#ভালোবাসার_ভিন্ন_রুপ
#সাইয়্যারা_খান
#পর্বঃ১৭
মাগরিবের আজান কানে আসতেই ধরফরিয়ে উঠলো রোদ। আদ্রিয়ান তখন রুমে ডুকলো। এলোমেলো রোদকে দেখে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে এগিয়ে গেল। বললো,
— উঠে পরেছো?
— ডাকেন নি কেন আমায়? ( ঘুম জরানো কন্ঠে)
আদ্রিয়ান নিজেকে সামলে বললো,
— ১০ মিনিট আপ্রাণ চেষ্টা করেও আপনাকে জাগাতে পারি নি মিসেস.আদ্রিয়ান।
— মিথ্যা কথা।
— মিষ্টি সাক্ষী।
এবার দমে গেল রোদ। মুখ ভেঙিয়ে এলোমেলো চুল হাত খোপা করার চেষ্টা করলো কিন্তু সবসময়ের মতোই পারলো না তাই একটা স্টিক দিয়ে আটকে নিল।আদ্রিয়ানকে বললো,
— নামাজে যাবেন না?
— হুম। এখনই যাব।
— আচ্ছা।
বলে রোদ ওয়াসরুমে ডুকে ফ্রেশ হয়ে একবারে ওযু করে বের হয়ে নামাজ পড়ে নিল। নামাজ শেষ করে দেখলো মিষ্টি আদ্রিয়ানের কোলে উঠে রুমে এসেছে। রোদ হিজাব খুলে চুল আচরে বেধে নিল। এরপর মিষ্টির চুলে দুটো বেনি করে দিল। কাপালে চুমু দিয়ে বললো,
— আমার বেবিটা কি খাবে?
মিষ্টি একটু ভেবে বললো,
— পাসতা খাব।
— আচ্ছা। চল।
যেতে নিবে এমন সময় আদ্রিয়ান বললো,
— তোমাকে রান্না করতে হবে না মিনুকে বলো ও করে দিবে।
— কেন কেন??? আমার মেয়ের জন্য আমি রান্না করবো।
— বলছি না মানে না।
— আমি তো করবই।
বলেই মিষ্টি কে কোলে তুলে দিল ভো দৌড়।
ওর যাওয়া দেখে শব্দ করে হেসে উঠল আদ্রিয়ান। এরপর নিজেও পিছনে গেল। নিচে নামতেই আলিফকে দেখে কোলে তুলে নিল আদ্রিয়ান। আদর করে দিয়ে সোফায় বসলো।আদ্রিয়ান ওর মাকে দেখে বললো,
— আম্মু ভাইয়া, ভাবী আর জারবা কোথায়?
— ওরা রুমে। আসছে নিচে। আর জারবা ওর রুমে।
— ওহ।
বলতে বলতেই সাবা আর আরিয়ান নেমে এলো। আদ্রিয়ানকে বললো,
— কিরে বউ কই তোর?
— কিচেনে।
সাবা বললো,
— কিচেনে মানে?
— মিষ্টি ওর হাতের পাসতা খাবে।
— ওহ।
বলতে বলতেই রোদ মিষ্টিকে নিয়ে সোফার রুমে আসতে লাগল। ঠান্ডার মধ্যেও নাকে হালকা ঘাম। সোফার রুমে ৩ জন অপরিচিত ব্যাক্তি দেখে ঐ খানে যাবে কি না ভাবতে শুরু করলো। সিদ্ধন্ত নিল যাবে না। তাই মিষ্টির হাত ধরে অন্য দিকে যেতে পা বাড়ালো। তার মধ্যেই আলিফ দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বললো,
— খালামনি।
রোদ প্রথমে চমকে গেল। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে বললো,
— কে তুমি বাবু?
— আমি আলিফ।
— মাশাআল্লাহ। সুন্দর নাম।
এর মধ্যেই আদ্রিয়ান ডাক দিল। রোদ তাও দাড়িয়ে থাকলো।অপরিচিত লোকের সামনে কিছুটা অসস্তি লাগে। আদ্রিয়ান ওকে আসতে না দেখে নিজে এগিয়ে গেল। ওকে বললো,
— কি ডাকছি না? আসো না কেন?
— মিষ্টিকে নিয়ে রুমে খাওয়াই।
— কেন?
— না মানে গেস্ট তো এখানে।
— কে গেস্ট?
— ওই যে।
— এটা ওদের বাসা।
— মানে।
আদ্রিয়ান ওর কাছে এসে হাত দিয়ে রোদের নাকের ঘাম মুছে দিয়ে বললো,
— চল তাহলেই বুঝবা।
রোদের হাত ধরে নিয়ে আসতেই সাবা উঠে এসে জড়িয়ে ধরলো রোদকে। রোদ ধরে নি। আরিয়ান আর আদ্রিয়ান দাড়িয়ে আছে। সাবা কান্না করছে রোদকে ধরে। রোদ এবার নিজেও জড়িয়ে ধরলো। সাবা ওকে ছেড়ে ওর সারা মুখে হাত বুলিয়ে বললো,
— এই চোখ । এই চোখ কতবছর পর দেখলাম। এই আরিয়ান দেখ অনির চোখ। চোখের এই তিল। বলে আবার ও জড়িয়ে নিল। আরিয়ানের চোখে ও পানি।
সাবা ওকে ছেড়ে ধরে বসিয়ে বললো,
— যান আমি কে?
— না মানে চিনতে পারছি না।
ওর কন্ঠ শুনে সাবা আর আরিয়ান পুরাই অবাক। সেম কন্ঠ। সাবা বললো,
— আবার বল।
রোদ একটু ইতস্তত করে আদ্রিয়ানের দিকে তাকালো।আদ্রিয়ান বুঝতে পেরে আরিয়ান আর সাবাকে শান্ত হতে বললো। সাবা ওর কথা না শুনে রোদকে বললো,
— বোন আমার ভালো প্লিজ একবার আপিপু বলে ডাক না। কতবছর এই কন্ঠ শুনি না।
রোদ কিছুটা আস্তে করে বললো,
— আপিপু প্লিজ কান্না করো না।
রোদের এই ডাকে আবারও কান্নায় ভেঙে পরলো সাবা। রোদ বুঝতে পেরে জড়িয়ে ধরে নিজেও কান্না করে দিল। আদ্রিয়ান জানে রোদ কাউকে কষ্টে দেখতে পারে না। আরিয়ান অবাক যে ২ মিনিটের পরিচয়ে কিভাবে এই মেয়ে একজনের জন্য কান্না করছে।
____________________
রোদ এবার ওদের পরিচয় জানতে পারলো। আরিয়ানও ওকে অনেক আদর করেছে। নিজের বোনের মতো।সাবা তো ছাড়ছেই না। কিন্তু রোদের কথা আলিফ তো তাহলে ওকে চাচি ডাকবে কিন্ত তা না করে কেন খালামনি ডাকে। আপাতত সব চিন্তা বাদ দিয়ে মিষ্টি কে খাওয়াচ্ছে। আলিফকে বলেছে কিন্তু ও খাবে না। সাবা আর আরিয়ান প্রথম বার রোদকে মিষ্টির সাথে এমন দেখে অবাক। আরিয়ান আদ্রিয়ানকে বললো,
— আদ্রিয়ান ও তো একটা বাচ্চা মেয়ে। কীভাবে সামলাবে সব?
— ও ছাড়া কেউ সামলাতে পারবে না।
— মেয়েটা অনেক কিউট।একদম বাচ্চাদের মতো।
— হুম। বাচ্চাই তো।
সবাই আরো কিছুক্ষন কথা বললো। আদ্রিয়ান রোদকে টেবিলে ডাকলো। রোদ যেতেই বললো,
— কিছু খেয়েছো?
— না।
— তা খাবে কেন? ( ধমকে)
— বকেন কেন? ক্ষুধা নেই।
— মাইর খেতে না চাইলে নাস্তা শেষ করো।
— সত্যিই পারবো না। বিশ্বাস করুন।
— আই সেইড ফিনিস ইট।
অগত্যা রোদ হালকা কিছু খেল। আদ্রিয়ান বললো,
— চলো রুমে।
— কেন?
— পরবে কে? ডাক্তার হবে কে?
— আসছি তো।
_________________
রাত ১২ঃ৪৫.
রোদ এখন ও পরছে। আরো একটু বাকি। এশার নামাজ পরে মিষ্টি কে খায়িয়ে ঘুম পারিয়ে দিয়ে আাবার ও পরতে বসেছে।আদ্রিয়ান রুমে প্লেটে করে খাবার নিয়ে এলো। রোদ একপলক তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল। আদ্রিয়ান একটু আগে খাওয়া নিয়ে আবার ও ধমক দিয়েছে। রুদ্র ফোন দিয়েছিল তাই আর কিছু বলে নি। রাদের সাথে ও কথা হয়েছে। আদ্রিয়ান বললো,
— কতটুকু বাকি?
……………
— কিছু জিজ্ঞেস করছি?? রোদ!!!
…………….
আদ্রিয়ান বুঝল তার পুচকো বউটার রাগ হয়েছে তাই কিছু না বলে ভাত মেখে মুখের সামনে এগুতেই রোদ মুখ ফুলিয়ে বসে রইল। আদ্রিয়ান ও যত্ন করে রোদের বই অফ করে নিজের দিকে ঘুরিয়ে কপালে উষ্ণ স্পর্শ দিল। ব্যাস পানি পানি হয়ে গেল রোদের রাগ। আদ্রিয়ান মুচকি হেসে নিজে ও খেল রোদকেও খায়িয়ে দিল। খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পরতে বললো আদ্রিয়ান। রোদ মন খারাপ করে বসে আছে। আদ্রিয়ান বুঝতে পেরে ওর কাছে এসে দু হতে মুখটা তুলে ধরলো। মেয়েটাকে একদম নিষ্পাপ মনে হয়। যতই বকো না কেন একটু আদর পেলেই আদুরে বিড়ালের মতো ঘেঁষে থাকবে। আদ্রিয়ান বললো,
— রোদু পাখির কি মন খারাপ?
— উহু।
— আম্মুর সাথে কথা বলেছ?
— হু।
আদ্রিয়ান নিজের ল্যাপটপটা নিয়ে রোদের মাকে ভিডিও কল দিল। রিসিভ হতেই রোদ ছলছল চোখে মায়ের দিকে তাকালো। সারাদিন ভুলে থাকলে ও রাতে যে মাকে ছাড়া চলে না। মা তো মা ই আাবার তার মধ্যে সবচেয়ে আদুরে মেয়ে বলা কথা। রোদের মা এটা সেটা বলে রোদকে বুঝালো। ভালো মেয়ের মতো রোদও সব বুঝার চেষ্টা করলো। তবুও অবাধ্য পানি গড়িয়ে পরলো। আদ্রিয়ান কল কেটে দিয়ে রোদকে নিজের দিকে ঘুরালো। দু হতে মুখ আগলে ধরে পানি মুছে দিল। মেয়েটার এই কষ্টের জন্য ও নিজে দায়ি।
— সরি।
আদ্রিয়ানের মুখে সরি শুনে রোদ মুখ তুলে তাকালো।
— আপনি কেন সরি।
— আমার জন্য ই তো তুমি কান্না করছো।
— উহু। আম্মুর কথা শুধু মনে পড়ে।
— আমাকে মাফ করা যায় না???
— এভাবে কেন বলেন?? আমি রাগ করে নেই।
— তা হলে হেসে দেখাও তো।
রোদ হেসে দিল। আদ্রিয়ান খেয়াল করলো মেয়েটা হাসলে দু গালে গাঢ় টোল পরে। মন চায় চুমু খেতে কিন্তু নিজের ইচ্ছা দমন করে রোদকে বুকে নেয় বাম পাশে বুকে মিষ্টি। আদ্রিয়ান হঠাৎ করে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যাক্তি মনে হলো।
______________________
এলার্মের আওয়াজে ঘুম ভাঙলে আদ্রিয়ানের মনে হলো ওর পায়ে কেউ চেপে ধরে আছে। ২ মিনিট সময় লাগলো বুঝতে। ওর পেটে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে মিষ্টি আর পায়ে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে রোদ। নিঃশব্দে হাসলো আদ্রিয়ান। মা মেয়ে একই ঘাটের মাঝি।
#চলবে…..
#ভালোবাসার_ভিন্ন_রুপ
#সাইয়্যারা_খান
#পর্বঃ১৮
খাবার টেবিলে বসতেই জানতে পারলো আজ নাকি আদ্রিয়ানের মামি আসবে। আর তার ফুপি ও নাকি লন্ডন থেকে আসবে। বড়িতে নতুন বউ এসেছে বলে কথা। এরমধ্যেই আরিয়ান রোদকে উদ্দেশ্য করে বললো,
— রোদ কিছুই তো ঠিক মতো খাচ্ছ না।
রোদের কিছু বলার আগেই আদ্রিয়ান ধমকে বললো,
— আরে ভাইয়া ও কিছু খাবে কেন? ওর খাবারের প্রয়োজন আছে নাকি? প্রতিদিন ধরে ধরে জোড় করে খাওয়াতে হয়।
বলেই রোদকে খেতে তাড়া দিল আবার নিজে তুলেও খাওয়ালো।
আদ্রিয়ানের ধমকে খারাপ লাগলেও কষ্টটাই বেশি। কি দরকার ছিল বড় ভাইয়ার সামনে ধমক দেওয়ার।রোদের বুঝি মান ইজ্জত নেই? নিজেই ভাবছিল এর মধ্যে আরিয়ান আদ্রিয়ানকে বললো,
— এই তোর সাহস তো কম না আদ্রিয়ান আমার সামনে আমার বোনকে ধমকাস?
আদ্রিয়ান কিছু বলবে তার আগে ওর মা বললো,
— একদম ঠিক করছে। তুই জানিস সারাদিনে কিছুই খেতে চায় না। নিজে সারাদিন মিষ্টিকে খাওয়া নিয়ে তাড়াদিবে কিন্তু নিজের বেলায় কিছু না।
রোদ এবার মাথা নিচু করে মুখটা কালো করে রাখলো। তা দেখে সাবা এগিয়ে এসে আদুরে গলায় কিছু বলতেই রোদ হালকা হাসল। আদ্রিয়ান বললো,
— আজতো ক্লাস নেই তোমার আমার সাথে বাইরে যাবে রেডি থেক। দুপুরের আগেই আাসব আমি।
রোদ কিছুই বললো না। আদ্রিয়ানের মা ওকে আর সাবাকে নিজের রুমে ডাকলো। সাবা আর রোদ ও গেল। আদ্রিয়ানের মা মোটা এক জোড়া বালা রোদকে পড়িয়ে দিল। বললো,
— এটা তোর মা।
— কিন্তু আমি তো এসব পরি না।
— বোকা মেয়ে। বিয়ে হয়েছে এখন থেকে পরবি। খালি হাত থাকতে নেই। ( সাবা বললো)
রোদ আর কিছু বললো না। আদ্রিয়ানের জন্য কফি নিয়ে রুমে গেল। কফি দিতেই আদ্রিয়ান বললো,
— বাহ,, আজ নিজ থেকেই নিয়ে এলে।
………….
— আচ্ছা মা দিল বুঝি।৷ ( হাতের দিকে ইশারা করে)
…………..
রোদের রাগ বুঝতে পারলো আদ্রিয়ান। নিশ্চিত সকালের কথার জন্য এই মেয়ে আবার ও গাল ফুলিয়েছে। আচ্ছা ওকি বুঝে না আদ্রিয়ানের যে এই গাল ফুলা দেখলেই আদর করতে মন চায় ওই গালে।
কফিতে চুমুক দিতে দিতে দেখলো রোদ হাতের কাংনা দুটো নিয়ে বেশ বিরক্ত। এছাড়াও রোদ তেমন জুলরি পরে না। শুধু কানে পাথরের টপ পরা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আদ্রিয়ান ওর হাত ধরে বললো,
— বেশি বিরক্ত লাগলে খুলে ফেল।
রোদ কিছু বললো না। হাত ছাড়াতে চাইলেই আদ্রিয়ান আরকটু জোড়ে ধরলো।রোদ কিছু বললো না। আদ্রিয়ান অতি সন্তপর্ণে হাত থেকে বালা খুলে দিল। তা আলমারি রাখলো। রোদ রুম থেকে যেতে নিলেই হাত ধরে আটকে দিল আদ্রিয়ান। নিজের দিকে ঘুরিয়ে প্রশ্ন করলো,
— আমার পুচকি বউটা বুঝি রাগ করেছে?
এই প্রথম কেউ বউ বলে সম্মোধন করায় কেপে উঠলো রোদ। আদ্রিয়ান নাকি ওকে বউ বলে ডাকলো। বুকের মধ্যে কেমন যেন লাগলো।লজ্জা ও লাগছে। উফ রোদের এবার মনে হচ্ছে এখান থেকে গেলেই বাচে কিন্তু আদ্রিয়ান ছাড়লে তো।
রোদের দিকটা আদ্রিয়ান বুঝতে পেরে বললো,
— এই গাল আর কতো ফুলাবা সোনা। কথা বলবা না আমার সাথে?
এমন আদুরে ডাকে কি আর রোদ সারা নি দিয়ে পারে। চোখ পানিতে টাইটুম্বর করে আদ্রিয়ানের দিকে তাকালো। আদ্রিয়ান হালকা ফু দিতেই তা গড়িয়ে পরলো। আদ্রিয়ান হেসে তা মুছে দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বললো,
— রাগ কমেছে ম্যাডাম?
— উহু।
— কি করতে পারে এই অধম মহারানির রাগ ভাংগাতে?
— কিছুনা। সবার সামনে কেন বকলেন?
— আল্লাহ কি বলে আমি কখন বকলাম?
রোদ ওর বুক থেকে মাথা সরিয়ে বললো,
— খাওয়ার সময় বকেন নি?
— না খেলে আরো বকবো।
— কথা নাই ছাড়ুন।
— উহু। আমার বউ আমি কেন ছাড়বো।
— আম্মুর কাছে যাব।
— আচ্ছা।
— নিয়ে যাবেন?
— আচ্ছা।
— সত্যি!!!
— হুম।
কপালে চুমু দিয়ে আদ্রিয়ান বললো,
— আমি ১ ঘন্টা পর আসছি তুমি রেডি থেক।
— কোথায় যাব??
— জানিনা।
— আরে শু….
আর কিছু বলতে না দিয়েই আদ্রিয়ান আসি বলে চলে গেল। রোদ মিষ্টি আর আলিফের সাথে কিছুক্ষন খেললো। মায়ের সাথে ও কথা হলো। সাবার সাথেও গল্প করলো।রেডি হয়ে আদ্রিয়ানের অপেক্ষা করতে লাগলো।
________________
ঠিক ১ ঘন্টা ১০ মিনিট পর আদ্রিয়ান কল দিয়ে রোদকে নিচে নামতে বললো।রোদ ও আদ্রিয়ানের মাকে বলে বেরিয়ে এলো। আদ্রিয়ান গাড়িতে হেলান দিয়ে ওর জন্যই অপেক্ষা করছিল। কিছুক্ষন মন ভরে দেখলো যে দেখায় নেই কোন চাওয়া, নেই কোন অপবিত্রা আছে শুধু মুগ্ধতা। রোদ একটা হাটু সমান গাউন পরেছে যার পিছনে পুরো পা পর্যন্ত সমনে হাটু পর্যন্ত সাদা গাউন। নিচে জিন্স দেখা যাচ্ছে। সাথে শর্ট জিন্সের জ্যাকেট। মাথায়ও সাদা আর গোলাপী মিশ্রণের হিজাব। ঠোঁটে নুড লিপস্টিক। ফুলা গালে হালকা ব্লাশন। মারাত্মক সুন্দর লাগছে রোদকে। আদ্রিয়ানের ঘোর কাটলো রোদের কথায়।
— কোথায় যাচ্ছি আমরা?
— চল। তাহলেই দেখতে পাবে।
মুখ ভেংচি দিয়ে ভিতরে বসল রোদ। আদ্রিয়ান ও হালকা হাসল।
___________________________
গাড়ি এসে থামল বসুন্ধরা শপিং মলের সামনে। রোদ জিজ্ঞেসু দৃষ্টিতে তাকাতেই আদ্রিয়ান নামতে ইশারা করলো। রোদ ও নামলো। গাড়ি পার্ক করে রোদের হাত ধরে ভিতরে গেল। রোদ বললো,
— এখানে কেন এলাম?
— অবশ্যই শপিং করতে।
— কি কিনবেন?
— চল দেখাচ্ছি।
বলেই বিভিন্ন শপে ঢুকে রোদের জন্য এটা সেটা দেখতে লাগলো আদ্রিয়ান। রোদ তা দেখেই বললো,
— আমার জন্য কেন দেখছেন?
— তো কার জন্য দেখবো?
— আমার কিছু লাগবে না।
— তোমার মতামত চাইনি।
আদ্রিয়ান এহেন কথায় রোদ আর তেমন কিছু বললো না। আদ্রিয়ান যেহেতু দেখেছে রোদ শাড়ি, থ্রি পিছ পরে না। তাই কয়েক জোড়া কুরতি, গাউন, রাতের জন্য টিশার্ট, প্যান্ট, আদালা প্লাজু আরো টুকটাক করতে করতে এতোকিছু কিনে দিল। সাথে ৩ টা বোরকা আর একস্ট্রা হিজাব ও নিল।এর মধ্যে রোদ কিছুই নিজে পছন্দ করে নি সব আদ্রিয়ান কিনেছে। যাওয়ার জন্য সামনে বারতেই রোদ একটা শপের ভিতরে ড্রেস দেখে আদ্রিয়ানকে রেখে ভিতরে গেল। আদ্রিয়ানের দু হাতে ব্যাগ থাকাতে রোদের হাত ধরতে পারে নি। পিছনে তাকিয়ে রোদকে না দেখে কপাল কুচকে এদিক ওদিক তাকালো। পিছনে ফিরতেই কপাল সটান করলো। রোদ একটা শপ থেকে কিছু কিনছে। ভিতরে যেতে দেখলো রোদ ছোট কিছু ড্রেস আর একটা বেবি গাউন দেখছে। আদ্রিয়ান বুঝলো এগুলো মিষ্টির জন্য। রোদ পেমেন্ট করতে গেলে আদ্রিয়ান নিজেই দিতে চায় কিন্তু রোদ শুনে না। ওর কথা আমার মেয়েকে আমি দেব আপনার মন চাইলে আপনি ও নিন।
শপিং করতে করতে এখন ৩ঃ০০ বাজে। রোদের প্রচুর ক্ষুধা লেগেছে। আদ্রিয়ানের ও একই অবস্থা। তাই ওরা ৭ ফ্লোরে খেতে গেল। রোদকে দেখতেই ক্লান্ত লাগছে। ঠান্ডায় নাকের ডগা লাল হয়ে আছে।রোদকে জিজ্ঞেস করলে বললো,
— আপনি যা মন চায় অর্ডার করুন।
আদ্রিয়ান ও ফ্রাইড রাইস,চিলি চিকেন, চিকেন ফ্রাই, কারি আর চিলি অনিয়ন অর্ডার করলো। খাবার আসতেই ওরা খাওয়া শুরু করলো। রোদ আর খেতে না চাইলে আদ্রিয়ানের গরম চোখ দেখে আরেকটু খেল।
রোদের খাবার খাওয়া নিয়ে আদ্রিয়ানের চিন্তা দিনকে দিন বারছে। রোদকে দেখতে নাদুসনুদুস হলেও রোদের খাবার খুবই কম। এতটুকু খাবার খেয়ে তো ওর পাট কাঠির মতো শরীর হওয়ার কথা।
ওর চিন্তার মধ্যেই খাবার শেষ করলো। বাসায় আসতে উদ্দত হলো। গাড়িতে রোদ ২ বার বমি করেছে। যেহেতু জ্যাম ছিল তাই আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আদ্রিয়ানের চিন্তা বেরেই যাচ্ছে রোদকে নিয়ে।
#চলবে………