#বসরাই_গোলাপের_ঝাড়
#ফারহানা_কবীর_মানাল
১১.
নববীকে চায়ের কথা বলে হাবিব নিজের ঘরে এসে বসল। সে খানিকটা চিন্তিত। আনিস ঠিক কি উদ্দেশ্য নিয়ে ঘুরঘুর করছে বোঝার উপায় নেই। লোকটা যে কোন কিছু করে ফেলতে পারে। নববী চায়ের কাপ হাতে ঘরের ভেতর ঢুকলো। তরল গলায় বলল, “রান্না শেষ, সবকিছু গুছিয়ে রেখেছি।”
দেওয়ালে গোলাকৃতির একটি জার্মান ঘড়ি। অন্ধকারে এর ডায়াল থেকে সবুজ আলো বের হয়। হাবিব ঘড়ির দিকে তাকালো। আটটা বেজে পয়তাল্লিশ মিনিট। সেকেন্ডের সময়টা ঠিকঠাক বলার উপায় নেই। প্রতি মুহূর্তে সময় বেড়ে চলেছে। সে শান্ত ভঙ্গিতে চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াল। সহজ গলায় বলল, “চা-টা ভালো হয়েছে।”
“তোমার ভাবগতিক সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না। নাইমাকে হাসপাতালে রেখে চলে এলে। দুলাভাই সেখানেই আছেন। যদি ওর কোন ক্ষ’তি করে ফেলে।”
“করবে না। করতে চাইলেও করতে পারবে না। তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো।”
“বলা যত সহজ, মেনে নেওয়া ততই কঠিন। কিভাবে নিশ্চিত থাকব?”
“আচ্ছা বেশ। তুমি দুশ্চিন্তা করতে থাকো এবং তৈরি হয়ে নাও। ঠিক নয়টায় বাড়ি থেকে বের হব। আর একটা কথা, চায়ের জন্য ধন্যবাদ। এমন সুস্বাদু চা শেষ কবে খেয়েছি মনে করতে পারছি না।”
নববী কয়েকটা কঠিন কথা বলতে গিয়েও থেমে গেল। হাবিব এমন মানুষ নয়। সব বিষয়ে বেশ সিরিয়াস। কাজের জায়গা থেকে শুরু করে বাড়ি পর্যন্ত কোন কাজে কখনোই হেয়ালি করে না। আজ হঠাৎ তার এমন পরিবর্তন মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।
মহিউদ্দিন সাহেব হাসপাতালের বিছানায় বসে আছেন। তার গা কুটকুট করছে। জায়গাটা বেশ অপরিষ্কার। শরিফা বেগম বললেন, “বাইরে থেকে কিছু কিনে আসেন। ওরা কখন খাবার নিয়ে আসবে সেই আশায় বসে থাকব নাকি? খিদেয় পেট চোঁ-চোঁ করছে।”
মহিউদ্দিন সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। নাইমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “বাইরে যাবি?”
নাইমা মাথা দোলালো। সে যাবে না। মহিউদ্দিন সাহেব বেরিয়ে যাবার পরপরই কনক বলল, “এখানে বাথরুম কোথায়?”
পাশের বিছানার এক মহিলা বললেন, “এইতো সামনে গিয়েই। একজনকে সাথে নিয়ে যান। দরজার ছিটকিনি ভাঙা, আটকানো যায় না।”
শরিফা বেগম উঠে দাঁড়ালেন। কনকও তার পেছন পেছন চলে গেল। আনিস নাইমার কাছ ঘেঁষে বসল। হিসহিসিয়ে বলল, “তোমায় এমন শান্ত দেখাচ্ছে কিভাবে? চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ নেই। ব্যাপার কি?”
নাইমা হাসলো। শান্ত গলায় বলল, “আপনাকে পছন্দ করি না। খারাপ মানুষ তা জানতাম তবে এতটা জ’ঘ’ন্য ভাবতে পারিনি।”
আনিস ভ্রু কুঁচকে ফেলল। বলল, “কেন এ কথা বলছ?”
“আমাকে হাতের লাগালে আনতে নিজের সন্তানকে মৃ’ত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন। কেমন পিতা আপনি?”
“যদি মনে করো- রোহানকে আমি ইচ্ছে করে পানিতে ফেলেছি তা হলে ভুল ভাবছ। তোমায় কাছে পেতে আমার সন্তানের ক্ষ’তি করার প্রয়োজন ছিল না। তোমার বোনের কিছু হলেই তুমি ফেরত আসতে।”
“কি বলতে চান? এসব আপনার পরিকল্পনা নয়?”
“না। রোহান কিভাবে পানিতে পড়ল বুঝতে পারছি না। সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছে যে কিছুই বুঝতে পারিনি।”
নাইমা হাসলো। বরফ শীতল গলায় বলল, “যে পুরুষ মানুষের পাশ থেকে তার নিজের ছেলে পানিতে পড়ে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তার বউয়ের আবার বিয়ে করা উচিত। আমি হলে এমন পুরুষকে স্বামী পরিচয় দেবার আগে আ’ত্ম’হ’ত্যা করতাম।”
“সেসব ছাড়ো। দুনিয়াতে মেয়ের অভাব পড়েনি। চাইলে এখনও তোমার বোনকে ছয় সাতটা বিয়ে দিতে পারবে। তবে তুমি শান্ত কিভাবে? এমন চুপচাপ থাকার রহস্য কি?”
“কাকে কি বলব? কেউ কেন আমার কথা বিশ্বাস করবে? তাছাড়া আপনি নিশ্চয়ই নিজের দোষ স্বীকার করে নিবেন না। এক কথায় অস্বীকার করবেন। বলবেন- এসবের কিছুই জানেন না।”
“তোমাকে বাচ্চা ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম আবেগের বশে সবকিছু করেছ। কিন্তু এখন অন্যরকম লাগছে।”
“বোকা ভাবলে ভুল করবেন। আমি যথেষ্ট বুদ্ধিমতী। তাছাড়া হীরে-জহরতগুলো আসল মনে হচ্ছে। আমার কোন ক্ষ’তি করলে ওগুলো চিরতরে হারাবেন।”
“কি চাইছ?”
“ব্যবসায়িক হিসেবে নিকেশ করতে চাচ্ছি। লাভের অংশের পঞ্চাশ শতাংশ আমার। বলুন রাজি?”
আনিস কিছু বলার আগেই কনক এসে বিছনায় বসল। চোখে-মুখে পানি ছড়িয়ে এসেছে। তাকে দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। শরিফা বেগম বললেন, “তোর আব্বা এখনও আসেনি? মাথা ব্যাথা করছে।”
কনক বলল, “হাবিব আসলে বাড়ি চলে যেও মা। এখানে থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে। নাইমা আমাদের সাথে থাকুক। তোমার জামাই আছে।”
মহিউদ্দিন সাহেব ফিরে এসেছেন। ভাজা বাদাম আর ভাপা পিঠে নিয়ে এসেছেন। সেসব শরিফা বেগমের হাতে দিয়ে বললেন, “নাইমার এখানে থাকার দরকার নেই। জানোই তো হাসপাতালে থাকলে ওর মাথাব্যথা হয়।”
কনক বাঁকা চোখে বাবার দিকে তাকালো। কিন্তু কিছু বলল না। আনিস বলল, “আব্বা ঠিক বলেছে। নাইমার এখানে থাকার দরকার নেই। আম্মা থাকুক। উনি ভালো বুঝবেন।”
কনক অমত করল না। কিছুক্ষণ পরই হাবিব আসলো। খাবার-দাবার নিয়ে এসেছে। নববী বলল, “রোহানের কি অবস্থা? জ্ঞান ফিরেছে?”
“ফিরেছিল। ওষুধ খাবার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েছে। ডাক্তার বলেছে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।”
“কিভাবে পড়ে গেল? দুলাভাই খেয়াল করতে পারলেন না?”
কনক বেশ বিরক্ত গলায় বলল, “পারলে নিশ্চয়ই খেয়াল রাখত। তোমার এসব কথা বলতে হবে না।”
“আমার বেলায় তো খুব ভালো বলতে পারতেন। নিজের স্বামীর বেলায় এতো চুপ কিভাবে?”
কনক কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তার চোখ জ্বা’লা করছে। চোখে পানি আসার আগে এমন করে চোখ জ্বালা করে। সে পিছনে ঘুরে বসল। এদের সামনে কাঁদতে চায় না।
নার্স পাশের রোগীর স্যালাইন ঠিক করছিল। অল্প বয়সী মেয়ে। ছিপছিপে মিষ্টি গড়ন। লম্বা চুল। সে বেশ তীক্ষ্ণ গলায় বলল, “এতো কথা বলবেন না। অন্য রোগীর অসুবিধা হবে।”
হাবিব বলল, “দুঃখিত, আমরা এখনই চলে যাচ্ছি। নববী এসো। নাইমাও আয়।”
নাইমা শান্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ালো। নিচু হয়ে রোহানের কপালে চুমু খেল। তারপর নববীর হাত ধরে বেরিয়ে গেল। গাড়িতে ওঠার পর হাবিব বলল, “সব ঠিক আছে?”
নাইমা শান্ত ভঙ্গিতে মাথা দোলালো। সবকিছু ঠিক আছে। নববী বলল, “এসব আলোচনা এখন থাকুক। বাড়িতে গিয়ে বললে হবে।”
বাকিটা পথ তারা কেউ কোন কথা বলল না। অটোরিকশা বেশ জোরে চলছে। ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগে। কেমন যেন শীত শীত করে। নববী গায়ের চাদরটা আর একটু টেনে দিলো। বাড়ি ফেরার পর হাবিব বলল, “নববী খাবার দাও। হাত-মুখ ধুয়ে আসছি।”
হাত-মুখ ধোবার পর সবাই খেতে বসল। নববী বলল, “দুলাভাই তোমার কিছু বলেনি?”
“বলেছে ভাবী। সে আমাকেই সন্দেহ করেছে।”
“কি বলেছে?”
নাইমা ওড়নার নিচ থেকে ছোট্ট একটা মোবাইল বের করল। সরল গলায় বলল, “নিজেরাই শুনে নাও।”
“সবকিছু রেকর্ড করে নিয়েছ?”
“অবশ্যই। পরিকল্পনা এমনই ছিল। এজন্যই ভাইয়া আমায় একা রেখে চলে এসেছিল। জানতাম সুযোগ পেলে দুলাভাই কিছু না কিছু বলবেনই। তবে বিশেষ কিছু বলেননি।”
হাবিব মনযোগ সহকারে সব কথা শুনল। হতাশ গলায় বলল, “কোন স্বীকারোক্তি নেই।”
“চিন্তা করো না ভাইয়া। সেটাও হাতে চলে আসবে।”
“তবে তোকে এইভাবে দুলাভাইয়ের কাছে যেতে দেওয়া যাবে না। ওই লোকের বিশ্বাস নেই। যে কোন কিছু করতে পারে। হাসপাতাল ছিল বিধায় একা রাখতে সাহস পেয়েছি। অতো লোকের মাঝে সামান্য কিছু করারও সুযোগ ছিল না।”
“আমার মনে হয় না- দুলাভাই আমার কোন ক্ষ’তি করবে। কথাবার্তা শুনে রীতিমতো চমকে গিয়েছিল।”
“স্বাভাবিক বিষয়।”
তাদের খাওয়া প্রায় শেষের দিকে, তখন মহিউদ্দিন সাহেব আসলেন। চিন্তিত মুখে বললেন, “কি থেকে কি হয়ে গেল বুঝতে পারছি না। আনিসের কাছ থেকে রোহান পানিতে পড়ে গেল। অথচ সে খেয়ালই করল না।”
নাইমা বলল, “সবাইকে নিজের কর্মফল ভোগ করতে হয়। সোহেলের মৃ’ত্যুতে দুলাভাই কি ধরনের ব্যবহার করেছে তা সবাই জানে। ভাবীকে নানানভাবে হেয় করেছে।”
“এসব কথা বাদ দাও। তুই হঠাৎ নববীদের বাড়িতে কেন গিয়েছিলি? তা-ও তোর মা না জানিয়ে।”
“বিশেষ কারণ নেই। বেড়াতে ইচ্ছে হয়েছিল বিধায় গিয়েছি। কোন সমস্যা?”
“অবশ্যই সমস্যা। একা মেয়ে এতদূর যাওয়াটা ঠিক না।”
নাইমা কিছু বলল না। হাত ধুয়ে উঠে পড়ল। তার খাওয়া শেষ। এখন একটু ঘুমাতে চায়। নববী মহিউদ্দিন সাহেবকে খাবার বেড়ে দিলেন। সবকিছু গুছিয়ে ঘরে যেতে রাত এগারোটা বাজল। হাবিব তখনও জেগে আছে। সে চিন্তিত গলায় বলল, “কাজটা ঠিক হচ্ছে কি-না বুঝতে পারছি না। নাইমা কোন ভুল করলে সব শেষ হয়ে যাবে।”
“নাইমা যথেষ্ট বুদ্ধিমতী। একাই সব রহস্য বের করে ফেলেছে। আশা করি কোন সমস্যা হবে না।”
“সে কথা ঠিক। তবুও ভাই হই। দুশ্চিন্তা তো থাকবেই।”
“পরিকল্পনা ভুল মনে হচ্ছে না। ঠিকমতো কাজে লাগলে সব রহস্য বেরিয়ে আসবে।”
“আমার মনে হয় দুলাভাই একা নয়। এই কাজের সাথে অন্যকেউ জড়িয়ে আছে। সে কে তা আমরা ধরতে পারছি না।”
“কে হতে পারে? পরিচিত কেউ?”
“আমিও হতে পারি।”
নববী চমকে উঠলো। হকচকিয়ে গিয়ে বলল, “মানে?”
“মজা করছি। সিরিয়াস মুহুর্তে মজা করলে টেনশন কমে যায়। শুয়ে পড়ো অনেক রাত হয়েছে।”
“জিনিসগুলো রেখে আসা কি ঠিক হলো?”
“ওসব সাথে নিয়ে ফিরতে পারতাম না। তাছাড়া সাথে নিয়ে এলেই বা কি করতাম? দুলাভাই বাড়ির সব জায়গা তল্লাশি করবে। তোমার ঘরে ওগুলো নিরাপদে থাকবে।”
“তা ঠিক। আলমারিতে তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে এসেছি। কেউ খুলতে পারবে না।”
“ঘুমিয়ে পড়ো নববী। বাতি নিভিয়ে দাও। সকালে অনেক কাজ করতে হবে।”
“কি কাজ করবে?”
তা কাল সকালেই জানতে পারবে। হাবিব গায়ে কম্বল টেনে দিলো। নববী বাতি নিভিয়ে দিয়ে তার পাশে শুয়ে পড়ল। একটা হাত রাখল স্বামীর গায়ে।
হাবিবের ঘুম ভাঙলো পাখির ডাকে। একটা পাখি জানালার পাশে বসে সুর করে গান গাইছে। গানের সুর শুনলে মনে হয় কেউ কোথাও কাঁদছে। হাবিব বিছানা ছেড়ে নামল। সদর দরজা খুলে গোলাপ ঝাড়ের সামনে এসে দাঁড়ালো। বেশ কয়েকটা গোলাপ ফুল ফুটেছে। আকারে বড় এবং সুন্দর ঘ্রাণ। সে একটা ফুল ছিঁড়ে নিলো। রান্নাঘরে গিয়ে নববীর খোঁপায় পরিয়ে দিয়ে বলল, “চা বানিয়ে দাও। বের হতে হবে।”
“হাসপাতালে খাবার নিয়ে যাবে না?”
“দুপুরে নিয়ে যাব। দুলাভাইকে কল দিয়েছিলাম। বললেন, পরোটা কিনে খাবে।”
“দুলাভাই এমন শান্ত আছে কিভাবে? আমি হলে পা’গ’ল হয়ে যেতাম।”
“দুলাভাইয়ের নার্ভ বেশ শক্ত। চরম বিপদে নিজেকে শান্ত রাখতে পারে। তাছাড়া এখন তাড়াহুড়ো দেখালে নিজেরই ক্ষ’তি। সবাই উনাকে সন্দেহ করবে।”
“চায়ের পানি বসিয়েছি। তুমি ঘরে যাও।”
হাবিব ঘরে চলে এলো। কাপড় বদলে নীল রঙের শার্ট গায়ে দিলো। ফুলহাতা সোয়েটার পরে চাদর জড়িয়ে নিলো। আজকে বেশ অনেক ঠান্ডা পড়েছে। চা শেষ হবার পরপরই সে বেরিয়ে পড়ল। পুরনো এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাবে। স্কুলে একসাথে পড়েছে। ছেলেটা দক্ষ জহুরি। হাবিব দুটে হীরে নিয়ে এসেছে। আসল নকল পরীক্ষা করে দেখবে।
জুবায়ের বেশ অনেক ধরে হীরে দুটো নেড়েচেড়ে দেখল। সরু গলায় বলল, “এগুলো কোথায় পেয়েছিস?”
“শশুর বাড়ি গিয়েছিলাম। সেখানে এক রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছি। আসল এগুলো?”
“পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। চা পান করবি? বানিয়ে দিতে বলব?”
“না। চা পান করে এসেছি। তুই এগুলো দেখ।”
জুবায়ের ত্রিশ মিনিটের বেশি সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করল। বিস্মিত গলায় বলল, “দোস্ত, এই হীরে দু’টোর একটা নকল এবং একটা আসল। আসলটা নকলটার তুলনায় একটু ছোট।”
“এগুলো নিয়ে কি করব?”
“চোরাই মাল মনে হচ্ছে। আপাতত নিজের কাছে রেখে দে। বিক্রি করা ঠিক মনে হচ্ছে না।”
“ধন্যবাদ বন্ধু। আজ উঠি। পরে আবার আসব।”
“সকালের নাস্তা করে যা। কিছুই তো মুখে তুললি না।”
“পরে আবার আসব। তখন জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া হবে। আজ একটু কাজ আছে।”
হাবিব দাঁড়াল না। জুবায়ের শুকনো মুখে তাকে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেল। বহুদিন বাদে পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হলে মন ভালে হয়ে যায়।
আনিস তার অফিসের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তার পেছনে একটা ছায়া দেখা যাচ্ছে। ছায়ামূর্তির চোখ-মুখ থেকে আগুন ঝরে পড়ছে। আনিস বলল, “এমন কিছু হবে ভাবতে পারিনি। বাচ্চা মেয়ে, এত বুদ্ধি কে জানত?”
“এক এক করে সবাইকে শেষ করে ফেলব। তারপর নিজেও ম’রে যাব। কেউ কখনও জানতে পারবে না বসরাই গোলাপের ঝাড়ের নিচে কি বি’ভৎ’স রহস্য লুকিয়ে আছে।”
আনিসের চোখ-মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছি। এরপর ঠিক কি হবে!
চলবে