ভালোবাসার ফোড়ন ২ পর্ব-২+৩

0
1375

#ভালোবাসার_ফোড়ন_২
#মিমি_মুসকান
#পর্ব_২

রিক্সার টুং টুং শব্দে ভাবনার ছেদ ঘটল না আমার। হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার মাঝ পথে চলে এসেছি। পেছন থেকে রিক্সা বলছে..

“আপা সামনে যেতে সরুন, মাঝপথে হাঁটতেছেন কেন। পরে তো কিছু হলে দোষ হবে আমাগো”

আমি তৎক্ষণাৎ সরে গেলাম।‌ আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি পুরো আকাশ কালো অন্ধকার কিন্তু তবুও এর মাঝে যে তারা মিটিমিটি করছে কিন্তু আমার মনের আকাশে যে শুধুই অন্ধকার!

অতঃপর আবারো হাঁটা শুরু করলাম নিজের গন্তব্যের দিকে। সবসময় সন্ধায়’ই চলে আসি বাড়িতে তবে আজ ‌বাসায় আসতে আসতে রাত হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পার্ক এ একা একটা বেঞ্চে বসে ছিলাম। মজার ব্যাপার ছিল বেঞ্চের সামনে বরাবর একটা জবা ফুলের বাগান ছিল। আমি বসে বসে লাইটের আলোতে সেই জবা ফুল দেখছিলাম! দেখতে বেশ ভালো লাগছিল।

এসে দাঁড়ালাম একটা বাড়ির সামনে। বাড়িটা বেশ পুরোনো, তিন তলা একটা বাড়ি। নিচ তলা টা এভাবেই পড়ে আছে। কেউ থাকে না এখানে, বেশ অন্ধকার! মাঝে মাঝে আমার বেশ ভয় লাগে। বাড়ির গেটের সামনে একটা লাইট জ্বলছে ঠিক আমার মাথার উপর। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলাম। আমি থাকে দুতলা আর বাড়ি ওয়ালা থাকে তিন তলা এর উপর ছাদ। তাদের ছাদটায় একটা দোলনা আছে আর আছে কিছু শাকের গাছ। আসলে তিন তলার বাড়িওয়ালা দুজন বৃদ্ধ। বয়সের শেষ বয়সে এখন তারা দুজন একাই থাকে এখানে। একমাত্র ছেলে নাকি বউ বাচ্চা নিয়ে বিদেশে সেটেল হয়ে গেছে। ভাগ্যও কি অদ্ভুত নাহ! এতো টাকা থাকা সত্ত্বেও নিজের বাবা মা’র দেখাশোনা করছে না আর আমি টাকার জন্য তাদের দেখা শোনা করতে পারছি না!

দরজায় একটা তালা ঝুলানো। বেশ পুরোনো এটা! আমি ব্যাগ থেকে চাবি টা বের করে তালা খুলে ঘরে ঢুকলাম। সব কিছু অন্ধকার, জানালা’র পর্দা টা উড়ছে। বাতাস এসে আমার গায়ে লাগলেই শরীর কাঁটা দিয়ে উঠলো। ঠান্ডা বাতাস, মনে হচ্ছে বৃষ্টি আসবে। ঘর টা বেশ বড় আর এখানে তিন টা বেড।‌ একটা আমার আর দুটো দুই বোনের। কিন্তু তারা হলো যময। দেখতে বেশ সুন্দরী। একজনের নাম হলো মিতু আরেকজনের মুন্নি। মিতু আপু বড় তার সাথে আমার ভাব হলেও মুন্নি’র সাথে তেমন ভাব নেই। মনে হয় যেনো সে আমাকে সহ্য করতে পারে না।

বিছানায় এসে বসলাম। এখানে দুই বিছানায় খাট আছে তবে আমার নেই। আমি শুধু একটা তোশক আর বালিশ নিয়ে ঘুমায়। তবে এটাও দাদু’র দেওয়া। মানে বাড়ি ওয়ালার! তাকে দাদু বলেই ডাকি আমি। আর দাদি আমাকে একটা খ্যাতা দিয়েছিল গায়ে দেবার জন্য। বেশ সুন্দর ছিল সেটা, অনেক সুন্দর নকশা করা। দাদি বলেছিলেন এটা তিনি নিজের হাতেই করেন।

আমাদের যার যার রান্না আলাদা। দুটি চুলা, আপুরা হয়তো আজ আসবে না।‌ তারা দুজনেই চাকরি করে। মাঝে মাঝে নাইট ডিউটি হয়। আর তা না হলে সন্ধ্যায় এসে পড়ে। যেহেতু আজ এখনো আসে নি তার মানে আর আসবে না। আজকের রাত টা বোধহয় একা থাকতে হয়।

আমার বেশ ভয় লাগে এতো বড় রুমে একা থাকতে। আমি সকালের করা আলু ভর্তা দিয়ে ক’টা ভাত খেয়ে নিলাম। অতঃপর পড়তে বসলাম।

পড়া শেষ করে উঠে দাঁড়াতেই বৃষ্টি শুরু হলো। আমি জানালার সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে লাগলাম। বৃষ্টির ছিটি ছিটি ফোঁটা এসে আমার‌ মুখে পড়ছিল। আমি চোখ বন্ধ করে তা উপভোগ করতেই আবারো হারিয়ে গেলাম আমার অতীতে..

“বিয়েতে হ্যাঁ বলায় মা বাবা কেউ খুশি ছিল না। তবে ভাইয়া আর ভাবী বেশ খুশি ছিল। আমার আত্মীয় স্বজন বলতে একজন চাচা ছাড়া আর কেউ ছিল না। তবে সে খুব দরিদ্র ছিল। তার কোন সংসার ছিল না সে একা থাকত। তিনি বেশ বুদ্ধিমান লোক ছিলেন। তিনি ও এসে আমাকে বিয়েতে রাজি না হতে বললেন। কিন্তু আমার মাথায় শুধু বাবার চিকিৎসা’র কথা ঘুরপাক খাচ্ছিল। এই কথাই শুধু কানে বাজছিল আমার।

বিয়ের তারিখ ঠিক করা হলো,‌ ভাবী বিয়ের আগ অবদি আমাকে আর মা কে কোন কাজ করতে দেয় নি। এমনকি খুব ভালো ব্যবহার করেছিলেন আমাদের সাথে। তখন বেশ অবাক হতাম! একটা বিয়েতে রাজি হলে বুঝি এতো আদর পায় মানুষ!

বিয়ের দিন, বিয়ের সাজে বসে ছিলাম ঘরে। বেশ কান্না পাচ্ছিল সেদিন তবুও সব কষ্ট চেপে রেখেছিলাম। হুট করেই মা আর চাচা লুকিয়ে এলেন আমার কাছে। মা’র হাতে ছিল একটা ব্যাগ। সেটা মা আমাকে দিয়ে বললেন..

“তুই পালিয়ে যা মা!

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে। চাচাও বলে উঠলো..

“হ্যাঁ রে মা তুই পালিয়ে যা।

“কিন্তু কেন?

“কারন ওরা তোর বাবার কোন চিকিৎসা করাবে না। এসব মিথ্যে কথা ছিল। যাতে তুই এই বিয়েতে রাজি হস তাই!

“তোর ভাইয়া আর ভাবী এই বিয়েটা শুধু টাকার জন্যে দিচ্ছে। খালেদের সাথে তোর বিয়ে দিতে পারলে সে অনেক টাকা দেবে তাদের। সেই টাকা তারা ভোগ করবে আর তোর মা আর বাবা কে বের করে দেবে।

“কি বলছো কি এসব? তোমাদের একথা কে বলেছে।

মা কাঁদতে কাঁদতে আমার মাথায় হাত রেখে বলে..
“আমি শুনেছি রে, নিজের কানে সবকিছু‌। আজ আমার নিজের ছেলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবার কথা বলছে। কতোটা বোঝা এখন আমি তার কাছে।

“ভাবী তুমি কেঁদো না। নিহা এখন মোটেও সময় নেই তুই এখন’ই বেরিয়ে পর। এখান থেকে সোজা স্টেশনে যাবি, ১ ঘন্টা পর ঢাকার ‌জন্য একটা ট্রেন ছাড়বে। তুই সেটাতে চড়বি।

“কিন্তু আমি বিয়েটা না করলে যে ভাইয়া আর ভাবী দুজনে মিলে মা আর বাবা অনেক অত্যাচার করবে চাচা

“আমি আছি মা তুই চিন্তা করিস না। তোর মা আর বাবা কে আমার কাছে রাখবো। যা রোজগার করি তাতে আমাদের তিন জনের বেশ চলবে।

“তাহলে আমিও থাকবো তোমাদের সাথে। কোথাও যাবো না আমি।

বলেই মা কে জরিয়ে ধরলাম। মা আমার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলল..
“তা হয় না মা! তুই থাকলে তারা তোকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই দূরে কোথাও যাওয়া তোর জন্য মঙ্গল!

“আমি তো ঢাকায় কাউকে চিনি না মা! কোথায় থাকবো কি করবো আমি। কখনো যায় নি সেখানে, কি হয় না হয় সব কিছুই যে অজানা!

চাচা আমার মাথায় হাত রেখে বলেন..
“গেলেই তো চিনবি রে মা, আজকালকার যুগে‌ কাজ পাওয়া টা তেমন কঠিন না। কিন্তু একটা কথা মনে রাখিস এখান থেকে চলে যাবার পর আর কখনো ফিরে আসিস না। তাহলে এই পশুর মতো হিংস্র লোকগুলো তোকে বাঁচতে দেবে না।

আমি মা’র দিকে অসহায় ভাবে তাকালাম। আমি যেতে চাই না তাদের ছেড়ে। কি করে থাকবো তাদের ছাড়া। মা নিজের চোখেল জ্বল মুছে আঁচলের গিট্টু টা খুলে আমার হাতে কিছু টাকা দিলেন। বললেন..

“আমার জমানো কিছু টাকা, কিছুদিন চলতে পারবি এগুলো দিয়ে।

“কিন্তু মা!

“তুই তো বলেছিলে কলেজে ভর্তি হবি নাহ, এই যে তোর কানে এক জোড়া দুল আছে এগুলো স্বর্ণের। হয়তো এতে তোর ভর্তির টাকা জোগাড় হয়ে যাবে। আর ভাবিস না কিছু বেরিয়ে পর!

আমি মা’র কাছে অনেকবার অনুরোধ করলাম বাবা কে একবার দেখবো বলে, কিন্তু আর দেখা হলো না। আফসোসের শেষ রইল না আমার! যদি আর কখনো না দেখতে পাই তাকে তখন। শেষবারের মতো দেখতে পেতাম যদি। কিন্তু আমার কাছে যে বেশি সময় ছিল না। আমি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। পালিয়ে গেলাম নিজের বিয়ের আসর থেকে।

স্টেশনে এসে হাঁপিয়ে উঠলাম। এতোক্ষণ দৌড়েচ্ছি বলে অনেক হাঁপিয়ে গেছি। এর মধ্যে অ্যানাউসমেন্ট হলো ট্রেন ছেড়ে দেবে। আমি দ্রুত গিয়ে ট্রেনে বসলাম। একটা সিট খালি ছিল তাতে গিয়েই বসে পড়লাম। আমি শুধু বসে বার বার বাইরের দিক তাকাতে লাগলাম। এই মনে হচ্ছে তারা এসে পড়বে, নিয়ে যাবে আমাকে। এই বুঝি আমি ধরা পরে গেলাম। এসব কথাই শুধু মাথায় ঘুরছে আমার।

হঠাৎ মুখে কেউ পানির ছিটা দিলো, আমি লাফিয়ে উঠলাম। তাকিয়ে দেখি একটা ছেলে আমার দিকে ঢ্যাব ঢ্যাব করে তাকিয়ে আছে। তার হাতে একটা পানির বোতল। সে হাত নেড়ে আমাকে বলল..

“আমার কথা শুনতে পারছো তুমি, তুমি কি কানে শুনতে পাও না!

এতো চিন্তার মাঝে তার কথা শুনে রেগে গেলাম। ফট করে দাঁড়িয়ে বললাম..
“কি বললেন আপনি!

পেছন এ আরো কয়েকজন ছেলে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের মাঝে একজন বলে উঠল…
“কিরে আহি! এই মেয়ে তো কানে শুনে না বলে মনে হচ্ছে না। একটু বেশিই শুনে।

এতো ছেলেদের একসাথে দেখে ভয় পেয়ে গেলাম আমি। বলে উঠি…
“কি বললেন আপনি, আপনারা কারা আর এখানে এসেছেন কেন। আমি কিন্তু চিৎকার করবো।

আমার সামনে থাকা ছেলেটা বলল..
“এটাই যে এটা আমাদের সিট, তুমি আমাদের সিটে বসে আছো। বাকি রইল চিৎকার! করতেই পারো আমাদের কিছু যায় আসেনা কারন দোষ টা তোমার!

পেছন থেকে আরেকটা ছেলে বলল..
“একটু বাইরে গেলাম এতেই দেখি সিট দখল করে ফেলেছে।

“মেয়েটাকে দেখেও তো সুবিধার মনে হচ্ছে না।

“মনে হচ্ছে বিয়ে থেকে পালিয়ে এসেছে।

“কোন ঝামেলা আছে এর মাঝে আমি সিউর!

তাদের কথা শুনে আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম, আমি ব্যাগ টা ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমার সামনে থাকা ছেলেটা যাকে সবাই আহি বলে ডাকছিল সে আমার দিকে ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে রইল। আমি কিছুটা পেছনে সরে গেলাম। পেছনের ছেলে গুলো তাদের মতোই কথা বলে যাচ্ছে। হঠাৎ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা বলল..

“চুপ করবি তোরা! না জানে এতো কথা কি রে বলছিস। এটা তো মেয়েদের কাজ!

আরেকজন বলল..
“আহি একদম ঠিক বলেছে। মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে হয়তো কোন বিপদে পড়েছে। দেখছিস কেমন ভয় পেয়ে আছে।

দু’জনের কথায় আমার ভয় কিছুটা হলেও কমলো। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা বলল..
“তুমি চাইলে এখানে বসতে পারো!

উনার কথা শেষ হবার আগেই আমি ধপাস করে বসে পরলাম। হাত পা গুটিয়ে ব্যাগ টা নিয়ে চুপচাপ বসে আছি। মাঝে মাঝে বাইরে তাকাচ্ছি। ছেলেটা হাতে থাকা পানির বোতল টা আমাকে এগিয়ে দিয়ে বলল..

“নাও পানি খাও!

আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। এখন অনেক সন্দেহ হচ্ছে। হয়তো বসে পড়েটা ঠিক হয় নি। যদি পানিতে কিছু মিশিয়ে থাকে আর সেটা আমি খেয়ে ফেললে তখন… আমি দ্রুত মাথা নাড়িয়ে না না বললাম। ছেলেটা কিছু না বলে আমার সামনের সিটে বসে পরল। বাকি ছেলেগুলো অন্য সিটে বসল। শুধু আমার সামনের ছেলেটা আর পেছন থেকে যে আমার পক্ষে কথা বলেছিল সেই দুজন আমার সামনে বরাবর বসল।

সামনে থাকা ছেলেটা আমাকে ডাকল। অতঃপর পানি নিজে খেয়ে আমার দিকে বোতল টা ধরল। বেশ অবাক হলাম কি করে বুঝল আমি এটাই ভাবছিলাম। ছেলেটার কিছু হয় নি আমি তার থেকে পানি খেতে লাগলাম। তার পাশে বসা ছেলেটা আমার কাহিনী দেখে ফিক করে হেসে দিল।

আমি পানি খেয়ে বোতল টা আবার তার দিকে দিলাম। সে সেটা নিয়ে পাশে রাখল। অতঃপর কানে হেডফোন ঢুকিয়ে ফোন নিয়ে বসল। দুহাত দিয়ে ফোন টিপছে। পাশে বসা ছেলেটা ভ্রু কুঁচকে আমাকে দেখছে। হয়তো ভাবছে আমি এভাবে, বিয়ের সাজে এখানে কি করছি। হঠাৎ সেই ছেলেটা বলল..

“আচ্ছা তুমি কি সত্যি বিয়ে থেকে পালিয়েছো!

তার কথায় কেন জানি ভরসা পেলাম। তাই মাথা নাড়লাম। সেই ছেলেটা হেসে বলল..
“ঢাকায় যাবে বুঝি, সেখানে কি তোমার কেউ মানে প্রিয় কেউ থাকে।

ছেলেটার কথা আমি বেশ বুঝতে পারলাম সে কার কথা বলছে। আমি কি বললো ভাবছিলাম। না বলবো! কিন্তু না বললে যদি ছেলে গুলো আমার সাথে কিছু করে। আচ্ছা তাহলে কি হ্যাঁ বলবো! বলবো সে আমাকে ঢাকায় স্টেশন থেকে নিয়ে যাবে। আমি তার কাছেই যাবো। তাহলে হয়তো ছেলেগুলো আমাকে কিছু করবে না। আমি এবারও মাথা নেড়ে বললাম..

“হুম!

“সে জানে তুমি আসছো!

“( আবারো মাথা নাড়লাম)!

“তার মানে তোমাকে নিয়ে যাবে নাহ!

“( এবার ও মাথা নাড়লাম )

সে এবার জোরে হেসে দিয়ে বলল..
“যাক ভালো, আজকাল তো এমন হয় যে মেয়েরা যার জন্য নিজের সব কিছু ছেড়ে চলে আসে, সে আর তাকে মেনে নেয় না। এখন যদি তোমার জন মেনে নেয় তাহলে তো খুব ভালো!

“( তার কথায় হাসার চেষ্টা করলাম।)
.
অতঃপর সে আমার চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে সিটে বসে পরল। কিন্তু পেছনের তার সাথে ছেলে গুলো বার বার আমায় উঁকি দিয়ে দেখছে। আর কথা বলাবলি করছে। খুব ভয় করছে আমার। আমি যত সম্ভব নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে বসে পরি।

#চলবে….

#ভালোবাসার_ফোড়ন_২
#মিমি_মুসকান
#পর্ব_৩

প্রায় অনেকক্ষণ ধরেই বসে আছি, ট্রেন ছেড়ে গেছে অনেক আগে। সে তার গতিতেই ছুটে চলছে, আমার ভয় আগের থেকে অনেকটা হলেও কমেছে। সামনে তাকিয়ে দেখছি কানে হেডফোন দেওয়া ছেলেটা সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। তার পাশের ছেলেটা তার ঘাড়ে মাথা রেখে হয়তো ঘুমিয়ে আছে। আমার সামনে বিপরীত দিকে বসা ছেলেটার নাম মনে হচ্ছে আহি! ছেলেটার সম্পর্কে বলতে গেলে ভিন্ন ধরনের কিছুই আমার চোখে পড়ল না। আর বাকি ছেলের মতোই দেখতে সে।

এতো ভারী পোশাক পড়ে থাকায় বেশ অস্থির লাগছিল আমার। পোশাক গুলো চেঞ্জ করা দরকার! উঠে ওয়াশরুমের দিকে যেতে নিলাম। দেখলাম উনার সাথে থাকা দুই বন্ধু ঘুমিয়ে গেছে।‌ একটু ভিতরে আসতেই দেখতে পেলাম এখানে সিট খালি। আমি হয়তো আরেকটু এগোলেই খালি সিট পেতাম। যাই হোক এতো কিছু না ভেবে চেঞ্জ করতে গেলাম। ব্যাগ সাথে নিয়েই গেছিলাম। অতঃপর চেঞ্জ করে দরজা খুলে বের হতে গিয়ে দেখি আমার সামনে সেই ছেলেটা ( আহি ) দাঁড়ানো। তাকে দেখে আমার চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেল। আমি দুহাত দিয়ে ব্যাগ চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু ছেলেটার সব ধ্যান ছিল তার ফোনের দিকে।

অতঃপর ছেলেটা আমার দিকে তাকাল। আমিও তাকিয়ে আছি তার দিকে। সে একটু সরে গেলো যাতে আমি যেতে পারি। এটা বোঝা মাত্র’ই আমি দ্রুত বের হয়ে গেলাম কিন্তু কথা হলো উনি এখানে কেন?
আমি কিছুদূর গিয়ে আবারো পেছনে ফিরলাম দেখি উনি একজন লোকের সাথে কথা বলছে। তার পরনে কালো রঙের একটা কোট, মনে এই ট্রেনের টিকিট মাস্টার। আমি আবারো দাঁড়িয়ে উঁকি দিয়ে তাকে দেখছি। তার হাতে একটা সিগারেট, কিছুক্ষণ পর পর সেটা মুখে দিচ্ছে আর কথা বলছে। একপর্যায়ে সে আমার দিকে তাকাল। দু’জনের চোখাচোখি হলো! আমি দ্রুত ফিরে এসে সিটে বসলাম। দেখি সেই ছেলেটা ঘুম থেকে উঠে গেছে। সে আমার দিকে তাকিয়ে কিঞ্চিত হেসে বলল..

“চেঞ্জ করতে গিয়েছিলে

“( মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললাম)

“ওহ আমি তো ভাবলাম কি না হলো তাই আহি কে দেখতে পাঠালাম। ওহ্ আচ্ছা আহি কে সেটা তো তুমি জানো না। আমার সাথে বসা ছেলেটা! ওর পুরো নাম আহিয়ান আর আমরা আহি বলে ডাকি!

আমি তার দিকে তাকিয়ে সিটে বসলাম। সে তার ব্যাগ থেকে দুটো চিপস’র প্যাকেট বের করল।‌ একটা আমাকে দিল যদি আমি নিতে চাইনি তবুও জোর করল। আরেকটা নিজে নিল। সে চিপস খেতে খেতে বলল..

“আর আমার নাম আকাশ! আর পিছনে যে দুজন আছে তারা হলো নাহান আর আনাফ। আচ্ছা তোমার নাম কি?

“আমি নিহা!

সে মৃদু হেসে বলল..
“যাক এতোক্ষণে কথা বললে তুমি। তবে নামটা কিন্তু বেশ নিহা!

আমি উনার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলাম। এরপর আর কোন কথা হলো না। চিপসটা আর খেলাম না। রেখে দিলাম। কিছুক্ষণ পর আহিয়ান আসল। সে এসে পাশে বসার পর’ই আকাশ ভাইয়া বলল..
“টিকেট মাস্টার কে বলে এসেছিস তো!

আহিয়ান মাথা নেড়ে সম্মতি আবারো তার ফোনের দিকে নজর দিল। কিন্তু টিকেট মাস্টার’র সাথে কি কথা বললো। মনে পড়ল আমার কাছে তো টিকেট নেই তাহলে কি এই নিয়ে.. হ্যাঁ এটাই হবে কারন উনাদের কাছে টিকেট আছে।

সারারাত জেগেই কাটিয়ে দিলাম। তবে তারা ঘুমিয়ে ছিল, কেন জানি আমার চোখেই ঘুম এলো না। নিঃশব্দে চোখ থেকে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। খুব মনে পড়ছে মা আর বাবা’র কথা। না জানি তাদের কি হয়!

সকালেই ট্রেন এসে থামল। ভোরে চোখ লেগে এসেছিল আমার। আকাশ ভাইয়া আমার চোখে পানি ছিটিয়ে “নিহা” বলে ডাক দিতেই উঠে গেলাম। তিনি হেসে বললেন..

“ট্রেন তো চলে এলো তোমার গন্তব্যে। এখনো কি ঘুমিয়ে থাকবে!

আমি তার কথায় দ্রুত উঠে গেলাম। দেখলাম তার তাদের ব্যাগ কাঁধে নিচ্ছে হয়তো এখন’ই বের হয়ে যাবে। আমি ও তাদের সাথে বের হয়ে গেলাম। অতঃপর আকাশ ভাইয়া কে একটা ধন্যবাদ দিয়ে তাদের থেকে আলাদা হয়ে গেলাম। হয়তো সে কিছু বলতে চেয়েছিল, আমি জানি সে কি বলতো। তবে তার প্রশ্নের উত্তর যে আমার কাছে নেই। তাই আর দাঁড়ালাম না। মেইন রোড দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। হাঁটতে হাঁটতে এসে বাস স্ট্যান্ড এ এসে দাঁড়ালাম। কিছু সরকারি ভার্সিটির কথা জনতাম। সেখানে ভর্তির একটা আবেদন করবো ভেবে রওনা দিলাম!

তবে ভাগ্য এবার সহায় হলো না। কারন আবেদন করার সময় চলে গেছে এখন আর কিছু করা যাবে না। যদি ভর্তি হতে হয় তাহলে বেসরকারি ভার্সিটিতে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু তার আগে তো থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু না চিনেও হাঁটা ধরলাম একটা গলি দিয়ে।‌

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলল, পাখিরা আকাশে উড়তে শুরু করছে। গতকাল রাত থেকে কিছু খায় নি আমি। খুব ক্ষিদেও পেয়েছে কিন্তু এখন থাকার জায়গা খোঁজা দরকার আগে। তিন চারটে বাড়িতে দেখলাম তবে তারা আমার মতো একটা মেয়ে কে কোনমতে একা থাকতে দিতে রাজি না। কোন ঝুট ঝামেলা চায় না তারা। আমি এসে একটা পার্কে বসে পরলাম। দোকান থেকে একটা পানির বোতল কিনলাম। অতঃপর সেই চিপস টা খাওয়ার পর পানি খেয়ে বসে রইলাম চুপচাপ। কিছু বাচ্চারা আমার সামনে খেলাধুলা করছে। ভালোই লাগছে দেখতে।‌

তাদের দেখে নিজের স্মৃতি মনে পড়ল। আমিও কতো খেলেছিলাম একসময় এভাবে। এ সময়টায় মাথায় কোন ধরনের চিন্তা থাকে না। সবকিছু খুব সহজ মনে হয়। বাস্তব জীবন থেকে একদম আলাদা হয় এই সময়টা। হঠাৎ মনে পরল আমাকে যে বাসা খুঁজতে হবে। আমি আবারো হাঁটা ধরলাম। একটা বাড়ির সামনে দেখলাম বড় বড় করে লেখা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে। বাড়িটা তিন তলা ছিল। আমি চলে গেলাম বাড়িওয়ালা’র সাথে কথা বলতে।

বলতে হবে বাড়ি ওয়ালা খুব ভাল ছিলেন কিন্তু তিনি আমাকে একা রাখতে নারাজ হলেন। আমি তাকে অনেক অনুরোধ করলাম। বললাম “খুব বিপদে পরেছি। আপাতত একটা থাকার জায়গা দরকার।”
তিনি আমাকে বাড়ি ভাড়া দিলেন না তবে একটা উপকার করলেন। এই দাদু’র বাড়ির খোঁজ দিলেন। বললেন তারা নাকি সিংগেল মেয়েদের বাড়ি ভাড়া দেয়। আমি তার থেকে ঠিকানা নিয়ে এলাম এই দাদু’র বাড়িতে!

দাদু দাদী কে সব বললাম আমার ব্যাপারে। তারা আমাকে বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হলেন। অবশেষে থাকার একটা জায়গা পেলাম। তবে দাদী খুব ভালো একজন মানুষ। তিনি আমাকে রাতে তাদের সাথেই খেতে বললেন আর বললেন কোন সমস্যা হলে তাদের বলতে। এমন মানুষ এখানে পাবো বলে আমার ধারনা ছিল না। সত্যি ধৈর্য্য রাখলে মানুষ অনেক কিছুই পায়!

দাদু আমাকে কয়েকটা ভার্সিটির ঠিকানা দিলেন। তাদের মধ্যে একটা ভার্সিটিতে ভর্তিও হলাম। মা’র দেওয়া কানের দুল টা বিক্রি করে যা টাকা পেলাম সব টাই চলে গেল ভর্তি হতে। যাক ভর্তি তো হয়েছি এটাই বেশ শান্তি পেলাম। দাদী কয়েকটা টিউশনি জোগাড় করে দিলেন আমায়। সকালে ভার্সিটি, সারাদিন টিউশনি আর রাতে ‌ আমার দুই রুমমেট দের সাথে কথা বলে কেটে গেল এই ২ মাস। এর মাঝে ফোনে কথা বলেছিলাম চাচার সাথে। আমার মা বাবা’র কাছে কোন ফোন ছিল না। আমার কাছেও নেই। শুধু চাচা’র কাছেই ছিল আর সেই নাম্বার আমার মুখস্থ ছিল। আমি দোকান থেকে একবার চাচা’র ফোনে কল করে মা আর বাবা’র সাথে কথা বলেছিলাম।

অনেকদিন পর কথা বলে মনের মাঝে শান্তি পেলাম। তাদের বললাম আমি বেশ ভালো আছি। আমাকে নিয়ে যেন চিন্তা না করে। শুনলাম ভাইয়া আর ভাবী নাকি মা বাবা কে বের করে দিয়েছে। তারা এখন চাচা’র বাড়িতে থাকে। এটা তো হবার’ই ছিল। মা আমাকে একদম না করে দিল যেন গ্রামে আর না আসি। আমি কয়েকদিন এভাবে তাদের সাথে কথা বলার পর একদিন চাচা বলল..

“তোর ভাবী জানতে পেরেছে তোর সাথে আমাদের যোগাযোগ আছে। খালেদ আমাকে ডেকে তোর কথা জিজ্ঞেস করেছিল। আমি না বলে দিয়েছি। তুই ইদানিং আর ফোন করিস না।”

সেদিন আর কারো সাথেই কথা হলো না। বাসায় এসে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সেদিন। বার বার খোদার কাছে জানতে চাইলাম কেন আমার ভাগ্যে ই এতো কিছু দিলো সে। খুব অভিমান হচ্ছিল তখন। কিন্তু ভেঙ্গে পড়লে যে হবে না। আমি কিছু একটা করে মা আর বাবা কে নিজের সাথে এখানে এনে রাখবো বলে ঠিক করে নিলাম! মানুষের জীবন কতোটা বিচিত্র হয় তা আশপাশের মানুষদের দেখলেই বোঝা যায়। হয়তো আমি খোদার কাছে বার বার নিজের দুর্দশা’র জন্য অভিযোগ করছি কিন্তু ভাবতে গেলে এখানকার রাস্তার কোনে দিনের পর দিন কাটানো মানুষ গুলোর থেকে আমি ভালোই আছি। একটা ছাদ তো আছে আমার মাথার উপর এর থেকে বেশি আর কি!

#বর্তমানে..

মেঘের গর্জনে চোখ খুলে ফেললাম। এটাই ছিল আমার অতীত! একটা ঘন কালো অতীত যার মায়াজালে পড়ে আছি আমি। এটা থেকে যে করেই হোক বের হতে হবে আমাকে। নাহলে এখানে এই সমাজে যে আমি বেঁচে থাকতে পারবো না। আর সমাজে বেঁচে থাকা কোন যুদ্ধের চেয়ে কিছু কম না। জীবন যুদ্ধের চেয়ে ভয়ানক আর কিছুই নেই!

অতঃপর বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম! বাইরে বৃষ্টি এখনো পড়ছে, বর্ষাকাল তো তাই বৃষ্টি বেশি। খুব ঠান্ডা লাগছে, খ্যাতা টা গায়ে ভালো মতো জরিয়ে নিলাম। কখন ঘুমিয়ে পড়লাম জানি না। ভোর বেলা দরজার ধাক্কানোর আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেল। মনে হচ্ছে মিতু আর মুন্নি আপু চলে এসেছে। আমি উঠে দরজা খুললাম। মুন্নি আপুর মেজাজ বেশ তিরিক্ষি। বলে উঠল..

“এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে, কখন থেকে ধাক্কাছি! শুনতে পাস নি নাকি!

“সরি গো আপি, ঘুমিয়ে ছিলাম তাই!

“কি ঘুম যে তোদের আল্লাহ’ই ভালো জানে!

মিতু আপু মুন্নি আপুর ঘাড়ে হাত রেখে বলল..
“তোর না ঘুম পেয়েছে, যা ঘুমা গিয়ে।

“হ্যাঁ যাচ্ছি যাচ্ছি! এভাবেও এখানে দাঁড়িয়ে প্যাচাল পাড়ার কোন শখ নেই আমার! সারারাত কাজ করেছি আমি..

বলেই সে ঘরে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। মিতু আপু আমার দিকে একটা হাসি দিয়ে বলল..
“ভার্সিটিতে যাবার আগে ডাক দিয়ে যাস। আমি উঠে দরজা বন্ধ করে দিবো।

“আচ্ছা আপু!

অতঃপর আপুও এসে বিছানায় গা এলিয়ে ঘুমিয়ে পরল!
আমি জানালার কাছে এসে জানালা খুলে বাইরে তাকাই। সূর্য এখনো উঁকি দেয় নি, নাকি হয়তো দিয়েছে কিন্তু মেঘের জন্য দেখা যাচ্ছে না। আমি জানালা খুলে ঘরে এসে বই নিয়ে বসলাম। কিছুক্ষণ পড়লাম অতঃপর ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখি সময় হয়ে যাচ্ছে। অতঃপর উঠে ভাত বসিয়ে গোসল করতে চলে গেলাম। এসে দেখি ভাত হয়ে গেছে। ভাতের সাথেই কিছু ডাল সিদ্ধ বসিয়ে ছিলাম। আজ ডাল ভর্তা দিয়ে গরম গরম ভাত খেতে মনে হচ্ছে। আমার ঘরে আলু, ডাল চাল ছাড়া আর বিশেষ কিছু নেই। এগুলো রাঁধতে তেল লাগে না আর না লাগে মসলা পাতি। শুধু লবন হলেই চলে। তার সাথে কাঁচা পেয়াজ আর মরিচ যা একটু কিনলেই আমার বেশ চলে যায়।এটাই ঠিক আছে আমার জন্য। টিউশনি করে যা পাই ভার্সিটি আর ঘরের ভাড়া দেবার পর নিজের চলতে হয়। এছাড়া কিছু বই ও কেনা লাগবে আবার বাবা’র চিকিৎসা’র‌ জন্য টাকা জমানো লাগবে। ভাবছি আরেকটা টিউশনি খুঁজতে হবে। সেটা’র টাকা দিয়ে বাবার চিকিৎসা’র জন্য টাকা জমাবো।

ডাল ভর্তা বানিয়ে ভাত খেয়ে তৈরি হয়ে বের হয়ে গেলাম। যেতে অনেকক্ষণ লাগবে কারন আমাকে হেঁটেই যেতে হবে। এছাড়া‌ কোন উপায় নেই তবে হ্যাঁ এটার মাঝেও ভালো লাগা আছে। যেতে যেতে আশপাশের মানুষদের লক্ষ্য করি। এটা করতে খুব ভালো লাগে আমার। তারা কি করে না করে এসব দেখতে থাকি। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে একজন বেলুন ওয়ালা কে দেখি। সে স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে একগাদা বেলুন নিয়ে। তার লক্ষ্য এগুলো বিক্রি করা। কোন মানুষ লক্ষ্য ছাড়া পৃথিবীতে বাস করে না। সবার একটা না একটা লক্ষ্য আছে। যারা বেকার তাদের ও লক্ষ্য আছে আর তা হলো সে কিছু্ই করবে না। তাকে যে যাই বলুক কিন্তু তার দ্বারা যেন সেই কাজটা না হয় এটা তাকে লক্ষ্য রাখতে হয়।

দেখতে দেখতে ভার্সিটির কাছে চলে আসছি। এখানকার বেশির ভাগ মেয়েদের পোশাক দেখলেই বোঝা যায় তারা বেশ ভালো পরিবারের ছেলে মেয়ে। তাদের মাঝে নিজেকে বেশ বেমানান লাগে। “কিন্তু এসব দেখে আমার কি লাভ, পড়তে এসেছি এতো কিছু দেখার দরকার নেই” বলে নিজের মন কে বোঝালাম!

আমি রোডের ওপারে ছিলাম। রাস্তা খালি দেখে এই পাড়ে আসতে যাবো তখন হুট করেই একটা গাড়ি চলে এলো আমার একপাশ দিয়ে। গাড়ি টা এতোই দ্রুত গতিতে আসল যে আমি কিছু বোঝার আগে খুব জোরে ধাক্কা খেলাম। গাড়িটা আমাকে ধাক্কা দিয়েই থেমে গেল। আমি ধপাস করে পড়ে গেলাম নিচে। অতঃপর গাড়ি থেকে সবাই বের হলো। একটা চেনা গলার স্বর কানে এলো! সে বলছে..

“নিতি তোকে বলেছিলাম সাবধানে গাড়ি চালাতে, কি করলি তুই এটা!

“সরি আহি আমি বুঝতে পারি নি!

“আহি” নামটা শুনেই আমি তার দিকে ফিরে তাকালাম। অতঃপর..

#চলবে….