প্রিয় রুমু পর্ব-০৪

0
2

প্রিয় রুমু

________________________

মধ্যরাতে হল থেকে বেরনোর কোনো উপায় নেই। হাজারখানেক মিথ্যে কথার ঝুড়ি সাজিয়ে, ফ্যামিলি মেম্বার অসুস্থ, ইমিডিয়েটলি হসপিটালে যেতে হবে; এমনসব বানানো কথা বলে, দু ফোঁটা অশ্রু ঝরিয়ে বহু কষ্টে ম্যানেজ করে অবশেষে আমি পৌঁছলাম প্রায় দুটোর দিকে। ততক্ষণে সদ্য পেয়ে হারিয়ে ফেলা মায়ের শোকে বাচ্চার বেহাল দশা। কেঁদেকেটে গোটা হসপিটাল মাথায় তুলে গলা বসিয়ে একসা। আমায় দেখতে পেয়ে বাবার কোল থেকে রীতিমতো লাফিয়ে চলে এলো জাইদি দুর্বল শরীরেও। নার্সরা ততক্ষণে ওর জেদে বিরক্ত। আবার একইসাথে কিছুটা আগ্রহী একটা অবিবাহিত মেয়ের ঘনঘন যাতায়াত, এবং প্রতি বাচ্চা আর তার বাবার অঘোষিত টানের যথাযথ কারণ জানতে। ওষুধপত্র সব বুঝিয়ে দিতে দিতে ইনিয়েবিনিয়ে অনেকবার আমার মুখ থেকে কথা বের করার চেষ্টা করল, কিন্তু আমি তো আমিই। চারটে প্রশ্ন করলে দুটোই খুব চমৎকারভাবে এড়িয়ে গেলাম।
তবে ওরাও কিছুটা নাছোড়বান্দা কিনা! বলতে চাইছি না জেনেও খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কোত্থেকে উল্টোপাল্টা সব প্রশ্ন টেনে এনে ছুঁড়ে দিতে লাগল আমার দিকে। এত রাতে বেরলাম কি করে? হসপিটালে এসব পার্সোনাল ডিউটি দিতে আমি একা এসেছি কেন? পরিবারের আর কেউ নেই কেন? সর্বোপরি বাচ্চা আমার কে হয় আর বাচ্চার বাবার সাথে সম্পর্কের ধরণটা কি! এমন ফালতু টাইপের কত কত প্রশ্ন।
সন্ধ্যের ওসব কাণ্ডের পর আমার মাথা এমনিতেই গরম ছিল। তারপর বাইরের মানুষের অযথা চর্চায় মেজাজ তার চরম সীমায় পৌঁছে গেল। শেষে তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মিথ্যে একটা হাসি ঝুলিয়ে দাঁত চিবিয়ে বললাম,
— বাচ্চার বাবা আমার ভাই হয়। দুঃসম্পর্কের আপন আপন টাইপের ভাই। আর বাচ্চাটা? লজিক্যালি আমি ওর ফুপু। হুট করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, মাও নেই বাচ্চার। একা একটা ছেলে মানুষ কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে আমার কাছে নিয়ে এসেছে। যেহেতু আমি মেডিকেল স্টুডেন্ট। উপরি বেনিফিট।

আমার উত্তরে যে ভদ্রমহিলারা সন্তুষ্ট নয় তা বলাই বাহুল্য। উত্তর পেয়ে বরং আগ্রহ তাদের তুঙ্গে উঠে গেল। চোখ সরু করে আবারও একগাদা প্রশ্নবাণ ছুঁড়বে বলে তৈরিই হচ্ছিল, ভাগ্যিস ইমারজেন্সিতে একটা পেশেন্ট চলে এলো! অগত্যা রুমুর জীবনের অ্যাবসোলিউট সিনেমা ইন্টার্ভালে রেখে ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাদের বিদায় নিতে হলো।

নার্স দু’জন বিদায় নিতেই মনে হচ্ছিল আমার মাথা থেকে পাঁচশো কেজি ওজনের দুটো বোঝা নামিয়ে দিল কেউ। যেতে যেতে যেন আবার ফিরে আসতে না পারে সেজন্য তড়িঘড়ি করে ছুটে গিয়ে কেবিনের দরজা লক করে দিচ্ছিলাম সেই মুহুর্তে নতুন এক ঝামেলা হয়ে বাচ্চার নাকউঁচু বাবা গম্ভীর স্বর কানে এলো। অনেকটা স্বগতোক্তির মত সে বলছে,
— ভাই! দুঃসম্পর্কের আপন আপন টাইপের ভাই।

উত্তরে আমি অবশ্য কিছু বললাম না আর। ভ্রু কুঁচকে একবার তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। সেদিন রাতে আমাদের আর বিশেষ বাক্যালাপ হলো না। সে যদিও আগ বাড়িয়ে আরও একবার খোঁচা মেরে বলল,
— কাজিন বলে কোনো শব্দ তো অ্যাটলিস্ট পৃথিবীতে এক্সিস্ট করে। সেটা থাকতে সোজা ভাই?

আমি পাত্তা দিলাম না। সন্ধ্যাবেলা কম অপমান তো করেনি আমাকে। এমনকি বড় আপুর সামনে অপমান করেছে। আমার কি কোনো প্রেস্টিজ নেই? বানের জলে ভেসে এসেছি! যেমন মন চায় তেমন ব্যবহার করবে। হুহ।

ঠিক আছে নাহয় ইগোর প্রবলেম আছে একটু, অন্যদের তুলনায় নাকউঁচু বেশি তাও বুঝলাম, তাই বলে আপনজনদের সাথে অ্যাটিটিউড! কি ভাবল তখন আপু?
এমনিতেই লোকটার সাথে মিশতে বারণ করে দিয়েছে, তারওপর তার চাঁড়ালের মত ব্যবহার যদি অবিচল থাকে; তাহলে আমার লাভ লাইফের কি বিতিকিচ্ছিরি দশা হবে ভাবা যায়!

হ্যাঁ, ঐ স্বল্প সময়ের দৌরাত্ম্যেই, তার এক ডাকে নিজের পাগল পাগল দশা দেখে বুঝতে বাকি ছিল না, এতদিন না দেখে, না চিনে, সামনাসামনি না হয়ে যে তোলপাড়ের হদিস আমি করতে পারিনি, যে প্রেমিকা রুমুকে আবিষ্কার করতে চাইনি নিজের ভেতরে; তা একলা থেকে সগৌরবে মাথা চাঁড়া দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। আমি নেহাৎ কোমল মনের মেয়ে। অত কঠিন ব্রতে ব্রতী রুমুকে রেগে ধমকে সঠিক পথে নিয়ে আসি, সাধ্য কোথায়? তারচেয়ে বরং ওর ডাকে সাঁড়া দিয়ে অসম্ভবের পথে পা বাড়ানো আমার কাছে সহজ মনে হলো। ভালোই তো বেসেছি। অন্যায় নিশ্চয়ই করিনি।
_________________________

আমাদের জীবন পাল্টে দেয়া দীর্ঘ রাতটার খবর গোপন রইল না আপুর থেকে। ও আমার চাইতে এককাঠি ওপরে কিনা! হলের দায়িত্বরতদের ঠিক বোনের ওপর নজরদারি করার হুকুম দিয়ে গিয়েছিল আমারই অজান্তে। পরদিন সকালবেলা অফিসে না গিয়ে যখন সোজা হসপিটালের সামনে এসে আমায় কল করল, তখন সবটা ক্লিয়ার হয়ে গেল আমার কাছে। ভাগ্যিস রুশান ততক্ষণে বেরিয়ে গেছে ডিউটিতে! সিনক্রিয়েট হলেও ওর নজরে পড়বে না ভেবে ভেতরে ভেতরে আমি স্বস্তি পেলাম।

জেদ জিনিসটা আসলে আমাদের রক্তে মিশে। জেদের যে কতপ্রকার ভ্যারাইটি থাকতে পারে, বড়পুকে দেখে শিখেছি আমি। ও ছোটবেলা থেকেই এককথার মানুষ। একবার কনক্লুশন লাইন টেনে দেয়ার পর, ঐ লাইনের বাইরে পা রাখলে খুব রেগে যায়। স্বাভাবিক, আমাকে বারণ করা সত্ত্বেও আমি যেহেতু আবার রুশানের ডাকে সাঁড়া দিয়ে এসেছি, তা নিয়ে ও প্রচন্ড রেগে ছিল ভেতরে ভেতরে। কেবিনে আমাকে দেখামাত্র সে রাগ ফেটে পড়ল বজ্রপাতের মতো। হসপিটালের মর্যাদা রেখে গলা যথাসম্ভব খাদে নামিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে শুরুতে আমাকে কঠিন কিছু কথা শোনালো। তারপর একদম টিপিক্যাল বাংলা সিনেমার মায়েদের মতো করে বলল,
— কি জাদু করেছে ছেলেটা তোকে? বয়স, বাচ্চা কোনোকিছুর তোয়াক্কা করছিস না, ডেস্পারেটের মতো ছুটে ছুটে আসছিস ওর ডাকে। এসব তোর কাণ্ডকীর্তি বাবা-মা যদি জানতে পারে কি সিচুয়েশান হবে আইডিয়া করতে পারছিস?

ও ভেবেছিল আমি বাবা-মায়ের নামে ভয় পেয়ে যাব। কিন্তু আমার ভেতরের ডেস্পারেশান কোন লেভেলে যে চড়তে আরম্ভ করেছে, তার খবর মুখ ফুটে বলি কি করে? শান্ত স্বরে জবাব দিলাম,
— তুমি এত বেশি ভাবছ কেন আপু? একটা মানুষকে হেল্প করা মানেই কি তার জন্য ডেস্পারেট হয়ে যাওয়া? সিচুয়েশানটা কি সত্যিই তুমি বুঝতে পারছ না?
— সিচুয়েশান! কত বয়স রে তোর? সিচুয়েশান বোঝাচ্ছিস আমাকে। শোন রুমু, তোর ঐ বয়সটা না আমি পেরিয়ে এসেছি আরও আগেই। তাই কেন করছিস, কতটা করছিস আর এসবের পেছনের কারণ নতুন করে আমাকে বোঝাতে হবে না।
— তুমি কি চাও আসলে বলবে?
— সেটা তো তোমার না বোঝার কথা নয়। তুমি রুশানের সাথে কোনোভাবেই ইনভলভ হবে না। আজ যা করেছ, করেছ। আমি খোঁজ নিয়েছি বাচ্চাটাকে আজ রিলিজ করে দেবে। ওরা ফিরে যাওয়ার সাথে সাথে তোমার সাথে সব রকমের যোগাযোগ যেন বন্ধ হয়ে যায়। আমি যদি ফারদার শুনেছি তুমি রুশানের সাথে সামান্য দেখা কিংবা কথাও বলেছ তাহলে..

কেটে কেটে কথাগুলো বলে আমার দিকে তাকাল আপু। আমিও স্থির ওর চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম চুপচাপ। আমার মন জানত, সেদিন ঐ মুহুর্তটা থেকে রুশানের প্রতি আমার ডেস্পারেশন আকাশচুম্বী হয়ে গিয়েছিল কোনোকিছু না ভেবে। আর এই ডেস্পারেশনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটা ছোট্ট শব্দ, “কেন?” ঠিক কোন কারণে রুশানের ঘেরাটোপে যেতে আমার এত বাঁধা, এই প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে গিয়ে রুশানের প্রতি দুর্বলতা আমার বেড়ে গেল।

আপু অবশ্য বারণ করেই চলে গেল না। আমার ওপর চলন্ত সিসিটিভিগুলোকে আমার সামনেই অ্যাক্টিভ করে চূড়ান্ত সতর্কতা বাণী শুনিয়ে গেল।
ওদিকে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি প্রবল আগ্রহকে পায়ে না ঠেলে আমি বরণ করে নিলাম দু হাতে। কিম্ভূত লোকটার প্রেমে দিওয়ানা হয়ে জীবনের নকশা পাল্টাতে লাগলাম একটু একটু করে।
আমার রোজকার অভ্যেসে প্রবল আনন্দে মিশে গেল জাইদি আর রুশানের দৃপ্ত ছায়া। আমরা যেন একে অপরের পরিপূরক, শুধু বিশেষ কারণবশত এক ছাদের নীচে বসবাস করছি না, মন তা স্বীকৃতি দিয়ে দিল।

ওদিকে জাইদির জন্য ম্যামের রেকমেন্ডেশনে আরেকজন বেবিসিটার রাখা হলো। সে ভালই টেক কেয়ার করত বাচ্চার। তবু আমাকে একবেলা না দেখলে ওর রাতের ঘুম উড়ে যেত। বিশেষত রাতে। সবকিছুর উর্ধ্বে ওর আমাকে চাই। সারাদিন নানা ফন্দিবাজি করে সামলানো গেলেও রাত হলেই মা মা করে বাড়ি মাথায়।
রুশানের সাথে তখন টুকটাক কথা হয়। রীতিমতো সাংসারিক আলাপ। বাচ্চা নিয়ে, তার অফিস, আমার ক্লাসের আপডেট। বকবক যদিও আমি একাই করি, তার ভূমিকা চুপ করে থাকা। বহুদিন মনে হয়েছে সুযোগ পেয়ে জিজ্ঞেস করি জাইদির মায়ের সাথে তার সম্পর্ক শুরুর কথা, কিংবা বিষয়টা শেষ হলো কি করে? কেন তাকে নিয়ে এত লুকোচুরি? কি রহস্য লুকিয়ে আছে তার জীবনে!

জিজ্ঞেস করা হত না। কেন যেন সুবিধেই করতে পারতাম না। তারওপর মাঝেমধ্যে জুটে যেত তার ডায়লগবাজি,
— উই ওন্ট বদার ইউ ইন ফিউচার।

শুনলেই আমার এত রাগ হতো! আরে বাবা আমি নিজে থেকে বদার্ড হতে চাইছি মানুষটা, তোর এতে সমস্যা কোথায়?
সপাং করে চাবুক মারার মতন মুখের ওপর বলে দিতে ইচ্ছে করত। পাছে আমার এরম সোজাসাপটা কথা শুনে বেহায়া ভেবে বসে, তাই কষ্ট হলেও নিজেকে আটকাতাম।
অবশ্য আমি বলতে না পারলেও আকারে ইঙ্গিতে ঠিক একসময় তাকে বুঝিয়ে দেয়া হলো সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে। তিনি বিশেষভাবে ভালোবেসে পাঠিয়েছেন না আমার পার্সোনাল এজেন্ট জাইদিকে? তার বাবার যেদিন যেদিন মাথা খারাপ হয়ে যেত, যোগাযোগ পুরো অফ করে দিতে চাইত, সেদিনই কোনো কাণ্ড ঘটিয়ে ছেলে নাকে দড়ি পরিয়ে বাপকে নিয়ে উপস্থিত করাত আমার হলের সামনে। ঠিক ততক্ষণ ও ধৈর্য নিয়ে কাঁদত, যতক্ষণ না আমি বুকে নিয়ে গান শুনিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছি।
দিনভর একে তো অফিসের স্ট্রিক্ট রুলস রেগুলেশন, তার ওপর ছেলের অত্যাচার! মাঝেমধ্যে নাকউঁচু বদমাশটার অতিষ্ট চেহারা দেখার মতো হত। আমার দিকে তীরের নজরে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলত,
— লাইট জ্বালিয়ে খুঁজে নিয়েছে দু’জন দু’জনকে। কি যেন ওয়ার্ডটা? এক্কেবারে মানিকজোড়।

এত হাসি পেত তার বেহাল দশা দেখে! মাঝেমধ্যে ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে মাথা এলিয়ে ঘুমন্ত জাইদিকে বুকে করে আঁড়চোখে তাকাতাম আমি ওর দিকে। যখন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মানুষটা স্টিয়ারিংয়ে মাথা রেখে চোখ বুঁজে বসে থাকত, তখন তার চুলের ভেতর আঙুল ডুবিয়ে মিহি মিহি কিছু স্পর্শ এঁকে দেবার ইচ্ছে এত অদম্য হয়ে উঠত! পারতাম না শুধু নামহীনতার বাঁধায়।
আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারতাম না আমাদের মধ্যে কি আছে, কিংবা আদৌ কিছু তৈরি হচ্ছে কিনা! কিন্তু যা তৈরি হতো রোজ, তাকে শুধু অভ্যেস বলে তো চালিয়ে দেয়া যেত না। সবসময় কি জাইদির জন্যই আসত সে? নিজের জন্য আসত না? কেন মনে হতো ক্লান্ত চোখদুটো আমার ছায়ামূর্তি দেখার সাথেসাথেই খেলে উঠত আলোর জ্যোতির মত, স্বাভাবিক হয়ে যেত কপালের ভাঁজ, কোনোদিন গুছিয়ে বলার মতো কথা না পেলেও ঘন্টা পেরিয়ে যেত নিস্তব্ধতায় দুটো ফোনে দু’জনের শ্বাস প্রশ্বাস শুনে। এসবকে কি বলে? শুধুই অভ্যেস? এর বাইরে রুশান-রুমুর আলাদা করে কিচ্ছু নয়? কিচ্ছু না?
উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যেতাম। কে জানে মানুষটার নজরে আমার ক্লান্তি ধরা পড়ত কিনা! একটু ইশারায় তো বুঝিয়ে দিতে পারত তার কাছে উত্তর আছে কিংবা নেই।
__________________

আমার অব্যক্ত প্রেমের মধুমাস ঘটা করে বলার মতো অত দীর্ঘ হলো না। সিসিটিভিদের বদৌলতে আপুর কানে নিয়মিত খবরই তো চলে যেত, বোধহয় রাগ করে আমাকে কিছু বলত না। আমিও অপেক্ষা করতাম তার ব্লাস্ট হওয়ার। ভেতরে ভেতরে সিদ্ধ প্রেমের কবলে পড়ে জেনে গিয়েছিলাম, পৃথিবীর কোনো শক্তিতেই রুশানের থেকে আমাকে আলাদা করা যাবে না। গেলেও যেত যদি না তার চোখে নিজের জন্য সামান্য পরিমাণ নমনীয়তা না দেখতাম। কিন্তু সে তো..
তবে বড় আপু এলো। সময় করে কথা শোনাবার একশো একটা ফ্লোর রেডি করে আটঘাট বেঁধে যখন আমার রেজাল্ট খারাপ হলো। আমি কোনোকালেই ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়ার মত না হলেও মিডিয়াম লেভেলের ছাত্রী ছিলাম। কিন্তু অসময়ে আসা প্রেমের জোয়ারে দুকূল ভাসাতে গিয়ে পড়াশোনা, ক্লাসের ভজঘট পাকাতে গিয়ে মিডিয়াম থেকে আরও ডাউন হয়ে গেলাম অচীরে। ফলাফল, পরীক্ষায় কোনোরকমে টেনেটুনে পাশের ঘরে নাম লিখিয়ে বহুকষ্টে মানসম্মান বাঁচল।
এতদিন আপু আমার রেজাল্ট নিয়ে বিন্দুমাত্র বদার্ড ছিল না। আর যাইহোক ডাক্তার হয়ে বেরব এটা তো সে নিশ্চিত ছিল। কিন্তু এবারে রেজাল্ট পেয়ে তার অতটুকু আশাও পুরোপুরি নিভে গেল। আসলে বারণ করা সত্ত্বেও রুশানের সাথে মেশার রাগ বুকে চেপে রেখেছিল না! সেটারও প্রভাব ছিল অনেকটা। রেজাল্ট পেয়েই দেরি করল না, রীতিমতো ঝড়ের মতো চলে এলো আমার হলে তাণ্ডব চালাতে। ভাগ্যিস রুমমেটের কেউ উপস্থিত ছিল না সেসময়! দু বোনের রকমসকম দেখে নির্ঘাত ভয় পেয়ে যেত।

আপুকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল নিজের সমস্ত রকমের ধৈর্য খুইয়েই সে বসেছে আমার সামনে। আমিও নিজেকে প্রস্তুত করেছি আজ রুশানকে নিয়ে মনের কথা সবটুকু বলে নির্ভার হব। ওর শাসনবারণে যে আমার প্রেম কমার চান্সেস বিন্দুমাত্র নেই, তা কড়া শব্দে জানিয়ে দেব। কিন্তু আমার প্ল্যানের সাথে আপুর প্ল্যান মিলবে কি করে?
ঠিক আমাকে চুপ করিয়ে দিতে এতদিনের “বলা যাবে না” ট্যাগপ্রাপ্ত সিক্রেট থেকে পর্দা উঠিয়ে ফেলল ও সুযোগ বুঝে। খুব আয়োজন করে সাপের মত শীতল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
— বাচ্চাওয়ালা লোকের পাল্লায় পড়লে কি দশা হয় দেখতে পেয়েছ? বোনের কথা তো বিষের মতো লাগে তোমার কাছে। সময় থাকতে ফেরাতে চেয়েছি, ফেরোনি। মানসম্মান খোয়াতে খোয়াতে বেঁচে গিয়েছ। তোমার চূড়ান্ত রকমের অবাধ্যতা দেখে ভেবেছিলাম কিছু বলব না। বরফ গলে একবার পানি হয়ে গেলে তাকে হাতের মুঠোয় আটকায় সাধ্য কার! কিন্তু আপন বোন তো। তোমার বিপদে আর কারো না হোক পোড়াবে আমারই বুকের ভেতর।

জবাবে আমি কিছু বলতে চাইলে হাত তুলে থামাল।
— বলার অপশন আর নেই তোমার রুমু। এতটা অধঃপতনের পর মুখ ফুটে কিছু বলতে গিয়েও লজ্জা পাওয়া উচিৎ তোমার।
যাক, আমি যা বলতে এসেছি তা বলে নেই আগে।
মনে আছে তুমি জানতে চেয়েছিলে কেন রুশানের সাথে ঝামেলা তার ফ্যামিলির? কেন এক শহরে থেকেও ও আমাদের সবার থেকে আলাদা? ঠিক আছে শোনো তাহলে। যদিও সাফিনের বারণ ছিল, কিন্তু রক্তের টান!

ছোট্ট শ্বাস ফেলল আপু। বলল,
— রুশানের সাথে তার ফ্যামিলির ঝামেলার মেইন রিজন হলো জাইদি আর ওর মা রাইসাং মারমা।
— রাইসাং মারমা!

বিস্মিত হয়ে আমি উচ্চারণ করি। আপু তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।
— হ্যাঁ মারমা। রুশানের বাচ্চার আনম্যারেড মা। যার সাথে সামান্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে হুট করে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল তোমার রুশান রাহাত। মজার ব্যাপার হলো, বন্ধুত্ব শুধু রুশানের একার ছিল না বরং ওরা ছিল আল্টিমেটলি আমার শশুরের ভার্সিটি লাইফের বন্ধু পরিবার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যে বন্ধুত্বের শুরু।
বাবাদের ফ্রেন্ড সার্কেল মোটামুটি বড়ই বলতে গেলে। অ্যান্ড দে অয়ার কামিটেড টু ইচ আদার, শুধুমাত্র ভার্সিটিতে শেষ নয়, তাদের স্ট্রং বন্ডিং পড়াশোনার চত্বর পেরিয়ে আরও অনেকটা এগবে।
তুমি তো জানই ট্রু ফ্রেন্ডশিপের স্পার্ক অনেক। কথা না হলেও, দেখা না হলেও বন্ডটা থেকে যায়। সেখানে আমার শশুরের লেখাপড়া শেষে ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল বন্ধুদের সাথে।
নটা পাঁচটার অফিসে তারা তো নিজেদের ফিট করতে পারেনি তাই একসাথে বিজনেস শুরু করেছে।
আর রাইসাংদের পরিবারের সাথে বন্ডিং স্ট্রং হয় বিজনেস পারপাসেই;শুরুতে স্টেকহোল্ডার থেকে পরবর্তীতে পার্টনারশিপে চলে আসার পর।
আমার শশুরবাড়ির অপজিটে একদম সেম টু সেম পাঁচতলা যে বাড়িটা দেখেছিলে মনে আছে?
— হু।
— ওটা কিন্তু ওনারা একসাথেই প্ল্যান করে বানিয়েছিল পাশাপাশি থাকবে বলে। তাহলেই ভাব ওরা কত ক্লোজ ছিল।
— রুশান আর ঐ মেয়েটা তবে ছোটবেলা থেকেই ফ্রেন্ড?
— ডিরেক্টলি ফ্রেন্ড না। মেয়েটা রুশানের জুনিয়র। মেইনলি ওর ভাই রুশানের বয়সে আর ব্যাচে ফ্রেন্ড।
— তাহলে রাইসার সাথে রুশান কি করে..

অতটুকু শুনেই ঈর্ষার দগদগে আগুনে জ্বলতে লাগল আমার বুকের ভেতর। একবার তাকিয়ে আমার অবস্থা বুঝতে পেরে আপু রেগে গেল। ধমকের সুরে বলল,
— সিলি কথাবার্তা বলো না। চোখের সামনে উঠতি বয়সের একজোড়া ছেলেমেয়ে একসাথে বেড়ে উঠলে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে তাদের আলাদা করে সেইম এইজড হতে হয় না। নিয়ম করে দেখাসাক্ষাৎ হতে হতে, স্কুল-কলেজ একসাথে যেতে যেতেই আলাদা ব্যাচের হলেও ফ্রেন্ডশিপ হয়ে যায়, লাভ হয়ে যায়।
— ত..তারপর?
— সাফিনের কাছে শুনেছিলাম, রুশান আর মেয়েটার রিলেশান সম্ভবত কলেজ লাইফ থেকে। বাবা-মা কিছু টের না পেলেও ভাইয়ের গতিবিধি সাফিন তো টের পেয়েই ছিল। আজ যেমন আমি তোমাকে এতবড় ভুলের হাত থেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছি, তেমনই সাফিনও করেছিল। কিন্তু রুশানের জেদ! এতদিনে নিশ্চয়ই জেনে গেছ, ও যা ভাল মনে করে তাই করে, লোকের কথায় তোয়াক্কা করে না। তেমনই বিষয়টা ঠিক দিকে এগচ্ছে না জেনেও ও রাইসার সাথে রিলেশান কান্টিনিউ করে।
— আর.. বাসায় জানায় কবে?
— বাসায় জানে লেটেই। বছর তিনেক আগে। মেয়েটা যখন বিয়ের আগেই হঠাৎ কন্সিভ করে বসে। শুনেছি ট্রেনিং থেকে ফিরে রুশানই বিষয়টা ডিসক্লোজ করে ফ্যামিলির সামনে। রীতিমতো হাত ধরে মেয়েকে বাবা-মায়ের সামনে উপস্থিত করে বিয়ের বন্দোবস্ত করতে বলে। কিন্তু বললেই কি অনায়াসে এটা সম্ভব? ওদের ধর্ম আলাদা, জাতের দিকেও তো আলাদা। যতই ফ্যামিলি ফ্রেন্ড হোক। ফ্রেন্ডশিপের সীমারেখা চাইলেই ভেঙে কাউকে পরিবার বানানো যায়?
এসব নিয়ে ঝামেলা তো প্রচুর হয়েছিল সে সময়ে। সাফিনের কাছে তখনই শুনেছিলাম কিছুটা, তবে বউ হইনি বলে বিস্তারিত খুলে বলেনি সাফিন। শুধু জানতাম মেয়েঘটিত ইস্যুতে রাগ করে বাড়ি ছেড়েছে রুশান। ওর বাবা-মা, সাফিন, মামা-খালারা অনেক চেষ্টা করেছিল ফেরানোর; সালিশ টালিশের মত ডেকে বিষয়টা সলভ করার। সলভ হয়নি।
এমনকি মেয়েটার ফ্যামিলিও চায়নি সম্পর্ক এগোক। উল্টো ওকে অ্যাবর্শন করিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিল ক্যারিয়ার গোছাতে। কিন্তু প্রেমের মরা জলে ডোবে না কথায় আছে না?
তুমি আজ যেমন প্রেমের জালে অন্ধ হয়ে ঠিক -ভুলের হিসেব করতে ভুলে গিয়েছ, তেমনই তোমার ভালোবাসার মানুষ একসময় তার ভালোবাসাকে বাঁচাতে ঠিক ভুলের হিসেব ভুলে গিয়েছিল। ফলাফল? পরিবারের সাথে সম্পর্ক শেষ, একটা মা হারা বাচ্চাকে নিয়ে তার অমানসিক স্ট্রাগল।
— আলাদা হওয়ার পর ওরা আর বিয়ে করেনি?
— কে জানে! এ খবর তো কেউ জানে না। বোধহয় করেছিল, না করলেও হয়তো করত বাচ্চাটা হয়ে যাওয়ার পর। কিন্তু ওদের ভাগ্যে সংসার লেখা ছিল না বুঝলে? তাই তো বেবিটা হওয়ার পর তিনদিনের মাথায় সেভিয়ার অ্যাটাক হয়ে মেয়েটা কোমায় চলে গেল। তারপর মাসখানেকের গ্যাপে..
— ডেথ?

হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল আপু। আমি ঠোঁট কামড়ে মাথা নীচু করে ফেললাম। ওর অতীত ভ্রমণের পুরো সময়টায় ঈর্ষা আর অন্যরকম অন্তর্জ্বালায় আমার চোখের সীমানায় যে নোনা পানির বিন্দুগুলো একটু একটু করে জমতে শুরু করেছিল, তা কথা শেষ হতেই নিজস্ব গতিতে গড়িয়ে পড়তে লাগল। বিছানার চাদর খামচে ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার। পারলাম না। রুশানের জীবনে অন্যকেউ ছিল তা তো আমি আইডিয়া করেছিলামই, কিন্তু আজ সেই মানুষটার সম্পর্কে জানার পর, তাদের প্রেমের গভীরতা আবিষ্কার করার পর কেন তাকে মানতে পারছি না কোনোভাবে? আমার ভালোবাসার মানুষ আমি ছাড়া অন্য কারোর দিকে তাকিয়েছিল, অন্য কাউকে ছুঁয়েছিল, একসময় চেয়েছিল তাকে পাগলের মতো; এত কঠিন একটা সত্যি কিছুতেই প্রেমিকা রুমুর মন স্বীকার করতে পারছিল না, চাইছিল না।
অধিকৃত সম্পত্তির মতো তাকে গোপন থেকে গোপনতম কোণে লুকিয়ে সম্পূর্ণ নিজের করে কেন রাখতে পারিনি সেসময়ে, তা মনে করে তীব্র হতাশায় বুকের ভেতরটা আস্ফালন করতে শুরু করল। আড়ালে প্রবল ঝড় বইতে শুরু করলেও বাইরে যা প্রকাশ পেল তা শুধুই ফোঁপানো কান্নার স্বর।

আপু আমার বেহাল দশা দেখে নরম হলো কিছুটা। এগিয়ে এসে পরম মমতায় বুকে আগলে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,
— এখন বুঝতে পারছিস তো আমি কেন আটকাচ্ছিলাম তোকে শুরু থেকে? কেন জেনেশুনে ভালোবাসা নামক বিষ খেতে বারণ করছিলাম? শোন, রুশান এক্স্যাক্টলি সুইসাইডাল অবজেক্ট তোর জন্য; জাস্ট সুইসাইডাল।
নাহ্ আই অ্যাগ্রি, ও ছেলে হিসেবে খারাপ নয়। স্মার্ট, হ্যান্ডসাম, ক্যারিয়ার কনশাস। ওর ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডও ভালো। নইলে ঐ পরিবারে আমাকে নিশ্চয়ই দিত না আমাদের বাবা-মা, তাই না? বাট ওর পাস্ট..
বিলিভ মি ও যদি অন্য কারোর সাথে এমন বিশ্রিভাবে ইনভলভ না থাকত, ওর যদি একটা বেবি না থাকত, তাহলে আমি তোকে আটকাতাম না রুমু। তোদের এইজ ডিফারেন্স দেখেও না। বাট ফ্যামিলিতেও ওর বিষয়টা অনেক কম্পলিকেটেড হয়ে আছে। এই যে প্রায় বছর তিনেকের ডিট্যাচমেন্ট! বাবা-মা কিন্তু মিস করেন ওকে প্রচুর, আদরের ছোট ছেলে; ভালোও বাসেন আগের মতই। কিন্তু ওর ভুলটা? ভুলের ফসলটা…
এগুলোকে মেনে নিতে পারেন না। পারার কথাও নয়। কম অপমানের তো নয় বিষয়টা, তাই না?

একটু থেমে আবারও বলে,
— আচ্ছা, আচ্ছা এক সেকেন্ডের জন্য আমরা যদি ভুলেও যেতে চাই ওর পাস্ট, তুই ভেবে দেখ ওর প্রেজেন্টও কি যথেষ্ট ম্যাসাকার নয় রুমু? ওকে বিয়ে করলে তুই সুখী হবি মনে হয়? পরিবারহীন, বাবা-মায়ের ছায়াহীন শুধু স্বামী আর তার প্রেমিকার অবৈধ সম্পর্কের একটা বাচ্চার সাথে পারবি এডজাস্ট করতে? সমাজ কি বলবে, আর বাবা-মা?

আপুর এসব কথা শুনে অনেকক্ষণ বাদে আমি তাকালাম ওর দিকে। কান্নায় বুঁজে আসা কণ্ঠে অসহায়ের মত বললাম,
— কিন্তু আমি যে ওনাকে প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছি আপু।
— ভালোবেসেছিস, এখন ভুলে যা। একটা ভুল ভেবে ঝেড়ে ফেল মাথা থেকে। শোন রুমু, কঠিন হলেও এটা সত্যি যে ওর সাথে এডজাস্টমেন্ট তোর পক্ষে করা সম্ভব নয়। তোর বয়স কম, ম্যাচিওরিটি আসেনি পুরোপুরি। আজ যে আবেগকে ভালোবাসা ভেবে ভেসে যেতে চাইছিস উদ্দেশ্যহীন পথে, এই আবেগই কিন্তু বছর কয়েক পর তোকে ডুবিয়ে মারবে গভীর জলে। হাত পা ছুঁড়বি, বেরনোর চেষ্টা করবি কিন্তু পারবি না। কেউ আগ বাড়িয়ে তোকে বাঁচানোরও চেষ্টা করবে না রুমু। কারণ রুশান ইজ জাস্ট ফরবিডেন ফর ইউ। ওকে ভালোবেসে আর একধাপ এগোলে নিজের চেনা পৃথিবী সম্পূর্ণটা হারিয়ে ফেলবি তুই। আপুর কথা শোন, ওকে ভুলে যা। কেমন? তাহলেই একমাত্র ভালো থাকবি তুই।

সম্মতির আশায় তাকিয়ে রইল আপু আমার দিকে। আমি কি উত্তর দেব ভেবে পেলাম না। ঝাপসা চোখের পর্দায় যে স্পষ্ট হয়ে তখনও ভাসছিল মানুষটার সাথে কাটানো প্রত্যেকটা মুহুর্তের স্মৃতি। তার হাসি, রাগ, অচেনা চোখের দৃষ্টি, নামহীন সম্পর্ক থেকে জমা হওয়া মধুর গল্পগুলো..
এতকিছুকে কীভাবে অগ্রাহ্য করব আমি?চাইলেই অগ্রাহ্য করা যায়?
কীভাবে মেনে নেব রুমুর প্রেমিকা সত্তার পাগলামি আসলে ভালোবাসা নয় একটা আবেগ। যে আবেগকে নাকি অনায়াসে ভুলে যাওয়া যায়, চাইলেই?

চলবে,
Sara