বাবার ভালোবাসা পর্ব-২০+২১

0
403

বাবার_ভালোবাসা।
পর্ব:২০
লেখা:রাইসার_আব্বু।

– আপু আপনি এখানে?
– আর বলো না তুমি যে বললে সে কথাটা বলতে আসছিলাম।
– কথা মৌ’কে জড়িয়ে ধরে বলল ‘ আপু দোয়া করো রাজ রাজি হয়েছে। সামনে মাসেই আমাদের বিয়ে। তুমি কিন্তু সারাদিন থাকবে। চলো আমরা সবাই বিয়ের কার্ড বানাতে যাবো। কথা মৌ’কে সহ আমাকে নিয়ে গাড়িতে উঠল। রাইসা আমাে কুলে ঘুমিয়ে গেছে। কথা আমার পাশে বসে আছে। মৌ বার বার আমার দিকে আর চোখে তাকাচ্ছে। আমি রাইসার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। হঠাৎ কথা আমার গালে চুমু দিয়ে দেয়।
– মৌ এটা দেখার সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠল রাজ তেলাপোকা!
– মৌ এর মুখে তেলাপোকার কথা শুনে, কথা চিৎকার দিয়ে ওঠল। কথা তেলাপোকাকে ভীষণ ভয় পায়। এদিকে রাইসা ওঠে পড়ল।

– আমার আর বুঝতে বাকি রইল না এটা মৌ ইচ্ছে করেই করল। কারণ মৌ এর ছলছল মুখ যে এটাই বলছে।

– আচ্ছা মামনি, তুমি কি বিয়েতে শাড়ি পড়বে?
– হ্যাঁ।
– তাহলে লাল রঙের শাড়ি পড়বে কেমন? আচ্ছা মৌ আন্টি লার রঙের শাড়ি পড়লে মমকে সুন্দর লাগবে না?
– হুম একদম রাজরাণী লাগবে। কথাটা বলতে গিয়ে মৌ এর কন্ঠসুর আকঁটে গেল।

– জানো বাবাই আমি কিন্তু নীল শাড়ি পড়বো।
– তাই বুঝি?
– হুম কারণ, আমি যে বরের মা। তাকে তো শাড়ি পড়তেই হবে।
– ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে বলল’ স্যার এসে পড়ছি আমরা। এখানে খুব ভালো কার্ড বানায়।
– আমরা সবাই যখন গাড়ি থেকে নামতে যাবো ঠিক তখনি ড্রাইভার বলল’ কথা ম্যাডাম বেয়াদবি না নিলে আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।
– হুম বলেন।
– ম্যাডাম সত্যি বলতে, আমি ভেবেছিলাম আপনার অফিসের একজন কর্মচারীর সাথে আপনার বিয়ে হচ্ছে। সাথে একটা মেয়ে। কোন পাগলেও এ বিয়ে করবে না। কিন্তু না এখন মনে হচ্ছে আপনি সত্যিই বড়ই ভাগ্যবতী। এমন একটা মেয়ে আর এমন একটা স্বামী পেতে যাচ্ছেন। যা সত্যিই যেকোন মেয়ের জন্য গর্বের বিষয়!

– আচ্ছা ধন্যবাদ। মুখলেস ভাই।
– ম্যাডাম আপনি আমাকে ভাই ডাকলেন?
– হ্যাঁ!
– আমার অনেক ভালো লাগছে।
– এদিকে মৌ’ কিছু না বলে হনহনিয়ে মার্কেটে গিয়ে ঢুকল। বিয়ের কার্ডের অনেকগুলো ডিজাইন দেখছি। কোনটাই পছন্দ করতে পারছি না। কথাও কনফিউশনে আছে। কথা দু’টো কার্ড নিয়ে মৌ’কে বলল ‘ দেখোতো বোন কোন কার্ড সুন্দর। তুমি যেটা বলবে সেটাই ছাপা হবে।
– মৌ এ বার কান্না আঁকটাতে পারল না কেঁদেই দিল!
– মৌ এর কান্না দেখে কথা অবাক হয়ে যায়। কি হলো আপু কাঁদছো কেন এভাবে?
– মৌ কিছু না বলে আরো ফুপিয়ে কেঁদে ওঠল।
– আপু কি হয়েছে বলো এভাবে কাঁদছো কেন? কেউ কিছু বলেছে তোমাকে?
– মৌ চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল ‘ জানো আপু ছোটবেলায় মা মরে গেছে। জীবনে কেউ আমাকে এতটা ইমপয়টেন্স দেয়নি। কিন্তু আজ সামান্য কর্মচারীকে তোমার বিয়ের মতো এতো বড় একটা বিষয়ে পছন্দ করতে দিয়েছো। এই আনন্দে কান্না আঁকটাতে পারলাম না। নীল কালারটি নাও। সুন্দর লাগবে।
– কথা মৌ’কে জড়িয়ে ধরে বলল ‘সত্যিই তুমি আমার বোন। আর শোন বিয়েতে সব দায়িত্ব তুমি পালন করবে।
– মৌ মাথা নাঁড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিল।

– কার্ড ছাপাতে দিয়ে সোজা বাসায় চলে আসলাম। কথা তাদের বাসায় চলে গেল। বিয়ের ডেটও ফিক্সড। রাইসাকেও কথা দিয়েছি কথাককে বিয়ে করবো। কিন্তু সত্যিই কি আমি কথাকে ভালোবাসতে পারব? যে মন মৌকে দিয়েছিলাম সে মন কথাকে দিতে পারবো? আমি যে এখনো মৌ কেই ভালোবাসি। আমি জানি মৌকে কখনো আর কাছে নিতে পারবো না। কারণ বিশ্বাস কাছের টুকরোর মতো যা একবার ভাঙলে আর জুরো লাগে না। কিন্তু মৌকে তার সামনে যতটা ঘৃণা করি কিন্তু তার আড়ালে তার চেয়ে শতগুণ বেশি ভালোবাসি। আর কয়েকটা দিন তারপর হয়ে যাবো অন্য কারো। তখন কি করবো। এদিকে চাঁদের আলো ভেদ করে জোছনা রাইসার মুখে এসে পড়ছে। মায়াবি মুখটা যে স্বীয় মহিমায় আলো ছড়াচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ল” সত্যিই কথা রাইসার মা হতে পারবে?’ এখন কথা রাইসার মা হয়ে থাকতে চাইলেও ভবিষৎতে কি থাকবে? মাথাটা কেমন করে যেন ঘুরছে। যদি কথা রাইসাকে পড়ে না দেখতে পারে। আমি যে রাইসার কষ্ট সহ্য করতে পারব না । রাইসার যে আমার বেঁচে খাকার অবলম্বন। রাইসার মাথায় হাত বুলাচ্ছে আর এসব ভাবছি।
– এদিকে কথা এশার নামায শেষ করে যখন তার রুমে আসল। এমন সময় কথার বাবা দরজায় নর্ক করে বলল’ মা আসবো?’
– হ্যাঁ আসো।
– কেমন আছিস মা?
– হুম বাবা অনেক ভালো। আমি সবচেয়ে হ্যাপি। আর হ্যাপি হওয়ার পিছনে মূল সহায়ক তুমি। তুমি আমার সব আবদার মেনে নিয়েছো।
– তাই বুঝি?
-হ্যাঁ বাবা ।
– আচ্ছা মামনি কিছু না মনে করলে একটা কথা বলি?
– হ্যাঁ বাবা বলো!
– মা’রে রাজকে তুই বিয়ে করছিস ঠিক আছে। কিন্তু তুই নাকি আর কোন সন্তান নিবি না?
– হুম বাবা। রাইসা তো আছেই।

– মা’রে সৎ মা কখনো আপন মা হতে পারে না। যতই আদর যত্ন করিস একটু শাসন করতে গেলেই বলবে, আজ নিজের মা হলে এমনটি করতো না। যাই হোক দোয়া করি মা তোর জন্য।

– বাবা রাইসা অনেক ভালো। আর পড়ে তো আমরা আরো সন্তান নিবোই। তোমার জামাই ও পরে না করতে পারবে না।
– আচ্ছা মা এখন ঘুমা আমি আসি।

-কথার বাবা চলে গেলেও, কথার বাবার বলা কথাটা বার বার তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এসবব ভাবতে ভাবতেই কখন যে কথা ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যায় খেয়াল নেই।

– এদিকে মৌ এর ঘুম আসছে না। বারবার রাজের মুখটা ভেসে ওঠছে। রাজের সাথে কাটানো স্মৃতি ভালোবাসা সবকিছু কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। যখনি রাজ আর কথার বিয়ের কথা মনে পড়ে তখন মৌ নিজেকে শান্ত করতেপারে না। কষ্টে তার বুকটা ফেটে যায়। মৌ কি করবে কিছু ভাবতেও পারছে না। বিছানা থেকে উঠে রাজের ছবিটা আলমারি থেকে বের করে দেখতে লাগল। আজ যেন ছবিটাকে জীবন্ত মনো হচ্ছে। মন চাচ্ছে সবকিছু ফেলে রাজের কাছে চলে যাক। কিন্তু না, এ যে সম্বব না। রাজকে সে যে কষ্ট দিয়েছে। তাই রাজের ছবিটাই তার সম্বল। মৌ রাজের ছবিটাকে বুকের সাথে চেপে ধরে বাচ্চা মেয়ের মতো ফুপিয়ে কেঁদে দেয়। সে পারবে না রাজকে ছাড়া বাঁচতে নিঃশ্বাস নিতেও যে কষ্ট হয়। মৌ এর খুব কষ্ট হচ্ছে। রাজকে ঠকানোর পরিণাম যে এতো ভয়াবহ হবে আগে জানা ছিল না। কথা আর রাজের বিয়ে হলে, তার কি হবে। মৌ এসব ভেবে আর বিছানায় থাকতে পারে না। রাজের বাসা পাশাপাশি হওয়ায়। মৌ এক দৌঁড়ে রাজের বাসায় গিয়ে নর্ক দেয়। বারবার নর্ক দিচ্ছে। এ দিকে রাজ এখনো রাইসার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আরেক হাতে মৌ এর ছবিটা দেখছে। আর অন্যদিকে মৌ কলিং বেল বাজিয়েই চলছে। রাজ অনেকটা বিরক্তি নিয়েই দরজাটা খুলে দেয়। দরজাটা খুলে দিতেই মৌ রাজকে জড়িয়ে ধরে। রাজ অনেকটা ভয় পেয়ে যায়। দরজা খুলার সাথে সাথেই এভাবে কেউ জড়িয়ে ধরে। ক্ষানিক পর রাজ বুঝতে পারল এটা মৌ। আর বুঝেই মৌ কে তার কাছ থেকে ছাড়াতে চেষ্টা করলো। মৌ রাজকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে।

– কি হলো? আপনি ছাড়ছেন না কেন।
– রাজ আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না । তুমি যদি কথাকে বিয়ে করো আমি সত্যি সত্যি সুসাইড করবো। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি যা বলবে তাই শুনমো। তুমি সারাদিন বসে থাকতে বললে বসেই থাকবো। দাঁড়িয়ে থাকতে বললে দাঁড়িয়েই থাকবো। তুমি তোমার বাড়ির কাজের মেয়ে করে রেখে দাও না আমাকে। আমাকে আমার মেয়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না। আমি কি রিয়ে বাঁচবো বলো তো?
তোমার বুকটাই যে আমার শেষ ঠিকানা। আমি তোমার কাছে ভালোবাসা ভিক্ষা চাইছি। ভিক্ষা দাও আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে তাও। তবুও এ বিয়েটা করো না।

-মৌ আমাকে ছাড়ো তারপর বলছি।
– না ছাড়বো না । জানো রাজ একটা মেয়ের নিকট সবচেয়ে কষ্টকর বিষয় কি? জানো না। একটা মেয়ের নিকট মৃত্যুর চেয়ে কষ্টকর হচ্ছে তার সামনে তার প্রিয় মানুষকে অন্য কেউ জড়িয়ে ধরলে। কিস করলে। নিজের বলে দাবি করলে জানো সেদিন গাড়িতে কথা যখন তোমাকে কিস করে তখন আমার কলিজা এফোড় আর ওঁফোড় হয়ে যায়। আমি পারি না সহ্য করতে তারচেয়ে বরং আমাকে মেরে ফেল। তবুও কথাকে বিয়ে করো না।

– মৌকে বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে বললাম’ জানো, মৌ আমি তোমার স্বামী না। হ্যাঁ একসময় ছিলাম। তবে ডির্ভোস হয়ে যাওয়ার পর আমি তোমার কাছে পরপুরুষ। আর হ্যাঁ এখন শুনো একটা ছেলের কাছে মৃত্যুর চেয়ে কষ্টদায়ক কি জানো? জানো না। সেটা হচ্ছে তারই সামনে তার স্ত্রী যখন অন্য ছেলের সাথে পরকীয়া করে। যা তুমি করেছ। বলো কি দোষ ছিল? হ্যাঁ দোষ হয়তো ছিল,আমি পঙ্গু ছিলাম। আচ্ছা আমি কি পঙ্গু ইচ্ছা করে হয়েছি। আমার আল্লাহ খুশি হয়ে আমাকে পঙ্গু বানিয়েছেন। তিনি হয়তো সত্যিকারের ভালোবাসাটা আমাকে উপলব্ধি করিয়েছেন।
– মৌ আমার মুখে এমন কথা শুনে দু’পা ঝাপটে ধরে বলতে লাগল’ রাজ আমাকে ক্ষমা করো। দাও না তোমার পায়ের নিচে একটু স্থান। আমি যে আর পারছি না। আমার কলিজাটা খাঁ খাঁ করছে। বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে। বলো কি করলে তুমি আমাকে ক্ষমা করবে তাই করব। তবুও আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। একটু বুকে নিবে আমায়?
– মৌ এর চোখের পানিতে পানিতে পা ভিজে যাচ্ছে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আর পারছি না ।
– মৌ বার বার বলছে আমাকে বুকে নাও না একটু। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। আর সহ্য করতে পারলাম না। টান দিয়ে মৌকে বুকে টেনে নিলাম। শক্ত করে জড়িযে ধরলাম। মৌ আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। মৌ এর চোখের পানিতে শার্ট ভিজে যাচ্ছে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। তবুও কেঁদে যাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ল রাইসার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করার কথা। সাথে অসুস্থ অবম্থায় মৌ আর সাইফের কথা। পারলাম না বুকে রাখতে মৌকে এক ধাক্কায় বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে বললাম’ ক্ষমা করো আমায়। তোমাকে ভালোবাসা যায় বুকে নেওয়া যায় না।’ আর বিয়ে আগামী সপ্তাহে কথাকেই করবো।

চলবে””””

বাবার_ভালোবাসা
পর্বঃ২১
লেখা:রাইসার_আব্বু।

– মৌ বার বার বলছে আমাকে বুকে নাও না একটু। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। আর সহ্য করতে পারলাম না। টান দিয়ে মৌকে বুকে টেনে নিলাম। শক্ত করে জড়িযে ধরলাম। মৌ আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। মৌ এর চোখের পানিতে শার্ট ভিজে যাচ্ছে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। তবুও কেঁদে যাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ল রাইসার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করার কথা। সাথে অসুস্থ অবম্থায় মৌ আর সাইফের কথা। পারলাম না বুকে রাখতে মৌকে এক ধাক্কায় বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে বললাম’ ক্ষমা করো আমায়। তোমাকে ভালোবাসা যায় বুকে নেওয়া যায় না।’ আর বিয়ে আগামী সপ্তাহে কথাকেই করবো।

– মৌ আমার কথাটা শুনে দু’পা ঝাপটে ধরে বলল’ রাজ প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেয়ো না আমি তোমাকে ছাড়া কিভাবে বাঁচবো বলো? আমাকে আর কতো কষ্ট দিবে? আমি কেন আমার লাশটাও তোমার বিয়ে দেখতে পারবে না। সত্যি আমার প্রতিটা রক্তকণিকায় তুমি মিশে গেছ। আমার ভালোবাসা, আমার স্পদন আমার নিঃশ্বাস সবটাই তুমি! আমাকে ছেড়ে যেয়ো না।

– মৌ কি করছ তুমি? প্লিজ পা ছাড়ো।
– না পা ছাড়বো না। যতক্ষণ না আমাকে ক্ষমা করে বুকে টেনে না নিবে?
– পাগলামী করো না। তুমি জানো তোমার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। যা ছিলো তুমিই নষ্ট করেছো।
– রাজ প্লিজ এভাবে বলো না।
– মৌ তুমি পা ছাড়ো বলছি। রাইসা ঘুমাচ্ছে। জেগে গেলে মন খারাপ করবে।
– তুমি যতক্ষণ না আমাকে তোমার বুকে নিবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার পা ধরেই থাকবো। রাজ তুমি কি বাসর রাতের কথা ভুলে গিয়েছ? আমার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করেছিলে না, যে আমাকে ছেড়ে কখনো যাবে না। তবে এখন কেন দূরে সরিয়ে দিচ্ছ। আমাকে কেন মায়ের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছ। আমাকে কেন তোমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছো। তোমার ভালোবাসা থেকে কেন বঞ্চিত করছ। এতোটে অভাগী কি আমি?

– হাসালে! আচ্ছা বলো তো, অসুস্থ স্ত্রীকে রেখে আমি কি অন্য কোন মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করেছি? নাকি নিজের মেয়েকে বিয়ের স্টেজে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছি? তুমি চাচ্ছো মায়ের অধিকার? জানো জন্ম দিলেই মা হওয়া যায় না। মা হতে গেলে মায়ের দায়িত্বটা ঠিকভাবে পালন করতে হয়। আর তুমি? ছোট্ট মেয়ে যখন আমার মাথায় জলপট্টি দিতে ব্যস্ত তখন তুমি অন্য পুরুষের কাছে নিজের সতিত্ব বিলাতে ব্যস্ত। আমার কি অপরাধ ছিল? আমার ছোট্ট মেয়েটার কি অপরাধ ছিল? হ্যাঁ আমার অপরাধ ছিল আমি পঙ্গু ছিলামম। সরি ল্যাংড়া ছিলাম। হয়তো তোমার চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারতাম না। তবে কি জানো বড্ড বেশি ভালোবাসতাম তোমাকে। নিজের জীবনের থেকেও। আমার মেয়েটাও তোমাকে অনেক ভালোবাসতো। ক্র্যাচে ভর করে তোমার বিয়ে ভাঙতে নিয়ে গিয়েছিল আমাকে। চেয়েছিল তার মা টা যেস তাকে ছেড়ে না যায়। কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছে, একবুক কষ্ট বাবার অপমান। নিজের চোখে দেখে মায়ের মৃত্যু। জানো আমার মেয়েটা কথাকে কেন লাল টুকটুকে শাড়ি পড়তে বলেছিল? কারণ তোমার জন্য। সেদিন তোমাকে লাল শাড়িতে দেখে আমার ছোট্ট রাইসার কলিজাতেও রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এখন্র কি বলবে, তুমি রাইসা মায়ের অধিকার চাও? তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি। এ জীবনে আর হয়তো আর কাউকে জায়গা দিতে পারবো না। হয়তো রাইসার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করার জন্য কথাকে বিয়ে করব। কিন্তু ভালোবাসতে পারবো না। ভালোবাসাটা তোমার জন্য ছিল তোমার জন্যই থাকবে। তবে তোমার এই নষ্টা শরীরের জন্য নয়। আর হ্যাঁ তুমি যদি আর কোনদিন এসব কথা বলো, আবার তোমাকে বিয়ে করতে বলো, তাহলে আমার মরা মুখ দেখবে। প্লিজ তুমি চলে যাও।
– মৌ চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল’ রাজ, আমার কলিজার টুকরা। আমি চলে যাচ্ছি। তবে মনে রেখো, তুমি যদি কথাকে বিয়ে কর। তাহলে তোমার যখন ফুলশয্যা হবে তখন আমার দাফন হবে। কসম করে বলে গেলাম। হ্যাঁ আমি আগে বুঝতে পারিনি তুমি আমার জীবনে কি ছিলে। এখন বুঝতে পারছি আমার বেঁচে থাকার অক্সিজেনটাই তুমি। আর তুমি যদি হারিয়ে যাও তাহলে আমি কাককে নিয়ে বাঁচবো। তাই নিজের জীবন দিয়ে আমার পাপের প্রায়শ্চিত করে যাবো। আসি কলিজার টুকরা। আমায় একটু শেষবারের জন্য বুকে নিবে? আমার বুকের ভেতরটা পুড়ে ছার-খার হয়ে যাচ্ছে। নাও না বুকে।
.

আমি কিছু বলতে পারছি না। বুকে ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কলিজাটা মনে হয় বেরিয়ে আসবে।
– কি হলো? আর তো কোনদিন বলবো না বুকে নাও আমাকে। আজকে শেষবারের জন্য বলছি বুকে নাও আমাকে। মানুষ মরে যাওয়ার আগে যেমন শেষ ইচ্ছা পোষণ করে। আমার শেষ ইচ্ছাটা পূরন করো। আমাকে নাও না শুধু একবার বুকে।
.
আমার মন চাচ্ছে মৌকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বলি কোথাও যেতে দিবো না তোমায়। কিন্তু আমার মুখ দিয়ে কোন কথা আসছে না। আমি কিছু বলার আগেই মৌ আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। মনে হচ্ছে প্রাণ ফিরে পেল। এভাবে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখলে আর ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করলাম না। আজকের পর হয়তো কথাটাও বলতে পারবে না। আর হয়তো দেখাও হবে না।

– অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকার পর মৌ আমাকে ছেড়ে দিয়ে এক দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করছে। চোখের পানি মৌ থাকতে ধরে রাখতে পারলেও মৌ চলে যাওয়ার পর আর ধরে রাখতে পারিনি। চোখের পানি যেমন বুকের ভেতরটা ধুমড়ে মুচড়ে বের হচ্ছে। কলিজা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। রাতে আর ঘুমাতে পারলাম না। নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম। মহান আল্লাহর কাছে এ মহাবিপদ থেকে আশ্রয় চাইলাম।

-সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতেই কারো ঊষ্ণ ছোঁয়া পেলাম। কেউ একজন শক্ত করে জড়িয়ে ধরে পাশেই শুয়ে আছে। ভয় পেয়ে গেলাম। চেয়েই দেখি কথা। কখাকে দেখে সাপ দেখার মতো ভয় পেয়ে গেলাম। তুতলাতে তুতলাতে বললাম তুমি! তুমি এখানে কিভাবে? আমি তো রাত্রে বেলা দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়েছি। তুমি ক্যামনে আসলে?

– কেন আবার তোমার ভালোবাসায় মন্ত্র মগ্ন হয়ে। জড়িয়ে নিলাম ভালোবাসার ঊষ্ণ চাদরে।
– কথা প্লিজ মজা করো না। দরজা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তুমি কিভাবে আসলে?
– এই তুমি ভয় পেয়ে যাচ্ছো কেন? আগে একটা মিষ্টি দাও। তারপর বলছি কিভাবে আসছি।

– মহা করো না তো।
– বুঝছি তুমি দিবে না। আমাকেই দিতে হবে। তোমার ওষ্ঠদ্বয়ে আমার ওষ্ঠধর জোড়া লাগিয়ে পান করিবো তোমার ভালোবাসার সুধা।
– কবি হলে, কথাটা বলার আগেই কথা তার ঠোঁট জোড়া মিলিয়ে দিল। আমি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতেই। রাগি একটা ভাব নিয়ে বলল, লজ্জা আমার পাওয়ার কথা আর লজ্জা পাও তুমি। আজ বাদে কাল তো বিয়ে তখন কি করবা তখন তো তোমার —

– কথা প্লিজ এখনো বিয়ে হয়নি। সো এসব করা ঠিক না। বলো রুমে কিভাবে আসলা?
– ধ্যাত তুমিও না মশায়। আচ্ছা শোন, আমি তোমার বাসার সামনে এসে ফোন করেছিলাম। তুমি মন ধরনি। আমার মেয়ে ধরেছিল। আর আমার রাইসায় খুলে দিয়েছে দরজা।

– তাই বলে তুমি এমন করবে?
– হঠাৎ করে রাইসা রুমে প্রবেশ করেই মুখ ধরে হাসতে লাগল।
– মামনি হাসতেছো কেন?
– বলা যাবো না।
– বলো না, আমার মা টা কেন হাসছে?
-তোমার ফোনটা দাও বলছি।
– আমি ফোনটা রাইসাকে দিতেই রাইসা ফোনটা নিয়ে বলল ‘বাবাই স্মাইল প্লিজ। ‘
– মেয়েকে খুশি করতেই, হাসিটা দিলাম। ফটো কিক করার সাথে সাথেই কথা আর রাইসা একতালে হেসে দিল।
– কি হলো তোমরি হাসছো কেন?
– বাবাই তুমি লিপিস্টিক দিয়েছো, তোমার ঠোঁটে। খুব সুন্দর লাগছে। বলে আবারো হেসে দিল। এবার কথার উপর রাগ হলো। মেয়েটার লজ্জা বলতে নেই। আমি যা ভাবতেও পারি না। উনি সাহেবা তা করে দেখান। তাড়াহুড়া করে ওয়াশরুমে চলে যায়।
– ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখি রাইসা আর কথার কি সুন্দর কেমিস্টি।

– বাবাই তুমি রেডি হও। তোমাকে নিয়ে শপিং করতে যাবো।
– মামনি আমার তো টাকা নাই। টাকা কে দিবো?
– পাশ থেকে কথা বলল’ মামনি তোমার বাবাইকে বলো টাকা তুমি দিবা।’
– রাইসা কথার কথা মতো বলল’ বাবাই তোমার শপিং তোমার এ মা টা করে দিবে। ‘
– আচ্ছা তাহলে তো আর দেরী করা যায় না।

– এদিকে শপিংয়ে যখন বের হবো এমন সময়। কথা মৌকে নিয়ে আসে।
-শপিং করা শেষ হলে দুপুরে যখন রেস্টুরেন্টে খেতে বসি এমন সময় রাইসা কথাকে খাইয়ে দিতে বলে। বাধ্য হয়ে কথাকে খাইয়ে দেয়। মা মেয়ে মিলে আমাকে খাইয়ে দেয়। এদিকে মৌ এর দিকে চেয়ে দেখি,মৌ খাচ্ছে না। চোখের পানি টলমল করছে। মৌ এর চোখের পানি আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করে। খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই মৌ বলল তার তাড়া আছে। যেতে হবে। কথাকে বলে চলে গেল। এদিকে বিকেলে শপিং শেষ করে যখন বাসায় আসি। তখন সাথে কথাও আসে। কথা সন্ধা পর্যন্ত বাসায় থেকে চলে যায়। এ দিকে সপ্তাহ খানেক পরেই কথার সাথে বিয়ে। বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসছে । প্রতিটা দিন যাচ্ছে। মনের যন্ত্রণা দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে। জানি না কি করবো । এদিকে এশায় নামায পড়ে যখন শুয়ে পড়বো। এমন সময় ফোনটা বেজে ওঠলো। ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে কে যেন বলল’ আপনি কি রাজ? মৌ সুসাইড করতে গিয়েছিল। জানি না বাঁচবে কি না। আপনি একটু আসেন।

-চলবে””””

বি:দ্র: ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।