওয়েটিং ফর ইউ ডিয়ার। আরেকটা কথা জাভিয়ানকে বলছি,,শেষ বারের মতে সুযোগ দিচ্ছি তোমায়। এরপর তোমার দ্বারা আমার বোন কোন কষ্ট পেলে আমি নিজ দায়িত্বে তোমাদের বিচ্ছেদ করবো। এটাকে তুমি হুমকিও মনে করতে পারো। এখম রাখছি। আল্লাহ হাফেজ।
কথা গুলো বলে আবরার ফোন কেটে দেয়। জাভিয়ান ফোনটা পকেটে ভরে হানিয়াকে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর হাঁটা দেয় অ্যাপার্টমেন্টের উদ্দেশ্য।
শব্দসংখ্যা~২০৬৮
~চলবে?
#প্রতিশোধের_অঙ্গীকার
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#Season_2
#পর্ব_বোনাস [ভালোবাসা দিবস স্পেশাল 🙈]
[এক কথায় যারা বিবাহিত বা প্রাপ্তবয়স্ক তারা পড়তে পারবেন। এরা বাদে অন্যরা পড়লে তাদের চোখে অকালেই চশমা উঠবে। 😏😬]
জাভিয়ান ফোনটা পকেটে ভরে হানিয়াকে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর হাঁটা দেয় অ্যাপার্টমেন্টের উদ্দেশ্য।
________________
বর্তমান~~
হঠাৎই বুকের কাছে কয়েক ফোটা গরম পানির আভাস পেয়ে তড়াক করে চোখ খুলে তাকায় হানিয়া। জাভিয়ান কাঁদছে। কিন্তু কেনো? হানিয়া অস্থির হয়ে জাভিয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে–
—অ্যাঁই আপনার কি হয়েছে? কাঁদছেন কেনো? খারাপ লাগছে কোথাও?
জাভিয়ান বুকে মুখ গুজেই মাথা ডানে বায়ে নাড়ায়। এর মানে খারাপ লাগছে না তার। তাহলে কাঁদছে কেনো?
হানিয়া আবার প্রশ্ন করে–
—কাঁদছেন কেনো?
জাভিয়ান কোন জবাব দেয় না। মুখ গুঁজে পরে থাকে। এদিকে হানিয়া একের পর এক প্রশ্ন করেই চলছে তাঁকে। সময়ের সাথে সাথে হানিয়া আরো অস্থির হয়ে উঠলে জাভিয়ান আর চুপ করে থাকতে পারে না। সে মাথা তুলে বলে–
—আমার না এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না তুমি আমার সামনে। আমি তোমার বুকে মাথা রেখে আছি। সবটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি ঘুম ভেঙে গেলো আর প্রতিবারের মতো তুমি আমায় একা করে চলে গেলে।
ড্রিম লাইটের মৃদু আলোতে বিলাসবহুল রুমটা ভালোই আলোকিত হয়ে আছে। সেই আলোতেই হানিয়া স্পষ্ট দেখতে পায় জাভিয়ানের চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পরা অশ্রুদের। অশ্রু গুলো তাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে ঝরছে কথাটা মনে হতেই বুকের মাঝে সুখ পাখিগুলো ডানা মেলে উড়তে চায়। তার এতদিনের কষ্ট যেনো এই কয়েক ঘন্টায় বিলীন হয়ে গেছে।
প্রিয় মানুষটির সানিধ্য আমাদের কতটা সুখ দেয় সেটা হানিয়া বেশ ভালো করেই উপলব্ধি করতে পারছে। হানিয়া হাত বাড়িয়ে জাভিয়ানের অশ্রু মাখা চোখজোড়া মুছে দেয় যত্ন করে। তারপর দু’হাত দিয়ে জাভিয়ানের চোয়াল ধরে নিজের মুখের একটু কাছে নিয়ে আসে। নিজের মুখটা জাভিয়ানের আরেকটু কাছে নিয়ে গিয়ে ভালোবাসাময় স্পর্শ দেয় প্রিয় পুরুষটির কপালের মধ্যিখানে।
হানিয়ার কোমড়ে থাকা জাভিয়ানের হাতজোড়ার বন্ধ আরো দৃঢ় হয়। চোখ বন্ধ করে স্ত্রীর আদর অনুভব করতে থাকে। হানিয়া জাভিয়ানের কপালে আদর দিয়ে থামে না। একে একে জাভিয়ানের চোখ,,দু’গাল থুতনি বলতে গেলে জাভিয়ানের পুরো মুখে আদর দিতে থাকে। শেষে ঠোঁটের কাছে এসে নেমে যায়। চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস টানতে থাকে।
নিজের ঠোঁটের কাছে এসে হানিয়ার থেমে যাওয়ায় জাভিয়ান বন্ধ চোখজোড়া খুলে তার দিকে তাকায়। এতক্ষণ যেন কোন এক শান্তির রাজ্যে ভ্রমণ করছিলো সে। প্রিয় নারীর আদর মাখা স্পর্শ তাকে সুখের নদীতে ভাসাচ্ছিলো। কিন্তু হানিয়ার এমন হঠাৎ থেমে যাওয়ায় তার সুখে যেন ভাটা পরে। সে ক্ষীণ,,কাতর কন্ঠ ডেকে উঠে –
—হানি…..
আর কিছু বলতে পারে না জাভিয়ান। হানিয়া আজ প্রথমবারের মতো নিজ উদ্যোগে জাভিয়ানের ওষ্ঠে ভালোবাসা দেয়। একহাত জাভিয়ানের চোয়ালের রেখে আরেক হাত ঘাড়ের পেছনে চেপে ধরে। জাভিয়ানও ভীষণ আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সহিত প্রিয়তমাকে এর বিনিময় দিতে থাকে। কাল রাতে যতটা অশান্ত হয়ে ছুঁইয়ে দিয়েছিলো সে,, আজ তার থেকেও বহুগুণ শান্ত হয়ে ভালোবাসা বিনিময় করছে একে অপরকে।
সময় গড়াতে থাকে কিন্তু তাদের উন্মাদনা বদলে আরো বাড়তে থাকে। কাল যেটা জাভিয়ান চাইছিল আজ তা হানিয়া নিজে চাইছে। চুম্বনরত অবস্থায় সে জাভিয়ানের চোয়াল আর ঘাড় থেকে হাত সরিয়ে এনে জাভিয়ানের শার্টের বাটানে রাখে। সময় ব্যয় ব্যতীত এক-এক করে খুলে দিতে থাকে সেগুলো। বাটান খোলা হয়ে গেলে নিজেই ছাড়িয়ে নেয় শার্টটা জাভিয়ানের পেটানো শরীর থেকে। তারপর আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নেয় জাভিয়ানকে নিজের সাথে।
জাভিয়ান হানিয়ার ঠোঁট ছেড়ে গলদেশে মুখ ডুবিয়ে দেয়। ছোট ছোট উষ্ণ পরশের মাধ্যমে নিজের করে নিতে থাকে হানিয়াকে। তাদের এতো ভালোবাসাবাসি দেখে আকাশে জ্বলজ্বল করে আলো দিতে থাকা চাঁদটিও যেন লজ্জা পেয়ে যায়। তাই তো মেঘের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে নিয়ে ধরণীকে আধারে ঢেকে দেয়। সময় গড়িয়ে যায় সেই সাথে আরো প্রখর হতে থাকে জাভিয়ান-হানিয়ার ভালোবাসা।
তারা ভুলে যায় এতবছরের দূরত্ব। মেতে উঠে একে অপরকে আপন করে নেওয়ার সেই আদিম খেলায়। ঘরের দেওয়াল গুলো স্বাক্ষী থাকে তাদের সুখের গুঞ্জনে। জাভিয়ান অবশেষে তার পাখিকে নিজের খাঁচায় বন্দী করতে সক্ষম হয়।
____________________
পাখির কিচিরমিচির আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় হানিয়ার। পাখির আওয়াজ ব্যতীত আরেকটা শব্দ খুব কাছ থেকে পাচ্ছে সে। শব্দ অনেকটা টিপ টিপ করছে। হানিয়ার অবচেতন মন প্রশ্ন নিজেকেই প্রশ্ন করে উঠে–
—বৃষ্টি হচ্ছে নাকি?
বিষয়টা দেখার জন্য হানিয়া মাথা তুললে সর্বপ্রথম নজরে আসে জাভিয়ানের ঘুমন্ত মুখশ্রী। এতকাছে জাভিয়ানকে দেখে প্রথমে সে একটু থতমত খেয়ে যায়। নিজেকে ধাতস্থ করে নেওয়ার পর তার মনে পরে–
—আরে এটা অন্য কেউ নয় হানিয়া। তোর বউ পেটানো বর ওরফে জাভিয়ান তালুকদার।
হানিয়া নিজেদের দিকে ভালো করে খেয়াল করলে দেখতে পায়,, সে জাভিয়ানের উন্মুক্ত বুকে শুয়ে আছে। আর এতক্ষণ সে যেই টিপটিপ আওয়াজটা পাচ্ছিলো সেটা তার প্রিয়তমের হার্টবিট। মনটা তার আনন্দে নেচে উঠে। হানিয়া নিজের থুঁতনি জাভিয়ানের বুকে রেখে একধ্যানে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
জাভিয়ানের নিচের ঠোঁট লাল হয়ে ফুলে আছে,, ডান গালে বেশ কয়েকটা নখের আঁচড়,, এসবই যেন গতকাল রাতে তার করা উন্মাদনার প্রমাণ। জাভিয়ান যতটা না শান্ত ছিলো হানিয়া তার চেয়েও বেশি উন্মাদ হয়ে উঠেছিলো কাল পু। ফলস্বরূপ এই ফুলে থাকা ঠোঁট আর আঁচড়ের দাগ। হানিয়া হাত বাড়িয়ে জাভিয়ানের ফুলে থাকা ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে খোঁচা দিয়ে ঘুমন্ত জাভিয়ানকে বিরক্ত করতে চায়। সে সফলও হয় বটে।
ব্যথা জায়গায় পুনরায় ব্যথা পাওয়ায় ঘুমন্ত জাভিয়ানের কপালে কয়েকটা ভাজ পরে। সে চোখ চোখ খুলছে দেখে হানিয়া ঝট করে হাতটা জাভিয়ানের গলায় রেখে মাথা নামিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। ভাবটা এমন সে ঘুমন্ত। জাভিয়ান চোখ খুলে ঘুমন্ত হানিয়াকে নিজের বুকের উপর পেয়ে ভীষণ খুশি হয় যেন। মাথাটা একটু উঠিয়ে হানিয়ার চুলের ভাজে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়।
তারপর পুনরায় বালিশে মাথা রেখে হানিয়াকে আরেকটু গভীরভাবে জড়িয়ে ধরে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। অপেক্ষা করতে থাকে হানিয়ার চোখ খোলার। এদিকে হানিয়া মনে করে জাভিয়ান হয়ত ঘুমিয়ে গেছে। তাই সে প্রথমে এক চোখ খুলে দেখতে চায় আসলেই জাভিয়ান ঘুমিয়েছে কিনা। কিন্তু ধরা পরে যায়। ঢ্যাবঢ্যাব করে নিজের দিকে জাভিয়ানকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বুঝে যায় তার দুই নাম্বারি ধরা পরে গেছে।
জাভিয়ান এক ঝটকায় হানিয়াকে নিজের নিচে নিয়ে বালিশে শুইয়ে দিয় তাকে নিজের দুই হাতের মাঝে বন্দি করে কিছুটা তার দিকে ঝুঁকে যায়। তারপর একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বলে–
—আপনার দুই নাম্বারি ঘুম শেষ হয়েছে নাকি আরো কিছুক্ষণ চলবে?
হানিয়া খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠে। জাভিয়ানকে নিজের উপর থেকে সরাতে সরাতে বলে–
—উঠুন মি.তালুকদার। কত বেলা হয়ে গেছে সেদিকে খেয়াল আছে। সরুন ফ্রেশ হতে যেতে দিন। হোটেলে ফিরতে হবে। কাল যেই খেল দেখালেন,, ওখানের সবাই টেনশন করছে বোধহয় আমার জন্য।
জাভিয়ান হানিয়ার থুঁতনি দুই আঙুল দিয়ে চেপে ধরে তার চোখে চোখ রাখে। কণ্ঠে দৃঢ়তা নিয়ে বলে–
—মি.তালুকদার নয়,,জাভিয়ান বলো।
হানিয়া জাভিয়ানের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকে একদম শান্ত হয়ে। জাভিয়ান পুনরায় বলে–
—এখন থেকে জাভিয়ান ডাকবে। শুধু জাভিয়ান। তোমার জাভিয়ান। মনে থাকবে?
হানিয়া মোহাচ্ছন্ন হয়ে বলে–
—বেশ থাকবে।
জাভিয়ান মুখ বাড়িয়ে হানিয়ার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। তারপর শোয়া থেকে উঠে বসে। নিজের শার্টটা ফ্লোর থেকে তুলে হানিয়ার দিকে বাড়িয়ে দেয়। হানিয়া বিনা বাক্যে সেটা নিজের গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। জাভিয়ানের শার্টটা হানিয়ার হাঁটুর বেশ খানিকটা উপরে এসে থেমেছে।
হানিয়া জানালার পর্দা সরাতে সরাতে বলে–
—আমি এখন কি পরবো? কালকের শাড়ি টাও ধোঁয়া না। আমার লাগেজও হোটেলে।
জাভিয়ান হুট করে তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলে–
—ভীষণ চিন্তার বিষয় ব্যাপারটা। চলো শাওয়ার দিতে দিতে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করি।
কথাটা বলে জাভিয়ান হানিয়াকে নিয়ে ওয়াশরুমের ঢুকে পরে। দীর্ঘ একঘন্টা শাওয়ার নিয়ে পুনরায় হানিয়াকে কোলে নিয়ে বের হয় জাভিয়ান। জাভিয়ানের গায়ে কাপড় বলতে কোমড়ে একটা টাওয়াল পেঁচিয়ে বের হয়েছে আর হানিয়ার গায়ে বাথরোব। হানিয়া বিরক্ত জাভিয়ানের উপর বারবার এতো কোলে নেওয়ার কারণে।
সে চোখেমুখে বিরক্তি বিয়ে বলে–
—এমন এলিয়েনগিরী করছেন কেন? বারবার এতো কোলে নিচ্ছেন কেন? আপনার এই আজাইরা কাজে আমি বিরক্ত হচ্ছি জাভিয়ান।
জাভিয়ান হানিয়ার বিরক্তি বুঝতে পেরেও তাঁকে আরো বিরক্ত করতে চায়। সে হানিয়াকে বেডে বসিয়ে দেয়,, তার মাথায় পেঁচানো টাওয়ার খুলে আলোতে হাতে চুলগুলো মুছে দিতে দিতে বলে–
—আমি সরি জান কিন্তু আমি তোমায় এমন কোলে নিয়ে হাঁটতেই বেশি পছন্দ করছি। আর তুমি তো জানোই আমি ভীষণ স্বার্থপর। নিজের পছন্দ,, চাওয়া পাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেই। তাই তুমি বিরক্ত হলেও আমার কিছু করার নেই।
হানিয়া জাভিয়ানের কথা শুনে রেগে যায়। কি করবে কি করবে ভেবে হঠাৎই খামচে ধরে জাভিয়ানের একটা হাত। মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হচ্ছে,, এতক্ষণ শাওয়ারের নিচে জোর করে দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে তার মাথাও ধরেছে। রাগে দাত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—আর কোলে তুলবেন? একদম খামচে র/ক্তাক্ত করে দিবো।
জাভিয়ান হেঁসে দেয় তার এমন বাচ্চামিতে। সে হানিয়ার পাশে বসে হানিয়াকে নিজের ঊরুর উপর এনে বসায়। মুখের সামনে আসা খুচরো চুলগুলোকে কানের পেছনে গুঁজে দিয়ে মোহনীয় গলায় বলে–
—আঘাতদাতা যদি তুমি হও,,তাহলে আমি তোমার হাতে শহীদ হতেও রাজি বধূয়া।
জাভিয়ানের এমন মায়াময় গলায় বলা কথা শুনে হানিয়া আর রাগ ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু সে যে রেগে নেই সেটাও প্রকাশ করে না। মুখ ভেঙচি দিয়ে বলে–
—ফ্ল্যার্ট করা কেউ আপনার থেকে শিখুক। কীভাবে মেয়ে পটাতে হয় তার ভালোই রপ্ত করেছেন এই কয়েকবছরে।
জাভিয়ান হানিয়ার গলার কাছ থেকে বাথরোবটা সরিয়ে সেখানে মুখ গুঁজে দেয়। শ্বাস টেনে হানিয়া শরীরের মিষ্টি গন্ধটা শুখতে থাকে। নেশা চড়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে তার। নিজেকে কন্ট্রোল করা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। আবার মিশে যেতে মন চাচ্ছে তার হানিয়ার অস্তিত্বের সাথে। কিন্তু এখন সঠিক সময় না। এই মেয়েটা যে শুধু তার একার ভালোবাসার মানুষ না। আরো অনেকেই মেয়েটাকে তার মতোই ভালোবাসে। তার ফিরে আসার অপেক্ষা বিরতিহীন প্রহর গুনছে।
জাভিয়ান হানিয়ার কাঁধে, গলায় ছোট্ট ছোট্ট করে বাইট দিতে দিতে বলে–
—নেশা চড়ে যাচ্ছে হানি। ড্রাগের মতো নেশাক্ত তুমি,,একবার টেস্টের পর ক্রমেই আসক্তিতে পরিণত হচ্ছো।
শব্দসংখ্যা~১৪৫০
~চলবে?