বিস্বাদপূর্ণ জীবনে তুমি পর্ব-১২

0
511

#বিস্বাদপূর্ণ জীবনে তুমি
#পর্বঃ১২
#লেখিকাঃশুভ্রতা_শুভ্রা

রিয়া শাড়ি কুচি ঠিক করতে করতে রেহানের সামনে এসে দাড়ালো। রেহান হা করে রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে কালো শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগছে রিয়াকে। রিয়ার দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে রেহান। রিয়া রেহানের মুখের সামনে তুরি বাজিয়ে বলল

“আমাকে দেখা বাদ দিয়ে যান রেডি হয়ে আসেন।”

রিয়ার কথায় রেহানের হুশ ফিরলো ও মাথা চুলকে চলে গেলো রেডি হতে। রিয়া চলে যায় ওর শাশুড়ি কাছে। রেহানের মা রিয়াকে দেখে হেসে ওর কাছে এসে দাড়ায়। কিছুক্ষণ কথা বলার পরপরেই রেহান চলে এলো। রিয়া রেহানের দিকে তাকাতেই থ মেরে গেলো। কালো পাঞ্জাবী, ব্লাক জিন্স, ব্লক ওয়াচ, ব্লাক সানগ্লাস পাঞ্জাবীতে ঝুলছে মুখে ঘায়েল করা হাসি। রিয়ার তাকিয়ে থাকা দেখে রেহান একটু কাশি দিয়ে বলল

“তোমারই জামাই পরেই দেখো। এখন না হয় চলো।”

রেহানের কথায় রিয়া লজ্জা পেয়ে যায়। রেহান ওর মাকে বলে রওনা হলো। রিয়াও ওর পিছুপিছু যেতে থাকলো।

রেহান বাইকে উঠে বসলো আর ইশারায় রিয়াকে বসতে বলল তার বাইকে। রিয়া একটু ইতস্তত হয়েই রেহানের বাইকে উঠে বসলো। রেহান বাইকে গ্লাস রিয়ার দিকে করে বলল

“আমাকে ধরে বসো না হয় পরে যাবে আর তোমার বর হই আমি। তো ধরে বসতেই পারো। এখানে ইতস্তত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আর ধরে না বসলে কোন সময় রাস্তায় পরে মরে থাকবে। পরে আবার আমার জেল হবে”

রিয়া রাগান্বিত কন্ঠে বলল “ইউউউ”

রেহান দাঁত কেলিয়ে বলল “তোমার জামাই”

রিয়া আর কথা বাড়ালো না। কারণ সে বুঝে গেছে কথা বললেই কথা বাড়াবে রেহান।রিয়া কাপাকাপা হাতে রেহানে কাধে হাত রাখলো। রেহানও মুচকি হাসলো। কিছুক্ষণ পর রেহান বাইক থামায় একটা বৃদ্ধাশ্রমের সামনে। রেহান রিয়াকে নামতে বলে। রিয়াও নেমে পরে। ওরা দরজা দিয়ে ঢুকতেই কিছু বৃদ্ধা মহিলা এসে ঘিরে ধরে ওদের। ওরা ওদের দেখে অনেক খুশি হয়। দেখেই বোঝা যাচ্ছে রেহান প্রায় সময়ই এখানে আসে। সে সবার সঙ্গে হাসছে ফাজলামি করছে। ওদের কান্ড দেখে রিয়াও হাসছে। ওরা ওখানে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার রওনা হলো ওখান থেকে। এবার রেহান বাইক থামায় একটা লেকে কাছে। পাশের একটা ব্রেঞ্চে বসে রিয়া আর রেহান। রিয়ার কোলে মাথা রেখে রেহান শুয়ে পরে। রেহান বিভিন্ন কথা বলে হাসাচ্ছে রিয়াকে। রিয়াও রেহানের কথা শুনে হাসছে।

দূর থেকে এমন দৃশ্য দেখে একজনে তার চোখে পানি মুছে মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলল।

সন্ধ‍্যার পরে ওরা বাড়ি ফেরার জন‍্য বাইকে কাছে যায়। রেহান টান দিয়ে রিয়ার খোপা করা চুল খুলে দেয়। রিয়া রেহানের দিকে তাকাতেই রেহান আবদারের কন্ঠে বলে

“চুলগুলো খোলা রাখো না প্লীজ।”

রেহান এমন করে বলতে রিয়া ফিক করে হেসে দেয়। রিয়া বলল

“জানেন তো অনেক দিন পর এতো আনন্দে সময় কাটালাম আমি। আজকের দিনটা আমার সবসময় মনে থাকবে।”

রেহান রিয়ার কোমর পেচিয়ে ধরে মুখের সামনে চলে আসা চুলগুলো কানের পাশে গুজে দিয়ে রেহান বলল

“এখন থেকে প্রতিদিন আনন্দে কাটবে তোমার। আমি যে আছি তোমার কাছে। তোমাকে দুঃখ পেতেই দিবো না।”

হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। রেহান একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে মুখে মুচকি একটা হাসি ফুটিয়ে তুলে। তারপর রিয়ার দিকে তাকালো এক দৃষ্টিতে রিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো রেহান। রিয়াও রেহানের দিকে পলকহীনভাবে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন একটা নেশা কাজ করছে রেহানের। বৃষ্টির বিন্দুগুলো রিয়ার মুখ বেয়ে বেয়ে পরছে। রিয়ার ঠোঁটগুলো কাঁপছে। রেহান আর নিজেকে কন্টোল না করতে পেরে দুইজনের ঠোঁট মিলিয়ে দিলো।

—————————

রেহানের মা কোমরে হাত দিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। আর রেহান মাথা নিচু করে ওর আম্মুর সামনে দাড়িয়ে আছে। আর কিছুক্ষণ পরপর হাঁচি দিচ্ছে। রেহানের মা কটমট করে বলল

“তুই কেন বৃষ্টিতে ভিজলি জানিস না বৃষ্টিতে ভিজলে তোর জ্বর ঠান্ডা লাগে। তুই নিজেও ভিজছিস আর রিয়াকে ভিজিয়েছিস। এখন যদি দুইজনের একসঙ্গে জ্বর আসে তখন আমি কি করবো। কিভাবে দেখবো?”

রেহান নাক টেনে বলল “আম্মু কিছু হবে না আমার। এই দেখ আমি তো একদম ওওওওও হাচুউ”

রেহানের মা মুখ বেকিয়ে বলল “কেমন ঠিক আছিস বোঝাই যাচ্ছে।”

রেহানের মা ওদের রুমে পাঠিয়ে দিলো ফ্রেশ হতে। ওরা দুইজন ফ্রেশ হয়ে নিলো। রেহানের মা দুধের গ্লাস নিয়ে হাজির। রেহান তো না খাওয়ার জন‍্য টালবাহানা করতে লাগলো। অন‍্যদিকে রেহানের মা ও নাছোড়বান্দা রেহানকে খাইয়েই ছাড়বে।

রিয়া পাশের সোফায় বসে ওদের কান্ড দেখতে লাগলো। রেহানকে এখন একটা বাচ্চার থেকে কম কিছু মনে হচ্ছেনা রিয়ার কাছে। ও হেসে দিলো।

রাতে রেহানের গা কাঁপিয়ে জ্বর এলো। রেহানের মা অনেকক্ষণ ছিলেন পরে রিয়া ওনাকে পাঠিয়ে দেন। রেহান জ্বর ঘোরে বকবক করছে। রিয়া কান পেতে শুনতে লাগলো। রেহান বলছে ‘ভালোবাসি রিয়া অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে। আমাকে ছেড়ে যেও না। প্রচন্ড ভালোবাসি তোমাকে। যাবে না তো আমাকে ছেড়ে।”

রেহানের কথা শুনে রিয়ার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। ও উঠতে নিবে তখনই রেহান ওকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। রিয়া নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু ব‍্যর্থ হয়ে রেহানের বুকেই রইলো।

জ্বরের কারণে রেহানের ঠোঁট দুটো প্রচণ্ড লাল হয়ে আছে। জ্বরের কারণে ওর ঠোঁট দুটো কাঁপছে। রেহান রিয়াকে নিজের মাঝে মিশিয়ে নিতে চাচ্ছে। রেহানের উষ্ণ নিশ্বাস রিয়া মুখে আছড়ে পরছে। কেমন যেন এক নেশা কাজ করছে রিয়ার মাঝে। রেহানের চুলগুলো পরে আছে তার কপালের উপর। রিয়া হাত দিয়ে রেহানের চুলগুলো এলোমেলো করে দিলো। তারপর মুচকি একটা হাসি দিয়ে রেহানকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরে।

————–

পরের দিন সকালে রেহানের জ্বরটা কমলেও শরীরটা একটু দুর্বল ও আর অফিস যায় নি। রেহানের মা খাবার দিয়ে গেছে রেহান বায়না ধরেছে যে ও রিয়া হাতেই খাবার খাবে।

রিয়ার সকাল সকাল মাথা ধরায় রেহানের এমন বায়নায় ওর মেজাজ গরম হয়ে গেলো। ও রেহানের কলার ধরে বলতে লাগলো

“ওই মিয়া তোরে কিছু বলতেছিনা বলে কি মনে করছিস তুই। তুই কি ছোট বাচ্চা যে তোরে গুতাইয়া গুতাইয়া অন‍্য জনের খাইয়ে দেওয়া লাগে। নাকি তোর হাত নাই। এখন যদি আর একবার বলিস যে খাইয়ে দেও। তাহলে তাহলে তোরে খুন করে দিবো চুহার শশুর নাতি। একদম বিরক্ত করবি না আমায়।” বলেই রিয়া ফুসতে ফুসতে রেহানকে ছেড়ে দিয়ে সোফায় বসে মাথার চুল টেনে বসে রইলো।

রেহান নিজের বুকে ফু দিয়ে ঝটপট করে খেয়ে নিলো। রিয়ার এমন রাগ তে দেখে রেহান ভয় পেয়ে গিয়েছে। এর আগে কখনো রিয়াকে রাগতে দেখে নি রেহান। কিন্তু ও শুনেছিলো রিয়া রেগে গেলে অনেক ভয়ানক হয়ে যায়। ভেবেই একটা ঢোক গিললো রেহান।

রেহান খাবার খেয়ে গুটিগুটি পায়ে গিয়ে রিয়ার পাশে গিয়ে বসলো। রেহানকে পাশে দেখে রিয়া চেচিয়ে বলে উঠলো

“কি সমস্যা আবার আসছিস কেন বললাম না আমাকে বিরক্ত না করতে।”

রেহান ঠোঁট উল্টিয়ে মিনমিনিয়ে বলল “বউ আমি তোমার মাথা টিপে দেই।”

রিয়া ফট করে রেহানের কোলে শুয়ে পরলো আর বলল “নে টিপে দে আর একটাও কথা বলবি না।”

রেহান অসহায়ের মতো রিয়ার দিকে তাকিয়ে মাথা টিপতে লাগলো। রেহান ও মাথা টিপতে টিপতে ওখানেই ঘুমিয়ে গেলো।

রেহানের মা ওদের আর ডাকতে আসেনি। অনেকক্ষণ পর রিয়ার ঘুম ভেঙে গেলো। সে রেহানকে এমন করে বসে থাকতে দেখে রিয়ার একটু খারাপই লাগলো। ও রেহানের কপালে হাত দিয়েই বুঝতে পারলো রেহানের আবার জ্বর এসেছে। রিয়া দৌড়ে গিয়ে জলপট্টি নিয়ে আসে। রেহানকে যত্ন করে জলপট্টি দিতে থাকে রিয়া। রেহানের মা ওদের খোঁজ খবর নিতে এসেই ওদের দেখে মুচকি হেসে চলে গেলো।

—————–

কেটে গেছে সপ্তাহখানেক রেহান আর রিয়ার সম্পর্কের অনেকটাই উন্নতি ঘটেছে। রিয়া রেহানকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। আর রেহান তো রেহানই ও তো রিয়া বলতে পাগল। ওরা আজও ঘুরতে এসেছে সেই বৃদ্ধাশ্রমে। রিয়া অনেক খুশি। হঠাৎ

#চলবে