#বছর_দুয়েক_পর
#পর্ব_২১
#সারিকা_হোসাইন
বর্ষাকালের প্রকৃতি যেনো সকালবিকাল কাচের চুড়ির মতো।মুহূর্তে মুহূর্তে রূপ পাল্টায়।এই ঝরঝর করে অবিরাম জলের ধারা ঝরছে তো এই খা খা রোদ্দুর।মেঘ বৃষ্টির এসব লীলাখেলা যেনো বুঝাই দায় হয়ে পড়েছে আজকাল।অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাবে ঢাকার রাস্তায় কোথাও কোথাও পানি জমে বিশ্ৰী অবস্থার সৃষ্টি করেছে।এহেন পরিস্থিতি তে হন্যে হয়ে পুরো ঢাকা শহর চষে বেড়াচ্ছে ইকবাল।
ড্রাইভার রহমানের গাড়ি থেকে ড্যাস ক্যামেরার মেমোরি নিয়ে ফুটেজ গুলো দেখেছে সে।ভিডিও গুলো দেখার পর তার কাছে মনে হয়েছে যেই লোক গুলো তাথৈকে কিডন্যাপ করেছে ওরা ইকবালের বয়সী ইয়ং ছেলে।এমনকি তারা হয়তো টাকার বিনিময়ে এসব অপকর্ম করে বেড়ায়।কারন তারা প্রত্যেকেই বেশ চৌকস এবং প্রফেশনাল।
টানা দুদিন খুজ চালিয়ে বেশ হাঁপিয়ে উঠেছে ইকবাল।কোনো ট্যাটু শপ এ ব্যাট ম্যান এর ট্যাটুর হদিস পাওয়া যায়নি।এমনকি তারা এক বাক্যে বলে দিয়েছে এমন ট্যাটু তারা আজ পর্যন্ত করায় নি।ইকবালের যতদূর মনে হলো ছেলেটি হয়তো ভিন্ন দেশে থেকে ট্যাটুটি করিয়েছে।দীর্ঘদিন ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এর টিম লিডার হয়ে কাজ করেছে ইকবাল।কিভাবে গর্ত থেকে সাপ টেনে বের করতে হয় এই ব্যপারে বেশ ধূর্ত সে।তার চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ অপকর্ম করে পালিয়ে যাবে এটা অবান্তর।কারো আদেশ শুনতে ইচ্ছুক নয় বলেই এতো ভালো জব ছেড়ে দিয়েছে সে।টাকা ওয়ালা বাবার জেদি ছেলে বলে নিজের মন মতো চলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সে।কিন্তু আজকাল মৌটুসীর প্রতি নিজের ভালোবাসা ব্যক্ত করতে না পারার অপারগতা তাকে বেশ যন্ত্রনা দিচ্ছে।প্রেয়সীর সামনে নিজের প্রফেশন তুলে ধরার মতো কিছুই নেই ইকবালের।বাবার সম্পদ দেখে কোন ভদ্রলোক তার মেয়েকে স্বেচ্ছায় নিশ্চিন্তে ইকবালের হাতে সপে দেবে?
আর মৌটুসী যদি কখনো জানতে পারে ইকবাল একজন খুনি তখন?তখন কি মৌটুসী ইকবাল কে দেখে মুখ ফিরিয়ে অবজ্ঞা করবে?সেই দৃশ্য কি সহ্য করতে পারবে ইকবাল?
“আমি তো কখনো কোনো নিরীহ মানুষের গায়ে ফুলের আচর ও দেইনি।যাদের এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নেই শুধু তারাই প্রাণ হারিয়েছে আমার হাতে।তবে?
ইকবালের ভেতর সত্তা বলে উঠে
“তবুও তুই খুনি।কারো জীবন শেষ করার অধিকার তোর নেই।সৃষ্টি কর্তার ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করেছিস তুই।তুই একজন খুনি সেই সাথে ঘোর পাপী।
অবচেতন মন আর মস্তিষ্কের লড়াইয়ে হুসে ফিরলো ইকবাল।মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজে এসব চিন্তাভাবনার কোনো মানে খুজে পেলো না ইকবাল।প্রচন্ড বর্ষা ঝরে চলেছে।ভিজে জপজপে শরীরে কাক ভেজা হয়ে বৃষ্টি চিড়ে হেটে চলেছে ইকবাল।কোথায় তার গন্তব্য সে জানেনা।
হঠাৎই চোখের সামনে এরিকের গাড়ি দেখে মুখ ফিরিয়ে রইলো ইকবাল।এরিকের গাড়ি ক্র্শ করতেই দাঁতে দাঁত পিষে ইকবাল বলে উঠলো
“তিন দিন ধরে তোকে খুঁজে চলেছি শু*য়ো*রের বাচ্চা।তোকে ধরলেই সব জানা যাবে।আমার সামনে পরে নিজের জীবনের শেষ তিথি ডেকে আনলি।এবার তোকে ধরতেই হবে আমার।না হলে হাতের নিষ্পিসানী থামবে না।
*******
সাজিদ মাহমুদ এর সামনে বসে অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়লেন মেহেরিন।মাঝবয়সী সাজিদ নিজেকে যথেষ্ট রিজার্ভ রেখে মুখে মুখে শান্তনার বাণী শুনাচ্ছেন মেহেরিন কে।কিন্তু মেহেরিন সেসব কানেই তুলছে না।একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে তার জীবন বিপন্ন।
“আহ মেহু এভাবে কেঁদো না তো।এভাবে কাঁদলে তুমি আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পরবে।কেনো বুঝতে চাইছো না.?
কান্নার দমক কিছুটা কমিয়ে মেহেরিন বলে উঠলো
“মেয়েটা বেঁচে আছে নাকি মরে গিয়েছে কিচ্ছুটি জানিনা।চোখের সামনে থেকে মেয়েটি লাপাতা হয়ে গেলো।আমার অসুস্থ বাচ্চা।
না চাইতেও মনের সাথে যুদ্ধ করে মেহেরিনের মাথায় অল্প ভরসার হাত ছুঁইয়ে সাজিদ বলে উঠলেন
“উপরওয়ালার উপর ভরসা রাখো।উনি চাইলে সব সম্ভব।এভাবে ভেঙে পরো না।আর তাথৈ এর সিগনেচার ছাড়া ওরা ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবে না।মাস ছয় হলেই কোর্ট ওদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠাবে এটা সাইফ আজমী ভালো করেই জানে।সে নিজেই তাথৈকে বাচিয়ে রাখবে।মন শক্ত করো।
সাজিদের কথায় কিছুটা হালকা হলো মেহেরিন।সেই সাথে সাইফ আজমীর প্রতি ঘৃণা নিক্ষেপ করলেন মনে মনে।
“তোমাকে আমি কখনো ছাড়বো না সাইফ আজমী।এতোগুলো সুন্দর জীবন নষ্ট করার সাজা তোমাকে যে পেতেই হবে।
কিছুক্ষন উশখুশ করে সাজিদ রহমান বলে উঠলেন
“তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই মেহু।জানিনা কি রিয়েক্ট করবে শোনার পর।কিন্তু মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে কথা গুলো তোমাকে বলা উচিত।
কান্না থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে বিস্ময় ভরা চাহনিতে সাজিদের পানে তাকিয়ে রইলেন মেহেরিন।মেহেরিনের জিজ্ঞাসু চোখে অল্প নজর মেলে সাজিদ বলে উঠলেন
“ভিয়ান বেঁচে আছে মেহু।
সাজিদের কথাটি যেনো মেহেরিনের কাছে দুধর্ষ ভূমিকম্পের ন্যয় ঠেকলো।মুহূর্তেই তার পুরো দুনিয়া দুলে উঠলো।অবিশ্বাস্য লাগলো সব কিছু সেই সাথে নিজের কানকে ভুল মনে হলো।সাজিদ পুনরায় বলে উঠলো
“সে নিউইয়র্ক থাকে।
দুর্বল কন্ঠে মেহেরিন বিরবিড়িয়ে আওড়ালেন
“আমরা নিজ চোখে ওর লাশ দেখেছি সাজিদ।ভয়ানক বিভৎস ছিলো সেই লাশ।শুধু তাই নয় তাথৈ নিজে শনাক্ত করেছে ভিয়ানের মরদেহ।
সাজিদ চোখ থেকে পাওয়ার ওয়ালা চশমা খানা খুলে টিস্যু দিয়ে মুছতে মুছতে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে উঠলেন
“মাঝখানে বিশাল এক ইতিহাস রয়েছে মেহু।সময় এলে সব জানবে।ভিয়ান বেঁচে আছে এটাই আপাতত জেনে রেখো।ও থাকতে তোমার মেয়ের কিচ্ছুটি হবে না।পাতাল থেকে হলেও খুঁজে বের করবে তাথৈকে।শুধু সময়ের অপেক্ষা।
মেহেরিন তার ঝরে যাওয়া নীরব চোখের জল মুছে সাজিদের উদ্দেশ্যে শক্ত কন্ঠে শুধালো
“আমার মেয়েটা যে বেঁচে থেকেও ওই ছেলের জন্য মৃতের ন্যয় বেঁচে আছে এটা কি সে জানে?
সাজিদ কিছুক্ষন চুপ থেকে লম্বা শ্বাস টেনে বলে উঠলো
“সব জানে।তোমার মেয়ের খেয়াল ও রাখে।ইকবাল তাথৈ এর সিক্রেট বডি গার্ড।সাইফ আজমী আর এরিকের জন্যই এতো লুকোচুরি।আর কোনো প্রশ্ন করোনা মেহেরিন।দেয়ালেরও কান আছে।বছর দুয়েক আগে যা ঘটেছে সবটাই তোমার ঘরের মানুষের কারসাজি।ইকবাল কে জেল খাটানোর কাজ ও তোমার স্বামীই করেছে।যেই নোংরা খেলা ইকবালের সাথে খেলেছে সাইফ আজমী।ছেলেটা গোয়েন্দা বিভাগের অফিসার না হলে আজীবন জেলে পঁচে মরতো।ছেলেটার ক্যারিয়ার ই শেষ করে দিয়েছে সাইফ আজমী।নেহাত ভদ্র ঘরের বড় লোক বাবার সন্তান সে।না হলে জেল থেকে ছুটানো চাট্টি খানি কথা ছিলো না।এরকম একটা ভদ্র ছেলের নামে নারী সংঘটিত কেস ফাইল কি করে করতে পারে সাইফ আজমী?
মেহেরিন যেনো আজ অবাকের পর অবাক হচ্ছে।নিজের কৌতূহল ধরে রাখতে না পেরে ধীর কন্ঠে মেহেরিন শুধালেন
“এরিকের গার্লফ্রেন্ড কে গুলি করে হত্যা করেছে কে তাহলে?
সাজিদ চারপাশে নজর বুলিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো
“সাইফ আজমী ।মেয়েটা প্রেগন্যান্ট ছিলো।ভিয়ানের ঘটনা ধামাচাপা দেবার জন্য ইকবাল কে হাইলাইট করা হয়েছিলো।আর এরিক নিজেও জানেনা তার বাবা এই কাজ করেছে।ইকবাল কে খুনি ভেবেই এরিক এমন ভয়াবহ বিহেভ করে ইকবালের সাথে।
“তাহলে ইকবাল ওই স্পটে পৌঁছালো কি করে?
রুমালের সহিত কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছে সাজিদ মাহমুদ বলে উঠলেন
“তাথৈ ডেকেছিলো ইকবাল কে।এটা গোপনে সাইফ আজমী শুনে নিয়েছিলো।আর নিকিতার ফোনে ওই লোকেশন সেন্ড করা হয় এরিকের নাম দিয়ে।কিন্তু তাথৈ পৌঁছানোর আগেই সাইফ আজমী নিজের ভাড়াটে খুনি দিয়ে মেয়েটিকে শেষ করে দেয়।কিছু না বুঝেই ইকবাল মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করে আর ওই সময় পুলিশ এসে ইকবাল কে এরেস্ট করে।সব চাইতে বড় বিপত্তি তখন ই হয় যখন ইকবালের কাছেও একটা গান পাওয়া যায়।
কথার মাঝেই মেহেরিনের ফোন টা বেসুরে আওয়াজে বেজে উঠে।আলাপের সমাপ্তি হয় মুহূর্তেই।সাইফ আজমীর নম্বর দেখতে পেয়েই ঝটপট উঠে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে বসেন মেহেরিন।মানুষটির সাথে কথা বলার আর ইচ্ছে জাগেনা।ফোন সুইচড অফ করে সিটে মাথা হেলিয়ে ড্রাইভার কে নির্দেশ দেন
“বাড়িতে চলো”
*********
বড় বড় ব্যবসায়িক মিটিং,বিজনেস ডিলিং,ব্র্যান্ড প্রমোটিং সহ নিজের সমস্ত কাজ অভীকের উপর চাপিয়ে বাংলাদেশ ফেরার ইমারজেন্সি টিকেট কেটেছে ভিয়ান।যেখানে জীবন মরনের সন্ধিক্ষণ চলছে সেখানে এসব বিজনেস ,টাকা পয়সা অমূলক।তাথৈ হীন কিচ্ছুটির মূল্য নেই ধরনীতে।ভিয়ানের মনে যেই ঝড় বইছে তার তান্ডব সে ছাড়া আর কেউ জানেনা।দূর থেকে এতো এতো আগলে রাখবার পরও যদি মেয়েটা এভাবে হারিয়ে যায় তবে হৃদয় কতোটা ব্যথিত হয় এটা শুধু ভুক্তভোগী ই জানে।নিজের ফোন থেকে তাথৈ এর হাস্যজল একটি ছবি বের করে ব্যাথিত স্বরে ভিয়ান বলে উঠলো
“কোথায় আছিস তুই মকিংবার্ড?যেখানেই থাকিস জ্যান্ত থাকলে ঠিক এই ভিয়ান নাওয়াফ তোকে উদ্ধার করে নিজের কাছে নিয়ে আসবে।
মুহূর্তেই ফ্লাইট টেইক অফ এর এনাউন্সমেন্ট ভেসে এলো।চোখ বন্ধ করে তাথৈ এর স্মৃতি চারণে ডুব দিলো ভিয়ান।
সে আরো সাড়ে চার বছর আগের কথা।তাথৈ তখন কেবল ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে উঠেছে।মেয়েটা খুবই নাজুক প্রকৃতির।ভিয়ান যখন অস্ট্রেলিয়া ফিরে যেত তার দুই দিন আগে থেকে তার কান্না শুরু হয়ে যেতো।এক প্রকার ভ্যা ভ্যা করে কান্না করা যাকে বলে।কোনো ভাবেই তাকে রেখে যাওয়া সম্ভব হতো না।এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এসে সকলের সামনে কেঁদে ভাসাত।বেচারা ভিয়ান বহু কষ্টে তাকে মানিয়ে প্লেনে উঠতো।চাইলেই কি দূরদেশে গিয়ে কাজে মন বসাতে পারতো সে?উহু কখনোই না।পাগলী মেয়েটার অবুঝ কান্না সারাটা খন কানে বেজে চলতো।একবার তাথৈকে না জানিয়েই তাথৈ এর জন্মদিন এ অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরলো ভিয়ান।ইকবালের থেকে খুজ নিয়ে জানা গেলো মেয়েটা কলেজেই আছে।কলেজ ছুটি হবে দুটোয়।
ইকবালের বাসা থেকে ফ্রেশ হয়ে পোশাক পাল্টে গাড়ি নিয়ে তাথৈ এর কলেজ গেইটে চলে গেলো ভিয়ান।যখন প্রায় ছুটির সময় হলো হঠাৎই ভিয়ানের হৃদ গতি তেজ হলো।বাইরে থেকেই নিজের উত্তেজিত ধারকান শুনতে পাচ্ছিলো সে।ভালোবাসার মানুষটি কে এক পলক কাছে থেকে দেখার অকুলতায় নিজের এহেন দশায় ঠোঁট কামড়ে অল্প হাসলো ভিয়ান।
ঘন্টা পড়তেই আরেকটু আবেগ প্রবন হলো সে।ধীরে ধীরে সবাই বের হয়ে এলেও দেখা মিললো না তাথৈ এর।নিজের ফোন বের করে অর্ক কে কল করতেই ফোন রিডিভি করলো অর্ক
ভিয়ান উত্তেজিত গলায় শুধালো
“তাথৈ এখনো বের হচ্ছে না কেনো?কলেজ তো ছুটি হয়ে গিয়েছে।
বেচারা অর্ক ভাঙা ভাঙা স্বরে বলে উঠলো
“ভাইয়া আমি অসুস্থ।আজ কলেজ যাইনি।আচ্ছা আমি মৌটুসী কে কল দিয়ে দেখছি কি সমস্যা।
অর্ক ফোন কেটে দিতেই কলেজের ভেতর পা বাড়ালো ভিয়ান।অস্থির চিত্তে চারপাশে নজর বুলাতেই মাঠের এক কোনে কান্নারত অবস্থায় পাওয়া গেলো তাথৈকে।সেই সাথে মৌটুসী কে অস্থির লাগলো।লম্বা শ্বাস টেনে দৌড়ে কাছে যেতেই চমকে উঠলো তাথৈ।কিন্তু কোনো উচ্ছাস প্রকাশ করল না।তাথৈ এর ফোলা ফোলা চোখ আর লাল নাকের ডগা দেখে ছটফট করে উঠলো ভিয়ান।অস্থির চিত্তে কিছুটা কাতর হয়েই শুধালো
“কি ব্যাপার তাথৈ, এভাবে বেকায়দায় দাঁড়িয়ে আছো কেনো?আর কাঁদছো কেনো?কি হয়েছে জান?
মৌটুসী কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরেকটু কাছে গিয়ে তাথৈকে ভালো করে নজর বুলালো ভিয়ান।সাথে সাথেই চোখ কপালে উঠার উপক্রম সেই সাথে রাগে শক্ত হয়ে এলো চোয়াল।তাথৈ এর ড্রেসের ব্যক পার্ট পুরোটাই লাল দাগে পরিপূর্ণ।দেখে মনে হচ্চে কেউ লাল কালি ছুড়ে মেরেছে।আপাত দৃষ্টিতে হুট করে দেখলে মনে হবে পিরিয়ডের ব্লাড।
ঝটপট নিজের গায়ের শার্ট খুলে তাথৈ এর কোমরে বেঁধে দিয়ে শক্ত গলায় মৌটুসী কে ভিয়ান জিজ্ঞেস করলো
“কে করেছে এই কাজ?
মৌটুসী মিন মিন করে বলে উঠলো
“দেখিনি ভাইয়া।ভিড়ের মধ্যে কে যেনো করেছে এই কাজ।তাথৈ প্রথমে মান্থলি এক্সট্রাক্ট ভেবে ভয় পেয়ে গিয়েছিলো।ওয়াশরুমে গিয়ে সিউর হবার পর বুঝতে পেরেছে কেউ দুস্টুমি করে এমন করেছে।”
মৌটুসীর কথা ভিয়ানের মনঃপুত হলো না।
“যে করেছে সে ইন্টেনশনালী করেছে।ঠিক খুঁজে বের করবো ওই দুঃসাহস দেখানো মানুষ টিকে।হোক সে ছেলে অথবা মেয়ে।
আর দাঁড়ালো না ভিয়ান।ছোট বাচ্চার ন্যয় নিজের বাহুতে তাথৈকে তুলে খাড়া কোলে নিয়ে হনহন করে ছুটে চললো নিজের গাড়ির দিকে।
তাথৈকে গাড়িতে বসিয়ে ইকবাল কে কল করে সবটা জানালো।
“সবেই কলেজ ছুটি হয়েছে ।কলেজের আশেপাশে স্টুডেন্টস ঘুরে বেড়াচ্ছে ।কলেজের আশেপাশে মোট তিনটি রাস্তা আছে।প্রত্যেক রাস্তার মাঝখানে চেকপোস্ট এর ব্যবস্থা কর প্লিজ।প্রত্যেক টা স্টুডেন্ট এর হাত চেক করবি।যার হাতে রেড মার্ক পাবি তাকে আমার চাই।
ইকবাল তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন এ ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন জব করতো।ভিয়ানের কথায় চিফের কাছে অনুরোধ করে তাথৈকে নিজের বোন পরিচয় দিয়ে নিকটস্থ থানার ফোর্স পাঠিয়ে চেকপোস্ট এর ব্যবস্থা করে ছিলো ইকবাল।এবং খুবই কম সময়ের মধ্যে ছেলেটিকে শনাক্ত করা গিয়েছিলো।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেটি স্বীকার করেছে যে,এসব রঙ ছিটিয়ে মেয়েদের বিব্রত করতে পছন্দ করে সে।সুন্দরী মেয়েদের কাচুমাচু মুখ তাকে প্রশান্তি দেয়।ভিয়ান তো পারলে তার হাত ই ভেঙে দেয়।পরে ছেলেটির বাবা মায়ের সাথে কথা হলে জানা গিয়েছিল ছেলেটি মেন্টালি উইক।
ফ্লাইট ল্যান্ডিং এর এনাউন্সমেন্টে ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলো ভিয়ান।হাতের করপুটে নিজের মুখ লুকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠল
“তোমাকে হেনস্থা করার জন্য যদি এতো কিছুর আয়োজন করতে পারি তবে তোমাকে যেই কিডন্যাপ করেছে তার কি হাল করবো আমি লাভ?
#চলবে
#বছর_দুয়েক_পর
#পর্ব_২২
#সারিকা_হোসাইন
বদ্ধ কক্ষে অসহনীয় পেটের ব্যথায় কাতরাচ্ছে তাথৈ।মনে হচ্ছে নাড়ি ভুঁড়ি মুচড়ে ছিড়ে যাচ্ছে।অতীব ব্যথায় চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো দুফোঁটা নোনা জল।আজকাল প্রায়ই এমন ব্যথায় ভোগে সে।অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া করার কারনেই হয়তো এই ব্যথার উৎপত্তি।ভিয়ান সব সময় উপদেশ দিতো
“টাইম মেইনটেইন করে লক্ষী মেয়ের মতো খাবার খাবে।না হলে গ্যাস্ট্রিক হবে পরে আলসার।আর আলসার হলে তুমি মরে যাবে।বুঝেছো?
ভিয়ানের কথা মনে পড়তেই তাচ্ছিল্য হাসলো তাথৈ।
মৃত্যুও তাকে অবজ্ঞা করে।না হলে এতো এতো যন্ত্রনা সহ্য করে কারো পক্ষে বেঁচে থাকা কি করে সম্ভব?
“আচ্ছা ভিয়ান বেঁচে থাকলে আমার এহেন শোচনীয় কষ্টে কেঁদে বুক ভাসাত কি?নিশ্চয়ই আমাকে ডক্টর এর কাছে নেবার জন্য উন্মাদ হয় উঠতো।আর দেখো কেমন বদ্ধ কক্ষে যত্ন বিহীন পরে রয়েছি।দেখার পর্যন্ত কেউ নেই।
এই দুটো বছরে এতো এতো কষ্ট তাথৈ পেয়েছে যে এখন আর কোনো কষ্ট ,যন্ত্রনা তাকে কাবু করতে পারেনা।আহ্লাদ করার মানুষটাই যেখানে নেই সেখানে কষ্ট জাহির করাই বোকামি।
ধীরে ধীরে ছটফটানি বাড়লো তাথৈ এর।অসহ্য ব্যথায় বিছানা ছেড়ে মেঝেতে নেমে এসে পায়চারি শুরু করলো।
কাজের ফাঁকে কেবলই তাথৈ এর কক্ষের ফুটেজে নজর বুলিয়েছে রেইন।মেয়েটির নিষ্প্রাণ ব্যথাতুর মুখশ্রী রেইনের হৃদয় মুষড়ে দিলো।কিছুক্ষন স্ক্রিনে দৃষ্টি পেতে এক ভ্রু উঁচু করে দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ভাবতে লাগলো রেইন
“হুয়াই ডাজ শী লুক সো আপসেট?ডিড সামথিং হ্যাপেন টু হার?
নানাবিধ ভাবনা ভেবে উত্তাল হয়ে উঠলো রেইন।নিজের কাজ ফেলে দ্রুত দৌড়ে এলো অফিস থেকে।ব্যক্তিগত ড্রাইভার ইভান কে ডেকে বলে উঠলো
“লেটস গো টু দ্যা রেইন প্যালেস।
আর্জেন্ট কিছু বুঝতে পেরে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে গাড়ির গতি বাড়ালো ইভান।মিনিট পনেরোর ব্যবধানে সেই বাংলোতে পৌঁছাতে সক্ষম হলো রেইন।গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে দৌড়ে চলে গেলো তাথৈ এর রুমের দিকে।
এদিকে ব্যথার তীব্রতা মাত্রা ছাড়লো।মুহূর্তেই চারপাশে লাল নীল আলোর ঝলক দেখতে পেলো তাথৈ।বুঝতে পারলো শরীর আর সায় দিচ্ছে না।এবার তাকে জ্ঞান হারাতে হবে।
রেইন দরজা খোলার সাথে সাথেই দুচোখ বন্ধ করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো তাথৈ।সেই সাথে কক্ষে থাকা টেবিলে বাড়ি খেয়ে কেটে গেলো কপালের কোনা।বেকাদায় পরে হাতটাও মচকালো বুঝি।কিন্তু অবচেতন মানবী কিচ্ছুটি ঠাহর করতে পারলো না।
তাথৈএর এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখে উঁচু কন্ঠে উত্তেজিত ভঙ্গিতে ডেকে উঠলো রেইন
“হেই তাথৈ….আর ইউ ওকে?
কোনো জবাব এলো না দুর্বল অসুস্থ মানবীর থেকে।মুখ থুবড়ে উপুড় হয়ে অনাদরে এলোমেলো ভঙ্গিতে মেঝেতে পরে রইলো তাথৈ।
********
দীর্ঘ একুশ ঘন্টা জার্নি করে ঢাকা এয়ারপোর্ট এ অবতরণ করেছে ভিয়ান।ঢাকার ফ্লাইট লেট হবার কারনে আজকে তার দুই ঘন্টা এক্সট্রা লেগেছে।এক দিকে মাথায় নানাবিধ টেনশন অন্য দিকে ক্ষত ওয়ালা হৃদয়ে টনটনে ব্যথা।তন্মধ্যে লেট ফ্লাইট।সব মিলিয়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত ভিয়ান।কামরুল বা ইকবাল কাউকেই গাড়ি নিয়ে এয়ারপোর্ট আসার অনুরোধ করেনি ভিয়ান।ইকবাল নিজেই অনেক ব্যস্ত।আর তাছাড়া এখান থেকে ইকবালের বাসাও বেশি দূরে নয়।একটা ট্যাক্সি নিয়ে অনায়াসেই চলে যেতে পারবে ভিয়ান।
এয়ারপোর্ট ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে কাঙ্খিত ট্যাক্সির আশায় আশেপাশে নজর বুলালো ভিয়ান।হঠাৎই সুদর্শন স্মার্ট এক ছেলে এসে বিনয়ী হয়ে বলে উঠলো
“স্যার গাড়ি লাগবে?
ছেলেটিকে দেখে অজানা ভালো লাগা কাজ করলো ভিয়ানের মনে।তাই এক রকম অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গাড়িটা বুক করে ইকবালের বাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো।
নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস গাড়ির ডিকি তে তুলে দিয়ে ড্রাইভার এর পাশের সিটে কি যেনো মনে করে বসে পড়লো ভিয়ান।এরপর কালো রোদ চশমা চোখে লাগিয়ে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজে রইলো।
ক্লান্ত শরীর অথচ চোখ বুজে রাখতে চাইছে না।অগত্যা চেস্ট বাটনের সাথে চশমা ঝুলিয়ে চারপাশে নজর বুলালো ভিয়ান।দিনে দিনে ঢাকা শহরের রূপ পরিবর্তন হয়।সপ্তাহ খানেক আগে যেই ঢাকা দেখে গিয়েছিলো আজ আবার তার নতুন রূপ।চুপচাপ বসে থাকতে বিরক্ত লাগায় ড্রাইভার ছেলেটির সাথে আলাপ করার মনস্তাপ করলো ভিয়ান।উৎসুক হয়ে ছেলেটির অবয়বে দৃষ্টি মেলতেই ক্রুর হাসলো ভিয়ান।এরপর একে একে শুধালো নানান প্রশ্ন
“আই থিংক আমরা সেইম এইজ তাই না?তা নাম টা কি জানতে পারি?
ছেলেটি স্মিত হেসে জবাব দিলো
“ইয়েস স্যার।আমার নাম রাতিন।
ভিয়ান আরেকটু আয়েশ করে সিটে বসে বলে উঠলো
“নাইস নেইম।বাট রাতিন আম সো এক্সসাইটেড এবাউট ইউ।মানে তোমাকে দেখে তো টাকা ওয়ালা বাপের ছেলে মনে হচ্ছে,তবে গাড়ি চালানোর কারন টা কি?
ছেলেটা বিগলিত হেসে বলে উঠলো
“মোটেও ওই রকম কিছু নয় স্যার।আমি মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির সন্তান।বাবা নেই।বাসায় মা আর ছোট ছোট দুটো বোন আছে ।পরিবারের একমাত্র উপার্জক্ষম ব্যাক্তি আমি।
“পড়াশোনা কতোদূর করেছো?আর প্রফেশন হিসেবে কার ড্রাইভিং ই কেনো চুজ করলে?দেখতে সুদর্শন আর স্মার্ট আছো।চাইলেই ভালো কিছু করতে পারতে।
ছেলেটি বিগলিত হেসে বলে উঠলো
“এম বি এ কমপ্লিট করার পর সেরকম ভালো কোনো স্পেস পাইনি।তাই ঐভাবে কিছু করার চান্স পাইনি।এখন নির্দিষ্ট কোনো প্রফেশনে জড়িত নই আমি।যখন যেটা পাই তাই করি।
ঠোঁট গোল করে ভিয়ান বলে উঠলো
“ওহ বুঝেছি।বাট ইউ আর এ ভেরি ট্যালেন্টেড পার্সন।
ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো আলাপের পরিধি এবং কমে এলো রাস্তার দূরত্ব।চলতে চলতে হঠাতই ছেলেটি গাড়ির ব্রেক কষে বলে উঠলো
“থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।আই হ্যাভ রিচড ইউর ডেস্টিনেশন।
ছেলেটির কথায় প্রশস্ত হেসে ভিয়ান বলে উঠলো
“লেটস হ্যাভ কফি।
ভিয়ানের আতিথেয়তায় ছেলেটি খুশি হয়ে প্রথমে না করলেও ভিয়ানের জোরের কাছে টিকতে না পেরে এক প্রকার বাধ্য হয়েই ইকবালের বিশাল বাড়িতে প্রবেশ করলো রাতিন নামের ছেলেটি।ছেলেটিকে নিয়ে ঢোকার সময় দারোয়ান সালাম কে চোখের ইশারা দিলো ভিয়ান।ইশারা বুঝতে পেরে বৃহৎ গেট টেনে তালা লাগিয়ে স্থান ত্যাগ করলো সালাম।
ছেলেটিকে কক্ষে ডেকে নিয়ে টুটুল কে কফির ওর্ডার দিলো ভিয়ান।
মিনিট দশেক পর কিছু স্ন্যাক্স আর কফি নিয়ে হাজির হলো দক্ষ রাঁধুনি টুটুল।ইতোমধ্যে খুব বিধস্ত অবস্থায় ইকবাল ফিরে এলো।মেইন গেটে তালা ঝুলানো দেখে বেশ অবাক হলো ইকবাল।ঘটনা বোঝার জন্য বাড়ির পেছন দিকের চোখ পকেট গেট দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দূতলায় উঠে এলো।ভিয়ানকে দেখে কোনো প্রকার হা হু করলো না ইকবাল।ক্লান্ত দেহে ধপ করে সোফায় বসে চোখ এলিয়ে দিলো।
ভিয়ান কফির মগটি রাতিনের দিকে এগিয়ে বলে
“টুটুল খুব ভালো কফি বানায় ,প্লিজ ট্রাই ডিজ।।
ছেলেটি কফি মগ নেবার জন্য হাত বাড়াতেই ভিয়ান উচ্ছসিত কন্ঠে বলে উঠলো
“ওয়াও,নাইস ট্যাটু…আই লাইক ইট।
ভিয়ানের কথায় তন্দ্রা ভাব ছুটে গেলো ইকবালের।বসা থেকে লাফ দিয়ে উঠে ছেলেটির হাতের দিকে ইকবাল নজর বুলালো শকুনি চোখে।রৌদ্রাজল দিনের মতো মুহূর্তেই সবটা পরিস্কার হলো ইকবালের কাছে।ছেলেটি কফিতে চুমুক দেবার আগেই ভিয়ান নাক বরাবর এক ঘুষি মেরে গর্জে উঠলো
“হুয়ার ইজ তাথৈ?ইউ কিডন্যাপড হার,এন্ড অল্স স্ল্যাপড হার এম আই রাইট?
ছেলেটি কিছু বুঝার আগেই ইকবাল তার গলা টিপে ধরে ধমকে উঠলো
“বল কোথায় রেখেছিস তাকে।
ছেলেটি বেকায়দায় পরে অনুনয় বিনয় করে বলে উঠলো
“আপনারা কোন মেয়ের কথা বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
ছেলেটির চুলের মুঠি টেনে ধরে নিজের মোবাইল থেকে একটা ফুটেজ ক্লিপ বের করে ছেলেটির চোখের সামনে মেলে ধরলো ভিয়ান।সেখানে দেখা যাচ্ছে ট্যাটু ওয়ালা ছেলেটি তাথৈ এর ফর্সা গালে শক্ত চড় বসিয়েছে।ফুটেজ টি দেখেই ফাঁকা ঢোক গিললো রাতিন।ফুটেজ ক্লোজ করে হিসহিস করে ভিয়ান শুধালো
“বাঁচতে চাইলে সব বলে দে।না হলে প্রাণ নিয়ে মা আর বোনের কাছে ফিরতে পারবি না।অন্যায়কারী কে ক্ষমা করা ভিয়ান নাওয়াফ এর ডিকশনারীতে নেই।
রাতিন ভয় জড়িত কন্ঠে আমতা আমতা করে বলে উঠলো
“আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না স্যার।বিশ্বাস করুন।আমাকে যা বলা হয়ে ছিলো আমি তাই করেছি।এর বাইরে আমি আর কিছুই জানিনা।
“বুঝেছি সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না!
ছেলেটিকে টেনে হিচড়ে নিজের টর্চার সেল এ নিয়ে চেয়ারের সাথে পিছমোড়া করে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেললো ইকবাল।এরপর শক্ত কন্ঠে বলে উঠলো
,”বাঁচতে চাইলে সব খুলে বল।মেয়েটাকে কোথায় পাঠানো হয়েছে?
ছেলেটির থুতনি চেপে ধরে দাঁত মুখ কামড়ে ভিয়ান বলে উঠলো
“ওকে চড় মেরে ছিলিস কেনো?যেই হাতে ওকে আঘাত করে ছিলি সেই হাত এখন যদি মটমট করে ভেঙে দেই তখন?
নিজের চোখের সামনে দুজন হিংস্র মানুষ দেখে নিজের সকল খেই হারালো রাতিন।এক প্রকার কান্না জড়িত কন্ঠে ক্ষমা চাইতে চাইতে বলে উঠলো
“এরিক চৌধুরী আমাকে বলেছে মেয়েটাকে কিডন্যাপ করতে।কয়েক দিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছিলাম আমরা।অবশেষে সফল হয়েছি।কিন্তু বিশ্বাস করুন কিডন্যাপ করা ব্যতীত আর কিচ্ছু জানিনা আমি।মেয়েটিকে কিডন্যাপ করে এরিক চৌধুরীর কাছে হ্যান্ড ওভার করেছি আমরা।এরপর এরিক চৌধুরী ওই মেয়েকে নিয়ে কোথায় গিয়েছে বা কি করেছে সকল কিছু আমাদের অজানা।
ভিয়ান অগ্নি চোখে শুধালো
“তোদের সাথে বাকি লোক গুলো কে ছিলো?
“বিশ্বাস করুন স্যার আমি বাকি তিন জনকেও চিনি না।মোটা এমাউন্ট এর বিনিময়ে তারা আমাকে হায়ার করেছিলো।আমি প্রফেশনাল কোনো কিডন্যাপার না।ওরা আমার মালিকের গাড়ি হায়ার করেছিলো আর তার ড্রাইভার ছিলাম আমি।মেয়েটি দৌড়ে পালাতে চাইছিলো তাই আমাকে ওর্ডার দেয়া হয়েছিলো তাকে ধরার জন্য।ভয়ে আমি মেয়েটির গালে চড় মেরেছি।কারন মেয়েটির জন্য আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছিলো।রাস্তায় কেউ দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হয়ে যেতো তাই।
ছেলেটির চেহারা দেখে ভিয়ানের মনে হলো সে সব সত্যি বলছে।কিন্তু তাথৈ কে আঘাত করার দায়ে ছেলেটি কে শাস্তি না দিয়ে কোনো ভাবেই ছাড়তে পারবে না ভিয়ান।
“তোর বা হাতটা আমার দেখতে ইচ্ছে করছে না রাতিন।স্পেশালি ইউর স্টুপিড ট্যাটু”
কথাটি বলেই পাশে থাকা মোটা বেজবল এর ব্যট দিয়ে ছেলেটির হাতে শক্ত এক আঘাত করে হাতটি গুঁড়িয়ে দিলো ভিয়ান।মুহূর্তেই গগন বিদারী চিৎকারে ছেয়ে গেলো পুরো টর্চার সেল।
ছেলেটির কান্নারত অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে ভিয়ান বলে উঠলো
“যতদিন না সুস্থ হবি তোর মা আর বোনের দায়িত্ব আমার।প্রতি মাসে মোটা একটা এমাউন্ট পেয়ে যাবি খেয়ে পরে বাঁচার জন্য।কিন্তু সুস্থ হবার পর আবার এমন জঘন্য কাজ করলে দুনিয়া থেকেই বিদায় করে দেবো।আমি কতো বড় জানোয়ার তা তুই স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবি না।আমার মতে অন্যায়কারীর কোনো অধিকার নেই এই সুন্দর দুনিয়ায় বেঁচে থাকার।আমি সাংঘাতিক অমানুষ।মায়া দয়া জিনিস গুলো আমার অন্তরে নেই।এখন যেই রূপ দেখলি এর চাইতেও কুৎসিত আমি।
ছেলেটি কান্না থামিয়ে ভয়ে ভয়ে বলে উঠলো
“এরিক চৌধুরী কে ধরলেই সব জানতে পারবেন।মেয়েটি তার আপন বোন।
ইকবাল একটা সিগারেট ধরিয়ে শূন্যে ধূয়া উড়িয়ে বলে উঠলো
‘এরিক কোথায় থাকে আমি জানি।ওর বায়োলজিক্যাল মায়ের কাছে ঘাঁটি গেড়েছে বর্তমানে।সাইফ আজমী ওর ব্যঙ্ক একাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে।শুনেছি খুব মিজারেবল লাইফ লিড করছে।
ভিয়ান বেজবল এর ব্যাট দূরে ছুড়ে মেরে বলে উঠলো
“আজ রাতেই ওকে ধরে আন।।দেখতে চাই ওর ধরে কয়টা মাথা।সব কটা কুচি কুচি করে কাটবো আমি।
ইকবাল স্মিত হেসে বলে উঠলো
“অলরেডি প্রসেসিং চলছে।প্রিয়ম কে বলেছি ওকে কিডন্যাপ করতে।প্রতি সন্ধ্যায় ফেন্সি বারে মদ গেলে এরিক।ওখান থেকেই তুলে আনবো ওকে।
#চলবে