Home "ধারাবাহিক গল্প প্রিয় প্রত্যয় প্রিয় প্রত্যয় পর্ব-২২ এবং অন্তিমকাল শেষ অংশ

প্রিয় প্রত্যয় পর্ব-২২ এবং অন্তিমকাল শেষ অংশ

0
প্রিয় প্রত্যয় পর্ব-২২ এবং অন্তিমকাল শেষ অংশ

#প্রিয়_প্রত্যয়
#পর্ব২২(অন্তিমকাল শেষ অংশ)
#রাউফুন
মিনহাজের এহেন কথায় আরেকদফায় অপ্রস্তুত হয়ে যায় মারিয়াম।গোলগাল চোখে তাকিয়ে থাকে।

“কিহ? কথা বন্ধ? অন্য সময় তো নিজের জবান চলতেই থাকে রেলগাড়ীর মতো৷ আজ কি হলো?”

“না মানে, আপনাকে আশা করিনি! আপনার অসুখ টসুখ করেনি তো? নাকি মতিভ্রম হয়েছে?”

“আপনি কি এসব বলে ইনডিরেক্টলি রিজেক্ট করছেন?”

“না, নাহ রিজেক্ট করবো কেন। আসলে আপনি দেখতে আসবেন জানলে কেঁদে কেটে বুক ভাসাতাম নাকি। আমি সাজুগুজু করে বসতাম সবার সামনে। এভাবে এলোমেলো ভাবে যেতাম নাকি?”

“এলোমেলো সুন্দর লাগছে।”

মারিয়াম চমকায়। আজকে যেনো শুধু তার চমকানোর দিন। শুধুই চমকে দিচ্ছে লোকটা ওকে। লোকটা ওর প্রসংশা করছে? এ যেনো ঘোজঘাঁজ হচ্ছে তার সঙ্গে। কৌতুকই বটে, মিনহাজের চরিত্রের সঙ্গে তো এই ধরনের কথা যায় না। পরপরই মিনহাজ কিছু মনে পরার মতো করে প্রশ্ন করলো,“আপনি গ্রাম থেকে আসার আগে কাঁদছিলেন, ফোনে আপনার ফোঁপানোর আওয়াজ পেয়েছিলাম। আ’ম নট শিওর বাট মনে হলো শুনেছি। কেন কাঁদছিলেন?”

মারিয়াম দীর্ঘশ্বাস ফেলে৷ আবারও অবাক হয়। ঐ সামান্য একটা বিষয় মনে রেখেছে মিনহাজ? অবাক হবে না? যার প্রতি বিন্দু পরিমাণ ইন্ট্রেস্টেড না তার সামান্য একটা বিষয় মনে রেখেছে? বিস্মিত হওয়ার মতোই ব্যাপার।

“যার প্রতি আপনার শুরু থেকেই অনাগ্রহ ছিলো তার সামান্য একটা বিষয় মনে রেখেছে? অবাক হচ্ছি!”

“যা প্রশ্ন করলাম, উত্তর না দিয়ে প্রশ্নের উপর প্রশ্ন করছেন? ফটাফট বলুন, কি হয়েছিলো সেদিন?”

“গ্রামে আমার একটা ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছিলো বাবা মা। কিন্তু আমার তো পছন্দের মানুষ একজনই সেটা আপনি। তাছাড়া আমার সবে এইচএসসি দিয়ে বিয়ে করার মতো মন মানসিকতা একদমই ছিলো না। বাবা জেদ করছিলেন, আমাকে পড়াবেন না। ভাইয়াও আমাকে গ্রামে রাখবে না এসব নিয়ে বাবার সঙ্গে ঝুটঝামেলা হয়। কিন্তু ভাইয়ার জেদের কাছে বাবা হেরে যান। এরপর আমি ভাইয়ার সঙ্গে শহরে আসি। আমি আপনাকে শুরু থেকেই পছন্দ করতাম এটা ভাইয়া বুঝেছিলো। সেজন্যই গ্রামের বিয়েটা নিয়ে ভাইয়ার দ্বিমত ছিলো। ভাইয়া কখনোই আমার উপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়নি৷ ভাইয়া না থাকলে কি যে হতো। হইতো আপনাকে পাওয়া হতো না। জানেন, ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় আপনাকে একটা নজর দেখার জন্য কতটা ছটফট করতাম? কতটা তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম আপনাকে একটা বার চোখের দেখা দেখবো বলে? কিন্তু আপনি তো আপনিই মশায়৷ আমাকে বিন্দু পরিমাণ পাত্তা দিতেন না৷ উলটো বিরক্তিকর মনে করে সাইড কাটিয়ে চলে যেতেন। আমি অবশ্য ওসব চাহনীকে পাত্তা দিতাম না।”

“ব্যস, এটাই মিস করছিলাম।”

“কিহ?” সরু চোখে তাকায় মারিয়াম। মিনহাজ ভ্রু চুলকে ঘরের বাইরে পা রাখতে রাখতে উত্তর দেয়,“সারাজীবন এই বকবক সহ্য করার জন্য তৈরি হতে হবে তো। যাই? দেখা হবে।”

মারিয়াম বোকা বোকা চোখে তাকিয়ে থাকে মানুষটার যাওয়ার পানে। মানুষ টা ওর বকবকানি মিস করছিলো? তবে কি লোকটা তাতে ফাসলো? এক চিলতে হাসি এসে হানা দিলো তার ওষ্ঠপুটে।

ঘরের ভেতরটা সাজানো ছিল সাদামাটা অথচ মায়াময়। মেঝেতে বসানো গালিচার ওপর ফুলের পাপড়ি ছড়ানো। বিছানার ওপর সাদা এবং লাল গোলাপ দিয়ে বোনা ছিল নকশা। আলো নিভু নিভু, যেন আশপাশে রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করেছে।

মারিয়াম এক কোণে চুপচাপ বসে ছিল। তার গায়ে হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি, হাতা ভরতি সোনার চুড়ি। মাথায় পাতলা ঘোমটা, যার ফাঁক দিয়ে তার মুখের লজ্জা আর মন খারাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

তার মনে বারবার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—মিনহাজ এখনও কেন এলো না? ওর মনে হচ্ছিল, মিনহাজ হয়তো তার জন্য তেমন আগ্রহী নয়। ঝোঁকের বসে বিয়ের সিদ্ধান্তটা নেয় নি তো লোকটা?এমন ভেবে তার চোখের কোণে অশ্রু জমে উঠছিল।

রাতের দ্বিতীয় প্রহরে ঘরের দরজা খুলল। মারিয়াম কিছুটা অবাক হয়ে তাকাল। মিনহাজ দরজায় দাঁড়িয়ে অল্প হাসল। বললো,
“কি ভাবছিলেন আমি আসব না? মুখটা দেখি শুকিয়ে আমসি করে ফেলেছেন স্বামী শোকে। বাসরের জন্য এতোটা উতলা?”

মিনহাজের উস্কানিমূলক আর টিটকারি করা বুঝেও মারিয়াম চুপ করে মুখ ফিরিয়ে নিল। লোকটা এমন ঠোঁটকাটা ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি সে। সে ভাবতেও পারেনি এমন কিছু বলবে। সেই বিয়ের কথা বার্তা হওয়ার দিন থেকে শুরু করে মারিয়াম কেবল অবাক হয়েই যাচ্ছে লোকটার একেক বার একেক রূপে। মিনহাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। তার পরনে ছিল হালকা ধূসর রঙের পাঞ্জাবি এবং সাদা পায়জামা। হাতে একটা ছোট্ট গোলাপ। মারিয়ামের সামনে এসে বলল,
“আপনি হইতো জানেন না, আমার একটা আশ্রম আছে। যেখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, এসি’ড দগ্ধ অবাঞ্চিত নারী, ডিভোর্সী নারী যাদের সমাজের চোখে নিচু করে দেখা হয়, ছোটো ছোটো অনাথ শিশু। সবাই থাকে সেই আশ্রমে। যাতে কারোর কখনো একলা না ফীল হয়। সবাই মিলেমিশে এক সঙ্গে থাকতে পারে বাচ্চা, নারীরা, মা, বোন সবাই এক সঙ্গে, সবাই। তাদেরকে আমাদের বিয়ের জন্য খাওয়ানো হলো। সব তদারকি করতে করতে এমন দেরি। সবার সঙ্গে অনেক দিন পর এতক্ষণ সময় ছিলাম। তাদের সবাইকে ছেড়ে তো আসতে পারি না, ওরা ভাববে আমি বিয়ে করেই বউ নেউটা হয়ে গেছি তাই দ্রুত আসতে চাইছি। অবশ্য ওরাও আসার জন্য তাড়া দিচ্ছিলো। আমার জীবনের সবচেয়ে স্পেশাল দিনে তাদের সঙ্গে একটু সময় কাটাচ্ছিলাম। তবে আপনার জন্যও সময় আছে বাঁচাল মেয়ে। এই গোলাপটা আপনার জন্য।”

মারিয়াম একটু লজ্জায় মাথা নিচু করল। মিনহাজ ওর দিকে গোলাপটা বাড়িয়ে আছে। ও হাত বাড়িয়ে গোলাপ টা নিলো। মানুষ টা আশ্রমে ছিলো? আর সে কি না কি ভাবছিলো এতক্ষণ? একটা বাজে, রাত এক টা তো আর বেশি রাত নয়। এখনো অনেকটা সময় আছে। মারিয়াম রয়েসয়ে বললো,“বিউটি ভাবির সঙ্গে দূর্ঘটনার সেই অনুতাপ থেকেই বুঝি এই আশ্রম?”

“হ্যাঁ কিছু এরকমই, আবার না। আমার এরকম একটা আশ্রম দেওয়ার অনেক আগে থেকেই ছিলো। আমার এম্বিশন এটা। আর একটা কথা, আমি চাই, আপনি আরনাজের কথা আর কখনোই না বলেন। উনার কথা ভেবে কষ্টও পাবেন না। উনি ভালো থাকুক এই দোয়া সব সময় করবো।”

“এতো তারাতাড়ি তাকে ভুলে গেলেন?”

“আপনাকে কবুল করার পর থেকে আমি তাকে সরিয়ে দিয়েছি আমার মন থেকে। তার জন্য হইতো একটা সফট কর্ণার থেকে যাবে তবে ভালোবাসাটা বোধহয় নেই। সে থাকুক, আমার না হোক, অন্য কারোর সঙ্গে তো ভালো আছে। আমি শুধু শুধু আমার বউয়ের হক কেন নষ্ট করবো?”

মারিয়াম মিনহাজের দিকে তাকালো। বললো,
“সম্বোধনটা আপনির জায়গায় তুমি বলতে পারেন। আমি নিজেও কিন্তু বেশি দিন আপনিতে আঁটকে থাকবো না।”

ফিচেল হাসলো মিনহাজন। হাত বাড়িয়ে মিনহাজ মারিয়ামের হাত ধরল। বললো,
“চলো।”

মারিয়াম অবাক হয়ে বলল,
“এই সময়ে? কোথায়?”

মিনহাজ হেসে বলল,
“যদি বলি জাহান্নামে, তবে কি যাবে না নাকি?”

কেমন করে তাকায় মারিয়াম। হেসে আরও শক্ত করে হাতের বাঁধন। আস্তে করে বলে,“চলুন!”

দুজন ধীরে ধীরে ছাদে উঠে গেল। ছাদটা ছিল খোলামেলা আর সাজানো। আকাশে চাঁদের আলো ঝলমল করছে। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে। চারদিকে নীরবতা, মাঝে মাঝে শুধু দূরের ঝিঁঝি পোকাদের শব্দ।

পুরো আকাশটা যেন সিল্কের পর্দা। তার ভেতর ছড়ানো মুক্তার মতো তারারা। চারপাশের গাছপালার শীতল ছায়া এক শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করেছে। মিনহাজ আর মারিয়ামের মুখে চাঁদের আলো পড়ছে। মিনহাজ ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে বলল,
“বাচাল মেয়ে, তাকিয়ে দেখো কি সুন্দর আজকের চাঁদ,এই আকাশ, এই পৃথিবী, সবকিছুই কেমন সুন্দর লাগছে। তবে সবকিছু থেকেও এখন আমার একজনকে বেশি সুন্দর লাগছে। সে আমার ব্যাক্তিগত তুমি, আমার জীবনের অংশ, আমার অর্ধাঙ্গিনী।”

“কবি কবি ভাব, কবিতার অভাব।”

মিনহাজ অদ্ভুত ভাবে তাকালো, ওর এতো সুন্দর প্রেম নিবেদনকে কবিতা বানিয়ে দিলো? মানা যায়?সে মারিয়ামের দিকে তাকালো আরও ভালো ভাবে। তার বউকে তো দারুণ লাগছে। এভাবে তো সে কখনোই মেয়েটাকে দেখেনি। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ কি একটু বেশিই স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে? শ্যামলা গড়নের হলেও বেশ মায়াবী ওর মুখটা। মারিয়ামের গায়ে তখনও লাল-গোলাপি রঙের কাতান শাড়ি। শাড়ীর পাড়ে ছিল জরি তোলা নকশা, মাথায় ঘোমটা দেওয়াই জ্বলজ্বল করছে ওর মুখ। দমকা হাওয়ায় উড়ে পড়ে যায় ঘোমটা। চুল খোলা, তাতে কয়েকটা চন্দ্রমল্লিকা গুঁজে দেওয়া। তার ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক, চোখে কাজল। সবকিছুই কেমন আকর্ষণ করছে মিনহাজকে। ওর এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো এই মেয়েটাকে না পেলে কি এভাবে দেখা হতো ওর? নিশ্চয়ই ওর সঙ্গে বিয়ে না হলে অন্য কাউকে বিয়ে করতো মারিয়ামকে? তখন হইতো ওর এই রূপে অন্য একজন বিমোহিত হতো। ওর জায়গায় অন্য কেউ একথা মাথায় আসতেই চোখ বন্ধ করে কুচকে ফেললো। ছিঃ৷ নিজের বউকে অন্য একজনের সঙ্গে ভাবলো কি করে?

মিনহাজ মারিয়ামের দিকে চেয়ে বলল,
“তুমি জানো, আমি ভাবতাম জীবনটা শুধু কাজ আর দায়িত্ব দিয়ে মুড়িয়ে রাখবো। কিন্তু তোমার সঙ্গে থেকে বুঝলাম, জীবনকে উপভোগ করতে হয়। তুমি আমার জীবনের আনন্দ হয়ে এলে, কি অদ্ভুত যাকে আমি সহ্য করতেই পারতাম না সে এখন আমার বউ।”

মারিয়াম একটু হেসে বলল,
“তাহলে কি এখন সহ্য করতে পারেন?”

মিনহাজ গভীর চোখে তাকিয়ে বলল,“তোমার কি মনে হয়?”

“অনেক কিছু!”

“যেমন?”

“আপনি মায়ায় পড়েছেন স্যার!”

“স্যার? এখনো?”

“তো? কি ডাকবো?”

“যা খুশি ডাকো, জান, কলিজা, সোনা, বাবু!”

“ইইই এসব ডাক আসবে না আমার!”

“তাহলে নাম ধরে ডাকো!”

“আচ্ছা!”

রাতের নীরবতায় দুজন দাঁড়িয়ে ছিল। দূর আকাশে চাঁদ তখন ধীরে ধীরে পশ্চিমে হেলে পড়ছে। বাতাসে একটা মিষ্টি শীতলতা। মিনহাজ মারিয়ামের হাতটা ধরে বলল,
“আমি কিন্তু সবকিছুই বলব। আমি আবার বউয়ের কাছে বড্ড অসাধু হবো।”

“এয়্যাহ? অসাধু মানে?”

“বোঝাচ্ছি!”

মারিয়াম কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই ওকে কোলে তুলে নিয়ে রুমের দিকে হাঁটা ধরে মারিয়াম। শিউরে উঠে গলা জড়িয়ে ধরে মিনহাজের। মিনহাজ আগ্রাসী দৃষ্টিতে তাকে অবলোকন করে।
মারিয়াম সলজ্জ হেসে মুখ লুকিয়ে ফেলে তার বক্ষে। কবে লোকটা তার প্রতি মজলো? জানা হলো না যে। থাক না কিছু অজানা অনূভুতি। সে না হয় নিজেই বুঝে নেবে মানুষ টাকে।

সকালটা যেন আজ আরও উজ্জ্বল। সুপ্রিয় আর বিউটির ঘরে এসেছে তাদের প্রথম সন্তান—একটি ফুটফুটে কন্যা। শিশুটির মুখটা দেখে যেন মনে হয়, মায়ার আঁধার এসে মিশেছে এক ছোট্ট প্রাণে। কন্যার নাম রাখা হয়েছে “অরন্যা”, যার মানে বিশুদ্ধ আনন্দ।

বিউটি কন্যাকে কোলে নিয়ে বসে আছে। ওর চোখে যেন অবিরাম ভালোবাসার ঢেউ। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে সুপ্রিয়, মেয়েটির ছোট্ট হাত ধরে। সুপ্রিয়ের চোখে এক আকাশ সম স্নেহ আর মুগ্ধতা—এ যেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

সুপ্রিয় হেসে বলল,
“তুমি জানো, ওর চোখদুটো একদম তোমার মতো। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি দুজন বিউটিকে ভালোবাসছি।”

বিউটি অভিমানী গলায় বললো,
“তাহলে মেয়েটাকে নিয়েই বেশি সময় কাটাবে, আমাকে ভুলে যাও। দুজনকে এক সঙ্গে ভালোবাসাভ কি দরকার। ভালোবাসতে বাসতে হাঁপিয়ে গেছো না?”

“ভুলে যাব? যাওয়াই যায়৷ তবে তুমি যে পতী হারা হবে পত্নীমহাশয়া।”

“কিভাবে?”

“তোমাকে ভালোবাসা আর নিশ্বাস নেওয়া আমার কাছে একই কথা? যদি ভালোবাসা ভুলে যাই তবে যে আমার নিশ্বাস বন্ধ হবে!”

বিউটি হালকা লজ্জা পেয়ে বলল,
“আসলেই? জানতাম না তো।”

সুপ্রিয় হেসে বলল,
“তোমায় আগে ভালোবাসতাম শুধু আমার স্ত্রী হিসেবে, এখন ভালোবাসি আমার সন্তানের মা হিসেবেও। সেক্ষেত্রে ভালোবাসা বেড়েছে না কমেছে?”

বিউটি তখন মেয়ের কাপড় পালটাচ্ছিল। পটি করেছে ও। পটি করেই হাউমাউ করে মেয়েটি কাঁদতে শুরু করল। সুপ্রিয় দৌড়ে এসে বলল,
“দাও, আমি কোলে নিই। বাবার হাতে থাকলে ও শান্ত হবে।”

বিউটি মুচকি হেসে বলল,
“পটি পরিষ্কার করে দেবো নাকি, না করেই দেবো!”

সুপ্রিয় কাচুমাচু করলো। বিউটি পরিষ্কার করেই কোলে দিলো।
সুপ্রিয় মেয়েকে কোলে নিয়ে গান ধরল,
“লীলাবালি লীলাবালি, ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি…”

মেয়েটি শান্ত হয়ে গেল। বিউটি অবাক হয়ে বলল,
“বাবার কোলে যেতেই চুপ। এইটুকুন বাচ্চা সে কি না বাবাকে চিনে।”

সুপ্রিয় গম্ভীর মুখে বলল,
“মা বাবার গায়ের গন্ধ সন্তান চিনবে না?”

বিউটি হেসে মেয়েকে চুমু খেলো।

“শুধু মেয়েকেই চুমু খাচ্ছো? আর আমি কি ভেসে এসেছি?”

বিউটি ড্যাবড্যাব করে তাকাই। মুখ বাকিয়ে বলে,“এখন হবে না ওসব। সরো বাবুর পটি ফেলে আসি।”

অসহায় মুখে বিউটির দিকে তাকিয়ে থাকে সুপ্রিয়। মুখ টিপে হাসে বিউটি।

বিকেলে মেয়েকে খাওয়াচ্ছিল। সুপ্রিয় অফিস থেকে দ্রুতই এসেছে। ইদানীং অফিসে তার মন টেকে না। অফিস ব্যাগ রেখে বলল,
“মিস ইউ আমার মা।”

বিউটি অবাক হয়ে বলল,
“শুধু বাচ্চাকে মিস করেছো নাকি বাচ্চার মাকেও?”

সুপ্রিয় একটু গম্ভীর হয়ে বলল,
“তোমাদের দুজনকে ছাড়া আমার জীবনটাই তো অসম্পূর্ণ। তোমাদের দুজনকেই মিস করি। অফিসে একদমই মন টেকে না। দেহ টা অফিসে থাকলেও মন পড়ে থাকে এখানে।”

বিউটি চোখে হেসে বলল,“শেষে চাকরিটা হারাবে, এভাবে অফিস কামাই করলে।”

“চাকরি কেন, আমার সবকিছু জলাঞ্জলী যাক, আমি পরোয়া করবো না।”

“বাবাহ এতো ভালোবাসা? বাবা হয়ে দেখি তোমার ভালোবাসা বেড়ে চারগুন হয়েছে!”

সুপ্রিয় ঠাট্টা করে বলল,
“বাবা হওয়ার আগে কি কম ভালোবাসতাম? ভালো যে বাসতাম তার প্রমাণ কিন্তু আমার এই ছোট্ট পরীটা।”

“এভাবেই ভালোবাসায় মুড়িয়ে রেখো। কখনোই হাতটা ছেড়ো না। মরে যাবো তবে!”

“হুশ, নিশ্বাস ছাড়া কি মানুষ বাঁচে?”

বিউটি মেয়েকে কোলে নিয়েই সুপ্রিয়র কাধে মাথা রাখলো। সুপ্রিয় স্ত্রীকে আগলে সন্তর্পণে মেয়ের কপালে ওষ্ঠ ছুইয়ে আদর করলো।
বিকেলের মৃদু রোদ তখন জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকছে। ছোট্ট অরন্যা বিউটির কোলে ঘুমিয়ে আছে। বাইরে তখন সন্ধ্যার আলো ফিকে হয়ে আসছিল। পাখিরা ফিরে যাচ্ছিল বাসায়। আর তাদের ছোট্ট সংসার ভরে উঠেছিল ভালোবাসা আর সুখের নিঃশব্দ শব্দে।

সমাপ্ত।

এটার সিজন টু আসবে ইন-শা-আল্লাহ পরবর্তীতে। যদি ইচ্ছে করে ওদের সন্তানসন্ততি তৈরি করে আনবো গল্প।