বাবার ভালোবাসা পর্ব-১৮+১৯

0
456

বাবার_ভালোবাসা
পর্ব:১৮
লেখা:রাইসার_আব্বু

– খুব পছন্দ হয়েছে মা আমার। আচ্ছা মামনি আমি আমার জন্মদিন ভুলে গিয়েছি, তুমি কেমনে মনে রাখলে?
– বা’রে মনে রাখবো না। আমার বাবাই না তুমি। আমার জীবন না তুমি। বাবাই তুমি কাঁদছো কেন?
– এদিকে কথার দিকে তাকিয়ে দেখি কথাও কাঁদছে। আমি রাইসাকে শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেছি। মনে হচ্ছে আমার মাকে জড়িয়ে ধরেছি। মায়ের মুখটা স্পর্ষ্ট চোখের সামনে ভাসছে।
– বাবাই চলো কেক কাটবে।
– এদিকে যখন কেক কাঁটবো ঠিক এ সময় কথা বলে ওঠলো ‘ এই সময়ে তোমার কাছে একটা জিনিস চাই দিবে আমায়?’
– কি চান ম্যাডাম বলেন।
– রাজ আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবনা। আমি রাইসার মা হতে চাই বানাবে আমায়?
-ম্যাডাম এসব কি বলছেন?
– আমি যা বলছি সবকিছু ভেবেই বলছি। আমাকে ভালোবাসবে একটু? আমি তোমাকে কোনদিন কষ্ট দিবো না। বুকে আগলে রাখতে চাই তোমাকে। আমি রাইসার মা হতে চাই রাজ।

– ম্যাডাম, আপনি আবেগের দুনিয়াতে বসবাস করছেন। বাসায় যান। আর শুনেন আমার পক্ষে আপনাকে বিয়ে করা সম্ভব না।

– কেন সম্ভব না? আমি কি তোমার যোগ্য না?নাকি দেখতে খারাপ আমি?

-ম্যাডাম যোগ্যতার দিক থেকে আপনি আমার অনেক উপরে। এজন্যই আমি আপনার কর্মচারী। আর আপনি দেখতে খারাপ না। যে কোন পুরুষ আপনাকে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাবে। কিন্তু ম্যাডাম আমার প্রেমে পড়া সম্ভব না। আমার এ মনে যতটা জায়গা আছে সব জায়গাতেই রাইসার বসবাস শুধু। বাকিটা জীবন রাইসাকে নিয়েই কাটিয়ে দিবো।
– রাজ আমি তোমার ভালোবাসা চাই না। তোমার পায়ের নিচে একটু জায়গা চাই। আর আমার মেয়ে হিসেবে রাইসাকে চাই। আর তুমি চাইলে আমি জীবনে কোন সন্তান নিবো না। তবুও আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না। আমি তোমার কাছে কড়োজুড়ে মিনতী করছি।

– ম্যাডাম ক্ষমা করবেন। এ মনে রাইসা ছাড়া আর কারো জায়গা নেই। আপনি আমার চেয়ে অনেক ভালো ছেলে পাবেন। আপনার একটা পরিবার হবে। আর শুনেন আপনি যদি এমন পাগলামী করেন তাহলে আমি এ শহর ছেড়ে চলে যাবো।

– কথা কিছু না বলে চলে গেল।

– কথার মন খারাপ দেখেই কথার বাবা বলল’ কিরে মা বি হয়েছে?
– আমার মা টারর মন খারাপ কেন? কি হলো আমার মা টা কথা বলছে না কেন?
– কথা তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নি করে দিল।
– কি হলো মা কাঁদছিস কেন?
– আচ্ছা বাবা আমি কি দেখতে খারাপ?
– না ‘ কে বলেছে আমার মা দেখতে খারাপ? আমার মা টা তো দেখতে অনেক সুন্দর!
– বাবা মিথ্যা বলছো না তো?
– কি যে বলিস? আমি কি তোর সাথে মিথ্যা কথা বলতে পারি? তুই না আমার মা। জানিস মা তুই সত্যি অনেক সুন্দর।
– সত্যি তো বাবা?
– হ্যাঁ সত্যি। বিশ্বাস নি হলে আয়নার সামনে গিয়ে দেখে। আর শোন কেউ তোকে কিছু বলেছে?
-আচ্ছা বাবা। কথা আয়নার সামনে গিয়ে বারবার নিজেকে দেখছে। আর মনে মনে ভাবছে সুন্দরতো দেখা যায়। কিন্তু রাজ আমাকে পছন্দ করে না কেন? এসবব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেল।

– এদিকে সকাল বেলা ব্রেকফাস্ট রেডি করছি, এমন সময় রাইসা এসে বলল’ বাবাই কথা আন্টিকে মম বানিয়ে এনো না। কথা আন্টি অনেক ভালো। আমাকে অনেক আদর করে।
– আমি কিছু বলছি না।
– কি হলো বাবাই বলো না কথা আন্টিকে মম বানিয়ে আনলে কেমন হয়?
– রাইসা এসব নিয়ে কথা বলতে হয় না। আর তাড়াতাড়ি চলো, ব্রেকফাস্ট রেডি স্কুলের লেট হয়ে যাচ্ছে।

– আচ্ছা বাবাই চলো। এদিকে ব্রেকফাস্ট করে রাইসাকে নিয়ে স্কুলে চলে গেলাম। রাইসাকে স্কুলে দিয়ে আমি অফিসে এসে ঢুকতেই চমকে গেলাম। কথা ম্যাডাম আমার ডেস্কে বসে আছে।
– ম্যাডাম আমার ডেস্কে আপনি?
– কেন আসতে পারি না?
– আসতে পারবেন না কেন? কিন্তু আপনি মালিক হয়ে কর্মচারীর চেয়ারে বসলে কেমন লাগে?
– ওহ্! এটা আমার ফিউচার হাসবেন্ডের চেয়ার সো বসতেই পারি।
– ম্যাডাম এসব বললে, আমি আর কাল থেকে অফিস আসবো না। আপনি যদি মালিক শ্রমিক সম্পর্ক ঠিক রাখতে পারেন তাহলে অফিসে আসবো নয়তো কাল থেকে অফিসে আসবো না ।
– কথা আমার কলারটা ধরে টান দিয়ে একদম তার কাছে নিয়ে নিলো।
– কি হলো ম্যাডাম কি করছেন?
– আরেকদিন যদি অফিস ছাড়ার কথা বলো তাহলে কলার ধরে কিস করবো। আমি আমার ভালোবাসা আদায় করে নিতে জানি।
– দেখাই যাবে!
– আচ্ছা দেখাচ্ছি।
– কথা জোর করে তার ঠোঁট জোড়া আমার ঠোঁটে লাগিয়ে দিল।
-কথাকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে গালে চড় বসিয়ে দিলাম।
– কথা চড় খেয়ে আবারো জড়িয়ে ধরে যখন কিস করতে যাবে। ঠিক তখনি কে দরজা ধাক্কা দিল। চেয়েই দেখি মৌ। মৌ আমাকে আর কথাকে এ অবস্থায় দেখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। কথা কিছু না বলে চলে গেল।
– মৌ আমার দিকে তাকিয়ে দেখে আমার গালে লিপিস্টিক লেগে আছে।

– আমি মৌকে কি বলবো ভাবতে পারছি না। মৌ পলকহীন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নিরবতা ভেঙে আমিই বললাম ‘কিছু বলবে?’
– যা বলবো ভাবছিলাম তা আর বলা হবে না। আচ্ছা রাজ, তুমি তো আগে এমন ছিলে না? আজ তুমি কথা ম্যাডামের সাথে যা করলে।
– আমি কিছু বলছি না মাথাটা নিচু করে আছি।
– কি হলো রাজ কথা বলো। রাজ আমি আর পারছি না এসব দেখতে। খুব কষ্ট হয় আমার। আমি জানি আমি তোমার সাথে অনেক বড় অন্যায় করেছি। তবুও একটিবার ক্ষমা করে দিয়ে আমাকে বুকে টেনে নিতে পারো না? আর কত কষ্ট দিবে আমাকে? আমি যে আর পারছি না। তোমার সাথে কেউ কথা বলুক এটাও আমি সহ্য করতে পারি না। আর আজ সেই কথা তোমাকে কিস করে যায়। আমার সত্যি মরে যেতে ইচ্ছে করছে। কি নিয়ে বাঁচবো বলো? আমার যে সব শেষ। তোমাে কত কিস করতে মন চায় আমাকে করো। তবুও যেন কথা ম্যাডামকে কিস করো না আমার সহ্য হয় না।

– কি বলছো এসব তুমি? আর তোমাকে আমি কেন কিস করবো। কথা ম্যাডাম জোর করে দিছে। আমি কি করবো।
– তাই না জোর করে দিছে।খুব তো দেখলাম লিপিস্টিক খাওয়া হচ্ছে।
– মৌ মুখের ভাষা ঠিক করো।
– তুমি কিস করবা আর আমি বলতে গেলেই দোষ।
– আমি কতবার বলবো কথা ম্যাডাম জোর করে কিস করছে।
– তাই না দেখাচ্ছি, বলেই কথা আমাকে জড়িয়ে ধরে তার ঠোঁট জোড়া আমার ঠোঁটের সাথে লাগিয়ে দিলো। আমি মৌ কে সরাতে চেয়েও পারছি না। মৌকে যতই সরাতে চাচ্ছি মৌ ততই আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে। মৌ এর নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। এভাবে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরার পর মৌকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে কষে থাপ্পর বসিয়ে দিলাম।
– তুমি আমাকে মারলে?
– হ্যাঁ মারলাম। আপনি কি মনে করেন আমি প্লে বয়? নাকি আমার সাথে আপনার কোন সম্পর্ক আছে? আর কি চান আমার কাছে? জানেন মিস মৌ? একটা ছেলের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় কী? জানেন না। শুনেন একটা ছেলের কাছে সবচেয়ে কষ্টকর বিষয় হচ্ছে তার স্ত্রী অন্যের শয্যাশায়ী হওয়াটা । আমি যখন অসুস্থ হয়ে বিছনায় পড়ে থাকি। আর আপনি তখন আপনার বসের সাথে নিজের শরীরের চাহিদা মেঠাতে ব্যস্ত। আমার পিচ্চি মেয়েটা যে বয়সে নিজের কেয়ার ঠিক মতো নিতে পারে না সে বয়সে তারা বাবার কেয়ার নেয়। অসুস্থ স্বামীকে শয্যায় রেখে আপনি ডিংকস করে মাতাল হয়ে আসেন। জানো? তোমার চেয়ে সরি আপনার চেয়ে পতিতারা ভালো। তারা নিজের পেটের ক্ষুধা মেটাতে পতিতার কাজ করে আর তোমাদের মতো মেয়েরা নিজের শরীরের চাহিদা। লজ্জা করে না এসব করতে? তুমি জোর করে কিস করলেই আমি তোমার হয়ে যাবো? নিজেকে সংযত করো। তোমরা মেয়েরা কাছে যেমন টানতে পারো আবার দূরে ঠেলে দিতেও জানো। কি হলো কাঁদছো কেন?
– রাজ আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি। তুমি যা বলবে তাই করবো। তবুও আমাকে ছেড়ে যেয়ো না।
– মৌ এর চোখের পানি মুক্তোর দানার মতো টপটপ করে পড়ছে। চোখের পানি মুছে দেওয়ার মতো শক্তি নেই আমার। আমি মৌ’য়ের চোখের পানি দেখে নিজের চোখের পানি আকঁটাতে পারছি না। মৌকে জড়িয়ে ধরে ইচ্ছে করছে বলতে, আমিও তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু না মৌকে বুকে টেনে নিলে পবিত্র ভালোবাসার অপমান হবে।
– রাজ ক্ষমি করা যায় না আমায়?
– ক্ষমা সে তো কবেই করে দিয়েছি। আর হ্যাঁ প্লিজ এখান থেকে চলে যাও। কেউ এভাবে দেখলে বিষয়টা খারাপ হয়ে যাবে। প্লিজ চলে যাও।

– মৌ চোখের পানি মুছে চলে গেল। মৌ চলে গেলে আমি ওয়াশরুমে গিয়ে কান্না করলাম। বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে। চোখে মুখে পানি দিয়ে। আবারো ডেস্কে এসে অফিসের ফাইলটা হাতে নিলাম।

– এদিকে কথা অফিসে বসে ভাবতে লাগল, কি করলে রাজ তাকে ভালোবাসবে। আচ্ছা মৌ কে বলি বিষয়টা। কথা মৌকে ডেকে পাঠালো।
– পিয়ন গিয়ে মৌকে বলল ‘ ম্যাডাম আপনাকে ডাকে!

– আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি। মৌ হাতের কাজটা শেষ করে। কথার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে বলল ‘ম্যাম আসতে পারি?’

– হ্যাঁ আসো।
– ম্যাডাম কিছু বলবেন?
– হ্যাঁ বসো বলছি।
-আচ্ছা। মৌ চেয়ারে বসলেই কথা বলল’ আচ্ছা মৌ বলুনতো ছেলেরা কি পড়লে বেশি পছন্দ করে?
– ম্যাম অধিকাংশ ছেলেরা শাড়িতে মেয়েদের পছন্দ করে।
– ওহ্ আচ্ছা ধন্যবাদ। তোমার সাথে শেয়ার করি। যদিও করা ঠিক না। তবুও তোমাকে বিশ্বস্ত মনে হয়।
– ম্যাডাম কি বলবেন কিছুই বুঝতেছি না।
-সব বুঝবে। আগে শুনো। আমি রাজকে ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি।
– ম্যাডাম রাজ না বিবাহিত?
– হুম জানি রাজের বউ রাজকে ছেড়ে চলে গেছে।
– একটা বাচ্চাও তো আছে।
– কি যে বলো না ওটা তো আমারি মেয়ে। রাইসাে মতো মেয়ে পাওয়া সত্যি ভাগ্যের বিষয়। আচ্ছা মৌ তোমাকে একটা হেল্প করতে হবে। প্লিজ না করো না।
– বলুন কি হেল্প?
– আগে প্রমিজ করো।
– প্রমিজ করতে হবে না ম্যাম বলেন কু করতে হবে। আপনি আমাকে বিপদে আশ্রয় দিয়েছেন। আপনার জন্য জীবনটাও দিলে কম হয়ে যাবে।
– তাহলে প্রমিজ!
– আচ্ছা প্রমিজ।
– মৌ তুমি রাজকে বলবে, ম্যাম তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তোমাকে ছাড়া বাঁচবে না। তুমি ম্যামকে বিয়ে করো। আর হে মৌ তুমি কিন্তু আমাদের বিয়েতে সারাক্ষণ থাকবে। আমার তো বোন নেই। তুমিই তো আমার বোন। বলো পারবে না রাজি করাতে রাজকে?
– মৌ কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। চোখের পানি টলমল করে পড়ছে।
– কি হলো পারবে না বোন?
চলবে””””

বি:দ্র:ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন

বাবার_ভালোবাসা
পর্ব:১৯
লেখা:রাইসার_আব্বু।

– প্রমিজ করতে হবে না ম্যাম বলেন কি করতে হবে। আপনি আমাকে বিপদে আশ্রয় দিয়েছেন। আপনার জন্য জীবনটাও দিলে কম হয়ে যাবে।
– তাহলে প্রমিজ!
– আচ্ছা প্রমিজ।
– মৌ তুমি রাজকে বলবে, ম্যাম তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তোমাকে ছাড়া বাঁচবে না। তুমি ম্যামকে বিয়ে করো। আর হে মৌ তুমি কিন্তু আমাদের বিয়েতে সারাক্ষণ থাকবে। আমার তো বোন নেই। তুমিই তো আমার বোন। বলো পারবে না রাজি করাতে রাজকে?
– মৌ কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। চোখের পানি টলমল করে পড়ছে।
– কি হলো বোন?
– না ভাবছি তুমি একটা মেয়ে থাকার পরও রাজের জন্য পাগল হলে কেন?
– আপু সত্যি বলতে আমি রাজকে ভালোবাসি। আর রাজকে যতটা ভালোবাসি ঠিক ততটাই রাইসাকেও ভালোবাসি।
– ওহ্ আচ্ছা তাইই বুঝি?
– জানো আপু রাজের মতো একজনকে স্বামী হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।
– আচ্ছা আমি তুমি যেভাবে পারো রাজকে রাজি করাবে। প্রমিজ করেছ কিন্তু।
-মৌ আর কিছু বলতে পারলো না বুকে পাহাড় পরিমাণ কষ্ট নিয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক জবাব দিল।

– কথা মৌকে জড়িয়ে ধরে বলল’ সত্যিই তুমি আজ থেকে আমার বোন’।

– এদিকে আমি ডেস্কে বসে অফিসের জরুরি একটা কাজ করছি। কে যেন টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়েই দেখি মৌ!
– আমি মৌ এর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললাম’ কিছু বলবেন?’
– হ্যাঁ যদি কিছু মনে না করেন তাহলে বলতে পারি।
– আচ্ছা কি বলবেন বলেন?
– রাজ তোমাকে না কথা ম্যাডাম অনেক ভালোবাসে।
– হুম আমিও ভালোবাসি। মৌকে রাগানোর জন্য কথাটা বললাম।
– মৌ কিছু না বলে, করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল’ রাজ তুমি না আমায় ভালোবাসতে? তবে এখন কথা ম্যাডামকে ক্যামনে ভালোবাসো?
– হাসালেন। আপনিওতো আমাকে ভালোবাসতেন। তারপরও অন্য ছেলের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন? আমি তো কথাকে ভালোবাসি। তবে অনৈতিক কোন কাজ করিনি। মৌ’কে কষ্ট দেওয়ার জন্যই কথাটা বলা ।

– মৌ আমার কথা শুনে মুচকি হেসে বলল’ জানো, ভালবাসাই যেহেতু কথা ম্যাডামকে তাহলে এক কাজ করো তাকে বিয়ে করে ফেলো। ‘রাইসাও একটা মা পাবে। আর তুমিও পাবে একটা বউ।
– হুম তাই ভাবছি।
– মৌ এবার আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না। আচ্ছা ভালো থেকো।
– আচ্ছা।
– মৌ রুম থেকে বের হয়ে সোজা বাসায় চলে গেল। বাসায় গিয়ে দরজা বন্ধ করে অনেকক্ষণ কান্না করল।

– এদিকে কথা রাইসাকে নিয়ে আসতে স্কুল চলে গেল। কথা স্কুলে গিয়ে দেখে রাইসা বারান্দায় বসে কাঁদছে।
– রাইসার কান্না দেখে কথার বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠলো। দৌড়ে রাইসার কাছে গিয়ে বলল আমার মামনিটার কি হয়েছে?
– রাইসা কথাকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে ওঠল।
– কি হলো মামনি? কাদঁছো কেন? বলো কি হয়েছে তোমার?
– রাইসা কাঁদতে কাঁদতে বলল’ জানো আন্টি সবার মা আছে। আমার মা নেই। বাবাকে বলতেও পারি না। বাবা কষ্ট পাবে বলে। আজ রাতুল আমাকে বলেছে তোর মা নেই। আর মা’কে নিয়ে অনেক গল্প বলেছে। ওর মা ওকে অনেক আদর করে।
– কে বলছে তোমার মম নেই? আমি তোমার মম। কেউ যদি বলে তোমার মম কে? তখন আমার কথা বলবে!
– সত্যি তুমি আমার মম?
– হ্যাঁ আজ থেকে আমিই তোমার মম।
– না না। তোমাকে মম ডাকা যাবো না। বাবাই রাগ করবে। আর বাবাই রাগ করলে অনেক কাঁদে। বাবাই কাঁদলে পড়ে আমারি তো কষ্ট হবে। বাবাই যদি বলে তুমি আমার মম তাহলে ঠিকআছে।
-কথা রাইসার কথা শুনে রাইসাকে বুকের সাথে চেপে ধরল। রাইসায় ছুঁয়াতে কথা আজ মাতৃত্বের অজানা এক অনুভূতি ফিল করছে। রাইসা মামনি? তোমার বাবাই যদি আমাকে মম ডাকতে বলে। আমাকে তুমি মম ডাকবে?
– হ্যাঁ ডাকবো তো। আচ্ছা তাহলে শুনো তোমার বাবাইকে আমি যেভাবে বলতে বলব সেভাবে বলবে। কথা রাইসাকে কানে কানে অনেক কথা বলে দিল। রাইসা লক্ষী মেয়ের মতো বলতে রাজি হয়ে গেল।

– বিকেল বেলা কথা রাইসাকে নিয়ে সোজাসুজি অফিসে এসে পড়ল। আমি ডেস্কে বসে বসে মৌ এর সাথে কাটানো স্মৃতিগুলো মনে করছি। হঠাৎ রাইসা বাবাই করে ডাক দিয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরল।
– বাবাই তুমি আর কত কাজ করবে? চলো বাসায় যায়।
– এখনি বাসায় যাবো? এখন বাসায় গেলে তোমার কথা ম্যাডাম আমার চাকরি খেয়ে দিবে!
– কি বললে? কে তোমার চাকরি খাবে। আমি তার চাকরি খেয়ে দিবো।
– তাই বুঝি।
– হ্যাঁ তাই কারণ তুমি অফিসেও আমার হুকুমে চলবে।
– এদিকে রাইসার কথা শুনে কথা দরজায় দাঁড়িয়ে একপ্রকার জুরেই হেসে দিল।
– আমি কিছু না বলে, রাইসাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
– রাত্রে বেলা রাইসা ঘুমিয়ে গেলে বিছানায় নিচ থেকে মৌ এর ছবিটা বের করে বুকের উপর রেখে একা একাই কথা বলছি। আর চোখের পানি ফেলছি। হঠাৎ কারো স্পর্শ টের পেলাম। কপালে একটা পাপ্পি দিয়েই বলল’ বাবাই তুমি কাঁদছো কেন?
– কই কাঁদছি না তো?
– ছি, বাবাই তুমি না বলেছো মিথ্যা বলা ভালো না?
– হ্যাঁ বলেছি তো।
– তো মিথ্যা কেন বললে?
– রাইসা আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল’ বাবাই তোমাকে একটা কথা বলবো রাখবে?
– কি কথা মামনি? তোমার সব কথায় তো আমি রাখি!
– হুম জানি তো।
– আচ্ছা তাহলে বলো কি করতে হবে আমার?
– বাবাই বেশি কিছু না। তার আগে আমার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করো আমার কথা রাখবে? আমার হাতটা রাইসার মাথায় রেখে।

– আমি রাইসার মাথা থেকে হাতটা সরিয়ে বললাম ‘হ্যাঁ মামনি রাখবো বলো।’
– লাভিউ বাবাই। আমি জানি তুমি আমার কথা রাখবে। আচ্ছা বাবাই কথা আন্টি তো ভালোই তাই না। জানো আমাকে অনেক আদর করে।
– হুম। ভালো।
– ভালোই তাহলে কথা আন্টিকে আমার মম বানিয়ে ফেল। সবার মম আছে আমার মম নেই। সবাই আমার মম নেই বলে আমাকে রাগাই। আচ্ছা বাবাই বলো আন্টিকে আমার মম বানাবে।
– রাইসার কথা শুনে মুহূর্তের মাঝে দুনিয়াটা উলট-পালট হয়ে গেল। কি বলব কিছু ভেবে পাচ্ছি না। রাইসার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করেছি। যদি কথাকে বিয়ে না করি তাহলে কেমন হবে। রাইসা যে আমার জীবন।
– কি হলো বাবাই তুমি কিন্তু আমাকে কথা দিয়েছ। বলো বাবাই কথা আন্টিকে মম বানিয়ে নিয়ে আসবে?

-হুম মা মম বানিয়ে নিয়ে আসব। আমি যে আমার মা’টাকে কথা দিয়েছি।
– আচ্ছা বাবাই তোমার ফোনটা দাও তো।
– এতো রাতে ফোন দিয়ে কি করবে?
– দাও না।
– এই নাও। রাইসা ফোনে কার যেন নাম্বার তুলে ফোন দিয়ে বলল ‘ হ্যালো মম! বাবাই রাজি হয়েছে। লাভিউ মম। কাল সকালেই আমাদের বাড়ি এসো পড়ো কেমন?
– কথা রাইসার মুখে এমন কথা শুনে আনন্দে কেঁদে ফেলল। রাজকে নিজের করে পাবে বিশ্বাস হচ্ছে না।
– কি হলো মম কথা বলছো না কেন?
– বলছি তো মামনি। কাল সকালে আসবো। আমাকে যে আসতেই হবে। কথা ফোনটা কেটে দিয়ে অযু করে দু’রাকাত নফল নামায পড়ে নিল।

– এদিকে মৌ এর কোন ভাবেই ঘুম হচ্ছে না। খুব একা একা লাগছে। অফিসের কথা ভাবতেই মৌ’এর চোখে জল এসে পড়ে। রাজের একটা ছবি বের করে মৌ দেখতে লাগে। ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মৌ ঘুমিয়ে যায়।

– এদিকে আজ কথা আর রাজের বিয়ে। বিয়ের সাজে রাজকে খুব সুন্দর লাগছে। এতোটা মানুষ সুন্দর হয় কিভাবে। রাজের সামনেই একটা স্টেজে কথা আর রাইসা বসে আছে। রাইসা কথার কুলে বসে আছে। কথা রাইসার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। বিয়ে বাড়িতে নীল-লাল বাতির আলো আজ মৌ এর কাছে বড্ড অসহায় লাগছে। হঠাৎ সবাই বলে ওঠল কাজি এসেছে। কাজে যখন কথাকে কবুল বলতে বলে, কথা যখন কবুল বলে কাবিন নামায় সাইন করবে এমন সময় মৌ চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে এ বিয়ে হতে পারে না। রাজ আমার স্বামী। আর রাইসা আমার মেয়ে। এ বিয়ে যদি হয় তাহলে আমারর লাশের উপর দিয়ে হবে। কথা মৌ এর কথা শুনে বলে ওঠল’ আপু তুমি না আমার বোন হও। তবে বোন হয়ে বোনের স্বপ্ন নষ্ট করতে চাচ্ছো কেন?
– আমি আর পারছি না কথা। রাজ অন্য কারো হোক তা আমি মানতে পারব না। আমি রাজকে ছাড়া বাঁচবো না।
– আপনি কে আপনি এমন করছেন কেন? আর আপনি আমাকে আপনার মেয়ে বলছেন কেন? যেদিন আপনি আমার অসুস্থ বাবাইকে রেখে অন্য ছেলেকে বিয়র করছেন? তখন আমি আর আমার বাবাই আপনাকে বিয়ে করতে না করে ছিলাম। আর আপনি কি বলেছেন? আমার অসুস্থ বাবা সেদিন কেঁদেছে। ছোট্ট শিশুর মতো আজ আপনি আমাদের আবার কষ্ট দিতে আসছেন। আপনি প্লিজ চলে যান। আপনি আমার মা হতে পারেন না। আপনি আমার বাবাইকে ভালোবাসলে অসুস্থ বাবাইকে রেখে আপনার বসকে বিয়ে করতেন না। জানেন এখনো আমার বাবাই আপনার জন্য কাঁদে। আমি আর আমার বাবাইকে কাঁদতে দিবো না।
-হঠাৎ মৌ এর ঘুম ভেঙে যায়। মৌ এর বুঝতে বাকি থাকে না সে স্বপ্ন দেখলো। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সকার নয়টা বাজে। ঘুম থেকে উঠেই চলে যায় রাজের বাসায়। বাসায় দরজা ধাক্কা দিতেই দেখে কথা রাজকে জড়িয়ে ধরে আছে।
– রাজকে এভাবে দেখে মৌ এর ভেতরের আত্মাটা যেন বেরিয়ে আসবে।
– এই মৌ কি করছো? ছাড়ো। এটা ঠিক না।
– কেন বরকে এসব করা যায় না।
– এখনো তো হয়নি?
– হতে কতক্ষণ।
– মৌ রাজ আর কথার কথা শুনে নিজের চোখের পানি আকটাতে পারছে না। মৌ যখনি রুম থেকে বেরিয়ে আসতে যাবে এমন রাইসা মৌকে দেখে বলে। আন্টি আপনি এখানে?
– রাইসার কথায়, কথা আমাকে ছেড়ে দিয়ে মৌ এর দিকে তাকায়।
– আপু আপনি এখানে?
– আর বলো না তুমি যে বললে সে কথাটা বলতে আসছিলাম।
– কথা মৌ’কে জড়িয়ে ধরে বলল ‘ আপু দোয়া করো রাজ রাজি হয়েছে। সামনে মাসেই আমাদের বিয়ে। তুমি কিন্তু সারাদিন থাকবে। চলো আমরা সবাই বিয়ের কার্ড বানাতে যাবো। কথা মৌ’কে সহ আমাকে নিয়ে গাড়িতে উঠল। রাইসা আমাে কুলে ঘুমিয়ে গেছে। কথা আমার পাশে বসে আছে। মৌ বার বার আমার দিকে আর চোখে তাকাচ্ছে। আমি রাইসার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। হঠাৎ কথা আমার গালে চুমু দিয়ে দেয়।
– মৌ এটা দেখার সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠল রাজ ”””

চলবে”””’

বি:দ্র:ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন