#বড়োজা
#Nadia_Afrin
সারপ্রাইজ পর্ব🌸
সকাল হতেই বস্তির বাচ্চারা পড়তে আসা শুরু করেছে।দল ধরে এসেছে সবাই।
মনটা বেশ চাঙা লাগছে আমার।
সবাইকে হাত ধরে বসিয়েছি।ছোট-বড়ো মিলে দুটো সারি করেছি ছেলে-পুলের।
আমার ছেলেকেও বসিয়েছি মাঝখানে।মেয়ে চাচির কাছে।চাচি প্রায়ই মেয়েকে কোলে নিয়ে দোকান করে।এতে অবশ্য আমার উপকারই হয়।
সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে পড়ানো শুরু করেছি।
প্রথম দিনটা একটু ভালোই কাটলো।বাচ্চারা মোটামুটি আমার কথা শুনেছে।
যা বুঝেছি,এদের সহবোধ শিক্ষা দিতে হবে আগে।
পড়ানো শেষ করে মেয়ে নিয়ে বসে আছি এমন সময় ভাবি কল করে।
রিসিভ করি আমি।
ভাবি অতি উৎসাহের সঙ্গে বলে,”জানো তন্নি আজ আকাশ ভাইদের বাড়িতে বিরাট কান্ড।
রিঙ্কি ধরা পড়েছে হাতেনাতে।
এর আগেও তো এমন কান্ড হয়েছে।তবে এবার যা হলো সব হাতেনাতে।একদম বিছানাতে ধরা পড়েছে মেয়েটা।এক ছেলের সঙ্গে পরকিয়ার সম্পর্ক করেছে।সেই ছেলেকে রাতে বাড়ি এনেছে।আকাশ ভাই কাজে বাইরে ছিল।সেই সুযোগে দু-বোন মিলে এ-কান্ড ঘটিয়েছে।শাশুড়িকে তো ওরা পাত্তাই দেয়না।
এলাকার কয়েকটা ছেলে দেখে মানুষ ডেকেছে।
বাড়ি ভর্তি যুবক ছেলে জড়ো হয়েছে।ভাংচুর হয়েছে।
‘বড়োজা’ পলাতক।
রিঙ্কিকে মে*রেছে এলাকাবাসী।আকাশ ভাইকেও ডেকে এনে সেই মে*রেছে।এদের জন্য এলাকার সব সম্মান শেষ।
বউ মানুষ হয়ে শশুর বাড়িতে পুরুষ এনেছে।
ওদের জন্য এলাকার বাকি মেয়ের বিয়ে দিতে সমস্যা।
তাই সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আকাশ ভাই ও রিঙ্কিকে এলাকা ছাড়া করবে।
সময় দিয়েছে এক সপ্তাহ।”
আমি বললাম,”এসবে আমার কোনো আগ্রহ নেই ভাবি।আমি আমার জীবন নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত।
যা ইচ্ছে হোক ওদের বাড়ি।
আমি আর ওদের কেউ নই।ওরাও আমার কেউ নয়।সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
তবে আপনার কাছে একটা প্রশ্ন আছে।
এটা না’হয় জানাজানির বিষয় তাই জেনেছেন।
কিন্তু আর সব ব্যক্তিগত বিষয় কীকরে জানলেন ভাবি?
আমি যতোদূর জানি,ও বাড়ির কেউ আপনায় তেমন পছন্দ করেনা।যদিও এর কেন্দ্রবিন্দু আমি!”
ভাবি সামান্য হেসে বলে,”বোকা মেয়ে!
ওদের কোনো বিষয়ই আর ব্যক্তিগত নেই।সব পাবলিক হয়ে গেছে।
শুধু আমি না,আশেপাশের প্রত্যেকেই কম বেশি জানে এদের ঘটনা।ঝগড়া,চিৎকার ঐ বাড়ির নিত্যদিনের ঘটনা।
রাতে ঠিক মতো ঘুম হয়না ওদের জ্বালায়।
রাত হলেই ও বাড়িতে শুরু হয় ঝামেলা।
আমরা প্রতিবেশিরা মজা নেই দেখে।
তুমি এলাকার যে কাউকে জিজ্ঞেস করবে।
গড়গড় করে সব বলে দেবে ওদের সম্পর্কে।
ওটা আর ভদ্র বাড়ি নেই।কলোনি হয়ে গেছে।
অথচ তুমি কতো অত্যাচার সইয়েছো,তবুও বাহিরের লোকে একটা কুটো শব্দ পায়নি।
আর ঐ মেয়ে বাড়িটাকে বস্তি করে দিয়েছে।”
ভাবি থামে।
আমি কিছু বলিনা এ বিষয়ে।আগ্রহ নেই।
আরো দু-তিনটে কথা হয় আমাদের।এরপর কল রেখে দেই।
বাহিরে গেছি।এক দরকারে গিয়েছি।একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা আমার চোখে পড়ে।
এক ছোট ছেলে সিগারেট খাচ্ছে।বাচ্চা একটা ছেলে।বয়স দশ-বারো হবে।
এই ছেলে একটু আগেই আমার কাছ থেকে পড়ে এসেছে।
এতোটুকু বাচ্চা সিগারেট খেতে পারে!
ছেলেটাকে ধমক দেই।আমায় দেখে ভো দৌড় সে।
এখানকার পরিবেশ ভীষণই অস্বাস্থ্যকর।
ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকাটা চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে।
কবে না জানি আমার ছেলের এমন কিছু দেখি।
এরই মাঝে কল দেয় তটিনী।
প্রথমবারে ধরিনি ইচ্ছে করেই।দ্বিতীয় বারে ধরলাম কল।
মেয়েটা দেখি কাঁদছে।
বিচলিত হই আমি।কোনো বিপদ হলো না তোহ!
তড়িঘড়ি প্রশ্ন করি,”কী হয়েছে তটিনী?কাঁদছো কেন?
কী হয়েছে বলো আমায়।”
“আপা আমার দাদিমা মা*রা গেছেন।
আমার খুব কাছের ছিলেন তিনি।মা-বাবা জবে ব্যস্ত থেকেছে।দাদিমার কাছেই মানুষ হয়েছি।
উনার মৃত্যু আমি কোনোমতেই মেনে নিতে পারছিনা আপা।”
আমি তটিনীকে বুঝিয়ে বললাম,”দুঃখ পেও না বোন।জীবনে কেউ স্থায়ী হয়না।
একসময় সবাইকে বিদায় নিতে হয়।দুনিয়াটা মায়ার খেলা।”
মেয়েটা কাঁদছে হেচকি তুলে।
কান্নাভেজা কন্ঠে বলে,”আমি এখন রওনা হবো আপা।দাদিমাকে শেষ দেখা দেখতে চাই।”
“কিন্তু তোমার তো বেড রেষ্ট সম্পূর্ণ।জার্নি করতে পারবে?”
“ভাগ্যে খারাপ কিছু থাকলে হবে আপা।আমি এখানে চুপ করে বসে থাকতে পারবোনা।
মানুষটা আমার বড্ড প্রিয় ছিল।আমায় ভীষণ ভালোবেসেছে।
উনাকে শেষ দেখা না দেখলে আমার শান্তি হবেনা।সারাটা জীবন খুত থেকে যাবে একটা।
প্রাইভেট কার নিয়ে আস্তে ধীরে যাবো।”
“ঠিক আছে।তবে এসো।বেশি কান্নাকাটি করো না বোন।এসময় কান্না করা উচিৎ নয়।
মনকে শক্ত রাখো।উনার জন্য দোয়া করো।
আমি তোমার বাড়ি যাচ্ছি তটিনী।
আঙ্কেল আন্টির সঙ্গেও দেখা হয়ে যাবে।”
“আপনি গেলে ভালোই হবে আপা।
মা-বাবার এই শহরে তেমন আপন কেউ নেই।ওরা খুব ভেঙে পড়েছে।
আপনি গেলে সাহস পাবে।আপনি যান আপা।আমিও আসছি।দেখা হবে।
আমার দাদিমার জন্য একটু দোয়া করবেন।”
কল রেখে বাড়ি ফিরে গেলাম।
রেডি হয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে তটিনীর বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলাম।
আজ অনেক মাস পর তটিনীদের বাড়ি এলাম।
বাড়িতে প্রবেশ করা সঙ্গে সঙ্গে তটিনীর মা এগিয়ে আসে।আমায় জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
আমি উনাকে সামলে বাড়িতে নিয়ে আসি।ছেলের কোলে মেয়েকে দিয়ে একপাশে বসিয়ে দিলাম।
দোয়া পরলাম।
আঙ্কেলও কাঁদছে ভীষণ।
মৃত মানুষটাকে দেখলাম।চেহারা হলুদ হয়ে আছে।মুখ দেখে মনে হয় হাসিহাসি ভাব।
উনারা আমায় খেতে বলেন।
কিন্তু আমি খাইনা।
এমন পরিস্থিতিতে কেউ খেতে পারে?
তটিনী আসে প্রায় আড়াই ঘন্টা পর।
এসেই মেয়েটা কান্না শুরু করেছে।
আমায় জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছে।
ওর স্বামী অর্থাৎ আশিককেও দেখলাম এসেছে।
আমায় দেখে ছেলেটা মুখ কালো করে কী যেন বিরবির করলো।দূর থেকে এটা দেখেছি আমি।
তটিনী দাদিমার কাছে বসে কাঁদছিল।
আমার ছেলে এতোদিন পর ওর চাচ্চুকে দেখে বোনকে নিয়ে দৌড়ে এসেছে।
চাচ্চু বলে ডেকেছে।
আশিক আমার ছেলের হাত শক্ত করে ধরে ঝাকিয়ে বলে,”এখানে এসেছিস কেন?
ভিখারীর মতো সবখানেই যেতে হয় নাকি তোদের?”
ছেলে আমার এমনটা আশা করেনি।ধমক শুনে বাচ্চা আমার ভয়ে জড়সড় হয়ে গেছে।
মেয়ে কেঁদে উঠেছে।
আমি দ্রুতই এসে মেয়েকে কোলে নিয়েছি।
ছেলে আমার পেছনে লুকিয়েছে।
মৃত বাড়িতে অশান্তি করতে চাইলাম না।ছেলেকে নিয়ে চলে আসতে চাইলাম।
আশিক পেছন ডেকে বলে,”ছুঁচামির স্বভাব তোমার গেল না তাই না?
খেতে চলে এসেছো।যেই দেখেছো বাড়িতে কেউ নেই ওমনি চলে এলো সুযোগ নিতে।”
আমি পেছন ঘুরে বললাম,”আপনি করে বলুন।তুমি বলার মতো কোনো সম্পর্ক নেই আমাদের মাঝে।
একজন সুভাকাঙ্খি হয়ে এসেছি আমি।খেতে আসিনি।মৃত বাড়িতে কেউ খেতে আসেনা।
ভদ্র ভাবে কথা বলুন।অন্যথায় আমিও প্রতিবাদী জবাব দিতে বাধ্য হবো।
পরিবেশ বুঝে কথা বলুন।”
“ওসব আমার ভালোই বোঝা আছে।লোভি একটা মেয়ে।
ভালো হয়েছে তোমার ডিভোর্স হয়েছে।এটা তোমার প্রাপ্য ছিল।
আমার সাধাসিধে ভাইকে হাত করে কম সর্বনাশ তো করোনি।”
“তোর সাধাসিধে ভাইকে হাত করেছিলাম বলে দু-বেলা খেতে পারতিস।
ক’টাকা দিতি সংসারে?
কোন কাজটা করতি?রেধে বেড়ে খাইয়েছি তোকে।নিমুকহারাম কোথাকার!
সব ভুলে গেলি?
আগের তন্নি ভাবিস না আমায়।যে তোদের কটুকথা সব সহ্য করবো।
একটা বললে দশটা শুনবি এবার থেকে।
দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পুষেছিলাম আমি।আজ তা হারে হারে বুঝছি।
প্রতিদিন নতুন নতুন আইটেম কে করে খাওয়াতো তোকে?
হাত পুড়িয়ে রান্না করে তোর আবদার মিটিয়েছি।
এক ঈদে তোর ভাইয়ের ব্যবসায় লস হয়েছে।শপিং করতে সীমিত বাজেট দিয়েছে সবাইকে।
নিজের শপিং এর টাকা দিয়ে তোর চাহিদা পূরণ করেছি।ভুলে গেলি সব?
কলেজে ভর্তি হওয়ার টাকা ছিল না।
হাতের সর্নের আংটি খুলে দিয়েছিলাম।
সব ভুলে গিয়েছিস তাইনা?
অকৃতজ্ঞ ছেলে।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
আশিক মুখ বাকিয়ে বলে,”ওতোই যদি ভালো হতে তাহলে আমার ভাই তোমায় ছেড়ে অন্যকে বিয়ে কেন করলো?
সংসার কেন হলোনা তোমাদের?”
“চরিত্রে যার সমস্যা তাকে নিয়ে আর যাই হোক,সংসার হবেনা কোনোদিনও।
তোর ভাইয়ের স্বভাবই ছিল নোংরামো।তাই জুটিয়েছেও আরেক নোংরাকে।
নোংরায় নোংরায় এবার ডাস্টবিন তৈরি হয়েছে।”
“তোমার কাছে লেকচার শুনতে আসিনি।
যা হয়েছে ভালো হয়েছে।
ভিখারীকে তো সরিয়েছে।
রিঙ্কির বাবার কতো সম্পত্তি জানো?
ও কতো সুন্দরী,শিক্ষিত একটা মেয়ে।
তুমি ওর নখেরও যোগ্য নয়।”
আমি উপহাস সূচক হেসে বলি,”ভিখারীই তো ছিলাম আমি।তবে ভিক্ষা করে খাইনি আজও।সম্মান নিয়ে বেঁচেছি।
ভেবে দেখ,তোদের সেটুকুও নেই।
ভিখারী আমি,তবে কদিন পর ভিক্ষা করে খাবি তুই।অহংকার পতনের মূল।তোর ভাই যেমন ধ্বংস হয়েছে।তুই ও হবি।
রিঙ্কির বাবার থেকে ভিক্ষা তো করেছিসই।
এবার লোভে লোভে বাড়িতে এনেছিস।
ভেবেছিস সুখে থাকবি।
যাহ গিয়ে দেখ তোর মা-ভাইয়ের অবস্থা।
ভাত তো দূরে থাক,মার খেয়ে খেয়ে অবস্থা খারাপ।তোরও তাই হবে।যা গিয়ে দেখ।তোকে একগ্লাস পানি তো দূরে থাক,ঝাটা মেরে তাড়িয়ে দেবে।বাড়ি লিখিয়ে নিয়েছে ওরা।
ওর বাবার সম্পত্তি ধুয়ে পানি খাস।সেই সঙ্গে রিঙ্কির রুপ ধোয়া,পা ধোয়া পানি খাস।
আমি ওর নখের ও যোগ্য নই।কারণ ওর মতো নোংরা আমি নই।
ওর নখ কেন,ছায়াও মারাতে চাইনা আমি।
আর কী বললি?
শিক্ষিত?
হাসালি তুই।
ওর শিক্ষার নমুনা পেয়ে গেছে সকলে।
এমনি ওর শিক্ষা যে আজ ছেলে নিয়ে ধরা পড়েছে।
এলাকাবাসী তোর মা-ভাইকে বেধে রেখে কেলিয়ে সোজা করছে।
তুই ও যা।তোকেও বেধে কয়েক ধোলাই দিয়ে দেবে।”
এবার দেখি আশিক চুপ।
ও হয়ত ভেবেছিল আমি এসব জানিনা।
কিন্তু আমি তো সবটাই জানি।
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।
বেচারা আমার এমন প্রতিবাদে মুখখানা কাচুমাচু করে দাড়িয়ে রইলো।
জানি আমি অন্যায় করেছি।এমন পরিবেশে এসব বলা উচিৎ হয়নি।
কিন্তু এই ছেলেকে ছেড়ে দিলে আরো মাথায় চেপে বসতো।
আমি কেন বিনা অপরাধে অপমানিত হবো?
তটিনীর কাছে গেছি আমি।
আরো কিছুক্ষণ থেকেছি ওখানে।প্রায় বিকেলের দিকে ফিরে আসতে চাইলাম।
এতোক্ষণ আর আশিক আমার মুখো হয়নি।
হয়ত লজ্জাতেই হয়নি।
ফেরার সময় আন্টি আঙ্কেল ও তটিনীর কাছ থেকে বিদায় নিতে গেছি।
ওরা কিছুতেই আজকে যেতে দেবেনা আমায়।একটা দিন থাকতে বলে।
আমি না’মত না’মত করছিলাম।
দূর থেকে দেখলাম আশিক তেড়ে এসে চিৎকার করে বলে,”ওকে কেন থাকতে বলছেন?
ওকে কেনই বা আসতে বলেছেন?
ও একটা বাজে মেয়ে।আমাদের জ্বালিয়ে মেরেছে এতোকাল।
ওর চরিত্র ঠিক নেই।
অসভ্য,অভদ্র একটা মেয়ে।”
আমি কিছু বলার আগেই আন্টি দ্বিগুণ চেচিয়ে বলে,”ভদ্রভাবে কথা বলো।তুমি যে কতো ভদ্র তা তোমার ব্যবহারেই বোঝা যাচ্ছে।
আমাকে নিজের মা পাও নি,যে এসব অন্যায় মেনে নিয়ে আরো সাপোর্ট করবো।
তন্নিকে বেশ ভালো করেই চিনি আমি।তাই অন্তত তোমার থেকে ওর সার্টিফিকেট নিতে হবেনা।
এই মেয়েটার জন্যই হয়ত আজ আমার মেয়েটার সংসার টিকে আছে।না’হলে ওর মতোই অবস্থা হতো আমার মেয়েরও।
তোমায় চেনা আছে আমার ভালো মতো।চরিত্র তুমি নিজেরটা ঠিক করো।
সেই সঙ্গে তোমার মা-ভাই,ভাবিকেও চেনা আছে।
অসভ্য তো ওরা।জ্বালিয়ে ও তোমাদের মারেনি,তোমরাই ওকে অত্যাচার করেছো।সবটাই আমি জানি।
এছাড়াও বাড়ি আমার।আমার যাকে ইচ্ছা তাকেই আমি ডাকতে পারি।
তুমি তোমার জায়গাতে ঠিক থাকলেই হলো।”
আশিক অপমানে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে।
আমি ছেলে নিয়ে চলে আসি।
আর অশান্তি চাইনা।এমনিতেও অনেক হয়ে গেছে।
এদের সঙ্গে কথা বলেও লাভ নেই।
যতো বলবো ততো বাড়বে কথা।
রাস্তা দিয়ে ফিরছিলাম।
হঠাৎ দেখা রাশেদ স্যারের সঙ্গে।
আমি এড়িয়ে চলে আসতে চাইলাম।কিন্ত পারলাম না।লোকটা মেইন রাস্তায় নাম ধরে ডাকতে আরম্ভ করলেন।
আমি তবুও না শোনার ভান করে ছেলের হাত ধরে হাঁটতে লাগলাম।
লোকটা এবার রীতিমতো পেছন ডাকতে ডাকতে দৌড়ে আসছে।
এসে আমার সামনে দাড়াই।
বাধ্য হয়ে আমি থমকে দাড়াই।
উনি এসে আমি কেমন আছি জিজ্ঞেস করে।
উত্তর দিয়ে সরে আসতে নিলে তিনি বলেন,”কাজটা আবার করুন আপনি।চাকরিটা ছাড়বেন না।আমি জানি আপনার পরিস্থিতি।
আমি নিজেকে শুধ্রে নেব।
আমি আর আপনার পিছু নেব না।তাও কাজটা ছাড়বেন না।
এই মূহুর্তে অন্যকাজ পাওয়া কিন্তু খুবই কঠিন।”
“কঠিন হোক বা সহজ,কাজটা আমি আর করবোনা।
আমায় হয়ত আপনি স্বস্তা ভেবেছিলেন,যে পেট চালানোর দায়ে সব করবো মুখ বুজে।
ওতোটাও নড়বড়ে নয় আমার আত্মসম্মান।
প্রয়োজনে না খেয়ে ম*রে যাবো,তবুও সম্মান বিসর্জন দিয়ে কিছু করবোনা।আর আপনাকে আমার জন্য ভাবতে হবেনা।
একসময় উপকার করেছিলেন এর জন্য কৃতজ্ঞ থাকবো।
তাই বলে পথে ঘাটে এসব কথা তুলবেন না প্লিজ।নিজের ব্যবস্থা আমি নিজেই করে নিতে জানি।”
স্যার আরো কিছু বলতে চেয়েছিল।
আমি শুনিনি।চলে এসেছি।রাস্তায় দাড়িয়ে দীর্ঘসময় কথা বলা উচিৎ নয়।
কে কী মনে করে বসে আবার!
বড়োজা গল্পকে মিস করছেন?এই রিলেটেড গল্প পড়তে চান?
পড়ে নিন একই ধাচের আরো দুটি গল্প।
খুবই কম দামে কিনে পড়ে নিতে পারেন আমার ইবুক গুলো।
চলবে।