#প্রিয়_প্রত্যয়
#পর্ব১৭
#রাউফুন
মারিমাম আর মিনহাজ মুখোমুখি বসে আছে। চারপাশে যেন নিস্তব্ধতার একটা আবরণ পড়েছে। মারিয়ামের বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ এত জোরে হচ্ছে যে, ওর মনে হলো সেটা বুঝি সারা রেস্টুরেন্টে ছড়িয়ে পড়বে। মিনহাজ চুপচাপ। তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, চোখে একরাশ বিষণ্নতা। মারিয়াম অস্বস্তি বোধ হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে ভয়ে শ্বাস আঁটকে আসছে। ও কিছুটা আচ্ করতে পারছে মিনহাজ কেন তাকে ডেকেছে৷ মিনহাজের মতো মানুষ যে ওকে শুধু শুধু ডাকবে না তা সে জানে বৈকি। নিজের অস্বস্তিকে দূরে ঠেলে শুষ্ক ওষ্ঠ ভিজিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করলো। আলতো আশ্লেষ ভরা কন্ঠে শুধালো,“চুপ করে আছেন যে? স্যার, আমি….”
“আপনি আরনাজ কে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেন কোন সাহসে?”
মিনহাজের বজ্র কন্ঠে খানিক কেঁপে উঠলো মারিয়াম। যেন মাথায় বজ্রপাত হলো। সে মিনহাজের কথার অর্থটা মনে মনে যাচাই করার চেষ্টা করল। কিন্তু তার বুকের মধ্যে কেমন যেন শূন্যতা নেমে এলো। আত্মা কেঁপে উঠলো মারিয়ামের। সে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছে বিউটিকে? হ্যাঁ সে একটু বলেছিলো তার হয়ে যেনো একটু কথা বলে। তার মানে তো এটা নয় যে একজন মানুষকে সে টোপ হিসেবে ব্যবহার করবে।
মিনহাজ গমগমে আওয়াজে আবারও বললো,“আপনার কি মনে হয়, আমার দূর্বলতাকে ব্যবহার করে আমাকে পেয়ে যাবেন? মিনহাজকে কি স্বস্তা লাগে এতোটাই? আপনার কি মনে হয়, আমি আপনার রোজ রোজ আমার অফিসে গিয়ে ঢুঁ মা’রার ব্যাপারটা ধরতে পারি নি? শুনুন, আমি একজন মানুষের চোখ দেখেই মাইন্ড রীড করতে পারি৷ সেখানে আপনি তো প্রায়….এনি ওয়ে আমি সেদিকে যাচ্ছি না। কিছু ধ্রুব সত্যি আপনাকে জানানো জরুরি। আপনি হইতো ভাবেন আমার জীবনটা খুব সহজ, চাকচিক্যময়। কিন্তু ভেতরের খবর কেউ-ই জানে না। ভেতর টা আমার ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেঁয়ে আছে। তাই আমি নিজেকে শাস্তি দিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি জীবনে কখনোই বিয়ে করবো না। আজীবন অবিবাহিত হয়েই কাটিয়ে দেবো।”
মারিয়াম বাকরুদ্ধ। মিনহাজের প্রতিটি শব্দ যেন তাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। তার গলার স্বর আরও চাপা হয়ে গেল। সঙ্গে ভেতরে বয়ে চলে এক তুমুল ঝড়। কোনো রকমে উচ্চারণ করে,“কিসের জন্য এই শাস্তি? কি করেছেন আপনি?”
যে কথাটা মিনহাজ কাউকে কখনোই বলেনি, আজ সে কথাটা তাকে বলতে হবে। মারিয়ামের ভেতরটা তোলপাড় শুরু হয়েছে। মিনহাজের গভীর চোখের দিকে তাকাল সে। তার চোখে যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট। মিনহাজ কথা বলতে শুরু করল, যেন তার ভেতরের সমস্ত ভার লাঘব করতে চায়। একটা লম্বা শ্বাস টেনে বললো,“আজ আরনাজের যে অবস্থা সেটা সম্পুর্ন আমার জন্য৷”
বিস্ফোরণ হলো কি মারিয়ামের হৃদয়ে? চমকে উঠে সে। অজানা কারণে শরীর কেঁপে উঠলো। কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,“মানে? কি যা তা বলছেন আপনি? এটা হতে পারে না!”
“এটাই সত্যি। আমার ইচ্ছে ছিলো অনেক বড়ো সাইন্টিস্ট হবো। আমি সবার ভালো করবো, আমার জন্য সবার ভালো হবে, সবাই আমাকে ভালোবাসবে দেশের উন্নতি করার অদম্য উচ্ছাস, মনোবল নিয়ে আমি দিনরাত এক করে স্ট্রাগল করেছি। কিন্তু সেই দিনের করা অনিচ্ছাকৃত একটা ভুলে একটা মেয়ের জীবন ধুলোয় লুটালো। আমি জীবনে কখনোই সেজন্য নিজেকে ক্ষমা করিনি। আমার জীবনের প্যাশন ছিলো সাইন্টিস্ট হওয়া, আর সেটাকে আমি আমার জীবনে জায়গা দিইনি৷ অপরাধ বোধে দগ্ধ হচ্ছিলাম। সেদিন ল্যাবে দূর্ঘটনা ঘটার পর ভয়ে ভীড়ের মধ্যে আমি হারিয়ে যাই। তারপর, তারপর আমি নিজেকে রুম বন্দি করে ফেলি। আমার কারণে তার ধ্বংস, তার জীবনটা নরকে পরিণত হয়েছে। আমার অপরাধ… আমি কখনোই নিজেকে ক্ষমা করিনি। কখনোই আর ল্যাবে যাইনি৷ আমি দেখেছিলাম আমার সামনে একটা মেয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিলো, গগন বিদারী চিৎকার, আমার হৃদয়ে আজও বাড়ি খায়। আমি সহ্য করতে পারি না৷ ল্যাবের একটা দূর্ঘটনা। একটা মেয়ের জীবন শেষ হয়ে গেল। তার চিৎকার, তার যন্ত্রণা… আমি আজও ভুলতে পারি না৷ সদ্য কলেজে ভর্তি হওয়া মেয়ে, তাই হইতো আমাদের ডিপার্টমেন্ট ঘুরতে গেছিলো, তাছাড়া সে নিজেও সাইন্সের স্টুডেন্ট, তাই জানি না এক্সাক্টলি কেন সে ওখানে গেছিলো। আমি এক বছর ট্রমাটাইজ ছিলাম। পরবর্তীতে অনেক কষ্টে সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েটাকে খুঁজে বের করে বিয়ে করবো। ওর সঙ্গে যা হয়েছে তা কেবলই আমার জন্য। আমি জানি একটা এসিড দগ্ধ মেয়ের উপর দিয়ে কি রকম ঝড় বয়ে যায়। কত কিছু সহ্য করতে হয় তা আমি জানি। আমি প্রায় বছর খানেক পর আমার ইউনিভার্সিটিতে যায়। সেখানে গিয়ে আরনাজের সকল প্রকার তথ্য পাই। যেহেতু সে ওখানকার স্টুডেন্ট ছিলো। তাই তকে খুঁজে বের করতে আমার অসুবিধা হয়নি। জানতে পারি, এক বছর সে পড়েনি। এক বছর পর আরনাজ আবার পড়াশোনা করছে। এক বছর ঐ মেয়েটা নিজের সঙ্গে লড়েছে, সমাজের সঙ্গে লড়েছে। অনেক স্ট্রং মেয়েটা। তাকে আমি কখনোই করুণা করে বিয়ে করতে চাইনি। চেয়েছিলাম তাকে ভালোবেসে মনের রানী করে রাখতে কিন্তু মেয়েটাকে আমার হতে দিলো না। বাধা হলো স্বয়ং আমার জন্মদাত্রী মা। আমি প্রায় পাগল হয়ে যায়৷ এরপর অনেক ভেঙে পড়ি। তারপর আপনাদের গ্রামে যাই। ওখানে যাওয়াটাও আমার অনিচ্ছায়। সেখানেও শান্তি পেলাম না, শুনলাম আরনাজের বিয়ে হয়ে গেছে। সহ্য হলো না আমার। মিনি হার্ট অ্যাটাক হলো। দেখুন, আমি জানি আপনি আমাকে পছন্দ করেন, বোধহয় ভালোবাসা অব্দি এগিয়েছেন। কিন্তু সত্যিই আমার আর সম্ভব নয় এগোনো। ক্ষমা করবেন।”
এক শ্বাসে এলোমেলো ভাবে কথা গুলো বলে উঠে দাঁড়ালো মিনহাজ। মারিয়াম চোখ মুছলো। পেছন থেকে বললো,“আপনি তাকে ভালোবেসে নয়, আপনি অপরাধবোধে বিদ্ধ হয়ে তাকে জীবন সঙ্গী করতে চেয়েছিলেন। কারণ একটায়, আপনার জন্য একটা মেয়ের জীবন ধূলিসাৎ হয়ে গেছিলো। আর সেই অপরাধবোধ থেকে প্রায়েশ্চিত্ত করতেই তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। মূলত এটাকে ভালোবাসা বলে না। নিজের ভেতরের অপরাধ বোধ যেনো একটু লাঘব হয় সেজন্য আপনি বিউটি ভাবিকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। প্রতি রাতে যে নির্ঘুম রাত্রী যাপন করতেন, হইতো এখনো করেন,প্রতি রাতে অশান্ত, অস্থির হয়ে যান, সেই অস্থিরতা কমিয়ে একটু শান্তি পেতে আপনি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। শুধু মাত্র আপনার ভেতরে শান্তির জন্য। নিজের আত্মিক শান্তির কথা ভেবেই আপনি এগিয়েছিলেন, অ্যাম আই রাইট মিস্টার মিনহাজ? এটা কে আপনি কি বলবেন? স্বার্থপরতা নয় কি?”
মিনহাজ থমকে দাঁড়ালো। কি বলছে এ মেয়েটা? মাথা ঠিক আছে? ক্রোধ হলো ওর। মিনহাজের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। চোখে আগুনের মতো জ্বলে উঠল। মারিয়ামের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো। ক্রোধ সংবরণ করে বললো,“নো, আপনি ভুল। আপনি শুধু এক দিক শুনেছেন। অন্য দিক অজানা আপনার। তার সঙ্গে আমার পুরো তিন বছরের বন্ধুত্ব ছিলো। প্রথমে আমি তাকে নিজের অপরাধবোধ কমাতে বিয়ে করতে চাইলেও তার সরলতা, তার পবিত্রতা, শুদ্ধতা তার আমার প্রতি সম্মান, এই সবকিছুই তার দিকে টানছিলো। আমি না চাইতেও মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলি। অনেক কষ্টে আমি তার বিশ্বাস অর্জন করি, তাকে খুশি করার প্রয়াস চালাতাম প্রতিনিয়ত, সেও আমার আবদারে, বন্ধুত্বের খাতিরে এটা সেটা রান্না করে আনতো। আমি মুগ্ধ হতাম তার রান্না খেয়ে। তার প্রত্যেক কাজে আমি মুগ্ধ হতাম। ভেতরে ভেতরে আমি ঠিকই পুড়তাম। তাকে আমি ভয়াবহ রকমের সত্যিটা বলতে পারিনি কখনোই, পাছে যদি আমাকে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দেয়। সে এক ভয়ংকর রকমের ভালোবাসা তার প্রতি, আপনি ধারণা করতেও পারবেন না। আর আরনাজের প্রতি আমার অনুভূতি টা ঠিক কি রকম সেটা আপনাকে বোঝাতেও চাইছি না। আমি জানি আমি কি অনুভব করি আরনাজের জন্য।”
মারিয়াম নিজের চোখ মুছে নিঃশব্দে। রোধ হয়ে আসা কন্ঠে বলল, “আপনার ভালোবাসা হয়তো সঠিক। কিন্তু সেটা আমার জন্য নয় ভাবতেই দমবন্ধ হয়ে আসছে। নিজের জায়গায় আপনি ঠিক। আর আমার অনুভূতির জায়গায় আমি ঠিক। চেয়েও নিজেকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে পারছি না। দেখুন, বিউটি ভাবি ভালো আছে। সুপ্রিয় ভাই তাকে ভালো রেখেছেন। সেদিনের যে ভুল এর জন্য নিজেকে এতো বড় শাস্তি দিতে চাইছেন তা কেবলই ছেলেমানুষী লাগছে। কারণ টা কাজটা আপনি ইচ্ছাকৃত করেন নি, কেবলই একটা দূর্ঘটনা। যার শাস্তি আপনি পেয়েছেন। নিজের বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন টা জলাঞ্জলি দিয়েছেন। এটাই কি যথেষ্ট নয়? দেখুন, কপালে যার দুর্ভোগ লেখা থাকে তা কেউ খন্ডাতে পারে না, এক মাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া। সেদিন আপনার হাত থেকে এ’সি’ড না পড়লেও হইতো অন্য কোনো ভাবে তার সঙ্গে এই ঘটনা ঘটতো৷ যাই হোক, আমি কখনোই বিউটি ভাবির জায়গা নেবো না। আপনি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না। আপনার মন গহীনে একটু জায়গা পেলেই আমি থেকে যাবো, আজীবন থেকে যাবো। আপনাকে আজীবন বেঁধে রাখার জন্য আমার একার ভালোবাসা যথেষ্ট। ”
মিনহাজ তার কথায় কিছু বলতে পারল না। মুখ ফিরিয়ে রেস্টুরেন্টের দরজা খুলে বাইরে চলে গেল। মনের গভীরে কোথাও যেন একটা বন্ধ দরজার শব্দ শুনতে পেল মারিয়াম। ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো।
মিনহাজ গাড়িতে বসে দু চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করার বৃথা চেষ্টা চালালো। একবার আরনাজের মুখোমুখি হওয়া জরুরি। সে এতোদিনের আড়াল করা সত্যিটা জানাবে তাকে। এতে যা হওয়ার হবে।
•
বিউটির শরীরটা ম্যাজ ম্যাজ করছে। এক বিন্দু শক্তিও যেন অবশিষ্ট নেই। সুপ্রিয় এখনও অফিস থেকে ফেরেনি। নিজের দুর্বল শরীরটা আর টেনে তুলতে পারলো না। পেটব্যথা, শরীরে অসহ্য ব্যথা আর জ্বরে কাহিল হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। মহিমা বেগম উপরের ঘরে আসেননি। সন্ধ্যা হতে চলেছে, কিন্তু বিউটি আজ রান্নাঘরে যায়নি—এটা দেখে তার সন্দেহ হলো। যদিও তিনি মন থেকে এখনও বিউটিকে পুরোপুরি আপন করতে পারেননি, তবুও রোজ সন্ধ্যায় বিউটির বানানো চায়ের অভ্যস্ততা তাকে পেয়ে বসেছে। ধীর পায়ে উপরে উঠলেন তিনি।
সন্ধ্যা নেমে আসছে ধরিত্রীতে। এই সময়ে মোজাম্মেল আহমেদ পাড়ার দোকানে আড্ডা দেন। মহিমা বেগম সুপ্রিয়র ঘরে ঢুকলেন। দেখলেন বিউটি কাঁথা মুড়ি দিয়ে কাচুমাচু হয়ে শুয়ে আছে। এক মুহূর্তের জন্য মনের ক্ষোভ দূরে ঠেলে তিনি এগিয়ে গেলেন। বিউটির গায়ে হাত দিতেই ছিটকে সরে গেলেন। একি! মেয়েটার শরীর তো পুড়ে যাচ্ছে। তিনি কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন। আলতো করে বিউটিকে ধাক্কা দিয়ে ডাকলেন,
“বিউটি, এই বিউটি! এত শরীর খারাপ, জানালি না কেন? তোরা কবে মানুষ হবি, হ্যাঁ?”
বিউটির গোঙানির শব্দ শোনা গেল। সে অল্প পিটপিট করে চোখ খোলার চেষ্টা চালায়, কিন্তু শরীর যেন সাড়া দিচ্ছে না। মাথা দপদপ করছে, চোখ খুললেই মনে হচ্ছে আগ্নেয়গিরির লাভা বের হচ্ছে। প্রচণ্ড জ্বলছে তার শরীর। দিশেহারা হয়ে মহিমা বেগম ছেলেকে ফোন করলেন। সুপ্রিয় কল ধরতেই বিচলিত কণ্ঠে তিনি বললেন,
“বাবা সুপ্রিয়, জলদি বাড়ি আয়। দেখ না, বিউটি…!”
সুপ্রিয় অস্থির হয়ে গেল। তৎক্ষণাৎ জিজ্ঞাসা করলো, “কি হয়েছে মা? তোমার কণ্ঠ এমন লাগছে কেন? বিউটির ফোনে ফোন দিয়েছিলাম, তুললো না। মেয়েটা কি সব সময় এমন বেখেয়ালি আচরণ করবে?”
হুহু করে কেঁদে ফেললেন মহিমা বেগম। সুপ্রিয় আরও অস্থির হয়ে পড়ল। দ্রুত বলল,
“আমি চলে এসেছি মা। কাঁদছো কেন? বলো তো, কি হয়েছে?”
মহিমা বেগম শুধু বললেন, “আয় তুই!”
তিনি তাকালেন জীর্ণশীর্ণ হয়ে যাওয়া বিউটির দিকে। খানিক পর বিউটি হঠাৎ হড়বড়িয়ে বমি করে ফেলল। গলায় গড়গড় শব্দ হলো। মহিমা বেগম সবকিছু ভুলে ছুটে গেলেন বিউটির কাছে। পানি এনে খাইয়ে দিলেন।
ততক্ষণে সুপ্রিয় চলে এসেছে। হাঁপাতে হাঁপাতে সে ঘরে ঢুকল। চোখের সামনে প্রিয় মানুষটার এই অবস্থাটা যেন সহ্য হলো না। রীতিমতো দৌড়ে এসে বলল,
“কি হয়েছে ওর, মা?”
“দেখ না বাবা, মেয়েটা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। একবারও আমাকে বলেনি। আমাকে কি ওর মানুষ মনে হয় না?”
ছুটে গেলো বিউটির কাছে সুপ্রিয় পাগলের মতো। প্রিয় মানুষের গা স্পর্শ করলো। ওর মনে হলো ওর হাতে আগু’ন, ধরে গেলো। ভরসার হাত পেতেই অজান্তেই ওর হাত আঁকড়ে ধরলো বুকের সঙ্গে। সুপ্রিয়র দু-চোখ টলমল করে উঠলো। ওর কেন সহ্য করতে কষ্ট হচ্ছে? শুধু মনে হচ্ছে মেয়েটার সব কষ্ট তার হয়ে যাক। একটুও কষ্ট না পাক মেয়েটা। মহিমা বেগম কেন যেনো বেরিয়ে গেলেন রুম থেকে। যাওয়ার আগে বললেন,“আমি ডাক্তার কে কল করে আসতে বলবো।”
কিছু বলেনা সুপ্রিয়। মা যেতেই অসুস্থ বিউটিকে পরম যত্নে আঁকড়ে ধরে নিজের বক্ষে। অনেকক্ষন ধরে থাকে সেভাবেই, ছাড়ে না। বিড়বিড়িয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলে,“তোর কিছু হবে না বিউটি। আমি আছি তো। কিছু হবে না, কিচ্ছু না!”
#চলবে