প্রিয় প্রত্যয় পর্ব-১০

0
34

#প্রিয়_প্রত্যয়
#পর্ব১০
#রাউফুন

গ্রামের চারপাশ সবুজ ধানক্ষেত আর গাছগাছালিতে ঘেরা। মাটির পথ ধরে হাঁটলে পা ধুলোয় মাখা হয়, আর বাতাসে মাটির ঘ্রাণ অনুভব করা যায়। পুকুরের পানিতে কচুরিপানার ভেসে থাকা, বাচ্চাদের দাপাদাপি আর বড়দের জাল নিয়ে মাছ ধরা, সবই যেনো জীবনের সরলতা প্রকাশ করে।
ভোরের কুয়াশা সরিয়ে যখন রোদ মেলে, তখন গ্রামের উঠোনে হাঁস-মুরগি ঘুরে বেড়ায়। গাছের ডালে পাখির কিচিরমিচিরে পরিবেশ সজীব হয়ে ওঠে। সন্ধ্যার সময় যখন সূর্য অস্ত যায়, গাছের ছায়াগুলো লম্বা হয় আর গোয়ালের গরুগুলো ঘরে ফেরে, তখন এক অপূর্ব ধরণের শান্তি ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।
গ্রামে রাতও বিশেষ। শহরের কোলাহলহীন অন্ধকারে ঝাঁক ঝাঁক জোনাকি পোকা জ্বলে ওঠে, আকাশে অসংখ্য তারা দেখা যায়। গ্রামের মানুষের সরল হাসি, শস্যক্ষেতের সরসতা আর পরিবেশের প্রাকৃতিক ছন্দ যেন এক স্বপ্নের দুনিয়া।

বিউটি ঘুম থেকে উঠেই দেখল, জানালা দিয়ে সোনালি রোদ ঢুকে পড়েছে। সে ধীরে ধীরে বিছানা ছাড়ল। সুপ্রিয় ইতিমধ্যেই উঠে গেছে। তাকে বারান্দায় দেখা গেল, হাত-পা প্রসারিত করে গ্রামের মিষ্টি বাতাস নিচ্ছে। তার পড়নে ব্লু চেকের লুঙ্গি, পলো টিশার্ট। প্রথম সুপ্রিয়কে বিউটি লুঙ্গি পড়তে দেখলো।

“তুমি এত সকালে উঠলে আজ? হঠাৎ?” বিউটি জিজ্ঞেস করল।
সুপ্রিয় বলল,
“গ্রামের সকালের মতো সুন্দর কিছু কি শহরে পাওয়া যায়? চল, তুইও তৈরি হ, আজ সকালটা হাঁটতে বের হব।”

বিউটি একটু অবাক হয়ে বলল,
“তুমি কখনো তো সকালে হাঁটতে যাওনি, আজ কেন?”
সুপ্রিয় মৃদু হেসে বলল,
“কারণ আজ তুই আছিস। তোর সাথে গ্রামটাকে নতুন করে দেখতে ইচ্ছা করছে।”
“ঢং করো না সুপ্রিয় ভাই।”
“ঢং করছি না, আগে তো কখনো গ্রামে আসিস নি। দেখবি কেমন অনূভুতি হয়৷ মাটির স্যাদো গন্ধ, নতুন ফসলের গন্ধ, সবকিছুতেই কেমন প্রাকৃতিক একটা গন্ধ, যা হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।”

বিউটি ক্ষীন সংকোচে বললো,“তুমি এটা পড়ে যাবে?”
“কি?”
”এই যে লুঙ্গি!”
“হু তো?”
“না মানে! তুমি তো আগে লুঙ্গি পড়ো নি!”
“গ্রামে আসলে আমি লুঙ্গি পড়ি। লুঙ্গি পড়া যে কতটা আরামের, না পড়লে বোঝা যাই না। প্রত্যেকটা ছেলে জানে লুঙ্গি পড়ার কি মজা!”

বিউটি ঠোঁট চেপে হেসে বললো,“ঘুমের মধ্যে লুঙ্গি ছুটে গেলে?”

“টাইট করে বাঁধা, ছুটবে না!”
সুপ্রিয় গর্ব করে বললো। বিউটির কেমন লজ্জা লজ্জা লাগছে। তবে সুপ্রিয়কে বেশ লাগছে এভাবে। লম্বা চওড়া মানুষ, মেদহীন পেট, পেশিবহুল পুরুষালী হাত। বেশ আকর্ষণীয়। কেন এতো আকর্ষণ লাগছে বিউটির? মানুষ টা এখন তার জন্য বৈধ সেজন্য?
“দাঁড়িয়েই থাকবি? কি ভাবিস তুই? কাল থেকে লক্ষ্য করছি হুটহাট চুপ করে কি যেনো ভাবিস!”
“কিছু না, তুমি থাকো আমি বোরখা পড়ে আসছি!”
“বোরখা পড়তে হবে না। উড়না মাথায় পেচিয়ে নে! গ্রামের লোকজন সহজ সরল, কেউ কারোর দিকে সেভাবে তাকায় না। ওঁদের দৃষ্টিতেও বাজে কিছু নেই।”

বিউটি কথা বাড়ালো না। মাথায় উড়না পেচিয়ে নিলো। রহমান আলী ফজরের নামাজ পড়তে গেছেন। আর রমিসা খাতুন তজবি পাঠে ব্যস্ত৷ তাই সুপ্রিয় বিরক্ত করতে চাইলো না।
সুপ্রিয় আর বিউটি গ্রামের সকালে হাঁটতে বের হলো। সবুজ মাঠ, পাখির ডাকে ভরা প্রকৃতি, আর মিষ্টি রোদে মুখরিত চারপাশ। তারা গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঁটছে। চারপাশে ধানখেত, দূরে সবুজ বন, আর মাঝে মাঝে গরুর গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়া এক-দুজন কৃষকের দেখা মিলল।

সুপ্রিয় বলল,
“এই দেখ, এই গ্রামের মাটির গন্ধটা থেকে মনে হয় না, যেন জীবনের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়?”

বিউটি একমনে চারপাশ দেখছিল। সে বলল,
“হ্যাঁ, এখানে যেন সবকিছু কত সুন্দর। কেমন একটা শান্তি আছে।”

একটা খালের পারে গিয়ে দাঁড়ালো তারা। চারপাশে পাখির ডাকে মূখরিত হয়ে আছে। কয়েকজন জেলে জাল ফেলে মাছ ধরছে। বিউটি ছোটো ছোটো বিষয় গুলোও কি সুন্দর উপভোগ করছে। মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় সবকিছু অবলোকন করছে। অনেকে স্টিলের, মাটির কলস ভর্তি করে পানি নিয়ে যাচ্ছে খাল থেকে। সুপ্রিয় বলল,
“তুই জানিস, ছোটবেলায় আমি এখানে এসে খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতাম? কি সুন্দর ছিলো আমার শৈশব, আমার এখনো মনে হয়, এইতো সেদিনের ঘটনা। সবকিছুই যেনো ঠিক আগের মতোই রয়েছে।”
বিউটি একটু হাসল। সুপ্রিয়কে বেশ প্রাণবন্ত লাগছে। বিউটি সুপ্রিয়র কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে ওর দিকে তাকাচ্ছিলো। সুপ্রিয়র রক্তিম ঠোঁট জোড়া নেড়ে কথা বলা, মাঝে মধ্যে মিষ্টি হাসি দেওয়া। ছোটো বেলার কথা বলার সময় ওর চঞ্চলতা বেশ উপভোগ্য। বিউটির আবারও গলা শুকিয়ে আসার মতো অনুভব হলো৷ কি আছে মানুষ টার ঠোঁটে? কেন তার নজর বার বার আঁটকে যাচ্ছে? সুপ্রিয় বিউটির সামনে হাত নাড়লো। বললো,“কি ভাবিস?”

“আমি সবকিছু দেখে মুগ্ধ হচ্ছি সুপ্রিয় ভাই৷ মনে হচ্ছে এখানেই যদি সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারতাম।”

“দেখলি, মিললো তো? আমি বলেছিলাম না তোর অনেক ভালো লাগবে।”

“সুপ্রিয় ভাই, এমন একটা জায়গায় যদি আমাদের একটা ছোট্ট ঘর হতো? ভালো হতো না? আমি নদীর পানি ভরিয়ে আনতাম কলসিতে করে। বাড়ির সামনে সুন্দর একটা বাগান হতো সবজির৷ তুমি সবজি নিয়ে হাঁটে বেঁচে আসতে। আমি আমাদের সবজি বাগান থেকে সবজি নিয়ে রান্না করতাম, তুমি তৃপ্তি করে খেতে। ব্যাপারটা কতটা নস্টালজিক হতো তাই না সুপ্রিয় ভাই?”

সুপ্রিয়র মাথায় টোকা দিলো। বললো,“অনেক ভেবে ফেলেছিস৷ কতো ভাবিস তুই!”

“তুমি ছোটো বেলায় আর কি কি করতে? আমার শুনতে ভালো লাগছে, বলবে?”
“আমি ছোটো বেলায় কি পরিমাণ দুষ্টু ছিলাম তোর ভাবনার বাহিরে। নানার সঙ্গে হাঁটে যেতাম, বর্শি দিয়ে মাছ ধরতাম বিকেল হলেই৷ ফুটবল, হাডুডু, দাড়িয়া বান্ধা, গোল্লাছুট, বউছি, আরও কত রকমের খেলা, কেউ আমাকে টেক্কা দিতে পারতো না। আবার পাড়ায় ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েদের মার’তাম, খেলায় না নিলে। ঐ যে কেউ আমার সঙ্গে পারতো না বলে আমাকে খেলায় নিতো না। কোনো মেয়ের লম্বা চুল দেখলে ওর চুল সিথির মাঝ খান থেকে লম্ভা করে কামিয়ে দিতাম ব্লেড দিয়ে। কি পরিমাণ অস্বাভাবিক অস্বাভাবিক কাজ কর্ম করেছি ভাবলেও এখন শরীরে কা’টা দিয়ে উঠে। কোথায় হারালো সে শৈশব।”
বিউটি শব্দ করে হেসে ফেললো। সুপ্রিয় ওর হাসির দিকে তাকালো অল্প। এবং তাকিয়েই রইলো। বিউটি বলল,
“তোমার মতো শান্ত মানুষ কিনা ছোটবেলায় এতো দুষ্টু ছিলে? কল্পনাই করা যায়?”

গ্রামের কয়েকজন মহিলা রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে গল্প করছিল। তারা হঠাৎ বিউটিকে দেখে বলল,
“ওটা সুপ্রিয় আর ওর বউ না? কাল যে দেখে এলাম। ওর মুখটা এক পাশে পোড়া, আমরা বলেছিলাম বলে সে কি দাপট দেখালো সুপ্রিয়।”
আরেকজন চাপা গলায় বলল,
“হায় রে ছেলেটা কত সুন্দর। ওর কপালে ভালো, সুন্দরী বউ জুটলো না? বেচারাকে সারাজীবন এই মুখ পুড়ীকে দেখেই কাটিয়ে দিতে হবে রে।”

বিউটি শুনে থমকালো, খানিকটা ভয় পেলো। সুপ্রিয়র যথেষ্ট সুদর্শন, সুপ্রিয় কি সত্যিই সারাজীবন ওর পাশে থাকবে? ভাবতেই কেমন চোখ ঝাপসা হলো। সে পলক ঝাপটে নিজেকে স্বাভাবিক করলো। তার মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাসে হয়ে গেছে তা সুপ্রিয়র নজর এড়াইনি।

সুপ্রিয় বিউটির হাত চেপে ধরলো। বিউটি ওর দিকে তাকালে কিঞ্চিৎ ভ্রুকুটি করে বলল,
”তুই এসব কথায় পাত্তা দিচ্ছিস কেন? তারা তো তোকে ভেতর থেকে জানে না। তোকে একবার কেউ ভেতর থেকে জানলে কেউ এমন ভাবে বলত না।”

বিউটি চোখ নামিয়ে নিলো। বুকের কাছে হাত ভাজ করে সামনে নদীর পানির দিকে দৃষ্টি নিবেশ করে বলল,”সবাই তো ভুল কিছু বলে না সুপ্রিয় ভাই। ইউ ডিজার্ভ বেটার, নো না বেস্ট। আমি তো সত্যিই তোমার সঙ্গে যাই না। আমি তো এসব কথা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি কিন্তু তুমি? তুমি আমার জন্য কত রকমের কথা শুনছো। জানো মাঝে মাঝে খারাপ খুব লাগে মানুষের কথা, কি করবো বলো? আমি তো মানুষ তাই না? একবার, দুবার, তিনবার, ফেলে দেওয়া গেলেও চতুর্থ বার তো খারাপ লাগবেই!”

সুপ্রিয় ওর কাছে এসে আবার ওর বিউটির হাতটা শক্ত করে ধরল। সহাস্যে বললো,

“তুই হইতো ভাবিস আমি তোকে সারাজীবন আগলে রাখতে পারবো না তাই না? কিন্তু বিশ্বাস কর, তুই যেমন আছিস, তেমনটাই বেস্ট। অনেক সুন্দরী মেয়ে আমি দেখেছি যারা সুন্দর হলেও তাদের চরিত্র সুন্দর হয় না। সব সুন্দরীদের কথা বলছি না, অধিকাংশ সুন্দরীকেই দেখা যাই। শুধু সৌন্দর্যই যদি আমার কাছে প্রাধান্য পেতো তবে অনেক গুলো গার্লফ্রেন্ড থাকতো আমার।”
বিউটি সরু চোখে তাকিয়ে বলল,“তুমি একটাও প্রেম করোনি?”
সুপ্রিয় হেসে বলল,“কেন তোর বিশ্বাস হচ্ছে না?”
“উঁহু!”
সুপ্রিয় গোমড়া মুখে অন্য দিকে ফিরলো। বিউটি ঠোঁট কামড়ে হাসলো। বললো,“সাঁকো পাড় করে ওপাশে যাবো। দেখো কি সুন্দর সবুজে ঘেরা সব।”

সুপ্রিয় মুখ গোমড়া করেই খালের উপর দিয়ে বাশের সাঁকোটা পাড় করলো। সে বিউটির হাত ধরে পাড় করালো। ওপারে গিয়ে
সুপ্রিয় একটা পাথর তুলে পানিতে ছুড়ল। ব্যাঙ লাফানোর মতো করে ঢেউ ওঠার দৃশ্য ফুটলো। বিউটি চমকপ্রদ হয়ে সেই দৃশ্য দেখলো। সুপ্রিয় বিউটির খুশি দেখে বলল,
”মানুষের কথা ততক্ষণই তোর ওপর প্রভাব ফেলবে, যতক্ষণ তুই সেটা নিয়ে ভাববি।”

বিউটি একটু চুপ থেকে বলল,
“তাহলে কি আমাকে সব বিষয়েই উদাসীন হতে হবে? কারোর কথা মনে রাখবো না?”
সুপ্রিয় বলল,
“না রে পাগলি, শুধু ভালো কথা মনে রাখবি। যা তোর জন্য উপকারে আসবে, মন খারাপ দূর করবে, ভালো স্মৃতি দেবে, যা আগলে রাখা যায়, আর যা কিছু খারাপ সেগুলো বাতাসে উড়িয়ে দিবি।”
“চলো ফিরে যায়৷ নানু দুশ্চিন্তা করবে।”
“চলো।”

বিউটি বাঁশের সাঁকো পাড় হওয়ার সময় লক্ষ্য করলো অপর পাশ থেকেও একটা যুবক আসছে। তার পড়নেও লুঙ্গি।যেহেতু একটা বাঁশ দিয়ে সাঁকো টা তৈরি সেহেতু একজন করেই যেতে হবে। দুজন এক সঙ্গে যাওয়া আসা করা সম্ভব নয়। অগত্যা বিউটি ফিরে আসতে নিলে সুপ্রিয় হাঁক ছেড়ে বললো,“বিউটি হাঁটতে থাক।”

তারপর অপর পাশের ব্যাক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললো,“আমার বউ আগে পাড়ে যাবে পরে তুই আসবি ব্যাটা!”

বিউটি ঘাড় ঘুরিয়ে সুপ্রিয়কে দেখলো। যে এই মূহুর্তে কোমড়ে হাত দিয়ে হাসছে। বিউটি ফিরে আসতে নিলে সুপ্রিয় গিয়ে সাঁকোর উপর দাঁড়িয়ে পথ রোধ করলো। বললো,“স্বামীর কথা শুনতে হয় বউ!”

সুপ্রিয়র মুখ থেকে বারবার বউ শব্দ টা শুনে যেনো নাজেহাল অবস্থা বিউটির। সুপ্রিয় একটু আগে লোকটাকে তুই সম্বোধন করলো। তবে কি সে চেনে লোকটাকে?

হঠাৎই সাঁকোটা নড়ে উঠলো। বিউটি তাকিয়ে দেখলো অপর পাশের ব্যাক্তিটি দাঁত বের করে হেসে হাত আর পা দিয়ে সাঁকোটা নাড়াচ্ছে। এতে করে বিউটি নিজেও তাল হারাচ্ছে। সুপ্রিয় দাঁত খিটমিট করে বললো,“সা’লা আমার বউ যদি পানিতে পড়েছে তোর যে কি দশা করবো!”
কথাটা শুনে সাঁকো নড়ানো আরও জোড়ালো হলো। ব্যালেন্স হারিয়ে সুপ্রিয় ধপাস করে পানিতে পড়লো। ঘটনাটা এতটাই দ্রুত ঘটেছে যে বিউটি সুপ্রিয়কে ধরতে পারলো না। নিজেকে পড়া থেকে বাঁচাতে শক্ত করে চেপে ধরে ছিলো বাঁশ।

“নুহাইশা, আজকে তোরে পাই শুধু!”

বিউটি সাঁকো থেকে নেমে এলো। নুহাশ হেঁটে এপাশে এলো। খিলখিল করে হেসে বললো,“কি কেমন দিলাম? কথা ছিলো বিয়ের দাওয়াত দিবি, কিন্তু একা একা বিয়ে করে বসে আছিস! এটা তোর শাস্তি!”

বিউটি তাজ্জব বনে খানিক দাঁড়িয়ে থেকে বললো,“উঠে এসো সুপ্রিয় ভাই! ঠান্ডা লাগবে তো!”
“উঠতে পারবো না!”
“ওমা কেন?”
“বলা যাবে না!”
“বলবে তুমি?”
সুপ্রিয় কটমট করে তাকিয়ে বললো,“অন্ধ তুই? দেখিস না আমার লুঙ্গি বাঁশের কঞ্চিতে আঁটকে আছে! পারলে ওটা দে!”

নুহাশ বিউটির পাশে দাঁড়িয়ে হো হো করে হেসে যাচ্ছে। বিউটি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে একবার ঝুলে থাকা লুঙ্গি তো আরেকবার সুপ্রিয়র দিকে তাকচ্ছে!

#চলবে