#তাসনিম_তামান্না
#ভালোবাসি_প্রিয়তম
#পর্ব_৬
🍁🍁🍁
কুয়াশা আর মেঘা কলেজে এসে দেখলো ঈশান,অনু,রাহুল মাঠে দাড়িয়ে গল্প করছে।ঈশান কুয়াশাকে দেখে শুকনো ঢোক গিলে ভোঁ দৌড় দিলো কুয়াশা ও ঈশানের পিছনে দৌড় দিলো।
কলেজের প্রায় সবাই সে দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। রিদ কুয়াশার জন্য ওয়েট করতেছিলো রিদের ফেন্ড রিকুয়েষ্ট আকসেপ্ট না করার জন্য। কুয়াশাকে রেগে কলেজে ডুকতে দেখে ও আর ওদিকে যায় নি।তুষার আর তুষারে ফেন্ডরা তো অবাকের শীর্ষে পৌঁছে গেছে। যে মেয়েটা কাল ওদের সামনে ভয়ে কথায় বলতে পারছিলো না সে কি না আজ একটা ছেলের পিছনে দৌড়াছে আবার ছেলেটাও ভয়ে দৌড়াছে।
ঈশান দৌড়ে কলেজের বাইরে চলে গেলো পিছনে পিছনে কুয়াশাও গেলো। কেউ কিছুই বুঝতে পারলো না যে যার কাজ করতে লাগলো, কেউ কেউ বোঝার চেষ্টা করছে কি হলো।মেঘা,অনু আর রাহুল হাসতে হাসতে ঘাসে বসে পড়লো।
কুয়াশা আর ঈশান কলেজের বাইরে যেতেই তুষারের ফেন্ডরা একে ওপরের দিকে তাকাতাকি করতে লাগলো কারণ ওরা কেউই কিছু বুঝে পারছে না কি হলো এটা।
-এটা কি ওর বফ তাহলে আমার কি হবে(রিদ)
-হতে পারে এতো কিউট মেয়ের এইযুগে বফ থাকবে না তা কি কখনো হয়(মুন)
-এযুগে শুধু আমি-ই সিংগেল রয়ে গেলাম কি ফাটা কপাল আমার(রিদ)
তুষারে হঠাৎ নিজেকে কেমন মনে হচ্ছে ওর কষ্ট হচ্ছে নাকি হারিয়ে ফেলার ভয়।ওদের কথা শুনে কেমন অস্থির লাগছে। ওর গলাটা বার বার শুকিয়ে যাচ্ছে।
-ঔ তো ওখানে ওর বোন আছে চল ওর কাছে গিয়ে শুনি কি হইছে (তন্নি)
-চল যদি এটা সিংগেল থাকে তাহলে ওটারেই পটামু(রিদ)
সবাই মেঘাদের সামনে গিয়ে দাড়ালো তুষারের পা কাঁপছে কোনো অজানা কারণেই ওর রাগ,দুঃখ, অজানা কারণে ভয় পাচ্ছে।মেঘারা হাসি থামিয়ে ওদের দিকে পিটপিট করে তাকালো। কিছুক্ষণ ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে ওরাও উঠে দাড়ালো মেঘা একটা মেকি হাসি দিয়ে বলল -কিছু বলবেন আপুভাইয়ারা(মেঘা)
-আব…হ্যাঁ(রিদ)
-জী বলুন কি বলবেন(মেঘা)
রিদ রুকাইয়ার বাহুতে একটু ধাক্কা দিলো রুকাইয়া ও বুঝলো রিদ ওকে কথা বলতে বলছে।
-আসলে কুয়াশা ওভাবে দৌড়ালো কিছু বুঝালম না তাই শুনতে আসলাম কোনো সমস্যা হইছে কি না(রুকাইয়া)
-না আপু কোনো সমস্যা না এটা ফান ছিলো(মেঘা)
-মানে কিছু বুঝলাম না(হাসান)
-আসলে কাল(কালকের ঘটনাটা বলল মেঘা)
-বাহ তাহলে তোমরা কয়জন ফেন্ড (সাদাফ)
-হ্যা ৫ জন(মেঘা)
-মজা লাগছে(রিদ)
.
কলেজের থেকে কিছু দূর এসে ঈশান হাঁপাতে লাগলো একটা বড় গাছের শিকড়ে বসে বলল
-দোস্ত আর দৌড়াতে পারতেছি না মাফ কর আর জীবনে তোর সাথে এমন মজা করবো না (ঈশান)
-ওমন করলি কেন সেটা আগে বল(কুয়াশা)
-আরে আমার ঘুম আসতে ছিলো না তাই ভাবলাম একটু মজা করি আর তুই একটু গাধা থুক্কু গাধী তো তাই ফান করার জন্য তুই ই বেষ্ট ছিলি(দাঁত কেলিয়ে বলল ঈশান)
কথাটা শেষ হতে না হতেই চড় থাপ্পড় কিল চুল টানা পড়লো ঈশানের অবস্থা খারাপ করে দিসে কুয়াশা।
-আরে আরে আহ ওমাগো আর মারিস না আর এমন করবো না বোইন মাফ কর(ঈশান)
-ওকে মাফ করতে পারি একটা শর্তে(কুয়াশা)
ঈশান চুল ঠিক করতে করতে বলল
-আবার শর্ত ওকে বল শুনি তোর কি শর্ত(ঈশান)
-আইসক্রিম কিনে দিবি(কুয়াশা)
-ও আচ্ছা এই ব্যাপার স্যাপার ওকে চল কিনে দিবো নো প্রোবলেম তুই চাইছিস আর আমি সেটা কখনো দেই নি এমন কখনো হইছে(ঈশান)
কুয়াশা ঈশানের হাতে চিমটি দিয়ে বলল
-একদম মিথ্যা বলবি না বিয়াদ্দপ(কুয়াশা)
হাত ডলতে ডলতে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল
-ওফফ এতো জোরে কেউ চিমটি দেই বাবাগো জ্বলতেছে খুব আর মিথ্যা বলবো না চল রাক্ষসী (ঈশান)
-কি বললি তুই(কুয়াশা)
-কিছু না আফা সত্যি তুই আমার বোন না চল(ঈশান)
.
মেঘারা আর তুষারের ফেন্ডরা গল্প করছে। এটা সেটা প্রশ্ন করছে আর মেঘারা সেটার উত্তর দিচ্ছে। তুষারের সবটাই শুনছে কিন্তু কিছু বলে নি।তুষার বার বার গেটের দিকে তাকাছে ওর অজানতেই দু-চোখ শুধু কুয়াশাকে খুঁজছে। তুষার অধ্যর্য হয়ে বলল
-তোমাদের ঔ দুইটা ফেন্ড এখনো ফিরছে না যে(তুষার)
-হ্যাঁ অনেকক্ষণ হয়ে গেছে এখনো আসছে না কেনো(রুকাইয়া)
-আমি ফোন দিচ্ছি(রাহুল)
-আরে ঔ তো ওরা এসে গেছে(অনু)
সবাই সে দিকে তাকালো দেখলো ঈশান আবুল মার্কা হাসি দিয়ে এগিয়ে আসছে আর কুয়াশাও মেকি হেসে এগিয়ে আসছে।ওরা দুজন এসে সবার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো।তুষার সে হাসি দেখে সুখ অনুভব হলো।
-কুয়াশা তোমার সাথে একটু কথা ছিলো(রিদ)
-জী ভাইয়া বলেন(কুয়াশা)
-ভাইয়া!!( বলে ফিক করে হেসে দিলো তন্নি)
রিদ তন্নির দিকে আড়চোখে তাকালো
-আপু আসলে তোমারকে ফেন্ড রিকুয়েষ্ট দিচ্ছি একসেপ্ট করোনি কেনো(রিদ)
রিদের কথাশুনে মুন যে হাসি চেপে রাখছিলো সেটা রিদের মুখে আপু ডাক শুনে বের হয়ে গেলো।
কুয়াশারা বোকার মতো তাকিয়ে আছে হাসছে কেনো সেটাই বুঝতে পারছে না বেচারাগুলা।
-আপু আপনারা দুজন কি পাগল হয়ে গেলোন এভাবে পাগলের মতো হাসছেন কেনো(ঈশান)
ঈশানের কথা শুনে ওদের হাসি থেমে গেলো।তন্নি রেগে বলল
-এই ছেলে পাগল বলছো কাকে(তন্নি)
-এভাবে কোনো কারণ ছাড়া হাসলে যে কেউই পাগল বলবে(হাসান)
তন্নি আর মুন কিছু বলল না।
-একসেপ্ট করো (রিদ)
-আচ্ছা (কুয়াশা)
-তোমাকেও দিসি একসেপ্ট করো(মেঘাকে উদ্দেশ্য করে বলল রিদ)
-আচ্ছা আমরা যায় আমাদের ক্লাস আছে(মেঘা)
কথাটা বলে ক্লাসের দিকে যেতে লাগলো।
-আমার কিন্তু এদেরকে সুবিধার লাগছে না(রাহুল)
-কাদেরকে(অনু)
-এই যে সিনিয়র দের কারোর সাথে তেমন কথা বললো না কিন্তু আমাদের সাথে নিজেরাই এসে সেধে সেধে কথা বললো ব্যাপারটা কেমন একটা না(রাহুল)
-হুম তা ঠিক(ঈশান)
-কিন্তু ওদের কি উদেশ্য থাকতে পারে তেমন কোনো রিজন দেখছি না তো(অনু)
-ঔ রিমা বলে মেয়েটাকে কিন্তু সেদিনের পর কলেজে আসেনি হতে পারে কুয়াশার আর ঔ ছেলেটার ধাক্কা লাগায় মেয়েটা ব্রেক আপ করে দিছে সেজন্য ওরা রিভেঞ্জ নিতে চাইছে(ঈশান)
-কি!!(কুয়াশা)
-হুম হতেও পারে কিন্তু এই ছোট কারণে ব্রেকআপ?? (রাহুল)
-আচ্ছা এসব বাদ দে সবসময় চোখকান খোলা রাখবি সবাই একসাথে সাবধানে থাকবো আর যা হবে পরে দেখা যাবে(অনু)
-আমার ভয় লাগতেছে(কুয়াশা)
-আমারও(মেঘা)
-ঘোড়ার আন্ডা আমরা আছি তো(ঈশান)
কথা বলতে বলতে ওরা ক্লাসে চলে আসলো।
★★★
বেশকিছু দিন কেটে গেছে এই ক’দিনে তুষার কুয়াশাকে কোনো কারণ ছাড়ায় একা পেলে ধমক দিতো ‘এই মেয়ে’ এইটুকু যেই বলতো কুয়াশা ওখান থেকে হাওয়া পালিয়ে আসতো। আর সবার সামনে রাগী চোখেও তাকাতো।কুয়াশা শুধু ভয়ে ঢোক গিলতো। তুষার কুয়াশাকে ভয় পেতে দেখে মজা পেত আনমনেই হাসতো।
আজ রিমা কলেজে এসেছে। রিমাকে দেখে কুয়াশা ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু রিমা তেমন কিছুই বলেনি এমনি কুয়াশার দিকে তাকাইও নি। তাহলে কি রিমা তার অপমানের প্রতিশোধ নিবে না? নাকি কুয়াশার জন্য ভয়ানক কিছু অপেক্ষা করছে? যা কুয়াশার জীবনের মোড় পাল্টে দিবে।
কুয়াশা শিরি দিয়ে নিচে আসছিলো ও সবার লাস্টে থাকায় আর আনমনে হাটায় সিলিপ কেটে পড়ে যেতে নিলেই কেউ ওর কোমড় জড়িয়ে ধরলো…..
#চলবে
#tasnim_tamanna
[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে।]