ভালোবাসি প্রিয়তম পর্ব-০৫

0
1381

#তাসনিম_তামান্না
#ভালোবাসি_প্রিয়তম
#পর্ব_৫

🍁🍁🍁

ক্লাস শেষে সবাই এক এক করে ক্লাস থেকে বের হলেও কুয়াশাকে বসে থাকতে দেখে। মেঘা বিরক্ত হয়ে বলল

-তুই কি আজ এখানে থাকার প্লান করতেছিস(মেঘা)

কুয়াশা অসহায় ফ্রেস করে বলল

-না… কিন্তু… আসলে (কুয়াশা)

-কি বলতেছিস এগুলা কোনো কিছুর আগা মাথা নাই(মেঘা)

-আরে আমি বলতেছি একটু গিয়ে দেখে আই না ঔ সকালের আপুভাইয়া গুলো আছে কি না যদি থাকে তাহলে আমি যাবো না ঔ আপুভাইয়া গুলো চলে গেলে যাবো(কুয়াশা)

কুয়াশার কথা শুনে মেঘাও কুয়াশার পাশে বসে বলে

-ও হ্যাঁ আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম আমি ও যাবো না কি জোরেই না ধমক দিয়েছে… ভাভাগো…ভাভা…দেখ এখনো ভাবলে কলিজা লাফাছে (মেঘা)

-যা না বসে পড়লি কেনো তুই না বীরমহিলা(কুয়াশা)

-এই কুতি এই একদম পাম্প দিবি না আমাকে(মেঘা)

-আমি পাম্প দিলাম কখন আমি পাম্প দিলে তুই ফেটে যাবি(কুয়াশা)

মেঘা কিছু বলতে যাবে তার আগেই ঈশান এসে বলল

-কিরে তোরা এখনো এখনে বসে আছিস কেনো আমি তো ভাবলাম তোরা আমার পিছনে পিছনে আসছিস তাই তো বকবক করতেছিলাম তোদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পিছনে ফিরে দেখলাম তোরা কেউ নেই আমাকে একা বকবক করতে দেখে কয়েকটা মেয়ে পাগল বলে হাসছে(ঈশান)

বলতে বলতে বসে পরলো ব্রেন্সে মুখগোমরা করে বসলো। ঈশানের কথা শুনে ওরা হাসতে হাসতে শেষ। ওরাদের হাসতে দেখে চেতে ওঠে ঈশান রেগে মেঘার আর কুয়াশার চুল টান দেই।ওরা দু’জন ব্যথায় আর্তনাদ করে মাথা হাত বুলাতে লাগলো।

-তোদের দুজনের জন্য আমার মান সম্মান প্লাস্টিক হয়ে গেলো(ঈশান)

কথাটা শেষ হতে না হতেই ঈশানের পিঠে দুম দুম করে কয়েকটা কিল পরলো।ঈশান ব্যাথ্যায় চোখ মুখ কুচকে ফেললো।

-তোর আবার মান সম্মান আছে না কি(মেঘা)

-বিয়াদ্দপ আমাকে এতো জোরে মারতে পারলি(ঈশান)

-তুই জোরে চুল টানছিস আমরাও জোরে মারছি কাটাকাটি(কুয়াশা)

-দূর চল তোদের সাথে আমি জীবনেও কথায় পারবো না(ঈশান)

-আমি যাবো না(কুয়াশা)

-আমিও যাবো না(মেঘা)

ঈশান বিরক্ত হয়ে বলল

-থাক তাহলে আমি যায়(ঈশান)

-না না শোন না ভাই(কুয়াশা)

ঈশান উত্তর দিলো না আড়চোখে তাকিয়ে উঠে গেলো।কুয়াশা আর মেঘা ঈশান কে গিয়ে আটকালো।ঈশান রাগ দেখিয়ে বলল

-সামনে থেকে সর আমি যাবো তোরা বসে বসে ঢং কর(ঈশান)

-এমনে বলিস কেনো? বিপদে রেখে চলে যাচ্ছিস(মেঘা)

-বিপদ!! কিসের বিদপ(ঈশান)

-ঔ সকালের আপু ভাইয়া গুলো যদি থাকে(মেঘা)

-থাকলে থাকবে চল আমি আছি(ঈশান)

-অনু আর রাহুল কই?(কুয়াশা)

-প্রেম করতে গেছে চল(ঈশান)

ঈশানের কথা শুনে ওরা একটু সাহস পেয়ে ক্লাসের বাইরে আসলো।ক্লাস দোতালায় হওয়ায় ওপর থেকে নিচে স্কেন করে নিলো।কেউ নেই দেখে তিড়িং বিড়িং করে লাফাতে লাফাতে বাসার দিকে দৌড় দিলো।

★★★

তুষাররা কেন্টিনে বসে আড্ডা দিচ্ছে।

-রিদ তুই ফোনের ভিতরে কি করছিস আমরা এতো কথা বলছি আর তুই হুম হুম করছিস কেনো বার বার কি করছিস ফোনে দেখি(হাসান)

মুন পিৎজা খেতে খেতে বলল

-দেখ আবার কোন মেয়েকে পটানোর চেষ্টা চালাছে(মুন)

হাসান রিদের কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে দেখে চোখ বড়বড় হয়ে গেলো।তাদেখে রিদ মেকি হাসি দিলো।সবাই হাসানের এক্সপ্রেস দেখে কিছু বুঝতে পারলো না কি হইছে।

-কি হইছে এভাবে এক্সপ্রেস দিচ্ছিস কেনো(রুকাইয়া)

হাসান অবাকের রেস কাটিয়ে উঠে বলল

-কুয়াশা আর মেঘার এফবি আইডি খুঁজে পেয়েছে(হাসান)

সবাই একসাথে বলল

-কিহহ!!

-কই দেখি(তন্নি)

সবাই মিলে দেখতে লাগলো

-দূর দুইটার প্রোফাইলই লক করা ফেন্ড না হলে দেখা যাবে না(রিদ)

-বাট কভার পিকে দুইটা বাবুর পিক দেওয়া এরা কারা দেখতে অনেক কিউট টুইন মনে হচ্ছে (রুকাইয়া)

-ওদের বাচ্চা (বলে চোখ বড়বড় করে বলল) ওরা মেরিড হাই হাই আমার কি হবে আমি প্রেম করার আগে ছেঁকা খেলাম এ দুক্কু আমি কই রাখবো(রিদ)

-হোপপ গুগল থেকে মনে হয় ডাউনলোড করে কভার পিক দিছে এমন পিক কত দেখছি(সাদাফ)

-হুম হতেও পারে(হাসান)

তুষার বসে বসে কোক খাচ্ছে আর আড়চোখে ফোনের স্কিননে তাকাছে। প্রফাইলে কুয়াশার একটা ছবি দেওয়া সাদা একটা টপস পড়া চুলগুলো দু’পাশে ঝুটি করে বাঁধা। মুখে কিউট একটা হাসি। মেঘার লাল টপস পড়া চুলগুলো ছাড়া।

-ওমাই আল্লাহ এই মেয়ে এতো কিউট কেমনে হয় দোস্ত দেখ পুরাই বাচ্চা দের মতো একটা পিক দেওয়া আমি তো ক্রাস খাইলাম(মুন)

-আমি তো পিকেই কুয়াশাকে হাসতে দেখলাম সামনে তো সবসময় কেমন ভীতু হয়ে থাকে(রুকাইয়া)

-হ্যাঁ ঠিকই বলছিস মেয়েটার হাসিটাও সুন্দর(তন্নি)

-মেয়ে হয়ে মেয়ের ওপরে ক্রাস খেতে লজ্জা করে না তোদের(সাদাফ)

-আরে ক্রাসিত হলে কি করবো(মুন)

-ফেন্ড রিকুয়েষ্ট দিচ্ছি একসেপ্ট না করলে কাল কলেজে আসলে বলবো একসেপ্ট করার কথা(রিদ)

-কি পরিমাণ ছেসড়া তুই(তন্নি)

-আরে প্রেম করার জন্য একটু আধটু ছেসড়ামি করতে হয়(রিদ)

তুষারের রিদের কথা শুনে রাগ উঠে গেলো রেগে বলল।

-ঔ মেয়েকে নিয়ে এতো কিসের কথা তোদের?সারাদিন কানের কাছে ঔ মেয়ের কথা শুনতে শুনতে জাস্ট অসহ্য লেগে গেছে।আর একবারও যদি ঔ মেয়ের কথা আমার কানের আসে তোদের আমি খুন করবো(তুষার)

বলে গটগট করে চলে গেলো

-যাত তেরি এর আবার কি হলো (তন্নি)

একটা হাসি দিয়ে রিদ বলল

-জ্বলে বন্ধু জ্বলে (রিদ)

-মানে(মুন)

-কিছু না(রুকাইয়া)

-কি লুকাচ্ছিস তোরা(তন্নি)

-পেটপাতলা(রিদ বিরবির করে বলল )

-আরে কি লুকাবো চল বাড়ি চল(হাসান)

.

তুষার বিকালে বাসায় এসে দেখলো ওর বাবা সোফায় বসে চা খাচ্ছে আর ফাইল চেক করছে।কোনো কথা না বলে উপরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই।তুষারের বাবা (তুহিন সাহেব)বলে উঠলো

-তুষার তুমি তো সারাদিন ঘুরাঘুরি করো অফিসে তো একটু বসতে পারো নাকি(তুহিন)

তুষার কথাটা শুনেও না শোনার ভান ধরে নিজের রুমে চলে গেলো। তুহিন সাহেব একটা দীর্ঘ শ্বাস নিলেন।তার ছেলেটা তার সাথে কতদিন হয়ে গেলো ভালো করে কথা বলে না।

তুষার প্রতিদিনের মতোই ফ্রেশ হয়ে। নাস্তা করে ল্যাপটপ নিয়ে বসে মুভি দেখতে দেখতে কিসিং সিন টাই নায়কার জায়গায় বার বার কুয়াশাকে দেখছে আর নায়কের জায়গায় নিজেকে দেখে বিরক্ত হয়ে ল্যাপটপ বন্ধ করে দিলো।মাথা চেপে ধরে কিছুক্ষণ বসে থেকে স্মোক করতে থাকে।রাত হয়ে গেলো খেয়ে ঘুমিয়ে গেলো।

★★★

রাত ২:৩৮ বাজে কুয়াশার ফোন বেজে উঠলো। কয়েক বার বাজতেই কুয়াশা বিরক্ত হয়ে শেষ মেষ ফোন কানে দিলো।

-হ্যালো কে?(কুয়াশা)

-দোস্ত আমি আর বাঁচবো না মরে যাবো আমি বেঁচে থেকে কি করবো বল এর চেয়ে মরে যাওয়াই ভলো(ঈশান)

ঈশানের কথা শুনে কুয়াশার ঘুম কর্পূরের মতো উড়ে গেলো ভয়াত গলায় বলল

-এসব কি বলছিস তুই আমার সাথে মজা করছিস তাই না(কুয়াশা)

-এই রাতের বেলা আমি মজা করবো কেন বল আমারে কেউ ভালোবাসে না দোস্ত আমি হাত কাটছি দোস্ত দেখ হোয়াটঅ্যাপে পিক দিছি ভালো থাকিস দোস্ত আমি আর কিছুক্ষণ আছি বাই(ঈশান)

কথাটা বলে খট করে ফোন কেটে দিলো ঈশান কুয়াশাকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না

-এই এই এই কি বলছিস এসব তুই তু তুই ক কিছু করবি না হ্যালো হ্যালো দোস্ত হ্যালো(কুয়াশা)

ফোন কান থেকে সরিয়ে দেখলো ফোন কেটে দিয়েছে কুয়াশা কয়েক বার ফোন দিলো কিন্তু ঈশান রিসিভ করলো না।কুয়াশার ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যেতে লাগলো।কাঁপা কাঁপা হাতে নেট ওন করে হোয়াটঅ্যাপে গিয়ে দেখলো সত্যি হাতের শিরা কেটেছে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে। পিকটা দেখে কুয়াশা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।

মেঘ কাজ শেষ করে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো পানি খাওয়ার জন্য পানি খেতে গিয়ে দেখলো পানি নাই।পানি আনতে নিচে যাওয়ার সময় কুয়াশার রুম থেকে কান্নার আওয়াজ পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে কুয়াশার রুমে গিয়ে দেখলো কুয়াশা কান্না করছে। কুয়াশা রুমের দরজা লক করে না বিধায় সহজে রুমে ডুকতে পারলো।

-কি হয়েছে এভাবে কান্না করছিস কেনো ভয় পেয়েছিস(মেঘ)

-ভাইয়া(বলে আবার কান্না শুরু করলো কুয়াশা)

-আরে কি হইছে সেটা বলবি তো(মেঘ)

কুয়াশা ঈশানের সব কথা বলল

-দেখি পিক দেখা(মেঘ)

কুয়াশা পিক দেখালো মেঘকে। মেঘ পিক দেখে কুয়াশার মাথায় চাটি মারলো।

-গাধী পিকটা ভালো করে দেখ ফালতু কাঁদে (মেঘ)

কুয়াশা পিকটা ভালো করে দেখলো এটা সকাল বেলা ঘাসের ওপরে তোলা পিক কিন্তু এখন তো রাত।এটা দেখে রাগে ফোঁস ফোঁস করতে লাগলো কুয়াশা মনে হচ্ছে ঈশানকে সামনে পেলে এক্ষুনি ভংসো করে দিবে।

-থাক ঘুমা কাল ওর ব্যাবস্থা করিস অযথা কান্না করতে পারিস ভালোই(মেঘ)

কথাটা বলতে বলতে চলে গেলো মেঘ।

কুয়াশা রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো কুয়াশা।

.

সকাল থেকে কুয়াশা রেগে বোম হয়ে আছে।মেঘ সবাইকে কাল রাতের কথা বলেছে সেটা শুনে বাসার সবাই পচিয়েছে।তাতে কুয়াশা আরো রেগে আছে।কুয়াশা আর মেঘা কলেজে এসে দেখলো। অনু,রাহুল আর ঈশান দাড়িয়ে গল্প করছে।ঈশান কুয়াশাকে দেখে শুকনো ঢোক গিলে ভোঁ দৌড় দিলো। কুয়াশাও ঈশানের পিছনে দৌড় দিলো।

এতক্ষণ তুষার আর তুষারের ফেন্ডরা গল্প করছিলো আর রিদ কুয়াশা আর মেঘার জন্য ওয়েট করে গেটের দিকে তাকিয়ে ছিলো।কিন্তু কুয়াশাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে ও রেগে আছে সেটা দেখে ও অবাক+সাহস করে আর কুয়াশার দিকে যায় নি।কিন্তু ঈশান আর কুয়াশাকে এভাবে দৌড়াতে দেখে সবার দৃষ্টি ওদের দিকে যায়।অনেকই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

#চলবে
#tasnim_tamanna

[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।গঠনমূলক কমেট করবে]