বাবার_ভালোবাসা।
পর্ব:২২
লেখা:রাইসার_আব্বু।
মৌ এর চোখের পানি আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করে। খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই মৌ বলল তার তাড়া আছে। যেতে হবে। কথাকে বলে চলে গেল। এদিকে বিকেলে শপিং শেষ করে যখন বাসায় আসি। তখন সাথে কথাও আসে। কথা সন্ধা পর্যন্ত বাসায় থেকে চলে যায়। এ দিকে সপ্তাহ খানেক পরেই কথার সাথে বিয়ে। বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসছে । প্রতিটা দিন যাচ্ছে। মনের যন্ত্রণা দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে। জানি না কি করবো । এদিকে এশায় নামায পড়ে যখন শুয়ে পড়বো। এমন সময় ফোনটা বেজে ওঠলো। ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে কে যেন বলল’ আপনি কি রাজ? মৌ সুসাইড করতে গিয়েছিল। জানি না বাঁচবে কি না। আপনি একটু আসেন।
– ফোনটা পেয়ে আমি আর একমূহুর্ত দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। মৌ এর কিছু হয়ে গেলে নিজেকে কিভাবে ক্ষমা করবো? খুব কষ্ট হচ্ছে। রাতেই চলে গেলাম মৌ এর ওখানে। গিয়ে দেখি মৌ বিছানায় শুয়ে আছে।
– আমি যেতেই মৌ এর পাশে বসে থাকা মেয়েটা বলল’ আপনিই কি সেই রাজ? যার জন্য মৌ আপু মরতে বসেছিল? আর একটু পর যদি আমি আসতাম তাহলে হয়তো মৌকে আর দেখতে পেতেন না এভাবে। ভাইয়া মৌ আপু সত্যি আপনাকে ভালোবাসে বড্ডবেশি ভালোবাসে। আমি আসি আপনারা কথা বলেন।
– মেয়েটা চলে গেলে, মৌকে বললাম’ মরতে গিয়েছিলে কেন?
– মৌ কোন কথা বলছে না শুধু কান্না করছে।
– কি হলো কান্না করছো কেন?
– রাজ যে জীবনে তোমাকে পাবো না সে জীবন দিয়ে কি করবো?
– প্লিজ মৌ পাগলামি করো না।
– আচ্ছা আমায় একটু বুকে নিবে?
– আর কোনদিন নিতে বলবো না। সুসাইড ও করতে চাইবো না।
– আমি কিছু বললাম না।
আমার নীরবতাকে মৌ সম্মতি ভেবে নিল।
– মৌ আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল।
– আমি মৌকে জড়িয়ে নিতে চেয়েও কেন যেন পারলাম না।
– মৌ কিছুক্ষণ জড়িয়ে রেখে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল’ রাজ তুমি আমার বাসায় আসলে কিছু খেয়ে যাবে না?
– মৌ বাসায় রাইসা একা। ওকে না বলেই আসছি। আমার যেতে হবে।
– আচ্ছা চলেই যাবে। আঁকটানোর কোন ক্ষমতা আমার নেই। যাওয়ার আগে এই অভাগীর হাতে একগ্লাস শরবত খেয়ে যাও।
– আচ্ছা নিয়ে আসো।
– মৌ এক গ্লাস শরবত এনে আমার হাতে দিল। আমি এক নিঃশ্বাসে খেয়ে নিলাম।
– আচ্ছা আসি, আর শোন পাগলামী করো না কেমন?
– আচ্ছা তুমি সুখী হলেই আমি সুখী। আচ্ছা আর ক্ষানিকক্ষণ বসো না?
– না রাইসা একা ভয় পাবে।
– বসো তো দশমিনিট।
– আমি বিছানায় বসতেই শরীরটা কেমন করতে লাগল। মৌ বিছুক্ষণ পর এসে আমার জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল। মৌকে সরাতে পারছি না। তারপর আর কিছু মনে নেই। সকাল বেলা সূর্যের আলো ভেদ করে যখন মুখে পড়ল। তখন ঘুমটা ভেঙে গেল। আমি চোখ খুলে তাকাতেই দেখি, ড্রেসিংটেবিলের সামনে মৌ তার ভেজা চুলগুলো আঁচড়াচ্ছে। আমার উঠা দেখে মৌ তাড়াহুড়া করে আমার কাছে আসল।
– মৌ আমি তোমার কাছে রাত্রে এসেছিলাম না?
– হ্যাঁ,!
– তো আমি সারারাত তোমার এখানে থাকলাম কেমনে?
– আর বলো না রাত্রে শরবত খেয়ে তুমি বললে তোমার শরীর খারাপ লাগছে। বিছানায় বসেই ঘুমিয়ে গেলে। আর সারারাত সজাগ পাওনি। আমি ডাকতে চেয়েও ডাকিনি।
– কেন ডাকনি?
– তোমার কষ্টে হবে ভেবে।
– ধ্যাত তুমি ডেকে দিবে না? আচ্ছা এখন আমি আসি।
– মৌ এর বাসা থেকে বের হয়ে সোজা বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে দেখি, রাইসা কথাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।
– আমাকে দেখেই রাইসা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল’ বাবাই ও বাবাই তুমি সারারাত কোথায় ছিলে?
– তুমি জানো না তোমাকে না দেখলে আমার কত কষ্ট হয়?
– বাবাই আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যেয়ো না।
– হুমম মা কোথাও যাবো না। তুই যে আমার মা। কান্না করো না মা আমায়।
– বলো আর কোথাও আমাকে না বলে যাবে না?
– হ্যাঁ যাবো না মা কথা দিলাম।
– রাজ সারারাত কোথায় ছিলে?
– জানো রাত ১১ টায় রাইসা যখন ফোন দিয়ে কান্না করে করে বলল’ মামনি বাবাই কোথায় যেন চলে গিয়েছে। ‘ জানো এতো রাতে আমার আসতে হইছে। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। তোমার যদি কিছু হয়ে যেত আমার বি হতো? এদিকে তুমি তোমার ফোনটাও নেওনি। কোথাও ছিলে সারারাত?
– আর বলো না আমার এক ফ্রেন্ড একসিডেন্ট করেছিল। ব্লাড লাগতো। তাই ব্লাড দিতে গিয়ে আর ওর অবস্থা দেখে আসতে পারিনি।
– কথা আমার কথা শুনে আর কিছু বলল না। আমি ইচ্ছা করেই সত্যটা লোকালাম কথা মৌ এর বাসায় থাকার কথা শুনলে আরো গন্ডগোল লাগবে।
-বাবাই তুমি রাতে খেয়েছো?
– না মামনি তুমি খেয়েছো?
– না, খায়নি। তুমি আমাকে না বলে চলে গিয়েছিলে।
– সরি মামনি।
– মামনি তুমি বাহিরে যাও তো।
– কেন মম?
– তোমার বাবাই এর সাথে কথা আছে।
– আচ্ছা ।
– রাইসা চলে গেলেই, কথা বলল, তুমি আমাকে না বলে কোথাও যাবে না। জানো সারারাত কত কান্না করছি?
– আরে কান্না করার কি আছে?
– যদি তোমার কিছু হয়ে যেত। জানো কত সাধনা করে পেয়েছি তোমায়? তুমি আমার সাত রাজার ধন।
– ধূর আমার কি হবে। আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি?
– হ্যাঁ ছোট্ট বাচ্চায়।
– অ্যা বললেই হলো?
– আচ্ছা সারারাত আমাকে কান্না করিয়াছ। এর শাস্তি ভোগ করো।
– শাস্তি!”
হুম শাস্তি।
– বারে আমার ভয় লাগছে। তোমার শাস্তির কখা শুনে। আচ্ছা বলো কি শাস্তি দিবে?
– কাছে আসো বুঝাচ্ছি কি শাস্তি।
– কাছে যাওয়া বারন আমার ভয় লাগে।
– বলছি কাছে এসো।
– না।
– তবেরে আসতে হবে না বলেই কথা আমাকে বিছানায় ফেলে দিল। বিছানায় ফেলে দিয়েই কথার ওষ্ঠদ্বয় আমার ঠোঁটের সাথে লাগিয়ে দিল। আমি কিছু বলতে পারছি না। মুখখানা বন্ধ। আর খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। এভাবে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকার পর কথাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম।
– রাজ তুমি ধাক্কা দিলে কেন?
– কথা তুমি যা করছ এটা বিয়ের আগে ঠিক না।
– আমি ঠিক বেঠিক বুঝি না আমি শুধু জানি তুমি আমার।
– কথা বিয়ের আগে আমি এসব পছন্দ করি না । তুমি ক্ষমা করে দিয়ো আমায়।
– হুম আমার কলিজার টুকরা বিয়ের পর তো আর কিছু বলতে পারবে না। আর তো কয়েকটা দিন।
– হুম ততদিন অপেক্ষায় থাকো। তাও এভাবে হামলা করো না।
– এদিকে দেখতে দেখতে কথা আর আমার বিয়ের দিন এসে পড়ে। অফিসের বন্ধু আর বান্ধবীদের নিয়ে কথাদের বাসায় যাচ্ছি। রাইসা আমার কুলে বসে আছে। রাইসা আজ খুব সুন্দর করে সেজেছে।
– বিয়ে বাড়িতে গিয়েই রাইসা কথার কাছে চলে যায়।
.
মামনি আজ তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে তাই বুঝি মামনি?
– হুম মামনি অনেক অনেক সুন্দর লাগছে।
– আচ্ছা মামনি আমাকে পড়ে ভুলে যাবে না তো?
– কথা রাইসার কপালে চুমু দিয়ে বলে। তুই তো আমাে রাজকন্যা। তোকে ভুলে থাকতে পারবো না রে মা। তুই আমাদের নয়নের মনি।
– আচ্ছা! তুমি থাকো আমি বাবাই এর কাছে যায়।
– রাইসা কথার কাছ থেকে এসে আমার কাছে এসে বসল। কাজি সাহেব এসে বাবা-মায়ের নাম জিজ্ঞেস করছে এমন সময় কথা এসে বলল ‘ দাঁড়ান কাজি সাহেব। এমন চরিত্রহীন ছেলের সাথে আমার বিয়ে হতে পারে না।
– কনের মুখে এমন কথা শুনে বিয়ে বাড়ির সবাই চমকে ওঠে।
– আমি স্টেজ থেকে উঠে এসে বললাম’ কথা কি হয়েছে? অপমান করার জন্য এতো আয়োজন করছ?
– এই কুত্তা আমার নাম ধরে ডাকার যোগ্যতাও তোর নেই।
– কি বলছো এসব? তুমাকে বিয়ে করতে জোর করিনি। আমাকে বিয়ে না করলে এমনেই বলো। প্লিজ মেয়ের সামনে চরিত্রহীন বলো না।
– কথা বিয়ে বাড়ির সবার সামনে, আমার গালে ঠাস-ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয়। সবাই ভিডিও করতে ব্যস্ত লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে। কি এমন অপরাধ করছি। যার জন্য, আমাকে এত অপমানিত হতে হচ্ছে । ম্যাডাম প্লিজ বলেন কি হয়েছে। আমি কি অপরাধ করছি বলেন?
– কথা এবার আরো বেশি রেগে গিয়ে বলল, আবারো চড় লাগিয়ে দিল! এই দেখ চরিত্রহীন। তোর আর মৌ এর ন্যুড! কুত্তা তুই যদি কোন দিন আমার সামনে আসিস তকে খুন করে ফেলব। তুই আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছিস।আমার স্বপ্নগুলো ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিস।
– কি বলছ এসব?
– কথা আমার মুখের উপর কয়েকটা ছবি ছুড়ে মারল।
– ম্যাডাম বিশ্বাস করেন আমি এসব কিছু করিনি।
– তাই না, মৌ আপু নিজে বলেছে তুই ওকে ব্ল্যাকমেল করে এমন করছিস। লজ্জা করে না এসব করতে।
– ম্যাডাম প্লিজ বিলিভ মি। আমি কেমন তা তো আপনি জানেন।
– হঠাৎ নিলয় এসে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে বলল’দাঁড়া তোর বিয়ের সখ মিটাচ্ছি ।
– রাইসা দৌঁড়ে গিয়ে কথার পা জড়িয়ে ধরে বলল’ মম বাবাইকে ওই লোকটা মেরে ফেলবে। মম তুমি না করো না। তারা যেন না মারে, আমার বাবাইকে। আমার বাবাই ভালো। মম তুমি না বাবাইকে বিয়ে করবে। বলো না বাবাইকে যেন না মারে বাবাই তো মরে যাবে। মম তোমার পায়ে ধরে বলছি বাবাইকে বাঁচাও।
– কি বললি? কুত্তার বাচ্চা আমি তোর মম? কোন দুশ্চরিত্রের মেয়ের মা আমি হতে পারি না। কোন পতিতার মেয়ে, এসে আমাকে মা ডাকছে। যত্তসব। এই বলে কথা রাইসাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। রাইসা এসে ঠিক আমার পায়ের কাছে পড়ল।
চলবে???
বাবার_ভালোবাসা
পর্ব:২৩
লেখা:রাইসার_আব্বু।
– হঠাৎ নিলয় এসে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে বলল’দাঁড়া তোর বিয়ের সখ মিটাচ্ছি ।
– রাইসা দৌড়ে গিয়ে কথার পা জড়িয়ে ধরে বলল’ মম বাবাইকে ওই লোকটা মেরে ফেলবে। মম তুমি না করো না। তারা যেন না মারে, আমার বাবাইকে। আমার বাবাই ভালো। মম তুমি না বাবাইকে বিয়ে করবে। বলো না বাবাইকে যেন না মারে বাবাই তো মরে যাবে। মম তোমার পায়ে ধরে বলছি বাবাইকে বাঁচাও।
– কি বললি? কুত্তার বাচ্চা আমি তোর মম? কোন দুশ্চরিত্রের মেয়ের মা আমি হতে পারি না। কোন পতিতার মেয়ে, এসে আমাকে মা ডাকছে। যত্তসব। এই বলে কথা রাইসাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। রাইসা এসে ঠিক আমার পায়ের কাছে পড়ল। নীলয়ের সাথে, আরো কয়েকজন কথার বন্ধু এসে মারতে লাগল। রাইসা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল’ আপনারা আমার বাবাইকে মারবেন না। জানেন না আমার বাবাই ছাড়া আমার আর এই পৃথিবীতে কেউ নেই। একটা মা ছিল, সে চলে গেছে। আপনারা আমাকে মারেন তাও আবার বাবাইকে মারবেন না। বাবাইকে মারলে আমি মরে যাবো। সবাই মারা বাদ দিয়ে দাড়িয়ে আছে সবাই রাইসার কথা শুনে নীস্তব্ধ হয়ে গেছে।
.
আমি রাইসাকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছি। ঠিকমতো উঠে দাঁড়াতে পারছি না। রাইসাকে নিয়ে কোন মতো উঠে দাঁড়ালাম। কথার দিকে তাকিয়ে দেখি কথার চোখ নিয়ে অগ্নি স্ফুলিংঙ্গ বের হচ্ছে। মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই আমাকে ধ্বংস করে ফেলবে। রাইসাকে নিয়ে যখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাচ্ছি। এমন সময় কথার বাবা ডাক দিয়ে বলল’ কি হলো, জামাই বাবাজি কোথায় যাচ্ছো? আর তোমরা আমার জামাই বাবাজীকে এভাবে মারলে কেন? আর রাইসাকে এভাবে মেরেছে কেন? ছোট্ট মেয়েটাকে এভাবে কেউ মারে? রাইসা দৌড়ে কথার বাবার কাছে চলে গেল। রাইসার কান্ড দেখে অবাক হয়ে গেলাম।
.
নানু ভাই, দেখ পঁচা আঙ্কেলরা আমার বাবাইকে মেরেছে। আমার বাবা কী খারাপ হতে পারে? তুমি সবাইকে ইচ্ছতে বকে দাও তো। আর সবাইকে বলো বাবাই এর কাছে সরি বলতে। তাই বুঝি। এই নাজমুল দরজাটা লাগিয়ে দে তো, আর হ্যাঁ জামাই বাবাজীর জন্য একটা গাড়ি রেডি রাখ। জামাইকে তো আর এভাবে পাঠাতে পারি না। নাজমুল যখন দরজা বন্ধ করে ফেলল, রাইসা অবাক হয়ে গেল। কি হচ্ছে বুঝতে পারছে না।
.
আর হ্যাঁ জামাই বাবাজী, খুব সুন্দর মাস্টার প্ল্যান করেছিলে। আর মেয়েটাকে মাশাল্লাহ্ অনেক বড় অভিনেত্রী বানিয়েছো। তা না হলে সবার মন জয় করে নেয় ক্যামনে। আমার মেয়েটাকে বিয়ে করে সব সম্পত্তি তোমার করে নিতে চেয়েছিলে। কিন্তু পারিনি। তোমার সব গোঁমড় ফাঁস হয়ে গেছে। আর এই যে কথা মামনি, তোমাকে বলেছিলাম না যা করো ভেবে করো। এসব ছোটলোকের বাচ্চা সুঁচ হয়ে ঢুকে ফাঁল হয়ে বেরিয়ে যায়। ভাগ্যিস বিয়ের আগে ভিডিওটা হাতে পেয়েছি।
.
আঙ্কেল আপনার এ সম্পদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র চাহিদা নেই। আপনার মেয়েই জোর করে বিয়ে করতে চেয়েছিল। আর আপনাদের কাছে যে ভিডিও সেটা আমি না। আমি এসবের কিছুই জানি না। আর কথা প্লিজ বিলিভ করো, তুমি তো জানো আমি কেমন?
.
কথা আমার কাছে এসে ঠাস করে গালে চড় বসিয়ে দিয়ে বলতে লাগে ‘ কিরে কুত্তা সেদিন হসপিটালে ছিলি? নাকি সারারাত মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করছিস? আর ভিডিও কি এডিট করা যায়। তোর মতো কুত্তা আমার পায়ের স্যান্ডেল এর যোগ্য না। তুই আর তোর মেয়ে দু’টাই চরিত্রহীন। কোন জানি পতিতার গর্ভে তোর মেয়ের জন্ম!
– কথা আর একটা কথাও না। আমাকে নিয়ে বলো, আমার রাইসাকে নিয়ে একটা কথা বললেও তোমার অস্তিত্ব রাখবো না।
তাই বুঝি নষ্টা মেয়েকে নিয়ে এতো কথা।
– ঠাস! অনেক সহ্য করেছি আর না। আমার কলিজার টুকরাকে নিয়ে আর একটা কথা বললে, তোর মতো হাজার কথাকে খুন করতে আমার হাত কাঁপবে না। আমার কলিজা ধরে টান দিয়েছিস।
– তাই বুঝি চরিত্রহীনের মুখে কথা ফুটেছে। চরিত্রহীনের মেয়ে বড় হলে পতিতা হবে। তুই তোর মেয়ে দিয়ে আমাকে ফাঁসাইছর। তোর মুখটা দেখলে আমার ঘৃণা লাগে।
– কি বললি, রাইসা পতিতা হবে? কথার গালে ঠাসঠাস করে চড় লাগিয়ে দিলাম। কেউ কোন কথা বলছে না। কথা চড় খেয়ে মাটিতে পরে গেছে।
.
এই নাজমুলেরা তোরা দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিস? হারামিটাকে আদর করে দিয়ো আসই। এদিকে নিলয় প্রথমেই এসে লাথি দিয়ে আবারো ফেলে দিল। এলোপাতাড়ি মারতেছে। কথা চিৎকার পেরে কান্না করছে। আর বলছে তোমরা আমার বাবাইকে মেরো না। আর মেরো না। আল্লাহ সব দেখছে। আমি কিন্তু আল্লাহকে বিচার দিবো। মেরো না কি হলো বাবাইকে মেরো না।
– এদিকে, কথা বারবার বলছে, কুত্তাটাকে মার মারতে মারতে মেরে ফেল। আমার ভালোবাসার সাথে প্রতারণা করেছে।
– রাইসা কথাকে গিয়ে অনুনয় বিনয় করে বলে ‘ মম এবার না করো না। বাবাইতো মরে যাবে। তুমি না বলেছো আমার বাবাইকে কখনো কষ্ট দিবে না? দেখো বাবাই এর শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। বাবাইকে মারতে না করো। ও মামনি বলো না।
– এই চুপ কর, কে তোর মম? আমি তোর মম না। মম ক্যামনে হলাম?
– বা’রে তুমিই তো বলেছিলে? আমার মম হবে। আমার বাবাইকে বিয়ে করবে। কিন্তু এখন কেন কষ্ট দিচ্ছো বাবাইকে?প্লিজ সবাইকে বলো তারা যেন বাবাইকে না মারে। এই এই আপনারা বাবাইকে মারবে না! আমার বাবাইতো মরে যাবে। রাইসা নিলয় এর পায়ে জড়িয়ে ধরে বলল’ আঙ্কেল আর না, অনেক মারছেন আমার বাবাইকে আর মারবেন না। প্লিজ এবার থামেন। নিলয় রাইসাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। রাইসা এবার দৌড়ে গিয়ে কথার দু’পা জড়িয়ে ধরে বলল ‘ ও ম্যাডাম আর কোনদিন মম ডাকবো না। আমার বাবাইকে ছেড়ে দেন। ছেড়ে দেন প্লিজ। বলেন না আর যেন না মারে। আমার বাবাই এর কিছু হয়ে গেলে কে আমাকে ঘুম পাড়াবে? কে আমাকে খাইয়ে দিবে? কে আমাকে মা বলে ডাকবে? আমার বাবাই আমাকে অনেক ভালোবাসে। কে আমাকে ভালোবাসবে। ম্যাডাম আমরা এ শহর ছেড়ে চরে যাবো। আমার বাবাইকে ছেড়ে দেন। একটু দয় করেন। কথার বাবা কথার পা থেকে রাইসাকে ছাড়িয়ে গালে কষে চড় বসিয়ে দিল। চড় খেয়ে রাইসা পড়ে গেল। নাক ফেটে রক্ত পড়ছে। নাকের রক্ত হাতে নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে ‘ ও আল্লাহ তুমি নাকি সব দেখো? তুমি না সর্বশক্তিমান। তুমি দেখো না আমার বাবাইকে মারছে। তুমি আমার বাবাইকে বাঁচাও। এই যে দেখো আমার নাক ফেঁটে রক্ত বের হচ্ছে।ও আল্লাহ আমি মন খারাপ করিনি। তোমার কাছে অভিযোগ করিনি। তুমি আমার বাবাইকে বাঁচাও। দেখতেছো তুমি? এখানে কেউ আমার কথা শুনে না ছোট বলে, তুমিও কি শুনবে না? তুমি না সবার কথা শুনো? ও আল্লাহ আমি ছোট মানুষ। কাউকে আঁকটাতে পারি না। সবাই লাথি মেরে ফেলে দেয়। তুমি ছাড়া আমার বাবাইকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। তুমি বাঁচাও বাবাইকে। তুমি জানো না আমার বাবাই ছাড়া আর পৃথিবীতে কেউ নেই। তুমি যদি বাবাইকে না বাঁচাও তাহলে আমাকেও নিয়ে নাও। কি হলো? দেখো না আমি কাঁদছি। ও আল্লাহ দেখ বাবাইকে মেরে ফেলছে ওরা। দেখ আমার বাবাই এর মুখ দিয়ে রক্তবের হচ্ছে।
– রাইসার কথা শুনে কথা আর চুপ থাকতে পারল না। সবাইকে বলল ‘ থাম তোমরা। অনেক হয়েছে। ছেড়ে দাও। জীবনে বেঁচে থাকলো কারো সম্পত্তির প্রতি লোভ করে কোন মেয়ের জীবন নষ্ট করবে না। আর এক কাজ করো, অ্যাম্বুলেন্স করে হসপিটাল পাঠিয়ে দাও। মরে গেলে আবার বেজাল হবে।
.
কথার বাবা একটা অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হসপিটাল পাঠিয়ে দিল। রাইসা অ্যাম্বুলেন্সে করে হসপিটালে যায়। ডাক্তার যখন রাজকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায় তখন রাইসা দরজায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে।
– এদিকে ডাক্তার কণা এসে দেখে বাচ্চা একটা মেয়ে অপারেশন থিয়েটারের বাইরে কাঁদছে। কণা রাইসার দিকে তাকিয়ে দেখে সত্যিই একটা রাজকন্যা। মনে হচ্ছে চোখ থেকে মুক্তো ঝড়ে পড়ছে। বাচ্চা মেয়েটার নাক দিয়ে রক্তও পড়ছে, কিন্তু সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। ডাক্তার কণা কোন কিছু না ভেবেই বলল ‘
এই যে বাবু তুমি কাঁদছো কেন? তোমার কি হয়েছে?’
.
আন্টি আমার বাবাই এই বলে আরো জুরে কান্না করে দেয়।
.
কি হয়েছে মামনি বল তোমার বাবাই এর কি হয়েছে?
.
বাবাইকে সবাই মেরেছে। এমন সময় নার্স এসে বলল ‘ ম্যাডাম অাপনি যার অপারেশন করবেন, সে রোগীর মেয়ে এটা।
ও আচ্ছা আর কেউ আসেনি?
.
ম্যাডাম আমার বাবাই এর আমার ছাড়া আর কেউ নেই। আর আমারো বাবাই ছাড়া কেউ নেই। বাবাই এর কিছু হয়ে গেলে আমি বাঁচবো না। কাঁদত কাঁদতে।
.
কিছু হবে না মামনি। তোমার তো নাক ফেটে রক্ত পড়ছে। তোমার নার্স আন্টির সাথে যাও, ড্রেসিং করে দিবে ।
.
না বাবাইকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। আমার বাবাই ভয় পাবে।
.
ডাক্তার কণা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে লেট হয়ে যাচ্ছে। তাড়াহুড়া করে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে যায়। ভেতরে গিয়ে দেখে নির্মম ভাবে পিটিয়েছে। বিশেষ করে মাথায় ক্ষতটা বড়। অপারেশন করে ডাক্তার কণা বের হতেই দেখে এখনো রাইসা দাড়িয়ে আছে। রাইসাকে কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না রাজের অবস্থা বেশি ভালো না। অনেক ব্লাড গেছে। বাঁচার সম্ভাবনা কম। ছোট্ট মেয়েটাকে বিভাবে বুঝাবে। আর ভাবতে পারছে না কণা, মানুষ মানুষকে এভাবে পেটাতে পারে?
.
রাইসা ডাক্তারকে দেখেই বলল’ম্যাডাম বাবার অবস্থা কেমন? আমার বাবা আমার সাথে কথা বলবে তো?
.
হুম মামনি বলবে, তবে তোমার বাবার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো। তিনি সব পারেন।
রাইসা ডাক্তারের কথা শুনে ””
চলবে”””