ভালোবাসার ভিন্ন রুপ পর্ব-১১+১২

0
1061

#ভালোবাসার_ভিন্ন_রুপ
#সাইয়্যারা_খান
#পর্বঃ১১

সারা রাস্তা কেউ কাউকে কিছুই বললো না। রোদ ও আর কান্না করতে পারছে না। শরীর সায় দিল না। তার মধ্যে যদিও আদ্রিয়ানদের বাড়ি তেমন দূর না তাও দূর। প্রাইভেট কার এ উঠলে রোদ বরাবরই সিক হয়ে যায়। বমি পায়। কেমন যেন লাগে। একেতো ৪ দিন যাবত অসুস্থ তারপর সারাদিন না খাওয়া এরমধ্যে কান্না করে মাথা ও ব্যাথা আর এখন মরার উপর খাড়া এই গাড়ি যেটাতে কখনো জারনি করতে পারে না। অবশেষে গাড়ি থামলো। আদ্রিয়ান নেমে রোদের পাশের দরজা খুলে দিল। বেরিয়ে এলো রোদ। দাড়াতে পারছে না। কেমন যেন লাগছে। এই বাড়িতে আগেও এসেছে কিন্তু আজ যে এভাবে আসবে হবে তা কখনো ভাবে নি। কখনোই না।

সবাই আগেই পৌছে গেছে। দরজায় অপেক্ষা করছে। রোদকে দেখেই দৌড়ে এলো। মিষ্টি ঘুম। অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গেছে কারন আদ্রিয়ান বলেছে আজকে ওকে অনেক বড় সারপ্রাইজ দিবে। জারবার গলা পেয়ে রোদ চোখ তুলে তাকালো কিন্তু স্পষ্ট কিছুই দেখলো না। শরীর আর সায় দিল না। হেলে পরলো রোদ। আদ্রিয়ান তাড়াতাড়ি বুকে চেপে ধরলো। জারবা ভাবি বলে চিতকার করে উঠল। সবাই ব্যাস্ত হয়ে পরলো। আদ্রিয়ান ও প্রচুর ভয় পেয়েছে। শুধু মাত্র ওর জন্য রোদের এই অবস্থা। পাজা কোলে তুলে নিয়ে নিজের রুমে গেল। পেছনে সবাই গেল। বেডে শুয়িয়ে দিল রোদকে। পাশে নিজেও বসলো। পানি নিয়ে মুখে ছিটিয়ে দিল অনবরত ভাবি বলে ডাকছ জারবা। সবাই বেশ চিন্তিত। আদ্রিয়ান তো রোদের একহাত নিজের হাতের মুঠোয় পুরে বসে আছে। অনেকক্ষন পরে চোখ মেললো রোদ। আশেপাশে তাকিয়ে কিছু বুঝার চেষ্টা করলো। বুঝতে পেরে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরলো যা সন্তপর্ণে মুছিয়ে দিল আদ্রিয়ান। মাকে খাবার আনতে বললো। সবাই পরিস্থিতি বুঝে রুম ত্যাগ করলো। আবার চোখ বন্ধ করলো রোদ। আদ্রিয়ান মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। রোদ কিছু বলতে যেয়ে ও বলতে পারলো না। শরীরে শক্তি আর নেই।

__________________

আদ্রিয়ানের মা খাবার দিয়ে গেল। আদ্রিয়ান রোদকে ধরে উঠিয়ে হেলান দিয়ে বসালো। হাত ধুয়ে মুখের সামনে খাবার ধরলো। রোদ তখন ও নিচে তাকানো। আদ্রিয়ান মুখ খুলে বললো,

— হা করো।

…………

— রোদ খেয়ে নাও। তোমার শরীর দূর্বল।

…………..

খাবার মুখের সামনে নিতেই ঝাটকা দিয়ে ফেলে দিল রোদ। রাগে শরীর দাউ দাউ করে জ্বলছে।

আদ্রিয়ান আবার ও খাবার মুখের সামনে নিতেই রোদও একই কাজের পুনরাবৃতি করলে।

এই বার তেতে উঠল আদ্রিয়ান। রাগ করবে করুক তাই বলে না খেলে তো নিজে অসুস্থ হয়ে যাবে। প্লেট সাইডে রেখে বাহু চেপে ধরে বললো,

— খাচ্ছ না কেন??

কান্নায় ভেঙে পরলো রোদ। বললো,

— কেন এমন করলেন? কী দোষ ছিল আমার। ধোকা দিয়েছেন আপনি। কেন বিয়ে করলেন? আমার সব শেষ করে দিলেন। কি করেছি আমি? মেরে ফেলুন আমায়। থাকবো না আমি এখানে। কেন এমন করলেন? বলুন? কেন??? আমি চাই নি বিয়ে করতে তাহলে কেন এমন হলো? আমি তো এমন চাই কি? কেন এমন হলো? বলুন??

রোদের কান্না মাখা কন্ঠের ব্যকুলতা যেন আদ্রিয়ানকে দুমরে মুচরে দিচ্ছে। রোদও আর বলতে পারলো না। কান্ত শরীর হেলিয়ে দিল আদ্রিয়ানের উপর। আদ্রিয়ান আলতো করে ধরে আবার ও মুখে খাবার দিল দিলো। না চাইতেও খেয়ে নিল রোদ। ৪/৫ লোকমা খাওয়ার পর আর খেতে পারলো না। আদ্রিয়ান ও আর জোড় করে নি। যতটুকু খেয়েছে তাই বেশি আদ্রিয়ানের কাছে। মুখ মুছিয়ে পানি খায়িয়ে দিল। বললো,

— আস্তে করে উঠ। শাড়ীতে মেবি তুমি কমফোর্ট ফিল করছো না। চেনজ করে নেও।

— আমি আমার বর্তমান লাইফেও কমফোর্ট ফিল করছি না।। কীভাবে চেইনজ করবো বলুন তো???
দূর্বল গলায় বললো।

— আসো আগে চেইনজ করো বাকি কথা পরে।

বলে ধরে বেড থেকে নমিয়ে দিল। রোদ লগেজ থেকে একটা প্লাজু আর টিশার্ট নিয়ে নিল।

— সাওয়ার নিবা না। ঠান্ডা লাগবে। জাস্ট হাতমুখ ধুয়ে বের হবা। ( আদ্রিয়ান)

আদ্রিয়ানের কথা মানবে না তাইতো রোদ ঘারতেরার মতো গোসল করলো। কেন শুনবে ও আদ্রিয়ানের কথা? একটুকুও শুনবে না। আদ্রিয়ান কি ওর কথা ভেবেছে? হু? এসব কথা ভাবতে ভাবতে বেরিয়ে এলো রোদ। থরথর করে কাপছে।বেলকনিতে যেয়ে দাড়ালো। চোখ দিয়ে পানি পরছে। কেন এমন হলো?

আদ্রিয়ান রুমে এসে দেখে রোদ রুমে নেই। ওয়াশরুমে ও কোথায়। ভ্রু কুচকে কি যেন ভেবে বারান্দায় গেল। পলক আর ফেলা হলো না আদ্রিয়ানের। রোদ না চিকন না মোটা বরাবরই নাদুসনুদুস। মায়াবী তার চেহাবা। ঢোলা টিশার্ট আর প্লাজু পরা। চুল খেকে টুপটাপ পানি পরছে। গাল বেয়ে পরছে অশ্রু ধারা। বাতাসে থেমে থেমে কেপে উঠছে। আদ্রিয়ান জেন হারিয়ে গেল এই মায়াবীনিতে। হঠাৎ আওয়াজে ধ্যান ভাঙলো। দেখলো রোদ সাওয়ার নিয়েছে। না করার পরে ও এই মেয়ে এমন করেছে তার মধ্যে বাতাসে দাড়িয়ে আছে। এমনিতেই শরীর ভালো না। ধমকে উঠলো আদ্রিয়ান।

হঠাৎ ধমকে কেপে উঠছে রোদ। আদ্রিয়ানপর দিকে তাকানো যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে থাপ্পড় টাপ্পর দিয়ে বসবে। বাহু ধরে টেনে রুমে এনে চেপে ধরলো আদ্রিয়ান।

— না করি নি? তাও কেন সাওয়ার নিলা??

— আামার ইচ্ছা.।

— রোদ!!!!!

— আগে বলুন কেন এমন করলেন? কেন বিয়ে করলেন???

থেমে গেল আদ্রিয়ান। রোদকে বেডে বসিয়ে টাওয়াল দিয়ে সুন্দর করে চুল মুছিয়ে দিচ্ছে। হাটু সমান চুল অনেকক্ষন লাগলো মুছতে। মুছিয়ে বললো,

— সময় হলে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেব।

বলেই লাইট অফ করলো। রোদের চিতকারে তারাতাড়ি লাইট অন করলো।

— কী হয়েছে রোদ?

— আপনি লাইট কেন অফ করলেন?

— মানে? আলোতে আমার ঘুম হয় না।

— কোথায় ঘুমাবেন আপনি?

— হোট??? এতো বড় বেড দেখ না???

— মানে? তাহলে আমি কোথায় ঘুমাব??

— লুক রোদ । তুমি এখন আমার ওয়াইফ। সো উই কেন সেয়ার বেড।।

— না না আমি আপনার সাথে ঘুমাবো না।

— রোদ দেখ সিনেমা চলছে না এখানে। চুপচাপ ঘুমাও।ধমকে বললো।

এরপর রোদ চুপ। আদ্রিয়ান ও বেডে এসে শুয়েপরলো। রোদকেও টেনে নিজের পাশে শুয়িয়ে দিল। যদিও মাঝখানে ফাকা অনেক। আদ্রিয়ান কম্বলটা টেনে দিল রোদকে। পরম আদরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। ক্লান্ত রোদ মুহূর্তে ঘুমিয়ে গেল। আদ্রিয়ান ও বুকে টেনে নিল। মেয়েটাকে অনেক বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। ভাবতে ভাবতে নিজেও ঘুমিয়ে গেল।

#চলবে……

#ভালোবাসার_ভিন্ন_রুপ
#সাইয়্যারা_খান
#পর্বঃ১২

পাখিদের কিচিরমিচিরে ঘুম হালকা হয়ে এলো আদ্রিয়ানের। আসেপাশে তাকিয়ে দেখতেই বাকি ঘুম টুকু ও উড়ে গেল। চেখ যেন আটকে গেল। রোদের না জায়গা আর না ড্রেস কিছুই ঠিক নেই। রোদের মাথা একদম বেডের কিনারে পা একটা আদ্রিয়ানের উপর।টিশার্ট কিছুটা পেটের উপর উঠে আছে। প্লাজু ও অনেকটা উপরে। আদ্রিয়ানের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। এ মেয়ে ওকে পাগল করে ছাড়বে। দৃষ্টি ফিরিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল। আলগোজে ঠিক করে দিল ঘুমন্ত রোদকে। রোদের সাদা পেট টা যেন টানছে। চোখ ফিরিয়ে নিয়ে ফ্রেস হতে চলে গেল আদ্রিয়ান।

ফ্রেস হয়ে টাওয়াল পেচিয়ে রুমে এলে আদ্রিয়ান। রোদ তখন ও ঘুম। ভেজা চুল ঝারা দিতেই পানির ছিটা পরলো রোদের মুখে। বিরক্ত হয়ে আাবার ও ঘুম দিল। আদ্রিয়ান বিষয়টা লক্ষ্য করে আবার ও একই কাজ করলো। রোদ বিরক্ত হয়ে বললো,

— পোটলা তোকে আমি উগান্ডা পাঠাবো।

আদ্রিয়ান আশ্চর্য হয়ে তাকালো আদ্রিয়ান। বললো,

— তুমি জানো আমি তেমার কত বড়?? তাও তুমি আমাকে তুই তুকারি করছে???

রোদ বেচারি ভুলেই গেছে যে ওর বিয়ে হয়েছে। ও ভেবেছে ওর ছোট ভাই এমন করছে তাই তে এটা বললো। কিন্তু সামনে তো আদ্রিয়ান। রোদ কিছুক্ষণ থম মেরে বসে সব বুঝার চেষ্টা করলো। আদ্রিয়ান ও ভ্রুকুচকে তাকিয়ে আছে। ও বুঝতে পেরেছে যে রোদ ঘুমের মধ্যে ই এমন করেছে। অনেকক্ষণ পর রোদ নিজের অবস্থান বুঝতে পারল। আদ্রিয়ান রোদের সদ্যঘুম ভাংগা চেহারাটা দেখল। কতটা মায়াবী এই মেয়ে। নিজের ভাবনায় নিজেই বিরক্ত হলো আদ্রিয়ান। কেন ভুল করছে বারবার? ওতো আজও এক নারীতে আসক্ত।

রোদ চোখ তুলে তাকালো আদ্রিয়ানের দিকে। এখন খেয়াল হলো যে আদ্রিয়ান জাস্ট একটা টাওয়াল পেচিয়ে আছে। ভয়ে তাড়াতাড়ি চোখ ফিরিয়ে বললো,

— এইইই!!!!!!!

হকচকিয়ে গেল আদ্রয়ান। বললো,

— কী হয়েছে। চেচাচ্ছো কেন?

— আ আপনি এভাবে কেন?????

— মানে? কীভাবে???

— ড্রেস নেই আপনার??

আদ্রিয়ানের এখন মনে পরলো ও কী পরে আছে। তাই তাড়াতাড়ি কাবার্ড খুলে ড্রেস পরে নিল। বললো,

— যাও ফ্রেস হয়ে এসো।

— মিষ্টি কোথায়?

— আছে আগে ফ্রেস হও।

রোদ কিছু না বলে ফ্রেস হয়ে বের হয়ে এলো। আদ্রিয়ান এখন পুরো রেডি। রোদ টাওয়াল দিয়ে মুখ হাত মুছে তা বারান্দায় মেলে দিল। রুমে আাসতেই দেখলো মিষ্টি আদ্রিয়ানের কোলে। মিষ্টি বলে ডাক দিতেই, বলে উঠল,

— মাম্মা।

রোদ ওকে নিজের কোলে নিয়ে নিল। বিছানায় বসে জড়িয়ে নিল নিজের সাথে। আদ্রিয়ান যেন এবার সস্তি পেল। ভেবেছিল রোদ যদি ওর রাগ মিষ্টির উপর উঠায়। কিন্তু না ও ভুল। মিষ্টি ওরদিকে তাকিয়ে বললো,

— বাবাই। থাংকউ। সারপ্রাইজের জন্য।

আদ্রিয়ান হাসি দিল। রোদও কিছু বললো না। হুট করেই আদ্রিয়ানের চোখ গেল রোদের চুলের দিকে।হাটু সমান লম্বা আর ঘন। যদিও কাল রাতে নিজে ওর চুল মুছে দিয়েছিল কিন্তু আন্য সব চিন্তায় তা খেয়াল করে নি। আদ্রিয়ানের একবার নাক ডুবাতে ইচ্ছা জাগল ঐ চুলে। পরক্ষণেই নিজকে ধিক্কার জানালো এসব ভাবায়।মিষ্টির কথায় ধ্যান ভাঙলো আদ্রিয়ানের।

— বাবাই, মাম্মা এখন থেকে সবসময় এখানে থাকবে তাইনা???

— হুম মা। তোমার মাম্মা এখানেই থাকবে।

— লাভ ইউ বাবাই।

— লাভ ইউ ঠু সোনা।

এর মধ্যেই জারবা রুমে ডুকে বললো,

— ভাইয়া, আম্মু ভাবীকে নিয়ে নিচে যেতে বলেছে।

— হুম। আসছি।তুই মিষ্টি কে নিয়ে যা।

–আচ্ছা বলে জারবা মিষ্টি কে নিয়ে বের হলো।

আদ্রিয়ান রোদকে বললো,

— চলো নিচে।

— যাব না।

— কেন?

— আপনার কোন কথা শুনতে বাধ্য না আমি। চলে যাব আমি এখান থেকে।

চলে যাব কথাটা যেন আদ্রিয়ানের বুকে বিধে গেল।জোরে ধমকে উঠল।।

— জাস্ট সাট আপ। আর একটা কথাও না।

কেপে উঠলো রোদ।আদ্রিয়ান ওকে বললো,

— চল।

ভয়ে ভয়ে রোদ বললো,

— চেন্জ করে আসি??

কিছুক্ষণ ভেবে আদ্রিয়ান বললো,

— ৫ মিনিট। গো ফাস্ট।

রোদ লাগেজ থেকে একটা ফ্রক আর পেন্ট নিয়ে ওয়াসরুমে দৌড় দিল। বেচারি ৫ মিনিটের মধ্যেই বের হয়ে আসে। চুল রাতে শুকানোর পর আর আচরানো হয় নি। তাই তাড়াতাড়ি আচরাতে গিয়ে এতোবড় চুল আরো এলোমেলো করে ফেললো। তবুও আদ্রিয়ানের ভয়ে একটা চায়না কাটা দিয়ে খোপা করে ফেললো। উরনা মাথায় দিয়ে দেখলো আদ্রিয়ান বারান্দায় দরজায় হেলান দিয়ে দাড়ানো। রোদকে দেখে বললো,

— চলুন এবার মেডাম।

রোদ মাথা নিচু করে আদ্রিয়ানের পিছনে গেল। নিচে নেমেই দেখলো সবার খাবার সামনে বসে আছে কিন্তু খাচ্ছে না। বুঝায় যাচ্ছে ওদের জন্য ওয়েট করছে। রোদকে দেখেই আদ্রিয়ানের মা উঠে এসে জড়িয়ে ধরলো। অনেক আদর করলো। রোদও সবাইকে সালাম দিল। আদ্রিয়ানের বাবা বললো,

— এখন কেমন আছো মামনি???

— আলহামদুলিল্লাহ। ভালো আংকেল।

— আংকেল কেন মামনি, বাবা ডাকা জাবে না?

— একটু সময় লাগবে। চেষ্টা করবো।
মাথা নিচু করে বললো রোদ।

— তোমার যখন ভালোলাগে তখন বলো মামনি। আমি অপেক্ষা করবো।

আদ্রিয়ানের মা রোদকে আদ্রিয়ানের বসালো। তারপাশেই মিষ্টি। উনি মিষ্টিকে বললো,

— দাদুভাই এসো আমি খায়িয়ে দেই।

— মাম্মার কাছে খাব।

রোদ হেসে বললো,

— হুম। আমি খায়িয়ে দিব।

বলে রোদ মিষ্টিকে খায়িয়ে দিতে লাগলো। বাকি সবাইও খাওয়া শুধু করলো আদ্রিয়ান বাদে। ওর মা কয়েকবার বললো কিন্তু আদ্রিয়ান ফোনে কাজ করতে করতে বললো,

— হু। খাচ্ছি একটু পরে।

সবাই খাওয়া শেষে টুকটাক কথা বলছে।
আদ্রিয়ানের বাবা মা ওকে আদর করলো। বলেছে যাতে নিজের বাসা মনে করি। বাবা অফিসে চলে গেল। জারবা বসে বসে এটা ওটা বলছে। মিষ্টির ও খাওয়া শেষ। বসে আছে আদ্রিয়ানের সাথে। আদ্রিয়ানের মা এটা ওটা সব রোদের প্লেটে দিচ্ছে।আদ্রিয়ান ও নিজের প্লেটে খাবার নিল। রোদ বললো,

— আন্টি আমি নিয়ে খাচ্ছি। এতো একসাথে খেতে পারবো না।

— আাচ্ছা মা। আমি তোর কফি এনে দিচ্ছি।

— না না আন্টি। আমি বানিয়ে নিচ্ছি।

— কেন? আমার মেয়েকে আমি নিজ হাতে বানিয়ে দিব। চুপচাপ বস।

রোদ প্লেটে একটা পরটা আর ভাজি নিয়ে বসে আছে কিন্তু খাচ্ছে না। নারাচারা করছে।

আদ্রিয়ান খেয়াল করে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,

— কি সমস্যা? খাচ্ছ না কেন?

— কই খাচ্ছি তো।

আদ্রিয়ান নিজের প্লেটের মধ্যে রাখা ব্রেড এর মধ্যে ডিম রাখল তার উপর সালাত আর টমটো দিয়ে আর একটা ব্রেড দিয়ে চাপ দিয়ে সেন্ডউইচ বানিয়ে নিল। এরপর ঐটা রোদের প্লেটে দিয়ে বললো খাও।

— আপনি খান। আমি তো খাচ্ছি।

আদ্রিয়ান চোখ গরম করে তাকালো সাথে সাথেই রোদ ভদ্রমেয়ের মতো খাওয়া শুরু করল। আদ্রিয়ান ও রোদের একটু খাওয়া খাবারটা নিজে খাওয়া শুরু করল। রোদ যদিও না করেছিল কিন্তু আদ্রিয়ান শুনে নি।

এসব দেখে আদ্রিয়ানের মা নিজের চোখের পানি ফেললো। আজ কতগুলো বছর পর ছেলেকে স্বাভাবিক দেখছে।
কফি এনে দিল রোদ আর আদ্রিয়ান কে।

খাওয়া শেষে আদ্রিয়ান বললো,

— রোদ আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। জারবা আর মিষ্টির সাথে থেক। কেমন?

রোদ কিছুই বললো না। আদ্রিয়ান ও মিষ্টকে কোলে নিয়ে আদর করে চলে গেল। রোদও মন খারাপ করে বসে রইল।

#চলবে…….