প্রিয় প্রত্যয় পর্ব-১৬

0
37

#প্রিয়_প্রত্যয়
#পর্ব১৬
#রাউফুন

পথের দু’ধারে ভোরের আলো যেন রঙ তুলির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। আকাশের গায়ে লেগে থাকা গোলাপি আভা আস্তে আস্তে মিশে যাচ্ছে রোদ্রের সোনালি রেখায়। বাতাসে ভেসে আসছে কুঁচো ফুলের মিষ্টি গন্ধ। খাওয়া দাওয়া শেষে সকাল দশটা নাগাদ দুজনে বের হয়েছে। সুপ্রিয় আর বিউটি গাড়ির জানালা খোলা রেখে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছে। সুপ্রিয় স্টিয়ারিং ধরে গাড়ি চালাচ্ছে আর বিউটি পাশে বসে চুপচাপ বাইরে তাকিয়ে।

বিউটি পড়েছে সাদা-গোলাপি কম্বিনেশনের একটি সালোয়ার-কামিজ। বাড়িতে তাকে ঐ অবস্থায় দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলো সুপ্রিয়। বাইরে বের হওয়ার আগে কালো বোরখা পড়েছে। নিকাবের এক অংশ হালকা বাতাসে উড়ছে। সুপ্রিয় পরেছে নেভি ব্লু কালারের ক্যাজুয়াল শার্ট আর ব্ল্যাক ট্রাউজার। চোখে কালো সানগ্লাস, আর সিগনেচার হালকা দাড়ি। সুপ্রিয়কে ক্যাজুয়াল ড্রেসেও কি সুদর্শন লাগছে। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থেকে বিউটি মনে মনে ভাবছে, “আমার স্বামীটা এত সুন্দর কেন!”

সুপ্রিয় স্টিয়ারিং এ হাত রেখেই বললো,“এভাবে দেখিস না, আমার গাড়ি চালানোই কনসেনট্রেশান করতে প্রব্লেম হচ্ছে।”

“তুমি তো গাড়ি চালাচ্ছো, আমি যে তাকিয়ে আছি বুঝলে কি করে?”

“কোনো একজন মানুষ যদি অপর একজন মানুষের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে তবে সে ব্যাক্তি এমনি বুঝতে পারে।”

বিউটি সুপ্রিয়র দিকে তাকিয়ে হেসে বললো,“আচ্ছা, গাড়ি চালানোর সময় তোমায় ওমন মুডি লাগে কেন? অন্য কোনো দিকে নজর নেই তোমার।”

সুপ্রিয় একগাল হেসে উত্তর দিলো, “তাহলে কি মানুষ গাড়ি নিয়ে রাস্তায় খেলা দেখাতে আসে? চল খেলা দেখায়, দেখাবো?”

“কিসের খেলা?”

“প্রেম প্রেম খেলা, দেখবি?” সুপ্রিয়র চোখ মুখে দুষ্টুমি।

সুপ্রিয়র এহেন কথায় বিউটির কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হলো। পরক্ষণেই সুপ্রিয়কে চমকে দিতে নিকাব খুলে মুখটা বের করলো। সুপ্রিয় লক্ষ করলো ওর নিকাব উঠানোর ব্যাপার টা। গাড়ি চালানোই মনোযোগী হয়ে বললো,

”কি হলো, গরম লাগছে? নিকাব খুললি যে? খারাপ লাগছে? পানি খাবি?”

বিউটি ভ্রুকুটি করে তাকালো সুপ্রিয়র দিকে। চোখ সরু করে বললো,“নাটক করো না তো!”

সুপ্রিয় ভ্রু কুঁচকে বলে, “কিসের নাটক করলাম? তুই কি রেগে যাচ্ছিস নাকি?”

“নাহ।” বিউটি নিকাবে মুখ ঢাকতে ঢাকতে বললো।

“কথা শুনে তো মনে হলো রেগে গেছিস। দেখ, আমি মানুষ টা নিতান্তই বোরিং, আমার মধ্যে কোনো ফ্যান্টাসি কাজ করে না, তেমন রোমান্টিসিজমও আমার মাঝে নেই। মাঝে মধ্যে এমন হয়—আমি নিজেই নিজের উপর বিরক্ত হয়ে যায়। তোর বিরক্তি আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়!”

“মোটেই আমি বিরক্ত না।”

“তাহলে মুখ গোমড়া কেন?”

“এতো কিছু খেয়াল করো আর এটা খেয়াল করোনি কেন?”

“কি হয়েছে বলবি?”

আসলে বিউটি নিকাব সরিয়েছিলো নিজেকে অল্প একটু সাজানোর কারণে। বহুদিন পর নিজেকে সাজাতে ইচ্ছে হয়েছিলো ওর। ও সুপ্রিয়র জন্য প্রথমবারের মতো লিপস্টিক পড়েছে। অথচ সুপ্রিয় একবারও নোটিস করেনি। বিউটি চুপচাপ বসে রইলো। প্রয়োজন ব্যতীত আর একটি বাক্যও খরচ করলো না ও।

শহরের বড় শপিং মলে পৌঁছালে সুপ্রিয় গাড়ি পার্ক করে। দু’জন একসঙ্গে হাত ধরে শপিং করতে শুরু করলো। বিউটি যত্ন নিয়ে শাড়ি দেখছে, সুপ্রিয় তার পাশে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।

“তোমার জন্য কী কিনব?” সুপ্রিয়কে জিজ্ঞেস করলো বিউটি।

“আমি কিছু কিনবো না। তোর যা যা প্রয়োজন কিনে ফেল।”

সুপ্রিয় বারণ করলেও বিউটি জোরপূর্বক একটা সুন্দর পাঞ্জাবি কিনে ফেললো। সাদা পাঞ্জাবিতে সুতার কাজ, কি নিখুঁত সে কাজ। বিউটির পাঞ্জাবী টা এতো মনে ধরেছে সে সঙ্গে সঙ্গে সুপ্রিয়কে ট্রায়াল দিতে পাঠালো। সুপ্রিয় ওর সঙ্গে না পেরে উঠে বাধ্য হয়ে পাঞ্জাবী টা পড়ে এলো। বিউটি আবারও মুগ্ধ হলো। পাঞ্জাবীর মসৃণ কাপড় আর সূক্ষ্ম কারুকাজ তার গায়ের রঙকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। গলায় ছোটো বোতামগুলো এমন নিখুঁতভাবে বসানো ছিল যে পুরো পাঞ্জাবীটি যেন তার দেহের সঙ্গে মিশে গেছে। হাতার প্রান্তে সূক্ষ্ম ধরণের এমব্রয়ডারির কাজ করা, যা একদিকে সাদামাটা, আবার অন্যদিকে অভিজাততার প্রকাশ।
সাদা পাঞ্জাবীতে একধরনের স্নিগ্ধতা ফুটে উঠেছে মানুষটার মুখে। পাঞ্জাবীর ফিটিং ছিল এত নিখুঁত যে, তার প্রশস্ত কাঁধ ও লম্বা শরীর যেন আরও দৃঢ় হয়ে ফুটে উঠেছে। পাঞ্জাবীর বুকে হালকা করে ফোলা এক পকেটে রাখা ছিল একটা সাদা রুমাল।
সুপ্রিয় যখন তার দিকে এগিয়ে আসছে, তখন মনে হলো যেন চাঁদের আলো জমে একজন মানুষ হয়ে তার সামনে দাঁড়িয়েছে। তার পায়ের মাপা চলাফেরা, ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি, আর চোখের চাউনিতে এমন একধরনের আভিজাত্য। বিউটি তাকে দেখে মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো। এক মূহুর্তের জন্য ওর মনে হলো সাদা রঙটি যেন এই মানুষটার জন্যই তৈরি।

শপিং করতে করতে হঠাৎ বিউটির চোখ পড়ে নুহাশ আর মারিয়ামের দিকে। ওরা দু’জনও এখানে এসেছে কেনাকাটা করতে। সুপ্রিয় নুহাশকে দেখে হাত নেড়ে কাছে এলো। সুপ্রিয় প্রশ্ন করলো,

“আরে, নুহাশ, তুই এখানে?”

“ঐ ফকিন্নি কে শপিং করাতে এনেছি।”

সঙ্গে সঙ্গে মারিয়াম ধাম করে লাগালো নুহাশের পিঠে। ওরা সব সময় খুনসুটি করতে থাকে। নুহাশ মারিয়ামের চাইতে গুনে গুনে দশ বছর এর বড়ো, অথচ দুজনের সব সময় এমন একে অপরের সঙ্গে লেগে আছে। মারিয়াম বললো,“ ফকিরের বোন তো ফকিন্নিই হবো তাই না?”

“চুপ থাক খয়রাতি!”

“ভাইয়া, বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু! আর একটা ফকিন্নি বললে আমি কিন্তু পুরো শপিং টাই তুলে নেবো, তখন দেখবো কে পথের ফকির হয়!”

“মাফ চাই বোইন, এমনি তুই আমার পকেট ফাকা করেছিস!”

বিউটি দুই ভাই বোনের ঝগড়া দেখে মিটিমিটি হাসছে৷ ওর ভাইয়ের সঙ্গেও তো এভাবে কতো খুনসুটি হতো। ভাইটার চাকরির পর সেসব সোনালি দিন গুলো শুধুই অতীত। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো অজান্তেই।

“কি ভাবছেন ভাবি? কই হারালেন?”

“কিছু না, ভাইয়া। আসলে আপনাদের দেখে আমার ভাইয়ার কথা মনে পড়লো৷”

মারিয়াম বিউটির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে বললো, “আপনার সঙ্গে আমার আলাপ হয়নি। তবে ভাইয়ার থেকে শুনেছি আপনার কথা অনেক!”
“আজ তবে জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাক, সাথে সম্পর্কটাও জোড়ালো হবে।”

বিউটি হেসে বললো। বিনিময়ে মারিয়ামও হাসলো। প্রথম দিকে মারিয়াম বিউটিকে অপছন্দ করলেও নুহাশের কাছ থেকে ওর জীবন বৃত্তান্ত শোনার পর ওর ভীষণ খারাপ লেগেছে। সেই খারাপ লাগা থেকেই আজ ভালো করে কথা বলছে।

সবাই মিলে শপিং শেষ করে কাছের একটি রেস্টুরেন্টে গেল। সেখানে টেবিলের পাশে বসে গল্প করতে করতে খাবার অর্ডার করলো। পরিবেশ ছিল আরামদায়ক, রেস্টুরেন্টে হালকা জ্যাজ মিউজিক বাজছিলো।

একটু পরেই রেস্টুরেন্টের প্রবেশপথে দেখা গেল মিনহাজকে। তার পরনে একটি স্লেটি রঙের স্যুট। চোখেমুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ। প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে মারাত্মক রকমের আকর্ষণীয় লাগছিলো। এমন সুদর্শন পুরুষকে দেখলে, কোনো মেয়েই প্রথমবার তাকিয়ে চোখ ফেরাতে পারবে না। খাবার মুখে দেওয়ার সময় মারিয়ামেরও চোখ ঠিক ওখানেই আটকালো। মিনহাজও তাকে দেখেছে। তার পাশে বসা বিউটির দিকেও চোখ পড়লো তার। থেমে গেলো পা, থমকে গেল সবকিছুই। তার চোখে যেন হতাশার ছায়া। সে বেরিয়ে আসার আগে মারিয়াম মিনহাজকে ডাকলো, “আরে স্যার, কোথায় যাচ্ছেন? আসুন না!”

সবাই তাকালো সেদিকে। সুপ্রিয়র মুখটা অজান্তেই গম্ভীর হয়ে গেলো। ওর কেন যেনো মিনহাজকে সহ্য হয় না। হওয়ার কথাও না, যতোই হোক এই লোকটার সঙ্গে তো বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো বিউটির। আচ্ছা, বিউটি কি মিনহাজের উপর দূর্বল? মিনহাজের মতো সুদর্শন একজন যুবকের সঙ্গে একদিন থাকলেও মুগ্ধতা ছেয়ে যাবে। প্রেমেও পড়বে নিশ্চিত ভাবে। জেলাস হয়ে সুপ্রিয় উঠতে নিলে নিচ থেকে বিউটি তার হাত চেপে ধরলো।

মারিয়ামের ডাক শুনে চেয়েও ওদের উপেক্ষা করে বাইরে যেতে পারলো না মিনহাজ। এগিয়ে এসে ওদের টেবিলের ই একটা চেয়ারে বসে পড়লো।
নুহাশ প্রশ্ন করলো,“স্যার আপনি এখানে?”

“এমনি এসেছিলাম!” মিনমিন করে জবাব দিলো। ভুলের তাকালো না বিউটি আর সুপ্রিয়র দিকে। মারিয়াম মিনহাজের অস্বস্তি টের পেলো। সে বললো,“স্যার, আপনি কি খাবেন? বলুন। অর্ডার দিয়ে দিচ্ছি। আপনার প্রিয় খাবার কি স্যার? বলুন সেটাই অর্ডার করে দিচ্ছি!”

“খাবো না!”

“জ্বী স্যার?”

“আমি কিছু খেতে আসিনি। একটা ক্লায়েন্ট আসবে তার সঙ্গে দেখা করতেই এখানে আসা!”

তারপর বিউটির দিকে এক পল তাকালো। শুধালো,“ভালো আছেন আরনাজ?”

মিনহাজের এই প্রশ্ন করার ব্যাপারটা সুপ্রিয়র সহ্য হচ্ছে না কোনো ভাবেই। বিউটি শুষ্ক ঢোক গিলে বললো,“ভালো আছি, আপনি ভালো আছেন?”

মিনহাজ কোনো রকমে মাথা নাড়লো। মারিয়াম ওঁদের অল্প আলাপ লক্ষ্য করলো। নুহাশ গলধঃকরণ করায় ব্যস্ত। খেতে খেতে বললো,“ছুটি টা ভালো ভাবে কাটাতে চেয়েছিলাম বুঝলেন বস? কিন্তু এমন বিচুটিপাতার মতো একটা বোন থাকলে জীবনে শান্তি নামক জিনিস কি সেটা ভুলে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।”

“ভাইয়া, সব সময় পচাবি না তো। আমি কিন্তু এখন আর ছোটো নেই।”

মিনহাজ নুহাশের কথা শুনেও নিশ্চুপ রইলো। ওর এখানে একদমই ভালো লাগছে না। কেমন যেনো দমবন্ধ লাগছে ওর। মারিয়াম বুঝতে পারলো, মিনহাজের হইতো কোনো সমস্যা হচ্ছে। প্রশ্ন করলো,“স্যার, কোনো সমস্যা হচ্ছে? পানি খাবেন? ঢেলে দেয় গ্লাসে?”

“আপনি কি একটু চুপ থাকতে পারেন না?”

বিউটি ওদের মধ্যেকার কথা বলা লক্ষ্য করলো। মারিয়ামের হাবভাবে বুঝলো ও বোধহয় মিনহাজের প্রতি দূর্বল। মনে মনে অল্প খুশিও হলো এটা ভেবে যে মিনহাজ যদি কোনো ভাবে মারিয়ামের সঙ্গে ঘর বাঁধে, ব্যাপারটা মন্দ হবে না। মিনহাজ বেশি বসলো না। টুকটাক কথা বলে উঠে চলে এলো বাইরে। নুহাশ হাত ধুতে চলে গেলো। পিছু পিছু সুপ্রিয়ও ওয়াশরুমে যাবে বলে উঠলো। রইলো মারিয়াম আর বিউটি।

“ভাবি, একটা কথা বলবো?” মারিয়াম জিজ্ঞেস করলো।

“হ্যাঁ বলো।”

হঠাৎই প্রশ্নে বিউটি কিঞ্চিৎ অবাক হয়ে তাকালো মারিয়ামের দিকে। মারিয়াম শুষ্ক ওষ্ঠ ভিজিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে বললো,

“আমার মনে হয়, আমি মিনহাজ স্যারকে পছন্দ করি, না মানে ব্যাপারটা শুধু পছন্দে আঁটকে নেই।

“ভালোবাসো তাকে তাই তো?”

বিউটি অধর চৌড়া হলো। ও হাসছে। ভেতর থেকে আলাদা একটা প্রশান্তি কাজ করছে ওর। মারিয়াম ইতস্তত করে বললো,

“কিন্তু তিনি..” মারিয়াম থেমে গেল।

“কিন্তু তিনি কী?” বিউটি সজাগ হয়ে বললো।

“তিনি আপনাকে পছন্দ করেন, তাই না?” মারিয়াম বিষণ্ণভাবে বললো।

বিউটি বিস্ময়ে থেমে গেল। তারপর বললো, “তুমি যা ভাবছো তা ঠিক নয়, মিনহাজ হয়তো একসময় আমাকে পছন্দ করতো কিংবা হইতো এখনো করে, কিন্তু তার সেই অনুভূতি থাকলেও আমি শুরু থেকেই কখনোই তার প্রতি আলাদা টান অনুভব করিনি। এখন আমি বিবাহিত, আমি আমার স্বামীকে যথেষ্ট ভালোবাসি। মিনহাজ ভীষণ ভালো মানুষ, তুমি যদি তাকে ভালোবাসো, তবে তার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলো। তুমি সুখী হবে।”

মারিয়াম বিউটির হাত চেপে ধরলো হুট করেই।
বিউটি একটু ভড়কালো। মারিয়াম বললো,“ভাবি, আপনিই পারবেন আমাকে সাহায্য করতে।”

“কি সাহায্য?”

“আমার বিশ্বাস, মিনহাজ স্যারকে যদি আপনি বলেন তিনি কখনোই আপনার কথা ফেলবেন না। আপনি প্লিজ, আমার হয়ে তাকে একটু সবকিছু কনফেস করবেন? প্লিজ!”

মারিয়াম এমন ভাবে ওর হাত ধরে অনুরোধ করছিলো যে বিউটি মানা করতে পারলো না। ওকে আশ্বাস দিয়ে বললো,“আমি বলবো তোমার ব্যাপারটা। কথা দিচ্ছি!”

বিউটির কথা শুনে খানিকটা ভরসা পেলো, কিন্তু মিনহাজের মন জয় করার পথ যে সহজ নয়, সেটা সে জানে। মানুষটার মন পাবে তো সে? ওকে কি কোনো দিন ভালোবাসবে?

#চলবে