বড়োজা পর্ব-১৭

0
9308

#বড়োজা
#Nadia_Afrin

১৭
হাসপাতাল থেকে ফিরে আর ঘুম হয়নি।বাচ্চাটার জন্য ভীষণ চিন্তা হচ্ছিলো।
বাবা-মা যেমনই হোক,ছেলে নিষ্পাপ।
ওর মায়া ভরা মুখটা দেখলে আমার মায়া হয় বড্ড।

পরদিন সকালে ছেলেটাকে দেখতে গিয়েছি।ওকে চোখের দেখা না দেখলে আমার শান্তি হচ্ছিলো না।
কাল ঐ অবস্থায় রেখে এসেছি।র*ক্ত দিয়েছি।আজ তাই মানবিকতার খাতিরে দেখতে গেলাম।
খালি হাতে তো আর যাওয়া যায়না অসুস্থ ছেলেটাকে দেখতে ।এদিকে হাতে আমার টাকাও নেই ফলমূল কেনার।ধার যে করবো,তার উপায় ও নেই।কাজ নেই আমার।ধার করলে শোধ দেব কী করে?

সামান্য একটু মুরগির মাংস আর ভাত রান্না করেছি।অল্প তেল মশলায় রান্না করেছি।বাচ্চাটা আমার হাতের রান্না খেতে ভীষণ ভালোবাসে।
যদিও এতো বড়ো এ‍্যাক্সিডেন্ট থেকে বেঁচেছে সবে।এমন খাবার খেতে দেবেনা নিশ্চিত।তবুও নিয়েছি।

হাসপাতালে পৌঁছে বাচ্চাটাকে দেখেছি।রিতা বসে ছিল ভেতরে।ওর স্বামীটাকে দেখলাম না।
সম্ভবত কোথাও গেছে।
আমি খাবারগুলো রেখে বাচ্চাটার খোঁজ খবর নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম।
এমন সময় এলো রিতার স্বামী।
এসে আমাকে দেখেই বলছে,”রিতা তোমার ভিখারী বোন এসেছে সাহায্য চাইতে।কাল র*ক্ত দিয়ে গেছে না,আজ এসেছে তার মূল্য চাইতে।
মুখে হাজার খানিক টাকা ছুড়ে মারো তো।”

আমি বললাম,”তোর মতো খয়রাতি আমি নই।মানুষকে দান করতে পারি আমি।যেমনটা তোকে করেছি।
ঐ হাজার টাকাটা নিজের কাছে রেখে দে।দু-বেলা তোর মতো কু*কুরের খাবার হয়ে যাবে।”

রিতার স্বামী কিছুটা চেচিয়ে বলে,”এই মুখ সামলে কথা বলুন।তুই তুকারি করছেন কোন সাহসে?
বেশি স্পর্ধা হয়েছে না?
অসভ্য মহিলা কোথাকার!”

“কালকের জুতোর মা*রের কথা মনে নেই তোর?
আজও দেব নাকি গাল বরাবর?
দূর্বল ভেবেছিস আমায়?
এই তন্নি আর আগের তন্নি নেই।তন্নি এখন প্রতিবাদ করতে শিখে গেছে।
তোর মতো পশুর মুখে জুতো মা*রা শিখে গেছে।
বোনের স্বামী বলে অনেক ছাড় দিয়েছি তোকে।আর নয়।
বোন বলে ডেকেছি যাকে,সে ই যখন স্বার্থপর বেড়িয়েছে,তাহলে আমার আর চুপ থেকে লাভ কী?
এবার থেকে প্রতিটি অন‍্যায়ের প্রতিবাদ আমি করে যাবো।”

রিতার গায়ে হয়ত কথাটি লাগলো।
তেড়ে এসে বলে,”বোন ভাবি দেখেই তো ছেলের বিপদে ডেকেছি।পর ভাবলে ডাকতাম?
একটা দিন কী হয়েছে কী না হয়েছে তার জন্য কথা শোনাচ্ছো কখন থেকে!
সেন্স আছে তোমার?
আমার ছেলে অসুস্থ আর তুমি এখানে এসে ঝগড়া করছো?”

“লজ্জা করেনা তোর এ কথা বলতে?
অকৃতজ্ঞের বা*চ্চা!
বোন ভাবলে আমার অপমান কখনো সহ‍্য করতে পারতি না তুই।প্রতিবাদ না করিস অন্তত আমার পক্ষে থাকতি।স্বামীকে বোঝাতিস।
যেই নিজেদের বিপদ,আমায় ছাড়া উদ্ধার হবেনা।ওমনি ডেকে নিলি বোন বলে তাই না?
প্রয়োজনের তন্নি,প্রিয়জন না।
আমার বিপদে আশ্রয় দিয়েছিলি একটা দিন?
দু-মাসের বাচ্চা নিয়ে গেছিলাম তোর বাড়ি।কটা দিনের আশ্রয় চেয়েছিলাম শুধু।দিয়েছিলি?
অথচ ঐ যে অট্টালিকা,বিশাল ব‍্যবসা সবই কিন্তু আমার টাকার জন্য।
আমার টাকায় ব‍্যবসা করেই কিন্তু ছোট থেকে বড়ো হয়েছিস তোরা।
ঐ সময় কেউ দিয়েছিল তোদের টাকা?
সেই আমি দিয়েছিলাম।নিজে খেয়ে না খেয়ে তোর সংসারে দিয়েছি।ভুলে গেলি সব?
শেষ পযর্ন্ত আমাকেই অপমান করলি তোরা।গায়ে হাত তুললি পর্যন্ত।তখন কোথায় ছিল তোর বোনের প্রতি ভালোবাসা?
তোর স্বামীর মতো মেরুদণ্ডহীন লোকের সঙ্গে থাকতে থাকতে তুই নিজেও মেরুদণ্ড ছাড়া হয়ে গেছিস।বোনের মতো পবিত্র ডাক আর সুন্দর সম্পর্ক তোর সঙ্গে মানায় না।
আমি তোর ছেলেকে দেখতে এসেছিলাম।
ছেলে তোদের,তাই চিন্তা টা তোদের করা উচিৎ ছিল আগে।
আমি দেখেই চলে যেতাম।
তোর স্বামী কোন সাহসে আমায় অপমান করলো?
অথচ আমি তোদের উপকারই করেছি এতো কিছুর পরও।
কেমন চামড়া তোর?গায়ে কী মানুষের চামড়া আছে আদৌ?”

“একটু অপমান করেছে তো কী হয়েছে আপা?
ক্ষয় হয়ে গেল তোমার?
ছেকা লাগলো।”

আমি ভ্রু উচিয়ে বললাম,”দু-বেলা খাবার দিস নি আমায়।সুতরাং আমায় অপমানের কোনো অধিকার নেই তোদের।
বেশি বাড়তে আসিস না।বোন বলে আর ছাড় পাবিনা তুই।একটা আঘাত করতে এলে তিনটে সহ‍্য করতে হবে এবার থেকে ।”

রিতা আর ওর স্বামী দেখছি হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
হয়ত এমন তন্নিকে আশা করেনি ওরা।

আর কথা না এগিয়ে চলে এসেছি।

রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলাম।
হঠাৎ একটা দোকানে চোখ পড়লো।
একটা কালো রঙের শার্ট চোখে পড়ে।হুবহু সেই রকম শার্ট।যা আমি আকাশকে গিফ্ট করেছিলাম আমাদের বিবাহ বার্ষিকীতে।
আকাশের পছন্দের রঙ ছিল কালো।
কালো রঙের পোশাক ওর সুন্দর শরীরে মানাতোও বেশ!
জানেন,আমার সংসার জীবনে আমি একটু কৃপণই ছিলাম।
নিজের জন্য শুধু।সন্তান ও আকাশের প্রতি আমার উদার মন।
ওদের খুশি করতে নিজের শখ আল্লাদ বিসর্জন দিতাম।ওদের সুখের মাঝেই নিজে সুখি হতাম।
বাংলার প্রতিটি মেয়ে হয় নিজের প্রসঙ্গে কৃপণ।এরা নিজে না নিয়ে,না খেয়ে স্বামী ও সংসারে দিতে পছন্দ করে।
দিন শেষে এটাই হয় তাদের মানসিক শান্তি।

বরাবরই আমার মন ভীষণ চাইতো আকাশকে একটা ওর পছন্দ সই কিছু দেই।
তাও নিজের টাকায়।
কিন্তু আমি টাকা পাবো কই?
সংসার বাদে কোনো কাজ তো করতাম না।
আকাশ আমায় হাত খরচের টাকা দিত।ওর দেওয়া সেই টাকা খুব প্রয়োজন ছাড়া কখনোই ভাঙিনি।
কারণ আমার প্রয়োজনীয় সব জিনিস ও নিজেই এনে দিত।টাকাটা আমায় দিত,যাতে আমার খুব শখের কিছু কিনতে পারি।
আমার আবার শখ কিসের?
স্বপ্ন ছিল দু-চোখে।স্বামীকে এক সেট ভালো পোশাক গিফ্ট করার স্বপ্ন।
বড়োলোকের বউ হয়েও কতো কষ্ট করে চলেছি আমি।বললাম না,নিজ প্রসঙ্গে ভীষণ কিপটে আমি।হেঁটে যেতাম বাজারে।মানুষ কতো দামী ক্রিম, ওয়েল ব‍্যবহার করতো।সেখানে আমি খুবই কম দামের জিনিস নিতাম।ওতেই আমার হয়ে যেত।
এরপর আমার মাথায় নিজে কিছু করার চিন্তা আসে।সংসার থেকেই সংসারী হয়ে উঠতে চাই।
পশু পালন,গাছ লাগানো শুরু করি।
সেখান থেকে যা পেতাম সংসার দিয়ে কিছুটা গুছিয়ে রেখে রেখে সেবার আমাদের বিবাহ বার্ষিকীকে আকাশকে একটা প‍্যান্ট,শার্ট,কোর্ট,টাই সহ এক জোড়া জুতো ও ঘড়ি গিফ্ট করি।
দাম ছিল পঁচিশহাজারের কাছাকাছি।
দুবছরের সঞ্চয় একদিনে খরচ করেছি আমি আমার ভালোবাসার মানুষটির জন্য।আকাশ বেশিরভাগ দামি পোশাকই পড়তো।একজন প্রতিষ্ঠিত ব‍্যবসায়ী সে।যা তা পড়ে থাকলে তো আর হয়না।
আকাশ ছিল সেদিন প্রচুর খুশি।
এতোগুলো জিনিসের মাঝে শার্টটি ওর সবচেয়ে পছন্দের ছিল।
শার্টটা খুব বেশি পড়তো না নষ্ট হওয়ার ভয়ে।
শুধু আমাদের বিশেষ দিন গুলোতে গায়ে দিত।
সেই শার্ট ও একসময় ‘বড়োজাকে’ দিয়েছিল ঘর মুছতে।
ভাবতেও অবাক লাগে।
মানুষের সঙ্গে মানুষের পছন্দও কতো বদলে যায় দ্রুত।

আমার ভাবনার মাঝখানে কেউ আমার হাত ধরে জোরে টান দেয়।
মূহুর্তেই কেঁপে উঠি আমি।
মেয়েকে শক্ত করে বুকে চেপে ধরি।
চোখ খিচে বন্ধ করে নেই।
ভয়ে যেন আমার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

সেকেন্ড পাঁচেক পর অনুভব করি কেউ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।শব্দ পাচ্ছি।এবং আমার হাত চেপে ধরে আছে শক্ত করে।
ধীরে ধীরে চোখ খুলি আমি।
প্রতিবেশি সেই ভাবি।ঘামার্ত চেহারায় তার ভয়ার্ত মুখ।

আমায় শাসনের স্বরে বলে,”পাগল হয়ে গেলে নাকি তন্নি?
মাঝরাস্তা দিয়ে হাঁটছো কেন?
একটু হলে কী হয়ে যেত?
বাচ্চা নিয়ে বেড়িয়েছো সাবধানে চলবে না?
পেছনের গাড়ি দেখো নি?গাড়িওয়ালা হর্ন দিয়েছে তাও শোনোনি?
আমি সেই দূর থেকে তোমায় ডাকতে ডাকতে দৌড়ে এসেছি।জবাব দিলে না।
কী যেন ভেবে আনমনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলে।
একটুর জন্য বেঁচে গেলে।
ভাগ‍্যিস আমি টান দিয়েছিলাম তোমায়।
বলি জ্ঞান তোমার কোথায় থাকে?”

এই মানুষটা আমার কাছে ভাবি কম বোন বেশি।
কতো পরামর্শ,কতো উপকার পেয়েছি এনার থেকে।
বিপদের দিনে ইনি আমার সঙ্গী হয়েছেন।
যেখানে আমার নিজের লোকেরা পাশে দাড়ায় নি,সেখানে উনি বিনা স্বার্থে আমার পাশে থেকেছেন।
ভালো পরামর্শ দিয়েছেন।উনি আমার একপ্রকার মানসিক শান্তি ছিলেন।যার কাছে থাকলে মনে শান্তি পেতাম আমি।

তাই এতোদিন পর ভাবিকে দেখে আবেগি হয়ে পড়ি আমি।
মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে মুখ দিয়ে কথা নয়,কান্না বেড়িয়ে আসে।
কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরি তাকে।

ভাবি অবাক হলেন কিছুটা।
তবে কিছু বললেন না।আমার পিঠে হাত দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেন।
প্রায় তিন-চার মিনিট এভাবেই কেঁটে গেল।জানিনা কোন শোকে কাঁদছি আমি।
আমিতো সাহসি হয়েছি,প্রতিবাদ শিখেছি।তাহলে আমার চোখে পানি কেন?
আসলে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ কারো না কারো কাছে এসে বড্ড দূর্বল হয়ে যায়।
বরফের মতো কঠিনও তখন পানিতে পরিণত হয়।

আমার কান্না দেখে আমার ছোট্ট মেয়েটাও কাঁদছে।

ভাবি একটু আদুরে স্বরে বলে,”মায়ের কান্না দেখে মেয়েও কাঁদছে দেখি।
মেয়ের চেয়ে মা ই যেন বেশি বাচ্চা হয়েছে।”

আমি কিঞ্চিৎ হেসে একটু সরে আসি।
ভাবি দু-হাতে আগলে নেয় আমার মেয়েকে।গালে কপালে চুমু দেয়।
মূহুর্তেই বাচ্চার কান্না থেমে যায়।
সত্যিই এই মানুষটার মাঝে জাদু আছে।সবাইকে ভালো রাখার জাদু।
আমার মেয়েটা পিটপিট করে ভাবির দিকে তাকিয়ে আছে।

ভাবি আবারো বলেন,”এই তো আমার মিষ্টি বউমার কান্না থেমেছে।
একটু হাসো দেখি মা।
কতোদিন তোমায় দেখিনা।আমার বউমা নিয়ে তন্নি পালিয়ে গেছে।”

আমি হাসি খিলখিলিয়ে।
মেয়ের জন্ম হওয়ার পর থেকে ভাবি ঠিক করে রেখেছেন উনার ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দেবেন।
যদি সম্ভব হয়,আমি না’মত করবোনা।
ভাবি মানুষটা অসাধারণ,ভাই অমায়িক।এদের ছায়াতলে আমার মেয়ে গেলে যত্নের ত্রুটি হবেনা।
উনার ছেলে আমার আলিফের কমাসের বড়ো।কিন্তু এতো ভালো সহবোধ শিক্ষা যে মুগ্ধ হই আমি।
ছোট্ট বাচ্চাও কী সুন্দর আপনি করে কথা বলেন,সালাম দেয়।কতো বুঝদার বাচ্চা।
আমার নিজের ছেলেকেও এভাবে গড়তে পারিনি।

ভাবি আমার মেয়েকে নিয়ে একটা খোলা জায়গায় ব্রেঞ্চে গিয়ে বসেন।উনি বোরখা পড়া ছিলেন।হাতে ব‍্যাগ বাজারের।হয়ত বাজারে গিয়েছিলেন।
আমিও ভাবির পাশে বসি।
আমার হাতে ফোন দেখে ভাবি বলেন,”তোমার কাছে ফোন আছে?
আমি জানতাম না।ভেবেছিলাম রেখে এসেছিলে।
তোমায় কল করেছিলাম।ব‍্যস্ত শোনায় বারবার।তোমার ভাইয়ের ফোন থেকেও করেছিলাম।
একই শোনায়।তাই ভেবেছিলাম তোমার কাছে ফোন নেই।
আকাশ ভাই হয়ত আমাদের নাম্বার ব্লক করে রেখেছিল।”

আমি শুকনো মুখে বলি,”হতে পারে ভাবি।আমিও কদিন আপনাদের নাম্বার খুঁজেছি।পাইনি।
ওতো ঘেটে দেখিনি।জানেনই তো,আমার পরিস্থিতি!”

ভাবি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন,”তোমায় ভীষণ খুঁজেছি আমরা তন্নি।
তুমি নাকি এক বাড়ি ভাড়া থাকতে।সেটাই তো বলেছিলে।
সেখানে গিয়েছিল তোমার ভাই।
ঐ বাড়িওয়ালা তোমার ভাইকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।তুমি নাকি তাদের টাকা মেরে খেয়েছো।
সে অনেকদিন আগের কথা অবশ‍্য।
এরপরও তোমার খোঁজ করেছি।কিন্তু পাইনি।
এরমাঝে আমরা দুজনই একটু অসুস্থ ছিলাম।তাই আর রাস্তায় বেড়িয়ে খোঁজ করা হয়নি।ছেলে কেমন আছে তন্নি?
তুমি কেমন আছো?”

আমি উপহাস সূচক হেসে বলি,”আছি কোনো রকম।ছেলে ঠিক আছে।
একটা কাজ করতাম।ছেড়ে দিতে হলো।বস আবার আমার প্রেমে পাগল।বিয়ে করতে চায়।
আমায় নেবে,বাচ্চাদুটোকে এতিমখানায় দিতে বলে।
তাই কাজটা ছেড়ে দিয়েছি।”

“যা ই করো বোন,ভেবে চিনতে করবে।তোমার একটা ভুল সিদ্ধান্ত বাচ্চাদুটোর ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে।
তোমায় যে নিজের কাছে রাখবো তারও উপায় নেই।
আমার ননদ,নোনাসদের তো জানো।
জ্বালিয়ে মা*রে আমায়।
একমাত্র তোমার ভাই আমার পাশে দেখে সংসারটা করে খেতে পারি।
তোমার একটা কাজের ব‍্যবস্থা করে দিতে চেয়েছি বোন।পারিনি।
তোমার ভাইয়ের তো নিজস্ব কোনো ব‍্যবসা বাণিজ্য নেই যে সেখানে একপদে কাজ দিয়ে দেবে।
সরকারের চাকরি করে সে।এইক্ষেত্রে যোগ‍্যতা ছাড়া কিছু হয়না।তবুও তোমার ভাই খোঁজ করেছিল।
কেউই তেমন রাজি হয়না।
আসলে কী বোন,এই জামানায় একটা ভালো কাজ পাওয়া ভীষণ কঠিন।
নিজের ছাড়া পরের হাল কেউ ধরতে চায়না।
তা এখন তুমি কোথায় আছো?”

“আছি এক বস্তিতে।ভালোই আছি।চলে যাচ্ছে কোনোরকম।
আকাশদের কী খবর ভাবি?
ওদের নতুন বিবাহিত জীবন কেমন কাঁটছে?
এতো সাধের বউ,নিশ্চয় ভালোবাসা অনেক।
আকাশের মা এবার মনে হয় নতুন বউকে চোখে হারায়।সুখেই আছে মনে হয়।”

আমার কথা শেষ হয়নি,ভাবি হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে যেন।
আমি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলাম।
ভাবি খুব কষ্টে হাসি থামিয়ে বলে,”হ‍্যা খুব সুখে আছে।সুখে বাড়া ভাত একদম।”

আমি বুঝিনা ঠিক তার কথার মানে।

ভাবি বলতে শুরু করে,”পাপ বাপকেও ছাড়েনা বোন।তা ওরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এবার।
বিশেষ করে তোমার শাশুড়িমা।
যেই মহিলা ইস্ত্রি করা ছাড়া কাপড় গায়ে দিত না,তিনি এখন ছেড়া জামা পড়েন।
আদরের মেজো ছেলের বউ জুয়ায় আসক্ত।
মেয়ে মানুষ হয়েও কীসব গেম খেলে বেড়ায়।
টাকার প্রয়োজন হয়।
এজন্যই বাবা ধরে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।
ওদের বাড়ির অর্ধেক জিনিস নাই হয়ে গেছে।
তুমি থাকতে দেখতাম বছরে বছরে বাড়ির জিনিস বাড়তো।কতো কিছু কিনতে জমিয়ে বাঁচিয়ে।
ঐ মেয়ে মাত্র একটা দিনেই অর্ধেক বাড়ির জিনিস বেঁচে দিয়েছে।জুয়ার পেছনে টাকা উড়িয়েছে।”

আমি ভাবিকে থামিয়ে দিয়ে বলি,”এটা কেমন কথা ভাবি!
বড়োজার বাবার তো কম নেই।তাহলে তার মেয়ে কেন শুধু টাকার লোভে আকাশকে বিয়ে করবে?”

“কম নেই তবে রাজভান্ডার ও তো নেই।
জুয়ার দানে পড়লে আর বদ নেশায় পড়লে রাজার ভান্ডার ও রাতারাতি খালি হয়।
এই মেয়ে যে শুধু জুয়াতে আসক্ত তা নয়।এমন কোনো খারাপ গুণ নেই যা ওর নেই।
জুয়া থেকে নেশা পান,রাতভর পার্টি করা,খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মেশা সবই আছে ওর মধ্যে।বলতে পারো বর্জনীয় সব গুণ সম্পন্না।
এজন্যই ওর বাবা মূলত ওর সঙ্গে আকাশ ভাইয়ের বিয়ে দিয়েছে।একপ্রকার তাড়িয়ে দিয়েছে মেয়েকে।
ওর বড়োবোন ইচ্ছে করেই আকাশ ভাইকে ফাঁসিয়েছে।
আকাশ ভাই বড্ড বোকা তাই এসব বুঝতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠিত ব‍্যবসা তার।টাকা-পয়সা মোটামুটি আছেই।
সেই লোভেতেই বোনের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে।এতে করে বোনের ভবিষ্যৎ ও সুরক্ষিত হলো,আবার বাবাটাও বাঁচলো।
ক্ষতিটা হলো শুধু আকাশ ভাইয়ের পরিবারের।
এ মেয়ে সংসারীর ধারে কাছেও নেই।

বিয়ের তিনদিন মতো ভালো ছিল।
আকাশ ভাইয়ের মা কতো পদ করে করে খাওয়াতো রিঙ্কিকে।আকাশ ভাই ব‍্যাগ ভরে ভরে শপিং করে এনে দেয়।
বিয়ের পর একটা অনুষ্ঠান করেছিল।এলাকার সবাইকে দাওয়াত দেয়।আমরাও গেছিলাম।পাশের বাড়ি বলে কথা!
আকাশ ভাইয়ের মা সবাইকে ডেকে ডেকে বলেন,তার পুত্রবধু এরকম শিক্ষিত,নম্র-ভদ্র গুণী মেয়ে।
আরো কতো প্রশংসা!
দুদিনেই সব শেষ।
অনুষ্ঠানে ক‍্যাশ টাকা উঠেছিল অনেক।আকাশ ভাইয়ের মায়ের কাছে ছিল সব টাকা।
ঐ মেয়ে পরদিনই ঐ টাকা চায়।বলে আমার বিয়ে উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান,তাই টাকাও আমার।উপহার ও তার।

নতুন বউ দেখে কিছু বলেনি।টাকা নিয়ে একরাতেই উড়িয়েছে সব।বন্ধুদের নাকি বিয়ে উপলক্ষ্যে ট্রিট দিয়েছে।

আরো বহু কান্ড আছে ঐ মেয়ের।

বিয়ের ছয়দিনের মাথায় কাউকে না জানিয়ে বাড়ির বাইরে যায়।
প্রথম দেখে কেউ কিছু বলেনি।
বিকেলে বাইরে গেলে ফেরে রাতে।তাও নেশা করা অবস্থায়।
বদ্ধ মাতাল একটা মেয়ে।
নেশা করে এসে ছাদে গিয়ে বক্সে গান বাজিয়ে নাচে।
রাতে ছেলে নিয়ে শুয়েছি।মাঝরাতে প্রচন্ড গানের শব্দ।বাইরে এসে দেখি এই অবস্থা।
আশেপাশের মানুষ গানের শব্দে বেড়িয়ে এসেছে।
বলে এই বাজারি মেয়ে এমন করছে কেন!
আকাশ ভাই আর ওর মা লজ্জায় বাড়ি থেকে বের হয়না।
এই কাজ করে প্রতিরাতেই।
এলাকায় কতো বয়স্ক মানুষ থাকে।তাদের সমস্যা হয়।
এলাকার এক মহিলা রিঙ্কিকে বোঝাতে গিয়েছিল।বয়স্ক মানুষ তিনি।
ঐ বেয়াদব মেয়ে উনাকে থাপ্পড় মেরেছিল।
রাগে সেই মহিলা এলাকার প্রধানের কাছে গেছে বিচার দিতে।সবাই এক হয়েছে।
এলাকা প্রধান বলেছেন একটা ব‍্যবস্থা নিবে খুব শিগ্রই।
একথা শুনে আকাশ ভাইয়ের মা সেই মহিলার কাছে ক্ষমা চাইতে গেছিলো।
মহিলা রাগের চোটে তাকে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে।

তোমাকে দেখতাম মাথায় কাপড় ছাড়া বের হতেনা।বয়স্ক মানুষ দেখলে সালাম,আপনি ছাড়া কথা বলতেনা।
ঐ মেয়ে রাস্তাঘাটে গেঞ্জি,শার্ট,প‍্যান্ট পড়ে ঘোরে।
মুরুব্বিদের দেখলে হাসাহাসি করে।সিগারেটের ধোয়া ছাড়ে।
বিয়ের পর সাপের পাঁচ পা দেখেছে যেন।

জানো তন্নি,ওর কোনো মেয়ে বন্ধু নেই।সব ছেলে বন্ধু।রাত একটা-দুটো পর্যন্ত নেশা করে হুশ থাকেনা।ছেলেগুলো বাড়ি দিয়ে যায়।এলাকা দিয়ে মাতাল অবস্থায় ঘোরে।
পরিবেশটা পুরো খারাপ করে দিয়েছে।এলাকা বাসি বলছে এদের পুরো পরিবারকে এলাকা ছাড়া করবে।এক ঘরতো করেই রেখেছে।
এই একটা মেয়ের জন‍্য পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

এখন সবাই পস্তাচ্ছে।বিয়ের আগেই বোঝা উচিৎ ছিল।
যেই মেয়ে একজন বিবাহিত পুরুষের প্রতি দূর্বল হয়,কূনজর দেয় সে কেমন হতে পারে!
বিয়ে ছাড়াই এ মেয়ে তোমাদের বাড়ি থেকেছে।রাত বিরাতে আকাশ ভাইয়ের সঙ্গে গল্প করতো।তাহলে ওর চরিত্র কতো ভালো হতে পারে?
বিয়ের আগে নমুনা দেখিয়েছে।এবার সব উন্মোচন করছে।
শুনেছিলাম ও নাকি দু দুইবার বাচ্চা ন*ষ্ট পর্যন্ত করেছে।যদিও এটা শোনা কথা।তবে সত‍্য হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।
ওর বাবা এই মেয়ের জন্য রাতারাতি ড‍্যামেজ হচ্ছিলো।বড়ো লোকের মেয়ে,চারপাশে খবর ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত।
ছি-ছিৎকার হয়েছে এই মেয়ের জন্য।
ওর বাবার বিরাট ব‍্যবসা,সেখানেও লোকে নাকি উপহাস করতো তাকে নিয়ে।
ভালো বিয়ে আসতো না কারণ এসব কথা কমবেশি সবাই জানতো।
মা নেই মেয়েটার।বাবা ব‍্যবসার কাজে ব‍্যস্ত থেকেছে।মেয়েদেরকে মানুষ করতে পারেনি।
নিজের বাড়িতে পর্যন্ত পুরুষ নিয়ে এসেছে।
রুপ আছে বলে ধরাকে সরা জ্ঞান করেছে।ছোট বড়ো কোনো মান‍্য নেই জানো!
আকাশ ভাইদের যেসব রিলেটিভ আছে প্রত‍্যেকে ওর নিন্দে করে।কারণ মেয়েটা এতোই বেয়াদব।
মামা শশুরের বাড়িতে অনুষ্ঠানে গিয়ে পর্যন্ত নেশা করেছে বউ হয়ে।
মামা শশুরকে নিয়ে জোর করে নেচেছে পর্যন্ত।
বউ মানুষ,জামা পড়ে শর্ট শর্ট।দিনে নাইটি পড়ে থাকে।আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়।
সারারাত পার্টি করে ভোরে ঘুমোতে যায়।
উঠে বেলা বারোটায়।
টিকটকে ফেসবুকে রিলস বানায়।নিজের শরীরের নানান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখিয়ে নোংরা নোংরা ভিডিও করে।
এলাকার ইয়াং ছেলেরা এসব দেখে বাড়ির সামনে ভির করে থাকে।
ও রাস্তায় বের হলেই ছেলেরা পিছু পিছু যায়।খারাপ মন্তব্য করে।এতে অবশ‍্য রিঙ্কি মজাই পায়।রিঙ্কিকে দেখলে নাকি ওসব ছেলেদের ফিলিংস জাগে।এটা তাও চিৎকার করে বলে।আকাশ ভাইয়ের মা এলাকা প্রধানের কাছে ছেলেগুলার নামে নালিশ করতে গিয়েছিল।ছেলেগুলো নাকি উনার পুত্রবধুকে বিরক্ত করে।প্রধান সাহেব তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছে।সবাই অবগত ঐ মেয়ের চরিত্র সম্পর্কে।
পরদিন আকাশ ভাইয়ের মা নিজেই ছেলেগুলোকে শাসাতে গিয়েছিল।উল্টে উনাকেই তাড়া করে ছেলেগুলো বলেছে পরেরবার উনার পুত্রবধুর ঘরে গিয়ে উঠবে সবাই।
এর চেয়ে লজ্জার কিছু হতে পারে?
সেদিন দেখি ঐ ছেলেদের মাঝখানে বসে সিগারেট খাচ্ছে।গায়ে ওরনা নেই।ওরা নাকি ওর ফ্রেন্ড।খারাপ সব ছেলেরাই ওর ফ্রেন্ড হয়।
এলাকার সবাই ওকে কলোনির মেয়ে পর্যন্ত বলে।
ও কিছু মনে করেনা এতে।
মান যায় আকাশ ভাই আর ওর মায়ের।
বেচারারা দিনে বের পর্যন্ত হতে পারেনা।যে যা পারে শোনায়।
প্রতিবেশি কারো সঙ্গে সম্পর্ক নেই ওদের।
ছায়াও মারায় না কেউ।
এলাকার প্রধান এসে দু বার শাসিয়ে গেছে।পরেরবার এলাকা ছাড়া করবে বলে গেছে।

যেই আকাশ ভাই রাস্তাতে বের হলে ছোটরা সম্মান করতো।সালাম দিত।তাকে নিয়ে সবাই এখন মজা নেয়।
সমাজ থেকে উঠে গেছে ওরা।সমাজের কোনো কাজে ডাকেনা।নিজ ইচ্ছায় গেলেও তাড়িয়ে দেয়।
সবার কথা,বাড়ির বউকে যে ঠিক পথে রাখতে পারেনা,শাসন করতে পারেনা,তারা আবার কী সমাজের উন্নতির কাজে আসবে?
এরা তো নিজেই ঠিক নেই।
ঐ মেয়ে যে শুধু অসভ‍্য তাই নয়।অসম্ভব রকমের নির্লজ্জ।
আকাশ ভাইকে নিয়ে বাইরে গেলে কখনো সুন্দর ভাবে যায়না।
গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে,কোমরে হাত দিয়ে,কাধে মাথা রেখে হাঁটবে রাস্তা দিয়ে।
যেন সতেরো বছরের যুবক-যুবতী পার্কে যাচ্ছে।
রাস্তায় কতো পরিচিত,সম্মানিয় মানুষ থাকে।লজ্জায় তারাই মাথা নত করে।
কেউ কিছু বললে রিঙ্কি বলে,ওর স্বামী ও যা ইচ্ছে করতে পারে।
নিজের টাকায় খায় তাই পরের কথা শুনবেনা।প্রয়োজনে ও রাস্তাতেই নাকি বর নিয়ে শু*য়ে থাকবে।
বিশ্বাস করো,ঘৃণাতেই কেউ কথা বলেনা ওদের সঙ্গে।
মানুষ দেখে না,যা তা বলে দেয়।
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

ঐ বাড়ির ছাদ আর আমাদের ছাদ তো একসঙ্গেই।জানোই তো সব।
সেদিন ছেলে নিয়ে ছাদে উঠেছি।
দেখি ওরা স্বামী-স্ত্রী ছাদে বসে চুমু খাচ্ছে।আমার ছেলে এসব দেখে বলছে,আম্মু ওটা কী?
লজ্জায় ছেলের চোখ ধরে ঔপাশ ঘুরেছি।মানে কোনো বিবেক বিবেচনা নেই ওদের।
তখনই পাশের ছাদ থেকে এক আঙ্কেল ওদের তাক করে জুতো ছুড়েছে।সেই জুতো গিয়ে লেগেছে আবার আকাশ ভাইয়ের মুখে।
রিঙ্কির তো সেই রাগ।
আঙ্কেলকে ভাষা খারাপ করা শুরু করেছে।
আকাশ ভাই বউকে টেনে নিয়ে ঘরে যায়।কিছু বললে মা*র ওরাই খাবে।

আঙ্কেল পরদিন এসে আমায় বলে,ওদের জন্য সমাজ কেন দেশটাই উচ্ছন্নে যাচ্ছে।
নাতি নিয়ে ছাদে উঠতে পারিনা ওদের জ্বালায়।
তুমি মেয়ের মতো,তবুও তোমায় বলতে হচ্ছে।
কী শুরু করেছে ওরা?
ঘর নেই?ছাদে নোংরামো করে লোককে দেখায় নাকি?
বাচ্চাদের সামনে আমরা বড়োরা লজ্জায় পড়ে যাই।জবাব দিতে পারিনা।
কাল জুতো মে*রেছি।এরপর ঐসব দেখলে ইট ছুড়বো আমি।
এতে যদি আমার জেল ও খাটতে হয় খাটবো।তাও তো পরিবেশ রক্ষা পাক।
এই মেয়ে নাকি শিক্ষিত!
ছাদে স্বামী নিয়ে গলাগলি করে বসে থাকে।আমরা প্রতিবেশিরা ওর জন্য ছাদে ওঠা বন্ধ করে দিয়েছি একপ্রকার।
মাঝে মধ্যে মনে হয় ঐ মেয়ের জন্মের ঠিক নেই।নারীদের লজ্জা হয় ভূষণ।
আর ঐ মেয়ে এতোটাই নির্লজ্জ যে ওর সঙ্গে কথা বলতে পর্যন্ত লজ্জা পাই আমরা।মুখ থেকে মদ সিগারেটের গন্ধ আসে।
আকাশ ও হয়েছে এক।লক্ষি রেখে অলক্ষি টেনে এনে শুধু নিজের জীবন না,আমাদের পর্যন্ত তটস্থ করে রেখেছে।নেহাত ওরা এখানকার স্থানীয়।ভাড়াটিয়া হলে কবেই ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতাম এলাকা থেকে।
আকাশ ছেলেটা আর পুরুষ নেই।ওর এখন তালি বাজিয়ে টাকা রোজাগার করা উচিৎ।

আঙ্কেল আমাকে রিকোয়েস্ট করে আমি যেন আকাশ ভাইয়ের মা’কে গিয়ে একবার বোঝাই।
কারণ আমাদের পাশাপাশি লাগোয়া বাড়ি।
আমি জবাব দেই,কাকা আমার সঙ্গে ওদের তেমন সম্পর্ক নেই।ওরা আমায় পছন্দ করেনা।তন্নি থাকতে যেতাম বলে ঝগড়া করেছে বহুবার।
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।অন‍্য কোথাও আর এই গল্পটি পাবেন না।তাই সম্পূর্ণ গল্প পড়তে নাদিয়া আফরিনকে ফলো করুন।

কাকা বলেন,করবে কী করে!
ওরা যেমন নোংরা,পছন্দ করবেও তেমন নোংরা।ভদ্র সমাজ ওদের সঙ্গে যায়না।সবই পাপের ফল।
তন্নি মেয়েটা কতো ভালো ছিল।মাথা নিচু করে রাস্তাঘাটে চলতো।
দেখা হলে সালাম না দিয়ে কথা বলতো না।
ওমন ভালো মেয়েকে তাড়িয়ে দিয়ে বস্তি টেনে আনার শাস্তি এটা।
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

শুধু আঙ্কেল নয়,এলাকার প্রতিটি মানুষ এখন তোমার কথা মনে করে।
ওদের রটানো সব কথাই যে মিথ্যা তা হারে হারে বুঝেছে সবাই।
এর মাঝে তোমার শাশুড়ি একদিন তোমার নামে নিন্দা করতে শুরু করে এক মহিলার কাছে।
সেই মহিলা ঝামা ঘসে দিয়েছে একেবারে।
মুখের সামনে থুথু ফেলে চলে এসেছে।
তোমার নামে সবাই ধন‍্য ধন‍্য করে।
তোমার মর্ম দিন শেষে সবাই বুঝতে পেরেছে।”

ভাবি থামে।লম্বাশ্বাস নেয়।
আমার মাথায় একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
কৌতুহল থামাতে না পেরে আমি বলি,”এতো কিছু হয়ে যাচ্ছে আকাশ চুপ কেন?
এতোটা নিচ তো ও ছিল না।আর ওর মা’ ই বা এতোকিছু কেন সহ‍্য করছে?
প্রতিবাদ কেন করছেনা?
এতো অধঃপতন হয়েছে এদের?”

ভাবি আবারো একগাল হেসে বলে,”এখনো তো আসল কাহিনীই শোনোনি তুমি।সবে তো শুনলে রিঙ্কির কথা।
এখনো বহু কিছু বাকি আছে।যা শুনলে তুমি আকাশ থেকে পড়বে।
অনেক কিছু বদলে গেছে ঐ বাড়ি।
তোমার বড়োজার গুণাগুণ তোহ কিচ্ছু শোনোনি এখন পর্যন্ত।
আকাশ আর ওর মায়ের করুণ পরিণতি জানবে না?
এটা তো সবে শুরু।আসল কাহিনী এবার শুনবে।”

(উফ এই পর্ব বড়ো দিয়েছি কিন্তু।সবাই রেসপন্স করো।বানানে কিছু ভুল থাকতে পারে।এতোগুলো লেখা রিচেক করতে নিলে চোখ গুলিয়ে চায়।
সবাই রিয়েক্ট করুন দ্রুত।)

#বড়োজা গ্রুপে জয়েন হচ্ছেন না কেন?
তাড়াতাড়ি জয়েন হয়ে আলোচনা শুরু করুন।
গল্পের আকর্ষণীয় দিক পাবেন সেখানে।
তাই জয়েন হয়ে আড্ডা দিন।প্রশ্ন করুন।মাতিয়ে তুলুন গ্রুপকে।
সেই সঙ্গে পাবেন গল্পের আপডেট।

প্রিয় পাঠক।
ইতিমধ্যে “বড়জা” গল্পটা এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে এটাকে নিয়ে একটা গ্রুপ তৈরি করেছেন পাঠকমহল।
গ্রুপে জয়েন হয়ে গল্প সম্পর্কে আলোচনা, সমালোচনা করে মাতিয়ে তুলুন আপনাদের পছন্দের গল্পটিকে।

গ্রুপ লিঙ্ক
https://www.facebook.com/share/g/15rAzSEdH1/