#বড়োজা
#Nadia_Afrin
১৮
ভাবির কথা শুনে আমার মাথা চক্কর দেওয়া শুরু করেছে রীতিমতো।
পরিস্থিতি বুঝে ভাবি চায়ের দোকান থেকে দু-কাপ চা সহ একটি পানির বোতল নিয়ে আসে।
এই প্রথম আমরা বাইরে বসে চা খাচ্ছি।
ভাবি আমার হাতে এককাপ চা ধরিয়ে দিয়ে বলে,”খেয়ে আগে মস্তিষ্ক ঠিক করো।
আমিও কথা বলতে বলতে হাপিয়ে গেছি।’চা’ টা খেয়ে একটু গলা ভিজিয়ে নেই।”
দুজনে পাশাপাশি বসে ‘চা’ পান করলাম।
মেয়েটা আমার ভাবির কোলে লক্ষি হয়ে ঘুমিয়ে আছে।
খাওয়া শেষে আমি বিল দিতে নিলে ভাবিই বিল দেয় জোর করেই।
তারপর আবার ভাবির পাশে বসে বলি,”এবার বাকিটা বলুন দেখি।সব যেন আমার কাছে গোলমেলে লাগছে।
আপনি একটু সবটা খুলে বলুন।”
“ঠিক আছে তবে তোমার শাশুড়িকে দিয়ে শুরু করি?”
আমি মাথা নাড়ি।
ভাবি লম্বা শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করে।
‘আকাশ ভাইয়ের মা শুরু থেকেই ভেবেছিল রিঙ্কি মেয়েটাকে বউ করে আনলে উনার লাভই হবে।
তোমার ‘বড়োজা’ সে মতোই বুঝিয়েছিল তাকে।ব্রেন ওয়াশ করে রেখেছিল একপ্রকার।
এছাড়া তোমার ‘বড়োজা’ শুরু থেকেই ঐ বাড়িতে কম দেয়নি।তাই তোমার শাশুড়ি ভেবেছিল,বড়োমেয়ের পর যদি ছোট মেয়ে আসে বাড়িতে তাহলে সব পাবে ডাবল ডাবল।
সব দিয়ে ভরিয়ে দেবে।দামী ফার্নিচার,গহনা,পোশাক দিয়ে একদম উনাকে উঠিয়ে দেবে।
এই লোভই কাল হয়ে দাড়ায় বেচারার।
অতি লোভ পতনের মূল।যেটা আজ হারেহারে টের পাচ্ছে মহিলা।
রিঙ্কি মেয়েটা প্রথম দিন এসেই নিজের বিয়ের সব গিফট,ক্যাশ টাকা দাবি করে।
তখন নতুন বউ হওয়ায় সবাই মেনে নিয়েছিল।
তবে দিন যতো যায় ঐ মেয়ের আচরণ পরিবর্তন হয়।
আকাশ ভাইয়ের মায়ের সঙ্গে দিন কে দিন খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে।
নতুন বউ ঘুম থেকে ওঠে বারোটায়।
আকাশ ভাইয়ের মা ডাকতে গেলে চেচামেচি করে রিঙ্কি।কখনো মারতে তেড়ে আসে।
এক কাপ চা অব্দি বানিয়ে দেয় না।
শাশুড়ি একটা কাজের কথা বললে বলে,আমি কাজের লোক নাকি?
কাজ করতে এ বাড়িতে এসেছি?
নিজের টা নিজে করুন।সঙ্গে আমার গুলোও করে দেবেন।কারণ আপনারা আমার সেধে নিয়ে এসেছেন।
ঐ তো সেদিনের কথা,আমি রান্না করছিলাম কিচেনে।তোমাদের কিচেনের একটা বড়ো জানালা আছে না?যেটা আমার কিচেন থেকে দেখা যায়।
ঐ জানালা দিয়ে দেখলাম এক কান্ড।
আকাশ ভাইয়ের মা রান্না করছিল।সম্ভবত রিঙ্কিকে বাসন ধুতে বলেছে।
ঐ মেয়ে রাগের চোটে কাঁচের গ্লাস ছুড়ে মেরেছে।
এ দৃশ্য দেখে আমি অবাক।
বিয়ের মাত্র চারদিন তখন।
আসলে আকাশ ভাইয়ের মা রিঙ্কিকেও হয়ত তুমি ভেবেছিল।যে সকাল সকাল উঠে সব কাজ একা হাতে সেরে রান্না করে খাবার ঘরে দিয়ে আসবে।
হয়েছে সেগুরে বালি!
কথায় কথায় বেচারাকে অপমান করে।
ওর বড়ো বোন মানে ‘বড়োজা’ তোমার শাশুড়িকে কী সব গিফ্ট করতো না?
সেসবই ছিল নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য।
মন গলিয়ে কার্জ হাশিল করে নিয়েছে ওরা।
‘বড়োজার’ গিফ্ট করা সব ছোট খাটো গহনা নিয়ে গেছে রিঙ্কি।বিক্রি করে নাকি পার্টি দিয়েছে।
কতো ফার্নিচার সব বিক্রি করে দিয়ে দিয়ে টাকা নিয়ে আমোদ করে।
তোমার শাশুড়ি বাধা দিতে গেলে গালাগালি করে রিঙ্কি।লোভি,অসভ্য বলে গালি দেয় বেচারাকে।
পুত্রবধুর কাছ থেকে এমন গাল-মন্দ সহ্য করতে না পেরে বেচারা প্রায় প্রায় চিৎকার করে কাঁদে।
আমি পাশের বাড়ি,তাই সবই শুনতে পাই কম বেশি।
রাতেও ও বাড়িতে শান্তি নেই।
সেদিন আমি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি,তোমার ভাই অফিসের কাজ করছিল।
হঠাৎ আকাশ ভাইয়ের মায়ের চিৎকার।
আমরা ভেবেছি কোনো অঘটন ঘটলো নাকি!
তড়িঘড়ি বারান্দায় এসেছি।তোমার শাশুড়ির ঘরের জানালা খোলা ছিল।গরমের জন্য হয়ত খুলে রেখেছিল।
আমরা দেখি,রিঙ্কি মেয়েটা বদ্ধ মাতাল হয়ে শাশুড়ির ঘরের আলমারি খুলছে।
পেছনে দাড়িয়ে শাশুড়ি থামানোর চেষ্টা করছে।
মেয়েটা এক ধাক্কায় শাশুড়িকে ফেলে দিয়েছে।
বড়োজা দৌড়ে এসে শাশুড়িকে ধরে বলে,ওকে কিছু বলবেন না মা।ওর মাথা ঠিক নেই।একটু ড্রিঙ্ক করেছে তো।
ও যা নিতে চাচ্ছে নিয়ে নিতে দিন।
বাড়ির বউয়ের জন্যই তো সব।
রিঙ্কি আলমারি খুলে শাশুড়ির দামি শাড়ি,গহনা বাহির করেছে বিক্রি করবে বলে।
মহিলা সে কী চিৎকার এসব দেখে।
রিঙ্কিকে ঠেকাতে গেলে বড়োবোন টেনে ধরে রাখে পেছন থেকে।
কানে কানে বলে,ওকে এই মূহুর্তে কিছু বলবেন না।মাথা ঠিক নেই।মা*র্ডা*র টা*র্ডা*র করে দিতে পারে।
মহিলা ভয়ে আর কিছু বলেনা।
রিঙ্কি সব নিয়ে যায়।
বিক্রি করে নাকি জুয়ায় লাগিয়েছে।
আকাশ ভাইকে নালিশ দেয় তার মা।বউকে শাসন করতে বলে।
প্রথম দিন আকাশ ভাই ক্ষেপে গিয়ে রিঙ্কিকে শুধু একটা ধমক দিয়েছিল।
রিঙ্কি তাতেই রেগে দিয়ে ঝাড়ু ছুড়ে মেরেছে।
শাশুড়িকে মানুষ বলে মনেই করে না এই মেয়ে।
তুমি থাকতে ভাতটা অব্দি বেড়ে খেতে হতোনা।আর এখন বড়ো বউমা,ছোট বউমা দুজনের নোংরা কাপড় পর্যন্ত ধুইয়ে নেয় তাকে দিয়ে।
রিঙ্কির যা ব্যবহার আর কথা!
তাতে ভয়েই সব করে দিতে হয় বেচারাকে।
বাতে ব্যাথা নিয়ে ঘর মোছা,রান্না করা সবই করতে হয়।
সহ্য করতে না পেরে রিঙ্কির বাবাকে কল করেছিল আকাশ ভাইয়ের মা।
ওর বাবার সোজা উত্তর,আমি তো আমার মেয়েকে ঠেলে পাঠাইনি আপনার বাড়ি।
আপনারা নিজেরাই সেধে নিয়েছেন।এখন এসব বললে তো হবেনা।
যেমন সংসার ভেঙে নিয়েছেন,তেমন এবার সহ্য করুন।
এই মেয়ের জন্য আমি একটা পয়সাও খরচ করতে পারবো না।ঐ মেয়ে এমনিতেই আমায় ধ্বংস করে গেছে এতোকাল।
এবার যেহেতু সংসারে গিয়েছে,তাই এবার থেকে ওর সকল দায়িত্ব আপনার ছেলের।
কীভাবে সামলাবেন আপনাদের বিষয়।
শুধু একটা কথা মাথায় রাখবেন,আমার মেয়ে দুটোর কোনো ক্ষতি হলে আপনাদের জেলের ভাত ও খেতে দেব না।সোজা ফাঁ*সির ব্যবস্থা করে দেব।
এসব বিষয়ে আর আমায় কল দিয়ে সময় নষ্ট করবেন না আমার।
মেয়ে আপনার পুত্রবধু।তাই ওর সকল খরচ আপনাদের বহন করতে হবে।
প্রয়োজনে চুরি করুন,অথবা কিডনি-রক্ত বিক্রি করুন।দায়িত্ব আপনাদের পালন করতেই হবে।
আকাশ ভাইয়ের মা সব দিক দিয়ে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
মুখের সেই চ্যাটাং চ্যাটাং কথা,গর্জন,কড়া চাহনি আর নেই।
নিজেদের বাড়িতেই বিড়াল হয়ে চলে।
একটা কথা বললে ঐ রিঙ্কি ধমক,চিৎকার,গা*ল শুরু করে দেয়।
কখনো তো দেখি এটা-সেটা ছুড়েও মারে হাতের নাগালের।
‘বড়োজা’ সবই দেখে।দেখেও চুপ থাকে।
বলে,ও ছোট মানুষ।বোঝে কম।এবয়সি মেয়েরা একটু এমনই হয়।
সময় হলে,বাচ্চাকাচ্চা কটা হলে ঠিক হয়ে যাবে।
সত্যিই?
এটা কখনো হয়?
প্রাপ্ত বয়স্ক একটা মেয়ে কিছু বোঝেনা?
ভাত-মাছ খায়,স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে ফিরতে পারে,আর ভালো-মন্দ বোঝেনা?
অন্তত এই টুকু জ্ঞান তো থাকার কথা।শাশুড়িকে মা*রধ*র করা কেমন বাচ্চামো?
ঐ মেয়েকে প্রায় প্রায় দেখি আকাশ ভাইয়ের মাকে গা*লি দিচ্ছে।
মা-বাপ তুলে গালি দেয়।এমন এমন ভাষার প্রয়োগ করে যা মুখে আনাও পাপ।
শিক্ষিত মেয়ের ওসব ভাষার ছিড়ি?
এই মেয়ে নাকি পড়াশোনা করেছে।দেখে মনে হয় নোংরা পরিবেশের।
কাউকে মানেনা।নিজের স্বামীকে অব্দি তুই তুকারি করে।
ভাবা যায়?”
আমি ভাবিকে থামিয়ে দিয়ে বলি,”ভাবা তো যায়না।
কিন্তু এখনো আমার মাথায় ঢুকছে না,আকাশ কেন প্রতিবাদ করছেনা এসবের?
ওর মায়ের প্রতি এতো অত্যাচার করছে তবুও ও কেন চুপ?
ওর কী বিবেক বুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে?
নাকি চোখ থাকতেও অন্ধ হয়েছে?”
“অন্ধই তো হয়েছে।
পুরুষ হয়েও কাপুরুষের মতো সব সহ্য করছে।অবশ্য এতে বেচারার দোষের থেকেও ভুল বেশি।
রিঙ্কির মতো মেয়েকে বিয়ে করাই হয়েছে ওর ভুল।
‘বড়োজার’ কথার লোভে পড়ে রিঙ্কিকে বিয়ে করে নিজের ফাঁ*সি*র দড়ি নিজের গলাতেই দিয়েছে।
মহিলা বলেছে,আমার বোনকে বিয়ে করো,জীবনী কিছু করে খেতে হবেনা।পায়ের ওপর পা তুলে খাবে।
আমার বাবা তোমায় খাওয়াবে।
‘বোকা ছেলেটা এ কথাই বিশ্বাস করেছে।
স্বার্থপর এ দুনিয়ায় এটা সম্ভব?
মানুষ নিজ স্বার্থ ছাড়া চলে এখন?
যা যুগ এসেছে,তাতে মানুষ নিজের পেটের ছেলে,মা-বাবা,ভাই-বোনের দায়িত্ব নিতেই অস্বীকার করে।সেখানে নাকি স্বার্থ ছাড়া আকাশ ভাইকে ভরণপোষণ দেবে ওর শশুর।
এ কথা আমি যখন শুনেছি তখনই আমার ঘাপলা লেগেছে।
ওদের অবস্থা ভালো।তবুও বসে খাওয়ার ইচ্ছা।
এটা বোঝেনা পরের টাকায় খেলে চামচামি করে খেতে হবে।
আসলে আকাশ ভাইয়ের মা ভেবেছিল,রিঙ্কিকে বিয়ের পর রিঙ্কি ওর কোটিপতি বাবার থেকে টাকা,ফার্নিচার,গহনা এনে তাদের দেবে।তারা সেসব টাকা নিজেদের ব্যবসায় লাগিয়ে আরো উন্নতি করবে।
প্লাস এটাও বলেছিল,রিঙ্কি ও ‘বড়োজার’ যেহেতু কোনো ভাই নেই তাই ওদের সব সম্পত্তি,জমি নাকি আকাশ ভাই আর তার বড়ো ভাই পাবে।
এ আশাতেই বিয়ে করেছিল আকাশ ভাইয়ের বড়ো ভাই ও।এখন গোলাম হয়ে আছে।বউয়ের,শশুরের পা ধুয়ে খেতে হচ্ছে বেচারাকে।
আকাশ ভাইয়ের পরিণতিও প্রায় একই রকম।
বউ তাকে এক আঙুলে ঘোরায়।
কথাতে নাচায়।চোখের ইশারায় উঠ-বস করায়।
সিঙ্গাপুরে হানিমুনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল শশুরের পক্ষ থেকে।
সিঙ্গাপুর তো ছাই,খোঁজ অব্দি নেয়না।
ফোন দিলে ধরেনা।ব্লক অব্দি করে রাখে।
রিঙ্কি মেয়েটা বিয়ের প্রথম রাতেই নাকি আকাশ ভাইয়ের থেকে বাড়ি লিখিয়ে নিয়েছে।
বাড়িটা আকাশ ভাইয়ের নামে ছিল,সেটা তো জানোই তুমি।
বাড়ি লিখিয়ে নিয়ে বলেছে,আমার বাবার লক্ষ-কোটি টাকার সম্পত্তি সব তো তোমরাই পাবে।আপাতত তোমাদের বাড়িটা আমার নামে করে দাও যাতে এখানে আমি সেফটি নিয়ে থাকতে পারি।তুমি ব্যবসার কাজে বাইরে গেলে কেউ যেন আমার থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় না ভুগতে পারি।
আসলে বাড়িটা আমার নামে থাকলে আমার একটা শক্তপোক্ত জায়গা হবে পায়ের নিচে।তাই চাচ্ছিলাম আরকি!
এছাড়া আমার কোনো প্রবণতা নেই।তোমাদের নিয়েই তো আমার সংসার,আমার সব কিছু তোমরা।
ওর এসব মিষ্টি মিষ্টি কথায় আকাশ ভাই একেবারে গলে পানি হয়ে বউয়ের নামে বাড়ি লিখে দিয়েছে।সবই লোভের ফল।বেশির আশায় নিজের ভিটা-বাড়ি দিয়ে দিয়েছে।
পরদিন থেকেই ও মেয়ের পরিবর্তন।
বিয়ের আগে দেখতাম আকাশ ভাইয়ের সঙ্গে চিপকে থাকতো সবসময়।মানুষজন দেখতো না কাধে-কোমরে হাত দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতো।
কতো মধুর সময়।আকাশ ভাই ও এসব ইনজয় করতো ভারী।
বাড়ি লিখিয়ে নেওয়ার পর থেকে মেয়েটা আর আগের মতো নেই।আকাশ ভাইকে কেমন দূর ছাই ব্যবহার করে।শুধু তাকে না,তার মাকেও।আগে নাকি ‘আন্টি আন্টি’ বলে বাড়ি মাথায় তুলতো।এখন গা*লি দিতেও বাধেনা।
আকাশ ভাই প্রথমে কিছু বলেনি।কিন্তু ওর ব্যবহার দিনকে দিন পরিবর্তন হতেই থাকে।বাড়ির মানুষকে কুকুরের মতো ব্যবহার করে।
আকাশ ভাই বোঝালে গায়েই লাগায় না বিষয়টি।
আলমারিতে ব্যবসার টাকা রাখা থাকতো।
দিনকে দিন সেই টাকার পরিমাণ কমতে লাগে।রিঙ্কিকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, সে নাকি জানেনা কিছু।
অথচ ঘরে কিন্তু শুধু ওরা দুজনই থাকে।বিয়ের পর থেকে রিঙ্কি আবার ওর শাশুড়িকে ওদের রুমে ঢুকতে দেয়না।ওদের নাকি প্রাইভেসি আছে।
আকাশ ভাইয়ের যেহুতু অনেক রকমের ব্যবসা।এবং সেসব প্রোডাক্ট বাহির থেকে ও বিভিন্ন জায়গা থেকে আনতে হয়,তাই ক্যাশ টাকা আকাশ ভাইয়ের আলমারিতেই থাকতো।যাতে প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে নিতে পারে।বেশ অনেক টাকাই ঘরে থাকতো।
প্রথম প্রথম ওখান থেকে তিন-চার হাজার করে গায়েব হতো।
ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়তে থাকে।দশ-বারো হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা পযর্ন্ত গায়েব হয়।
হিসেব মেলাতে না পেরে আকাশ ভাই বাড়িতে চিৎকার,চ্যাঁচামেচি করে।
ওর বউ নিশ্চুপ থাকে।
পরে সবাই মিলে চেপে ধরলে স্বীকার করে।
বলে ও আর ওর বোন নাকি শপিং করেছে,গোল্ডের জিনিস কিনে টাকা শেষ করেছে।
একথা শুনে আকাশ ভাই রেগে বউকে বলেছে সব টাকা যেন এনে দেয় তার বাবার থেকে।না’হলে ব্যবসার বিরাট লস হয়ে যাবে।
আকাশ ভাই নিজেই তার শশুরকে কল দিয়ে তার মেয়ের সব কর্মকাণ্ড জানিয়েছে।
শশুরকে টাকা দিতে বলেছে।
শশুরে উত্তর দিয়েছে,বউ তোমার।খরচ করেছে তোমার টাকা।আমি কেন দেব?
তুমি কীভাবে টাকা রাখো যে ও নিয়ে যায়?
আর যায় ই বা কেন?
তুমি স্বামী,তোমার পরিস্থিতি কেন বোঝেনা তোমার স্ত্রী?
বোঝাতে পারোনা?’
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
আকাশ ভাই বলেছে,আমি চেষ্টা করেছি।বুঝিয়েছি।ও বুঝছেনা।
সে বলে,এতে আমার কী দোষ?তোমার স্ত্রী তোমায় না বুঝলে আমি কী করতে পারি?
নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয়ে আমায় কেন টানছো?
যা পারবে নিজেরা করে নাও।নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করে নাও।
এই বলে সে রেখে দিয়েছে।
মানে মেয়ের কোনো কান্ডে তিনি দায়ভার নেবেনা।
এভাবে করে ওদের ব্যবসায় লস হতে লাগে রাতারাতি।আকাশ ভাইকে ঐ মেয়ে অফিস যেতে দেয় না ঠিকমতো।
সারাদিন ঘরে নিয়ে থাকবে স্বামীকে।
এর মধ্যে আবার জানা গেল ঐ মেয়ে জুয়ায় আসক্ত।
বাড়ির জিনিসপত্র,গহনা নিয়ে নিয়ে জুয়াতে লাগায়।
আকাশ ভাই প্রতিবাদ করে।রিঙ্কি সে’বার আকাশ ভাইকে থাপ্পড় দিয়েছে।বাড়িতে সে’কী হুলস্থুল কান্ড!
‘বড়োজা’ এসে বলে,ওগুলো নাকি জুয়া না।অনলাইন গেম।
এ বয়সের মেয়েরা নাকি এসব করেই থাকে।
আকাশ ভাই এসবের এক পর্যায়ে ডিভোর্স দিতে চায়।
রিঙ্কি সুন্দর করে বলেছে,ডিভোর্স দিলে দাও।কাবিনের সব টাকা সমেত জেল হাজতের ব্যবস্থা রয়েছে।
ডিভোর্স করতে গেলে মামলা দেবে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের।
আকাশ ভাই ওর বড়োবোন অর্থাৎ ‘বড়োজাকে’ ধর্ষণ করেছে।রিঙ্কিকে জোর করে বিয়ে করেছে আটকে রেখে।বিয়ের পর মা ছেলে মিলে নির্যাতন করেছে।যৌতুক নিয়ে মার*ধর করেছে।
এরপর ওর বোনকে দিয়ে কেস করবে।বোনকেও নির্যাতন করেছে এতোকাল।
তারপর তন্নির ইস্যু তুলবে।যে আগের স্ত্রীকে বাচ্চা সমেত ঠকিয়ে সরিয়ে তাকে টাকার লোভে জোর করে বিয়ে করেছে।মানে গৃহবধু নির্যাতন ও ঠকানো এদের স্বভাব।
এলাকার লোকেও আকাশ ভাইদের প্রতি চরম বিরক্ত।তাই পুলিশ এলে তাদের পক্ষে থাকবেনা এটা শিওর।
সব দিক দিয়ে ফাঁ*সবে আকাশ ভাই ও তার পরিবার।পুরো ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেবে।
বাড়ি কাগজে কলমে রিঙ্কির নামে।তাই ঘার ধরে বের করে দিতেও বাধবে না।
এরপরও নাকি রিঙ্কি ছাড়বেনা আকাশ ভাইকে।প্রেগনেন্সির খবর রটিয়ে বিরাট অঙ্কের টাকার ডিমান্ড করবে।
সেই সঙ্গে ওর আর ওর বোনের নাকি কতো লক্ষ টাকা মে*রে খাওয়ার মিথ্যা অপবাদ।
সব দিক দিয়েই ওরা আকাশ ভাইকে কোণঠাসা করে রেখেছে।
এসবই নিছক ভয় হিসেবে নিতেই পারতো,কিন্তু একদিন আকাশ ভাই রিঙ্কিকে একটা থাপ্পড় দিয়েছিল গালে।
সেই রাগে দু-বোন গিয়ে থানায় জিডি করে এসেছে।
এমন ভাবে কেস করেছে যাতে ভবিষ্যতে ওর কিছু হলেই আকাশ ভাই ও তার পুরো পরিবার ফেসে যায়।ঐ বাড়িতে নাকি ওরা দু-বোন নিরাপদ নয়।
টাকা দিয়ে সে’বার নিস্তার পেয়েছে আকাশ ভাই।
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।
এরপর থেকে বাড়ির লোকের মনে ভয় ঢুকেছে।চাইলেও কেউ কিছু বলতে পারেনা।
দু-বোনের অত্যাচার দিনকে দিন বাড়ছে।
‘বড়োজা তার নিজের নামে জমি লিখে নিয়েছে সেই কবেই।বাড়ি নিয়েছে রিঙ্কি।
ব্যবসার বেহাল অবস্থা।যখন তখন কম্পানি বন্ধ হয়ে যায়।
এর কারণ হলো রিঙ্কি আকাশ ভাইকে দিয়ে কর্মক্ষেত্র থেকে লাখ লাখ টাকা নেয়।নিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আমোদ করে বেড়ায়।কম্পানির কিছু সঞ্চয় ছিল।সব ভেঙে নিয়ে নিয়েছে রিঙ্কি ও তার বোন।
আকাশ ভাইকে থ্রেট করে সবসময়।মে*রে ফেলার হুমকি অব্দি দেয়।
ওর বউ ওর সামনে পরপুরুষ নিয়ে ঘুরতে যায়,পার্টি করে।বেচারা সব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।একটা কিছু বললে দু-বোন মিলে একপ্রকার ছিড়ে খায় তাকে ও তার মাকে।
আকাশ ভাইয়ের ইমেজ নষ্ট করতে রিঙ্কি। রাস্তাঘাটে স্বামী নিয়ে নোংরামো করে বেড়ায়।ভাই চুপ থেকে সব সহ্য করে।আসলে লোভ উনার ভেতরটা ধ্বংস করে দিয়েছে পুরোদমে।পুরুষত্ব আর নেই।লড়াই করার সাহস নেই।বউয়ের ভয়ে এক ঘর হয়ে থাকে।উঠতে বললে ওঠে,বসতে বললে বসে।বউয়ের অনুমতি ছাড়া বাইরে অব্দি যেতে পারেনা।”
আমি প্রশ্ন করি,”আচ্ছা ভাবি,রিঙ্কি এমন কাজ কেন করছে?
ওর স্বামী,ওর সংসার।সব তো ও ই পাবে।তাহলে কেন সব ধ্বংস করছে?”
“ঐ মেয়ে কখনো সংসার করতে আসেনি।ও এসেছিল টাকা-পয়সা লুটতে।আকাশ ভাইয়ের একটা ভালো পজিশন ছিল।ও তার সুযোগে এসে সব লুটে নিয়ে পগার পাড় হবে।
বাবার থাকলেও নিজের তো নেই।এবার নিজের জন্য নিয়ে ভাগবে।”
(এই পর্ব ছোট হয়েছে জানি।পরের পর্ব বেশ বড়ো হবে কথা দিলাম)
চলবে।