বসরাই গোলাপের ঝাড় পর্ব-০৩

0
614

#বসরাই_গোলাপের_ঝাড়
#ফারহানা_কবীর_মানাল

৩.
শরিফা বেগম ভীষণ রেগে আছেন। নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে স্পষ্ট। হাবিব সেদিকে খেয়াল দিলো না। ভাবলেশহীন পায়ে হেঁটে নিজের ঘরে চলে গেল। ঘরের বাতি নেভানো। জানালা গলে চাঁদের আলো ঘরে ঢুকছে। তাতে অন্ধকারের অনেকখানি দূর হয়ে গেছে। হাবিব সুইচ টিপে বাতি জ্বালালো। নববী খাটের কোণায় বসে আছে। চোখ ভেজা। কান্নার কারণে মুখে একটা আদুরে ভাব চলে এসেছে। সে হাবিবকে দেখে ওড়না দিয়ে চোখ-মুখ মুছল। সরল গলায় বলল, “আপা এসেছেন। দুলাভাই পাঠিয়ে দিয়েছেন। কি দরকার ছিল এসবের? উনি তো কিছু ভুল বলেননি! সত্যিই তো আমি ছেলেটাকে দেখে রাখতে পারলাম না।”

“নিজেকে দোষ দিও না নববী। আমরা সবাই মিলে যতটা কষ্ট পাচ্ছি, তার থেকে হাজার গুণ বেশি কষ্ট হচ্ছে তোমার। ছেলের রোজকার কাজগুলো রীতিমতো তোমার অভ্যাস হয়ে গেছিল। যারা অন্যের কষ্টে সহানুভূতির পরিবর্তে উপহাস করে, তারা মানুষ নয়। তাদের প্রতি অনুভূতি রাখতে নেই। প্রিয় মানুষের ব্যাপারে আমি এমনই।”

নববী জবাব দিলো না। মলিন হাসল। কপল থেকে হাবিবের হাত সরিয়ে দিয়ে একটু দূরে সরে গেল। হাবিব তার একটা হাত চেপে ধরলো। হাতটা বেশ শক্ত করে ধরেছে। সে দীর্ঘ সময় নববীর হাত ধরে রইল। একসময় নববী হাবিবের কাঁধে মাথা রাখল। দু’জনের চোখ ভিজে গেছে। কাঁদলে মনের কষ্ট দূর হয়, অনেকটা হালকা লাগে। কাঁদার সৌভাগ্য সবার হয় না।

শরিফা বেগম ভাত বাড়ছেন। তার বড় নাতির খিদে পেয়েছে। ছেলেটা এখানে আসার পর কিছু মুখে তোলেনি। এখন খাবার জন্য ঘ্যানঘ্যান করছে। শরিফা বেগম বললেন, “কনক তুইও কিছু একটু মুখে দে। চিন্তা করিস না। তোর বাবাকে বলে এর একটা হেস্তনেস্ত অবশ্যই করব।”

“আব্বাকে বলে কি হবে মা? এমনিতেই আব্বা তোমার জামাইকে পছন্দ করেন না। সেদিন রাতেই তো সবটা নিজের চোখে দেখলে। যত যাই হোক! বাড়ির বড় জামাইকে কেউ রাত দুপুরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়? শুধু বের হতে বলেই ক্ষান্ত হননি। জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলেছেন। এটা কি তার অ’প’মা’ন নয়? অসম্মান নয়?”

“জামাইকে কল দিয়েছিলি?”

“দিয়েছিলাম। রিসিভ করেনি। করবেও না। বলেই তো দিয়েছে।”

শরিফা বেগম ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস গোপন করলেন। তার এই মেয়েটা একটু অন্য রকমের হয়েছে। স্বামী ছাড়া দুনিয়ায় আর কিছুই বোঝে না। স্বামীর সাত চ’ড়ে রা কা’টে না। আনিস দীর্ঘদিন ধরে এই ভালোমানুষি এবং ভালোবাসার সুযোগ নিয়ে এসেছে। কারণে অকারণে কনককে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিত। এই নতুন ব্যবসা শুরু করবে, কিছু টাকা লাগবে। ব্যবসায় লাভ হলে দ্বিগুণ ফেরত দেবে। টাকা নিয়ে ভাবতে হবে না। এভাবে বেশ কয়েকবার টাকা পয়সা নিয়েছে। তবে কখনও ব্যবসা শুরু করতে দেখা যায়নি। টাকা হাতে পেলেই বলত – সামান্য মুলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে ইচ্ছে করে না। আমরা হচ্ছি বনেদি পরিবার। অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করলে একালায় মুখ দেখাতে পারব না। তাছাড়া টাকা পয়সার কিছু অংশ খরচ হয়ে গেছে। তাই আপাতত ব্যবসার কথা ভাবছি না। পরে দেখা যাবে।
শেষবার মহিউদ্দিন সাহেব ভীষণ বিরক্ত হলেন। কঠিন মুখে বললেন, “কনক, আর আগেও জামাইকে অনেকবার টাকা দেওয়া হয়েছে। কখনো ব্যবসা শুরু করতে দেখিনি। এখন হাতে টাকা-পয়সা নেই। পরে দেখব।”

কনক হাত পা ছড়িয়ে কান্না শুরু করল। চোখ-মুখ ফুলিয়ে বলল, “আব্বা নিজের টাকা না দেন। আমার ভাগের সম্পত্তি দিয়ে দেন। খালি হাতে গেলে আপনার জামাইয়ের সামনে মুখ দেখাতে পারব না। আর একটা কথা, টাকা না দিলে আমি এই বাড়ি ছেড়ে এক পা-ও নড়ছি না।”

কনক সত্যিই ফিরে গেল না। বাপের বাড়ি থেকে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিলো। দু-দিনের মধ্যে তার মুখ শুকিয়ে এমন অবস্থা হলো যে মুখের দিকে তাকানো যায় না। মহিউদ্দিন সাহেব ধার করে দুই লাখ টাকা এনে দিলেন। আনিস সেবারও ব্যবসা শুরু করেনি। দু-মাস পর বলেছে অল্প টাকায় ব্যবসা হয় না।

রোহানের খাওয়া প্রায় শেষ। সে নিজের হাতে খাবার খায় না। বেশিরভাগ সময় কনক ছেলেকে মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। তবে আজ এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছে। কনক রোহানের পাশের চেয়ারে বসে ছেলের খাবার দিকে তাকিয়ে আছে। এইতো সেদিন কাঁথার ভেতর ঘুমিয়ে থাকত। আজ সে কত বড় হয়ে গিয়েছে। শরিফা বেগম বললেন, “নানা ভাই তোমাকে আর একটু তরকারি দেব? ভাত মাখিয়ে খেতে পারছ না তো।”

রোহান মাথা দোলালো। তার অর্থ হ্যাঁ হতে পারে আবার না-ও হতে পারে। শরিফা বেগম এক হাতা তরকারি রোহানের থালায় দিলেন। রোহান ভ্রু কুঁচকে ফেলল। বিরক্ত গলায় বলল, “বললাম তো দিতে হবে না। তারপরও কেন দিলেন?”

“আস্তে আস্তে খাও নানা ভাই। ঠিক পারবে। আহা রে! ছেলেটার মুখ শুকিয়ে গেছে।”

কথাগুলো বলে তিনি দীর্ঘ সময় নিরব রইলেন। মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে বোধহয়। বড় জামাই যেমনই হোক, মেয়ে তাকে ছাড়া থাকতে পারে না। হাবিবের বাবাকে বলে কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে। দরকার পড়লে হাবিবকে আনিসের কাছে ক্ষমা চাইতে বলবে।

শরিফা বেগম রাতের খাবার সময় কথাটা তুললেন। তুললেন বেশ অন্যরকম ভঙ্গিতে। প্রথম দিকে খানিকটা ভণিতা করে বললেন, “বলছি কি, সোহেলের মিলাদ মাহফিলে বড় জামাই আর বেয়ান বেয়াইকে বললে ভালো হত না?”

মহিউদ্দিন সাহেব শান্ত গলায় বললেন, “বলতে চাইলে বলো। সমস্যার কিছু নেই।”

“বললেই কি তারা আসবে? হাবিব জামাইয়ের অফিসের সামনে গিয়ে জামাইকে মে’রে’ এসেছে। নানান কথা বলে অপমান করেছে। এখন তার ছেলের মিলাদে দাওয়াত দিলেই যে তারা আসবে এমন ভাবার তো কিছু নেই।”

“হাবিককে জামাইকে মে’রে’ছে মানে?”

কনক যেন এই প্রশ্নের অপেক্ষায় ছিল। সে মুখের ভাত কোন রকমের গিলে বলল, “আর বলেন কেন? দুপুরের পরপরই আপনার জামাই বাড়ি ফিরে এসেছে। চোখ-মুখ শুকনো। আমি তো ভয়ে শেষ। শরীর খারাপ করল নাকি! সে তো এই সময়ে বাড়ি ফেরার মানুষ না। সব কাজ শেষ করে সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরে। আমি ব্যস্ত ভঙ্গিতে তার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলাম – এখন বাড়িতে কেন?
তারপর সে যা বলল! আল্লাহ! আল্লাহ!

মহিউদ্দিন সাহেব ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেললেন। কনক কয়েক ঢোক পানি পান করে নিজেকে শান্ত করল। করুণ গলায় বলল, “হাবিব আপনার জামাইকে মে’রে’ছে। অফিসের এক হাট লোকের সামনে থা’প্প’ড় মে’রে’ছে। নানান কথা শুনিয়ে এসেছে। কেন কি? সে হাবিবকে আর একটা বিয়ে করতে বলেছে। সে কি কিছু ভুল বলেছে? যে মেয়ে একটা বাচ্চা সামলাতে পারে না, সে সংসার করবে? এ-ও কি সম্ভব? আর নববী তোমাকে বলি – এতদিন তো ভালো মানুষ হিসেবে জানতাম। পেটে পেটে এমন শ’য়’তা’নি তা তো বুঝতে পারিনি বাপু। বর বাড়ি আসতে না আসতেই তার কান ভা’ঙা’নি শুরু করে দিয়েছ।”

“বরকে বলবে না তো কি রাস্তার লোকের কাছে গিয়ে বলবে? শশুরবাড়িতে স্বামী সবথেকে আপন মানুষ, ভরসার ব্যক্তি। তাকে বলবে না-ই কেন?”

মহিউদ্দিন সাহেবের কথায় কনক মিইয়ে গেল। মিনমিন করে বলল, “আব্বা তো ছেলের বউয়ের দোষ দেখেন না। আপনার জামাই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। ছেলেকেও সাথে করে পাঠিয়ে দিয়েছে। ওই বাড়ির চৌকাঠে পা রাখতে নিষেধ করেছে।”

“কেন করেছে? তুমি নিশ্চয়ই তাকে কিছু বলোনি। যা বলার হাবিব বলেছে। এখানে তোমাকে বের করে দেবার কারণ দেখছি না।”

“সে বলেছে – যার ভাই আমাকে এমনভাবে অ’প’মা’ন করতে পারে, তাকে নিয়ে ঘরকন্না করার প্রশ্নই ওঠে না। বাজারে মেয়ের অভাব পড়েনি।”

“তোমার জামাইয়ের ভাবসাব আমার পছন্দ হয় না মা। কোন কালেই হয়নি। তবে তুমি চিন্তা করো না। কিছু একটা ব্যবস্থা নিশ্চয়ই হবে। জামাইকে কল দাও। তাকে আসতে অনুরোধ করো।”

“আপনি কিছু করবেন না আব্বা? হাবিবকে কিছু বলবেন না?”

“আমার যা করার দরকার তা-ই করব। হাবিব কনক কি সত্যি কথা বলছে?”

কনক খেঁকিয়ে উঠল। তেঁতো গলায় বলল, “আব্বা, আমি কি মিথ্যে কথা বলছি?”

“তোমায় প্রশ্ন করিনি মা। কাজেই শান্ত থাকো।”

হাবিব একমনে খাবার খাচ্ছিল। সে মাথা তুলল না। নিচু গলায় বলল, “ আপা সত্যি বলেছে।”

“এমন কাজ কেন করলে?”

“নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। এমন কথা শুনলে মেজাজ ঠিক রাখা যায় না।”

“রাগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে মানুষকে বিবেচনা করা হয়। যে নিজেকে যতটা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছে সে ঠিক ততোটাই মানুষ হতে পেরেছে। পশুদের রাগ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার-স্যাপার নেই। তারা এ ব্যাপারে স্বাধীন।”

“আব্বা আপনি তো সবটাই জানেন। নববীর কাছ থেকে শোনার পর দুলাভাইকে কল দিয়েছিলাম। রিসিভ করেনি। উল্টো একটা এসএমএস পাঠিয়েছে। যার কথাগুলো এতটাই অ’শ্লী’ল যে মুখে আনা যায় না।”

কনক মুখ বাঁকাল। দাঁত চিবিয়ে বলল, “কি এমন বলেছে যা মুখেই আনা যায় না?”

“তা তোমাকে বলতে পারছি না। প্রয়োজন পড়লে নিজের বরের থেকে শুনে নিও।”

হাবিব উঠে পড়ল। শরিফা বেগম ভালো মন্দ কিছু বললেন না। মহিউদ্দিন সাহেব রেগে গেলে তুমি শব্দটা ব্যবহার করেন এবং খুব শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলেন। দীর্ঘদিন সংসারের পর তাকে আর ঘাঁটাতে চাইলেন না। নববী সবার অলক্ষ্যে দুফোঁটা চোখের পানি ফেলল। তার জন্য সংসারে নতুন অশান্তি শুরু হয়েছে। আত্মগ্লানির থেকে বেশি শা’স্তির উপায় এ পৃথিবীতে তৈরি হয়নি, কখনও হবেও না। এ এক অদ্ভুত শা’স্তি। কিছুটা স্বস্তির, অনেকখানি চাপা ব্যাথার।

নববী টুকটাক কাজকর্ম সেরে বিছানায় গেল। শরিফা বেগম অথবা কনক কেউ তাকে কিছু বলেনি। শুধুমাত্র নাইমা তার কাছে এসেছিল। সরল গলায় বলল, “তুমি নিজেকে কষ্ট দিলে আমরা তোমায় কষ্ট থেকে বাঁচাতে পারব না। এসবের কোন কিছুতে তোমার কোন হাত নেই। মানুষ তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করে। নিশ্চয়ই করে। দিনের পর দিন দুলাভাইয়ের অন্যায় আবদার মানতে গিয়ে আপা নিজেকে সস্তা করে ফেলেছে। এটা সেই কর্মফল। পৃথিবীর কারোর কাছে নিজের মর্যাদা নষ্ট করতে হয় না। মাথা নিচু করতে হয় না। মাথা নিচু করা যায় আল্লাহর সামনে। শুধুমাত্র আল্লাহ সামনে। বুঝতে পারলে?”

নববী কিছু বলেনি। খানিকক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে নাইমার দিকে তাকিয়ে ছিল। এই মেয়েটা আলাদা। সবার থেকে আলাদা। অন্যরকমের। আপোষহীন। যাকে দেখলেই ভালো লাগে, অদ্ভুত রকমের শ্রদ্ধা কাজ করে। হাবিবের চোখে তখনও ঘুম নামেনি। সে সরল ভঙ্গিতে শুয়ে আছে। নববী তার পাশে বসল। একটা হাত রাখল স্বামীর গায়ে। বহুদিন বাদে রাতের একটা অংশ তারা দু’জনে একসাথে জেগে রইল। আজকের চাঁদটা পুরোপুরি গোল হয়নি। খানিকটা বাকি থেকে থেকে। তার গা গলে গলে ধরণীতে জোছনা নামছে। অদ্ভুত সুন্দর সে ভালো। চোখে ধাঁধা লেগে যায়।

সবাই ভেঙেছিল আনিস এ বাড়িতে আসবে না। মহিউদ্দিন সাহেব নিজেও খানিকটা দ্বিধার মধ্যে ছিলেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে আনিস সকালেই এ বাড়িতে আসলো। লজ্জিত গলায় বলল, “রোহানের মা’কে পাঠিয়ে দিয়ে ভুল করেছি। খুব বড় ভুল করেছি। আমি আমার ভুল শোধরাতে চাই।”

শরিফা বেগম চওড়া হাসি দিয়ে মেয়ের জামাইকে বরণ করে নিলেন। কনকের অবস্থা দেখার মতো। খুশিতে এই হাসছে তো এই কাঁদছে। রোহান অবশ্য তেমন আগ্রহ দেখাল না। শুকনো মুখে ঘুরঘুর করতে লাগল। মহিউদ্দিন সাহেব খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। মেয়ের কথা ভেবে চুপ রইলেন। হাবিবও কিছু বলল না। শত হলেও সে বোনের সংসার নষ্ট করতে চায় না।

সারাদিন নির্বিঘ্নে কাটল। বাড়ির সবাই যার যার কাছে মগ্ন হয়ে আছে। নববীও নিজেকে কাজের মাঝে ব্যস্ত রাখতে চাইছে। নাইমা নিজের ঘরে পড়াশোনা করছে। দুলাভাই এসেছে এ ব্যাপারে বাড়তি আগ্রহ প্রকাশ করেনি। হাবিব অফিসে। সে নিজের কাজ শেষ করল সন্ধ্যার পর। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত নেমে গেছে। বাড়ি ঢোকার মুহুর্তে তার মনে হলো কোথাও গোঙানির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সে কান খাড়া করল। চারদিকে সুনসান নীরবতা। বসরাই গোলাপের ঝাড়টা পেরেনোর সময় সেদিকে এক পলক তাকালো। ঝাড়ের একপাশে একটা কাপড় মতো পড়ে আছে। সে তাতে খেয়াল দিলো না। ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় বসল। অফিস থেকে বাড়ি ফিরলেই ছেলেটা দৌড়ে আসত। আধফোটা বুলিতে বাবা বাবা বলে ডাকত। তার বুক চি’রে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। ক্লান্ত গলায় ডাকল – নববী! নববী!

নববীর সাড়া মিলল না। সে বিছানায় পিঠ এলিয়ে দিলো। খানিকক্ষণ বাদে নাইমা এসে বলল, “ভাইয়া, ভাবীকে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করছি সে ঘরে নেই।”

হাবিব বিছানায় উঠে বসল। হঠাৎই বিদ্যুৎচমকের মতো মনে পড়ল গোলাপ ঝাড়ের পাশের কাপড়টা নববীর শাড়ির মতো। সে নিজে মেলা থেকে কিনে এনেছিল। আবছা অন্ধকারে রঙটা বোঝা না গেলেও নকশাটা পরিষ্কার। একদম পরিষ্কার।

চলবে