প্রিয় রুমু
২
______________________
একদম বড়পুর বিয়ের পর রুশানের সাথে দ্বিতীয়বার দেখা হলো ঢাকা মেডিক্যালের শিশু ওয়ার্ডে। আমার এক ফ্রেন্ডের ভাইয়ের বাচ্চার ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট। ওকে এডমিট করানোর পারপাসে দৌঁড়ঝাপ করছিলাম আমরা, তখুনি বুট জুতোর খটখট শব্দ তুলে ব্ল্যাক ফর্মালের এক যুবক ধবধবে সাদা রুষ্টপুষ্ট বাচ্চাকে বুকে চেপে ছুটতে ছুটতে এলো ওয়ার্ডের সামনে।
বেলা বারোটা, অসংখ্য মানুষের ভীড়ে পা রাখার জায়গা নেই। তবু জনস্রোতের ফাঁকফোকর গলিয়ে, দূরত্বের বাড়াবাড়িকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মানুষটার এক ঝলক আমায় চট করে চিনিয়ে দিতে ভুল করল না কে এসেছে তল্লাটে। কে জানে কেন! বুকের ভেতর কিছু একটা চেপে বসার অনুভূতি টের পেলাম হঠাৎ।
অন্যরকম ঘোরে হারিয়ে আমি তখন আর আমার মাঝে নেই। অ্যাপ্রোনের এক কোণ শক্ত করে চেপে ধরে পা বাড়িয়েছি ঐ মানুষটার দিকে। কে জানে কোন বিপদে পড়েছে বেচারা! বাচ্চাটার কি কিছু হলো? কোত্থেকে এলো সে! এজন্যই আমি ভাবছিলাম শুরুর দিন থেকে, একটা ফর্মাল জবে থাকা মানুষ কীভাবে বাচ্চার টেইক কেয়ার করতে পারে ভালমতো? মাথা ভর্তি যে জেদের বাড়াবাড়ি। বাসায় ফিরলে কি হয়? বাচ্চাটাকে দেখে রাখার মানুষ অন্তত পাওয়া যায় একটা। তা না..
অদ্ভুতুড়ে টাইপের একটা রাগ, একটা ভয় আর অসংখ্য মন খারাপের অনুভূতি নিয়ে পৌঁছে যাই আমি অস্থির রুশানের কাছে। মানুষটা ততক্ষণে দুশ্চিন্তায় ঘেমে-নেয়ে একাকার। অস্থির চোখে খুঁজে ফিরছে বোধহয় ডিউটিরত নার্স কিংবা ভিজিটিংয়ে আসা ডাক্তারকে।
ঐ মুহুর্তে আমায় এগিয়ে যেতে দেখে, আমার গায়ের অ্যাপ্রন দেখে তার প্রাণে যেন পানি এলো। মুখ ফুটে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই হড়বড়িয়ে বলল,
— হ্যালো, ক্যান ইউ প্লিজ হেল্প মি আউট? আমার ছেলের ভীষণ জ্বর। সকালবেলাতেও বেবি সিটারের কাছে যখন রেখে গিয়েছি তখন হি ওয়াজ কোয়াইট অল রাইট। তারপর এতটুকু সময়ে কি থেকে যে কি হয়ে গেল! লুক, হি ইজ সিভারিং। হোয়াট শুড আই ড্যু নাউ?
চিন্তাক্লিষ্ট তার মুখে একরাশ ভয়, আশংকার কালো ছায়া। আমার এত মায়া হলো! সবচাইতে খারাপ লাগল এই ভেবে আমি কেন এখনো ডক্টর নই। কেন আমি স্টিল একজন মেডিক্যাল স্টুডেন্ট, যে আপাত মানুষটাকে সমস্যার হাত থেকে টেনে বের করতে পারবে না, শুধু সমস্যা সমাধানের একটা পথ বলে দিতে পারবে।
বেশিক্ষণ খারাপ লাগায় ডুবে থাকার সময় ছিল না। তার হাতের পাশে হাত দিয়ে দেখলাম ঠিকই বাচ্চাটা কাঁপছে। আর কচি গলা থেকে গোঙানির শব্দ ভেসে আসছে। আমারই ভয় লেগে গেল। ঘোরগ্রস্তের মতন রুশানের কাছ থেকে বাবুকে টেনে বুকে নিয়ে ছুটলাম আমি ডাঃলাসনা কবির ম্যামের চেম্বারের উদ্দেশ্যে; বেস্টেস্ট চাইল্ড স্পেশালিষ্ট অফ আওয়ার হসপিটাল।
রুশানকে কিছু বলতে হলো না নতুন করে। সে অবাক হয়েছিল কিনা জানি না, তবে দ্বিরুক্তি করল না। ঠিক আমার পিছু পিছু চলে এলো চেম্বারের দিকে।
আমি জানতাম ম্যাম ঐ সময়টায় মোটামুটি ফ্রী থাকেন। এছাড়া পারিবারিক চেনাজানার কারণে ওনার চেম্বারে আমার ইজি অ্যাক্সেস। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়েছি আগে বহুবার।
ভাবিনি সেদিনও দ্বিতীয়বার না ভেবে হাতের মুঠোর সুযোগ কাজে লাগাতে গিয়ে আমার জীবনের গতি নতুন পথে মোড় নেবে। ভাবেনি হয়তো রুশানও।
তবে আমার ধারণা জাইদি টের পেয়েছিল, ফেরেশতা শিশুর কানে নিশ্চয়ই কেউ দৈবভাবে ফিসফিসিয়ে বলে গিয়েছিল,
“নিরস বাবার কোলে বেশিদিন আর নয়। তার ছোট্ট একলা জীবনে দ্রুতই সৃষ্টিকর্তা এমন কাউকে পাঠাচ্ছেন যে ওর বয়ে যাওয়া জীবনকে সামলে নিতে পারবে স্নেহ দিয়ে, আদর দিয়ে। যেমন এই চরম মুহুর্তটায় দিল!”
অসুখের প্রভাব অথবা দৈববাণী, কোলে আসার পর থেকে জাইদি আর আমাকে ছাড়তে চাইছিল না। গলার কাছে জামার অংশ কচি মুঠোয় চেপে ধরে অস্ফুটে মাম, মাম করছিল।
আমিও সেদিন মা না হয়েও, মা হওয়ার অনুভূতি টের পাচ্ছিলাম প্রথমবারের মতো।
ওর এত কষ্ট দেখে, না চাইতেও আমার চোখ দিয়ে রুমঝুম বৃষ্টির মতো বড় বড় ফোঁটায় পানি গড়াচ্ছিল।
আমার তো পৃথিবী সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান তখন ছিল না, তবে রুশান অবাক হচ্ছিল। হচ্ছিল বিব্রতও। সে কিছু গুছিয়ে বলতে পারছিল না ম্যামের সামনে। একবার আমার দিকে, আরেকবার বুকে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা ছেলের দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে যাচ্ছিল বোধহয়। ভাগ্যিস ম্যাম নিজের মতো আন্দাজ করে নিয়েছিলেন সিচুয়েশন। একলা থেকে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে স্পেশাল ট্রিটমেন্টের জন্য জাইদিকে অ্যাডমিট করার পরামর্শ দিলেন। সাথে অ্যাশিওর করলেন, তিনি নিজে গিয়ে চেকআপ করে আসবেন, আমি যেন দুশ্চিন্তা না করি। অথচ আমি?
আমি কিন্তু তবু নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। আসলে বাস্তবতার রুমু পেছনে ছুটে কাল্পনিক রুমুর পাগলামি শুরু হয়েছে না মাত্র। এ তো বলতে গেলে ট্রেলার ছিল। আল্টিমেট সিনেমা তখনও বাকি। উপস্থিত কেউ তখন টের পেল না;আমি নিজেও না।
ওদিকে অসুস্থ জাইদিকে বুকে চেপে আমার কাঁপা-কাঁপিতে রুশানের হতবাক দশা হলেও ম্যাম স্থির ছিলেন। অল্প হেসে একসময় চেয়ার ছেড়ে উঠে আমার চেয়ারের পাশে এসে দাঁড়ালেন। পরম মমতায় মাথায় হাত রেখে নরম সুরে বললেন,
— আই নো ডিয়ার, বেবিটাকে নিয়ে তুমি খুব প্যানিক করছ। কিন্তু সী, ও তোমার ভেতরে নিজের সেইফটি খোঁজার ট্রাই করছে।
ইউ নো রুমু, বেবিজ ক্যান কাউন্ট আওয়ার হার্টবিটস, দে ক্যান ফীল ইট। ও যদি টের পায় তুমি ওকে প্রোটেক্ট করতে গিয়ে নিজেই প্যানিক করছ, তাহলে সুস্থ হওয়ার স্পিরিট ও হারিয়ে ফেলবে না? কাম অন মাই গার্ল, কান্না মুছে ফেল। হি উইল বি অল রাইট।
ম্যামের কণ্ঠে এত একটা ভরসা ছিল! আমার ভীতু মন চট করে সামলে গেল। চোখের পানি মুছে পরক্ষণে আমি রুশানের দিকে তাকালাম। তখুনি নজরে এলো মানুষটার চোখজুড়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাস, আর নাম না জানা একটা অনুভূতির ছায়া। একটা অপরিচিত অথবা স্বল্প পরিচিত মেয়ের অদ্ভুত আচরণে সে যে কথাবলারই শক্তি হারিয়েছে তা উপলব্ধি করে
ভারী লজ্জা পেয়ে গেলাম আমি। বিব্রতভাবে জাইদিকে তার দিকে এগিয়ে দিতে চাইলেও মৃদু স্বরে কেঁদে উঠে বাচ্চাটা নিজের অসন্তোষ জানাল। ম্যাম পাশে থেকে আবারও কাঁধে হাত রেখে হেসে বললেন,
— থাকুক ও তোমার কাছে। আসলে Every woman carries the spirit of motherhood.
ও তোমার এই মাদারহুড, আনস্পোকেন লাভকে এমনভাবে ফীল করে ফেলেছে, চাইলেও তুমি আর ওকে দূরে সরাতে পারবে না। লেট হিম বি। বরং ওকে নিয়ে যাও, আমি ওয়ার্ডে বলে দিচ্ছি, তোমাদের ব্যবস্থা করে দেবে।
ম্যামের কথায় উঠে দাঁড়ালেও অ্যাপ্রুভালের জন্য আমি দ্বিধান্বিত চোখে তাকালাম রুশানের দিকে। সেও বিশেষ আপত্তি করল না। বরং শান্ত চোখে আমাদের দু’জনের দিকে তাকিয়ে জাইদির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল একবার। আমি স্পষ্ট খেয়াল করলাম ছেলের মাথায় হাত রাখার পর মানুষটার রুক্ষ আঙুলগুলো কেমন কেঁপে কেঁপে যাচ্ছিল।
সেটা কি কনসার্নে, নাকি একটা অপরিচিত মেয়ের এত কাছাকাছি চলে আসায়! সে-ই জানে।
________________________
জাইদির ট্রিটমেন্টের পরও ও একমুহুর্তের জন্য আমার কোল থেকে নামতে চাইছিল না। ঘুমাচ্ছিল একটানা, কিন্তু নামিয়ে শোয়াতে গেলে নিমেষে হাত পা ছুঁড়ে কান্না চালু। নার্সরা অবশ্য চেষ্টা করেছিল নেবার, কিন্তু ওর কান্না দেখে আমারই এত খারাপ লাগছিল। অজান্তে আমিও হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরছিলাম বারবার। অগত্যা, বিরক্তিতে তারাও হাল ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
ওদিকে আমাদের এসব টুকিটাকি পাগলামো রুশান দেখেনি। এমারজেন্সি কল আসায় তাকে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল তখুনি।
এরপর অনেকক্ষণ বাদে যখন সে ফিরল, তখনও আমি বাবুকে কোলে নিয়ে হাঁটছি।
কেবিনে ঢুকে আমাদের দশা দেখে রুশান কিন্তু এবারে বিস্ময়ভাবে আর থেমে রইল না। ভ্রু কুঁচকে বলল,
— নার্সরা কোথায়? ওকে নিয়ে নিওনেটালে শোয়ালেই তো হয়ে যেত।
— নার্সরা ওষুধ দিয়ে চলে গেছে। আর ও আমায় ছাড়তে চাইছে না।
— ওকে লেট মি ট্রাই দ্যেন।
বলে দ্রুত এগিয়ে আসতে চাইলেও আমি পিছিয়ে গিয়ে মাথা নেড়ে না বোঝালাম। সাথেসাথেই সে থেমে গেল। একদৃষ্টিতে আমার দিকে কিছুটা সময় তাকিয়ে থেকে হতাশভাবে দু’দিকে মাথা নেড়ে একটা টুল টেনে বসল। যেন বুঝতে পারল মাতব্বরি আমারই বেশি। আর মাতব্বরির শখ যখন কাঁধে তুলেছি, তখন বারণে বোধহয় লাভ নেই। বারণে সময় খরচও করল না সে। বরং কিছুসময় বসে থেকে খুব স্বাভাবিক কন্ঠে বলে উঠল,
— দৌড়ঝাঁপে একটা কথা জিজ্ঞেস করা হয়নি। তুমি আমাদেরকে চেনো রাইট?
— আপনি চেনেন না?
আমি এগিয়ে এসে পাল্টা প্রশ্ন করলাম। ওকে বোধহয় সরাসরি এভাবে কেউ প্রশ্ন করে না। শুনে একটু যেন গম্ভীর হলো, সাথে ডানদিকের ভ্রু উঁচু হয়ে গেল তার।
— হুমম, ইউ লুক ফ্যামিলিয়ার।
বলে শান্ত চোখে চাইল আমার দিকে রুশান। আমি পাল্টা কোনো উত্তর দিলাম না। না হ্যাঁ কিংবা না বোধক মাথা নাড়লাম। হাল ছেড়ে সেই আবার প্রশ্ন করল,
— ইউ আর?
— রুমু। রুমু শিকদার। এমবিবিএস থার্ড ইয়ার, ডিএমসি।
আমার স্পেসিফিক উত্তরের ধরণে কিনা! সে চোখ নামিয়ে মৃদু হাসল। কিছুটা সময় নিয়ে বলল,
— রিদা ভাবীর ছোটবোন?
— হ্যাঁ।
— লাইকড ইট।
— হোয়াট?
— ফরগেট। তো রুমু, তোমার ক্লাস নেই?
— আছে। কিন্তু আমি.. যাব না।
কিছুটা দ্বিধা থাকলেও স্পষ্ট ভাষায় উত্তর দিলাম আমি। রুশান যেন জানত এমন কিছুই হবে। বিশেষ অবাক হলো না। শুধু হাত ঘড়িতে সময় দেখে অদ্ভুত স্বরে জানতে চাইল,
— তোমায় তুমি করে বলছি। মাইন্ড করছ? ওয়েল, বেশ জুনিয়র হবে আমার। তাই আপনিটা ঠিক আসছে না।
— ইটস ওকে। আমি মাইন্ড করিনি।
হাসার চেষ্টা করলাম আমি, কিন্তু হাসিটা ঠিক বেরুলো না। রুশানের এদিকে খেয়াল নেই। তার বোধহয় তাড়া ছিল খুব। কিন্তু প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করছিল। বেচারা! ছেলের অসুস্থতা, অন্যদিকে ডিউটি। দুটোই ইম্পর্ট্যান্ট।
আমি বুঝলাম তার সবটাই। মুখ ফুটে দুটো ভরসাসূচক কথা বলতে পারলাম না। অবশ্য মুখ ফুটে না বললেও ঠিক অপেক্ষা করলাম তার কথার জন্য। বেশি সময় অবশ্য নিলো না সে। ছোট্ট শ্বাস ফেলে মিনিট পাঁচেক পর বলল,
— I haven’t trusted anybody about Jaidi in the past one and a half years. কিন্তু আজ, তোমাকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে রুমু। আই হোপ ইউ ওন্ট লেট মি ডাউন।
উত্তরে ভীষণভাবে আমার বলতে ইচ্ছে করল,
— আই প্রমিস, ফ্রম টুডেই, নো ম্যাটার হোয়াট হ্যাপেনস, আই উইল অফকোর্স দেয়ার ফর ইউ গাইজ।
কিন্তু বলতে পারলাম না। প্রথমদিনে এতটা শোভা পায় না। তাই কথা লুকিয়ে শুধু হেসে মাথা নাড়লাম। সে এবারে টুল ছেড়ে উঠে এসে ঘুমন্ত ছেলের একটা হাত নিজের মুঠোয় চেপে ধরল। বোধহয় চুমু খেতে চাইছিল, পারল না আমার জন্য। তবে ধরে রাখল কিছুটা সময়। আমি দেখলাম তার চোখজুড়ে এত প্রবল একটা ইমোশন খেলা করছিল! অপত্য স্নেহের মধুরতা। পৃথিবীর সমস্ত কাঠিন্য যেন এই দৃষ্টির সামনে ফিঁকে। বুঝলাম, এই মানুষটার একমাত্র দুর্বলতা তার ছেলে। হয়তো ছেলেকে পাগলের মতো ভালোবাসে সে। অনেককিছুই পায়ে ঠেলতে চায় ছেলের জন্য, কিন্তু পারে না। যেমন এখন বাবা রুশান থেকে তাকে সার্ভিসম্যান রুশানে পাল্টে যেতে হবে; এই পরিবর্তন মনের কোনো এক কোণ হয়তো চাইছে না। কিন্তু তাকে যেতে হচ্ছে। সব ইমোশনকে মাটিচাপা দিয়ে, “ডিউটি ওভার এভ্রিথিং” বাক্যটাকে স্মরণ করে চলে যেতে হচ্ছে।
আচ্ছা তাদের তো বোধহয় ডিউটি ছেড়ে এভাবে হুটহাট আসতে নেই। সে যে এলো, এর জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে না?
প্রশ্নটা মনে আসতে আসতেই জিজ্ঞেস করে ফেললাম আমি। রুশান কোনো উত্তর দিল না। ছেলের দিকে তাকিয়ে থেকেই বলল,
— আই’ল ট্রাই টু কাম ব্যাক অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল। ততক্ষণ বেবি সিটারকে বলে দেয়া থাকবে। ও চলে আসবে।
— তার দরকার নেই। আই ক্যান ম্যানেজ।
— আর ইউ শিওর?
— অফকোর্স।
বেশ একটা আত্মবিশ্বাসী সুরে বললাম আমি। রুশান আবারও অবাক দৃষ্টিতে চাইল। তারপর আমাকেও বিস্মিত করে তার স্বভাববিরুদ্ধ একটা হাসি দিয়ে বলল,
— তবু, বেবি সিটার আসুক। তোমার সময়টা কেটে যাবে। অ্যান্ড স্যরি রুমু। ঝামেলায় পড়ে গেলে আমাদের জন্য।
মনের বিরুদ্ধে গেলেও এবারে আর না করার সুযোগ রইল না। ভদ্রতাসূচক একটা হাসি দিয়ে সম্মতি জানালাম। আর স্যরির বিনিময়? করা হলো না। আমি স্বেচ্ছায় এসেছি এখানে। ঝামেলার প্রশ্ন আসছে কীভাবে?
আমার ভাবনার গতি দীর্ঘ হলেও অপরদিকে রুশান আর দেরি করল না। ছেলের গায়ে মাথায় আরেকটু হাত বুলিয়ে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়ে বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল।
ওর বিষণ্ণ মন, ইচ্ছের বিরুদ্ধে চলে যাওয়া আর খুব সামান্য হলেও অনুপস্থিতির আক্ষেপ আমার ভেতরে একটা হতাশার জন্ম দিল। বাবুকে আরও শক্ত করে বুকে নিয়ে মানুষটার যাওয়ার পথে তাকিয়ে নিঃশব্দে শ্বাস ফেললাম আমি।
সে কি বুঝতে পারল কিছু? যেতে যেতেই একবার ঘুরে তাকাল আমার দিকে। কিছু বলল না ঠিক, কিন্তু তাকিয়েই চলে গেল।
সেই মুহুর্তে, একদম সেই মুহুর্তেই আমার মনে হলো, কেন সে ঘুরে তাকাল এভাবে? না তাকালেই তো ভাল ছিল। এই যে তার একবার ফিরে তাকানোতেই রুমুর সদ্য আবিষ্কার করা মনের ভেতরটায় নতুন ঝড়ের বৈরী হাওয়া দুলকি চালে বইতে শুরু করল, এই হাওয়াকে এখন রুমু সামলাবে কোন হাতে? সৃষ্টিকর্তার দেয়া দু’হাতেই তো তার আশকারা ভরা। সব জেনেবুঝে এখন সর্বনাশের পথে পা বাড়াতে তাকে আটকাবে কে?
চলবে,
Sinin Tasnim Sara