ফেরারি প্রেম পর্ব-৬২+৬৩

0
394

#ফেরারি_প্রেম
#পর্ব_৬২
#নিশাত_জাহান_নিশি

রূপলের দিকে অমিমাংসিত প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তাকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে নীহারিকা গটগট করে হেঁটে রুম থেকে বের হয়ে গেল। তখনি রূপল হতভম্ব গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,

“হোয়াট?”

রূপলকে সম্পূর্ণরূপে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়ে নীহারিকা মুখ টিপে হাসল। বেচারা রূপলকে বারো ঘাটের পানি খাওয়াবে সে! কবুল বলার আগ মুহূর্ত অবধি তাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে আঙরা করে ছাড়বে। সে তার এই সিদ্ধান্তে অনড়। তার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই হলো রূপল যেন নেক্সট টাইম কোনো রকম ফালতু জেদ দেখানোর সাহস না পায়। হুটহাট কোনো অবিবেচকমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে ভেবেচিন্তে নেয়। ভুল থেকে অন্তত ভালো কিছু যেন শিক্ষা পায়।

দ্রুত পায়ে হেঁটে নীহারিকা বাড়ির সদর দরোজার দিকে চলে এলো। কৌতুহল নিয়ে রূপল হনহনিয়ে হেঁটে নীহারিকার পিছু নিলো। পেছন থেকে সে নীহারিকার ডান হাতটি টেনে ধরল। গরম দৃষ্টি নিক্ষেপ করল নীহারিকার আচমকিত মুখমণ্ডলে। তীক্ষ্ণ গলায় শুধালো,

“মিস এলিনা সম্পর্কে তুমি কীভাবে জানো?”

প্রত্যত্তুরে নীহারিকাও বেশ কড়া গলায় বলল,

“আচ্ছা আপনি আমাকে কী ভাবেন বলেন তো? এই একবছরে আমি আপনার কোনো খোঁজ খবর রাখিনি? এটলিস্ট আমি আপনার মতো সেলফিস নই ওকে? যে দূরে চলে গেলেই কাছের মানুষদের খোঁজ খবর নিতে ভুলে যাব।”

“হাউ স্ট্রেঞ্জ নীহু! তুমি ওখানে কার থেকে আমার খোঁজ খবর নিয়েছ?”

“এই বিষয়ে আমরা এখন না যাই ওকে? ভালো লাগছে না আমার কিছু। আপনি আসার পর থেকেই শুভ কাজে বাঁধা পরছে! একটা জিনিস মাথায় রাখবেন। আপনার উটকো ঝামেলার জন্য যেন আমার বিয়ে না ভেঙে যায়! বিয়ে নিয়ে আমি খুব সিরিয়াস। এতটাই সিরিয়াস যা আমি আপনাকে বলে বুঝাতে পারবনা! রাহুলের বিষয়টা যত দ্রুত পারুন সলভ করুন। আই রিপিট বড়ো কোনো ঝামেলা যেন না হয়।”

“রাহুলকে নিয়ে ঝামেলা হওয়ার কোনো চান্সই নেই। আচ্ছেমত ক্যালিয়েছি তাকে। আমার সম্পর্কে মুখ খোলার সাহসও পাবেনা সে! এই বিষয় নিয়ে আমি আপাতত ভাবছিনা। যদিও ঝামেলা হয়, এতে অবশ্য আমারই ভালো। অন্তত তোমার বিয়েটা তো ভাঙবে! আমি কোনো ক্রাইসিসে ফেঁসে গেলে তুমি নিশ্চয়ই হেসে হেসে বিয়ে করতে যাবেনা?”

“হাহ্। দিবাস্বপ্ন দেখছেন আপনি! আপনাকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেলেও না? আমি আমার বিয়ে ভাঙব না। বিয়ে তো আমি করেই ছাড়ব!”

রূপলের হাতটা ঝেড়ে ফেলে দিলো নীহারিকা। মহা বিপাকে রূপল। যাওয়ার সময় নীহারিকা হতভম্ব রূপলকে সুমিষ্ট গলায় বলে গেল,

“বাড়ির সবাইকে নিয়ে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই আমাদের বাসায় চলে যাবেন। আপনার প্রাক্তনের বিয়ে বলে কথা একটু সেজেগুজে না গেলে হয় বলুন? আমি আন্টিকে বলে দিয়েছি আপনাকে একটা হলুদ রঙের পাঞ্জাবি দিতে! হলুদ পাঞ্জাবি পড়েই আপনি আমার হলুদে যাবেন ওকে?”

তেজী রূপ নিয়ে রূপল নীহারিকার মুখের উপর ঠাস করে দরোজাটি বন্ধ করে দিলো! দরোজায় জোরে এক লাথ মেরে সে দরোজার ঐ প্রান্তে অট্ট হাসতে থাকা নীহারিকাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ভাগ আমার সামনে থেকে! আমি যাবই না তোর হলুদে!”

রূপলকে আর ঘাটাতে চাইলনা নীহারিকা! কম বিচ্ছেদে নিশ্চয়ই রূপল তাকে তুই তুকারি করেনি। হু হা করে হাসতে হাসতে নীহারিকা রূপলদের বাড়ি থেকে প্রস্থান নিলো। রিকশায় ওঠে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ফিরে এলো। লামিয়াদের বাড়ি থেকে আর কোনো শোরগোলের আওয়াজ শোনা যাচ্ছেনা। হয়ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে।

বাড়ি ফিরে নীহারিকা প্রথমে নিহালের সাথে দেখা করতে গেল। রুমে তখন পিয়াসাও উপস্থিত ছিল। নীহারিকাকে দেখে পিয়াসা অধৈর্য্য হয়ে উঠল। পেরেশানি গলায় নীহারিকার দিকে প্রশ্ন ছুড়ল,

“ওখানের কী খবর নীহারিকা? ভাইয়া ভালো আছে তো?’

মলিন হাসল নীহারিকা। পিয়াসাকে শান্তনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নরম সুরে বলল,

“ভালো আছে ভাবি। টেনশন করার কোনো কারণ নেই। তবে কিছু কিছু জায়গা একটু কেটে ছিঁড়ে গেছে৷ মেডিসিন লাগালেই ঠিক হয়ে যাবে। তুমি অযথা হাইপার হয়ো না।”

নিহাল সন্দিহান গলায় নীহারিকার দিকে প্রশ্ন ছুড়ল,

“বিয়েটা সুস্থভাবে করতে পারবে তো শালা?”

“পারবে না মানে? দৌড়াবে! আচ্ছা যাই হোক, এখন বলো তো রাহুলের কী খবর? দেখে এসেছ তাকে? বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়নি তো তার?”

“আরে ধ্যাত। তেমন সাংঘাতিক কিছু হয়নি! মাথা ফেটেছে অনেকখানি আর হাত-পায়ের কিছু কিছু অংশ কেটেছিঁড়ে গেছে। এই সামান্য বিষয় নিয়ে পুলিশ কেইসও হবেনা। তাছাড়া আমি যখন রাহুলকে দেখতে কেবিনে গেলাম তখন তার মধ্যে আক্রমনাত্নক ভাব দেখিনি! উল্টো আমাকে বলছিল তোর বিয়েটা যেন ভালোভাবে হয়! রূপলের ক্যালানি খেয়ে হয়ত বেচারা সোজা হয়ে গেছে।”

“হ্যাঁ হতে পারে।”

“আচ্ছা এখন এসব বাদ দে। মনে হয়না বিয়েতে কোনো ঝামেলা হবে। তুই নিশ্চিন্ত থাক। খেয়েদেয়ে কিছুক্ষণ ঘুমা। বিকেলে পার্লার থেকে মেয়েরা আসবে। সন্ধ্যায় হলুদ। সো হলুদের প্রিপারেশন নে।”

নিহালের কথায় সম্মতি জানালো নীহারিকা। রুম থেকে প্রস্থান নেওয়ার পূর্বে সে উদ্বিগ্ন গলায় ভাবুক পিয়াসাকে বলল,

“ভাবি? কাইন্ডলি একটু আন্টিকে ফোন করে বলবে রূপলের কাটাছেঁড়া জায়গাগুলোতে একটু মেডিসিন লাগিয়ে দিতে? একচুয়েলি আমি ইচ্ছে করেই তার প্রতি সিমপ্যাথি দেখাইনি! এতে হয়ত আমার ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।”

“আচ্ছা আমি বলছি।”

ফোন হাতে নিয়ে পিয়াসাও যেইনা তাড়াহুড়ো করে নীহারিকার পিছু পিছু রুম থেকে বের হতে যাবে অমনি নিহাল পেছন থেকে মিহি স্বরে পিয়াসাকে ডাকল! ইতস্তত গলায় শুধালো,

“হলুদ শাড়ি আছে তোমার?”

পিছু ঘুরে পিয়াসা শূণ্য দৃষ্টিতে নিহালের দিকে তাকালো। ঝট করে নিহাল তার চোখ নামিয়ে নিলো! অনুভূতি কিছুতেই বুঝতে দেওয়া যাবেনা পিয়াসাকে। নির্জীব গলায় তখন পিয়াসা বলল,

“হুম আছে।”

“পার্লারের মেয়েরা এলে তাদের থেকে সাজগোজ করে নিবেন!”

“তুমি থেকে আপনি? আচ্ছা হোয়াটএভার! এত সেজেগুজে কী লাভ হবে বলুন? যে মানুষটি আমার সাজগোজ দেখবে, আমার সৌন্দর্য দেখবে সেই মানুষটিই তো আমাকে এখন ঘৃণা করে! তাই ওসব সাজগোজের আমার আর প্রয়োজন নেই।”

ভরাট গলায় কথাগুলো বলে পিয়াসা বুকভরা দুঃখ ও আক্ষেপ নিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে রুম থেকে প্রস্থান নিলো। পিয়াসার যাওয়ার পথে তাকিয়ে নিহাল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মাথা নুইয়ে গভীর অনুতাপে ভরা গলায় বিড়বিড় করে বলল,

“শাস্তি কী তবে বেশিই হয়ে গেল?”

______________________________________

রাত আটটা চলমান তখন। হলুদ কাপড়ে, হলুদের বাহারি ও চোখ জুড়ানো সাজে মাথায় বড়ো ঘোমটা টেনে নীহারিকা তার বেডরুমে বসে আছে। গরমে উসখুস করছে সে। ভারী মেকাপে অস্বস্তি বোধ করছে। এই প্রথম ব্রাইডাল সাজল সে। একটু তো হাসফাস লাগবেই। বাড়িতেও মেহমানরা গিজগিজ করছে। হৈ, হট্টগোল, শোরগোল হরদম লেগেই আছে। একটু পরেই নীহারিকাকে স্টেজে নিয়ে যাওয়া হবে। হলুদ পরানো হবে। পিয়াসাকে ধারে কাছে খুঁজে না পেয়ে নীহারিকা তার বেস্টফ্রেন্ড তুলি ও দিশাকে পাঠালো রূপলদের বাড়ি থেকে কেউ এলো কিনা তা এক নজর দেখে আসার জন্যে।

কয়েক মাস জেল খেঁটে আসার পর দিশা এখন পুরোপুরি ভালো হয়ে গেছে! নীহারিকার হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে বহুবার। তাই নীহারিকা বাধ্য হয়ে দিশাকে আরও একবার সুযোগ দিয়েছে। এই তো পাঁচমাস আগে থেকেই নীহারিকা দিশার সাথে চলাফেরা করছে। এই অবধি খারাপ কিছু তার চোখে পরেনি। হয়ত মন থেকেই ভালো হয়ে গেছে দিশা।

সানি ও ইনভাইটেড ছিল নীহারিকার বিয়েতে! তবে কাজের ব্যস্ততার কারণে সে আজও এটেন্ড করতে পারেনি নীহারিকার গাঁয়ে হলুদে। তবে কাল বিয়েতে নিশ্চয়ই সানি এটেন্ড থাকবে। হাজার কাজের ব্যস্ততাও তাকে আটকে রাখতে পারবেনা। অতীতের সব কালো অধ্যায় ও রেশারেশি ভুলে তারা সবাই এখন ভালো বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে। বরং আগের চেয়েও তাদের বন্ধুত্ব আরও বেশী স্ট্রং হয়েছে।

প্রায় আধঘণ্টা অতিবাহিত হয়ে গেল। তবে দিশা ও তুলির ফেরার সাথে কোনো নাম গন্ধ নেই। এতক্ষণ লাগে নাকি একটা খবর নিয়ে আসতে? এত অলস ও অপদার্থ কেন তারা? কোনো কাজ হয়না তাদের দ্বারা। রূপল আদোতে তার হলুদে এলো কিনা এখনও জানতে পারলনা নীহারিকা। আর এজন্যই তো নীহারিকার মনটা কেমন ব্যাকুল হয়ে আছে।

বিরক্ত হয়ে নীহারিকা মাথা থেকে ঘোমটাটি খুলল। মুখশ্রীতে রাগী ভাব ফুটিয়ে তুলল। অমনি তার মনে হলো কেউ ঝড়ের বেগে দরোজা খুলে তার রুমে প্রবেশ করল। আচম্বিত ও হকচকানো দৃষ্টি ফেলে নীহারিকা দরোজার দিকে তাকাতেই দেখল হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে কেউ একজন উল্টোদিক ফিরে রুমের দরোজায় খিল দিচ্ছে। চোখের পলকে পিছু ঘুরে দাড়ালো রূপল! ঠোঁটের কোণে লেগে আছে তার ক্রুর হাসির রেখা!চোখে বিরাজমান রসিকতা৷ কপালেও ব্যান্ডেড তার৷ হলুদ পাঞ্জাবিতে বেশ মানিয়েছে তাকে। কিন্তু হঠাৎ এমন মিচকে হাব ভাবের কারণ কী তার?

শঙ্কায় ডুবে গেল নীহারিকা। বিস্ফোরিত দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে রইল রূপলের দিকে। রূপলকে দেখতে মোটেও উদাস বা বিষণ্ন মনে হচ্ছেনা! বেশ চনমনে ও দুষ্টু ভাব তার মধ্যে বিদ্যমান। রাতারাতি রূপলের এই পরিবর্তনের কারণ সে বুঝল না। ছ্যাকা খাওয়া ভাব পরিবর্তনের কারণ কী তার? দেবদাস থেকে হঠাৎ রোমিও ভাব? পাঞ্জাবির হাতা ভাজ করতে করতে রূপল এগিয়ে এলো নীহারিকার দিকে৷ ধপ করে বসল নীহারিকার পাশে। চোখ টিপে দিলো নীহারিকাকে! মাথাটা এগিয়ে আনল জড়তাগ্রস্ত নীহারিকার মুখের দিকে। বেসামাল দৃষ্টি নিক্ষেপ করল নীহারিকার মুগ্ধিত মুখশ্রীতে। ঠোঁট কামড়ে ডানপিটে গলায় বলল,

“হায়এ মেরি জান। তোমার হটনেস তো আমার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিলো! রূপের আগুনে প্রাক্তন প্রেমিকের দিলকে এতটা নির্মমভাবে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছ, না জানি তোমার বরের দিলকে কতটা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিবে তুমি! ইশশ! বেচারা কতটা লাকি। আমার তো তার গুড লাকের কথা চিন্তা করেই ভয়ঙ্কর জেলাস ফিল হচ্ছে!”

বুকে কম্পন শুরু হলো নীহারিকার! দুরুদুরু বুকে সে জায়গা থেকে হটতে লাগল। রূপল কোনোভাবে তার প্ল্যানিং ধরে ফেলল না তো? রাতারাতি এত নরমাল কীভাবে হয়ে গেল সে? নিশ্চয়ই প্ল্যানিংয়ে কোনো গন্ডগোল হয়ে গেছে। নীহারিকার পিছু হটা দেখে রূপল খপ করে নীহারিকার হাত চেপে ধরল। ভ্রু উঁচিয়ে প্রশ্ন ছুড়ল,

“নিজেকে খুব চালাক মনে করো তাইনা?”

শুকনো ঢোঁক গিলল নীহারিকা! মনে সংশয় কাজ করতে লাগল তার। তীরে এসে বুঝে তরী ডুবে গেল না তো? কাঠ কাঠ গলায় সে শুধালো,

“মামামানে?”

আগ্রাসী ভাব নিলো রূপল। নীহারিকার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“একদম পল্টি নিবা না আমার সাথে। কী ভাবছ? তুমি না বললে আমি কিছু বুঝতে পারব না? এতটাই বোকা আমি?”

“কী হইছে বলবেন তো?’

নীহারিকার হাত দুটো মেলে ধরল রূপল। দুই হাতের তালুতেই সূক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সে। হুড়োহুড়ি করে নীহারিকা তার হাত দুটো গুটিয়ে নিলো! এই বুঝি ধরা পরে গেল সে৷ রাগ দেখিয়ে রূপল পুনরায় নীহারিকার হাত দুটো টেনে এনে মেলে ধরল। ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো ধরে পড়ে যাওয়া নীহারিকার দিকে! প্রশ্ন ছুড়ল,

“তুমি কী ভেবেছ? এতকিছুর পরেও আমি বুঝতে পারবনা তোমার বর কে?”

ঝট করে অন্য পাশ ফিরে গেল নীহারিকা! জিভ কেটে কপাল চাপরাতে লাগল সে। এখন কথা ঘুরাবে কী করে সে? রূপলের নাম তো হাতে আর্ট করা তার! তবে মনে হচ্ছে শুধু এই থেকে নয় রূপল অন্য কোনো মাধ্যম থেকেও কিছু আঁচ করতে পেরেছে। তবে সেই মাধ্যমটা কী?

অকপট হেসে রূপল পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল নীহারিকাকে! শক্ত বাহুতে কোমর প্যাঁচিয়ে ধরল তার। হেয়ালি স্বরে বলল,

“তুমি চলো ডালে ডালে আর আমি চলি পাতায় পাতায় ওকে? আমাকে গোল খাওয়ানো এত সহজ নয় মিস নীহু রানী! কাল রাতেই তুমি আসল মজাটা টের পাবা! যখন তুমি আজীবনের জন্য শুধু আমার হবা।”

গরম শ্বাস ফেলল রূপল। নীহারিকার উষ্ণ শরীরের ছোঁয়ায় ক্রমশ সে উত্তেজিত হয়ে উঠছিল। রাগী ও ভীরু নীহারিকার পিঠে সে সম্মোহিত হয়ে নাক ঘঁষল। নেশায় আচ্ছন্ন গলায় বলল,

“আমি চাইলেও আজ বেশিক্ষণ তোমার আশেপাশে থাকতে পারবনা নীহু। অসম্ভব সুন্দরী দেখাচ্ছে তোমাকে। ঠিক যেন অপ্সরী। কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলছি আমি ইট’স ফ্যাক্ট! তাই যত কথা যত শাস্তি সব আগামীকালের জন্যই তোলা রইল! এখন তো আমি তোমাকে হলুদ পড়াতে এসেছি।”

নীহারিকাকে ছেড়ে বসল রূপল। টেবিলের উপরে থাকা হলুদের কৌটোটি থেকে হাত ভর্তি হলুদ নিলো। মুহূর্তের মধ্যেই বাকরুদ্ধ নীহারিকার দুই গালে আলতো করে হলুদ মেখে দিলো! টুপ করে নীহারিকার কপালে চুমু খেয়ে মিহি সুরে বলল,

“থ্যাংকস নীহু। আমাকে আরও একবার সুযোগ দেওয়ার জন্য। আমাকে আমার চেয়েও বেশী বুঝার জন্য! আমার ভালোবাসাকে সম্মান করার জন্য।”

হনহনিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল রূপল। ছুটে গিয়ে স্টোর রুমের দরোজা খুলে দিলো। হাঁপাতে হাঁপাতে বদ্ধ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্টোররুম থেকে বের হয়ে এলো তুলি ও দিশা! বাঁকা হেসে রূপল তাদের দুজনের দিকে তাকালো। ভাবশূণ্য গলায় বলল,

“থ্যাকস অ্যা লট শালিকারা। সঠিক সময়ে সত্যিটা ফাঁস করার জন্যে!”

জায়গা থেকে প্রস্থান নিলো রূপল। শঙ্কিত দৃষ্টি দিশা ও তুলি দুজন দুজনের দিকে তাকালো। শুকনো ঢোঁক গিলে সমস্বরে বলল,

“নীহা আজ আমাদের আস্ত রাখবে তো? জিজুর জালে তো আমরা পা দিয়ে ফেললাম! সব প্ল্যান ভেস্তে গেল নীহারিকার।”

ভীরু পায়ে হেঁটে দুজনই নীহারিকার রুমে প্রবেশ করল। রুমে ঢুকতেই দেখল নীহারিকা হলদে মুখে মারাত্মক রাগী ভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে দিশা ও তুলির দিকে! এক্ষুণি বুঝি সপাটে দুটি চড় পরবে তাদের গালে! সেই বুঝে আগে থেকেই গালে হাত রেখে দিশা ভীতসন্ত্রস্ত গলায় নীহারিকাকে বলল,

“আমাদের কী দোষ বল? জিজুই তো আমাদের স্টোর রুমে আটকে রেখেছিল! বদ্ধ ঘরে দম হয়ে আসছিল আমাদের। তাইতো বাধ্য হয়ে সত্যিটা স্বীকার করলাম!”

ধপাধপ পায়ে হেঁটে নীহারিকা এগিয়ে এলো দুই আহাম্মকের দিকে। বদরাগী হয়ে কান মোচড়ে ধরল দুজনের। অমনি নাকমুখ কুঁচকে নিলো দিশা ও তুলি। খিটখিটে গলায় নীহারিকা বলল,

“তোদের জায়গায় যদি আমি থাকতাম না? মরে গেলেও সত্যিটা স্বীকার করতামনা। দুজনই হয়েছিস আহাম্মক! সত্যিটা স্বীকার না করলে নিশ্চয়ই রূপল তোদের মেরে ফেলত না? স্টোররুমে আটকে রাখা এটা তার ট্রেপ ছিল মাত্র। তোদের ভুলের জন্য আমার সব প্ল্যান মাঠে মারা গেল। কত ইচ্ছে ছিল কবুল বলার আগ মুহূর্তে বদরাগী ভীমরুলটাকে বলব বর সেজে আসতে! সারপ্রাইজ দিব তাকে! ধ্যাত, সব অনর্থ হয়ে গেল।”

যে যাই বলুক বা করুক না কেন রূপল আজ মহাখুশি! এক এক করে সে তার মা-বাবা থেকে শুরু করে পিয়াসা, নিহাল ও তার হবু শ্বশুড় শ্বাশুড়ি মা সবাইকে ধন্যবাদ জানালো! উদ্ভ্রান্তের মত সে সজল ও শাকিলের সাথে স্টেজে কতক্ষণ ধেই ধেই করে নাচানাচি করল! আত্নীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী সবার কাছে এবার পরিষ্কার হলো রূপলই হতে যাচ্ছে নীহারিকার বর। বিয়ের দাওয়াত পাওয়ার পর থেকেই সবার মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহ কাজ করছিল যে কে হতে পারে নীহারিকা বর। অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটল।

খুশিতে দুই হাতে টাকা ছিটাতে লাগল রূপল! শাকিল ও সজলকে টাকা দিলো ব্যাচালর পার্টির এরেঞ্জমেন্ট করতে। সেখানে রূপলের এলকার সব ভাই ব্রাদারস থেকে শুরু করে উজ্জ্বলকে ও সাথে রাখার প্ল্যানিং করল রূপল! মাস চারেক হলো সুইটিকে বিয়ে করেছে উজ্জ্বল! সময়ের সাথে সাথে সুইটিকে মানিয়ে নিয়েছে সে। সুইটির নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কাছে হার মেনেছে। নোংরা মনমানসিকতা পাল্টে নিজেকে যতখানি সম্ভব শুধরে নিয়েছে। কানাডায় যাওয়ার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস পর উজ্জ্বল নিজে থেকেই রূপলের সাথে যোগাযোগ করে। তার খারাপ ব্যবহারের জন্য রূপলের কাছে ক্ষমা চায়। মোটামুটি তাদের মধ্যে ভালো একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

নীহারিকার হলুদের অনুষ্ঠানে সবাই বেশ সাজুগুজু করলেও পিয়াসা বিধবার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে! না আছে তার পরনে হলুদের রঙচঙা শাড়ি না আছে কোনো সাজগোজ। নিহাল অনেকক্ষণ যাবত সুযোগ খুঁজছিল পিয়াসাকে একা পাওয়ার। রাগে গজগজ করছে সে। নিহালের কথা অমান্য করল সে? এর বড়ো স্পর্ধা তার? সুযোগ পেতেই নিহাল ভীড়ের মাঝখান থেকে পিয়াসাকে টেনে নিয়ে এলো তাদের বেডরুমে! বিস্ফোরক হয়ে পিয়াসা তাকিয়ে রইল হম্বিতম্বি করতে থাকা নিহালের দিকে। দরোজার খিল আটকে নিহাল আগুন ঝরা দৃষ্টিতে তাকালো পিয়াসার দিকে। বাজখাঁই গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,

“কী ব্যাপার? কথা কানে যায়না আমার? কতবার করে বলেছি আজ একটু সেজেগুজে থাকতে? শুনেছ আমার কথা?”

#চলবে…?

#ফেরারি_প্রেম
#পর্ব_৬৩
#নিশাত_জাহান_নিশি

“কী ব্যাপার? কথা কানে যায়না আমার? কতবার করে বলেছি আজ একটু সেজেগুজে থাকতে? শুনেছ আমার কথা?”

বিধ্বস্ত দৃষ্টিতে পিয়াসা তাকিয়ে রইল বিক্ষুব্ধ নিহালের দিকে। হাতটি অতি কঠিনভাবে চেপে ধরে রাখার দরুন ঈষৎ ব্যথার অনুভূতি হচ্ছে পিয়াসার হাতে। তবে নিহাল তা বুঝতে নারাজ। মাথায় রাগ চড়ে গেছে তার। নিরুপায় হয়ে মাথা নুইয়ে পিয়াসা চোখ জোড়া খিঁচে বুজে করে নিলো। ব্যথা লুকিয়ে কলুষিত গলায় বলল,

“আপনাকে তো আমি প্রথমেই বলেছিলাম নিহাল, সাজগোজ করতে আমার এখন ভালো লাগেনা। তাছাড়া আমার সামান্য সাজগোজের জন্য নিশ্চয়ই কোনো শুভ কাজ থেমে থাকবেনা?”

“ঘাড়ত্যাড়ামো করছ? আগের রূপ দেখাচ্ছ আবার? এই তোমার ভালো হওয়ার নমুনা?”

মাথা উঁচিয়ে পিয়াসা নিথর দৃষ্টিতে তাকালো রাগী নিহালের দিকে। আজও নিহাল তাকে ভুল বুঝছে? চাপা অভিমান বুঝতে পারছেনা তার? অতীতের সাথে আবার বর্তমানকে গুলিয়ে ফেলছে? তবে কী ভবিষ্যতেও পিয়াসাকে বুঝতে পারবেনা নিহাল? এভাবেই নিরাগভাবে চলতে থাকবে তার সংসার জীবন? মনে আঘাত নিয়ে নিহালের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো পিয়াসা। নাক টেনে অশ্রুভেজা গলায় বলল,

“দেখি হাতটা ছাড়ুন ব্যথা লাগছে।”

নিহাল তার জেদে অনড়। পিয়াসার হাতটি আরও শক্তভাবে চেপে ধরল সে! দাঁত গিজগিজিয়ে বলল,

“ছাড়বনা। আমার কথা অমান্য করার শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে।”

ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলল পিয়াসা। চোখে জল নিয়ে সে ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো জিদ্দি নিহালের দিকে। অবাক হলো নিহাল! দীর্ঘ দেড় বছর পর আজ আবারও পিয়াসা তার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালো। আবারও অতীতের বিধ্বংসী রূপে ফিরে এলো। পিয়াসার এই রূপটিই হয়ত এতদিন মিস করছিল নিহাল! সত্যি বলতে, পিয়াসার শান্তশিষ্ট হাবভাবে বিরক্তি এসে গিয়েছিল তার। মাঝে মাঝে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটু আধটু ঝগড়াঝাঁটি না হলে সবকিছু যেন পানসে লাগে। ঘাড়ের রগ টান টান করে পিয়াসা উত্তেজিত গলায় বলল,

“আর কত শাস্তি দিবেন হুম? আর কত শাস্তি দিবেন আমায়? গত দেড়টা বছর ধরে তো আমাকে প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্তে, প্রতিটা সেকেন্ডে সেকেন্ডে শাস্তি দিয়ে আসছেন! সুখ শান্তি সব কেড়ে নিয়েছেন আমার। এরপরেও আপনার সাধ মিটেনি? এবার কী আমাকে জানে মেরে শান্তি হবেন আপনি?”

তৎক্ষণাৎ পিয়াসার হাতটি ছেড়ে দিলো নিহাল। পিছু ঘুরে দাড়ালো সে। চুল টেনে রাগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করল। পিয়াসাকে এবার একটু আপন করে নেওয়া উচিৎ তার! কোনো সম্পর্কেই অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ঠিক নয়। এতে হীতে বিপরীত হতে পারে। রাগে ফোঁস ফোঁস করছিল পিয়াসা! রাগকে কিঞ্চিৎ দমিয়ে নিহাল মলিন মুখে ঘুরে দাড়ালো পিয়াসার দিকে৷ শান্ত সুরে বলল,

“রেডি হয়ে এসো। আমরা একসাথে স্টেজে যাব। নীহাকে হলুদ পড়াব।”

তেজী গলায় পিয়াসা চ্যাচিয়ে বলল,

“এই লোক দেখানো ভালোবাসার কোনো প্রয়োজন নেই আমার! যদি ভালোবাসতে হয় তো মন থেকে বাসুন। না হয় আমায় মুক্তি দিন।”

মুহূর্তেই নিহাল জাপটে ধরল পিয়াসাকে! বুকের মাঝে নিগূঢ়ভাবে মিশিয়ে নিলো তাকে। বহুদিন পর দেহে ও মনে সুখ খুঁজে পেল নিহাল। পিয়াসার সাথে কঠিন হয়ে নিহাল নিজেও ভালো ছিলনা এতগুলো দিন। পিয়াসাকে শায়েস্তা করার জন্য এছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিলনা তার হাতে। নিহাল কঠিন হতে পেরেছে বলেই পিয়াসা নিজেকে শুধরাতে পেরেছে। সংসারে মনোযোগী হয়েছে। রূপল ও নীহারিকার ভালোবাসারও সুন্দর একটি পরিণতি ঘটছে। ভালোবাসার আলিঙ্গন পেয়ে রাগ দমে হয়ে এলো পিয়াসার। অশান্ত মন তার মুহূর্তেই শান্ত হয়ে উঠল। দু-হাত দ্বারা জড়িয়ে ধরল সে নিহালকে। অসহায় গলায় কেঁদেকেটে বলল,

“প্লিজ মাফ করে দিন না আমায়। অতীতে যা হয়েছে সব ভুলে যান। আমি নিজেও অনুতপ্ত আমার অতীতের কুকর্মে। এখন তো আমি নিজেকে শুধরে নিয়েছি বলুন? সবার সাথে নিজেকে মানিয়েও নিয়েছি। স্বামী, সংসার সবাইকে বুঝতে শিখেছি। আর একটা সুযোগ কী দেওয়া যায়না আমায়?”

বহুদিন পর পিয়াসাকে কাছে পেয়ে নিহাল যেন ডুবে গেল পিয়াসাকে আপন করে নেওয়ার নেশায়। উত্তেজিত হয়ে সে ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দিলো পিয়াসার। ঘোরে আচ্ছন্ন গলায় বলল,

“সুযোগ চেয়েছ সুযোগ দিলাম। বিশ্বাস করলাম তুমি নিজেকে শুধরে নিয়েছ। স্বামী, সংসার ও নিজেকে বুঝতে শিখেছ। আমি চাইব তুমি ভবিষ্যতেও এমনই থাকো। অতীতের তুমিতে আর ফিরে না যাও! আমার বিশ্বাসকে মূল্য দাও। আমার ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করো।”

খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে উঠল পিয়াসা। সুখের অশ্রু গড়াতে লাগল তার দু-চোখ বেয়ে। নিহালকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরল সে। উৎফুল্লিত গলায় বলল,

“তুমি যা চাও তাই হবে নিহাল। আমার ভুলের কারণে আর কখনও তোমার ফেইস লস হবেনা। থ্যাংকস আমাকে আরও একবার সুযোগ দেওয়ার জন্য। তুমি জানো না নিহাল আজ আমি ঠিক কতখানি খুশি হয়েছি। থ্যাংক ইউ সো মাচ নিহাল। থ্যাংক ইউ সো মাচ।”

মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল দুজনে। সমস্ত রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ, যন্ত্রণা ভুলে একে অপরকে আপন করে নিলো।নিহালের কথামত পিয়াসা সেজেগুজে তৈরী হয়ে নিলো। পিয়াসাকে দেখে নিহালের চোখ জুড়ালো। দুজনই স্টেজে গিয়ে নীহারিকাকে হলুদ পড়ালো। হলুদ শাড়ি পড়ে হৃদি সেই কখন থেকেই নীহারিকার কোলেই বসেছিল! নড়ছেই না সে নীহারিকার আশপাশ থেকে। দুষ্টু বুড়িকে সবাই আদর করে দিচ্ছে। তার মুখেও সবাই সমান তালে হলুদ মাখিয়ে দিচ্ছে। খিলখিল করে হেসে উঠছে হৃদি। আত্মীয় -স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশীরা সবাই এক এক করে নীহারিকাকে হলুদ পড়ালো। নাচ-গান, হৈ, হুল্লোড় সব হলো।

তবে নাজনীন বেগম নীহারিকাকে হলুদ পড়াতে এসে কেঁদে দিলেন! ঘটনার আকস্মিকতায় নীহারিকাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। ভরাট গলায় বললেন,

“আমাকে মাফ করে দিস মা। আমার ভুলের শাস্তি আমার পাগল ছেলেটাকে দিসনা! অতীতে আমার জেদের জন্যই তোদের বিচ্ছেদ হয়েছিল। আমার নোংরা মনমানসিকতার জন্যই আমার ছেলেটা আত্নহননের পথ বেছে নিয়েছিল। আমাকে ছেড়ে, তার গোটা পরিবারকে ছেড়ে, তোকে ছেড়ে অদূর কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিল। সবাইকে ছেড়ে গিয়ে কম কষ্ট পায়নি আমার ছেলেটা। ধুঁকে ধুঁকে মরেছে হয়ত। ভবিষ্যতে আর কোনো কষ্ট দিসনা তাকে। আমার ছেলের সুখেই যে আমার সুখ।”

আলতো হেসে নীহারিকাও তার শ্বাশুড়িমাকে জড়িয়ে ধরল। ভরসা যুগালো তার শ্বাশুড়ি মাকে। আশ্বস্ত গলায় বুঝিয়ে বলল,

“আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন আন্টি। আপনার পরে যদি আপনার ছেলেকে কেউ নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে থাকে তবে তা একমাত্র আপনার হবু পুত্রবধূই হবে! ভালোবাসার মানুষকে কীভাবে যত্নে, আদরে ও গুরুত্বের সাথে আগলে রাখতে হয় তা আমার বেশ ভালোভাবেই জানা আছে আন্টি। আর অতীতে যা হয়েছে সব ভুলে যান। আমিও সব ভুলে গেছি। মানুষ মাত্রই তো ভুল হয় বলুন? তাই সেই ভুলকে মনে রেখে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ খারাপ করার কোনো মানেই হয়না।”

নীহারিকাকে ছেড়ে বসলেন নাজনীন বেগম। আবেগী হাবভাব পাল্টে তিনি আচমকা গম্ভীর ভাব নিয়ে নীহারিকার কান টেনে ধরলেন! বেসুরো গলায় বললেন,

“এই মেয়ে? তুমি এখনও আমাকে আন্টি আন্টি করে ডাকছ? আজ বাদে কাল তুমি আমার ছেলের বউ হবে আর আজও কিনা তুমি আমাকে আন্টি আন্টি করছ?”

নাকমুখ কুঁচকে নিলো নীহারিকা! ব্যগ্র হেসে দুষ্টু গলায় বলল,

“উফফস সরি মা। ভুল হয়ে গেছে। আপনার পাগলা ছেলেটা বোধ হয় আমাকেও পাগলী বানিয়ে দিয়েছে!”

হবু বউ ও শ্বাশুড়ি মায়ের মধ্যে এই দুষ্টু মিষ্টি মুহূর্তটি নিহাল ক্যামেরাবন্দি করে নিলো! নিহালের পাশে দাড়িয়ে পিয়াসা ছবিটির দিকে তাকিয়ে হু হু করে হাসতে লাগল। দূরে দাড়িয়ে চোখে আনন্দ অশ্রু নিয়ে মারজিনা বেগম ও আফজাল হোসেন সব দেখছিলেন! একদিকে নিহাল ও পিয়াসার সুন্দর সম্পর্ক অন্যদিকে নীহারিকা ও তার শ্বাশুড়ি মায়ের মধ্যে খুনসুটি দেখে তারা যেন দুজনই আবেগ আপ্লুত হয়ে উঠলেন। চোখ দুটি তাদের তৃপ্ত হয়ে উঠল। স্বস্তির শ্বাস ফেললেন মারজিনা বেগম। আশাবাদী গলায় বললেন,

“আমার দুই ছেলে মেয়ের সুখে যেন কারো নজর না লাগে। জীবনভর তারা যেন এভাবেই হাসিখুশি থাকে।”

কথাগুলো শেষ করে মারজিনা বেগম আলতো হাসলেন। নিশ্চিন্ত হয়ে আফজাল হোসেনের কাঁধে মাথা রাখলেন। মারজিনা বেগমের বাহু শক্ত করে ধরলেন আফজাল হোসেন। স্বস্তিকর গলায় তিনি বললেন,

“আল্লাহ্’র উপর ভরসা রাখো মারজিনা। ইনশাআল্লাহ্ আমাদের ছেলেমেয়ের খুশিতে কখনও কারো নজর লাগবেনা।”

এরমাঝেই রূপল দুরন্ত ও চনমনে হয়ে যেন কোথা থেকে ধেয়ে এলো! পরিবারের সবাইকে ডেকে এনে একত্রে স্টেজে উঠালো। সেখানে তার চাচা-চাচী থেকে শুরু করে নীহারিকার মা-বাবা, হৃদি, তুলি, দিশা, শাকিল ও সজলও উপস্থিত ছিল। ক্যামেরা ম্যানকে ডেকে এনে তাদের পারিবারিক কতগুলো ছবি তুলল। কিছু ছবিতে রূপল ও নীহারিকা পাশাপাশি ছিল তো কিছু ছবিতে রূপল তার মা-বাবা ও বোনের পাশে ছিল। কিছু ছবিতে তো রূপল হৃদিকে কোলে নিয়ে দাড়িয়ে ছিল।

প্রফুল্লতা ও উচ্ছ্বলতায় রূপল মুরুব্বিদের মুখেও হলুদ পড়াতে শুরু করল। বিনিময়ে মুরুব্বিরাও রূপলের মুখে হলুদ পড়িয়ে দিলো। সবশেষে অশ্রুসজল দু’চোখে মারজিনা বেগম রূপলের কপালে হলুদ পড়িয়ে দিলেন! স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে থাকা রূপলকে তিনি বললেন,

“আমার মেয়েটার খেয়াল রেখো বাবা। সবসময় তাকে এভাবে হাসিখুশিতে মাতিয়ে রেখো। মেয়ের মা হিসেবে তোমার কাছে এতটুকুই আবদার রইল আমার।”

মলিন হাসল রূপল। শান্তনা দিলো তার হবু শ্বাশুড়ি মাকে। আশ্বস্ত গলায় বলল,

“চিন্তা করবেন না আন্টি। শুধু দোয়া করবেন। আপনার মেয়ে এতদিন আপনার কাছে যেভাবে হাসিতে-খুশিতে, আনন্দে, আদরে-যত্নে নিরাপদে ছিল ঠিক তেমনি আমার কাছেও আপনার মেয়ে সেভাবেই থাকবে! কোনো দুঃখ, কষ্ট তাকে ছুঁতে পারবেনা। আর সেই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”

রূপলের কথায় আশ্বস্ত হলেন মারজিনা বেগম। মৃদু হেসে তিনি রূপলকে মনভরে দোয়া করলেন। নীহারিকার নাকে আলতো হলুদ ছুঁইয়ে দিলো নিহাল। নীহারিকার দিকে তাকালেই নিহাল কেমন যেন আবেগপ্রবণ হয়ে উঠল! চোখ দুটো তার জলে ছলছল করে উঠল। বুকে একধরণের শূণ্যতা কাজ করতে লাগল। নিহালের মনের ভাব বুঝে নীহারিকা টপাটপ চোখের জল ছেড়ে দিলো! জড়িয়ে ধরল তার ভাইকে। কান্না সিক্ত গলায় বলল,

“তোমাদের খুব মিস করব ভাইয়া!”

চোখের জল ধরে রাখতে পারলনা নিহাল! টুপ করে চোখ থেকে দু-ফোঁটা জল গড়িয়ে পরল তার। হাজার চেষ্টা করেও নিজের আবেগকে সংযত করতে পারলনা নিহাল। ভরাট গলায় বলল,

“আমরাও তোকে অনেক মিস করব।

নিহাল ও নীহারিকার আবেগঘন মুহূর্ত দেখে রূপল নিজেও বিষণ্ন হয়ে উঠল। পাশ থেকে রূপল এসে নিহালকে শান্তনা দিলো। ঘটনার আকস্মিকতায় নিহালকে জড়িয়ে ধরে রূপল মলিন স্বরে বলল,

“আপসেট হওয়ার কিছু নেই জিজু। আপনি যেমন আমার বোনকে আদরে, যত্নে, ভালোবাসায় মুড়িয়ে রেখেছেন ঠিক তেমনি আমিও আপনার বোনকে সেভাবেই যত্নে, আদরে ও ভালোবাসায় মুড়িয়ে রাখব। মনকে শক্ত করুন জিজু। আপনি দুর্বল হয়ে পরলে তো আমার নীহুও দুর্বল হয়ে পরবে। আর আমি চাইবনা আমার নীহু এই শুভ মুহূর্তে কাঁদুক! আর এই দিক থেকে আমি খুব স্ট্রিক্ট!”

“আই ট্রাস্ট ইউ রূপল। আই নো, আমার বোন অনেক যত্নে ও ভালোবাসায় থাকবে তোমার কাছে। বিলিভ মি এই নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু তাকে আমরা খুব মিস করব রূপল! ভাবতেই বুকটা কেমন কেঁপে উঠছে যে কাল থেকে আমার বোনটা আমাদের পর করে চলে যাবে!”

“আরে ধ্যাত জিজু। এটা কোনো ব্যাপার হলো? আপনার এবং আপনাদের যখনই নীহুর কথা মনে পরবে চলে যাবেন আমাদের বাড়িতে। প্রয়োজনে নীহুও মাঝেমধ্যে চলে আসবে। এখন প্লিজ কান্নাকাটি থামান৷ সময়টাকে এঞ্জয় করুন।”

ব্যথীত নিহালকে ছেড়ে দাড়ালো রূপল। উচ্চশব্দে সজল ও শাকিলকে ডেকে বলল,

“এই মিউজিক লাগা তো!”

রূপলের আশকারা পেয়ে সজল ও শাকিল উড়াধুরা মিউজিক লাগিয়ে দিলো। রূপলের রঙ ঢঙ দেখে পাশ থেকে নীহারিকা কান্না মুখেও গিজগিজিয়ে উঠল! বেহায়াপনা দেখে গাঁ জ্বলছে তার। মনে মনে রূপলকে বকাঝকা করে বলল,

“বেশারাম কাহিকা! মনে রঙ লেগেছে এই লোকের। নিজের বিয়েতে নিজেই নাচানাচি করছে! দেখছে সবার মন খারাপ তবুও তার খুশি ধরছেনা। এরজন্যই চেয়েছিলাম বিয়ে অবধি লোকটাকে দেবদাস বানিয়ে রাখতে!”

নীহারিকাকে যেন পাত্তা দেওয়ার সময় নেই রূপলের! ডোন্ট কেয়ার ভাব তার। রূপলের এটেনশন না পেয়ে নীহারিকা ক্ষণে ক্ষণে তেতে উঠছে! রূপলকে একা পেলে গর্দান নিবে তার! হৃদি, তুলি, দিশা, সজল ও শাকিলও রূপলের সাথে ধেই ধেই করে নাচছে! স্টেজ পুরো মাতিয়ে রেখেছে তারা। অবশ্য পরে নিহাল ও পিয়াসাও বাদ পরেনি। তাদেরও টেনে এনে নাচানো হয়েছে। সবশেষে রূপল জোরাজোরি করে নীহারিকার সাথে একটু আধটু নাচের স্টেপ তুলেছে। বেচারা রূপল এখন ভয়ে আছে। নীহারিকার রাগী মুখশ্রী তার বুক কাঁপিয়ে দিচ্ছে!

_____________________________________

গভীর রাত। বাড়ির ছাদে পা ঝুলিয়ে বসে আছে নীহারিকা ও রূপল। হলুদের সাজ এখনও দুজনের গাঁয়ে। পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে দুজনের মধ্যেই। বড্ড মায়াবী জোছনা ভরা রাত আজ! চাঁদ যে তার সমস্ত আলো নিংড়ে দিচ্ছে ধরণীতে। সেই সাথে বইছে উত্তাল হাওয়া। শীতলতায় নিবিষ্ট চারিপাশ। দমকা হাওয়ার তালে ভেসে আসছে বেলি ফুলের সুমিষ্ট ঘ্রাণ। যেন রূপকথার কোনো জগতে বসে আছে রূপল ও নীহারিকা৷ এই মুহূর্তে নীরবতা ভাঙতে মোটেও ইচ্ছে করছেনা নীহারিকার। কেবল নিরিবিলি এই মনোরম পরিবেশটিকে উপভোগ করতে চাইছে। তবে নীহারিকার এহেন মৌনতা রূপলের একদমই সহ্য হচ্ছেনা। রীতিমত উসখুস করছে সে। অতঃপর অধৈর্য্য হয়ে রূপল অন্যপাশে মুখ ফিরিয়ে নিলো। গলা ঝাঁকিয়ে বলল,

“এভাবে চুপচাপ না থেকে আমার সাথে একটু কথা বললেও তো পারো। একটু আমার দিকে তাকাতে পারো। আমার কাঁধে মাথা রেখে জোছনা বিলাস করতে পারো।”

নিশ্চুপ নীহারিকা। মৃগ্ধিত দৃষ্টিতে কেবল মায়াবি চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইল। বিরক্তবোধ করল রূপল। মাথা ঘুরিয়ে সে স্তব্ধ নীহারিকার দিকে তাকালো। নীহারিকার নির্বাকতায় সে প্রচণ্ড চটে গেল। জোর করে নীহারিকার মাথাটা তার কাঁধের উপর রাখল! ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে নীহারিকা তাজ্জব দৃষ্টিতে রূপলের দিকে তাকালো। দু’হাতে শক্ত করে নীহারিকাকে চেপে ধরল রূপল। নীহারিকার নির্বোধ মুখের দিকে তাকিয়ে ফিচেল হাসল! নীহারিকার নাকে নাক ঘঁষে নিমজ্জিত গলায় বলল,

“এইবার ঠিক আছে।”

মুহূর্তেই গাঁ ঝারা দিয়ে ওঠে গেল নীহারিকা! নিরবিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে সে সক্রিয় হয়ে উঠল। হতভম্ব হয়ে বসে থাকা রূপলকে শুধিয়ে বলল,

“এখন আমার এক মিনিট নীরবতাও সহ্য হয়না তাইনা? তাহলে ফেলে আসা এক একটা বছর কীভাবে ছিলেন আপনি? তখন আমার কথা একবারও মনে পরেনি আপনার? মাথায় আসেনি তখন ফোন করে তার একটু খোঁজ খবর নিই?”

তৎক্ষণাৎ মাথা নুইয়ে নিলো রূপল। কথার পিঠে কথা বলার ভাষা নেই তার। অতিরিক্ত রাগ, জেদ, অভিমান তাকে আজ চুপ থাকতে বাধ্য করল। তার ভালোবাসাও এখন নীহারিকার কাছে নিছক মূল্যহীন হয়ে গেল! মনমরা হয়ে গেল রূপল। বিষণ্নতায় মুর্ছা গেল। রূপলের অসহায়ত্ব ও অপরাধবোধ বুঝতে পারল নীহারিকা। তাই রূপলের মন ভালো করার চেষ্টা করল সে। কাছে এসে হুট করে রূপলের কাঁধে মাথা রাখল! দু’হাত দ্বারা সন্তপর্ণে রূপলকে জড়িয়ে ধরল। গম্ভীর রূপলের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে বলল,

“বলুন আর কখনও আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবেন না? যতই রাগ হোক, অভিমান হোক, জেদ হোক সব পরিস্থিতিতেই আমার পাশে থাকবেন? বলুন?”

সরু দৃষ্টিতে রূপল প্রশ্নবিদ্ধ নীহারিকার দিকে তাকালো। নির্বাক গলায় প্রত্যত্তুরে বলল,

“মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো পরিস্থিতি-ই আমার জেদের কাছে আমার ভালোবাসাকে হার মানাতে পারবেনা নীহু! আমি আমার ভুল থেকে উচিৎ শিক্ষা পেয়েছি। আর এই শিক্ষাটি আমার আজীবন মনে থাকবে। আমি বিশ্বাস করি নীহু, ভবিষ্যতে আর কখনও কোনো অভিযোগ উঠবেনা আমার উপরে। আকাশের ঐ দুর্লভ চাঁদের মতই আমার ভালোবাসাও দুর্লভ হয়ে থাকবে! কোনো আচড় পড়তে দিবনা আমি আমার ভালোবাসায়।”

মৃদু হেসে নীহারিকা রূপলের দিকে তাকালো। নীহারিকার হাসিতে রূপলও হেসে উঠল। দুজন দুজনকে শক্ত করে আলিঙ্গন করল। নীহারিকা হঠাৎ ব্যগ্র গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,

“বিয়ারগুলো কোথায় রাখছেন?”

হকচকিয়ে উঠল রূপল! বিয়ারের খবর নীহারিকা কীভাবে জানল? আমতা আমতা গলায় রূপল প্রশ্ন ছুড়ল,

“মানে?”

“মানে বিয়ারের বোতলগুলো কোথায় রেখেছেন?”

“এক সেকেন্ড এক সেকেন্ড, তুমি কীভাবে জানলে আমি বিয়ার খেয়েছি?”

“স্টুপিট কোথাকার। মুখ থেকে গন্ধ আসছে!”

জিভ কাটল রূপল! ভীতু গলায় বলল,

“ব্যাচালর পার্টি ছিল তাই!”

“এখানে তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই তাইনা? আমিও একটু টেস্ট করতে চাইছিলাম তাই জানতে চাওয়া!”

“হোয়াট?”

“আরে এত অবাক হওয়ার কী আছে? আমারও তো ইচ্ছে করেনা তাইনা? একটু ছাইপাঁশ খেয়ে সেলিব্রেশন করতে!”

“তুমি এসব গিলে সহ্য করতে পারবেনা নীহু। খামোখা প্যারা দিও না তো।”

মন খারাপ করে নিলো নীহারিকা। রূপলের কাঁধ থেকে মাথা উঠিয়ে নিলো! অন্যপাশ ফিরে গোমড়া মুখে বলল,

“ওহ্। আমার আবদারটা রাখবেন না তাইতো? বিয়ের আগের দিন রাতেও আমাকে হার্ট করবেন?”

“আরে আচ্ছা মুসিবত তো। বললাম তো তুমি এসব খেয়ে হজম করতে পারবেনা। এগুলো খেয়ে অভ্যাস থাকতে হয়। তাছাড়া কাল দেখা যাবে এসব খেয়ে তুমি বিয়েটাই করতে পারবেনা!”

“আপনি খাওয়াবেন কিনা বলুন? না হয় আমি কিন্তু এক্ষুণি শাকিল ও সজলকে বলব আমার জন্য বিয়ারের ব্যবস্থা করতে!”

কপাল চাপরাতে লাগল রূপল। এই কোন বিপাকে ফেঁসে গেল সে? বিয়ের কনে কী বিয়ার খাবে? বহু বুঝানোর পরেও একরোঁখা নীহারিকাকে বুঝানো গেলনা। শেষমেশ রূপল বাধ্য হলো নিচতলার স্টোর রুম থেকে একটি অর্ধ খাওয়া বিয়ারের বোতল আনতে! দাঁত কপাটি বের করে নীহারিকা এক ঢোঁক বিয়ার মুখে নিতেই বমি করে সব উগলে দিলো! ইচ্ছে করে সে রূপলকে ভাসিয়ে দিলো! রেগেমেগে রূপল নীহারিকার গালে কামড় বসিয়ে দিলো! কোলে তুলে নীহারিকাকে তার রুমে শুইয়ে দিয়ে এলো।

___________________________________

অবশেষে সেই শুভক্ষণ এলো! বিয়ের সাজে পরিপূর্ণ সজ্জিত নীহারিকা। সুদূর কানাডা থেকে রূপল নীহারিকার জন্য বিয়ের লাল লেহেঙ্গা হতে শুরু করে স্বর্ণ গহনাও নিয়ে এসেছিল! মনে মনেই তার জানা ছিল বিধাতা তার ভাগ্যে নীহারিকাকেই লিখে রেখেছে। রূপলের আনা সব সাজ সরঞ্জাম পড়েই নীহারিকা আজ লাল টুকটুকে বউ সেজেছে।

#চলবে…?