#ফেরারি_প্রেম
#পর্ব_১০
#নিশাত_জাহান_নিশি
“সেদিন আমার চাকরীর ইন্টারভিউ ছিল। রাস্তায় বাইক নিয়ে বের হতেই হঠাৎ একটি বাচ্চা মেয়ে এসে আমার রিকশার নিচে পড়ল! যদিও এই এ’ক্সি’ডে’ন্টে বাচ্চাটির তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি তবে হাত-পায়ের অনেক অংশ কেটে ছিড়ে গিয়েছিল। সেদিন প্রথম বারের মত আমি সুহাসিনীকে দেখি! আমার সুহাসিনীকে দেখি!”
সুহাসিনীর নামটি রূপলের মুখ থেকে উচ্চারিত হতেই রূপলের চোখমুখ থেকে মুহূর্তেই বিষন্নতা ভাবটি মিইয়ে এলো। অনিন্দ্য এক প্রফুল্ল ভাব ছেঁয়ে গেল তার বিস্তীর্ণ মুখমণ্ডল জুড়ে। আকর্ষিত হয়ে নীহারিকা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রূপলের দিকে! আচমকাই সম্মোহিত হয়ে গেল সে রূপলের প্রতি। দু-এক সেকেন্ড দম নিয়ে রূপল পুনরায় বলল,
“প্রথম দেখাতেই প্রচণ্ড ভালো লেগে যায় আমার সুহাসিনীকে৷ আর সেদিন থেকে-ই আমি সুহাসিনীকে ফলো করতে শুরু করি। তার সমস্ত ডিটেইলস জোগাড় করি। জানতে পারি সে ঐ এনজিওতে জব করে। বাচ্চা মেয়েটি তার বোনের মেয়ে। পরিবারে সে, তার বড়ো বোন, দুলাভাই এবং বোনের মেয়ে ছাড়া অতিরিক্ত আর কেউ নেই। এরপর থেকে ফোনে, কলে, মেসেজে আমি তাকে নানাভাবেবিরক্ত করতে শুরু করি! এমনকি এনজিওতে গিয়েও তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করি! এনজিওর প্রতিটি সদস্য জেনে যায় আমি সুহাসিনীকে ভালোবাসি। দীর্ঘ তিনমাস তার পেছনে ঘুরার পর অবশেষে আমি তার মন পাই! তাও আবার সবিতা এবং চারুলতা ম্যামের চাপে পড়ে সুহাসিনী আমার সাথে রিলেশনে যেতে বাধ্য হয়। জীবনের সবচেয়ে ভালো মুহূর্তগুলো আমি তার সাথে পাড় করতে শুরু করি। প্রতিদিন নিয়ম করে তার প্রেমে পরতে শুরু করি। কী যে এক মোহ মায়ায় সে আমাকে জড়িয়ে রেখেছিল তা আমি বুঝতেও পারিনি। সেই মায়ার নেশায় বুদ হয়ে দীর্ঘ এক বছর কেটে যায় আমাদের সম্পর্কের। এরমধ্যেই বাবার অফিসের কাজে একদিন আমি ঢাকার বাইরে যাই। ওখান থেকে কাজ শেষ করে আসতে আসতে প্রায় সপ্তাহ খানিকের মত লেগে যায়। ঢাকায় ফিরেই যখন আমি সুহাসিনীর সাথে দেখা করতে যাই তখনই জানতে পারি আমার সুহাসিনী…..
বলেই থেমে গেল রূপল! চোখ থেকে তার আগুনের ফুলকি বের হচ্ছিল। শরীর থেকে অকাতরে ঘাম ঝরছিল। কেমন যেন অস্থির অস্থির করছিল। রূপলের এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে নীহারিকা কেমন ঘাবড়ে উঠল। শুকনো ঢোঁক গিলে বলল,
“এরপর? এরপর কী হয়েছিল মিস্টার রূপল?”
শ্বাস রুদ্ধকর গলায় রূপল বলল,
“এসে শুনি সুহাসিনী হসপিটালে ভর্তি। সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে তার সমস্ত শরীর পুড়ে গেছে! আর সেজন্যই বিগত দুদিন ধরে আমি তাকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। পাগলের মত আমি দৌড়ে গেলাম হসপিটালে। গিয়েও লাভ হয়নি এতে! সুহাসিনী তার পরিবারের সবাইকে বলে দিয়েছিল আমাকে যেন তার কেবিনে ঢুকতে দেওয়া না হয়! আমি কিছুতেই পারছিলাম না সুহাসিনীর সাথে দেখা করতে৷ বিশ্বাস করুন আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম তার সাথে একটিবার দেখা করার জন্য। কিন্তু কেউ আমাকে সেই সুযোগটি করে দেয়নি। সেদিন থেকে আজ অবধি মোটামুটি ছয়মাস হয়ে গেল সুহাসিনীর সাথে আমার দেখা হয়না, কথা হয়না। ঠিক বুঝাতে পারবনা আমার ভেতরের অবস্থাটা। যার সাথে একটা দিন কথা না বললে সেই দিনটাই আমার খারাপ যেত, যাকে দিনে একটা বার চোখের দেখা না দেখলে আমার ঘুম হতোনা সেই মানুষটাকে ছাড়া আমি ছয়টা মাস কাটিয়ে দিয়েছি! এবার বুঝুন আমি ভেতর থেকে কতটা নিষ্প্রাণ হয়ে গেছি।”
সবকিছু শুনে থ হয়ে গেল নীহারিকা। বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে রূপলের দিকে তাকালো। চমকিত গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,
“আগুন লেগেছিল কীভাবে?”
“সুহাসিনী এখনও স্পষ্টভাবে আমাকে কিছু জানায়নি। তার সাথে তো আমার কথাই হয়নি। তবে যতটুকু আঁচ করতে পারছি এই ষড়যন্ত্রের পেছনে সাফোয়ান ভাইয়ার হাত আছে। সুহাসিনীর দুলাভাইয়ার।”
“সাফোয়ান ভাই তাহলে সুহাসিনীর দুলাভাই?”
“হুম। সেই জের ধরেই সাফোয়ান আমার বোনের নামে কলঙ্ক ছড়াতে চেয়েছিল। আমাকে এবং আমার পরিবারের ক্ষতি করতে চেয়েছিল।”
“তাহলে তো যতদ্রুত সম্ভব সাফোয়ান ভাইয়ার বিরুদ্ধে আপনার স্টেপ নেওয়া উচিৎ।”
“সমস্যাটা তো সেখানেই। সুহাসিনী কিছুতেই মুখ খুলতে চাইছেনা! আগুনটা সেদিন কীভাবে ধরেছিল তার কিছুই ক্লিয়ারলি বলছেনা। যে ভিক্টিম তার স্টেটমেন্ট ছাড়া তো কিছুই করা যাচ্ছেনা।”
“কিন্তু কেন? দোষীকে আড়াল করে সুহাসিনীর কী লাভ হচ্ছে? তার কী কোনো দুর্বল জায়গা আছে?”
“আই থিংক হৃদিকে নিয়ে কোনো ইস্যু আছে! সত্যিটা জানার জন্য হলেও সুহাসিনীর মুখোমুখি আমাকে হতে হবে।”
“ওকে। এখানে আপনাকে আমি কীভাবে হেল্প করতে পারি?”
“আমি চাই আপনি সুহাসিনীর সাথে দেখা করুন। তার সাথে কথা বলুন। তার সাথে মিশুন। তবে সেটা আমার পরিচিত হিসেবে নয়! বরং তার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে!”
কিছু সময় ভেবে সুহাসিনী রূপলের দিকে প্রশ্ন ছুড়ল,
“কিন্তু সে কী আমার সাথে মিশতে চাইবে? দেখা করতে চাইবে আমার সাথে?”
কাতর গলায় রূপল বলল,
“চেষ্টা করে তো দেখুন।”
রূপলের আবদার ফেলতে পারল না নীহারিকা! দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সে রূপলের ভরাট চোখে তাকিয়ে বলল,
“কাল দেখা করি?”
“আজ সম্ভব না তাইনা?”
“রাত হয়ে গেল তো! তাছাড়া আমারও তো প্রিপারেশন লাগবে তার সাথে দেখা করার, কথা বলার। কীভাবে কথা বললে সে আমার সাথে ফ্রি হবে সে বিষয়েও একটু ভাবতে হবে।”
“আজ তাহলে উঠি?”
“নাশতা করে যান। না হয় আম্মু কষ্ট পাবে।”
“পানি খেলাম তো! খালি মুখে গেলে আন্টি কষ্ট পেতেন।”
বলেই রূপল বসা থেকে ওঠে দাড়ালো। হনহনিয়ে নীহারিকাদের বাড়ি থেকে প্রস্থান নিলো। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে নীহারিকা পেছন থেকে রূপলকে দেখছিল। কেমন যেন ভবঘুরে টাইপ লোকটা! ছেড়া পাঞ্জাবি পড়ে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে! নিজের দিকে কোনো খেয়ালই নেই। এমন উদাসীন লোকদের দেখলে নীহারিকার মায়াই হয়। তাদের ভেতরে জমতে থাকা কষ্টগুলো সে উপলব্ধি করতে পারে। কারণ একটা সময় সে ও এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে!
রূপল রাস্তায় ওঠে যেতেই নীহারিকা তাদের ড্রয়িং রুমে চলে গেল। সকাল থেকে অভুক্ত সে। এখনি কিছু না খেলে সে অসুস্থ হয়ে পড়বে। রাস্তায় ওঠে বাইক স্টার্ট করে রূপল অনেকখানি পথ যেতেই খেয়াল করল পেছন থেকে একটা বাইক তাকে ফলো করছে! বিষয়টা বুঝতে পেরে রূপল হুট করে বাইকটা থামিয়ে দিলো। অমনি মুহূর্তের মধ্যেই পেছন থেকে বাইকটি এসে রূপলের বাঁ হাতের ঠিক কব্জিতে একটা পোঁচ মেরে চলে গেল! যদিও পোঁচটা তার হাতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি করেনি। তবে পাঞ্জাবিটা প্রায় ছিড়ে গেল। পাঞ্জাবির উপর দিয়ে পোঁচটা গেল! বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল রূপল। শো শো বেগে ছুটতে থাকা বাইকটিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“এই দাড়া। কে তোরা?”
বলেই রূপল তার বাইকে ওঠে গেল। তাকে আক্রমন করা বাইকটিকে ফলো করতে লাগল। কিছুদূর যেতেই বাইকটি হঠাৎ থেমে গেল! সুযোগ বুঝে রূপল তার বাইকটিকে ঘুরিয়ে ঐ বাইকটির সামনে গিয়ে থামালো। বাইক থেকে নেমে সে ছেলে দুটিকে দেখে অবাক হয়ে গেল! সচকিত গলায় বলল,
“এই তোরা এখানে? তোরা আমাকে অ্যাটাক করেছিলি?”
#চলবে…?
#ফেরারি_প্রেম
#পর্ব_১১
#নিশাত_জাহান_নিশি
“এই তোরা এখানে? তোরা আমাকে অ্যাটাক করেছিলি?”
হাতেনাতে ধরা খেয়ে অমনি ছেলে দুটি মাথা নুইয়ে নিলো। ভয়ে কাঁপা-কাঁপি জুড়ে দিলো। পালানোর রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। বিক্ষুব্ধ হয়ে রূপল সামনের ছেলেটির দিকে এগিয়ে এলো। ঝাঁজালো গলায় বলল,
“এই শাফকাত বল? তোরা আমাকে অ্যাটাক করেছিলি কেন?”
অমনি শাফকাতের পাশের ছেলেটি প্রাণপণে দৌড়ে জায়গা থেকে পালালো! প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে পিছু ফিরে আর তাকানোর প্রয়োজন বোধ করলনা। আটকে গেল শাফকাত। ঘাড়টা ত্যাড়া করে সে জায়গায় দাড়িয়ে রইল। এক রোঁখা গলায় পাল্টা রূপলের দিকে প্রশ্ন তুলে বলল,
“আপনার থেকে এটা আশা করিনি ভাই। আপনাদের ব্রেকাপের তো ছয়মাসও হলো না। এর মধ্যেই আপনি…
এতটুকু বলেই থেমে গেল শাফকাত। কৌতূহলী হয়ে রূপল ভ্রু যুগল কুঁচকে খরতর গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,
“এর মধ্যেই আমি কী করলাম? কথা পেটে রাখিস কেন? পুরো কথা শেষ কর।”
ভীতিহীন গলায় শাফকাত বলল,
“এরমধ্যেই আপনি অন্য মেয়ের পিছু ছুটতে শুরু করেছেন!”
“অন্য মেয়েটা কে?”
“যার বাড়ি থেকে মাত্র বের হলেন!”
“কে সে?”
“ভেবে দেখুন!”
“নীহারিকা?”
আচমকা হাত জোর করে শাফকাত রাগী গলায় রূপলকে বলল,
“ছোটো ভাই হিসেবে আপনার কাছে একটাই রিকুয়েস্ট ভাই, প্লিজ আপনি নীহারিকার দিকে হাত বাড়াবেন না! আমি আপনাকে অনেক রেসপেক্ট করি! আশা করি আপনিও আমার কথার গুরুত্ব দিবেন।”
শিথীল হয়ে এলো রূপল। নাক টেনে ভাবশূণ্য গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,
“কেন? নীহারিকাকে ভালোবাসিস তুই?”
নিবিড় দৃষ্টিতে শাফকাত চোখ তুলে রূপলের দিকে তাকালো। নিশ্চল গলায় বলল,
“অনেক ভালোবাসি ভাই! প্লিজ তার দিকে তাকাবেন না। আর একটা রিকুয়েস্ট..নীহারিকা যেন এই ব্যাপারে কিছু না জানে। আশা করি আপনি এই সিক্রেটটা কারো কাছে শেয়ার করবেন না।”
প্রত্যত্তুরে শূণ্য গলায় রূপল বলল,
“বাড়ি যা। যদি আমাকে চিনতে ভুল না করিস তাহলে বলব তুই নিশ্চিন্তে থাক। এসব কোনো ব্যাপার নেই আমাদের মধ্যে। একটু আগে বললি না ব্রেকাপের ছয়মাস যেতে না যেতেই আমি অন্য মেয়ের প্রেমে পড়েছি? বিষয়টা সম্পূর্ণ ভুল! আমাদের তো এখনও ব্রেকাপই হয়নি। আর অন্য কারো প্রেমে পড়া তো দূর। উল্টো এটা ভেবে খুশি হ যে, কিছুদিন বাদে আমাদের বিয়ে! আমার আর সুহাসিনীর!”
বলেই রূপল বাইকে ওঠে গেল। শো শো বেগে বাইক ছেড়ে দিলো। রূপলের যাওয়ার পথে তাকিয়ে শাফকাত স্বস্তির শ্বাস ফেলল। বুকে হাত রেখে বলল,
“ফাইনালি নিশ্চিন্ত হলাম। আমার ভালোবাসাকে শুধু আমি ছাড়া পৃথিবীর আর অন্য কাউকে ভালোবাসতে দিবনা। যদি আমি তাকে না পাই তবে পৃথিবীর অন্য কাউকেও তাকে পেতে দিবনা!”
ক্লান্ত অবসন্ন শরীর নিয়ে রূপল বাড়ি ফিরে তার রুমে ঢুকল। রুমের পাখা ছেড়ে ধপ করে বিছানার উপর বসতেই নাজনিন বেগম দ্রুত পায়ে হেঁটে রূপলের রুমে ঢুকলেন। রাগী ভাব নিয়ে তিনি রূপলের মুখোমুখি দাঁড়ালেন। কঠোর গলায় প্রশ্ন ছুড়লেন,
“কী ব্যাপার? এতক্ষণ কোথায় ছিলি?”
গম্ভীর গলায় রূপল বিছানার উপরে দু’হাতে ড্যাশ দিয়ে বসে বলল,
“আশেপাশেই ছিলাম।”
“এভাবে আর কতদিন?”
“যতদিন বেঁচে আছি!”
“নিজের দিকে একটু তাকিয়েছিস? দিন কী দিন কী অবস্থা হচ্ছে তোর? কতটা এবনরমাল হয়ে গেছিস তুই?”
“অসব দেখার সময় নেই। আমার মন-ই তো ভালো নেই মা। শরীরের ভালো বুঝে কী হবে?”
“শরীরের তুলনায় মনকে বেশী প্রশ্রয় দিলে এমন হবেই। এখনও সময় আছে নিজেকে সামলে নে।”
“পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম কাজ কী জানো মা?”
“কী?”
“নিজেকে সামলানো! তুমি যাও। আমাকে একটু একা থাকতে দাও।”
“তোকে আর একা থাকতে দিচ্ছিনা আমি। তোর খালাম্মা তোর জন্য একটা মেয়ে দেখেছে! পিয়াসা পুরোপুরি সুস্থ হলেই আমরা তাকে দেখতে যাব। তোর কোনো বারণ শুনব না এবার।”
অমনি হিংস্র হয়ে উঠল রূপল। বসা থেকে চটপট দাঁড়িয়ে ওঠে সে তার গাঁয়ে থাকা পাঞ্জাবিটা টেনেটুনে ছিঁড়ে ফেলল। উগ্র মেজাজ নিয়ে চিৎকার করে বলল,
“তোমাকে বার বার বারণ করছিনা? আমার সামনে বার বার বিয়ের নাম না নিতে? কেন শুনো না তুমি আমার কথা? কেন এভাবে আমাকে মানসিকভাবে টর্চার করো? এসব করে কী পাও তুমি? ইচ্ছে করে বার বার দুর্বল জায়গাতে আ’ঘা’ত করো। বিয়ে যদি করতেই হয় তবে আমি সুহাসিনীকেই বিয়ে করব! তাকে ছাড়া আর কাউকে নয়। তোমার মুখ থেকে আর কোনো কথা শুনতে চাইছিনা আমি! বের হয়ে যাও আমার রুম থেকে!”
ছেলের ব্যবহারে হতবাক হয়ে গেলেন নাজনিন বেগম! মুখ চেপে কেঁদে তিনি নিরাশ গলায় বললেন,
“আমি দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি আমার ছেলে আমার সাথে এত খারাপ ব্যবহার করতে পারবে! শুধুমাত্র বাইরের একটা মেয়ের জন্য তার মায়ের সাথে এভাবে গলা উঁচিয়ে কথা বলবে।”
কাঁদতে কাঁদতে নাজনীন বেগম রূপলের রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে রূপল মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। ছেঁড়া পাঞ্জাবিটা গাঁ থেকে খুলে সে বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে পড়ল। এই মুহূর্তে তার ঘুমটা অধিক জরুরি। পরিপূর্ণ ঘুম হলে তবেই তার মাথা ঠিক হবে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।
_________________________________
সকাল দশটা থেকেই নীহারিকা রেডি হয়ে অপেক্ষা করছে রূপলের জন্য। আজ সুহাসিনীর সাথে দেখা করার কথা তার। তবে রূপলের এখনও কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছেনা। ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছেনা! রেডি হয়ে খামোখা বসে থাকাটা নীহারিকার মোটেও পছন্দ না। তাই সে সোজা রিকশা করে রূপলদের বাড়িতে চলে এলো! নীহারিকাকে পেয়ে রূপলের মা-চাচীরা খুশি হয়ে গেল। যত্ন আত্তি করে তারা ভরা পেটেও তাকে খাওয়াতে লাগল। সবশেষে সবার দৃষ্টি এড়িয়ে নীহারিকা দৌড়ে গেল রূপলের রুমের সামনে। দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে রূপলকে ঘুম থেকে উঠালো। ঘুমে ঢুলুঢুলু শরীরে রূপল রুমের দরজা খুলতেই নীহারিকা উল্টো পাশে ফিরে গেল! উন্মুক্ত শরীরে রূপল রুমের দরজা খুলেছিল। ঘুমের ঘোরে রূপল আচ্ছন্ন গলায় নীহারিকাকে বলল,
“আপনি এখানে?”
উল্টো পাশ ফিরেই নীহারিকা বলল,
“আজ আমাদের সুহাসিনীর সাথে দেখা করার কথা ছিল।”
মুহূর্তেই রূপলের ঘুম টুম সব উবে গেল! তৎপর হয়ে ওঠে সে দ্রুত গলায় বলল,
“পাঁচ মিনিট দাঁড়ান। আমি আসছি।”
নীহারিকাকে দাঁড় করিয়ে রেখে রূপল প্রায় দশ মিনিটের মধ্যেই রেডি হয়ে বাইকের চাবি নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল। অভুক্ত রূপলকে বাড়ির কেউ খাওয়াতে পারলনা! নীহারিকাকে সাথে নিয়ে সে সোজা এনজিওর সামনে চলে এলো। রূপলকে গেইটের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে নীহারিকা দারোয়ানের পারমিশন নিয়ে গেইটের ভেতর ঢুকল। রূপলের বিবরণ অনুযায়ী সে ঠিকঠাক ভাবেই সুহাসিনীর রুমের সামনে এসে দাড়ালো। বুকে দম নিয়ে সে রুমের দরজায় ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল। অমনি রুমের ভেতর থেকে মেয়েলী গলার মিষ্টি স্বর ভেসে এলো। বলল,
“কে?”
দ্রুত হেঁটে নীহারিকা রুমের ভেতর ঢুকে পড়ল। সুহাসিনীর বেডের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সে হাঁপানো গলায় বলল,
“আপু আমি নীহারিকা। মনে আছে আমার কথা আপনার?”
শরীরের ব্যথা নিয়ে সুহাসিনী কাতর গলায় বলল,
“না তো! কোন নীহারিকা?”
“আরে ঐযে একদিন আমাকে হেল্প করেছিলেন। কয়েকটা গু’ণ্ডা ছেলের হাত থেকে আমাকে বাঁচিয়ে ছিলেন!”
#চলবে…?
#ফেরারি_প্রেম
#পর্ব_১২
#নিশাত_জাহান_নিশি
“আরে ঐযে একদিন আমাকে হেল্প করেছিলেন। কয়েকটা গু’ণ্ডা ছেলের হাত থেকে আমাকে বাঁচিয়ে ছিলেন!”
গভীর চিন্তায় ডুব দিলো সুহাসিনী। অতিব মনোযোগের সহিত সে অতীত ঘাটতে লাগল। তার স্মৃতি ধারণ ক্ষমতায় যতটুকুনি স্মরণে আছে সে এর আগে কখনও নীহারিকাকে দেখেনি! না কখনও কোনো গু’ন্ডা ছেলেদের হাত থেকে তাকে বাঁচিয়েছে। মাথায় হৈ হট্টগোল লেগে গেল সুহাসিনীর। এদিকে নীহারিকার কথাও সে ফেলতে পারছেনা! কী এক মহা জ্বালা।
চোখে ছলছল জল নিয়ে নীহারিকা কেবল অসুস্থ সুহাসিনীকে দেখছে! পুরো দেহ তার সাদা চাদরে ঢাকা। ছবিতে দেখা সুহাসিনীর সাথে বাস্তবে দেখা সুহাসিনীর কোনো মিল-ই খুঁজে পাচ্ছেনা সে! মোলায়েম দেখতে চকচকে ফর্সা ত্বকটা এখন কুচকুচে কালো বর্ণ ধারণ করেছে! শরীরের সাথে সাথে মুখের কিছু কিছু অংশও কুচকে গেছে! নীহারিকার মানতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে যে এটাই সুহাসিনী। বাইরের একটা থার্ড পার্সন হয়ে সুহাসিনীর জন্য তার এতটা কষ্ট হচ্ছে না জানি রূপল আর সুহাসিনীর পরিবারের তার জন্য কতটা কষ্ট হচ্ছে।
মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে সুহাসিনী এখনও চেষ্টা করছে নীহারিকাকে মনে করার। তবে কিছুতেই যেন কিছু মনে পড়ছেনা তার। সুহাসিনীর এই ধরাশায়ী অবস্থা দেখে নীহারিকা গলা ঝাকালো। কয়েক দফা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে নিজেকে সামলে নিলো। সুহাসিনীর দিকে খানিক এগিয়ে এসে ধীর গলায় বলল,
“থাক না আপু। মাথায় এত প্রেশার দিতে হবেনা। এই ঘটনাটা আরও কয়েক বছর আগে ঘটেছে তো তাই হয়ত কোনোভাবে এই ঘটনাটা আপনার মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে। তবে কী জানেন? আপনাকে আমার এখনও মনে আছে। অনেক কষ্টে আপনার ঠিকানাটা জোগাড় করে আপনার সাথে দেখা করতে আসা। আপনি যদি আমার সাথে একটু কথা বলতেন। আমার ভালো লাগত।”
সুহাসিনী তার নিছক ভাবনাচিন্তা থেকে বেরিয়ে এলো। ছোটো ছোটো চোখে সে নীহারিকার দিকে তাকালো। মিহি গলায় বলল,
“দেখছই তো আমি কতটা অসুস্থ? কথা বলতে বড্ড বেগ পেতে হয় আমার। তবুও আমি চেষ্টা করব তোমার ভালো লাগাকে প্রাধান্য দেওয়ার!”
অমনি নীহারিকা বেশ কৌতূহল নিয়ে সুহাসিনীর দিকে প্রশ্ন ছুড়ল,
“আচ্ছা আপু আপনি এত অসুস্থ হলেন কীভাবে? কে করেছে আপনার এই অবস্থা?”
নীহারিকার কঠিন প্রশ্নে হিমশিম খেয়ে গেল সুহাসিনী। আমতা আমতা গলায় সে প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলল,
“আমি কিন্তু তোমাকে এখনও চিনতে পারিনি। তোমার আসল পরিচয়টা বলবে প্লিজ? না-কী কেউ তোমাকে পাঠিয়েছে?”
আর এক মুহূর্ত দেরী না করে সুহাসিনীর সন্দেহ আটকাতে নীহারিকা বেডের পাশে চেয়ার টেনে বসল। সুহাসিনীর ডান হাতটা মোলায়েমভাবে ধরে সে জোরপূর্বক হেসে বলল,
“আরে না না আপু। আমাকে আবার কে পাঠাবে? আমি সত্যিই নিজ থেকে আপনাকে দেখতে এসেছি। জানেন কত খুঁজেছি আপনাকে? শুধু আপনাকে একটি বার থ্যাংকস বলার জন্য। তাছাড়া আপনি এত ভয় পাচ্ছেন কেন আপু? আপনার কী এমন কোনো শত্রু আছে যাকে আপনি ভয় পাচ্ছেন? ভাবছেন সে আপনার ক্ষতি করার জন্য আমাকে পাঠিয়েছে?”
মুহূর্তেই সুহাসিনী বেশ ঘাবড়ে ওঠা গলায় বলল,
“না না। আমার কোনো শত্রু নেই! তবে তোমাকে দেখে আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছে! প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড।”
গম্ভীর মুখভঙ্গি নিয়ে নীহারিকা বলল,
“তাহলে কী আমি চলে যাব আপু?
নীহারিকার বিষন্ন মুখের দিকে তাকিয়ে সুহাসিনী কেমন যেন গলে গেল। না চাইতেও সে আদুরে গলায় বলল,
“আচ্ছা থাকো। তবে আমার পার্সোনাল বিষয় নিয়ে কিছু জানতে চেয়ো না প্লিজ।”
“আচ্ছা ঠিক আছে। আপনার সেই বোনের মেয়েটা কোথায় আপু? কী যেন নাম ছিল তার?”
“হৃদি?”
“হ্যাঁ হৃদি। কেমন আছে সে?”
“ভালো আছে। আমার দুনিয়া সে।”
“তোমার তো একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল তাইনা? সে এখন কোথায়?”
অমনি হাসিখুশি মুখখানি চুপসে গেল সুহাসিনীর। বিষন্নতার কালো মেঘ ছেঁয়ে গেল দু’চোখে। দৃষ্টি নামিয়ে সে ভরাট গলায় বলল,
“তার সাথে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই! এ বিষয়ে কোনোকিছু জিজ্ঞেস না করলেই আমি খুশি হব।”
“তোমার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগল আপু। আজ তবে উঠি?”
“তুমি কী রাগ করলে?”
“না আপু৷ আসলে আমার একটু তাড়া আছে। কাল ঠিক এই সময়ে আবার আসব কেমন?”
সুহাসিনীর থেকে বিদায় নিয়ে নীহারিকা এনজিও থেকে বের হয়ে গেল। যাওয়ার সময় সুহাসিনীর মাথায় অনেক প্রশ্ন ভিড়িয়ে দিয়ে গেল নীহারিকা! কে এই নীহারিকা? যে তার বোন জি এবং রূপল সম্পর্কেও সব জানে? তার সাথে কী এতই ক্লোজ ছিল সুহাসিনী? তার সব ব্যক্তিগত ব্যাপারও মেয়েটিকে জানিয়েছিল?
নীহারিকার উদ্দেশ্যই যেন ছিল সুহাসিনীকে তার প্রতি কৌতূহলী করে তোলা! তাকে জানার আগ্রহকে দ্বিগুন বাড়িয়ে তোলা। তবেই তো নীহারিকা পারবে সুহাসিনীর মনের ভেতর ঢুকতে! লুকিয়ে রাখা সব রহস্যকে টেনে বের করতে।
গেইটের বাইরে বের হতে অমনি রূপল ছুটে এলো নীহারিকার দিকে। উদ্বেগী গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,
“কী বলল সে? আমার সাথে দেখা করতে রাজি?”
“এই বিষয়ে কোনো কথা বলিনি এখনও।”
“মানে? তাহলে তোমাকে পাঠিয়েছিলাম কেন?”
“একদিনের পরিচয়েই তো সব কথা বলা যায়না। সময় দিতে হয়।”
“কী বলতে চাইছ তুমি হ্যাঁ? আর কত সময় লাগবে তোমার?”
“কী আশ্চর্য! আপনি বুঝতে চাইছেন না কেন? একটা মেয়ে এত সহজেই কী পারে কারো সাথে এতটা ফ্রি হতে? তাছাড়া আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি সুহাসিনী আপনার বিষয়টা এড়িয়ে চলতে চায়। খোলসাভাবে কিছু বলতে চায়না। তাই আমিও তেমন ফোর্স করিনি। আমরা যখন একটু ফ্রি হব তখন সুহাসিনী নিজ থেকেই আপনার ব্যাপারে সব খুলে বলবে। সেই বিশ্বাস আমার আছে।”
“তাহলে কত সময় লাগবে তোমার?”
“তা তো বলতে পারছিনা।”
“ধ্যাত! তোমার কাছে হেল্প চাওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে!”
বলেই রূপল তিরিক্ষিপূর্ণ মেজাজ নিয়ে জায়গা থেকে প্রস্থান নিলো। নীহারিকাকে একা ফেলে রেখে সে বাইক নিয়ে কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। রূপলের উগ্রতায় নীহারিকা বড্ড কষ্ট পেল! মন খারাপ করে সে পায়ে হেঁটেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
_________________________________
ঘড়িতে তখন রাত নয়টা। নীহারিকা পড়ার টেবিলে বসে গল্পের বই পড়ছিল। অমনি সে তার রুমে দ্বিতীয় কারো উপস্থিতি টের পেল। ঝট করে নীহারিকা পিছু ঘুরে তাকালো। বিধ্বস্ত অবস্থায় রূপলকে দেখামাত্রই সে আঁতকে উঠল! ক্লান্ত, অবসন্ন, অগোছালো রূপল যেন শক্তির অভাবে ঢুলেঢুলে পড়ছিল। ছুটে এসে নীহারিকা রূপলের মুখোমুখি দাঁড়ালো। তড়িৎ বেগে প্রশ্ন ছুড়ল,
“কী হয়েছে আপনার? এমন নিস্তেজ দেখাচ্ছে কেন আপনাকে?”
নাক টেনে রূপল মাথা নুইয়ে নিলো। প্রত্যত্তুরে নীহারিকাকে বলল,
“সরি!”
“সরি ফর হোয়াই?”
“সকালের ব্যবহারের জন্য।”
“সারাদিন পাড় হয়ে এখন আপনার মনে হলো আমাকে সরি বলা উচিৎ?”
“আসলে আমার মাথা ঠিক নেই। কী করছি না করছি কিছুই বুঝতে পারছিনা। সত্যি বলতে আমি আর পারছিনা সুহাসিনীকে ছাড়া থাকতে। দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।”
তব্ধ শ্বাস ফেলল নীহারিকা। শান্ত গলায় রূপলকে বলল,
“আপনি এত ভেঙে পড়ছেন কেন রূপল? সুহাসিনী যদি আপনার ভাগ্যে থাকে তো যেকোনো পরিস্থিতিতেই সে আপনার হবে। স্বয়ং সুহাসিনীও এই সম্পর্কটাকে ভাঙতে পারবে না।”
“ধৈর্যে আর কুলাচ্ছেনা। কী করব বলুন?”
“মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।”
“আচ্ছা থাকুন। আমি যাই।”
নীহারিকাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রূপল বাড়ি থেকে প্রস্থান নিলো। রূপলের যাওয়ার পথে তাকিয়ে নীহারিকা অস্থির শ্বাস ফেলে বলল,
“কী অদ্ভুত মানুষ। দু’দণ্ডের জন্যও এক জায়গায় থামেনা। অথচ এক নারীর ভালোবাসায় আসক্ত হয়ে গোটা জীবনটাকেই থামিয়ে রেখেছে!”
এরমধ্যেই নীহারিকার ফোন বেজে উঠল। তড়িঘড়ি করে নীহারিকা কলটি তুলতেই ঐ পাশ থেকে নাজনীন বেগম নীহারিকাকে বললেন,
“নীহা আমি তোমার আন্টি বলছিলাম। রূপল কী তোমাদের বাসায় এসেছে?”
“এসেছিল আন্টি। এখন আবার চলে গেছে।”
“আমার একটা হেল্প করতে পারবে মা?”
“কী হেল্প আন্টি?”
“রূপলের জন্য একটা মেয়ে দেখেছিলাম। কিন্তু রূপল কিছুতেই মেয়েটার সাথে দেখা করতে চাইছেনা। তুমি কী পারবে তাকে একটু রাজি করাতে? এখন যেহেতু তোমার সাথে রূপলের ভালো সম্পর্ক তাই তোমার কাছে প্রস্তাবটা রাখা।”
হতবাক হয়ে গেল নীহারিকা! অধীর গলায় প্রশ্ন বলল,
“আন্টি আপনি কী সুহাসিনীর ব্যাপারে কিছুই জানেন না?”
“ওহ্। তুমিও সব জেনে গেছ?”
“আন্টি প্লিজ এমনটা করবেন না। দুজন ভালোবাসার মানুষকে এভাবে আলাদা করবেন না।”
“আমি আমার ছেলেকে সুখী দেখতে চাই আর কিছুই না। তুমি আমার হেল্প করতে পারবে কী-না বলো?”
#চলবে…?