#ভালোবাসার_ভিন্ন_রুপ
#সাইয়্যারা_খান
#পর্বঃ৭
২ দিন খুবই ব্যাস্ত। নতুন নতুন সব পড়া তাই চাপ ও বেশি। মিষ্টির সাথেও ফোনে কথা হয়। কারন বাসায় আসতে অনেক লেট হয়ে যায়। তাই আজ যাব দেখা করতে। তাড়াতাড়ি পাসতা করে নিলাম আর মিল্কসেক।রেডি হয়ে বের হলাম। এসে দেখি মিষ্টি আসেনি। তাই আমি এদিক ওদিক হাঁটছি। হঠাত করেই একটা ছেলে বাইক থামালো আমার সামনে। আমি চমকে একটু পিছয়ে গেলাম। ছেলেটা সুন্দর। হেলমেট খুলেই বত্তিসটা দাঁত বের করে হাসি দিল। কিছু বলবো তার আগেই বললো,
হেই।।।। কেমন আছো???
একে তো চিনি না। তার মধ্যে প্রথম দেখাতেই তুমি আমার ভালো লাগলো না। চলে যেতে নিলেই হাত ধরে আটকে দিল। হাত ঝারা দিয়ে রাগী চেহারার কিছু বলবো অমনি মিষ্টির ডাক শুনতে পেলাম।
মিষ্টির মুখে মাম্মা ডাক শুনে ছেলেটা বিসম খেল। আমিও শয়তানি হাসি উপহার দিলাম।পুরো ঘটনা আদ্রিয়ান তিক্নো চোখে দেখলো।কিছু বললো না।
মিষ্টিকে নিয়ে বসে খেললাম। হঠাৎ করে মিষ্টি বললো মাম্মা ঐ টা খাব। আদ্রিয়ান ফোনে কিছু করছে। সামনে তকিয়ে দেখি ফুচকা। দেখেই খুশি হয়ে গেলাম।কিন্তু বুকে পাথর বেধে মিষ্টি কে বললাম,,,
ঐ গুলো তো পচা খাবার। খেতে হয় না।
— তাহলে সবাই কেন খাচ্ছে??
— ওরা তো জানে না।
–আমি বলে আসি।
— আচ্ছা। আগে খেয়ে নাও।
মিষ্টি কে খায়িয়ে দিলাম। ও আদ্রিয়ান ভাইয়ার সাথে খেলা করছে। ইয়েস।।।। আমি তাড়াতাড়ি ফুচকার ঐখানে চলে গেলাম।
–মামা ঝাল দিয়ে দুই প্লেট ফুচকা দিন তাড়াতাড়ি।
–দিচ্ছি।
আমি একপ্লেট শেষ করে যেই না আরেক প্লেট নিব অমনি আদ্রিয়ান বললো,,
— একটু আগে না মিষ্টি কে বললা এগুলো পচা তাহলে নিজে কেন খাচ্ছ???? ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলেন।
— না.. ইয়ে মানে খাচ্ছি না তো।।। মানি….
— কী…???? তোতলানো বন্ধ কর। ( কিছুটা ধমকে বললো)
–আসলে ফুচকা দেখলে না খেয়ে পারি না। মিষ্টির তো এটা খাওয়া ঠিক হবে না।।।
–তোমার খাওয়া ঠিক হবে???
— না। কিন্তু প্লিজ এটা খাই। এটা না খেলে মরেই যাব।।।
— উনি এবার কপালে তিন টা ভাচ ফেললেন।
আমিও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। হঠাৎ মিষ্টির আওয়াজে ফুচকা গলায় আটকে গেল। একতো ঝাল তারমধ্যে এভাবে ধরা খেয়ে অবস্থা টাইট। কাশতে কাশতে চোখ দিয়ে পানি পরছে। দাড়িয়েও থাকতে পারছি না। আদ্রিয়ান ভাইয়া অস্থির হয়ে আমার পিঠে হাত বুলাচ্ছে। তাড়াতাড়ি পানি খায়িয়ে দিলেন। এক হাত আমার পিঠে আরেক হাত গালে। বারবার বলছেন,,,
হেই।।। আর উ ওকে??? লুক এট মি।।।।
ওনার অস্থিরতার কারন খুঁজে পেলাম না। অনেকখন পর শান্ত হলাম। বললাম,,
— আই এম ফাইন, ভাইয়া।
উনি রক্তচক্ষু নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভয়ে আমি শেষ। মিষ্টির কথায় ধ্যান ভাঙলো।
— মাম্মা কি হয়েছে তোমার??? তুমি পচা খাবারের এখানে কি করছো????
— কিছু না বেবি।।। চলো।।।।
মামাকে টাকা দিয়ে তাড়াতাড়ি মিষ্টি কে নিয়ে কেটে পরলাম। আদ্রিয়ান ভাইয়াও আর কিছু বললো না।
___________________
ঐ দিনের পর আর দেখা হয়নি মিষ্টির সাথে। ফোন ও অফ। শরীর প্রচন্ড খারাপ। ৩ দিন ধরে জ্বর, মাথা ব্যাথা, আর কেমন দূর্বল হয়ে আছি। খেলেও বমি হচ্ছে। ডাক্তার মেডিসিন দিয়ে রেস্ট করতে বলেছেন। ফুড পয়েজেনিং হয়েছে।
এদিকে মিষ্টিকে সামলাতে বাড়ির সবাই হিমসিম খাচ্ছে। সারাদিন খাবে না। আদ্রিয়ান ও অফিস থেকে বাড়ি এসে মেয়েকে খায়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে।মিষ্টি র ওর মাম্মাকে চাই। আদ্রিয়ান ও ভালো নেই। কেমন জানো লাগে। বারবার রোদের চিন্তা ঘিরে ধরছে।।একবার দেখতে চাইছে।।।
#চলবে…..
#ভালোবাসার_ভিন্ন_রুপ
#সাইয়্যারা_খান
#পর্বঃ৮
আজ আদ্রিয়ান ঠিক করলো রোদের সাথে দেখা করেই ছাড়বে। মেয়েটা হুট করেই লাপাতা। আদ্রিয়ান নিজেও জানে না যে এই অস্থিরতার কারন কি।শুধুই কি মিষ্টির জন্য নাকি ও নিজে ও মিস করছে। তাই জারবার রুমে যায়। কিছুক্ষণ কথা বলে বের হয়।
বর্তমানে আদ্রিয়ান, মিষ্টি আর জারবা রোদের বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করে রেখেছে। আদ্রিয়ান ইশারায় জারবাকে যেতে বললো। জারবাও মিষ্টি কে নিয়ে বের হলো। মিষ্টি বললো,
— বাবাই,, যাবে না মাম্মার কাছে???
–না,,মা। বাবাই একটু বিজি।
যদিও আদ্রিয়ান যেতে চাইছে কিন্তু হুট করেই তো একজনের বাসায় যাওয়া যায় না। তারমধ্যে জানে ও না সমস্যা টা কি।।।
রোদদের বাড়িটা ছোটর মধ্যে খুবই সুন্দর। সামনে ছোট বাগান তাতে নানা ফুল, ফল, সবজির গাছ। কলিং বেল বাজতেই রোদের মা দরজা খুলে দেয়।জারবা সালাম দিয়ে বলে ও রোদের সাথে দেখা করতে চায়। ফোন ৩ দিন ধরে অফ।
একদমে কথা গুলো বলে।
রোদের মাও হাসি মুখে ভিতরে নিয়ে আসে। মিষ্টি কে ও আদর করে দেয়। রোদের রুমে নিয়ে যায়। মিষ্টি তো রোদকে দেখেই দৌড়ে যেয়ে জাপটে ধরে। রোদের মা তো পুরাই অবাক। জারবা সামলাতে বলে যে,, রোদ এর আগেও মিষ্টি কে আদর করত তাই এতোদিন পর দেখে মিষ্টি এমন করলো।রোদের মায়ের জারবার কথা তেমন বিশ্বাস হয় নি তা তার চেহারা দেখে ই বলা যাবে।
রোদ তো পুরাই থ মিষ্টি কে দেখে। দূর্বল শরীর নিয়ে জরিয়ে নিল মেয়েকে।জারবা মুগ্ধ নয়নে দেখছে। হঠাৎ ফোন বাজাতে ধ্যান ভাঙলো। আদ্রিয়ান ফোন করেছে।
— হ্যাঁ। ভাইয়া বলো।
–কি খবর ঐ খানে?
–আপুর শরীর তো খুবই খারাপ। বিছানায় ৩ দিন যাবত।
আর কিছু বলার আগেই ফোন কেটে দিল আদ্রিয়ান।
এ দিকে রোদ আদ্রিয়ানের কথা শুনেই ভিতরে আসার কথা বলে। রোদের মাও বলে যাতে ভিতরে আসে। মেহমান কেন বাসার বাইরে থাকবে।
হুট করেই কলিং বেল বাজে উঠে। রোদের মা দরজা খুলে দেয়। সামনে দাড়ানো ব্যাক্তি কে জিজ্ঞেস করতেই উনি সালাম দেয়।রোদের মাও জবাব দিয়ে আবার জিজ্ঞেস করার আগেই বলে,
আই এম আদ্রিয়ান। আমার মেয়ে আর বোন আপনাদের বাসায়।
শুনা মাত্রই উনি হেসে ভেতরে নিয়ে ড্রয়িং রুমে বসায় আর রোদকে জানাতে চায়। আদ্রিয়ান এদিক ওদিক দেখতে থাকে।
রোদর মা জানাতেই চমকে উঠে রোদ আর জারবা কারন আদ্রিয়ানকে ফোন দিয়েছিল বাট ধরে নি। মানে নিজ থেকেই এসেছে। রোদ দূর্বল তাই উঠে যেতে পারছে না। জারবা ভাইয়ের কাছে যায়। আদ্রিয়ান কে দেখেই বলে,
— ভাইয়া।।।।
— হু।মিষ্টি কই??
— আপুর কাছে।ঐ রুমে। চলো দেখবে।
— হুম। চল।
রুমে ডুকতেই চমকে যায় আদ্রিয়ান। রোদকে দেখতেই বুঝা যাচ্ছে কতটা দূর্বল। চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, ঠোঁট শুষ্ক, মলিন চেহারা তাও হাসি ভাব। তারই কোলে মুখ গুজে আছে মিষ্টি। রোদ দেখেই বললো,
— আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। কেমন আছেন??
— ওয়ালাইকুম আসসালাম। ভালো।তুমি এখন কেমন আছো??
— ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে, আলহামদুলিল্লাহ। ভালো।
প্লিজ বসুন।
আদ্রিয়ান সামনের কাউচে বসে। রোদের মা রুমে এসে বলে নাস্তা করতে।
আদ্রিয়ান বলে এসব না করতে।কিন্তু রোদ আর ওর মা এর জেদের কাছে হার মানে।রোদের মা জানায় ঐ দিন বাসায় আসার পরই ফুড পয়জিনিং হয়। আর এমনিতেও রোদের বাইরের খাবার এলাউ না। ওর শরীর খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু ঐ দিন নাকি রোদ বাইরের কিছু ই খায় নি।
আদ্রিয়ানের বুঝতে এক মিনিট ও লাগে নি কারন ঐ দিন রোদ ২ প্লেট ফুচকা খেয়েছে। আদ্রিয়ান রাগি চোখ রোদকে দেখে।
#চলবে….