#বসরাই_গোলাপের_ঝাড়
#ফারহানা_কবীর_মানাল
৫.
বখাটে মানুষের এক গুণ থাকে। মেয়েমানুষকে বশ করতে জানে তারা। তারপর মেয়েমানুষেরা তাদের ক্রীতদাসী হয়ে থাকে। আনিস মুচকি হাসল। সরল চোখে মোবাইলের দিকে তাকালো। সেখানে বিশেষ কোন খরব আছে, যে খবরে তার চোখ দু’টো জ্বলজ্বল করছে। কনক বাবা-মায়ের ঘরে উঁকি দিলো। মহিউদ্দিন সাহেব একা বসে আছেন। তার মা ঘরে নেই। সে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। মাথা নিচু করে নম্র গলায় বলল, “আব্বা, একটা কথা বলতাম।”
মহিউদ্দিন সাহেব বললেন, “কি কথা বলবে?”
কনক চুপসে গেল। তার বাবার রাগ এখনও কমেনি। রাগ কমলে তুই বলত। সে বলল, “আপনার জামাই বলছিল -সোহেলের মিলাদ মাহফিলে কিছু শরিক থাকতে চায়। বেশি নয় সামান্যই।”
“তার ইচ্ছে হলে থাকবে। এখানে অমতের কিছু দেখছি না।”
“মানুষটা ভালোই! বলল- এত বড় মিলাদ মাহফিল করছে। এতজন এতিম মানুষ খাবে। শুনে দেখো টাকা-পয়সার সমস্যা হচ্ছে নাকি। যদি কিছু লাগে।”
“লাগবে না। যা খরচ করার আমিই করছি। হাবিবের থেকেও কিছু নিইনি। তোমার মবিন চাচার সাথে মাছের পুকুর রেখেছিলাম। আল্লাহর রহমতে অনেক টাকা লাভ হয়েছে।”
কনক চোখ চকচক করে উঠল। সে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল, “কত টাকা লাভ হয়েছে?”
“প্রায় লাখ চারেক। সবই আল্লাহর রহমত। আর কিছু বলবে?”
“আপনি খেয়েছেন আব্বা?”
“না, খেতে ইচ্ছে করছে না। তোমরা খাওয়া-দাওয়া করো।”
“শরীর খারাপ?”
মহিউদ্দিন সাহেব মুখে জবাব দিলেন না। না সূচক মাথা নাড়লেন। জবাব দিলেই কথা বলতে হবে। কথার পিঠে কথা বলতে ভালো লাগছে না তার। বুকে হালকা ব্যাথা করছে। বয়স বাড়ছে। এরপর হঠাৎই একদিন অসুস্থ হয়ে পড়বেন। জীবনে কতকিছু দেখেছেন। এমনকি হতে পারত না- যে তিনি মা’রা গেছেন। সোহেল বেঁচে আছে। মহিউদ্দিন সাহেব দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। তার চোখ জ্বালা করছে। চোখে পানি আসার আগে যেমন চোখ জ্বালা করে তেমন।
কনক প্রায় হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসলো। উত্তেজিত গলায় বলল, “রোহানের আব্বা শুনছ?”
আনিসের চোখে তখনও ঘুম নামেনি। সে বিছানায় উঠে বসল। বিরক্ত গলায় বলল, “কি শুনব?”
“আব্বা মাছের পুকুর রেখেছিল। চার লাখ টাকা লাভ করেছে। এখন সব মিলাদ মাহফিলে খরচ করবে। যেন হাবিবের একার ছেলে আছে। আর কারোর কিছু নেই। কেন? আমার ছেলেটাকে কিছু দিতে পারত না? বলতে পারত না যে নানাভাই বড় হচ্ছে। ওর ভবিষ্যতের জন্য এটা রেখে দে। না, তা কেন দিবে? বিয়ে দিয়ে তো আপদ বিদেয় করে দিয়েছে। এখন আর কি!”
“এসব কথা আমায় বলছ কেন? নিজের বাপের কাছে গিয়ে বলো।”
“আমি বললে কি কোন লাভ হবে? হবে না।”
“এখন আমি কি করব?”
কনক ভেজা চোখে তাকালো। আনিস উঠে গিয়ে তার কাঁধে হাত রাখল। কোমল গলায় বলল, “তোমায় নিয়ে আমার গর্ব হয় কনক। বিয়ের পরে একজন মেয়ের কাছে তার স্বামী সংসারই সব। আর কেউ কিছু না। এটা তুমি বুঝতে পারো। বেশিরভাগ মেয়েরা এই সহজ কথাটা বুঝতে পারে না। স্বামীর পকেট থেকে টাকা চু’রি করে বাপের বাড়ি পাঠায়।”
“ওসব মেয়েদের নাম মুখে নেওয়াও পা’প। আমি যাই, রোহান খেতে চেয়েছে।”
আনিস মুচকি হাসল। কপাল করে কনকের মতো মেয়েকে বিয়ে করতে পেরেছে। মানসিকভাবে সুস্থ এবং জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন মেয়ে বিয়ে করলে তার কপালে দুঃখ ছিল। সে বিছানায় ফিরে গিয়ে আবারও গায়ে কম্বল চাপালো। জীবন সবসময় এক রকমের থাকে না। এক-এক ধাপে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। বর্ষা পেরিয়ে শীতের আগমন ঘটে। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে বসন্ত আসে। কলি ফুলে রূপান্তরিত হয়। শৈশব পেরিয়ে যায়, কৈশোর আসে। যৌবনের শক্তি শেষে শক্ত-সামর্থ্য দেহ বৃদ্ধ নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। ক’ব’রের মাটি শরীর শুষে নেয়। তাই বলে কি শৈশব হারিয়ে যায়? সহোদরের গায়ের ঘ্রাণ হারিয়ে যায়? বিবেক চাপা পড়ে অহংকার আর স্বার্থপরতায়? বিয়ের পরে মেয়েদের স্বামী সংসারই সব, তাই বলে কি মা বাবা কেউই নয়? খেলার সাথী ভাই-বোন কেউ নয়? এ কেমন বিচার? কেমন সমাজ? কেমন-ই বা তাদের মানুষ? কি হয় অহংকার করে! কি এমন লাভ হক ঠকিয়ে সম্পদের পাহাড় তৈরি করে? কাফনের কাপড় ছাড়া কিছুই তোমার শেষ যাত্রায় সাথী হয় না। কেউই আজীবন মনে রাখে রাখে না। স্বজনের অশ্রু শুকিয়ে যায়। মোনাজাতের দোয়ার ভাগিদার বাড়ে। হয়তো নাম নেবারই খেয়াল থাকে না। মিথ্যা মায়াজালে আঁটকে যাওয়া জীবনের পরিসমাপ্তি শেষ নিঃশ্বাসে গিয়ে থমকে যায়। আর এক বিন্দুও এগিয়ে যেতে পারে না। আর কোনদিনই সোহেলের বয়স বাড়বে না। সবাই তাকে দুই বছরের বাচ্চা বলে ডাকবে। কেউ তার সুঠাম দেহ দেখবে না, রুগ্ন বৃদ্ধ শরীর দেখবে না। তার জীবন ওখানেই থমকে গেছে। আর এগিয়ে যাবে না। সে বড় হবে না, কৈশোর পাবে না, যৌবন দেখবে না। তার সময় থমকে গেছে। জীবন আটকে গেছে ঘড়ির কাঁটায়।
রাত বাড়ছে। আকাশে অন্য সৌরজগতের নক্ষত্র তারার রূপে ফুটেছে। তাদের আলোয় আঁধার রাত আলোকিত হয় না। আবছা আলোয় অন্ধকারটুকুই পরিষ্কার বোঝা যায়। কোথাও বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে। কোথাও মোমের আলোয় আঁধার মেটায়। আজ-কাল কিসব সোলার লাইট বেরিয়েছে। সে-সবও কাজে লাগে। মহিউদ্দিন সাহেব খেতে বসলেন সবার শেষে। ততক্ষণে সবাই যার যার ঘরে চলে গেছে। শরিফা বেগম স্বামীর সামনে বসে আছেন। ক্রমাগত হাই তুলছেন। মহিউদ্দিন সাহেব বললেন, “মিলাদের জিনিসপত্র বায়না করে এসেছি। দাম বাড়ছে সবকিছুর।”
“কোন এতিমখানা থেকে বাচ্চারা আসবে?”
“গ্রামের দিকের দু’টো মাদ্রাসায় বলে এসেছি। শহরের এরা মাঝেমধ্যেই ভালো খাবার-দাবার পায়। গ্রামের দিকে লোকের নজর কম। হুজুররা বলল – এদিকে কেউ দান-সদকা করে না। শেষ দুইমাস আগে মুরগির গোশত রান্না করেছিল। তারপর থেকে শাকসবজি খাচ্ছে। সপ্তাহে একদিন মাছ দেবার চেষ্টা করে। তা-ও চাষের পাঙ্গাস মাছ।”
“ভালো করেছেন। নববীর মা বাবাসহ কিছু আত্মীয় স্বজনদের বলতে ইচ্ছে করে। অনুষ্ঠান বাড়ি।”
“অনুষ্ঠান বাড়ি?” মহিউদ্দিন সাহেব নিজের প্রশ্ন ফিরিয়ে নিলেন। কথা ঘুরিয়ে বললেন, “কনক বলছিল- আনিস কিছু ভাগে থাকতে চায়। আমি ঠিক করেছি নেব না।”
“না নিলে কষ্ট পাবে। আশা করে বলেছে।”
“কথার কথা বলেছে। আনিস টাকা পয়সা খরচ করার লোক না। মনে নেই? কনকের সিজারের সময় ফট করে বলে বসল- আব্বা আমাদের নিয়ম হচ্ছে মেয়ের প্রথম সন্তানের যাবতীয় খরচ তার বাপের বাড়ি থেকে দেয়। আমি অবশ্য এই নিয়মটিয়ম মানি না। কুসংস্কার যাকে বলে। তবুও বলা।”
“এখনও কি সে-সব কথা ধরে রাখলে হয়? মানুষের পরিবর্তন হতে কতক্ষণ।”
“কিছু মানুষ কখনও পরিবর্তন হয় না। যাইহোক পাবদা মাছ রেঁধেছ বললে। দেবে নাকি?”
“হ্যাঁ। আমি নিয়ে আসছি।”
শরিফা বেগম উঠলেন। তবে তন্নতন্ন করে খুঁজেও পাবদা মাছ পেলেন না। মাছের কথা কনক ছাড়া অন্যকেউ জানে না। নিশ্চয়ই ছেলে স্বামীকে দিয়ে দিয়েছে। তিনি কনকের ওপর প্রচন্ড বিরক্ত হলেন। মেয়েটার কি কখনও একটু বুদ্ধি হবে না। নিচু গলায় বললেন, “অল্প রেঁধেছিলাম। বোধহয় ওরা সবাই খেয়ে ফেলেছে। আলাদা করে তুলে রাখার সময় পাইনি।”
“সমস্যা নেই। খাওয়া প্রায় শেষ। একটু ভাজি দাও। তাতেই চলবে।”
শরিফা বেগম স্বামীর পাতে ভাজি তুলে দিলেন। তার খুব মন খারাপ লাগছে। মহিউদ্দিন সাহেব পাবদা মাছ খেতে পছন্দ করেন।
নববী বিছানায় শুয়ে আছে। তার চোখে ঘুম নেই। হাবিব অনেকক্ষণ আগে ঘুমিয়ে পড়েছে। মানুষটা শরীর আজ-কাল ভালো যাচ্ছে না। শোবার আগে কাশছিল। কেমন সর্দি-জ্বরের মতো হয়েছে। নববী স্বামীর গায়ে হাত রাখল। এই মানুষটা অন্যদের মতো না। সবার থেকে আলাদা। শোবার আগে তাকে কতকিছু বোঝাল। ধৈর্য ধরতে বলল। আরও একটা কথা বলছে। এমন কথা শোনার জন্য একটা নারী আজীবন অপেক্ষা করতে পারে। বলেছে -আল্লাহ কখনও একটা মানুষের সবকিছু কেড়ে নেন না। আমার ছেলে হারিয়ে গেছে। নেই। কিন্তু তোমাকে আমার কাছে রেখে গেছে। গাছ থেকেই তো ফুলফলের জন্ম হয়। গাছই যদি হারিয়ে যেত- তখন আমি কি করতাম? তুমি নিজেকে কষ্ট দিও না। আমি সহ্য করতে পারি না।
সে একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস গোপন করল। ক্ষ’ত জায়গায় মলম লাগালো যায়। ব্যাথা কমানো যায়। দাগ মুছে ফেলা যায় না। রাত বাড়ছে। পাখি ডাকছে না। বোধহয় তারাও ঘুমিয়ে পড়েছে। শুধু ঘুম নেই নববীর দু চোখে। নির্ঘুম এক রমনীর বুক চিরে ব্যাথার আগুন জ্বলছে। সে আগুনের তীব্রতা মন পো’ড়া’লেও শরীর উষ্ণ করতে পারে না।
নাইমা খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। পুকুর ঘাটে গিয়ে ওজু করে। ফজরের নামাজ পড়ে। আজও উঠেছে। চারপাশ তখনও পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। সে দরজা ঠেলে বাইরে আসলো। বাড়ির সামনে একটা ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। দু’জন লোককেও দেখা যাচ্ছে। লোক দুটোর একজন তাদের বাড়ি ভেতরের দিকে দাঁড়ানো। নাইমা অস্পষ্ট গলায় বলল, “কে ওখানে? কে?”
একজন লোক বেশ ব্যস্ত ভঙ্গিতে ট্রাকে উঠল। তারপর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেল। অন্যজন বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ল। কাছাকাছি আসতেই তার মুখটা পরিষ্কার হলো। নাইমা বলল, “আপনি?”
“কতক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে আছো?” আনিস ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল। নাইমা শান্ত গলায় বলল, “অনেকক্ষণ। কেন?”
“কিছু না। রাত-বিরেতে বাইরে ঘোরাঘুরি ঠিক না। সুন্দরী মেয়েদের প্রতি বদ জ্বীনে নজর থাকে। কখন কি হয় বলা তো যায় না।”
“আপনার আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না। নিজের টুকু বোঝার বয়স আমার হয়েছে।”
“তাতো দেখতেই পাচ্ছি তোমার বয়স বেড়েছে। কেমন করে ওড়না দিয়ে শরীর ঢেকে রাখো।”
নাইমার ইচ্ছে করল আনিসের গালে পাঁচ আঙুলের দাগ বসিয়ে দিতে। তবে সে নিজেকে শান্ত রাখল। দ্রুত পায়ে হেঁটে পুকুর ঘাটের দিকে চলে গেল। আনিস সেদিকে তাকিয়ে হাসল। কুৎসিত গলায় বলল, “রাগী মেয়েমানুষ লজ্জা পেলে যা লাগে না!”
তারপর-ই সে কপালের ঘাম মুছল। নাইমা কিছু দেখে ফেলেনি তো? মেয়েটাকে তার সুবিধা মনে হয় না। কেমন কাঠকুটো ধরনের। মায়া-মমতা নেই। এরও একটা ব্যবস্থা করতে হবে। সময় নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
সকালে খাবার পরপর নববীর মা-বাবা আর ভাই আসলো। শুক্রবারের দেরি নেই। কাল বাদে পরশু শুক্রবার। মিলাদের কাজকর্ম দেখার জন্য আপন লোকের প্রয়োজন। মহিউদ্দিন সাহেব একা হাতে সবকিছু সামলে উঠতে পারবেন না। শোকের মানুষ কাজ করতে পারে না। কেমন যেন ঝিমিয়ে যায়। শরিফা বেগম বললেন, “আপনারা এসে ভালোই করেছেন। মানুষজন দেখতে ভালো লাগে। নববী ঘরে আছে। গিয়ে দেখা করে আসেন। সে এদিকে তেমন আসে না। তাছাড়া আমরা আপনাদের মেয়েকে দিয়ে কাজকর্ম করাই না।”
নববীর মা কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। শরিফা বেগম এদিকে তেমন খেয়াল দিলেন না। দুপুরের রান্নার দায়িত্ব তার। এতজন মানুষের রান্নাবান্না সহজ কথা নয়। নাইমা মেঝেতে বসে সবজি কাটাছে। পেঁয়াজ কলি আর বাঁধাকপি কা’টা শেষ। এখন রুই মাছে জন্য আলু কা’টছে। কনক পাশে দাঁড়িয়ে ছেলেকে নুডলস খাওয়াচ্ছে। রোহান খেতে চাইছে না। তবু সে জোর করছে। শরিফা বেগম রান্নাঘরে ঢুকলেন। বললেন, “নাইমা তোর আর কাজ করতে হবে না। গিয়ে গোসল করে ফেল। দেরি হলে ঠান্ডা লেগে যাবে।”
নাইমা উঠে গেল। তার পেছন পেছন রোহানও বেরিয়ে গেল। কনক নুডলসের থালা রেখে আলু কাটতে বসল। শরিফা বেগম বললেন, “তুই আবার এখানে বসলি কেন? নানা ভাইকে গোসল করিয়ে দে। ঠান্ডা লেগে যাবে তো।”
কনক গলার স্বর অনেকখানি নিচু করে বলল, “যাচ্ছি। তবে একটা কথা ছিল। কিভাবে বলব বুঝতে পারছি না।”
“কি এমন কথা যে কিভাবে বলবি বুঝতে পারছিস না?”
“বলছিলাম কি- সোহেলের মিলাদ মাহফিল শেষে নববীকে ওর মা-বাবার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও। ওর মতো মেয়েমানুষ ঘর-সংসার করতে পারবে না। তোমার জামাই একটা প্রস্তাব করতে চাইছিল। পরে আবার বলবে না বলেছে।”
“কিসের প্রস্তাব?”
“আমার ননদ মিলি। জানোই তো কেমন ভদ্র আর ভালো মেয়ে। পড়াশোনা করতে গিয়ে একটু বয়স বাড়িয়ে ফেলেছে। তারপরও যে রূপ চেহারা! মাশাআল্লাহ।”
শরিফা বেগম উৎসুক গলায় বললেন, “মিলির বিয়ে বুঝি? কবে? ছেলে কি করে?”
“না মা, মিলির বিয়ে না। আমি বলছিলাম- মিলির সাথে হাবিবের বিয়ে দিলে কেমন হয়? অমন ভালো মেয়ে লাখেও একটা পাওয়া যায় না।”
“এসব তুই কি বলছিস?”
“ভালোর জন্যই বলছি। শত হলেও হাবিব আমার নিজের ভাই। আমি তার ভালো চাইব না? হাবিবকে বুঝিয়ে নববীকে তা’লা’ক দেওয়াতে পারলে মিলির সাথে ওর বিয়ের দায়িত্ব আমার। এমনিতেই নববীর চরিত্র খুব বেশি ভালো না। সারাদেশের ছেলেদের সাথে কথা বলে।”
“এসব তুই কি বলছিস? তাই কখনও হয় নাকি? যা নানা ভাইকে গোসল করিয়ে দে।” মুখে যা-ই বলুক না কেন- প্রস্তাবটা শরিফা বেগমের পছন্দ হলো। তিনি ঠিক করলেন মিলাদের ঝামেলা মিটলে হাবিবের কানে কথাটা তুলবেন।
চলবে