#প্রিয়_প্রত্যয়
#পর্ব১
#রাউফুন
“এসিডে ঝলসানো মুখের মেয়েকে আমার ছেলের ঘাড়ে গছিয়ে দিতে চেয়েছিলেন? ভেবেছিলেন, আমি কিছু বুঝতে পারব না? আপনার মেয়ে পর্দা করে, এটা করে, সেটা করে—অনেক ধার্মিক, এসব ধর্মের নামে, আড়ালে এতো বড়ো একটা লুকিয়ে রেখেছিলেন। আজ বিয়ের আগে দেখলাম, তার মুখটাই ঝলসানো!”
শান্তাহারা বেগমের কঠোর কথাগুলো মুহূর্তে বিয়ের আসরে উপস্থিত সবার মনোযোগ আকর্ষণ করল। হিজাব আর সুসজ্জিত শাড়ি পরা মেয়েটি, বিউটি, হতচকিত হয়ে গেল। হবু শাশুড়ির কথাগুলো কানে যেতেই তার হাত দুটো শাড়ির আঁচল মুঠো করে চেপে ধরল। এই তো লোকটা বলেছিল, তার মা নিজে তাকে পছন্দ করেছেন। তবে কি সেটা মিথ্যা? সে কি শুধু দয়া দেখিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিল? বিয়ের আসর মুহূর্তে হট্টগোলে ভরে গেল।
বিউটির বাবা হাশেম আলী পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করে নরম গলায় বললেন, “দেখুন, বেয়াইন সাহেবা, আমরা জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু…”
কথা শেষ না হতেই শান্তাহারা তাকে থামিয়ে দিলেন। “জানাতেন? কখন? বিয়ের পরে? আমার ছেলের জীবনটা নষ্ট হওয়ার পর?”
“আপনি আমার কথাটা আগে শুনুন, প্লিজ।”
শেরওয়ানী পরিহিত যুবকটি শান্ত ভঙ্গিমায় এগিয়ে এলো। মা শান্তাহারাকে উদ্দেশ্য করে বললো,“মা, উনাদের আমিইই বলতে নিষেধ করেছি! তাই সিনক্রিয়েট করো না। বিয়েটা হতে দাও!”
শান্তাহারা বিস্ফোরিত নয়নে তাকালেন ছেলে মিনহাজের দিকে। রাগে ক্ষোভে চিৎকার বললেন,“তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? ওমন কদাকার দেখতে একটা মেয়েকে বিয়ে করবি? একবার চেহেরাটার দিকে তাকিয়ে দেখ, এসিডে ঝলসে গালের মাংস খসে খসে গেছে। কি বিশ্রি, কি বিশ্রি। আমার বমি আসছে একবার দেখাতেই আর তুই কি না ওর সঙ্গে সারাজীবন থাকার জন্য মরিয়া হয়ে আছিস?”
“মা, প্লিজ এভাবে বলবে না উনাকে, আমার কষ্ট হচ্ছে শুনতে। আমি উনাকে নিজে পছন্দ করেছি। উনি আমাকে বারণ করেছিলেন, অনুরূপ উনি আমাকে বলেছিলেন আমি তাকে দয়া দেখাচ্ছি। কিন্তু সত্যিই আমি দয়া দেখাচ্ছি না!”
“আমি কোনো ভাবেই এই মেয়েকে তোকে বিয়ে করতে দেবো না। এক্ষুনি আমার সঙ্গে যাবি তুই! এই বিয়ে হবে না!”
“আমি বিয়েটা না করে কোথাও যাবো না না, আমি আরনাজকে ভালোবাসি!” মিনহাজ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানাল।
“ভালোবাসা, ভালোবাসা মাই ফুট। আমি কখনোই এই মেয়েকে নিজের পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করবো না।”
রাহেলা মিনহাজের বড়ো বোন, মায়ের দিকে এগিয়ে এসে বললো,“মা, ভাইয়ার পছন্দের কি কোনো মূল্য নেই? এভাবে বিয়ের আসর থেকে চলে যাওয়া কোন সমাধান নয়!”
“খবরদার কোনো কথা তুমি বলবে না। তুমিও একটা ছাপোষা ছেলের হাত ধরে তাকে বিয়ে করেছো, কি ভেবেছো তোমরা ভাই বোনেতে? আমার দাম আজ এতোটাই তুচ্ছ যে তোমাদের বাবা মা-রা যাওয়ার পর আমার কথার কোনো মূল্য নেই।”
মায়ের এমন কথা শুনে রাহেলা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মায়ের একটা কথাতেই মিইয়ে গেলো রাহেলা। মিনহাজ নাছোড়বান্দা। সে ঠিক করে নিয়েছে সে বিয়ে না করে যাবে না। রাহেলার ছেলে সুমন্ত এলো তার কাছে। বললো,“মা, মামার বিয়ে কি হবে না?”
“না হবে না। চল এখান থেকে। এই জন্য আসতে চাইনি আমি এখানে। দুপুয়সার মূল্য নেই আমার এখানে। তোর জন্য আমাকে এতো অপমান সহ্য করতে হলো।”
সুমন্ত অসহায় মুখে বললো,“আমি কি করেছি মা?”
“তোর জেদের জন্যই আমি এই বিয়েটা এটেন্ড করেছি। শুধু মাত্র তোর জন্য আমাকে অপমানিত হতে হলো!”
মিনহাজ এসব ঝামেলা নিতে পারছে না। মিনহাজ মায়ের কোনো কথা না শুনে বিউটির দিকে এগিয়ে আসতে চেয়েছিল, ঠিক তখনই শান্তাহারা বুকে হাত চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। তার চিৎকারে চারদিকে হৈচৈ শুরু হয়ে গেল। শান্তাহারা যখন দেখলেন ছেলের নড়নচড়ন নেই। তিনি এবারে মোক্ষম চালটাই চাললেন। মনে মনে ভাবছিলেন প্রয়োজনে নাটক করবেন। তার পূর্বে দুবার মিনি স্ট্রোক হয়েছে, ডাক্তার বলেছে কোনো ভাবেই যেনো তাকে প্রেসার ক্রিয়েট না করা হয়। সত্যিই তার অল্প ব্যথা করছিলো বুকে। তিনি বুকে হাত চেপে ধরলেন, আর গড়িয়ে পড়লেন মাটিতে। চোখ বন্ধ করে ছেলের চিৎকার শুনে মনে মনে একটু খুশি হলেন। ছেলে তার অসুখের ব্যাপারে খুবই দূর্বল। আর সেই দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ছেলেকে হাতের মুঠোই রাখেন। হৈচৈ বেঁধে গেলো বিয়ে বাড়িতে। এমনিতেই নানান কটু কথা আর কানাঘুঁষা চলছিলো এখন তা হৈচৈ এ পরিনত হলো। মিনহাজ মাকে কোনো রকমে কোলে নিয়ে বিউটিকে উদ্দেশ্য করে বললো,“আমাকে ক্ষমা করবেন আরনাজ! ক্ষমা করবেন!”
মিনহাজ মাকে নিয়ে বেরিয়ে এলো। বিউটি স্তব্ধ হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল বিয়ের আসর থেকে বেরিয়ে যাওয়া মিনহাজকে। হাশেম আলী হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে ধপ করে চেয়ারে নিজের শরীর ছেড়ে দিয়ে বসে পড়লেন৷ বিউটি ছুটে গেলো বাবার কাছে। চেয়ারের হাতল চেপে ধরে বললো,“আমি কি খুব বেশি খাই আব্বু?”
বাবা মেয়ের প্রশ্নের মাঝে দুঃখের সুর পেল। হাশেম আলীর বুকের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। তার করুণ দৃষ্টির মাঝেও অসহায়ত্ব স্পষ্ট।
বিউটি কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আরও কম খাব, দু বেলার জায়গায় এক বেলা আহার করবো। তবু আমাকে আর বিয়ে দিতে চেও না, আব্বু!”
শাহানা বেগম উপর তলায় ছিলেন৷ মেয়ের বিয়ে ভাঙার কানাঘুঁষা শুনে দৌড়ে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। সবকিছু শুনে হতবাক তিনি। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। বিউটির ভাবি সন্দীপ্তা তাকে শান্ত করতে কাঁধে হাত রেখে বলল, “তুমি এভাবে বাবার সঙ্গে কথা বলো না, আরনাজ। সব বাবা চান তাদের মেয়েকে সুখী করতে, ভালো ঘরে বিয়ে দিতে চান। শুধু চারটা ভাত খাওয়ার জন্য কোনো বাবা তার মেয়েকে বিয়ে দেন না। ছোট্ট থেকে আঠারো বছর পর্যন্ত লালন পালন করেন কষ্ট করে, শ্রম দিয়ে সেসব কি একটা বাবা নিজের জন্য করেন? বাবা এমনিতেই ভেঙে পড়েছেন, উপরন্তু এভাবে কথা বলো না। এভাবে একজন খেটে খাওয়া, কষ্ট মর্মাহত পিতাকে কথাঘাতে আঘাত করো না। শুনতে বিদঘুটে লাগছে।”
বিউটি আঘাতে বিহ্বল হয়ে বলল, “সব বাবা চান, কিন্তু সব মেয়ে কি রাজকন্যা? আমার মতো মেয়েদের কপালে যে শুধু দুঃখ লেখা থাকে, তা কি আব্বু জানেন না? আব্বু কেন বুঝতে চান না তাঁর চাঁদের মতো সুন্দরী মেয়েটি আর সুন্দরী নেই। যাকে আব্বু ভালোবেসে বিউটি নামটা দিয়েছিলেন। এখন সে কদাকার, বিশ্রি দেখতে, যাকে দেখলে কেবলই বমি পায় মানুষের! সবার বাবার কন্যারা হয় রাজকন্যা আমার মতো মুখ ঝলসানো নয় যে আব্বু আমাকে নিয়ে এতো আশা করবেন!”
সে দৌড়ে বিয়ের আসর থেকে বেরিয়ে গেল। ঠিক তখনই, সুপ্রিয়, বিউটির জেঠাতো ভাই, হাতে ফুল আর মিষ্টি নিয়ে ঢুকল বাড়িতে। চেয়ারে বিবর্ণ মুখে বসে থাকা হাশেম আলীকে দেখে তার বুক কেঁপে উঠল। লাল বেনারসি পরা বিউটি দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যাচ্ছে—এই দৃশ্য তার চোখে পড়তেই সে থমকে গেল।
সুপ্রিয় তাড়াতাড়ি হাশেম আলীর কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, “চাচা, কী হয়েছে? এভাবে বসে আছেন কেন?”
হাশেম আলী চোখ তুলে তাকালেন। চোখে জল, মুখটা ফ্যাকাসে। তিনি কিছু বলার আগেই সন্দীপ্তা বলল, “সুপ্রিয় ভাই, তুমি একটু দেখো আরনাজ কোথায় গেছে। এই বিয়ে ভেঙে গেছে!”
“বিয়ে ভেঙে গেছে মানে? বিউটি কোথায়?”
“কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেছে!”
সুপ্রিয় চুপ না থেকে দ্রুত বেরিয়ে গেল। সে পেছনের দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে আসতেই দেখল লাল বেনারসি পরা বিউটি ছুটে যাচ্ছে। সে দৌড়ে গিয়ে তাকে থামাল।
“বিউটি থাম! এভাবে কোথাও যাচ্ছিস? কী হয়েছে, আমাকে বল!”
বিউটি চোখ মুছতে মুছতে বলল, “তুমি কেন এসেছো, সুপ্রিয় ভাই? আমাকে সবাই অপমান করেছে। আমার মুখ, আমার শরীর—সবই যেন অভিশাপ। তুমি আর আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করো না। আমাকে নিজের মতো থাকতে দাও।”
সুপ্রিয় তার হাত ধরে বলল, “তুই আমার ছোট বোনের মতো। তোকে এভাবে যেতে দিতে পারি না। যে অপমান তোকে করা হয়েছে, তা আমি মেনে নিতে পারি না।”
বিউটি হঠাৎ করেই রাগে ফেটে পড়ে বলল, “তুমি পারো না? কিন্তু দেখো, আমার নিজের মা-বাবাও তো পারছে না। তারা কিছুই করতে পারল না। আমাকে বারবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আমি আর পারছি না, সুপ্রিয় ভাই!”
সুপ্রিয় তার হাত শক্ত করে ধরে বলল, “তোকে এমন কথা কেউ বলবে না আর। চল, আমার সঙ্গে। আমি আছি, আমি তোর পাশে থাকব। যদি কেউ তোর সঙ্গে অন্যায় করে, আমি সেটা সহ্য করব না। আর আজ তোর হবু শাশুড়ির যে কথাগুলো শুনেছি, তার জবাব আমি দেব। চল।”
বিউটি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল সুপ্রিয়ের দিকে। তার চোখে করুণার ছায়া। সে বলল, “তোমার সাহস আছে, কিন্তু আমার নেই। আমি এসব মেনে নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।”
“তুই ক্লান্ত হতে পারিস, কিন্তু আমি হব না। আমার পরিবারের সঙ্গে কেউ যদি অন্যায় করে, আমি সেটা মেনে নেব না। চল।”
শান্তাহারা বেগম বিছানায় শুয়ে আছেন। মিনহাজ পাশে বসে মাকে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। শান্তাহারা মুখ ঘুরিয়ে বললেন, “তোর জন্যই আমার এই অবস্থা হলো। তুই যদি আমাকে আগেই না বলতি, আমি কখনোই মেয়েকে বিয়ে করাতে যেতাম না। তোর পছন্দ বলেই আমি রাজি হয়েছিলাম ওকে না দেখেও। তোর জন্যই আমি বিয়ের আগে ওকে দেখতে যাইনি, তোর উপর ভরসা করাই আমার উচিত হয়নি। ঐ মেয়ে তোর ধ্বংসের কারণ হতো।”
মিনহাজ চুপচাপ মায়ের কথা শুনে যাচ্ছিল। হঠাৎ বলল, “মা, তুমি কি একবারও ভাবনি, তোমার কথায় আরেকটা মানুষ কতটা কষ্ট পেতে পারে? তুমি কি জান না, আমি আরনাজকে ভালোবাসি?”
“ভালোবাসা আর করুণা এক জিনিস নয়, মিনহাজ। ওর প্রতি তোর দয়া, করুণা হয়েছে, ভালোবাসা নয়। এই করুণা অনেক ক্ষতি করতো।”
মিনহাজ রাগে উঠে দাঁড়াল।
“মা, তোমার এই মানসিকতার জন্যই আমরা সবাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। আমি জানি না, তুমি কেমন মা, যিনি নিজের সন্তানের ভালো দেখতে পারে না।”
এতক্ষণে রাহেলা এগিয়ে এসে বলল, “ভাইয়া, তোমার জায়গায় আমি হলে আমিও এভাবেই বলতাম। মা, তোমাকে বুঝতে হবে যে মিনহাজ একজন প্রাপ্তবয়স্ক। তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে দাও।”
শান্তাহারা কাঁপতে কাঁপতে উঠে বসে বললেন, “তোরা সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে গেছিস, ঠিক আছে, আমি এখনই আমার বাপ ভাইয়ের ভিটে বাড়ি চলে যাচ্ছি। যে সন্তান মায়ের কোনো কথা শোনে না, তার কাছে থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই!”
ঠিক এই সময় সুপ্রিয় বিউটিকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করল। বিউটির চোখ-মুখ লাল হয়ে আছে। সুপ্রিয় গম্ভীর গলায় বলল, “চাচি, আমি কিছু বলতে চাই।”
“তোমার কিছু বলার দরকার নেই ছেলে! তুমি এক্ষুনি এই মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে।”
“না, আজ আমি কথা বলব। আপনি আরেকজনের মেয়েকে যা বলেছেন, তা একজন মায়ের মুখে মানায় না। আপনাকে আমি সম্মান করি, কিন্তু আপনার আচরণ মেনে নিতে পারছি না। বিউটি আমার ছোট বোনের মতো। তার প্রতি আপনার এই অন্যায় আমি সহ্য করব না।”
শান্তাহারা বিস্মিত হয়ে বললেন, “ শোনো বাপু, আমার এতো দয়ার শরীর নয়। তোমার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি, তুমি আমার বাড়ি এসে আমার সঙ্গেই এমন ভাবে কথা বলছো?”
“হ্যাঁ, কারণ সত্যি বলছি। আপনি কি জানেন, আপনার এই রাগ-ক্ষোভের জন্য আপনার ছেলেই বেশি কষ্ট পাচ্ছে?”
মিনহাজ এগিয়ে এসে বলল, “সুপ্রিয় ভাইয়া একদম ঠিক বলছে। মা, আমি যদি এই বিয়ে না করতে পারি, তাহলে আমি জীবনে আর কখনো সুখী হতে পারব না। তুমি আমাকে আমার ভালোবাসা ফিরিয়ে দাও মা।”
শান্তাহারা কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু ভাবলেন। তার ভেতরে দ্বন্দ্ব চলছে। কিন্তু বিউটির কদাকার মুখের আদল মনে পড়তেই তিনি নিজের ক্ষোভ, উগ্রতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেন না। রেগে বললেন,“সুপ্রিয় তুমি হলে এই মেয়েকে কখনোই বিয়ে করতে? এমন বিদঘুটে, কুৎসিত একটা মেয়েকে?”
চলবে।